প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১৬
আরাফাত আদনান সামি
স্নিগ্ধতায় মোড়া এক সোনালি সকাল। চারদিক নিসর্গের মিষ্টিমধুর আবেশে ভেসে যাচ্ছে পাখিদের কিচিরমিচির, হালকা বাতাসের মৃদু পরশ, আর প্রভাতের কোমল আলোয় ঝলমল করছে পুরো চৌধুরী ভিলা। ঘড়ির কাঁটা তখন প্রায় নয়টা ছুঁইছুঁই। রান্নাঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসছে সুগন্ধি ধোঁয়া মাহিমা চৌধুরী ও সায়েরা চৌধুরী দু’জনে সকালবেলার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। পাত্রের টুংটাং শব্দে যেন সুরের মূর্ছনা বেজে উঠেছে পুরো ঘরজুড়ে।ঠিক সেই মুহূর্তে রান্নাঘরের দরজার সামনে এসে থামল রোহিত। চৌকাঠে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে নিচু স্বরে বলল,
“বড় আম্মু, কৌশিক ভাইয়া কোথায়?”
মাহিমা চৌধুরী হাড়িতে ঢাকনা চাপিয়ে উত্তর দিলেন,
“আরো ঘন্টা খানেক আগে নাস্তা করে চলে গেছে অফিসে।”
রোহিত এক দমে বলল,
“ওহ্ শিট! কিন্তু বড় আম্মু, ভাইয়ার না আজ দেশটার সময় যাওয়ার কথা ছিল?”
“কী হইয়েছে রোহিত! কোন দরকার?”
“না বড় আম্মু, তেমন কিছু না…”
কথাটা বলেই একটু থামল সে। তারপর নিজের মায়ের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“আম্মু, তিয়াশা কোথায়? ওকে কোথাও দেখছি না যে?”
সায়েরা চৌধুরী তরকারি নারা দিতে দিতে শান্ত গলায় বললেন,
“গতকাল সন্ধ্যার দিকে তার কোন এক বান্ধবীর বাড়িতে গেছে। সেখানে এক–দুই দিন নাকি থাকবে।”
রোহিতের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।
“এই জ্বর শরীর নিয়ে? তুমি ওকে যেতে দিলে কেনো? একবার বাড়িতে আসুক খালি!”
সায়েরা হেসে ফেললেন একটু,
“তুমি জানো না তোমার বোন কেমন? কারো কোন কথা শুনে না কী?”
রোহিত দাঁত চেপে বলল,
“একবার আসুক, তারপর বুঝাচ্ছি আমি।”
মাহিমা চৌধুরী এবার হালকা ধমকের সুরে বললেন,
“হইছে হইছে, তোমাকে এত উকালতি করতে হবে না।”
রোহিত আর কিছু বলল না। মুখে একটাও কথা না বলে নিঃশব্দে সোজা নিজের রুমের দিকে হাঁটা শুরু করল। করিডোরটা তখন বেশ নীরব দু’পাশের দেয়ালে ঝোলানো আলোর ছায়া দুলছে হালকা বাতাসে।ঠিক তখনই-হঠাৎ এক ঝটকা ধাক্কা!রোহিতের হাতে থাকা ফোনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল, সামলে নিতে গিয়েই দেখল একজন মেয়ে তার সাথে ধাক্কা খেয়ে ঠিক তার সামনে মেঝেতে পড়ে আছে। মুহূর্তের মধ্যে দু’জনের চোখাচোখি।নীল রঙের শাড়ি পরা মেয়েটি। ফর্সা ত্বক, চোখে একরাশ বিস্ময়, আর চুলগুলো এলোমেলো হয়ে মুখ জুড়ে ছড়িয়ে আছে,যেন কোনো দৃশ্যমান বিশৃঙ্খলার মধ্যেও এক অদ্ভুত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে সেখানে।
রোহিত হতবাক হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। এই মেয়েকে সে আগে কখনও দেখেনি চৌধুরী বাড়িতে। কে এই অচেনা রমণী?
মেয়েটি বিরক্ত স্বরে চোখ পাকিয়ে বলল,
“আজব লোক তো আপনি! চোখ নেই নাকি? দেখে চলতে পারেন না?”
রোহিতের মুখে কোনো সাড়াশব্দ নেই। সে একেবারে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, চোখ দুটো শুধু সেই মেয়েটির মুখেই নিবদ্ধ। যেন চোখের পলক ফেলতেও ভুলে গেছে।
মেয়েটি কপালে বিরক্তি নিয়ে হঠাৎ একটু চেঁচিয়ে উঠল,
“চোখের সাথে কী কানও গেছে নাকি? শুনতে পাননি কী বললাম?”
এইবার যেন হুশ ফেরে রোহিতের।বিহ্বল কণ্ঠে আমতা আমতা করে বলল,
“সরি… সরি… আসলে আমি…”
তার কথা শেষ হওয়ার আগেই মেয়েটি তীক্ষ্ণ গলায় বলে উঠল,
“মেয়ে দেখলেই খালি শরীরের সাথে ধাক্কা খেতে ইচ্ছে করে, তাই না?”
রোহিত চোখ বড় বড় করে তাকাল মেটির পানে।
“আপনার কোথাও একটা ভুল হচ্ছে আসলে…”
“কী আসলে আসলে! এখন তো হাজারটা বাহানা দিবেন জানি! আপনার মতো ছেলেদের আমি খুব ভালো করেই চিনি। ধ্যাৎ! সকাল সকাল মুডটাই নষ্ট করে দিলো।”
রোহিত এবার একটু কড়া গলায় বলল,
“ওহ্ হ্যালো মিস, আমি জেনে বুঝে কিছু করিনি। তাই শুধু শুধু আমাকে দোষ দেবেন না।”
বলেই সে মেয়েটির দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“হাতটা ধরে উঠুন।”
মেয়েটি তার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল,
“থ্যাংকস্, আপনার সাহায্যের কোনো দরকার নেই আমার।”
বলেই মেয়েটি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। হালকা নিচু হয়ে হাত দিয়ে শাড়ির ভাঁজগুলো ঠিক করতে লাগল।রোহিত তখনও তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল।ঠিক সেই মুহূর্তে পাখার মৃদু বাতাসে মেয়েটির পিঠে থাকা শাড়ির আঁচলটা সরে গেল। আঁচল সরতেই তার ফর্সা পিঠের কিছুটা অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ল। রোহিতের দৃষ্টি অনিচ্ছাকৃতভাবেই সেই দিকে স্থির হয়ে রইল।
গলা শুকিয়ে এল, একটানা কয়েকবার শুকনো ঢোঁক গিলল সে।
মেয়েটি যখন সোজা হয়ে দাঁড়াল, চোখ তুলে রোহিতের দিকে তাকিয়ে বেশ চমকে গেল।
ভ্রু কুঁচকে বলল,
“আপনি এখনো এখান থেকে যাননি? আর এইভাবে আপনি আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন?”
রোহিত গলার ভেতর শুকনো ঢোঁকটা জোর করে গিলে ফেলল। তারপর কিছু বলতে না পেরে চোখের ইশারায় কী যেন বোঝানোর চেষ্টা করল।
মেয়েটি মুখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ নিয়ে বলল,
“চোখ দিয়ে কী ইশারা করছেন? মুখ নেই আপনার?”
রোহিত আবারো একটা শুকনো ঢোঁক গিলে ফিসফিস করে বলল,
“না মানে… আপনার দেখা যাচ্ছে…”
মেয়েটি ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ওয়াট!”
রোহিত এবার কুণ্ঠিত ভঙ্গিতে আঙুল তুলে ইশারা করে বলল,
“ইয়ে না মানে…ওই যে… আপনার ওই ইয়ের… ইয়েটা… দেখা যাচ্ছে……”
মেয়েটি রোহিতের আঙুলের দিক অনুসরণ করে তাকাতেই হঠাৎ বুঝে উঠল বিষয়টা। মুহূর্তেই সে লজ্জা আর রাগে শরীরের আচল দিয়ে নিজেকে ঢেকে নিল। পরের মুহূর্তেই ঘর কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠল,
“তিয়াশা আআ…..!”
মেয়েটির এমন চিৎকারে তিয়াশা রুম থেকে দৌড়ে হল রুমে প্রবেশ করল, শরীরে জ্বরের মতো দুর্বলতা থাকলেও পায়ে শক্তি রাখল। মেয়েটি রোহিতের একদম কাছে এসে এক হাত দিয়ে রোহিতের কলার চেপে ধরে আঙুল তুলে একটু রাগান্বিত স্বরে বলল,
“ইউউ………।”
রোহিত তৎক্ষণাৎ সরল ভঙ্গিতে সরে গিয়ে বলল,
“সরি, সরি, সরি……”
ততক্ষণে তিয়াশা মেয়েটার পাশে এসে দাঁড়াল, কণ্ঠে সতর্কতার আভাস নিয়ে বলল,
“নিধি, কী করছিস? ছাড় আমার ভাইয়াকে।”
কিন্তু নিধির তিয়াশার শব্দগুলো যেন তার কানে পৌছাল না। নিধি রোমন্থিত হয়ে বলল,
“অসভ্য, সয়তান, বাদর, বেয়াদব লোক একটা!”
রোহিত যেই কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি তিয়াশা কণ্ঠ উঁচিয়ে বলল,
“কী হচ্ছে টা কী নিধি! ছাড়, ছাড় ভাইয়াকে। আর একদম আমার ভাইয়া নিয়ে উল্টো পাল্টা কিছু বলবি না, ছাড়।”
তিয়াশার ইশারায় নিধি কিছুটা অবাক হয়ে রোহিতের কলার ছেড়ে দিল। সাথে সাথে তিয়াশা একটু সতর্ক স্বরে বলল,
“নিধি, শান্ত হ এবার। এইসব কী ভাইয়া?”
রোহিত যেন কিছুটা সংশয়াহত, সে চেষ্টা করল ব্যাখ্যা দিতে,
“আমার কোন দোষ নেই, আমি শুধু বলছিলাম যে উনার ইয়ে…..”
কিন্তু রোহিতের বাক্য শেষ হওয়ার আগেই নিধি তার মুখ চেপে ধরল। চোখে রাগ, কণ্ঠে বিড়বিড় রাগান্বিত স্বরে সে বলল,
“অসভ্যতামিরও তো একটা লিমিট থাকা দরকার, নাকি? এখন কী নিজের বোনের সামনে এই কথা বলবেন? মাথায় একটুও ঘুলি নেই? নাকি সবটা গোবর ভর্তি?”
রোহিত নিধির হাতটি তার মুখ থেকে সরাল। অচেনা উত্তেজনা আর ব্যস্ত অনুভূতির মধ্যে সে ঠিক কী বলবে বা কী করবে, তা নিয়ে একধরনের দ্বিধা অনুভব করছিল। নিধির দিকে তাকিয়ে রোহিত কিছুক্ষণ নিঃশব্দে স্থির হয়ে থাকল, যেন শব্দ খুঁজছে নিজের ভেতর থেকে।শেষে বিড়বিড় করে বলতে শুরু করল,
“তিয়াশা যে জিজ্ঞেস করল এখন না বললে তো ভাববে আমি কী না কী করে বসে আছি আপনার সাথে।”
“বলদ! আপনার মতো বলদ আমি আমার জীবনে একটাও দেখি নাই বলদ কোথাকার। একদম চুপ থাকবেন তিয়াশা যা মন চায় তাই বলুক কিন্তু ভুলেও যদি আপনি কিছু বলেন রেরে..নিচ বরাবর এমন একটা লাথি দেব,কেঁদে কুল পাবেন না।”
পাশ থেকে তিয়াশা আবার ভ্রকুচকে বলল,
“এই তোরা কী বিড়বিড় করছিস রে?”
তিয়াশার কণ্ঠে চমকে উঠল দু’জনে। তড়িঘড়ি করে নিধি রোহিতের কাছ থেকে সরে এসে তিয়াশার কাছে দাঁড়িয়ে পড়ল।
“নিধি, তুই কী আমার ভাইকে আগে থেকেই চিনিস নাকি?”
নিধি বিরক্ত স্বরে উত্তর দিল,
“কেন রে, তোর ভাইকে আগে থেকেই চিনতে হবে এমন কোনো কথা কোথাও লেখা আছে নাকি?”
তিয়াশা ভ্রুকুটি কুঁচকিয়ে বলল,
“তুই আর তোর ত্যাড়ামি আর সহ্য হচ্ছে না দুইটোই এখন এখান থেকে বিদায় হো।”
নিধি একটু ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“দোস্ত, তুই আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছিস?”
“না, আমার কিউট বান্ধবী তোকে তাড়াচ্ছি না, বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছি। এখন এখান থেকে চলে যা, কাল কলেজে কথা হবে যা যা।”
নিধি ভ্রকুচকে বলল,
“হ্যাঁ, যাচ্ছি যাচ্ছি। জ্বর সেরে গেলে কলেজে আসিস, বায়।”
বলেই নিধি চলে যেতে লাগল। যেতে যেতে রোহিতের দিকে ভ্রকুচকে তাকিয়ে সোজাসুজি একটা মুখ খিচে ভেংচি কাটাল। রোহিত তা দেখে রাগান্বিত চাহনি নিক্ষেপ করল নিধির দিকে। নিধি তা দেখেও না দেখার ভান করে আর পিছনে ফিরে না তাকিয়ে সোজা চলে গেল।
তিয়াশা সবটা অবাক দৃষ্টিতে দেখছিল। অতঃপর সে ধীরে বলল,
“কী ভাইয়া হুমম…”
রোহিত একটু হেলাফেলা করে,
“এটা তোর বান্ধবী না বন্ধু রে!”
তিয়াশা চোখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
“তাতে তোমার কী?”
রোহিত আনমনে বিড়বিড় করে বলল,
“কী ঝাঝ মাইরি!”
তিয়াশা ভ্রকুচকে বলল,
“কী বললে?”
“কই কিছু না তো।”
“ঠিক আছে।”
তারপর রোহিত কিছুটা উৎসাহ সহকারে জানতে চাইল,
“আগে তুই এটা বল, এই পাকা মরিচ কোথা থেকে তুলে আনলি?”
তিয়াশা স্বাভাবিকভাবে উত্তর দিল।
“বাড়ি থেকে।”
“আরে না, আমার কথার মানে হলো এর বাড়ি কোথায়?”
“বাড়ি দিয়ে তোমার আজ কী শুনি?”
“না কিছু না। আর একটু আগে আম্মুর কাছ থেকে শুনলাম, তুই তোর কোন বান্ধবীর বাড়িতে গেছিস এক-দুইদিন থাকার জন্য।”
“হ্যাঁ, গেছিলাম নিধি’দের বাড়িতেই। কিন্তু ওদের পুরো বাড়ি রং করাচ্ছে, তাই চলে আসছি।”
“ওহ্ আচ্ছা। উপরে যা, বিশ্রাম করে গিয়ে।”
“হ্যাঁ, যাচ্ছি।”
যেতে যেতে হঠাৎ সে মুচকি হেসে আবার সতর্কভাবে বলল,
“ভাইয়া সাবধান, মেয়ে কিন্তু খুব ডেঞ্জারাস…”
“তবে রে…”
“বাচাও আম্মু…”
তিয়াশা চিৎকার করে বলল, এবং সঙ্গে সঙ্গে জোরে এক দৌড় দিল।
তিয়াশা চলে যেতেই রোহিত কী যেন একটা ভেবে মুচকি হেসে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
(দুপুর বিকাল স্কিপ)
রাত প্রায় ১১টা। অফিস থেকে সবেমাত্র বাড়িতে ফিরেছে কৌশিক। ভীষণ ক্লান্ত লাগছে তাকে। চোখ-মুখে স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ। বাড়িতে ঢুকেই কোন দিকে না তাকিয়ে আগে সোজা নিজের রুমে চলে আসে কৌশিক। কিছু না ভেবে হাতে তোয়ালে নিয়ে সোজা শাওয়ার নিতে চলে যায় ওয়াশরুমে। কিছুক্ষণ পর শাওয়ার শেষ করে তোয়ালে মুড়ে বের হলো কৌশিক।
এমন সময় হঠাৎ পুরো রুমটা অন্ধকার হয়ে গেল। অন্ধকারের সঙ্গে সঙ্গে কৌশিক লক্ষ্য করলো, পুরো রুমটি সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে লাল ও নীল রঙের ছোট-বড় মোমবাতি দিয়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে বেলকনি থেকে ভেসে আসতে লাগল মিষ্টি কণ্ঠে গনগুন করা গান। কৌশিক তা শুনে আস্তে আস্তে বেলকনির দিকে এগোতে লাগল। বেলকনিতে পা রাখতেই কৌশিকের চোখ কপাল বরাবর উঠে গেল। তার সামনে বসে মোমবাতি যালাচ্ছে আর গুনগুন করে গান গাচ্ছে এক রমণী। রমণীর পরনে লাল শাড়ি, পায়ে আলতা, নুপুর পরা, দুই হাতে লাল চুড়ি।কোমরে সোলানি কোমরবন্ধনী,ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, কানে ঝুমকো দুল, যা পেছনের চুলের সঙ্গে বেঁধে রাখা। হাটুর সমান চুলগুলো মুক্ত, মৃদু বাতাসে কয়েকটি চুল কৌশিকের মুখে এসে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে কৌশিক চোখ বুঝে ফেলল। চুল থেকে ভেসে আসছিল সেই পরিচিত মিষ্টি ঘ্রান, যা সে আগে বহুবার অনুভব করেছে।
কৌশিকের আর চিনতে দেরি হলো না,এ রমণী তার মায়াবতী,কৌশিক নীর চৌধুরীর মায়াবতী। কিন্তু এই সময়ে হঠাৎ এত রাতে মায়া এখানে কীভাবে এসেছে? কৌশিক ধীরে ধীরে তার দিকে এগোলো, রমণীর কাঁধে আলতো করে হাত রেখে নরম স্বরে বলল,
“মায়া, তুই!”
মায়া লাজুকতার নেয় নামিয়ে মুখটা নিচু করে আস্তে আস্তে চোখ খুলে তাকাল কৌশিকের দিকে। যেই তাকাল, অমনি সাথে সাথে আচমকা খিচে চোখটা বন্ধ করে জোরে এক চিৎকার দিয়ে উঠল,
“আআআআআআআআআআআআআ…..…!”
চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গেই মায়া জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেল সোফার ওপর।
কৌশিক কিছুই বুঝতে পারল না। হতভম্বের মতো কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল মায়ার দিকে। ঠিক যখন ওর কাছে যাবে, তখন হঠাৎ পায়ে যেন কিছু একটার বাধা অনুভব করল। নিচে তাকাতেই কৌশিকের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। দৃশ্যটা দেখা মুহূর্তেই তার মুখ লাল হয়ে উঠল লজ্জায়।
সে শুকনো গলায় দু’বার ঢোঁক গিলল, অতঃপর বিড়বিড় করে বলল,
“না… নেই? পড়নে তোয়ালে নেই? আ……”
তাড়াতাড়ি নিচ থেকে তোয়ালেটা তুলে আষ্টেপৃষ্টে শরীরের সাথে জড়িয়ে নিল কৌশিক। তারপর এক চিলতে দুষ্টু হাসি হেসে বিড়বিড় করে বলল,
“আমাকে সারপ্রাইজ দিতে এসে নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে গেল! বেচারি…”
একটু থেমে, মায়ার দিকে ঝুঁকে মুচকি হেঁসে মৃদু স্বরে বলল,
প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১৫
“তোর ভাগ্যটা সত্যি ভালো রে মায়া। বিয়ের আগেই বিনা টিকিটে সিনারি দেখে নিলি!বিয়ের আগে এমন সিনারি দেখার ভাগ্য কয়টা মেয়েরি বা হয় বল? আর এই অবস্থায় নিজেকে কন্ট্রোল করাও বড্ড দায়রে আমার মায়াবতী। তাই উঠ এবার।বিনা টিকিটে সিনারির সো বন্ধ হয়ে গেছেরে, মরি উঠ….”
