Home প্রণয় ব্যাকুলতা প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ২

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ২

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ২
ইনান হাওলাদার

“মেয়র সাব দেইখেন এইবারেও আপনে বিজয়ী হইবেন । আপনের ফিল্ড ফাস্ট কিলাস ”
ঠোঁটে হালকা হাসি রেখে লোকটার পিঠের উপর হাত দিয়ে দুটো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর দিলেন আসিফ চৌধুরী। এ কাজ করায় লোকটা বোধহয় উৎসাহ পেল।সে আবার বলে উঠলো ,
” আর ইলেকশন সামনে কইরা ঘনঘন মাইনষের বাড়িতে যাইয়া কয়ডা টাহা – পয়সা বিলাইলে লোকজন এমনেতেই ভোট দিব ”

লোকটার মুখে এমন কথা শুনে চেতে উঠলো আসিফ চৌধুরীর পাশের সোফায় বসা মালেক । আসিফ চৌধুরী হাত উঁচু করে ইশারা দিলেন ,যার অর্থ থেমে যাও।মালেক আর কিছু বলল না।
রা’জ’নী’তি ! রা’জ’নী’তি মানে কি? দেশের সেবা করা ,দেশের মানুষের সেবা করা,তাদের সুযোগ – সুবিধার দিকে খেয়াল রাখা ,দেশের উন্নয়ন করা । কিন্তু আমাদের দেশের রা’জ’নী’তি খুবই কু’ৎ’সি’ত!এখানে রা’জ’নী’তি মানে দেশের উন্নয়ন না ‘ নিজের উন্নয়ন ‘। দেশের খেটে খাওয়া মানুষদের সাহায্য করা না বরং তাদের ঘাড়ে পা’ড়া দিয়ে উপরে ওঠা।যাকে রা’জ’নী’তি না বলে ‘স্বা’র্থনীতি ‘ বললেই চলে।
জাতীয় সুযোগ – সুবিধা , টেন্ডার, চাকরি এমনকি শিক্ষাক্ষেত্রেও দলীয়করণ চলে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মা’রা’মা’রি, গু’ম,খু’ন ,মি’থ্যা মা’ম’লা চলতেই থাকে।

সরকারপক্ষ তাদের ব্য’র্থ’তা ঢাকতে সংবাদ মাধ্যমও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।যা আসলে রা’জ’নী’তি নয়! ক্ষ’ম’তা’র ল’ড়া’ই, স্বার্থ’সিদ্ধি আর নোং’রা কৌ’শলের মিশ্রণ ।
কিন্তু আসিফ চৌধুরীর কাছে রা’জ’নীতি মানে — একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে সুষ্ঠুভাবে সংগঠন করা, পরিচালনা করা ও উন্নয়ন করা ।ব্যক্তিগত জীবনের বাইরে একটি গোষ্ঠীর জন্য যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
শুধু ক্ষ’মতার দখল নয় বরং ন্যায্যতা,ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা,সমতা আর মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
তবে রহমাত দলে নতুন হওয়ায় তার এই নীতি সম্পর্কে অবগত নয়।
” মালেক ! ও নতুন তো তাই আমার নীতি সম্পর্কে অবগত নয়।ওকে সবটা বুঝিয়ে দিস।আজ আমি উঠি ”
বলে বেরিয়ে গেলেন আসিফ চৌধুরী । রহমত কিছুটা ল’জ্জিত হলো।সেতো ভেবেছিল অন্যান্য নেতাদের মতো আসিফ চৌধুরীও নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষদের খোঁজ খবর নেন,নানান প্র’তি’শ্রুতি দেন আর ক্ষ’ম’তা হাতে পাওয়ার পর সব ভুলে যান বা মনে করতে চান না।

রুম অন্ধকার করে খাটের হেডবোর্ডে মাথা ঠেকিয়ে আধশোয়া হয়ে চোখ ব’ন্ধ করে রেখেছে তূর্য।প্রচণ্ড মাথা ব্য’থায় মাঝে মাঝে চোখ খিঁ’চুনি মে’রে ব’ন্ধ করছে।এই অবস্থায় এক কাপ কফি খুবই প্রয়োজন । পারভিন বেগমকে কিছুক্ষণ আগে একবার ডেকেছে সে ।কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দেননি।হয়তো শুনতে পাননি।আরেকবার ডাকতেও বি’র’ক্ত লাগছে। একটু উচ্চ কন্ঠে কথা বলেই মাথায় বেশি চাপ পড়ছে আর যন্ত্রণাটাও বাড়ছে।
তাই উপায় না পেয়ে নিজেই উঠলো।কফি না হলে এই মাথা ব্য’থা সারবে না জানে সে।তাই আর দেরি করলো না।
কিচেনে এসে একটা হাঁড়িতে গরম পানি দিয়ে চুলা অন করে চিনি আর কফির পাত্র আনার জন্য কিছুটা পেছনে গিয়ে বামে হাত বাড়ালো সে। ওমনি খট খট করে শব্দ করে উঠলো।কিচেনে এসে ধরে এমন সাউন্ড আসছে।
শব্দটা ফ্রিজের পাশ থেকে আসছে দেখে তূর্য সেদিকে পা বাড়ালো।ভেবেছিল তেলাপোকা হবে হয়তো। কিন্তু নাহ ! বাড়ির বড় তেলাপোকা !

” কি করছিস এখানে ? ” ফ্রিজের পাশে থাকা ফাঁকা জায়গায় আহিকে ঘাপটি মে’রে বসে থাকতে দেখে প্রশ্ন ছুড়লো তূর্য।
আহি তর্জনী আঙ্গুল ঠোঁ’টে ঠেকিয়ে চুপ করার জন্য ইশারা দিচ্ছে।কিন্তু না! তূর্য কি থামবার পাত্র?
” বের হ ” আঙুলের ইশারায় বাইরে দেখাতে দেখাতে বলল সে।
আহি ফিসফিস করে বললো,
” চুপ করুন ,তূর্য ভাই । প্রান্ত এসে পড়বে।লুকোচুরি খেলছি ”
” বের হতে বলেছি তোকে ”
আহি মুখ গো’মড়া করে বেরিয়ে আসলো।
” তুই না ঘুমিয়েছিলি?”

আহি দুইপাশে মাথা নাড়ল , পরোক্ষণে আবার ঘনঘন উপর নিচ মাথা নাড়ল। সেতো ভুলেই গিয়েছিল তূর্য এসে নাকি বড় মার কাছে তার কথা জিজ্ঞেস করেছিল। বড় মা তাকে বাঁচাতে ‘ঘুমিয়ে আছে ‘ মি’থ্যা কথাটা বলেছেন।তূর্য ভাই তো খুবই চ’তুর লোক সত্যিটা ধরে ফেলবে না তো?
আর তূর্য যে প্রথম থেকেই বুঝতে পেরেছে সে ঘুমায়নি,সেটা আহির মাথায় ঢুকলো না।
তূর্যের যা বোঝার সে বুঝে গেছে ,সে বলল,
” দুদিন পরই তোর এক্সাম আর তুই এখন লু’কোচুরি খেলছিস? যা ,গিয়ে পড়তে বোস ”
বলে কফিটা গরম পানিটুকু কফির মগে ঢেলে নিয়ে চলে গেল তূর্য।
” খ’চ্চ’র কোথাকার ! ” বিড়বিড় করে আউড়ালো আহি।
তুর্যের কফি নিয়ে কিচেন থেকে বেরোতে দেরি আছে তো প্রান্তের চিৎকার করতে দেরি নেয়।

” এই…. ১ টিপ ,১ টিপ … আহিপু ১ টিপ ”
আহি মুখ বি’কৃ’ত করে প্রান্তকে ব্য’ঙ্গ করতে করতে বলল,
” হ…. ১ টিপ ,১ টিপ ”
” যাও ! তাড়াতাড়ি যাও! তুমি চো’র”
” আমি তো ইচ্ছা করে বেরিয়েছি। তুই আবার যা । তূর্য ভাই না আসলে জীবনেও খুঁজে পেতি নাহ।”
” না….. পেতাম না ! তুমি প্রতিবার কিচেনেই লুকাও আমার জানা আছে।যাও তুমি ”
” আসছে আমার সর্বজান্তা ”
” এ কি হয়েছে ? ঝ’গড়া কেন করছিস?”লুকানো থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে বলল শান্ত।
” আরে আহিপু চো’র হয়েছে কিন্তু আমাকে আবার যেতে বলছে।এখন তূর্য ভাইয়ের দো’ষ দিচ্ছে” রা’গে রা’গে বলল প্রান্ত।
” আহিপু তুই চো’র হলে সব সময় এমন করিস ।একটা না একটা অ’জুহাত বের করিস। যা চো’র খাট! ”
” খাটবো না আমি ! তূর্য ভাইয়ের জন্য ধরা পড়েছি!ওনাকে দিয়ে চো’র খাটা। যাহ!” বলে আহি মনে মনে হাসতে হাসতে চলে গেল। চো’র হওয়ার হাত থেকে তো বাঁচতে পেরেছে!
“দেখেছো শান্ত ভাইয়া ,প্রান্ত ভাইয়া ? আহি আপুকে আর খেলতে নিবে না ।ও প্রতিবার খেলাটাকে ন’ষ্ট করে দেয়।” মন খা’রাপ করে বললো তাহি ।

আকাশ চিরে সূর্যের লাল আভা বেরিয়েছে। যেটা সারা পৃথিবী জুড়ে দীপ্তি ছড়াচ্ছে । চৌধুরী বাড়ির সবাই খাবার টেবিলে সকালের নাস্তায় ব্যস্ত। বাড়ির তিন গিন্নি এটা – ওটা এগিয়ে দিচ্ছেন।শুধু আহি আর তার বাবা অনুপস্থিত। মাসখানেক পরই বোর্ড পরীক্ষার দরুন রাত জেগে পড়তে গিয়ে সকালে উঠতে দেরি করে ফেলেছে আহি।আর আসলাম চৌধুরী অনেক ভোরেই ব্যবসার কাজে রাজশাহীর উদ্যেশে রওনা হয়েছেন।
আহি দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে এসে দ্রুত ফাঁকা চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল,

” বড়ো মা, দ্রুত দিন লেট হয়ে যাচ্ছে ”
” লাট সাহেবের বেটি ! দেরি হচ্ছে ঘুমানোর সময় হুশ ছিল নাহ?”
” তুমিও তো ডেকে দিতে পারতে ।তাছাড়া আমার বাপ – চাচারা তো লাট সাহেবই ” মায়ের উদ্যেশে বলল আহি।
” ত’র্কে জিততে পারবে না ,মেজো ভাবি। ছেড়ে দেও ” হাসতে হাসতে বললেন আসিফ চৌধুরী।বাকিরাও তার কথায় সাই দিলো।
” তোমাদের আ’শ’কারা পেয়ে পেয়েই দিন দিন বে’য়া’দ’ব হচ্ছে”
আহি গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে কিচ্ছু বলতে নিচ্ছিলো এরমধ্যেই জগ ধরে পানি প্লেটের মধ্যে ঢেলে দিয়েছে । ভাগ্যিস আজ তূর্যের পাশের চেয়ারে বসেনি।তাহলে নির্ঘাত চা’টি মেরে বাড়ির বাইরে ফেলে দিতো।ভাগ্যের লীলা খেলায়
আহিকে প্রায়ই তূর্যের পাশের চেয়ারে বসতে হয়।এসব ভাবতে ভাবতে মাথায় হঠাৎ মারুফা বেগমের চ’ড় খেয়ে পাশ ফিরে তাঁকালো

” ওরে কা’নার বাচ্চা ,চোখে দেখিস না ? ওই পানি ঢালা খাবার খেয়ে পরে উঠবি” চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন মারুফা।
” আহ্! মেজো ”
” এতে মা’রা’র মতো কি হয়েছে ,মেজো বউ ?”
” মেজো ভাইজান থাকলে আজ মজা বুঝতে ,মেজো ভাবি ”
পরপর জা,ভাসুর আর দেবরের ধমক খেয়ে চুপ করে গেলেন মারুফা। আহি নিজের প্লেটের ডিম আর সামনের পাত্রে রাখা ডিম ,দুইটা দুই হাতে নিয়ে যেতে যেতে রাগ দেখিয়ে বলল,
” খাবো না তোমার ভাত ”
” দুইটা ডিম গি’ল’লে কি আর ভাত গে’লা লাগে !”
মারুফা বেগম মনে মনে কথাটা বললেও ভাসুর,দেবরের ভয়ে সামনে বলার সাহস পেলেন না। উপরে উপরে বললেন,

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১

” এই…. ওটা তূর্যের ডিম ।রেখে যা!হাফ বয়েল, খেতে পারবি না।”
” থাক,মেজো।ওর জন্যে আরেকটা সিদ্ধ করে নিয়ে আয় ”
তূর্য মায়ের উদ্যেশে বলল,
” না! লাগবে না । ” চোখ সরিয়ে মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির দিকে তাঁকিয়ে বললো,”আর মেজো মা , কথায় কথায় এভাবে গায়ে হাত তুলবেন না।ভালো দেখায় না। ”
বলে নিজেও উঠে পড়ল।বেচারা মারুফা একটা চ’ড় মেরেই বে’য়া’কুব। চ’ড়’টা খুবই আস্তে,হালকা করে মে’রেছিলেন।এদিকে একেক জনের কথার ওজন যেন ৫ মোন করে।

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩