প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৯
জান্নাতুল ফেরদ্দোস ময়না
তোর যদি এতই শখ থাকে, তাহলে নিজে একটা বিয়ে করে বউ কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়া না! আমার মাথাটা আর খাস না তোরা!”
আরিফ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল, “নাহ রে ভাই! তোর মতো কপাল তো আর আমার না যে না চাইতেই এমন রূপবতী বউ ঘরে চলে আসবে!”
পাশ থেকে কবিরও যোগ দিল, “আসলে আরিফ, আমরা হচ্ছি চিরকালের অভাগা! আমাদের আর বউ কোলে নেওয়া হবে না। ঘোর আফসোস!”
বন্ধুদের এই অনবরত ঠাট্টা শুনে জিয়ান দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “মাথা খাস না তোরা একদম…!”
”তাহলে সোজা বউ কোলে নিয়ে গাড়িতে ওঠো!” জিহাদ পিছন থেকে বলল।
”পারব না!” জিয়ান মুখ ফিরিয়ে নিল।
এবার রিদিতা এসে জিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে বলল, “আরে দুলাভাই! একটু ভাব দেখানো বন্ধ করে রিত্তিকে কোলে নিয়ে চলেন তো। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে, আর কতক্ষণ এখানে দাঁড় করিয়ে রাখবেন?”
জিয়াও পাশ থেকে জিয়ানের শেরওয়ানির হাতা টেনে ধরে বলল, “হ্যাঁ ভাইয়া, নাও না! ভাবিকে কোলে তুলে নাও।”
চারপাশের এত লোকের চাপ আর অনবরত খোঁচায় জিয়ান আর কোনো উপায় না পেয়ে, অবশেষে বিরক্তি মেশানো গম্ভীর ভাব নিয়ে রিত্তিকাকে আলতো করে নিজের কোলে তুলে নিল। জিয়ান যে হুট করে কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই তাকে এভাবে পাঁজাকোলা করে তুলে নেবে, তা রিত্তিকা ভাবতেই পারেনি! জিয়ানের শক্ত দুই হাতের স্পর্শ রিত্তিকার শরীরে লাগার সাথে সাথেই তার পুরো শরীরে এক অদ্ভুত, তীব্র শিহরণ প্রবাহিত হয়ে গেল। সে লজ্জায় ও আবেশে জিয়ানের শেরওয়ানির কলারটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে ওনার বুকে মুখ লুকাল।
পুরো ইসলাম বাড়ির সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, চোখের জল আর এক বুক নতুন স্বপ্ন বুকে চেপে রিত্তিকা পা বাড়াল জিয়ানের সাথে তার নতুন জীবন শুরু করতে।
~ঠিক ৩০ মিনিট পর বিয়ের জমকালো গাড়িটি এসে পৌঁছাল কায়সার ম্যানশনের রাজকীয় গেটের সামনে। গাড়ি বাড়ির সামনে থামার সাথে সাথেই বাইরে অপেক্ষারত সকল আত্মীয়-স্বজন আনন্দের সুরে বলতে লাগল, “নতুন বউ এসেছে! নতুন বউ এসেছে!”
গাড়ি থেকে বর-বউসহ বাকি সকলে একে একে নামতে লাগল। বাড়ির মূল ফটকে ঢোকার সময় জিয়ানের মা রিহানা কায়সার হাতে মিষ্টির একটা রুপোর প্লেট নিয়ে হাসিমুখে এগিয়ে এলেন। প্লেট থেকে একটা মিষ্টি তুলে তিনি রিত্তিকার মুখের সামনে নিয়ে পরম স্নেহে বললেন, “নাও মা, মিষ্টিটা একটু মুখে দাও। শ্বশুরবাড়ির চৌকাঠ পার হওয়ার আগে নতুন বউদের মিষ্টিমুখ করতে হয়।”
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জিয়ানের কাছে এই সমস্ত নিয়মকানুন বড্ড অসহ্য আর সেকেলে লাগছিল। সে মনে মনে ভাবছিল, ‘উফ! কতক্ষণে যে এই নাটক শেষ হবে!’ মিষ্টি খাওয়ানোর পালা শেষ হলে নতুন বর-বউকে বসার ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো।
রিত্তিকাকে সোফার ঠিক মাঝখানে বসানো হলো, আর জিয়ানকে প্রায় জোর করেই তার পাশে বসিয়ে রাখা হলো। জিয়ানের ফুফুরা এসে রিত্তিকার ওড়নাটা একটু সরিয়ে মুখটা দেখে মাশআল্লাহ বলে উঠলেন, “নতুন বউ তো ভারী মিষ্টি দেখতে রে!” বাকি আত্মীয়রাও একে একে নতুন বউ দেখতে আসছিল। কেউ রিত্তিকার রূপের প্রশংসা করছিল, তো কেউ আবার লেহেঙ্গার রঙ কিংবা গহনা নিয়ে হালকা খুঁত ধরছিল। রিত্তিকা মাথা নিচু করে সব শুনছিল।
রিত্তিকার সাথে তার বোন রিদিতা, ইরা আর ভাই রিহান এসেছে। তাদের জন্য খাবার টেবিল সাজিয়ে দেওয়া হলো। রিহানা কায়সার ও রেনিয়া কায়সার মিলে তাদের বিভিন্ন রকম সুস্বাদু নাস্তা দিয়ে আপ্যায়ন করলেন।
সকলকে বিদায় জানানিয়ে, নতুন বউয়ের সাথে সবার আলাপ করাতে এবং বিয়ের বাকি নিয়মকানুন পালন করতে করতে ঘড়ির কাঁটায় রাত ১টা বেজে গেল।
রাত যখন প্রায় দেড়টা, তখন জেসমিন আর জিয়া মিলে রিত্তিকাকে ধরে ধরে জিয়ানের শোবার ঘরের সামনে নিয়ে আসছিল। জিয়ানের ঘরটা আজ ভারী সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। লাল গোলাপের পাপড়ি, রজনীগন্ধার মালা আর বিভিন্ন সুগন্ধি ফুলের গন্ধে পুরো ঘরটা যেন এক মায়াবী রূপ ধারণ করেছে।
এর মধ্যেই জিয়ানের ফুফু এসে রিত্তিকার হাতে একটা গ্লাসে জাফরান মিশ্রিত গরম দুধ আর একটা পানের প্লেট তুলে দিলেন। তিনি রিত্তিকার গালে হাত দিয়ে হাসি মুখে ফিসফিসিয়ে বললেন, “যাও মা, ঘরে যাও। বর ঘরে এলে এগুলো ওনাকে খেতে দিয়ো।”
রিত্তিকা লজ্জায় মাথা নিচু করে আস্তে করে বলল, “আচ্ছা ফুফু।”
তিনি আবারও রিত্তিকার চিবুক ধরে বললেন, “মনে রেখো মা, আজ ছেলেটা যা বলবে, তাই শুনবা। কোনো কিছুতে যেন ওকে নিষেধ করবে না। স্বামীর পছন্দ-অপছন্দের খেয়াল রাখাই ভালো স্ত্রীদের কাজ।”
রাত নিয়ে আরও কিছু জরুরি কথা তিনি রিত্তিকাকে ভালো করে বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন। রিত্তিকাও বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নেড়ে বলল, “বুঝেছি ফুফু।”
এদিকে, রিত্তিকাকে ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে বাসর ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে ঠিক দরজার সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একদল ডাকাত—আরিফ, জিয়া, জেসমিন, জিহাদ, কবির আর কলি! তাদের উদ্দেশ্য আজ জিয়ানের কাছ থেকে বাসর ঘরে ঢোকার জন্য একটা মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা। টাকা না দিলে তারা আজ জিয়ানকে কোনোমতেই ঘরে ঢুকতে দেবে না।
নিচে সবার সাথে কথা শেষ করে, ক্লান্ত শরীরে জিয়ান যখন নিজের ঘরের দিকে আসছিল, তখনই দরজার সামনে এই বিশাল বাহিনী দেখে সে থমকে দাঁড়াল।
সে ভ্রু জোড়া কুঁচকে চরম বিরক্ত হয়ে বলল, “এই! এভাবে তোরা সবাই আমার ঘরের সামনে পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছিস কেন বলতো?”
আরিফ পকেটে হাত দিয়ে বেশ আয়েশ করে হেসে বলল, “আরে দোস্ত! টাকা না দিলে আজ তোকে এই ঘরে ঢুকতে দেব না, ব্যস!”
জিয়ান রেগে গিয়ে বলল,
“কিসের টাকা দেব তোদের, হ্যাঁ?”
আরিফ বলল,
“কষ্ট করে তোর এই বাসর ঘরটা যে আমরা এত ফুল দিয়ে সাজালাম, সেটা কি এমনি এমনি? আগে টাকা দে, তারপর নিজের ঘরে যা।”
”আমার ঘরটা কি তোদের সাজাতে বলেছিলাম আমি? নিজেদের উর্বর মস্তিষ্ক খাটিয়ে সাজিয়েছিস, এখন পথ থেকে সর! আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে,” জিয়ান যাওয়ার চেষ্টা করতেই জিহাদ সামনে এসে হাত দিয়ে আটকে দিল।
”নো ব্রো! টাকা দাও, ঘরে যাও। তোমার ঘুম কেন পাচ্ছে, আর ঘরের ভেতর কে অপেক্ষা করছে, তা আমরা খুব ভালো করেই জানি! বেশি না, মাত্র ১ লক্ষ টাকা দাও আমরা চলে যাচ্ছি ।”
জিয়ান চোখ কপালে তুলে বলল, “কিহ! ১ লাখ টাকা? টাকা কি গাছের পাতা যে যখন চাবি, তখনই পেড়ে দিয়ে দেব?”
তখনই সবাই একসাথে গেয়ে উঠল, “টাকা দাও, ঘরে যাও, বউ নাও! এত কথা না বাড়িয়ে জলদি পকেট খালি করো !”
জিয়ান রেগে মেগে বলল, “টাকা কি মগের মুল্লুক নাকি যে চাইল আর দিয়ে দিলাম!”
জিয়া এবার ভাইয়ের অবস্থা দেখে একটু দয়া দেখিয়ে বাকিদের বলল, “আরে দেখছিস না, ভাইয়ের আমার অনেক তাড়া! ছেড়ে দে না তোরা!”
বাকিরা জিয়ার কথায় হেসেই খুন হলো।
জিয়ান শেরওয়ানির ভেতর গরমে একেবারে ঘেমে নেয়ে একসার হয়ে যাচ্ছিল। সে বুদ্ধি খাটিয়ে একটু শান্ত
গলায় বলল, “আচ্ছা বাবা, তোরা থাম! তোরা এখানে দাঁড়া, আমি ঘর থেকে টাকা নিয়ে আসছি। এই গরমে আমাকে আর বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখিস না, প্লিজ!”
আরিফ আর জিহাদ সরল মনে জিয়ানের এই ক্লান্ত মুখের কথা বিশ্বাস করে নিল এবং দরজা থেকে একটু সরে দাঁড়াল। জিয়ান দ্রুত ঘরের ভেতর ঢুকেই এক সেকেন্ডের মধ্যে দরজার বিশাল ছিটকানিটা ‘খটাস’ করে আটকে দিল!
বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফ আর জিহাদ একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে সমস্বরে চিৎকার করে উঠল,
“এটা কী হলো! আমাদের আস্ত বোকা বানিয়ে চলে গেল! টাকাও দিল না, আর ফ্রিতে বউও পেয়ে গেল!” তারা দরজায় অনবরত ধাক্কাধাক্কি আর ডাকাডাকি করতে লাগল, কিন্তু জিয়ান ভেতর থেকে কোনো সাড়া দিল না। কিছুক্ষণ পর তারা নিজেদের বোকা হওয়া মেনে নিয়ে হাসতে হাসতে সেখান থেকে চলে গেল।
বাইরের হুলস্থুল থামিয়ে জিয়ান একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ঘরের দিকে ঘুরতেই দেখল—বিশাল খাটের ঠিক মাঝখানে লাল লেহেঙ্গা পরে গুটিসুটি মেরে বসে আছে রিত্তিকা। ঘোমটার আড়াল থেকে সে বড় বড় চোখ করে জিয়ানের দিকেই তাকিয়ে ছিল।
জিয়ানকে ঘরে ঢুকতে দেখে রিত্তিকা যেন এক অদ্ভুত সাহস পেয়ে গেল। সে খাটের ওপর একটু সোজা হয়ে বসে, জিয়ানের গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে হুট করেই বলে উঠল, “এই যে মশাই! এভাবে দরজার কাছে কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে এদিকে আসুন তো, আর ওই গানটা গেয়ে শোনান!”
জিয়ান , ভ্রু জোড়া তীব্র কুঁচকে বলল, “What do you mean? Can you say that again?”
রিত্তিকা ঠোঁট উল্টে বলল, “বাঙালি হয়ে এত ইংরেজি বকেন কেন বলুন তো? যাই হোক, আমি না, গানটা আপনি বলবেন!”
বলেই রিত্তিকা হুট করে খাটের ওপর দুলতে দুলতে, জিয়ানের দিকে তাকিয়ে বেশ কায়দা করে গুনগুন করে গেয়ে উঠল:
”দোহাই লাগে মুখটি তোমার….!
একটু আঁচলে ঢাকো…!
আমি জ্ঞান হারাবো, মরেই যাবো…!
বাঁচাতে পারবে না কো….!”
গানটা শেষ করেই রিত্তিকা জিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমাকে দেখে এই গানটা বলুন, জলদি!”
কাল রাত থেকে শুরু করে আজকের এত ধকল, আর এখন রিত্তিকার এই ছেলেমানুষি গান—সব মিলিয়ে জিয়ানের ভেতরের ধৈর্যের বাঁধ এবার পুরোপুরি ভেঙে গেল! সে প্রচণ্ড রেগে গিয়ে পাশে থাকা টেবিল থেকে কাঁচের পানির গ্লাসটা ফুঁসে উঠে মেঝের ওপর ছুড়ে ফেলল! ‘ঝনঝন’ শব্দে কাঁচের গ্লাসটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
জিয়ান চিৎকার করে বলল, “ইয়ার্কি হচ্ছে আমার সাথে? হ্যাঁ? আমি কেন গান গাইতে যাবো? এইসব ফালতু নাটক বন্ধ করো রিত্তিকা! এই বিয়ে আমি মানি না। তোমাকে বউ হিসেবে মানি না আমি…! সংসার করা সম্ভব নয় আমার পক্ষে…!
জিয়ানের এই প্রচণ্ড রুদ্ররূপ আর গ্লাস ভাঙার শব্দে যেকোনো মেয়ে হলে ভয়ে কেঁদে ফেলত, কিন্তু রিত্তিকা দমবার পাত্রী নয়। সে খাটের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ে বুক ফুলিয়ে, একদম ভয় না পেয়ে জিয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলে উঠল,
“তাহলে কেনো বিয়ে করলেন…? কেনো আমার জীবন টা নষ্ট করলেন..? আপনার মতো বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের সাথে সংসার করার আর ইচ্ছে নে আমার..!
রিত্তিকার মুখে এমন সপাটে জবাব শুনে জিয়ান একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেল। তার মুখের সমস্ত কথা যেন এক নিমেষে হারিয়ে গেল। সে আর একটা কথাও না বাড়িয়ে, আলমারি থেকে নিজের একটা সাধারণ টি-শার্ট আর ট্রাউজার বের করে গটগট করে বাথরুমের দিকে চলে গেল শাওয়ার নিতে।
ওদিকে জিয়ান বাথরুমে ঢুকতেই রিত্তিকা খাটে ধপাস করে বসে পড়ল। তার চোখ পড়ল ফুফুর দেওয়া সেই জাফরান দুধের গ্লাসের দিকে। সে গ্লাসটা হাতে নিয়ে এক চুমুক দিয়ে বেশ তারিয়ে তারিয়ে খেতে খেতে বলল,
, “হুহ! বিয়ে মানেন না তো কী হয়েছে? আমি তো মানি! বউ মানেন না, দেখব কতদিন না মেনে থাকতে পারেন আপনি!”
কিছুক্ষণ পর বাথরুমের দরজা খুলে জিয়ান বের হয়ে আসল। তার ভেজা চুল থেকে পানির দু-একটা ফোঁটা তখনও তার ফর্সা গলায় আর চিবুকে লেপ্টে আছে, যা এই হালকা আলোয় তাকে অদ্ভুত সুন্দর আর আকর্ষণীয় করে তুলছিল।
রিত্তিকা দুধের গ্লাস হাতে নিয়ে জিয়ানের দিকে একেবারে পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইল। মনে মনে ভাবল, ‘রাগ করলে লোকটাকে আরও বেশি হ্যান্ডসাম লাগে কেন বাবা!’
কিন্তু ঠিক তখনই তার চঞ্চল মস্তিষ্ক সচল হলো। সে দেখল, জিয়ান চুল মুছে ওয়ালেট আর গাড়ির চাবিটা হাতে নিয়ে ঘরের বাইরের দরজার দিকে পা বাড়াচ্ছে! অর্থাৎ, সে বাসর রাতে বউকে ঘরে একা রেখে বাইরে কোথাও চলে যাচ্ছে!
কত বড় সাহস বেডার! বাসর রাতে বউ রেখে বাইরে যাচ্ছে!
জিয়ানকে দরজার দিকে যেতে দেখে রিত্তিকা দুধের গ্লাসটা খাটের পাশে রেখে বেশ জোরে জোরে চার দেয়াল শুনিয়ে বলতে লাগল,
প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১৮
“পুরুষজাত বড্ড বদজাত। বাসর রাতেও বউ ফেলে চলে যায়।কি আর করার একাই গপ্পো করি। ”
রিত্তিকার এই ত্যাড়া খোঁচা শুনে জিয়ান দরজার হাতল ধরেও থমকে দাঁড়াল। সে আস্তে করে ঘাড় ঘুরিয়ে রিত্তিকার দিকে তাকাল। রিত্তিকা তখন খাটের ওপর পা ছড়িয়ে বসে ওনাকে ভেঙাচ্ছিল।
জিয়ান ঠোঁটের কোণে এক চিলতে শীতল, হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল, ”
এই বদজাতের ডেরাতেই নিজ ইচ্ছায় পা রেখেছেন মিস পুকি পাই,তাই সহজে আপনার নিস্তার নেই। আমাকে যেভাবে পোড়াচ্ছেন ঠিক সেভাবেই পোড়াবো আপনাকে। গট ইট।
