Home প্রণয় ব্যাকুলতা প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১৪

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১৪

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১৪
ইনান হাওলাদার

পিছনের সিটগুলো ফাঁকা হলেও মনে হচ্ছে যেন গাড়িটা বোঝাই হয়ে আছে। তূর্য স্টিয়ারিং শক্ত করে চেপে ধরে ড্রাইভ করছে। আঙুলগুলোতে চাপের রেখা স্পষ্ট। রাস্তার গতি সে টের পাচ্ছে, কিন্তু চোখ ভিতরের ঝড়ে আবদ্ধ।
মনের ভেতরটা যেন অদৃশ্য কুয়াশায় ঢেকে আছে। কোথাও থেকে অদ্ভুত এক আতঙ্ক চেপে বসেছে বুকে।যেন প্রতিটা বাঁক ঘোরার আগেই কিছু অঘটন অপেক্ষা করছে। মাঝে মাঝে শ্বাস ভারী হয়ে আসছে, বুকের ভেতর দ্রুত ঢেউ খেলছে হৃদস্পন্দন। আদেও ঠিক সময় পৌঁছাতে পারবে তো?

দিনের বেলা সূর্যের আলো থাকা সত্ত্বেও রাস্তা কেমন ঝাপসা হয়ে ভেসে উঠছে তার চোখে।চারপাশে শহরের কোলাহল, অথচ তার মনে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। অস্থিরতা আর অজানা ভয়ের প্রতিধ্বনি!
সাঁই সাঁই করে ছুটে চলেছে ব্লাক বিএমডাবলু।গাড়িটির স্পিড বাড়িয়েছে সর্বোচ্চ গতিতে।তবুও মনে হচ্ছে গাড়ি বোধ হয় চলছে না।থেকে থেকে ট্রাফিক রুলসও ব্রেক করছে।এতে পিছনের ও আশেপাশের গাড়ির চালোকগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে কথা শোনাচ্ছে। কেউ কেউ আবার গালিও দিচ্ছে।তবে সেদিকে ধ্যান নেয় তার।কোনো কথা কান অবধি পৌঁছাচ্ছে কিনা সন্দেহ!

মেয়ের হারিয়ে যাওয়ার খবর শুনে থেকেই বারবার জ্ঞান হারা হচ্ছেন মারুফা বেগম। আপাতত জা এর শিয়রে বসে চোখের পানি ফেলছেন পারভিন বেগম।লতা বেগমও ছিলেন।কিছুক্ষণ হয়েছে ঘরের বার হয়েছেন।সবাই যদি একসাথে ভেঙে পড়েন তাহলে সংসার সামলাবে কে?মাগরিবের আজান পড়ে গেছে অথচ বাড়ির মেয়ের কোনো খোঁজ করতে পারলো না কেউ। সারা শহরে পুলিশ তদন্ত চালিয়েও দিন শেষে ব্যর্থ।এসব সরকারি লোক দিয়ে কী হবে? যদি দরকারে কাজে না আসে!

হঠাৎ জা কে নড়তে দেখে ভাবনার ছেদ ঘটলো পারভিন বেগমের।নিজের চোখের পানিটুকু আড়াল করতে আঁচল দ্বারা চোখ মুছে নিলেন।তার চোখে পানি দেখে যদি মারুফা বেগম আরো ভে’ঙ্গে পড়েন এই ভ’য়ে।
মারুফা বেগমের মস্তিষ্ক সজাগ হতেই তিনি আবার হাউমাউ করে কান্না আরম্ভ করলেন।পারভিন বেগম কিছু একটা সান্ত্বনার বাণী দিতে চাচ্ছিলেন।কিন্তু কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছেন না।কি বলবেন? সেই সকাল থেকে নানান মি’থ্যে সা’ন্ত্বনা দিতে দিতে কথা ফুরিয়ে গেছে তার।তাই সামনে থাকা সন্তান হারানোর বেদনায় কান্না করতে থাকা মাকে জড়িয়ে বুকের সাথে চেপে ধরলেন।মারুফা বেগমের কান্নার বেগ যেন আরো বেড়ে গেলো।
বড় জা রূপী বোনকে তিনিও আঁকড়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করতে করতে বললেন,
” বুবু.. ও বুবু।আমার আহিকে এনে দেও।আমার বুক জ্বলে যাচ্ছে।আল্লাহ.. আল্লাহ গো…।আমার কলিজার টুকরোকে ফিরিয়ে দাও।আমার তো একটাই সন্তান।ওর কিছু হয়ে গেলে আমি ম’রে যাব,আল্লাহ।বুবু আমি আর কখনো আমার আহিকে মারবো না, বকবো না।শুধু একবার..শুধু একবার….শুধু….”

আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে আসা কন্ঠটা এবার পুরোপুরি রোধ হয়ে গেলো। আবার জ্ঞান হারিয়েছেন বুঝতে পেরে পারভিন বেগম তার মাথাটা আস্তে করে বালিশে রাখলেন।তারপর একটা জায়নামাজ নিয়ে বসে পড়লেন আল্লাহর দরবারে।তার আগে ছেলেকে আরেকবার
ফোন করতেও ভুললেন না।
তাহির কাছ থেকে সবটা শুনেছে সে। ছেলে এখনো বাড়ি ফেরেনি।তারমানে আহিকে খুঁজছে।বলেছিল তো ” খোঁজ পেলে জানাবো । টেনশন করো না ” ফোনটা রিসিভ করলো না ।তারমানে এখনো খুঁজে পায়নি?

মাগরিবের আজানের সুর মিলিয়ে শহরের বাতিগুলো একে একে জ্বলে উঠেছে। চারদিকে যেন এক ধরনের অস্থির নীরবতা। কখনও রিকশার ভিড় ঠেলে, কখনও জনাকীর্ণ ফুটপাতের ভেতর দিয়ে হেঁটে চলেছে এক যুবক। তার চোখে এক অদৃশ্য খোজ,মুখে কোনো ভাষা নেয়।
রাস্তাঘাট, পার্ক, ব্যস্ত মোড়—সবখানে সে খুঁজে ফিরেছে এক অচেনা মুখের ভিড়ে পরিচিত চেহারাটা। শহরের কোনো ওলি – গলিও বাদ দেয়নি।প্রতিটি মোড় ঘুরে মনে হয়,—“হয়তো এখানে… হয়তো এবার দেখা মিলবে।” কিন্তু প্রতিবারই শূন্যতা।
এদিকে পারভিন বেগম আধ ঘণ্টা পরপর কল করছেন। কী বলবে সে? তোমাদের মেয়েকে খুঁজে পায়নি? মেঝ মা কী করছেন কে জানে!

আহি এখন কী করছে? অনেক কান্না করছে? নাকি কান্না করার অবস্থায় নেয় সে? যেভাবে কথা বলতে থাকে সবসময়,এখনো কী সেভাবেই বাচালগিরী করছে? তাহলে নিশ্চিত লোকগুলো এতক্ষণে চ’ড়িয়ে গাল বেঁ’কিয়ে ফেলেছে।এরকম মুহূর্তে এসব কথা মাথায় আসাতে বি’রক্ত হলো তূর্য।
চলার পথে হঠাৎ একটা শব্দ কর্ণ গোচর হতেই পা থামিয়ে দিলো সে।মস্তিষ্ক সজাগ করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেই পরপর কয়েকটা শব্দ পেলো।শব্দের উৎস বোঝার চেষ্টা করলো।সে অনুযায়ী আস্তে আস্তে পদক্ষেপ ফেলে এগোলো ।কিছুক্ষণ পর একটা পুরোনো টিনের ঘরের কাছে গিয়ে পা থামালো।এখন আর কোনো শব্দ আসছে না দেখে সে ভাবলো বিড়াল বা ইদুর হবে হয়তো।যেহেতু কি’ডন্যাপ হয়েছে এখানে আহির থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না।আর কোনো লোকজনও নেয়। দরজা খুলে রাখা। তাছাড়া এটা তাদের নিজ এলাকার মধ্যে।জেনেশুনে কেও চৌধুরী বাড়ির মেয়েকে কিড’ন্যাপ করার সাহ’স দেখাবে না।

চোখ ব’ন্ধ করে সেই জায়গায়ই হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়লো তূর্য।হাত – পা,মস্তিষ্ক কিছুই আর চলতে চায়ছে না। আস্তে করে চোখ খুলে আকাশের পানে চাইলো সে।হয়তো উপরওয়ালাকে কিছু বলছে।এভাবে কতক্ষন পড়ে থাকলো জানা নেয়।হঠাৎ গো’ঙানোর আওয়াজ শুনে ধ্যান ভাঙলো তার।তবে আওয়াজটা খুবই ক্ষীণ ।মস্তিষ্ক বার্তাটা প্রেরণ করার পর এক সেকেন্ডও দেরি করলো না সে।এক ছুটে ভাঙ্গা – চোরা,কোনো রকমে দাঁড়িয়ে থাকা ঘরটার পানে ছুটলো।ভেতরে কোনো কাকপক্ষীও নেয়। গো’ঙানোর আওয়াজটাও আর আসছে না।তূর্য জোরে জোরে ডাকতে আরম্ভ করলো,

” আহি ? এই আহি? আহি কোথায় তুই? রেসপন্স কর জা..”
কথা শেষ করার আগেই আবার গো’ঙানোর আওয়াজ শুনতে পেলো সে।অথচ ঘরটা পুরো পরিষ্কার।কোনো জিনিস পাতি নেয়।এমাথা থেকে ওমাথা পর্যন্ত ফাঁকা।তার অ’স্থিরতা ক্রমশ বেড়েই চলছে।
মেঝের একটা জায়গা চোখ আটকালো।পুরো মেঝে মাটির তৈরী হলেও।ঐখানটা কেমন যেন বেশি চকচকে লাগছে।মনে হচ্ছে জায়গাটাকে কৃত্রিমভাবে মাটির তৈরী দেখানোর বিশেষ চেষ্টা।

আর এক মুহুর্ত অপেক্ষা না করে তূর্য এগিয়ে গেলো সেখানে।হাত রাখতেই বুঝতে পারলো এটা মাটি না,কাঠ। আস্তে করে স্লাইড করতেই হলদে আলো চোখে পড়লো।সেই আলোয় একটা লম্বা সিঁড়ি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।খুব সাবধানতার সহিত সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে নিচে নামলো সে।ভেবেছিল হয়তো অনেক লোকজন থাকবে।কিন্তু আশ্চর্য কেউ নেয়! তবে চোখের সামনে অবহেলায় পড়ে আছে তাদের বাড়ির আহ্লাদী মেয়ে।মুখে স্কচ টেপ লাগানো,দুই হাত পিছনে নিয়ে বাঁধা।হয়তো তাকে দেখে অনেকটা সাহস পেয়েছে মেয়েটা।তাই তো কান্নার বেগটা ধীরে ধীরে বাড়ছে।যেটার আওয়াজ স্কচ টেপ ভেদ করেও জোরে শোনাচ্ছে।তূর্য এগিয়ে গিয়ে মুখ আর হাতের বাঁধন খুলতে খুলতে বলল,

” আর ইউ ওকেই? আহি ঠিক আছিস তুই ? কিভাবে পৌঁছালি এখানে ”
কন্ঠে অস্থিরতা স্পষ্ট। বাঁধন থেকে মুক্তি পেতেই আহি হামলে পড়লো তার বুকে।এহেন আক্রমণে দুই পা পিছিয়ে পড়লো সে।আহি তার বুকে হামলে পড়ে হাউমাউ করে কান্না আরম্ভ করলো।
প্রায় ৫ মিনিট অতিক্রম হওয়ার পরও ছাড়ছে না দেখে তূর্য এবার নিজের মুষ্ঠিবদ্ধ করে রাখা হাত দুইটি আলগা করে একটা আহির পিঠে আরেকটা মাথায় রাখলো।মাথায় রাখা হাতটা চুলে বোলাতে বোলাতে নরম কন্ঠে বললো,
” থাম এবার।অনেক কান্না করেছিস।বাড়িতে সবাই টেনশন করছে তো ” বলে নিজের হাত আলগা করলো।
কে শোনে কার কথা ! এবার যেন কান্নার বেগটা আরো বাড়ালো আহি।
” প্লীজ ছাড় আমাকে।তোর নাকের পানি ,চোখের পানি মিলে আমার টিশার্ট পুরো ভিজে গিয়েছে।শরীর গিজগিজ করছে।”

এবারও ছাড়ল না আহি।তূর্য মুখে চ সূচক শব্দ করে তাকে দূরে সরতে সরতে বলল,
” আহি? অস্বস্তি হচ্ছে আমার ” কন্ঠে বিরক্তি স্পষ্ট। ছেড়ে দিলো আহি।এতক্ষণ এভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখার কথা মাথায় আসতেই লজ্জা লাগছে তার।কান্না থামিয়ে দুই হাতে চোখের পানি মুছে বলল,
” ক্ষুধা লেগেছে আমার ”
তূর্য তার ডান হাত দ্বারা আহির বাম হাতের কব্জি ধরে নিয়ে যেতে যেতে বলল,
” এখন খাবার কোথায় পাবো? বাড়ি ফিরে খাস ।সিঁড়ি বেঁয়ে উঠতে পারবি?”
আহি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। কিছুক্ষণ পর তূর্য তাকে নিয়ে গাড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।অসহায় কন্ঠে বলল,
” তোর কবে বুদ্ধি হবে? কবে সবটাটা বুঝতে শিখবি? দু’দিন পর ভার্সিটিতে যাবি।আর একটা লোক তোকে কিডন্যাপ করে ফেললো?বাচ্চাদেরও এত সহজে কিডন্যাপ করা যায় না ”

” কেনো? আপনি কী আগে ছেলে ধরা ছিলেন? এত কিছু কিভাবে জানলেন ?”
রাগে,দুঃখে আর কিচ্ছু বললো না তূর্য।শুধু ফুস করে একটা শ্বাস ফেললো।আহি আবারো বলল,
” আসলে তূর্য ভাই আমি আমার দোষেই কিডন্যাপ হয়েছিলাম।সত্যিটা বললে কিছু বলবেন না তো আমাকে?”
” একটা লোক আমাকে এখানে আসতে বলেছিল ।তাই আমি তার সাথে এসেছিলাম “গাড়ির কাছে আসার পথে শুধু এতটুকুই বলেছিল।তাই পুরোটা জানার জন্য তূর্য বলল,
” ওকে.. বল !”

” ওই … আপনি যখন আমাকে রেখে ঘুরতে চলে গিয়েছিলেন তখন আমি ভেবেছিলাম যে করেই হোক আপনার ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ মাটি করবো। কাল যখন তারিনদের বাড়িতে যায় তখন আমার মাথায় একটা প্ল্যান আসে।তাই আমি সকাল সকাল ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছি না? এখানে আসতেই একটা লোককে দেখি ফোনে কথা বলছে।
তখন ওনাকে বাড়ির নাম্বার দিয়ে বলি একটু ফোন করে বলুন
‘ আপনাদের মেয়েকে বাঁচাতে চাইলে ৫০ লক্ষ্য টাকা পাঠিয়ে দিন এই নাম্বারে।আর খবরদার পুলিশকে জানানোর মতো ভুল করলে ওকে জানে মে’রে দেবো ‘
লোকটা বড় আব্বুকে কল করে সেটাই বলে।আসলে আপনার নাম্বার মুখস্ত ছিল না।তাই বড় আব্বুরটা দিয়েছিলাম।তারপর ঐ লোক আমাকে বলে

‘ চলো তোমাকে এক জায়গা নিয়ে যায়। পরে তোমার বাড়ির লোককে ভিডিও করে দেখালে বেশি বিশ্বাস করবে ‘ আমিও তার সাথে ওই জায়গা চলে যায়। পরে লোকটা আমার হাত মুখ বেধে কাকে যেন কল করে ।
তখন আমি বুঝতে পারি লোকটা আমাকে সত্যি সত্যি কিড’ন্যাপ করেছে।কিন্তু ফোনের ওপাশে থাকা আরেকটা লোক মনে হয় ওকে ব’কা’ব’কি করছিল।লোকটা শুধু বলছিল,’ স’রি স্যার।ভু’ল হয়ে গিয়েছে। ছেড়ে দিচ্ছি ‘ কিন্তু লোকটা আমাকে না ছেড়ে বলে,’ তোকে ছেড়ে দিলে আমার মৃ’ত্যু নিশ্চিত আর না ছাড়লেও । তার থেকে ভালো পৃথিবী না ছেড়ে তোর আব্বার টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাই ‘ বলে লোকটা আমাকে রেখে চলে যায়।”

কথাগুলো বলে দম ফেলার আগেই বাম গালে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষের শক্ত হাতের চড় খেয়ে পুরো দুনিয়ার ঘুরে উঠেছে তার।একে তো সকাল থেকে কিছু খায়নি তারওপর পুরুষালী মজবুত হাতের পরশ পেয়ে মাথা ঘুরছে। আস্তে আস্তে চোখ ঘোলাটে হয়ে আসছে। আর কিছু ভাবতে পারলো না আহি।তার আগেই জ্ঞান হারালো। নিচে পড়ে যাওয়ার আগে তূর্য দ্রুত দুই হাতে তাকে আগলে ধরে গাড়িতে বসালো।তবে রাগ একটুও পড়েনি।কত বড় ইডিয়েট হলে এমন কাজ করতে পারে ভেবে পাচ্ছে না তূর্য।সারাদিন নাওয়া – খাওয়া ছেড়ে পাগলা কুত্তার মতো হন্যে হয়ে খুঁজে বেরিয়েছে। যদি ঐ পাতালে থাকা অবস্থায় কথাটা জানতে পারত তবে আবার হাত – মুখ বেঁধে রেখে আসতো।

অনেকক্ষণ হয়েছে তূর্য আহিকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।আহিকে তার রুমে রেখে নিজে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে।ক্লান্ত শরীরটাকে বিছানায় ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই পারভিন বেগম খাবার নিয়ে রুমে ঢুকেছেন।সে ভেবেছিল আরো কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে পরে খাবে।কিন্তু মায়ের জোরাজোরিতে খেতে বাধ্য হচ্ছে।পারভিন বেগম ছেলের মুখে ভাত তুলে দিতে দিতে বললেন,
” কিছু কথা বলবো তোকে।হেঁয়ালি করবি না ”
পারভিন বেগমের ভিতরের কথা তূর্য বোধ হয় আন্দাজ করতে পারলো। প্রসঙ্গ পাল্টাতে গালের ভাত গুলো গিলে বলল,

” আহির জ্ঞান ফিরেছে?”
” হ্যাঁ ”
” খেয়েছে কিছু ?”
” হ্যাঁ !চালাকি করে কথা ঘুরাচ্ছিস?” আরেক লোকমা ভাত গালে তুলে দিতে দিতে বললেন পারভিন বেগম।
” সারাদিন অনেক ধকল গিয়েছে আম্মু।যা বলার পরে বলো”গালের ভাত চিবোতে চিবোতে বলল তূর্য।
” তূর্য ভাই আসবো?”

দরজার বাইরে থেকে মিষ্টি কন্ঠস্বর ভেসে আসলো।তূর্যও সাথে সাথে উত্তর দিলো ,
” আয়”প্রতিদিনের মতো আজ আর গ’ম্ভীর শোনা গেলো না কন্ঠটা । ঘ্যাচ’রামি করতে হলো না দেখে মনে মনে খুশি হলো আহি।কিন্তু ভেতরে বড় মাকে দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেলো।এ কথা তো তার সামনে বলা যাবে না।তাহলে তিনি যদি আরেকটা চ’ড় লাগান।তার ছেলের চ’ড় খেয়েই এখনো গাল ব্য’থা হয়ে আছে।মনে হচ্ছে বাম গালটায় কেউ ইট বেঁধে রেখেছে।

” আর খাবো না আম্মু।প্লেট নিয়ে যাও”
পারভিন বেগম ছেলের কথা মতো প্লেট নিয়ে চলে গেলেন।যাওয়ার আগে আহির মাথায় হাত বুলিয়ে গেলেন।পারভিন বেগম যাওয়া মাত্রই আহি তূর্যের দিকে এগিয়ে গিয়ে মিনমিন করে বলল,
” তূর্য ভাই? আসল ঘটনাটা বাড়ির কাউকে বলবেন না প্লীজ ”
” বাট আমার তো বলা ডান ”
” নিজে মে’রে ক্ষান্ত হননি? এখন আম্মুকে দিয়েও মা’র খাওয়াবেন? আপনার থেকে ওই লোকটা আরো ভালো ছিল ।অন্তত মা’রেনি আমাকে। এতো জোরে কেউ মা’রে নাকি ?আপনার বউ আপনার হাতের মা’র খেতে খেতে ম’রে যাবে”এক দমে কথাগুলো বলল আহি।

” বউ কি মা’রার জিনিস ?” ভ্রু কুঁচকে আহির পানে তাঁকিয়ে সন্দিহান কন্ঠে বলল তূর্য।
” তো? আপনি কী আর আদর – সোহাগ বোঝেন নাকি!”
বলেই জ্বিভ কামড়ে ধরলো আহি।ছিঃ! বড় ভাইয়ের সামনে কিসব বলে ফেললো।এখন যদি আরেকটা লাগায়? নিশ্চিত তিনদিন অজ্ঞান হয়ে থাকবে।তবে তাকে অবাক করে তূর্য বলল,
” সেটা নয় বিয়ের পর আমার বউ বুঝে নিবে।তোকে এত প্রেসার নিতে হবে না ”
” সত্যি সত্যিই সবাইকে বলে দিয়েছেন ?” মন খারাপ করে বললো আহি।
” হুমম । বস এখানে “নিজের পাশে থাকা খালি জায়গাটা দেখিয়ে বলল তূর্য।

আজকে যেন আহির অবাক হওয়ার দিন।এমনি সময় তো পারলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে।আর,এখন বসতে বলছে? তাহলে কি তাকে মা’রার জন্য তূর্য ভাই অনু’তপ্ত?আহি বসতেই তূর্য নরম কণ্ঠে বলতে আরম্ভ করলো,
” আমাকে শাস্তি দিতে এত কিছু করলি? একবার বাড়ির বাকি লোকের কথা ভাবলি না? আমি নাহয় সারাক্ষণ ব’কি তোকে! কিন্তু তারা? তারা তো ভালোবাসেন ।তাদের কথা একবারও ভাবলি না?তোর বড় আব্বু কোথায় জানিস?”
আহি এদিক ওদিক মাথা নাড়লো।মানে জানে না সে।
“তোর এই নির্বুদ্ধিতার জন্য হাসপাতালে।টেনশন করে প্রেসার বাড়িয়ে ফেলেছে।মেজো মা সারাদিন পাগলের মতো ছটফট করেছে। তাহি কান্না করতে করতে এখন ঘুমিয়ে পড়েছে।শান্ত – প্রান্ত তোর ছোট হয়েও বড় ভাইয়ের মতো চাচ্চুদের সাথে খুঁজে বেরিয়েছে। বাকিদের কথা আর কি বলব।”

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১৩ (২)

” সবার চিন্তা হয়েছে,আপনার হয়নি ?”
” আমার কেনো টেনসন হতে যাবে?”
” তাহলে এত দূর থেকে ছুটে এলেন কেন?”
” ভেবেছিলাম মে’রে ফেলেছে তোকে। তাই জানাজা পড়তে এসেছিলাম।আসতে লেট হলে তো আর ভাগে পেতাম না ”

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১৫