Home প্রণয়ের ঘোর রাত প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৮

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৮

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৮
আরাফাত আদনান সামি

কৌশিক মায়ার মুখের কাছে আরো ঝুঁকে এসে বলল,
“সুইটহার্ট বেশি না মাত্র এক ঘন্টাই তো। ঘন্টা খানিক সহ্য করে নে না আমাকে।”
মায়া কৌশিকের বুকে তার দুই হাত দিয়ে কৌশিক কে সরানোর চেষ্টা করছে। মায়া কৌশিক থেকে মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে বলল,

“এগুলো কী অসভ্যতামি করছেন কৌশিক ভাই সরুন আমার উপর থেকে আমি আর আপনার ভর সামলাতে পারছি না আমার দম বন্ধ বন্ধ লাগছে সরুন।”
মায়া কথা গুলো বলতে না বলেতেই কৌশিক মায়ার উপর থেকে সরে গিয়ে বিছানার এক পাশে বসে মায়ার এক হাত ধরে মায়াকে উঠিয়ে বলল,
“তোর কষ্ট হচ্ছে আগে বলবি না আমাকে তাহলে কী আর ওভাবে থাকতাম আমি।”
মায়া কৌশিকের দিকে ভ্রুকুচকে তাকিয়ে বলল,
“কেনো আপনার চোখ নেই? দেখতে পাচ্ছিলেন না কখন থেকে সরানোর চেষ্টা করছিলাম।আপনি কী বাচ্চা যে সব কথা মুখে তুলে দিতে হবে।”
মায়া কথাটা বলতে না বলেই কৌশিক বিছানায় দুই হাঁটু আর দুই হাত বিছানায় রেখে মায়ার দিকে আচমকা ঝুকে গেলো। কৌশিকের এমন আচমকা কাছে আসাতে মায়া আঁতকে উঠে হালকা পিছনের দিকে ঝুঁকে গেলো। কৌশিক বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“তোর কষ্ট হচ্ছে বলে সরে এসেছি তার মানে এই না যে তোর সব বাজে বকবক আমি শুনবো। বেশি কথা বললে এখানেই বিয়ে ছাড়া বা*স*র সারে নিবো”
কৌশিকে এই কথা শুনে মায়া এক লাফে বাছানা থেকে নেমে গেলো। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে কৌশিকের পানে। কৌশিকের কথা শুনে মায়ার মাথার ঘাম বেয়ে পড়ছে মুখ,চোখ, গলা দিয়ে।কৌশিকের থেকে বেশ অনেনটা দূরে সরে গেলো মায়া। বলল,
“বি…বিয়ে ছ..ছাড়া বাসর মানে?এ..এগুলো কী ব..বল..বলছেন আপনি?”
কৌশিক বিছানা থেকে উঠে মায়ার দিকে আস্তে আস্তে এক’পা দু’পা করে এগোতে লাগল। মায়া কৌশিক’কে তার দিকে এগোতে দেখে পিছনে যেতে লাগল। এক সময় মায়া পিছনে থাকা দেয়ালে ঠেঁকে গেলো। কৌশিক মায়ার সামনে এসে দাড়াল। মায়া যেই পালাতে যাবে ওমনি কৌশিক দেয়ালে হাত রেখে দিলো। তারপর কৌশিক মায়ার দিকে কিছুটা ঝুঁকে বলল,

“হ্যাঁ বিয়ে ছাড়াই বাসর করবো জান চল না দুইজনে মিলে বা*স*রের প্রসেসিং টা শুরু করি..!”
মায়া আমতা আমতা করে বলল,
“এ..এগুলো কী ধরেনের অসভ্যতামি কৌশিক ভাই? মুখে লাগাম লাগান।”
“এগুলোকে তুই অসভ্যতামি বলছিস? বল সমস্যা নাই আমি তো আমার জানটুসের সাথেই করছি আর কারো সাথে তো আর করছি না?”
“আমি আপনার কেউ ন…”
মায়া কথাটা যেই সম্পূর্ণ করতে যাবে ওমনি কৌশিক আরেক হাত দিয়ে মায়ার ঠোঁটে উপর আঙুল রেখে দিলো।বলল,
“অনেক হইছে এগুলো আর বলিস না। মায়া ছাড়া এই কৌশিক একদম অসম্পূর্ণ।মায়া শুধু মাত্র এই কৌশিকের আর কৌশিক…”
কৌশিক পুরোটা কথা যেই শেষ করতে যাবে ওমনি মায়া কৌমিকে কথাটা টান দিয়ে বলল,

“আরে হ্যাঁ মায়া শুধু কৌশিকের আর কৌশিক হলো সবার তাই না কৌশিক ভাইয়া..।এটাই বলতে যাচ্ছিলেন তাই না?দেখছেন আমি কত ইনটেলিজেন্ট।”
কৌশিক একটু মুচকি হেঁসে বলল,
“কীরে কীরে কেমনে জানলি আমার মনের কথা? জান তুই আসলেই ইনটেলিজেন্ট।”
কৌশিক কথাটা বলা মাত্রই মায়া তার শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে কৌশিকের বুকে জোরে একটা ধাক্কা মেরে কৌশিককে বিছানায় ফেলে দিলো। বলল,
“জানতাম, জানতাম আমি আপনি কখনো শুধরাবেন না যত্তসব নাটক বাজ অসভ্য লোক একটা।”
কৌশিক দুম করে বিছানায় এসে পরে গেলো। সাইট টেবিলে আপেল রাখা ছিলো।কৌশিক সেখান থেকে একটা আপেল নিয়ে বিছানায় শরীর ছেড়ে দিয়ে পাশ থেকে একটা বালিশ টান দিয়ে মাথার নিচে রাখে আপেলে কাঁমুড় দিয়ে বলল,

“আরে আরে সব বিষয় এত সিরিয়াসলি নিস কেন জান।ওটা তো আমি এমনেই মজা করে বললাম।”
“মজা না ছাই আমার সব জানা আছে।”
কৌশিক আপেল খেতে খেতে বলল,
“কী জানা আছে শুনি।”
“এই আপনার কী একটুও লজ্জা সরম নাই হ্যাঁ? একে তো এত রাতে একটা মেয়ের রুমে ডুকেছেন আবার সেই মেয়ের সাথে আজে বাজে কথা বলছেন আপনার কী একটুও ভয় আর সরম করছে না?”
“ভয় আবার আমার?” কথাটা বলেই কৌশিক হেসে উঠল। আবার বলল,
“আমার এইসব ভয়,সরম আর লজ্জা নাই তাই লাগছে না।”

“নির্লজ্জ লোক কোথার।”
“হো আরো কিছু বল।”
“অসভ্য।”
“আরো বল।”
“এই আপনি এখন যান তো।”
“যদি না যাই তাহলে?”
“তাহলে তাহলে..!”
“কী তাহলে বল?”
“তাহলে আমি সবাইকে ডাকতে বাধ্য হবো বাড়ির আশে পাশের সবাইকে ডাক দিবো।”
“হ্যাঁ কী বলে সবাইকে ডাকি শুনি?”
“তা আপনাকে কেন বলবো?”
“তখনি তো বললাম আয় দুইজনে এক সাথে ডাকি এখন আর পারবো না আমি তুইই বরং ডাক এখন আমার গলায় শক্তি নাই।”

মায়া এবার কৌশিকের কাছে এসে বলল,
“কৌশিক ভাই যান না প্লিজ, এত রাতে যদি কেউ আমাদের একসাথে একি রুমে দেখে ফেলে তাহলে অনেক বড় সমস্যা হবে। আর আমি চাই না আমার কর্ম-কান্ডের ফলে আমার বাবা-মাযের উপরে খারাপ ইফেক্ট পড়োক প্লিজ এখন চলে যান আপনি।”
“আগে বল ভালোবাসিস আমায় তাহলে কোন কথা ছাড়া এক দৌড়ে চলে যাবো।”
“সম্ভব না প্লিজ আপনি চলে যান প্লিজ।”
“তাহলে আমিও যাবো না। তুই যা করার করে নে।”
মায়া এবার বেশ রেগে গেলো। বলল,
“তাহলে থাকেন আপনি এই জায়গায় আমিই চলে যাচ্ছি।”
মায়া কথাটা বলে যেই যেতে যাবে ওমনি কৌশিক বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে মায়ার এক হাত ধরে বলল,
“আরে আরে কোথায় যাচ্ছিস আমাকে একা রেখে?”

“মরতে যাচ্ছি যাবেন?”
“কেনো মরতে যাবি?”
“আমার মন চাইছে তাই।”
“তোর মন চাইলেও তো আর হবে না।”
“আমার মন আমি যা মন চাই তাই করবো আপনার কী?”
“আমারি তো সব,তোর মন তোর সব কিছু আমার। তাই এখন তোর মন চাইলেই তো আর হবে না। তোর মন এখন কৌশিকের হাজতে বন্ধি। যতক্ষণ না এই হাজত ভেঙে যাচ্ছে ততক্ষণ তুই কোথাও যেতে পারবি না। তোকে যেতে হলে আগে এই হাজত ভেঙে যেতে হবে।”
“ইয়েহ্ আইছে আমার রোমিওর মতো কথা বলতে হুশ…।”
“এক্সকিউজ মি, এই কৌশিক কাউকে কপি করে চলে না। এই কৌশিক’কে সবাই কপি করে চলে।”
“ইয়েহ্ আইছে।”
মায়া কথাটা বলতে না বলতেই কৌশিক এক টানে মায়াকে তার দিকে টেনে নিলো। মায়া হঠাৎ আচমকা টান খেয়ে সোজা কৌশিকের বুকে এসে ধাক্কা খেলো। কৌশিক মায়াকে চেপে ধরে মায়ার দিকে হালকা ঝুঁকে বলল,

“বিয়ে ছাড়াই প্রসেসিং শুরু করে দিবো নাকি সুইটহার্ট?”
“এই ছাড়ুন তো আমায় আপনার সাথে কথা বলাই বৃথা।”
“এইবারের মতো তোকে ছেড়ে দিলাম নেক্সট টাইম থেকে উল্টো পাল্টা কিছু বলবি না জান। তোর কিছু হলে আমার কী হবে এটা বুঝিস না তুই?”
“যত্তসব ফাউল মার্কা কথাবার্তা।”
বলেই মায়া উঠে গেলো। কৌশিকও আর কোন কথা বলল না। মায়া উঠে সোজা গিয়ে সোফায় বসে পড়ল৷ কৌশিক সাইট টেবিল থেকে একটা আপেল নিয়ে চুপ করে শুয়ে শুয়ে খেতে লাগল। এদিকে মায়া সব খেয়াল করছিলো। মায়া মনে মনে বিড়বিড় করে বলল,

“দেখো দেখো কীভাবে নির্লজ্জের মতো অনুমতি ছাড়াই একের পর এক আমার আপেল গুলো খাচ্ছে। অসভ্য লোক একটা।”
কৌশিক আপেলে কামুড় দিয়ে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
“জান আমাকে কিছু বললি?”
মায়া একটু ভেবাচেকা খেয়ে আবার মনে মনে বিড়বিড় করে বলল,
“যা’বাবা শুনে ফেললো নাকি?”
“কী হলো?”
“কই কই না’তো আমি আবার আপাকে কখন কী বললাম..!”
“মনে হলো আমাকে তুই বকা দিলি।”
“ঠিকি মনে করেছেন।”
“কী বললি?”
“নাহ্ কিছু না আমি কেন আপনাকে বকা দিতে যাবো। আপনি আপেল খাওয়াতে মন দেন না।”
কৌশিক ভ্রুকুচকে বলল,

“আচ্ছা।”
এভাবে আরো বেশকিছু কেটে গেলো। এখন মায়ার একটু অস্তিত্ব ফিল হচ্ছে চুল গুলোর জন্য। চুলে হাত দিতেই বুঝতে পারলো চুলে বেশ কিছুটা জট লেগে গেছে।এতক্ষণ চুল খোলা থাকায় চুল গুলো জটে গেছে। তাই আর মায়া একমুহূর্ত দেরি না করে সোজা গিয়ে রুমের লাইট জ্বালাল। লাইট জ্বালিয়ে সোজা আয়নার সামনে গিয়ে বসল। এত লম্বা চুল গুলো পেছন থেকে সবগুলো সামনের দিকে এনে আয়নার সামনে বসে আঁচড়াতে শুরু করল। এদিকে দুপুরে, রাতে না খাওয়ার কারণে কৌশিকের অনেক খিদে লাগে যার কারনে টেবিলে যত গুলো আপেল রাখা ছিলো সব গুলো একে একে খেয়ে ফেলল মাত্র একটা ছাড়া। শেষের আপেলটা নিয়ে একটা কামুড় বসিয়ে কী মনে করে যেই পিছনে তাকাল ওমনি সামনের দৃশ্য দেখে কৌশিকের চোখ কপালে উঠে গেলো। কৌশিক বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়েই রইল মায়ার পানে। মায়ার পড়নে সবুজ নাইট ড্রেস। এতক্ষণ অন্ধকার থাকার করণে তেমন একটা দেখা যাচ্ছিলো না কিন্তু এখন সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কৌশিক মায়ার বেক সাইট দেখে বড় করে একটা ডোক গিলল। পরমুহূর্তেই কৌশিক মুচকি হেঁসে মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“সুইটহার্ট তুই কবে থেকে এতো দেশ প্রেমি হলি রেহ্?”
মায়া চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বলল,
“কবে থেকে মানে?”
“না মানে ঘাড় সবুজের ভেতরে ঘাড় লাল পড়ে নিলি? একদম ঠিক যেমন ভাবে আমাদের জাতিয় পতাকা পুরোটা জুরে সবুজ আর তার মাঝে ঘাড় লাল থাকে ঠিক তেমনটা।”
কৌশিকের কথা শুনে মায়া হালকা ঘাড় ঘুড়িয়ে বলল,
“কী বলছেন এইসব?বুঝলাম না..!”
কৌশিক মিটি মিটি হেসে বলল,
“বুঝতে হবে না তোকে। হায়..তোকে কী সুন্দরী আর হট লাগছে এই নাইট ড্রেসে জান।”
“মাথা ঠিক আছে কীসব আজে বাজে বলছেন?”

“আজে বাজে নারে জান। দাঁড়া তোকে দেখে আমার একটা গান মনে পড়েছে দাঁড়া বলছি,
কৌশিক যেই গানটা বলতে যাবে ওমনি মায়া বলল,
“দেখছেন না আমি চুর আঁচড়াচ্ছি আমি এখন দাঁড়াতে পারবো না।”
“আরে তোকে দাঁড়াতে বলি নাই তুই বসেই থাক আর গানটা শুন।”
“আচ্ছা বলেন তাহলে শুনি”
কৌশিক গান বলা শুরু করল,
লাল সবুজে,বিজয় নিশান।
তাই আমার হাতে,
তোর ওই লাল ওইটার
ফিতাটা খুলে বেঁধে দে।
মায়া কৌশিকের দিকে ভ্রুকুচকে তাকিয়ে বলল,
“আমার ওই লাল ফিতাটা মানে? আর এই গান এমন হলো কবে থেকে শুনি?”
“গানের কথা বাদ দে তো জান।ওই যে তোর ওইটার ওটা দেখা যাচ্ছে রে জান ইশ..।”

কৌশিকের কথাটা শুনে মায়া আরো ভ্রুকুচকাল। মায়া এদিক ওদিন একটু ঘুরে দেখল। কিছু না পেয়ে আবার বলল,
“আমি কারো জান টান না সো আমাকে কেউ এইসব নামে না ডাকলেই আমি খুশি হবো। আর ওইটা মানে কোনটা? আর কী দেখা যাচ্ছে?কই আমি তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না?”
“আরে ওই যে তোর ওইটার ওইটা।”
“আমার ওইটার ওইটা মানে? এমনে তো মুখ দিয়ে হাজার হাজার লাগাম হীন কথা বের হয় তাহলে এখন কী সব ওইটার ওইটা করছেন সোজা সুজি বলতে পারেন নাকি?”
“কয়েকবার বলেছিনা আর বলতে পারবো না আমার সরম করে।”
“ওরে আইছে আমার লজ্জাবতী।”
“এই চুপ আমি কোন লজ্জাবতী টজ্জাবতী না।”
“তাহলে কী দেখছেন সেটা আমাকে স্পষ্ট ভাবে বলছেন না কেনো?”
“শুনার দেখছি অনেক ইচ্ছা?বলবো তো আরেকটু মন ভরে দেখে নেই পরে হাতে নিয়ে আজকের জন্য বিদায় দিবো।”

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৭

“অসভ্য লোকটা একটা।সেই তখন থেকে কীসব আজে বাজে বকছেন ক্লিয়ার করে কিছু বলবেন?
“চুপ বেয়াদব ভালো কিছু দেখার সময় এত কথা বলিস কেন তুই? আচ্ছা একটা কথা বলি জান..?”
মায়া ভ্রুকুচকে বলল,
“কী কথা?”
কৌশিক উল্টো ঘুরে বালিশ বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
“শোন না, তোর ওই লাল ব্**র ফিতাটা খুলে আমার হাতে বেঁধে দে’না সুইটহার্ট।”
“কীহ্…..”

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৯