Home প্রণয় ব্যাকুলতা প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩৮

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩৮

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩৮
ইনান হাওলাদার

এমন কোনো দিন চৌধুরী বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যাবে না,যেদিন আহির সাথে শান্ত – প্রান্তের ঝ’গড়া – মা’রা’মা’রি হয়নি। ভর দুপুরে মানুষ কী করে? দুপুরের খাবারটা খেয়ে একটা শান্তির ঘুম দেয়।কিন্তু চৌধুরী বাড়ির এই চার বিচ্ছু সেটা করবে না।এখন আবার তাদের সাথে শবনমও যোগ দিয়েছে।তবে সেটা নিজের ইচ্ছায় নয়,আহির জো’র জ’বরদস্তির ঠেলায় পরে।

বাড়ির এই বিচ্ছুদের রুটিনে দিনে ঘুম বলে কিছু নেই।ঘুমানোর জন্যে তো রাত আছেই তাহলে দিনে কেনো ঘুমোবে?
নিজেরা তো ঘুমোবে না,এদিকে যারা ঘুমোবে তাদেরটাও নষ্ট করবে।শুধু খেলাধুলা করলে তো হয়! খেলা শুরু হতে না হতেই কা’ইজ্জা – ডাঙ্গা শুরু করে দিবে। এইযে এখনো চলছে।
যেকোনো খেলায় একদম প্রথমেই চো’র হবে আহি।যেটা ধ্রুব সত্য! এবারেও হয়েছে। বাকিরা সবাই লুকিয়েছে।সে খুঁজেও বের করেছে।এবারে চোর হয়েছে শবনম । এখন আহি বলছে সে আর খেলবে না।তারপর শবনমও বলল ,” আহি যখন খেলছে না আমিও খেলব না।”
কিন্তু শান্ত – প্রান্ত – তাহি সেটা মানবে না।
কিভাবে যেন তারা ধরে ফেলেছে এটা তাদের পূর্ব প্ল্যান। এটা সত্যিই পূর্ব প্ল্যান। আহি খেলার শুরুর আগে শবনমকে চুপিচুপি বলে রেখেছে,

” শোনো শবনম,যতকিছুই হয়ে যাক না কেনো চো’র আমিই হবো সিউওর।তুমি বরং কোথায় লুকাবে আমাকে বলে রাখো আর লুকানোর সময় দেখে রেখো কে কোথায় লুকায়।তারপর দুজনে মিলে খুঁজে বের করে আমি বলবো ‘ খেলব না ‘ তারপর তুমিও বলবে ‘ আহি না খেললে আমিও খেলব না ‘ ।তারপর খেলা ডিসমিস ”
তার কথায় সাঁই জানায় শবনম।সবকিছুই নিখুঁত ভাবে ঘটেছে কিন্তু এই ধূর্ত অশান্তের বা’চ্চা কিভাবে যেন ধরে ফেলেছে এসব কাহিনী।
আহি আর শবনম ওদের সাথে আর পেরে উঠতে পারলো না । অগত্যা আর ত’র্ক না করে লুকাতেই হলো। এখন তার কাঁচা প্ল্যানের জন্যে শবনম মেয়েটাকে চো’র খাটতে হচ্ছে। আহি এবার দ্বিতীয় দফায় প্ল্যান করে গিয়েছে। শবনমকে বলেছে সে এইবার এমন জায়গা লুকাবে কেউ খুঁজে পাবে না। আর শবনম তাকে খুঁজে না পেয়ে বলবে সে খেলবে না। হলোও তাই।

আহি প্রতি বার কিচেনে নাহয় ড্রয়িং রুমে লুকায়।আর সবাই গিয়ে এক চান্সেই তাকে ধরে ফেলে। এবারে সোজা তূর্যের রুমে ঢুকেছে।তূর্য ভাই বাড়িতে নেই, সে ঘ্রাণওয়ালা কম্বলের নিচে একটা ঘুম দিয়ে সন্ধ্যার আগে আগে উঠে পরবে।কেউ খুঁজেও পাবে না ,আর তূর্য আসার আগে আগে উঠে পরবে। কিন্তু রুমে ঢুকে অন্য কাহিনী।
তূর্য উপুড় হয়ে কম্বলের নিচে আরামে ঘুমিয়ে আছে। তাহলে তার প্ল্যানের কি হবে? একটা প্ল্যানও সাকসেসফুল হয় না। এদিকে শবনম বেরিয়ে প্রান্তকে খুঁজেও নিয়েছে।সে বেরোলেও বি’পদ। আবার আরেক ম্যাচ খেলতে হবে । কি জ্বা’লা ! চিন্তায় পড়ে গেল আহি।

থাক ! তূর্য ভাই তো ঘুমিয়েই আছেন। সে পা টিপেটিপে গিয়ে এক পাশের কম্বল হালকা উচুঁ করে সেটার নিচে ঢুকে পড়লো। ঢুকতেই কি সুন্দর একটা সুবাস। আহি দীর্ঘ করে একটা শ্বাস নিলো।তূর্য ভাইয়ের গায়েও এমন সুন্দর ঘ্রাণ।কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তূর্য যতবারই তার একটু কাছাকাছি এসেছে সে সুন্দর মতো এই ঘ্রাণটা নিতে পারেনি। তূর্য ভাই একটু কাছে আসলেই তার দ’ম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এখন তো তিনি ঘুমিয়ে, সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দিলে কেমন হয়? সে পিঠ ঘষে সাপের মতো মুড়িয়ে মুড়িয়ে তূর্যের কাছে ঘেষলো। তারপর পেটানো দেহের লোকটার পিঠের উপর ঝুঁকে শ্বাস টানতে আরম্ভ করলো।একদম প্রোফেশনাল নে’শাখোরদের মতো। মন ভরে ঘ্রাণ নিয়ে তারপর আবার তূর্যের পাশে শুয়ে পড়লো। গুনগুন করে গাইতে আরম্ভ করলো,

” আজ মাঙ্গালবার হে
চুহে কো বুখার হে
চুহা গায়া ডক্টর কে পাস্
ডক্টর নে লাগায়্যি ছুই
চুহা বোলা
উঁই উঁই উঁই। ”
গান শেষ না হতে হতেই পাশ থেকে ঘুমে জড়ানো মোটা কন্ঠ ভেসে আসে,
” ডক্টর এখনো কিছুই করেনি।করাতে না চাইলে কমফোর্টারের নিচ থেকে ওঠ ”
তূর্যের ঘুম ভেঙেছে বুঝতে পেরে আহি তড়িৎ বেগে কম্বলের নিচ থেকে মাথা বের করেছে।উঠে এক দৌঁড় লাগবে, কিন্তু মাথা বের করে দেখলো তূর্য এখনো সেভাবেই শুয়ে আছে।তাহলে তূর্য ভাই কি ঘুমের ঘোরে কথা বললেন? একবার পরখ করে দেখতে হয় তো ! সে একটু আমতা আমতা করতে করতে বলল,

” তূর্য ভাই? আপনি কি ঘুমের ঘোরে কথা বললেন?”
তৎক্ষণাৎ উত্তর ভেসে এলো,
” এখন তো শুধু কথা বললাম, এক্ষণই বের না হলে ঘুমের ঘোরে আরো অনেক কিছু করে ফেলবো ”
ব্যাস! আর এক সেকেন্ড দেরি করলো না আহি। কোনো রকমে কম্বলের নিচ থেকে উঠেই এক দৌঁড়।চো’র একবারের জায়গা দশবার খাটবে সেটাও ভালো।
আ’জরাইলে দৌঁড়ানি দিলেও মানুষ এত জোরে দৌঁড়ায় না।
আহি যেতেই তূর্য উঠে বসলো।গা দুলিয়ে শব্দ করে হেসে উঠলো।
তারপর হাসতে হাসতেই পিঠের নিচে একটা বালিশ রেখে আধশোয়া হলো।বেচারি ওড়নাটা নেওয়ার সুযোগটাও পায়নি। অর্ধেক বিছানায় আর অর্ধেক মেঝেতে গড়াগড়ি খাওয়া ওড়নাটা টেনে উঠালো তূর্য। সেটাকে হাতের মধ্যে প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে গভীর থেকে গভীরতম ভাবে শ্বাস টানলো। আহির থেকে হাজারগুণ বেশি মাতাল হয়ে।তারপর নেশাগ্রস্তের ন্যায় চোখ বন্ধ করে খাটের হেডবোর্ডে মাথা ঠেকালো।গানের দুই লাইনকে কবিতার মতো করে বলল,
” কী নেশা ছড়ালে….
কী মায়ায় জড়ালে ….”

মেহেদী কোম্পানি আর বাড়ি ছাড়ার পর তাদের কোম্পানিতে অনেক লস হয়েছে। তাই বাড়ি না ফিরলেও মায়ের রিকোয়েস্টে ফের কোম্পানির হাল ধরেছে। নিজের পুরোনো পদে ফিরেছে। তবে সেটা সিভি জমা দিয়ে। অন্যান্য অফিসারদের মতোই সেও মাস গেলে বেতন নিবে।
সে তার নিজের জন্যে বরাদ্দ কেবিনে বসে ছিল।তারপর হুট করেই অনাকাঙ্ক্ষিত একজনের আবির্ভাব ঘটে। যার আগমন তার মোটেও কাম্য ছিল না।সে আসতেই মেহেদী সম্মানের সাথে তাকে বসতে বলে। কিন্তু সেই ব্যক্তি তার বলার অপেক্ষায় ছিল না। সে এসেই প্রশ্ন ছোঁড়ে,

” হোয়াট’স ইউওর প্রবলেম ? ”
” জ্বী,ভাই? বুঝলাম না ”
” তোমার সমস্যা কী? ”
” আমি কি কোনো ভুল করেছি ?”
” আহির চিন্তা ছেড়ে দিতে বলেছিলাম?”
” বলেছিলেন,কিন্তু …”
” কিন্তু কি?”
” আহিকে আমার ভালো লাগে। আমার মা’কে কথা দিয়েছি ওকে বউ করে নিয়ে তবে বাড়িতে ফিরবো। ”
” তাহলে আর বাড়ি ফেরার দরকার নেই ”
” বাড়িতে তো আমি ফিরবই। একমাত্র বোন আপনার ,সে যদি আমাকে পছন্দ করে তাহলে ? ”
” করবে না ”
” যদি বলি করবে ? ”

মেহেদীর কথায় ঠোঁ’ট বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসলো তূর্য। যার মানে এটা কখনোই সম্ভব নয়। সে দিবা স্বপ্ন দেখছে।
মেহেদী পুনরায় বলল,
” আহিকে আমি ভালোবাসি ”
উঠে দাঁড়ালো তূর্য।দুজনের মাঝে থাকা টেবিলের উপর সজোরে একটা ঘু’ষি দিয়ে মেহেদীর দিকে ঝুঁকে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
” আরেকবার ভালোবাসি বললে তোর কলিজা ছিঁ’ড়ে ফেলব আমি।”
মেহেদী গা ছাড়া ভঙ্গিতে বলল,
” দেখুন ভাইয়া , আহি আপনার বোন হয় আপনি এভাবে রিয়্যাক্ট করতেই পারেন আমি কিছু মনে করছি না ”
” সি ইজ নট মাই সিস্টার ।আন্ডারস্ট্যান্ড? আর একবার ! জাস্ট একবার যদি তোকে ওর আশেপাশে দেখি মাটিতে পুঁ’তে রেখে দিব ”

” তুই তুকারি করছেন কেন সুমন্ধিসাব ? আচ্ছা করুন! বয়স – সম্পর্ক দুইভাবেই ছোটই হবো ”
” লাস্টবারের মতো ও’য়ার্ন করতে এসেছি তোকে। এরপর ওর সাথে তোকে দেখলে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাবি না।”
বলে টেবিলে একটা লাথি দিয়ে রা’গে ফুঁসতে ফুঁসতে চলে যায় তূর্য।
মরীচিকার পিছু আর দৌড়াবে না গত পরশুই ঠিক করে নিয়েছে মেহেদী। তার কাছে ভালোবাসার চেয়ে প্র’তিশোধ মূখ্য।
তবে সেদিন বলা আহির কথা সে পুরোপুরি মানতে পারেনি।কেন জানি মনে হচ্ছে তূর্য ওকে ভালোবাসে সেটা আহির ভুল ধারণা। সেটাই যাচাই করে দেখছিল।

ইউটিউব থেকে নতুন এক চা বানানো শিখেছে আহি।তান্দুরি চা! তার মা – চাচিররা আবার এসব চা – টা পছন্দ করেন না।আর বাবা চাচাদের মধ্যে দুই জনেরই ডায়াবেটিকস। তারা চিনি ছাড়া চা খান।আরেকজন বাড়িতে নেই।
শান্ত প্রান্ত আবার আহিকে বিশ্বাস পায় না।কি না কি বানিয়ে নিয়ে আসবে তারপর ওয়াশরুমে যেতে যেতে জীবন শেষ হবে।আর তূর্যের কথা তো বাদই। তবুও একবুক আশা নিয়ে সে তূর্যের রুমে গিয়েছিলো। তূর্য ল্যাপটপে কি যেন করছিল।সে একটা কাপ এগিয়ে দিয়ে বলেছিল,

” আমি বানিয়েছি ”
তূর্য একপলক তাকিয়ে বলেছিল,
” জীবনে মিল্ক টি খেতে দেখেছিস ?”
” দুধ চা না , একে তান্দুরি চা বলে ”
” কাজ করছি। যা তুই ”
আহি তবুও হার না মেনে তূর্যের মুখের সামনে কাপ ধরে রেখেছিল।তারপর তার খচ্চর তূর্য ভাই এক ধ’মক দিয়ে বলে,

” মুখের সামনে ধরে রেখেছিস কেন,স্টুপিড ”
ধ’মক খেয়ে চলে আসে আহি। কোথায় ভেবেছিল তূর্য ভাই নিজের অনুভূতি প্রকাশের পর একটু রোমান্টিক হবেন,ভালোভাবে মিষ্টি করে কথা বলবেন।কিন্তু সেটা আর হলো কই ! সেই যা তা ই থেকে গিয়েছেন ।
অগত্যা সে,শবনম আর তাহি চা পার্টি করছে।
বিকেলের সূর্য প্রায় ডুবন্ত।তারা তিন জন তিনটি চেয়ার নিয়ে ছাদে এসেছে।কাপসহ নিজেদের নানান প্রকার ফটোশ্যুট করতে করতেই চা ঠান্ডা।তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।ছবিগুলো সুন্দর আসলেই শান্তি।চা’কে নাহয় শরবত ভেবে খেয়ে নিবে। হলোও তাই।তিন জনে তিন চুমুকে নিজেদের চা টা শেষ করেছে।তারপর তাহির কাপ তিনটা নিয়ে নিচে চলে গিয়েছে।তার আবার টিচার আসার সময় হয়ে গিয়েছে। তারপর আহি আর শবনম আড্ডা দিতে লাগলো। কথার মাঝে কিছু একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে পড়েছে এমন ভাব করে শবনম বলল,

” এ্যাই আহি? তূর্য ভাইয়া কি তাহলে তোমার উপর রে’গে ছিলেন? ”
” হ্যাঁ, গো ”
” কি করেছিলে? আর রা’গ পড়েছে? কত করে মনে করেছি বিষয়টা নিয়ে তোমাকে জিজ্ঞেস করবো,বারবার শুধু ভুলে গেছি।”
” মনে হয় পড়েছে।কিন্তু আমারও মনে হয় একটু রা’গ করে থাকা উচিত ছিল। তাই না,বলো?কত গুলো ব’কা দিলো। ” তারপর কিছু মনে করার ভঙ্গিতে আহি ফের বললো,
” ভালো কথা, তুমি আমাকে বা’ঘের গুহায় ঢুকতে হেল্প করে চলে এলে কেনো? আমি তো ভেবেছিলাম তুমিও আমার সাথে ভেতরে যাবে নাহয় ওখানেই থাকবে। ”
” আমিও ভেবেছিলাম থাকবো।কিন্তু বাবা কল করেছিল তাই চলে এসেছিলাম।আহি একটা কথা বলবো? তুমি মাইন্ড করবে ? ”

” না,বলো ”
” তুমি তূর্য ভাইয়াকে পছন্দ করো ? ”
আহি খানিকক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর ছোট করে বলল,
” হুম,পছন্দ না ,ভালোবাসি!”
” ভাইয়া জানেন?”
” হ্যাঁ! ”
” কিছু বলেনি তোমাকে?”
” তূর্য ভাইও আমাকে ভালোবাসেন ”
” তূর্য ভাইয়াও ? তুমি সিউওর?” অবিশ্বাস্য কন্ঠে বলল শবনম।
” হ্যাঁ ! ”
” ওনাকে দেখে বোঝা যায় না।আচ্ছা তাহলে তোমরা লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছো?” শেষ কথাটা মজা করার ভঙ্গিতে বলল শবনম।

” আরে নাহ নাহ !! প্রেম করছি না । তূর্য ভাই আবার প্রেম করতে পারেন নাকি ”
” তাহলে আবার কেমন ভালোবাসা?”
“ও তুমি বুঝবে না । আচ্ছা বলতো এরকম রসকষহীন লোককে কিভাবে খাঁটি প্রেমিক পুরুষ বানানো যায়।”
” শোন,প্রেমিকরা কখনো রসকষহীন হয়না। কেউ কাজেকর্মে প্রকাশ করে আর কেউ নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।
ভাইয়া যদি সত্যিই তোমাকে ভালোবেসে থাকেন উনিও অন্যান্য প্রেমিকের মতোই ”
” না গো! তূর্য ভাই ওমন নন ”
” ওমনই! উনি হয়তো বুঝতে দেন না।তুমি চাইলে পরীক্ষা করে দেখতে পারো”
আহি ভাবুক হয়ে বলল,
” কিভাবে পরীক্ষা করবো? ”
শবনম একটু ভেবে বলল,
” এক কাজ করতে পারো,তুমি শাড়ি পরে ভাইয়ার সামনে যাবে।তখন দেখবে ভাইয়ার হাব ভাব পাল্টে যাবে।পাগল হয়ে যাবে ”
” আমি এর আগেও তো শাড়ি পরে ওনার সামনে গিয়েছে।কিন্তু উনি আমাকে ব’কেছেন। ”
” ব’কেছেন?আজকে আবার পরে দেখ তো ”
শবনমের কথায় সাঁই দিলো আহি। এখন শুধু কালকের অপেক্ষা। নাহ! কালকেও হবে না।প্রতি সপ্তাহের বুধবার তূর্য ভাই অনেক ব্যস্ত থাকেন।তারপর দেখা গেল ব’কা তো আছেই সাথে মা’র আরম্ভ করে দিলেন।

উপরে উপরে যতই ভালো সম্পর্ক থাকুক না কেনো,যৌথ পরিবারে যার আয় বেশি তার ক্ষমতাও বেশি।তবে চৌধুরী পরিবারের বিষয় আলাদা। তাদের মধ্যে এমন কোনো রে’ষারেষি নেই।
তারিনের বাবা চাচারা দুই ভাই।তারিনের বাবা বড় আর চাচা ছোট। তারিনের চাচার মতো মোটা ইনকাম তার বাবার নেই । তবে এইসব বিষয় নিয়ে তাদের পরিবারে কোনোদিন কোনো কথা ওঠেনি।ওঠেনি বলতে কেউ সুযোগ পায়নি। ভাইয়েদের মধ্যে সম্পর্ক বেশ ভালো।কিন্তু ভাইয়েদের মধ্যে সম্পর্ক যতই ভালো হোক না কেনো, বউয়েরা সবসময় তাদের কান পড়া দিতেই থাকে।আর যখন তারিনের চাচার ইনকাম বেশি, চাচি এসব কাজ একটু বেশি করবে স্বাভাবিক। এদিকে তারিনের মাও যে ধোঁয়া তুলসী পাতা এমন না।তিনিও বলেন।দুজনের কথায়ই যুক্তি আছে। তবে তাদের স্বামীরা এসবে কান দেন না।ডান কান দিয়ে শোনেন ,বাম কান দিয়ে বের করে দেন।

দুই বউয়ে যে এসব করে যত যা-ই হয়ে যাক তারা কেউ কাউকে এসব কাহিনী বুঝতে দেন না।অথচ,তারিনের মা ঠিকই জানেন ওর চাচি চাচার সামনে ব’দনাম করে,এদিকে তারিনের চাচিও জানে তারিনের মায়ের ব্যাপারে।যদিও এইসব পল্লাপাল্লি আগে থেকে ছিল না।শুরুটা হয়েছে তারিনের চাচাতো বোন তানিয়াকে দিয়ে।তানিয়া মেয়েটা সব দিক থেকে ভালো।তবে একটা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায়।এখনকার যুগে এসব প্রেম ভালোবাসা কোনো ব্যাপার না।কিন্তু তারিনদের পরিবারের কাছে এটা অনেক বড় অ’ন্যায়।

মানুষ কতই অদ্ভুত! নাটক – সিনেমার ক্ষেত্রে যারা নায়ক – নায়কার ভালোবাসার বিরুদ্ধে যায় আমরা তাদেরকে ভি’লেন বলি।আর,বাস্তব জীবনে যারা ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ায়, অর্থাৎ যারা নায়ক – নায়কার রোল করে তাদেরকেই আমরা ভিলেন ভাবি।পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যই তাদের বিপক্ষে থাকে।তানিয়াদের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছিল।তানিয়ার মা প্রথমে বিপক্ষে থাকলেও মেয়ের অবস্থা দেখে রাজি হয়ে যান।পরিবারে সবাই তানিয়াকে নানান ভাবে বোঝানোর পরও যখন সে না মানে,তখন বাধ্য হয়ে সবাই রাজি হয়,তাদের বিয়ে দেয়। এখন অবশ্য বাড়ির সকলে মন থেকে মেনে নিয়েছে।বাড়ির জামাই অন্ত প্রাণ ।
তানিয়া আর তারিন বছর দুয়েকের ছোট – বড়।
তানিয়ার বিয়ের দিন তার বাবা তারিনের উদ্দেশ্যে বলে,

” তারিনকে এসব কিছু ঘটানোর আগেই বিয়ে দিয়ে দিবো ”
তখন তারিনের মা বড় গলা করে বলে,
” আমার মেয়ে তোমার মেয়ের মতো হবে না।ওর উপর আমার বিশ্বাস আছে ”
এতে তানিয়ার মা – বাবা দুইজনেই কষ্ট পান।কষ্ট পাবারই কথা।কিন্তু তারিনের মা কথাটা কিভাবে যেন বলে ফেলেছেন।কথাটা যে নেতিবাচক ভাবে বলা হয় যাচ্ছে
তিনি বুঝতে পারেননি।তানিয়াকেও তিনি নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসেন। তানিয়ার মা – বাবা এসব নেতিবাচক – ইতিবাচক দিক তখন তোলেননি।

মেহেদী সেদিন তারিনের কাকার সামনে নিজেকে তারিনের প্রেমিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পর থেকে ওই বিষয়টা তুলে বারবার কথা শোনানো হচ্ছে তারিনের মা’কে।যদিও এসব বিষয় তখন ঘটে ,যখন বাড়ির দুই কর্তা বাড়িতে থাকেন না। এই বিষয় ধরে তারিনের মা তারিনের গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেছেন।ভার্সিটি যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন।সবটা তারিনের চাচির উপর জ্বে’দ দেখিয়ে। তারিনের বাবা – চাচারা ছেলে দেখাও শুরু করে দিয়েছেন।রোজ কোনো না কোনো সম্বন্ধ আসেই।যখন – তখন বিয়ে হয়ে যেতে পারে।
তারিন প্রথমে বিয়ের ব্যাপারে না করলেই এখন মেনে নিয়েছে।যে পড়ালেখার জন্যে বিয়ে করবে না সেই পড়ালেখাই যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কী লাভ? নিজের পরিবারের কু’কথা না শুনে বিয়ের পর অন্যের কু’কথা শোনা ভালো।এতে কষ্ট কিছুটা হলেও কম লাগবে।

এদিকে আহিও এসব বিষয়ে কিছুই জানে না।মেহেদী কি কাহিনী করেছে সেটা আহিকে জানানোর পর আহি যেন খুশি হয়েছিল,হাসাহাসি করেছিল।অথচ,ওর ভেতরের দিকটা একটুও বোঝেনি আহি।সেই কষ্টে তারিন ভেবে নিয়েছে এসকল বিষয়ে সে আহিকে আর কিছুই জানাবে না।বিয়ে ঠিক হয়ে গেলে একেবারে বিয়ের দাওয়াতটাই দিবে।
ভার্সিটি যায় না কেন? জানতে চাইলে সে আহিকে জানিয়েছে, গ্রামের বাড়িতে আছে তাই যাওয়া হচ্ছে না।
গতকালও একটা ছেলের বাড়ি থেকে দেখতে এসেছিল তারিনকে। পছন্দও করেছে।এখন ছেলে আলাদা করে তার সাথে কথা বলতে চায়। একটা ক্যাফের লোকেশন বলেছে।

আজ সেখানেই যাচ্ছে সে,সাথে তার খালাতো ভাই। তারিন এসে মিনিট পাঁচেক অপেক্ষা করার পর ছেলেটা আসলো,নাম সাকিব।তারপর ওর খালাতো ভাই চলে গেল,সে আসার সময়ই বলেছিল তারিন সাকিবের সাথে কথা বলবে আর সে যাবে তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে।করলোও তাই।ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে ফিরে আসবে বলেছে।
কিছুক্ষণ কথা বলে তারিনের মনে হলো ছেলেটা ম’ন্দ নয়। যথেষ্ট ভদ্র – সভ্য। যদিও তারিন নিজে থেকে এখনো কিছুই জিজ্ঞেস করেনি।শুধু তার প্রশ্নের উত্তর বা কথার বিপরীতে যেটুকু না বললে নয় সেটুকুই বলেছে। সাকিব মৃদু হেসে বলল,

” মিস.তারিনা আমার বিষয়ে আপনার কিছু জানার নেই?”
তারিন কি বলবে খুঁজে না পেয়ে বললো,
” এখন কি জব করছেন ?”
” এইতো একটা কোম্পানিতে ম্যানেজার পদে আছি ”
টুকিটাকি আরো নানান কথা বলতে লাগলো তারা।মেহেদীও আবার এক ক্লায়েন্টের সাথে দেখা করতে এখানেই এসেছে।তাদের ডিল ফাইনাল করে ওঠার সময় চোখ গেল তারিনদের টেবিলে।ভ্রু কুঁচকে চোখের সানগ্লাস খুললো। একবার ভাবলো কিছুই করবে না।তারপর সেদিন তারিনের ব্যবহারের কথা মাথায় আসতেই নিজে আর বাইরে না গিয়ে ওখান থেকেই ক্লায়েন্টের বিদায় দিয়ে তারিনদের টেবিলের কাছে গেল। ছেলেটা কে? বাপ,ভাই নাকি বয়ফ্রেন্ড?যে হবে হোক! তার উদ্দেশ্য সিন’ক্রিয়েট করা,সিন’ক্রিয়েট করে চলে আসবে।অনেকটা কাছে এসে বুঝলো বাবা বা ভাই হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।বয়ফ্রেন্ডই হবে!এ যেন মেঘ না চাইতেই জল।আজ যেকোনো উপায়ে ব্রেকআপ করিয়েই ছাড়বে।
সে এসেই সুন্দর করে একটা কপট হাসি দিয়ে বলল,

” হাই, তারিনা!এখানে কি করছো তুমি ?”
সাকিব কি বুঝলো,কে জানে! উঠে দাঁড়িয়ে একটা সালাম দিল।অথচ,মেহেদী উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলো না।একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো না পর্যন্ত। কপট অধিকার দেখিয়ে বলল,
” ছেলেটা কে তারিনা?”
” সেটা যেনে আপনার কি লাভ? নিজের কাজে যান ” অনেকটা রুডলি কথাটা বলল তারিন।
” আমার কি লাভ মানে? জীবন – মরণের প্রশ্ন আমার। ” কপট আর্তনাদ করে বলল মেহেদী।
এবার সাকিব প্রশ্ন করলো,
” ওনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক,মিস. তারিনা ?”
এবার কিছুটা হলেও দায়বদ্ধতা আছে তারিনের। সে বুঝলো মেহেদী এখানে শুধু শুধু আসেনি।নিশ্চয়ই কোনো তালগোল পাকাবে। সে মেহেদীর দিকে তাকিয়ে ক’ড়া গলায় বললো,
” অন্তরে যদি সামান্যতম ঈমান বলে কিছু থেকে থাকে তাহলে সত্যিটাই বলবেন ”
” তাহলে তুমি বলো, মেরা জা’ন।থাক আমিই বলি! আমরা দুজন দুজনার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ,একে অপরকে বিয়ে করবো।”
তারিন আশাহত হলো না।এমন লোকের কাছ থেকে এসব কিছুই আশা করেছিল সে।সাকিব মনে হয় তারিনের মুখ থেকে কিছু শুনতে চায়।তারিন বললো,

” মি’থ্যে কেনো বলছেন?” তারপর সাকিবের দিকে তাকিয়ে বলল,
” উনি আমার ক্যামিস্ট্রি টিচার ছিলেন ”
সাকিবের মুখ দেখে মনে হলো সে তারিনের কথা মানতে পারেনি। সে ঝাঁ’ঝালো কন্ঠে বললো,
” একটা কোম্পানির মালিকের ছেলে হয়ে উনি আপনাকে ক্যামিস্ট্রি পড়াতেন? মিথ্যে কেনো বলছেন মিস. তারিনা?”
সাকিবের এমন ব্যবহার কেনো যেন সহ্য হলো না মেহেদীর।সে ক’ড়া গলায় বললো,
” মিস্টার. সরদার আপনি আসতে পারেন। ”
সাকিবের আরো কিছু কথা শোনানোর ইচ্ছা ছিল মনে হয়।কিন্তু পারলো না। সে যেই কোম্পানিতে চাকরি করে সেই কোম্পানির অংশীদারের কথা অমান্য করার দুঃসাহস তার নেই। চলে গেল সে। সাকিব যেতেই তারিন মাথায় হাত চেপে চেয়ারে বসে পড়লো।দুই চোখ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়লো ।
মেহেদী তার মুখোমুখি চেয়ারে বসে বললো,

” আরে তুমি বিয়ের জন্যে এত পাগল? জানতাম না তো!বিয়েটা একটু ভেঙেছি বলে এভাবে পাবলিক প্লেসে কান্না জুড়ে দিলে? আগে জানলে এমনটা মোটেও করতাম না ” বলে শব্দ করে হাসলো মেহেদী। তারিন চোখের পানি মুছে স্বাভাবিক স্বরে বলল,
” আপনি কি চাইছেন ? বলুন আমাকে!”
” তোমার লাইফ টাকে জাস্ট হেল করে দিতে “শ্লে’ষাত্মক গলায় বলল মেহেদী।
” একটা বিয়ে ভেঙে দিলেই আমার লাইফ হেল হয়ে যাবে ?”
” শুধু বিয়ে ভেঙে কেনো? আরো কিছু ভাঙার প্রয়োজন হলে সেটাও করবো। ”
” কি করেছি আমি? কেনো এসব করছেন? ”
” বিশ্বাস করো সেদিন আমি মজার ছলে তোমার বাবা না কাকার সামনে ওই কথা বলেছিলাম।কিন্তু ফোনে তুমি আমার সাথে যেই ব্যবহার করেছো তার মাশুল সারা জীবন ধরে তোমাকে গুনতে হবে ”

” সারা জীবন? একটা,দুইটা,তিনটা… বিয়ে ভাঙলেন আপনি।তারপর? তারপর কি করবেন আপনি? ”
” একে একে সবগুলো বিয়ে ভাঙবো তোমার ”
মেহেদীর কথায় কেমন করে হাসলো তারিন।বলল,
” আগামী এক মাসের মধ্যে আমার বিয়ের কার্ড পাবেন আপনি,অবশ্যই আসবেন ”
” যদি কোনভাবে বিষয়টা বিয়ের অনুষ্ঠান পর্যন্ত গড়িয়ে যায় , ভুল করেও আমাকে জানাতে যেও না।তাহলে শুভ কাজটা কিছুতেই সম্পন্ন হবে না ”
” শুভ কাজটা অবশ্যই সম্পন্ন হবে মিস্টার. মেহেদী ”
মেহেদীর দিকে তর্জনী আঙুল উঁচিয়ে বলল তারিন।মেহেদী ওর তাক করে রাখা তর্জনী আঙুল ধরে নিজের দিকে টান দিয়ে বলল,
” হলেও হতে পারে।কিন্তু পাত্র চেইঞ্জ হবে মাস্ট ”

কত বড় একটা ভুল হয়ে গেল। আজকে যে ১৬ ই ডিসেম্বর ফেইসবুকে না ঢুকলে আর জানা হতো না আহির।প্রতি বছর ১৬ ই ডিসেম্বরের তিনদিন আগে থেকে কতনা গান শুরু হয়।
কিন্তু আর আজকে একটু গান বাজেনি দেখে সে এই আনন্দের দিনের কথা ভুলে গেল?এটা কি ঠিক হলো? সারাদিনে কেন মোবাইলটা ধরলো না? খুব খারাপ লাগছে আহির।কিছুক্ষণ মন খারাপ করে বসে থাকলো সে।যা হবার হয়েই তো গিয়েছে। রাত বারোটার পরেই তো নতুন দিনের শুরু হবে ,হাতে যে দুই ঘন্টা আছে সেই দুই ঘন্টাই নাহয় বিজয় দিবস পালন করুক। কিন্তু কিভাবে করবে?তাদের গ্যাংয়ের সবাই তো শুয়ে পড়েছে। একা একা কিভাবে সেলিব্রেট করা যায়, ভাবতে ভাবতে একটা বুদ্ধি মাথায় এলো তার।
ইউটিউবে দেশাত্মবোধক গান শুনে বিজয় দিবস পালন করবে। আপাতত এটাই ভালো বুদ্ধি।পরেরবার আর এমন ভুল করবে না।যেভাবেই হোক মনে রাখবে।

তারপর কানে ইয়ারফোন গুজে ফুল ভলিউমে গান চালিয়ে দিল আহি।দেশাত্মবোধক গান আসলেই অন্যরকম । একটু মনোযোগ দিয়ে শুনলে শ’রীরে কা’টা দেয়।কত আবেগ,ভালোবাসা দিলে গীতিকারেরা গানগুলো লিখেছেন।একটার পর একটা গান চলতে লাগলো।
আর আহি চোখ বন্ধ করে খুব মনোযোগ দিয়ে গানগুলো শুনছে।কয়েকটা গান শোনার পর এবার চালু হলো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি গান।সেও আর চেইঞ্জ করলো না।এই গানটাও তার ভালো লাগে।সে গানের সাথে গলা মেলাতে শুরু করলো,

” যদি রাত পোহালেই শোনা যেত ,বঙ্গবন্ধু ম’রে নাই ”
” ভলিউম না কমালে রাত পোহানোর আগেই তোর ম’রার খবর শোনা যাবে ! ”
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বুকে হাত বেঁধে রাশ’ভারী কন্ঠে কথাটা বলল তূর্য। মুখের গান থেমে গেল আহির । দপ করে চোখ খুললো।সে তো ইয়ারফোন লাগিয়ে নিয়েছিল। তাহলে সে কি গান শুনছে তূর্য ভাই কিভাবে জানলেন?
সে মোবাইল ফোনের দিকে তাঁকিয়ে দেখলো ইয়ারফোন জ্যাক নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছে।অথচ,ব’লদের মতো কি সুন্দর ভাবে ইয়ারবাড কানে গুঁজে রেখেছে। এতক্ষণ ধরে থেকে থেকে সেটাকে আবার কানের মধ্যে ভালো ঠেলে ঠেলেও দিয়েছে,যাতে একটুও সরে-নড়ে যাওয়ার চান্স না থাকে।
কিন্তু কথা হলো তূর্য ভাইকে কি এখন আর ধ’মকা – ধ’মকি তে মানায়? এতদিন নাহয় ভাব দেখিয়ে অনুভূতি লুকিয়ে রেখেছিল।কিন্তু এখন? এখন তো সবটা বলে দিয়েছে ।তাহলে এখনো কেনো খ’চ্চরের মতো বিহেভ করবে? মোবাইল চেপে গানটা বন্ধ করলো আহি । তারপর খাট থেকে নেমে সেও তূর্যের মতো করে বুকে হাত বাঁধলো। গলা খাঁকারি দিয়ে গ’ম্ভীর গলায় বলল,

” দেখুন তূর্য ভাই, আগে যেমন ব্যবহার করেছেন মেনে নিয়েছি।কিন্তু এখন তো সবটা জানি।এমন ব্যবহার করলে আমি মানবো না। ”
এগিয়ে পুরোপুরি রুমের ভিতরে প্রবেশ করলো তূর্য।তারপর স’ন্দিহান গলায় বলল,
” কেমন ব্যবহার করতে হবে ?”
” একটু সুন্দর করে বলবেন। ওই… প্রেমিক – প্রেমিকারা যেমন করে বলে। ” শেষ বাক্যটা আমতা আমতা করতে করতে বলল আহি। তূর্য ভ্রু কুঁচকে বলল,
” তাহলে কম্বলের নিচ থেকে ওভাবে ম’রতে ম’রতে দৌঁড়ানোর দরকার ছিল না তো! দৌঁড়ালি কেনো ?”
তাই তো ! ওভাবে দৌঁড়ালো কেনো?মনে মনে ভেবে আবার নিজেকেই প্রশ্ন করলো আহি, দৌঁড়াবে না কেনো? তূর্য ভাই এমন ভাবে কথা বলেন যেন থ্রে’ট দিচ্ছেন । ১১ নাম্বার বিপদ সংকেত।
তূর্য উত্তর না পেয়ে আরো কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে রেখে ফের বললো,

” কি হলো? জ’বান বন্ধ হয়ে গেল কেনো?”
আহি কিছুক্ষণ সময় নিয়ে অ’ভিযোগের সুরে বললো,
” তো কি করবো! সারাক্ষণ ব’কে ব’কে পরানের মধ্যে ভ’য় ঢুকিয়ে দিয়েছেন। ভেবেছিলাম,একটু দেরি হয়ে গেলেই মা’র একটাও মাটিতে পড়বে না ”
” হুম, পড়তোও না!”আহি আ’হত দৃষ্টিতে তূর্যের দিকে তাঁকালো।তূর্য ফের বললো,
” বাই দ্যা ওয়ে,তুই কি ভেবেছিলি? রো’মান্স করবো তোর সাথে?”
এখনো এরকম ব্যবহার করবেন তূর্য ভাই? আল্লাহ্ কি মাটি দিয়ে বানিয়েছেন এনাকে? বিয়ের পর কপালে ঠিকঠাক বা’সর জুটবে তো? নাকি সেটাও এই জীবনে হবে না। এ কোন আন’রো’মান্টিক লোকের পাল্লায় পড়লো সে। শাড়ি পড়বে ,শাড়ি পড়বে বলে যে লাফাচ্ছে শেষে এই শাড়ি পরা বিফলে না যায়।
ওসব নাহয় থাকলো।এখন তূর্যের সামনে তো আর বলা যাবে না, সে রো’মান্টিক কিছু মিছুই আন্দাজ করেছিল। তাই বড় গলা করে বলল,

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩৭

” জ্বি,না। আমি মোটেও ওসব আশা রাখিনি।আর, রাখবোও না।”
” কেনো?”
” এমনি ”
“ওকেই!বাট রাখা ভালো। ইন ফিউচার সারপ্রাইজড না হয়ে যাস ”

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩৯