Home প্রণয় ব্যাকুলতা প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১৬

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১৬

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১৬
ইনান হাওলাদার

কাল রাত থেকে প্রচণ্ড জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে আহির।এখন অবশ্য রাতের থেকে অনেকটা কম। জ্বরের ঘোরে কাল সারা রাত আবোল তাবোল বকেছে।মারুফা বেগম সম্পূর্ণ রাত মেয়ের শিয়রে বসে কাটিয়েছেন।একটু আগেই রুম থেকে বেরিয়েছেন ।আর তূর্যকে জ্বরটা পরিমাপ করে দেখতে বলে গিয়েছেন।
সেদিন কিডন্যাপ হওয়ার পর ভ’য় পেয়েই মূলত জ্বরটা এসেছে।কিন্তু আহি এটা মানতে না’রাজ।তার ধারণা তূর্যের হাতের মা’র খেয়েই জ্ব’র এসেছে।সুস্থ হয়ে বড় আব্বুর কাছে এর একটা ফয়সালা করার আর্জি জানাবে সে।
আরেকটা কথা তো সে ভুলেই গিয়েছে।তূর্য ভাই যে গা’ঞ্জা খোর,আ’ঠা খোর, ই’য়াবা খোর , বা’বা খোর,নে’শা খোর , মা:তাল একটা লোক এটা তো বড় আব্বুকে জানানো হয়নি।এটাও জানাতে হবে।

বড় ভাই হয়ে কি মাথা কিনে নিয়েছে নাকি? যখন যা ইচ্ছা তাই করবে তার সাথে?আর সে চুপ করে বসে থাকবে? জীবনেও নাহ!তূর্য ভাইকে বাঁশ দেওয়ার ক্ষেত্রে নো কম্প্রোমাইজ !
তূর্যকে নিয়ে চিন্তা করার ভিতরই হাজির হলো সে।রুমে এসে আহির স্টাডি টেবিলের কাছ থেকে চেয়ারটা এনে তার বিছানার পাশে বসলো। হাতের স্পিগমোম্যানমিটারটা খাটের একপাশে রেখে আহিকে উঠে বসতে বলল।কিছুক্ষণ পার হলেও আহি উঠছে না দেখে সে বলল,
” কি ভাবছিস তুই?রুম বয়ে ট্রি’টমেন্ট করতে এসেছি বলে আদর করে বিছানা থেকেও উঠিয়ে দিবো?ঢং না করে ওঠ।ফাস্ট!”

” আপনার থেকে আদর পাওয়ার ইচ্ছাও আমার নেই।বুঝলেন?”
উঠে বসতে বসতে বলল আহি। তূর্য একটা থার্মোমিটার তার কাছে দিলো।কিছুক্ষণ পর আহি থার্মোমিটারটা ফিরিয়ে দিতেই সেটা দেখে তূর্য বলল,
” জাস্ট 105 ° ! এমনভাবে উ’ইক হয়ে পড়েছিস যেন ম’রে যাচ্ছিস ”
” ১০৫ আপনার কাছে কম মনে হচ্ছে তূর্য ভাই? আমি ম’রে গেলেই আপনি খুশি হন ।তাইনা ?”
“ওয়ারে’ন্ট রং!তুই বললে ম’রার টিকিট কেঁ’টে দেই। দিব?”
” নিজেই তো কেঁ’টে নিয়েছিলাম । বাঁ’চাতে গেলেন কেনো?”
” এসে তো দেখলাম চিৎ হয়ে পড়ে আছিস । উঠে বসার এনার্জিই পাচ্ছিলি না।এখন ফটর ফটর করার এনার্জি কোথায় পাচ্ছিস ?”

” আপনার কাছ থেকে !”
” তোকে এনার্জি দেওয়ার কোনো অ্যাবিলিটি আমার নেই।চাইলে যেটুকু আছে সেটুকুও নিয়ে নিতে পারি। “আহিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কথাটা শেষ করেই কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সে আবারো বলল,
বিড়াল ছানার মতো কম্বলের ভিতর দিয়ে মাথাটা বের না করে একটু সরা।প্রেসার মাপতে হবে।”
আহি এতক্ষণ শুধু মাথাটা বের করে কম্বলের ভিতর দোলাপাকিয়ে বসে ছিল।তূর্যের কথা মতো নিজেকে আলগা করে বসলো।

” হাতা ফোল্ড কর ”
” হাতার উপর দিয়েই দিন ”
তূর্য একবার আহির দিকে চাইলো।তারপর নিজেই হাতা গুটিয়ে স্পিগমোম্যানমিটারের কাফ হাতের কনুইয়ের একটু উপরে পেঁচিয়ে ইয়ারপিচ নিজের কানে নিলো।তারপর বাল্ব চেপে কাফ ফুলিয়ে নিলো।একটুপর চেস্টপিস আহির বুক ও গলার মাঝখানের বিভিন্ন জায়গা চালাতে লাগলো।আহি সেটা মাথা নিচু করে দেখছে।হঠাৎ তূর্যের হাতের দিকে খেয়াল হতেই সে কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
” তূর্য ভাই? আপনার হাতের শিরাগুলো সবসময় ওভাবে জেগে থাকে কেনো? দেখে মনে হচ্ছে ব্লা’ড এর ওভারলোড হচ্ছে ”

” এত কথা কেন বলিস আহি? এভাবে ঝুঁকে না থেকে মাথা সোজা কর । আর জো’রে জো’রে শ্বাস নে।”
তূর্যের কথা মতো আহি জো’রে জো’রে শ্বাস নেওয়া আরম্ভ করতেই সে দাঁতে দাঁত পি’ষে বলল,
“তোকে নিশ্বাসের স্পিড ফাইভ এক্স করেতে বলিনি। ধীরে ধীরে লম্বা করে শ্বাস নে ই’ডিয়েট। ”
আরো কিছুক্ষণ পার হলো ।তূর্য ডাক্তারি সকল সরঞ্জামগুলো খুলে গুছিয়ে রাখতে রাখতে বলল,
” বেঁ’চে আছিস কীভাবে ? ”
“সবই আল্লাহর লীলা খেলা ! কেন ? প্রে’সার কত ?” পুনরায় গায়ে কম্বল জড়াতে জড়াতে বলল আহি।
” জেনে কাজ নেয় তোর।আমি ছোট মাকে বলে দিচ্ছি ডিম আর দুধ পাঠাতে চুপচাপ খেয়ে নিবি “বলেই তূর্য চেয়ার থেকে উঠে বাইরের উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই আহি ডেকে বলল,

” আমার চেয়ার জায়গা মতো রেখে যান।এভাবে জিনিসপত্র এলো মেলো করা আমার মোটেও পছন্দ না ”
তার ডায়ালগ তাকেই ফিরিয়ে দিচ্ছে! তূর্য পেছনে ঘুরে একবার সমস্ত ঘরে চোখ বুলিয়ে নিল। মা’রা’ত্মক ভাবে গুছিয়ে রেখেছে ঘর।জামা কাপড় ওয়ারড্রবে রেখেছে ঠিকই।কিন্তু ড্রয়ারের বাইরে দিয়েও জামা কাপড় দেখা যাচ্ছে।কিছু কিছু অংশ বের হয়ে আছে।বিছানার দিকে তাঁকালে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ – পাকিস্তানের ম্যাচ ওখানেই খেলা হয়েছে।পড়ার টেবিল ? সেখানে তো বই – খাতা বাদে বাকি সবকিছুই আছে।অন্যান্য কিছু বর্ণনা করার ধৈর্য তার নেয়।আর না আছে ওই ই’ডিয়েটের সাথে ত’র্ক করার।তাই সে অগত্যা কথা না বাড়িয়ে প্রস্থান করলো।

নিজ ফ্ল্যাটের ছাদে দাঁড়িয়ে রাতের আকাশ দেখছে নাবিল।সেখানে এক ফালি চাঁদ ও রয়েছে ।আর সেই চাদকে ঘিরে অসংখ্য তারা ,যেন পাহারা দিচ্ছে ।সেদিন তাড়াহুড়ো করে সাজেক থেকে ফেরার পর তার আর কথা হয়নি পিংকির সাথে।তবে আজ মনটা কেনো জানি ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।খুব কথা বলতে ইচ্ছা করছে।কথা বললেই ঝগড়া হবে নিশ্চিত।তবুও কথা বলতে হবে।তাই আর এক মুহুর্ত অপেক্ষা করল না সে ।পকেট হতে মোবাইলটা বের করেই কল করলো কাঙ্ক্ষিত নম্বরে।এবং প্রথম বারেই রিসিভ হলো।তবে নাবিল কোনো কথা না বলেই মোবাইল কানে ধরে দাঁড়িয়ে আছে অপর পক্ষের সাড়া পাওয়ার আশায়।পিংকি ও কিছুক্ষন ফোন কানে ধরে বসে রইলো।নাবিল কথা বলছে না দেখে সে নীরবতা ভেঙে বলল,

” হ্যালো ”
” ……….” এবারও নাবিল নিশ্চুপ ।তবে পূর্বের তুলনায় ঠোঁটটা একটু বেশিই প্রসারিত করলো।
” কী হলো? কথা বলছিস না কেনো? “কপট রাগ দেখিয়ে বলল পিংকি।
” ক ”
” আমি কী বলব? তুই ক ”
” খ,গ,ঘ,ঙ,চ,ছ….”
” এই থাম তুই।কাজের কথা বল ”
” আই লাফ ইউ ”
” এই নাপিতের বা’চ্চা থাম বলছি ”
” কী কইছি বা’ড়া ? আর নাপিত কইতাছস ক্যান,মাংকির বাচ্চা ? আমি এখনো তোরে মাংকি কইছি বা’ড়া? ”
“তুই তো নাপিতই।আর একটা কথা বলবি না ”
” নাপিত নাপিত করস ক্যা? আয় তোর চুল কাইটা দেই ”
” দেশে নাপিতের আকাল পড়েছে যে তোর থেকে চুল কা’টবো ?”
” তোর ওই ফ্যারফেরি আমি কাটতাছিও না।কি বা’ড়ার চুল ওনার ”
” ঝ’গড়া করতে কল করেছিস?”
” নাহ! পিরিত করতে করেছিলাম।কিন্তু তুই তো করবি না ।মে’জাজ খারাপ করে ছাড়ছস । এহন পিরিত করার মুডও নেই ”

” আমি যদি বলি ,এখন আমার মুড এসেছে । করবি ?”
” এই বা’ড়া থাম তুই।কি করবো তোর লগে? নাউ’জুলিল্লাহ !আস্তাগ’ফিরুল্লাহ !অ’শ্লীল বালিকা!”বলেই কল কেটে দিলো নাবিল।আর মুচকি এসে মনে মনে বলল,
” তুই চলস ডালে ডালে আমি চলি পাতায় পাতায়।মাংকির বা’চ্চা!”
এই যে একটু কথা বলল তাতেই তার আজকের দিনটা খুব ভালো করে কাটবে।সারাদিন এইসব কথা ভাববে আর ব্লাস করবে। সব সময় ঝ’গড়া করতে করতে কখন যে ভালোবাসা নামক অনুভূতিরা তাকে জেঁকে ধরেছে জানা নেয় নাবিলের।তবে বছর দুয়েক আগে বুঝতে পেরেছে।আর সে তূর্যের মতো অনুভূতি লুকিয়ে রাখতে পারে না।তাই নিজে বোঝার সাথে সাথেই ভালোবাসার মানুষটাকেও জানিয়ে দিয়েছিল।প্রথম প্রথম পিংকি একটু অস্বাভাবিক ব্যবহার করলেও এখন স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে।তবে নাবিলের সামনে এখনো নিজেকে প্রকাশ করেনি।তার ধারণা সে নাবিল কে বন্ধু হিসাবেই ভালোবাসে।এর বেশি কিছুই না।কিন্তু নাবিল তো তাকে বোঝে! তাই এখনো হাল ছাড়েনি।
পিংকি তখন শয়তানি করেই কথাটা বলেছিল।ভেবেছিল নাবিল রাজি হয়ে যাবে।আর ওকে কিছু কথা শোনাবে।কিন্তু নাবিল যে তার কয়েক কাঠি উপরে সেটা বোধ হয় ভুলে গিয়েছিল সে। কিভাবে অপ’মান করে কলটা কেটে দিলো।তাকেও বলি হারি।সে তো জানেই নাবিল প্রতিবার এভাবেই ঢং করে কল কে’টে দেয়।তাহলে সেই বা রিসিভ করে কেন? কেটে দিলেই তো পারে।আর ওর সাথে ঝ’গড়া করতেও কেনো এতো ভালো লাগে?ওর কথা মনে হলেই বা কেনো মুখে হাসি ফুটে ওঠে? তাহলে কি নাবিলের কথাই ঠিক ? সেও কি নাবিলকে ভালোবাসে?

জরুরি তলবে সবাইকে এক জায়গা হাজির করেছেন আকবর চৌধুরী।বাদ পড়েনি চৌধুরী পরিবারের কোনো সদস্যই।সবাই খুবই আগ্রহ নিয়ে বসে রয়েছে তার মুখের কথা শোনার জন্য।বড়দের মনে কৌতূহল থাকলেও সেটা বুঝে ওঠা যাচ্ছে না।তবে ছোট তিনটা কথা শোনার জন্য বারবার তাড়া দিচ্ছে।তূর্যের জন্যই মূলত অপেক্ষা করা।সে বলেছে “ফাইভ মিনিটস পর আসছি।” চার মিনিটের মাথায় হাজির হলো তূর্য।সে আসতেই আকবর চৌধুরী কথা শুরু করলেন,
” খুব শীঘ্রই বিয়ের আয়োজন হচ্ছে প্রস্তুতি নেও সবাই ”
সবার মনে কৌতূহল। কার বিয়ে? কিসের বিয়ে ? হুট করেই একথা কেন বললেন তিনি? কিন্তু কেও কোনো প্রশ্ন করলো না। কেননা আকবর চৌধুরী কথার মাঝে প্রশ্ন করা পছন্দ করেন না।তাই আর কেউ কোনো প্রশ্ন না করে তার পরবর্তী কথার জন্য অপেক্ষা করলো।তিনি পুনরায় বলা আরম্ভ করলেন তিনি,

” আমার একমাত্র শ্যালকের ছোট ছেলের বিয়ে,আগামী সপ্তাহে ।বাড়ির সবাইকে যেতে হবে ।সবাইকে! ” শেষ কথাটুকু তূর্যের দিকে তাঁকিয়ে বললেন তিনি।তূর্য বিষয়টা লক্ষ্য করলেও কিছু বলার নেয় তার।বাবার এভাবে বলার কারণ অবশ্য আছে।এর আগেও একটা বিয়েতে সে অ্যাটেন্ড করেনি।তার মামা স্বয়ং পলাশ শেখ তাকে কল করে যেতে বলেছিলেন ।তবুও সে যায়নি।কেনো যায়নি সেটা সবারই অজানা।বাবার কথা শেষ হতেই উঠে দাঁড়ালো তূর্য।উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত রুম।তবে তাকে থামিয়ে দিয়ে আকবর চৌধুরী বললেন,
” উঠছো কেনো? ল’জ্জা লাগছে? ছোট ভাইয়ের বিয়ে অথচ তোমাকে বিয়ের কথা বললেই কুরু’ক্ষেত্র শুরু করে দেও।তোমাকে আগেও বলেছি ,এখনো বলছি পছন্দ থাকলে আমাদের বলো ”

” আপনাকেও আগে বলেছি ,এখনো বলছি এই মুহূর্তে বিয়ে করতে চাচ্ছি না আমি।আর পছন্দ? সেটা থাকলে তো বলবোই! আই হোপ তখন ব্যা’গড়া দিতে আসবেন না ” বলেই বড় বড় পা ফেলে রুমে চলে যায় তূর্য।
আকবর চৌধুরী ছেলের সাথে না পেরে পারভিন বেগমের উদ্দেশ্যে বললেন,
” তোমার ছেলেকে বলো এইবার অন্তত বিয়েতে উপস্থিত থাকতে।আর ছুটি তো কাটাচ্ছেই , কাল যেন আহিকে কোচিংয়ে ভর্তি করে রেখে আসে।কোনো অজুহাত যেন আমার কানে না আসে।আর আহি যদি কাল এসে তোমার ছেলের নামে একটা অ’ভিযোগ করে ভালো হবে না বলে দিলাম।ছোট ভাই – বোনদের সাথে কেমন ব্যবহার করতে হয় সেটাও জানে না।
একটি অ’সামাজিক ছেলে জন্ম দিয়েছ।না না তুমি কেনো দেবে? আমি দিয়েছি ”
তূর্য রুমে যাওয়ার পথে আকবর চৌধুরীর সব কথাই শুনেছে।কিন্তু প্রতিত্তর করার কোনো ইচ্ছা তার নেয়।আগেরবার বিয়েতে উপস্থিত না হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল।কিন্তু এবার তো সেটা নেয়।তাহলে যাবে না কেনো? সবসময় এভাবে এডভ্যান্স কথা বলার কোনো মানে হয়?

এদিকে আহি পড়েছে মহা মু’ছিবতে! সবই তো ঠিকঠাক চলছিল।তূর্য ভাই ব’কা খাচ্ছিল। আহা!কি শান্তি।কিন্তু শেষে এসে বড় আব্বু এটা কি বললেন ? তূর্যের সাথে তাকে যেতে হবে? আজকের সব ঝা’ল কাল তার উপর দিয়ে উঠায় যদি ? তূর্যকে যখন আকবর চৌধুরী কথা শোনাচ্ছিলেন তখন সে যে মুচকি মুচকি হাসছিল সেটা তো তূর্য ভাই দেখে ফেলেছে।যাওয়ার সময় এমন ভাবে তাঁকিয়ে ছিল যেন চোখ দিয়ে গিলে খেয়ে ফেলবে।
তার কি দো’ষ? নেহাত নিজের উপর কন্ট্রোল কম তাই হেসে ফেলেছে।সে কি বড় আব্বুকে ব’কা’ব’কি করতে শিখিয়ে দিয়েছে নাকি?তবে পারলে অবশ্যই শিখিয়ে দিতো।ব’কা খাওয়া কাজ করেই বা কেনো?
তূর্য রুমে এসেই আগে এসির পাওয়ার কমালো।মাথাটা পুরো গরম হয়ে আছে।এর মধ্যেই বারবার ফোন বাজছে।এত রাতে ওর ই’ডিয়েট বন্ধু গুলো ব্যতীত আর কেও ফোন দিতে পারে না সেটা নিয়ে কোনো স’ন্দেহ নেয়।কিন্তু তারা দুই থেকে তিনবারের বেশি কল করে না।আর এই লোক তো পুরো আজান দিয়ে নেমেছে।কল বন্ধ করার কোনো নামই নেয়।ফোনের স্ক্রিনে তাঁকালো সে ,আননোন নাম্বার।আবারও পার্সোনাল সিমে অচেনা নম্বর হতে কল আসায় বি’গড়ানো মে’জাজ আরো বি’গড়ে গেল।এবারও যদি আহি ঘটিত ব্যাপার হয় তাহলে আর কাউকে মানবে না সে।এর শেষ দেখে ছাড়বে।ভাবতে ভাবতে কল রিসিভ করে কানে ধরলো ।মুহুর্তেই ওপাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠ বলে উঠলো,

” স্যার আপনার কোথায় উঠেছেন? আই মিন কোন রিসোর্টে ?”
” আপনি আমার নাম্বার কোথায় পেয়েছেন ?”
” স্যার,রে’গে যাচ্ছেন কেন? ”
” আই সেইড, হোয়্যার ডিড ইউ গেট মাই নাম্বার?”
“……….”
” মিস আয়রা!”
” স্যরি স্যার,এত রাতে আমার কল করা ঠিক হয়নি ”

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১৫

বলেই কল কাটলো আয়রা।তূর্য সাজেক এসেছে শুনেই সেও ছুটি নিয়ে সেখানে পৌঁছেছে।ইচ্ছা ছিল একই রিসোর্টে গিয়ে উঠবে।তবে সেটা আর হলো কই? এদিকে তূর্য যে ঢাকায় ফিরেছে বেচারি জানতেও পারলো না!
দুই হাতে চুল টেনে ধরে মাথা নিচু করে বসে আছে তূর্য।শুধু শুধু একজনের রা’গ আরেক জনকে দেখালো।বাবা বিয়ের কথা বলতেই পারে ।তাতে কী হয়েছে? এত রা’গ দেখানোর তো কিচ্ছু নেয়।
এই অযথা হাইপার না হওয়ার জন্য কত চেষ্টা করে যাচ্ছে।অথচ কাজ হচ্ছে কই?

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১৭