Home প্রণয়ের নব্য সূচনা প্রণয়ের নব্য সূচনা পর্ব ৫

প্রণয়ের নব্য সূচনা পর্ব ৫

প্রণয়ের নব্য সূচনা পর্ব ৫
insia isha chowdhury

সূচনা অনেকক্ষণ ধরে খাতার ওপর ঝুঁকে বসে আছে। একের পর এক অংক করলেও একটা অংকে এসে সে পুরোপুরি আটকে গেল। কলমের মাথা কামড়াতে কামড়াতে বারবার আড়চোখে প্রণয়ের দিকে তাকাচ্ছিল।
প্রণয় সেটা বেশ কিছুক্ষণ ধরেই লক্ষ্য করছিল। অবশেষে জিজ্ঞেস করল,
“আর পারছ না?”
সূচনা একটু অপ্রস্তুত হেসে বলল,
“আসলে অনেকদিন আগে পড়েছিলাম তো… তাই ঠিক বুঝতে পারছি না।”
“আচ্ছা, দাও। আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি।”
“ঠিক আছে।”

প্রণয় খাতাটা নিজের দিকে টেনে নিয়ে ধৈর্য ধরে অংকটা বোঝাতে শুরু করল। কিন্তু তার বলা সূত্র, সংখ্যা আর হিসাবগুলো সূচনার মাথায় ঢোকার বদলে সোজা ছাদের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। সূচনা শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল, অথচ কিছুই ঠিকমতো বুঝল না।
অনেকক্ষণ ধরে অংকটা বুঝিয়ে প্রণয় জিজ্ঞেস করল,
“এবার বলো, বুঝেছ?”
সূচনা সাথে সাথে দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটার দিকে তাকাল। প্রায় আটটা বাজতে চলেছে। এতক্ষণ টেবিলে বসে থাকতে থাকতে তার অবস্থা শেষ। এখন আর পড়ার ধৈর্য নেই। তাই তাড়াতাড়ি মাথা নেড়ে বলল,
“হ্যাঁ হ্যাঁ, বুঝেছি। খুব বুঝেছি।”
প্রণয় এবার কলমটা তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে শান্ত গলায় বলল,
“ভালো। তাহলে এবার আমাকে বুঝিয়ে বলো তুমি কী বুঝেছ।”

এই কথা শুনে সূচনার মুখ মুহূর্তেই কাঁচুমাচু হয়ে গেল। সে নিজেই কিছু বোঝেনি, সেখানে আবার কাউকে বোঝাবে কী! বিরক্তি চরমে উঠে গেল তার। ঠোঁট ফুলিয়ে চিরমির করে বলল,
“আশ্চর্য! আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি বুঝেছি কিনা, আমি বললাম বুঝেছি। ব্যাস, এখানেই তো কথা শেষ! তাই না? আবার বলছেন আপনাকে বুঝিয়ে বলতে! কেন ভাই? আপনি তো নিজেই অংকটা বোঝালেন, মানে নিশ্চয়ই আপনি বোঝেন। তাহলে আমি কেন আপনাকে আবার বোঝাতে যাব?”
প্রণয় নিজের তীক্ষ্ণ চোয়ালে আঙুল ঠেকিয়ে গম্ভীর মুখে বলল,
“তুমি ভাইবোনদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট, তাই না?”
“হ্যাঁ, আমি ছোট।”
“তার মানে তুমি ছোট শয়তান।”
সূচনা চোখ বড় বড় করে বলল,
“কিহহ!”
প্রণয় দ্রুত গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,

“আই মিন… তুমি ছোট সন্তান। তাই বাড়ির সবাই আদর করে করে তোমাকে একেবারে বাঁদর বানিয়ে ফেলেছে।”
সূচনা ক্ষুব্ধ চোখে তাকিয়ে বলল,
“আপনি প্রথমে আমাকে শয়তান বললেন, এরপর বাঁদর বানিয়ে দিলেন! আর আপনি নিজেকে কী মনে করেন? আপনি খুব ভালো?”
প্রণয় ভ্রু তুলে নির্লিপ্ত গলায় বলল,
“কেন? আমি খারাপের কী করেছি?”
“বলুন কী করেননি! কলেজের একটা স্টুডেন্টও আপনাকে ভালোভাবে ডাকে না। সবাই আপনাকে “জল্লাদ” বলে, বুঝতে পেরেছেন?”
প্রণয় ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি টেনে বলল,
“আমাকে জল্লাদ ডেকে যদি তোমাদের পড়াশোনা ভালো হয়, তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
সূচনা মুখ বাঁকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“এ ভাঙবে তবু মচকাবে না!”
প্রণয় তখনই বলল,
“আমার বউ একটা পড়া চোর।”
সূচনা কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই দরজায় টুকটুক করে নক করার শব্দ হলো। তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে দরজাটা খুলতেই সামনে রিমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল।
রিমা সূচনাকে দেখে মুচকি হেসে বলল,
“আরে সূচনা, রাতে ঘুম কেমন হলো? আমার দেবর তোমাকে বেশি জ্বালায়নি তো?”
সূচনা সাথে সাথে একটা হালকা হাই তুলে ক্লান্ত মুখে বলল,
“আর বলো না ভাবি! তোমার দেবর আমাকে রাতে ঘুমোতেই দেয়নি।”
এই কথাটা কানে যেতেই পিছন থেকে প্রণয় হঠাৎ কেশে উঠল। অন্যদিকে সূচনার কথা শুনে রিমা এক ভ্রু উঁচু করে দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,

“আচ্ছা! তাই নাকি?”
সূচনা এবার বিরক্ত মুখে বলল,
“হ্যাঁ! এই সকাল সকাল আমাকে পড়তে বসিয়েছে। আমার তো আরও ঘুম দরকার ছিল, কিন্তু আমাকে ঘুমাতে না দিয়ে অংক করাচ্ছে।”
রিমা এবার একটু ঘুরে প্রণয়ের দিকে তাকাল। টেবিলের উপর ছড়িয়ে থাকা বই-খাতা দেখেই পুরো বিষয়টা বুঝে ফেলল। ঠোঁট চেপে হাসি আটকাতে আটকাতে বলল,
“কী ব্যাপার দেবরজী? বিয়ের পরের দিন কেউ নিজের বউকে পড়তে বসায় নাকি?”
প্রণয় একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,
“ভাবি, ওর আর কয়েকদিন পরেই পরীক্ষা। এখন তো পড়াশোনা করতেই হবে। বিয়ে হয়েছে বলে তো আর ছাড় পাবে না।”
প্রণয়ের গম্ভীর উত্তর শুনে রিমা হেসে ফেলল। তারপর সূচনার দিকে তাকিয়ে বলল,
“সূচনা, অনেক হয়েছে পড়াশোনা। এখন আর পড়তে হবে না। চলো নিচে, তোমার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে।”
সূচনার তখনও ভীষণ ঘুম পাচ্ছিল। কিন্তু এই রুমে থাকলে প্রণয় তাকে আবার পড়তে বসাবে, সেটা সে ভালোভাবেই জানে। তাই মুক্তি পেয়ে হাসিমুখে বলল,

“হ্যাঁ চলো ভাবি, আমি তোমার সাথেই যাচ্ছি।”
কথাটা বলেই সূচনা দ্রুত রিমার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। তারপর দু’জনে একসাথে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। আর প্রণয় চুপচাপ বসে ওদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
সূচনা মাথায় ওড়না টা সুন্দর করে নিয়ে নিল। রিমার সাথে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই বসার ঘরের উষ্ণ পরিবেশটা চোখে পড়ল তার। সকালবেলার নরম আলো পুরো ঘরটাকে শান্ত একটা আবহে ভরিয়ে রেখেছে। সোফার একপাশে বসে আরিফুল মির্জা মনোযোগ দিয়ে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। আর তার ঠিক সামনেই রবিন মির্জা নিজের ছোট্ট ছেলে তামজিদের সাথে খেলায় মেতে ছিল। তামজিদের খিলখিল করে হাসছে। সূচনা নিচে নেমে আসতেই সবার দৃষ্টি একসাথে ওর দিকে ঘুরে গেল। একটু অপ্রস্তুত হলেও সূচনা মিষ্টি করে হেসে সবাইকে সালাম দিল।

আরিফুল মির্জা খবরের কাগজটা ভাঁজ করে রেখে স্নেহভরা গলায় বললেন,
“আরে আম্মু, এখানে এসো। এখন তোমার শরীর কেমন আছে?”
সূচনা স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বলে ফেলল,
“জ্বী আঙ্কেল, এখন ভালো আছি।”
কথাটা শুনতেই মুহূর্তের মধ্যে বসার ঘরে চাপা হাসির রোল পড়ে গেল। সূচনা অবাক হয়ে একবার সবার মুখের দিকে তাকালো। ঠিক তখনই রবিন হেসে বলল,
“আরে সূচনা, এখন তো তোমার বিয়ে হয়ে গেছে। তুমি এই বাড়ির বউ। উনি তোমার শ্বশুরমশাই, আঙ্কেল না। বাবা বলে ডাকো।”
সূচনা এক মুহূর্তের জন্য থমকালো। তারপর দ্রুত মাথা নেড়ে একটু লজ্জিত হেসে বলল,
“হ্যাঁ… বাবা। এখন ঠিক আছে।
ওর সেই অপ্রস্তুত মুখটা দেখে আবারও সবাই হেসে উঠল। ঠিক তখনই রান্নাঘরের দিক থেকে বের হয়ে এলেন শায়লা খাতুন আর সুপ্তি। সুপ্তি এগিয়ে এসে সূচনার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
“আরে বাহ! তুমি তো বেশ দিব্যি দাঁড়িয়ে আছো। ঠিক আছো তাহলে?”
সূচনা ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে বলল,

“কেন? আমার আবার কী হয়েছে?”
সুপ্তি মুচকি হেসে বলল,
“না মানে… তুমি না একটু পরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলো! তাই তোমাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একটু অবাক হলাম আর কী। কখন আবার পড়ে টরে যাও। তোমার তো বিশ্বাস নেই।”
কথাটার ভেতরের খোঁচাটা বুঝতে সূচনার একটুও সময় লাগল না। তবে সূচনা ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে একটু আস্তে বলল,
“আসলে কী জানো তো, আমি না সব সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলি না। হঠাৎ হয় কোন কিছু নিয়ে টেনশন করলে। কিন্তু তুমি কি জানো অনেকেই আছে যারা শুধুমাত্র আমার কথা শুনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এখন আমার মনে হচ্ছে তুমি আমার কথা শুনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে চাইছো।
কথাটা আসতে বললেও রবিন শুনতে পেয়ে মুহূর্তেই হো হো করে হেসে উঠল। সুপ্তির মুখটা খানিকটা গম্ভীর হয়ে গেল। শায়লা খাতুন সঙ্গে সঙ্গে সুপ্তির দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে বললেন,
“আহ সুপ্তি! কী হচ্ছে এসব? সূচনার শরীর ভালো না, ওকে এভাবে বলছিস কেন?”
সূচনা দ্রুত বলল,

“না না, আমি একদম ঠিক আছি। পুরোপুরি ফিট।”
সুপ্তি এবার কথার মোড় ঘুরিয়ে বলল,
“খালামণি বলছিলেন তুমি নাকি অনেক রকম রান্না করতে পারো?”
সূচনার বুঝতে বাকি রইল না, মেয়েটা ইচ্ছে করেই ওকে বিব্রত করতে চাইছে। তাই সেও শান্ত গলায় উত্তর দিল,
“হ্যাঁ, অনেক কিছুই পারি। চাইনিজ, ইতালিয়ান, রাশিয়ান, কোরিয়ান… তুমি কী খেতে চাও বলো?”
সুপ্তি কিছু বলার আগেই রবিন উৎসাহ নিয়ে বলে উঠল,
“আরে বাহ! তাহলে তো আমাদের আর রেস্টুরেন্টে যাওয়ার দরকারই নেই। তবে যেহেতু এত দেশের খাবার বানাতে পারো, আমার মনে হয় আগে বাঙালি খাবার দিয়েই শুরু করা উচিত। আজ তাহলে আমাদের সবার জন্য পরোটা বানাও।”

শায়লা খাতুন সঙ্গে সঙ্গে ছেলের দিকে চোখ রাঙিয়ে বললেন,
“রবিন! এসব কী বলছিস? সূচনা অসুস্থ, ও কীভাবে বানাবে?”
সূচনা কিছু বলার আগেই সুপ্তি নরম গলায় বলল,
“হ্যাঁ ভাইয়া, তুমিও না! ও অসুস্থ। আজ বরং আমি তোমাদের সবার জন্য আমি আলুর পরোটা বানাচ্ছি। এমনিতেও খালামণি সকালের নাস্তা তৈরি করেই ফেলেছে। বাকিটা আমি দেখে নেব।”
কথাগুলো শুনে সূচনার চোখে হালকা একরাশ জেদ খেলে গেল। সে ঠোঁট বাঁকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
“তোমাকে কে বলেছে আমি অসুস্থ বলে রান্না করতে পারব না?”
তারপর একবার চারপাশে তাকিয়ে দৃঢ় গলায় বলল,
“তুমি বসো। আমি বানিয়ে আনছি।”
কথাটা বলেই সূচনা আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। সোজা রান্নাঘরের দিকে হাঁটা দিল। আর ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে সুপ্তির মুখটা অদ্ভুতভাবে শক্ত হয়ে রইল।
বাইরে যতটা আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে সূচনা রান্নাঘরে ঢুকেছিল, ভেতরের সত্যিটা ছিল পুরোপুরি উল্টো। আসলে ও তো রান্না করতে জানেই না। শুধু সুপ্তির সামনে হার মানতে চাইনি বলেই এত বড় বড় কথা বলে ফেলেছে। এখন রান্নাঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চারপাশের কেবিনেট, মসলা আর বাসনের দিকে তাকিয়ে তার মনে হচ্ছিল ও ভুল করে কোনো পরীক্ষার হলে চলে এসেছে। ঠিক তখনই রান্নাঘরে ঢুকল রিমা। মিষ্টি করে হেসে বলল,
“সূচনা, আমি তোমাকে পরোটা বানানোর সব জিনিস এনে দিচ্ছি। তুমি তো এখনও জানো না কোথায় কী রাখা আছে।”

সূচনা অপ্রস্তুতভাবে হেসে ফেলল। তারপর মাথা নেড়ে বলল,
“হ্যাঁ ভাবী… আমি তো আসলেই কিছু জানি না কোথায় কী আছে।”
রিমা একে একে কেবিনেট খুলে আলু, ময়দা, তেল, মসলা আর প্রয়োজনীয় সবকিছু বের করে কাউন্টারের উপর গুছিয়ে রাখতে লাগল। পুরো কাজটাই সে এমন স্বাভাবিকভাবে করছিল যেন বহুদিনের পরিচিত কাউকে সাহায্য করছে। আর সূচনা চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুধু দেখছিল।
সবকিছু গুছিয়ে দিয়ে রিমা আবার সূচনার দিকে তাকালো। মনে হচ্ছিল কিছু বলতে চাইছে। হয়তো সাহায্য করার কথাই বলত। কিন্তু ঠিক তখনই হঠাৎ রিমার ফোনটা বেজে উঠল।
রিমা ফোন হাতে নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই বলল,
“আরে, মা ফোন দিয়েছে।”
তারপর দ্রুত সূচনার দিকে ফিরে নরম গলায় বলল,
“তুমি রান্না শুরু করো, আমি মায়ের সাথে কথা বলে আসছি। ঠিক আছে?”
সূচনা ঠোঁট কামড়ে নিজের অস্থিরতা লুকিয়ে মাথা নাড়ল।
“আচ্ছা… ঠিক আছে।”

রিমা ফোন কানে নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই পুরো রান্নাঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। আর সূচনা ধীরে ধীরে সামনে রাখা ময়দা আর আলুর দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলল।
এদিকে বেশ পরিপাটি হয়ে নিচে নেমে এলো প্রণয়। নিজের বিয়ের জন্য কলেজ থেকে থেকে কয়েক দিনের ছুটি নিয়েছে সে। সকালটা অন্য দিনের চেয়ে কেমন যেন আলাদা লাগছে তার কাছে।
অনেকক্ষণ হলো সূচনা নিচে নেমেছে, অথচ এখনো উপরে ঘরে ফেরেনি। বিষয়টা খেয়াল হতেই প্রণয়ও নিচে চলে আসে।
প্রণয় সোফায় গিয়ে বসতেই ছোট্ট তামজিদ দৌড়ে এসে তার কোলে চড়ে বসল। প্রণয় হালকা হেসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। তারপর চারপাশে চোখ বুলালো সে। ড্রয়িংরুমে সবাই আছে, কিন্তু সূচনাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
ঠিক তখনই রিমা এগিয়ে এসে তামজীদকে প্রণয়ের কোল থেকে নিয়ে বলল,
“তামজিদ বাবা, তোমার নানির সাথে কথা বলো।”
ফোনটা তামজিদের হাতে দিয়ে রিমা সরে যেতেই প্রণয় জিজ্ঞেস করল,

“ভাবি, সূচনা কোথায়?”
প্রণয়ের প্রশ্ন শুনে পাশ থেকে রবিন মুচকি হেসে বলে উঠল,
“দেখেছো রিমা? আমার ভাই তো বিয়ের একদিন পরেই বউ পাগল হয়ে গেছে!”
কথাটা শুনে রিমা ঠোঁট চেপে হেসে ফেলল।
আর প্রণয় মনে মনে বিরক্ত হয়ে ভাবল, “বউ পাগল না, সমস্যা হলো এই মেয়েটাকে একা ছাড়া যায় না। না জানি আবার কোথায় কী গণ্ডগোল করছে!”
এরপর রিমা হেসেই বলল,

প্রণয়ের নব্য সূচনা পর্ব ৪

“আরে তোমার বউ রান্নাঘরে। সবার জন্য পরোটা বানাচ্ছে।”
কথাটা শুনে সুপ্তির মুখটা সঙ্গে সঙ্গে বিরক্তিতে শক্ত হয়ে গেল। তবে সেটা কারও চোখে পড়ল না।
আর প্রণয়? ও মুহূর্তেই অস্থির হয়ে উঠল। রিমার কথা শেষ হতেই এক সেকেন্ডও দেরি করল না। দ্রুত উঠে দাঁড়াল । তারপর আর কারও দিকে না তাকিয়ে সোজা রান্নাঘরের দিকে হাঁটা দিল।

প্রণয়ের নব্য সূচনা পর্ব ৬