প্রণয় ব্যাকুলতা শেষ পর্ব
ইনান হাওলাদার
ছয় মাস পর……..
কিভাবে দেখতে দেখতে সময় চলে যায়।ঘন্টা পেরিয়ে দিন , দিন পেরিয়ে সপ্তাহ , সপ্তাহ পেরিয়ে মাস । আর মাস পেরিয়ে মাসের পর মাস চলে যায় চোখের পলকেই। এজন্যই বলে, ‘ সময় আর নদীর স্রোত কারো জন্যে অপেক্ষা করে না ‘
এই ছয় মাসে তেমন কোনো কিছুর পরিবর্তন না হলেও আহির মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। আর সেসব পরিবর্তনের সর্ব শীর্ষে হলো ওজন। আনুমানিক দুই-চার কেজি ওজন বেড়েছে। তূর্যের পাশে এখন আর তাকে বাতাসি লাগে না। তাছাড়াও মেয়েটা এখন আর ততটা ছেলে মানুষীও করে না। ভাই-বোনদের সাথে পাল্লা দেয় না।সময় সময় একটু অবশ্য ঝগড়া লেগে যায়। পুরোনো অভ্যাস।পরে আবার নিজেই হার মেনে নেয়।
তবে তূর্যের কাছে সে এখনো ছয় মাসের আগের আহি-ই। তুই থেকে তুমি হলেই গাল ফোলাবে। দরকার হলে নাহয় কথা-ই বন্ধ করে দিল। আর ইদানিং একটু কিছু হলেই দিনভর রুমে আসা তো বন্ধ করবেই আর রাতেও আসবে না। নিজের রুমে গিয়ে ঘুমাবে। এভাবে কতদিন যে তূর্য ওকে ঘুমের মধ্যে তুলে তুলে এনেছে তার ইয়েত্তা নেই। তবে এসব নিয়ে তূর্য কখনো বিরক্ত হয়নি।বউয়ের রাগ ভাঙাতে তার বরাবরই ভালো লাগে।
মেয়েটা এখন চৌধুরী বাড়ির বউয়ের দায়িত্বও পালন করে।কেননা,আকবর চৌধুরী বলেছেন কয়েক বছর পরেই তো শান্ত ,প্রান্তের বউ ঘরে আসবে।তারা বাড়ির ছোট বউ হবে,আর আহি বড়।তাই তাকেই পারভিন বেগমের মতো সবটা সামলাতে হবে।সবাইকে খুশি রাখতে হবে। মেয়েটা সেই কথা খুব ভালো করে বুঝেছে।এখন সে কম-বেশি অনেক রান্না শিখেছে।মাঝে মাঝে বললে ভুল হবে প্রায়ই রান্না করে সে।এটা নিয়ে অবশ্য তূর্যের ঘোর আপত্তি রয়েছে।পড়া-লেখা নিয়ে বাড়ির লোকদের এত এত শর্ত ।
এটা করা যাবে না , ওটা করা যাবে না।তাহলে রান্না কেন করবে? একদিন রান্না করতে গিয়ে হাত পু’ড়িয়েছিল মেয়েটা । সেটা জানার পর তূর্যের রাগ দেখে কে ! মেয়েটাকে তো বকাবকি করেছিল সাথে বাড়ির লোকদেরও ছাড় দেয়নি।
আজকে তূর্যের ছুটির দিন। দুপুরের খাবার খেয়ে একটু হাঁটা চলা করে শুয়েছে।চোখে ঘুম অথচ শুধু এপাশ-ওপাশ করছে সে। আহিটা এখনো কি করছে কে জানে। কি এক বদ অভ্যাস হয়েছে বুকের উপর বউয়ের নির্বোধ মাথাটা না রাখলে ঘুমই আসতে চায় না।অগত্যা সে বুকের বা পাশে একটা বালিশ তুলে রাখলো।যদিও এতে তেমন কোনো উপকার হলো না।কিন্তু কিছুটা তো হলো।
আহি মায়েদের সাথে কাজ গুছিয়ে এসে দেখলো লোকটা বুকের উপর একটা বালিশ রাখা।সে কোনো কথা-বার্তা ছাড়া আস্তে করে বালিশটা সরিয়ে রাখতে গেলে ওমনি তূর্য বাঁধ সাধলো,
” উঁহু, সরাস না ”
আহি রেখে দিল বালিশ।বলল,
” কেন? ”
এইমুহূর্তে বেশি কথা বললে চোখের ঘুম ছুটে যাবে। তূর্য চোখ বন্ধ করেই বালিশ সরিয়ে একপাশে রাখলো।আর হাত দিয়ে ইশারা করলো ওকে বুকের উপর মাথা রাখতে। আহিও ভদ্র মেয়ের মতো স্বামীর বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল।
তূর্যের ঘুম ভাঙলো ফোন কলের রিংটোনে। টিপটিপ করে চোখ খুললো সে। আহির ফোন বাজছে । ঘুমের এক পর্যায়ে এসে তাদের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে। তূর্যের লম্বা দেহের নিচে চাপা পড়েছে মেয়েটার ছোট খাটো শরীর।
সে হাত বাড়িয়ে মোবাইলটা আয়ত্তে নেওয়ার চেষ্টা চালালো। কিন্তু নাগালের বাইরে।এদিকে আহি বেঘোরে ঘুমোচ্ছে।সে আলগোছে উঠে ফোন সাইলেন্ট করে ওয়াশরুমে গেল । মিনিট পাঁচেক পর বের হয়ে দেখলো আহি খুশি খুশি মুখ করে বসে আছে। ও বেরোতেই মেয়েটা খলখল করে উঠলো,
” তারিনের মেয়ে বাবু হয়েছে ”
” মাশাআল্লাহ ! দেখতে যাবি? ”
” হুম ” সাথে ঘনঘন মাথা নাড়লো আহি।
” ওকে । সন্ধ্যায় নিয়ে যাব ”
আহি আরো কিছু বলবে বলে মুখ খুলছিল।কিন্তু তার আগেই প্রসঙ্গ পাল্টালো তূর্য। বিগত এক মাস ধরেই সুযোগ পেলেই বাচ্চা-কাচ্চার কথা উঠায় মেয়েটা । তূর্য বোঝে ও কি বলতে চায়।তবুও না বোঝার নাটক করে থাকে।সেও সুযোগ পেলেই এমনসব কথা বলে যেন তার বাচ্চা পছন্দ নয়। পরে আহিও চুপ হয়ে যায়।সরাসরি কিছুই বলতে পারে না।এভাবে কিছু দিন যায় তারপর আবার শুরু করে মেয়েটা। আবারো সেই একই কান্ড ঘটে আর সে কিছুদিনের জন্যে চুপ হয়ে যায়।এভাবেই যাচ্ছে দিন।
আহিকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে তূর্য এসেছে নাবিলদের বাসায়। ওদের বেবির বয়স আটচল্লিশ দিন হয়েছে। নাম রেখেছে রামিশা।আগে পরে অবশ্য আরো কিছু আছে,ডাক নাম রামিশা। সেটাকে ছোট করে আবার রাশা বলে।
পিংকির শারীরিক কিছু সমস্যার জন্যেই মূলত আগে আগে ডেলিভারি করানো হয়েছে। ওর এই সমস্যার কথা শুনে সবাই বেশ চিন্তিত থাকলেও ভালোই ভালোই সবটা মিটে গিয়েছে।বাচ্চা বা মায়ের কোনো সমস্যা হয়নি ।
তূর্যের নাবিলদের বাসায় আসার কথা ছিল আরো কিছুদিন আগে।কিন্তু ও ইচ্ছা করেই আসে না। ব্যস্ততা না থাকা সত্ত্বেও অজুহাত দেখায়।আজ তাসিন এসেছে বলে বাধ্য হয়ে আসতে হলো।তাছাড়া আহিও বাড়িতে থাকবে না। নাবিলদের বাসায় আসতে না চাওয়ার একমাত্র কারণ ওদের মেয়ে। বাচ্চাটাকে দেখলেই ওর ইচ্ছা করে আহির আবদার মেনে নিতে। ইচ্ছা করে, বাবা হওয়ার আনন্দটা উপভোগ করতে।
ওরা ড্রয়িং রুমে আড্ডা দিচ্ছে আর রাশা রুমে ঘুমিয়ে আছে।আড্ডার এক পর্যায়ে বাচ্চাটা কাঁন্না করে উঠলো।পিংকি দৌঁড়ে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসলো। অতিরিক্ত গরমের দরুণ হাতে সেলাই করা একটা পাতলা কাঁথা গায়ে জড়িয়ে নিয়ে এসেছে। পরিয়েও এনেছে একটা পাতলা ফতুয়া আর প্যান্ট। একদম পুতুল পুতুল লাগছে।মেয়েকে এনে বেচারির বসার আর উপায় হলো না।সে ড্রয়িং রুমের এমাথা ওমাথা পায়চারি করতে লাগলো। এক দন্ড শান্তিতে বসতে দেয় না। নাবিল তাসিন বকবক করতে ব্যস্ত থাকলেও তূর্যের খেয়াল পিংকি আর ওর বাচ্চার দিকে। কান্না করছে তবুও কি আদুরে আদুরে লাগছে বাচ্চাটাকে।আর পিংকিও কি সুন্দর করে সামলাচ্ছে ওকে।আহি কি আদেও এসব পারবে? ও নিজেই তো একটা বাচ্চা। এসব ভাবতে ভাবতে পিংকির দিকে এগিয়ে গেল ও। ইতঃস্তত করতে করতে বলল,
” আমাকে একটু দে পিংকি ”
পিংকি অবাক হয়ে বলল,
” কি ? ”
বাচ্চার দিকে ইশারা করে হাত বাড়িয়ে দিল তূর্য। পিংকিসহ বাকিরা রীতিমতো অবাক। সেদিন হাসপাতালে সবাই বাচ্চাটাকে কোলে নেওয়ার জন্যে কাড়াকাড়ি লাগালেও তূর্য একবারও কোলে নেয়নি ওকে।তাসিন জোর করে কোলে দিতে চাইলেও নেয়নি।বলেছে ‘ পারবো না,পড়ে যাবে ‘ শুধু দেখেই চলে এসেছিল। পিংকি ফের বলল,
” ওকে কোলে নিবি তুই? ”
” হ্যাঁ! এত অবাক হচ্ছিস কেন? দে ফাস্ট ”
পিংকি আশ্চর্যতার মাঝেই বাচ্চাটাকে দিল তূর্যের কোলে। খুব সাবধানে বাচ্চাটাকে আগলে ধরলো ও। কোলে নিয়ে ঠোঁট প্রসারিত করলো তূর্য। দুইবার ভ্রু নাচালো বাচ্চাটির দিকে তাকিয়ে। ধীরে ধীরে হেঁটে গিয়ে সোফায় বসলো ও। নাবিল-তাসিন হা করে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। তূর্য ওদের দৃষ্টি উপেক্ষা করলো।নাবিল পিংকির উদ্দেশ্যে বলল,
” ডায়াপার পরাইছ ? মুইতা দিলে কে’লেংকারি কান্ড ঘইটা যাইব বা’ড়া ”
পিংকি দ্রুত বলল,
” না রে।এই তূর্য দে, দে। হিসু করে দিবে ”
বলেই ব্যস্ত হয়ে নিতে গেল বাচ্চাটাকে।তূর্য বাঁধ সেধে বলল,
” মেয়ে ওর বাবার মতো না যে যখন-তখন উল্টা-পাল্টা কাজ করে দিবে ”
তূর্য কথা শেষ করলো কি করলো না তার মধ্যেই কোলের মধ্যে ভেজা ভেজা ঠেকলো। বলল,
” দিয়েছে মেইবি ”
তাসিন খুশি হলো বোধ হয়। চোখ জোড়া বড় বড় করে ফেললো।হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলল,
” দিয়েছে? ”
পিংকি দ্রুত বাচ্চাটাকে নিয়ে নিল। তূর্য জানতে চাইলো,
” বাচ্চাদের হিসুতে তো গন্ধ হয় না ,তাই না? ”
চিন্তিত হয়ে পিংকি বলল,
” হয় না।কিন্তু….”
ওকে থামিয়ে তূর্য বলল,
” তাহলে প্রবলেইম নেই,ক্যুল! ”
” বাচ্চাদের ইয়ে’তে গন্ধ নেই তুই কীভাবে জানলি ভাই ? “অবাক হয়ে প্রশ্ন করল তাসিন।বিরক্ত হলো তূর্য। এদের প্রশ্নের কোনো আগা-মাথা নেই। বলল,
” আমার ভাই-বোন কখনো ছোট ছিল না? আর একবার আহি পি করে দিয়েছিল তখন মেজো মা বলেছিল গন্ধ নেই ”
” বাচ্চার কোলে মুতার বয়সে বাচ্চার মায়ের মুতার গল্প কয় আরেকজন। বা’ড়া !” মুখ বাঁকিয়ে বলল নাবিল।
” শাট আপ নাবিল ! ” নাবিলকে ধ’মকে পিংকির দিকে তাকালো তূর্য।বিরক্তি নিয়ে বলল,
” এখনো ওকে একটু ভালো ভাষা শিখাতে পারিসনি। ”
” ওয় তো আস্ত জা’নোয়ার। জীবনে বদলাবে না ও। ” বলে পিংকি গরম চাহুনি নিক্ষেপ করলো নাবিলের দিকে। সাথে সাথে নাবিল চুপ হয়ে গেল। তূর্য একবার হাত ঘড়ি দেখে নিল।অতঃপর বলল,
” আই হ্যাভ টু গো।বাই ”
পিংকি আটকালো ওকে।বলল,
” একটু বস।এক জায়গা হলে আলিয়া কল করতে বলেছিল ”
তাসিন মুখ বাঁকিয়ে বলল,
” ঐ বা’ল-ছাল’কে বা’লের কল করতে হবে। ও বললেই করতে হবে কেন? কানাডিয়ান হয়েছে জামাইয়ের সাথে । থাকুক জামাই নিয়ে ”
” এ বা’ড়া তোর হবু শ্বশুর যে কানাডিয়ান এই নিয়া আলিয়া কিছু কইছে? তুই বা’ড়া বা’ড়া করস ক্যান খালি? ”
আসলেই করে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর তাসিনের কাছেও নেই।আলিয়ার বিয়েতে যে ও খুব বেশি কষ্ট পেয়েছে এমনও না।তবে মনে হয়েছিল মেয়েটা তার হয়ে থেকে যেতে পারতো। কিন্তু থাকলো না ! থাকবেই না যখন তাহলে সেদিন কেন ওসব বলেছিল? না বললে তো আর সে …..আর ভাবে না ছেলেটা। কয়দিন পর তারও তো বিয়ে।আলিয়ার জন্যে মনে কিছু থাকলে কি সে খুশি মনে বিয়ে করতে পারতো? সে টেনে টেনে বলল,
” কত বড় বেঈমান ও ভাব একবার ভাই। বিয়ে করেই চলে গেল । তিন মাস হয়ে গেল এখনো আসে না।কি পাষাণ মেয়ে বাপ রে বাপ।”
ইতোমধ্যে আলিয়া কল করেছে। একে একে সবার সাথে কথা বলল। চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুব আনন্দে আছে মেয়েটা।
আহিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে এসে বাসায় ফিরতে ফিরতে ঘড়ির কাঁটায় রাত বারোটা পেরিয়েছে। ফ্রেশ হয়ে তূর্য বিছানায় গেলেও আহি যায়নি। পড়ার টেবিলে বসেছে। ইদানিং বই নিয়ে বসতেই চায় না মেয়েটা। মা আর স্বামীর বকা খেয়ে একটু বই নিয়ে বসবে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করবে। তারপর আবার উঠে পড়বে। ফলস্বরূপ ফার্স্ট ইয়ার সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্টও তেমন ভালো আসেনি।কোনো রকমে ফার্স্ট ক্লাসটা এসেছে শুধু। আগের আহি হলে এই রেজাল্টে খুব কান্না করতো।কিন্তু ওর মধ্যে কোনো আফসোসও দেখা যায়নি।
সেকেন্ড ইয়ারে ওঠার চার মাসে আজকেই প্রথম স্বেচ্ছায় বই ধরেছে সে।যাকে হাজার বকে টেবিলে বসানো যায় না সে নিজ ইচ্ছায় টেবিলে বসতে দেখে তূর্যও আর দ্বিমত করেনি।পড়ছে পড়ুক । সকালে নাহয় দেরি করে উঠলো। এর মাঝে আহি ওকে ডাক দিলো,
” শুনুন?”
” বলুন ” সাথে সাথে জবাব ভেসে আসলো।
” তারিনের মেয়ে বাবু হয়েছে ”
তূর্য বিষম মুখে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। বাচ্চা দেখে আসার পরেও গোটা কয়েকবার এই একই কথা বললো আহি। বলল,
” এই নিয়ে পাঁচবার বললি। ইভেন সন্ধ্যায় দেখেও আসলাম ”
” তো? আপনার কিছু বলার নেই?” নখ খুঁটতে খুঁটতে নত মুখে মিনমিন করলো মেয়েটা।ওর কথার মানে বুঝেও তূর্য অবুঝ হয়ে রইলো।বলল,
” হ্যাঁ , আছে। আলহামদুলিল্লাহ! ”
চোখ তুলে চাইলো আহি। বলল,
” এটা তো আগেও বলেছেন।অন্যকিছু বলুন ”
” গুড নিউজ শুনলে আলহামদুলিল্লাহ ছাড়া আর কি বলে আমার জানা নেই।তুই বল ”
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আসল কথায় ফিরল সে। ওড়নার কোনা ধরে বাম হাতের তর্জনী আঙুলে প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে এগিয়ে আসলো তূর্যের দিকে। বলল,
” আসলে আমারও বেইবি চাই ”
চুপিসারে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো তূর্য। এক সেকেন্ডের জন্যে চোখ বন্ধ করলো।প্রসঙ্গ ঘোরানোর চেষ্টা করে বলল,
” আহারে.. তোর ফ্রেন্ডের মেয়ে হলো তাইনা? তাহলে আর আত্মীয়তা করা হলো না।খারাপ লাগছে খুব? ”
তবে আহি আজকে কিছুতেই থামবে না। মিনমিন করে সে পুনরায় বলল,
” বেইবি চাই আমার ”
এবারে না চাইতেও ধমকে উঠলো তূর্য,
” পাগল হয়েছিস?বকবক না করে ঠিকঠাক পড় ”
” বকছেন কেন আপনি? ” ঠোঁট ফুলাল মেয়েটা।
” এসব নিয়ে পরে কথা বলবো আমরা।এখন পড়।ফেইল করে মান খোয়াস না আমার “গম্ভীর কন্ঠে বলল তূর্য।
” ভার্সিটিতে মানুষ ফেইল করে নাকি? রিটেক দিলেই হয়ে গেল ”
” রিটেক কেন দিতে হবে? বাজে না বকে পড় ” বলে উল্টো দিক ফিরে শুয়ে পড়লো তূর্য।আহি তবুও থামলো না। একদমে বলতে লাগলো,
” পড়ছি তার আগে বলুন বেইবিতে কি সমস্যা আপনার? ও একদম জ্বালাবে না আপনাকে। দরকার হয় ওকে নিয়ে আমি আলাদা থাকবো।আপনার ডিস্টার্ব হবে না ”
” আহি !! বাচ্চার জন্য ডিস্টার্বড হবো তোকে বলেছি আমি? ” এবারে বাজখাই গলায় ধমকে উঠলো তূর্য।মৃদু কেঁপে উঠল মেয়েটা। শোয়া থেকে উঠে বসলো তূর্য।পরপর আবার নরম গলায় বলল,
” এত তাড়াহুড়ো করছিস কেন? সবটা হবে জা’ন। ”
ওর কথা পুরোপুরি উপেক্ষা করলো আহি। লাইট বন্ধ করে থমথমে মুখে শুয়ে পড়লো পাশে।তবে উল্টো দিকে ঘুরে। তূর্য এখনো ঠাঁয় বসে আছে।
অভিমানের পরিমাণ কতটুকু পরিমাপ করতে ধীরে ধীরে হাত রাখলো প্রেয়সীর বাহুতে।হাতটা ওর শরীর স্পর্শ করলো কি করলো না তার ঠিক নেই ওমনি বুলেটের গতিতে ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিল আহি। তূর্য পুনরায় হাত দিলো বাহুতে এবারেও একই কাজ ঘটলো।এভাবে কয়েকবার হওয়ার পর খ্যাঁক করে উঠলো আহি,
” ঘুমাতে দিন তো তূর্য ভাই ”
” আবার ‘ ভাই ‘ ‘ ভাই ‘ শুরু করেছিস ? ”
কথার উত্তর দিলো না মেয়েটা। তূর্য ওকে পিছন থেকে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ধরে বলল,
” এবার জোর খাটা।”
কিছুক্ষণ মোচড়া মুচড়ি করে ব্যর্থ হয়ে থেমে গেল আহি। তূর্য মৃদু হেসে ওর কানে কানে ফিসফিস করলো,
” আমার ভালোবাসায় ভাগ বসানোর এত তাঁড়া কিসের আপনার?”
” ঢং করবেন না তো। আপনি ভালোবাসেন না আমায় ” তেজ দেখিয়ে বলল আহি।
” ওও আচ্ছা ? যাহ , বাসি না। আর ? ”
” আর ঘোড়ার ডিম ” খিটমিট করে উঠলো মেয়েটা।তূর্য মুচকি হাসলো।ওকে জ্বালাতে বলল,
” আচ্ছা,ঘোড়ার ডিম । আর ? ”
ওর রাগের পরিমাণ আরেকটু বাড়ল। চেঁচিয়ে উঠে বলল,
” আর আপনার মাথা ”
” আচ্ছা, আপনার মাথা….. আই মিন আমার মাথা। আর? ”
রাগে-দুঃখে এখন কান্না পাচ্ছে মেয়েটার । ও বলল,
” রাগাচ্ছেন কেন ? ”
” রাগছেন কেন? ” তূর্য ফের রসিকতা করল।
” অসহ্য ”
” সহ্য ”
বলে এবার নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল প্রেয়সীকে। মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে নরম কন্ঠে বলল,
” মাথা ঠান্ডা করে ঘুমা।দেখি কি করা যায় ”
বেশ কিছুদিন পর বাপ ও শ্বশুরের দেখা একসাথে পেয়েছে তূর্য। শুক্রবার না হলে হয়তো সম্ভব ছিল না। কোনো একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন আকবর চৌধুরী ও আসলাম চৌধুরী।ব্যবসায়িক বিষয় হবে হয়তো। তাছাড়া আর আলোচনার কি আছে ওনাদের? তূর্য কফির মগ হাতে সিঙ্গেল সোফাটায় বসলো। রান্নাঘরে কর্মরত বউকে দেখলো। মুখ ফুলিয়ে মা – চাচিদের কাজে সাহায্য করে যাচ্ছে। সকালের বকা’টা একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল মনে হচ্ছে।ভালোই হয়েছে ইদানিং খুব বেশিই আশকারা দিয়ে ফেলেছিল ও। কিন্তু বকা তো দিয়েছে ভালো কথা , এর রেশ কয়দিন থাকবে কে জানে ! ওর ভাবনার মাঝে আসলাম চৌধুরী গলা খাঁকারি দিলেন। আড় চোখে তাকালেন তূর্যের দিকে।তূর্যও রান্নাঘর থেকে চোখ সরিয়ে চাচা রুপি শ্বশুরের দিকে তাকালো।চোখ-চোখি হতেই চোখ ঘুরিয়ে বড় ভাইয়ের দিকে নজর দিলেন আসলাম চৌধুরী।বললেন,
” সেদিন স্বপ্নে দেখলাম বাড়িতে একটা পুঁচকে পুতুল দৌঁড়া-দৌঁড়ি করছে ভাইজান ”
আকবর চৌধুরী ভাইয়ের কথার অর্থ বুঝলেন।কিন্তু এই বিষয়ের পুরোপুরি বিপক্ষে তিনি।ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললেন,
” সেদিন স্বপ্নে দেখলি নাকি এখন জেগে জেগে দেখলি? ”
” দেখলাম , যেভাবেই দেখি ” বলে তূর্যের দিকে পুনরায় তাকালেন তিনি।তূর্য ভাবলেশহীন ভাবে কফির কাপে একের পর এক চুমুক দিয়ে যাচ্ছে।যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছে না সে। কোনো কথা – বার্তা ছাড়া হুট করেই জায়গা ছেড়ে উঠে গেল সে।যেতে যেতে মনেমনে বিড়বিড় করলো,
” এক ভাই শুরুতেই ৩০২ ধারা জারি করে রেখেছে । আরেক ভাই তার মেয়ের মতো শুরু করেছে ”
তাসিনের ইচ্ছা ব্যাচেলর হিসাবে শেষ একটা দিন বন্ধুদের সাথে মন খুলে আড্ডা দিবে। এই মুহূর্তে আড্ডার কথা বললে তূর্য কিছুতেই রাজি হবে না ওরা সবাই জানে। তাই নিজেরাই কোনো যোগাযোগ ছাড়া হাজির হয়েছে চৌধুরী বাড়ির সামনে।তাছাড়া রাশা ছোট । নাবিলদের ফ্ল্যাটে গেলে পিংকির কষ্ট হবে। তাই নাবিল পিংকিকে ওর মায়ের কাছে রেখে এসেছে। গেইটের সামনে এসে তূর্যকে কল করলো ওরা। দুইবারের মাথায় রিসিভ করলো তূর্য।খিটখিটে মেজাজে বলল,
” কি প্রবলেইম তোদের? রাত কয়টা বাজে দেখেছিস?”
” ভাই তোরে সারপ্রাইজ দিতে এসেছি ”
তূর্য আর কথা বাড়ালো না ওদের সাথে। কল কেঁটে এগিয়ে গেল গেইটের সামনে।ওদের নিয়ে সোজা নিজের রুমে আসলো। বসতে বসতে বলল,
” হ্যাঁ, বল। রাত বাজে ১ টা , এত রাতে কি কাজ তোদের? ”
তাসিন রুমের এমাথা মাথায় নজর বুলিয়ে অবাক হয়ে বলল,
” আহি কই ভাই? ”
এখন কি বলবে তূর্য? অতি আদরে বাঁদর হওয়া বউ তার সারাদিন দেখা দেয়নি।রাতে আবার নিজের রুমে গিয়ে শুয়েছে।দরজা লক করে রেখেছে,ফোন করলে তুলছে না,ম্যাসেজ সিন করে রেখে দিচ্ছে।লোক লজ্জায় দরজায় যেয়েও বেশি চোটপাট করতে পারছে না।থমথমে হয়ে গেল তূর্যের চেহারা।নাবিল বলল,
” বেশি কথা কইছোস না? ঝগড়া করোস ক্যান বা’ড়া ”
” বাদ দে ওসব। কি দরকার তোদের এত রাতে? ” প্রসঙ্গ পাল্টাতে চাইলো তূর্য।
নাবিল-তাসিন একবার নিজেদের মধ্যে চাওয়া চাওয়ি করলো। অতঃপর একসাথে বলল,
” ছাদে চল ”
” হোয়াই?” ভ্রু কুচকাল তূর্য।
” এত প্রশ্ন না করে চল ভাই ”
বলে নিজেরা ছাদের দিকে হাঁটা ধরলো।অতঃপর তূর্যও পা মেলালো ওদের সাথে।এমনিতেই মন মেজাজ খারাপ। তার উপর এদের উদ্ভট কর্মকাণ্ড।এদিকে ছাদে গিয়ে আশ্চর্য না হয়ে পারল না সে। এদের সাহস দেখে রীতিমতো অবাক তূর্য। ছাদের এক কোণে তিন তিনটা কাচের বোতল বুক টানটান করে দাঁড়িয়ে আছে। সাথে হরেক রকমের খাবার। তূর্য ওদের দিকে রুষ্ট চোখে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল,
” তোদের মাথায় সমস্যা আছে? এসব কেন? আর এখানেই বা রেখেছিস কীভাবে ? ”
জোর করে হাসলো ওরা। নাবিল ঘাড় ডলতে ডলতে বলদের মতো হাসলো কিছুক্ষণ ।তারপর বলল,
” পাইপ বাইয়া উইঠা রাখছি। তাসিনের বুদ্ধি। খুব ভালো ক ? ধরা খাওয়ার কোনো চান্সই নাই। বা’ড়া এত টেনশন নিস না ”
” কবে থেকে এসব খাওয়া ধরেছিস? ” জিজ্ঞেস করলো তূর্য।
” রেগুলার তো আর খাই না ভাই।আগের মতোই ভবিষ্যৎ ..মাঝে মধ্যে। তুই এমন নাটক করছিস যেন জীবনেও মুখে তুলিস নাই” শেষ বাক্যটা বলে মুখ বাকালো তাসিন।
অতঃপর বেশ খানিকক্ষণ পর দেখা গেল ছাদের এক কোনায় বোতল তিনটা খালি পড়ে আছে। আর খাবার গুলোও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চারিদিকে।তাসিন নাবিল পুরো হাত পা ছেড়ে দিয়েছে। তূর্য বারবার মাথা ঝাঁকাচ্ছে। ওদের পাল্লায় পড়ে জাস্ট কয়েক চুমুক নিয়েছে তাতেই মাথা ঝিমঝিম করছে। ও উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলো।বারবার পড়ে যেতে নিয়েও সামলালো নিজেকে। পা টলমল করছে। ও ডাকলো নাবিল আর তাসিনকে। দুজনে একসাথে সাড়া দিলো,
” উউউ…”
তূর্যের কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। তবুও ও বলল,
” নিচে চল । কেউ দেখে ফেললে ঝামেলা হয়ে যাবে ”
” নিচে গিয়ে কি করবো? আমার বউ তো শ্বশুর বাড়ি ভাই।তুই যা ”
তাসিনের কথাগুলো পুরোপুরি জড়ানো।বুঝে খাওয়া মুশকিল। এদিকে তূর্যেরও বেহাল দশা মাথা খাটাতে পারছে না।তবে বউ শব্দটা বুঝেছে। সাথে সাথে মুখটা কালো করে ফেললো। কোনো কথা বার্তা ছাড়া এলোমেলো পায়ে প্রেয়সীর দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। দরজার উপর কয়েক টোকা দিয়ে ফিসফিস করে বলল,
” আহি? ওপেন দ্য ডোর। প্লিজ জা’ন খোল না। জান? ”
কথাটা শেষ করে দরজায় একটা জোরে ধাক্কা দিল তূর্য। সাথে সাথে দরজা খুলে গেল। হোঁচট খেয়ে পড়তে গেল সে। পরপর নিজেকে সামলে নিল। তারমানে দরজা লক ছিল না।ও শুধু শুধু এতক্ষণ ধরে দরজা খোলার অপেক্ষা করছিল। খাটের দিকে নজর যেতেই অভিমানী স্ত্রীর দেখা মিললো। গুটিসুটি মেরে বসে আছে। সেও এখনো ঘুমায়নি। মুখটাকে একদম অন্ধকার করে রেখেছে মেয়েটা।তূর্য এগিয়ে গিয়ে ওর পাশে বসলো। আহি একবারের জন্যেও দেখলো না ওর দিকে। ছেলেটা ভেঙে ভেঙে জিজ্ঞেস করলো,
” ঘুমোসনি এখনো ? ”
” আপনি এসেছেন কেন? ”
” তুই চাসনি আমি আসি? তাহলে একটু আগে ডোর লক ছিল এখন আবার আনলক কেন? ”
তূর্যের কথা বার্তার ভাব ভঙ্গি অদ্ভুত লাগছে আহির কাছে তবুও সেই সম্পর্কে কিছু বলল না ও। সে পুনরায় বললো,
” এসেছেন কেন? ”
“তোকে বাচ্চা দিতে এসেছি জা’ন। ”
বলে এলোমেলো পায়ে হেঁটে গিয়ে দরজা বন্ধ করলো তূর্য। আহি উঠে দাঁড়ালো।অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
” আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন? কি খেয়েছেন? ”
” নাবিল আর তাসিন জোর করে একটু ওয়াইন খাইয়ে দিয়েছে।অল্প একটু ! আমার মোটেও নেশা হয়নি । এখন রুমে চল ….না না। আমাদের রুমে ওদের থাকতে বলেছি। এখানেই থাকতে হবে বুঝলি? ” আহির দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল তূর্য।
তারপর জড়িয়ে ধরে প্রেয়সীর কাঁধের উপর মাথা রাখলো। ওকে সরানোর চেষ্টা করতে করতে আহি বলল,
” আপনি তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন । আমি লেবুর পানি গুলিয়ে আনি। দেখি ছাড়ুন ”
মাথা তুললো তূর্য।বলল,
” বললাম না নেশা হয়নি? কোথাও যেতে হবে না। বাচ্চা চাই না তোর? ”
ছেলেটা ওর বিকৃত মুখ খেয়াল করলো। ইতঃস্তত করতে করতে বলল,
” গন্ধ আসছে? ওয়েট কর ,আমি ফ্রেশ হয়ে আসি ”
বলেই সোজা ওয়াশরুমে গেল ও। চোখে মুখে পানি নিতে না নিয়েই সেখানে দৌঁড়ে ঢুকলো আহি। বেসিন হতে তূর্যকে কোনোমতে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে উপুড় হলো সেখানে। পরপর ব’মিতে ভেসে গেল পুরো বেসিন। তূর্যের নেশা যতটুকু হয়েছিল প্রেয়সীর এই অবস্থা দেখে পুরোটা হাওয়া হয়ে গেল। ব্যস্ত হয়ে পড়লো ও,
” আহি? হোয়াট হ্যাপেন্ড ? খুব বেশি গন্ধ?ওকে আমি আর কথা বলছি না।”
ততক্ষণে আহি ওর বাহুতে ঢলে পড়েছে। জ্ঞান হারিয়েছে মেয়েটা।তূর্য ওকে তুলে বিছানায় শোয়ালো। চোখ টেনে চোখের পর্দা দেখলো। পালস চেইক করলো। নেশা কিছুটা হলেও আছে।কেমন যেন মাথা কাজ করতে চাইছে না ওর। তবে এইটুকু বুঝলো শরীর দূর্বল খুব।
সকাল সকাল চৌধুরী বাড়িতে থমথমে পরিবেশ। অথচ কথা ছিল আনন্দমুখর পরিবেশের। সকালে একজন ডাক্তার এসে আহিকে দেখে গিয়েছেন। সে ব্যতীত বাড়ির সকলে ড্রয়িং রুমে উপস্থিত। কারো মুখে কোনো রা নেই। তূর্য মাথানত করে অপরাধীর মতো বসে আছে। আকবর চৌধুরীর থমথমে মুখোশ্রী। তিনি ছেলের উদ্দেশ্যে বললেন,
” সমস্যা কি তোমার? এভাবে বসে আছো কেন? যাও , নিজের ঘরে যাও। গিয়ে দেখো মেয়েটা কি করছে।আর শোনো , অভিনন্দন। ” একটু বিরতি নিয়ে তিনি আবারো বললেন,
” আরো শোনো , আমার কথা না রাখার জন্যে এই প্রথমবার আমি তোমার উপরে খুব খুশি হয়েছি। ”
তূর্য কিছুক্ষণ সময় নিয়ে উঠলো।গন্তব্যে পৌঁছাতে মিনিট পাঁচেক সময় লাগলো তার। দরজা একদম খোলা। ধীরে ধীরে ও ভিতরে প্রবেশ করলো। ড্রয়িং রুমে স্বামী অপরাধীর মতো বসে ছিল।আর বেড রুমে স্ত্রী। ওকে দেখেই আহি তড়িঘড়ি করে আরশোয়া থেকে উঠতে গেল। তূর্য ওকে ইশারায় না করে নিজে এগিয়ে গিয়ে পাশে বসলো। কপালে আলতো করে একটা চুমু খেল। চোখ বন্ধ করে নিলো আহি।সাথে সাথে দু ফোঁটা নোনাজল গাল বেয়ে পড়লো। তূর্য দুই হাতের বৃদ্ধা আঙুল দ্বারা পরম যত্নে সেটুকু মুছে নিলো। নরম কন্ঠে বলল,
” কি হয়েছে? কাঁন্না করছিস কেন? ”
” আমি বুঝতে পারিনি কিভাবে কি হয়ে গেল। ইচ্ছা করে করিনি আমি । আমি স্যরি ” মাথানত করে অপরাধীর ন্যায় বলল মেয়েটা।
” কেন স্যরি আপনি? ” আদুরে কন্ঠে জানতে চাইলো তূর্য।
” আপনি তো এখন এসব চাইছিলেন না…” আমতা আমতা করে বলল আহি।
” চাইছিলাম না বাট আমার এখনের ফিলিংস তোকে আমি কিভাবে বোঝায় আহি? খবরটা জানার পর থেকেই অদ্ভুত লাগছে আমার। কেমন যেন ফিল হচ্ছে….তোকে আমি বোঝাতে পারব না জা’ন। কিছুদিন পর তোর মতোই আরেকটা আদুরে ছানা আমাদের ঘরে আসবে। সারাক্ষণ আমাকে পাপা বকে ডাকবে,আর তোকে মাম্মা। আমি জাস্ট ভাবতে পারছি না। ” কথাগুলো বলতে গিয়ে রীতিমতো গলা কাঁপছিল তূর্যের। আহি ওর আবেগী হাবভাব দেখে নিজের কথা হারিয়ে ফেললো। এত খুশি হয়েছেন লোকটা? ও স্বামীর বুকে মাথা ঠেকালো।তারপর বিড়বিড় করে বলল,
প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৬৯ (২)
” ভালোবাসি ! অনেক অনেক ভালোবাসি। কিন্তু আপনি বাসেন না ” শেষ বাক্য বলে খিলখিল করে হেসে উঠলো মেয়েটা।
তূর্যও মুচকি হাসলো।বলল,
” জানি তো বাসি না। বারবার মনে কেন করাতে হবে শুনি? ”
” মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে করিয়ে যাবো ”
” আর আমিও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভালো না বেসে যাবো । ঠিক এভাবে ! বুঝলেন? ”
” হুম , বুঝলাম ”
সমাপ্ত
