প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৭ (২)
জান্নাতুল ফেরদ্দোস ময়না
সন্ধ্যা ছয়টা ছুঁই ছুঁই। সূর্যের শেষ আভাটুকুও যেন শহরের বহুতল ভবনগুলোর আড়ালে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। রিত্তিকা গায়ে একটা সুন্দর থ্রি-পিস জড়িয়ে ঘরের দরজার দিকে একধ্যানে তাকিয়ে বসে আছে। ব্যাকুল চোখে অপেক্ষা করছে জিয়ানের জন্য। আজ সকালে বের হওয়ার সময় জিয়ান নিজেই খুব জোর দিয়ে বলেছিল,
__ “আজ কাজ শেষ করে খুব তাড়াতাড়ি ফিরব রিত্তিকা, তৈরি হয়ে থেকো।”
কিন্তু এখন ঘড়ির কাঁটা ছয়ের ঘর ছুঁতে চলল, অথচ লোকটার কোনো দেখাই নেই! রিত্তিকা কয়েকবার ফোনও করেছে, কিন্তু ওপাশ থেকে রিং হয়ে কেটে গেছে, কেউ রিসিভ করেনি। অধৈর্য হয়ে মন খারাপ করে সে বেলকনির সোফায় গিয়ে বসল। একা একা আর কতক্ষণ বসে থাকা যায়? একভাবে তো আর বেশিক্ষণ ফোন দেখতেও ইচ্ছা করে না।
শহরের কোলাহল আর হিমেল হাওয়া বেলকনিতে আছড়ে পড়ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার ক্লান্তি আর গায়ের হালকা ঠাণ্ডায় রিত্তিকার চোখের পাতা দুটো একসময় ভারী হয়ে এলো। অভিমানী রমণী সোফাতেই এলিয়ে পড়ল ঘুমের দেশে।
দেখতে দেখতে ঘড়ির কাঁটা সাতটা স্পর্শ করল। ততক্ষণে পুরো ঢাকা শহরের কৃত্রিম আলোকসজ্জা জ্বলজ্বল করে উঠেছে। ফ্ল্যাটের দরজায় চাবি ঘুরিয়ে প্রবেশ করল জিয়ান। সারাদিনের অফিস আর মিটিংয়ের প্রচণ্ড ক্লান্তি শরীর জুড়ে ভর করলেও, তার মুখে ছিল এক চিলতে মিষ্টি প্রশান্তির হাসি। ঘরে ঢুকেই নজর বুলিয়ে সে নিজের একান্ত ব্যক্তিগত মানুষটাকে খুঁজতে লাগল।
কিন্তু বেডরুমে রিত্তিকাকে না পেয়ে সে সোজা রান্নাঘরের দিকে গেল। সেখানেও কাউকেই দেখা গেল না। জিয়ানের কপালে চিন্তার সূক্ষ্ম ভাজ ফুটে উঠল। গম্ভীর ভাবনায় ছেয়ে গেল তার মন—রিত্তিকা কি তাকে না জানিয়ে কোথাও চলে গেল নাকি?
দ্বিধান্বিত পায়ে সে এবার বেলকনির দিকে পা বাড়াল। কাচের স্লাইডিং ডোর ঠেলে সেখানে ঢুকতেই দেখল, সোফায় গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে তার অভিমানী রূপসী। জিয়ান মৃদু পায়ে কাছে এগিয়ে গিয়ে তাকে ডাকল,
__”রিশা… উঠো।”
প্রথম কয়েক ডাকে কোনো সাড়া পাওয়া গেল না। তার ঘুম যেন বেশ গভীর হয়ে ধরেছিল। জিয়ান আলতো করে তার গায়ে হাত দিয়ে আবার ডাকতেই, রিত্তিকা চোখ মেলল। কিন্তু জিয়ানকে সামনে দেখেই অভিমানের মেঘ যেন দ্বিগুণ ভারী হয়ে উঠল। সে চট করে মুখটা অন্য পাশে ঘুরিয়ে নিলো।
জিয়ান অনুচ্ছ্বাসে শুধাল,
__ “হঠাৎ এভাবে ইগনোর করার কারণটা কী?”
রিত্তিকা অন্য দিকে মুখ রেখেই সংক্ষেপে বলল,
__”কিছু না।”
এবার জিয়ান রিত্তিকার হাত ধরে টেনে তুলতে লাগল। এই জিয়ান একসময় ছিল ভীষণ গম্ভীর প্রকৃতির লোক। প্রয়োজনেও কারও সাথে দুটো অতিরিক্ত কথা বলত না, নারীদের সান্নিধ্য এড়িয়ে চলত সবসময়। কিন্তু সেই কঠিন, পাষাণ সদৃশ লোকটির ভেতরেও হঠাৎ এক আমূল পরিবর্তন চলে আসে এই রিত্তিকার আগমন ঘটে যাওয়ার পর থেকে।
হঠাৎ হাতের ওপর অতর্কিত টান পড়তেই রিত্তিকা চটে গিয়ে বলল,
__”কী হচ্ছেটা কি? হাত ধরে এভাবে টানটানি করছেন কেন? হাত ছাড়ুন আমার!”
রিত্তিকার এমন রূঢ় ব্যবহারে এবার জিয়ানও বেশ বিরক্ত হলো। জীবনে প্রথমবার নিজের বউকে নিয়ে একটু শপিংয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে, আর মেয়েটি এমনভাবে মুখ ঘুরিয়ে বসে আছে!
জিয়ান নিজের বিরক্তি চেপে গম্ভীরভাবে বলল,
__ “রিশা, চুপচাপ গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। অলরেডি অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
রিত্তিকা কিন্তু দমার পাত্রী নয়। সে স্পষ্ট কণ্ঠে সাফ জানিয়ে দিল,
__”আমি কোথাও যাব না আপনার সাথে। আপনার শপিং দরকার হলে আপনি একা যান!”
__”এমন ছেলেমানুষি কেন করছ রিশা?”
__”তো কী করব? কতক্ষণ ধরে আমি আপনার জন্য সেজেগুজে অপেক্ষা করছি খবর আছে? কতবার কল দিয়েছি! একা বাসায় ফেলে রেখে আপনি তো বাইরে দিব্যি নিজের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন!”
রিত্তিকার অভিমানী অভিযোগের জবাবে জিয়ান আর কোনো অহেতুক কথা বাড়াল না। হঠাৎ এক টানে রিত্তিকাকে তুলে সরাসরি নিজের প্রশস্ত বুকটার ওপর এনে ফেলল। তারপর একেবারে চোখে চোখ রেখে অতি গম্ভীর গলায় বলল,
__”আইম গিভিং ইউ জাস্ট ফাইভ মিনিটস। ফ্রেশ হয়ে নাও, আদারওয়াইজ…”
জিয়ানের ওই চোখের দৃষ্টি আর গম্ভীর স্বর দেখে রিত্তিকা আর একটা কথাও বাড়াবার সাহস পেল না। মুখে সে যতই শানিত তর্ক করুক না কেন, এই গম্ভীর প্রফেসর লোকটাকে ভেতরে ভেতরে সে বড্ড ভয় পায়।
জিয়ান রিত্তিকাকে নিয়ে এসেছে যমুনা ফিউচার পার্কে। চকচকে মার্বেলের মেঝে, সুবিশাল কাচের দোকান আর ঝলমলে আলোয় পুরো শপিং মল যেন আলোকময় এক নগরী। জিয়ান তাকে সরাসরি এক বিশাল শোরুমের লেডিস কর্নারে নিয়ে গেল।
রিত্তিকা চারপাশ তাকিয়ে দেখছিল। কত সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের পোশাক থরে থরে সাজানো রয়েছে। কিন্তু রিত্তিকার কাছে এসব চাকচিক্য আর বিলাসিতা বড্ড ঠুনকো। আসার আগেই সে জিয়ানকে বহুবার বলেছিল রাস্তার পাশের ভালো দোকান কিংবা রোড সাইড কালেকশন থেকে জিনিস কিনতে, কিন্তু জিয়ান তাতে মোটেও রাজি হয়নি।
রিত্তিকার নীতি হলো—এত এত টাকা খরচ করে একজোড়া সাধারণ পোশাক কেনা একদম অর্থহীন। সে সবসময় বাড়ি থেকে ড্রেস কেনার টাকা নিয়ে রাস্তার পাশের দোকান থেকে চমৎকার সব পোশাক বেশ কমে কিনে নিত। বাকি টাকাটা কাউকে না জানিয়ে জমিয়ে রাখত অন্য কোনো প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য।
রিত্তিকাকে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিয়ান তার হাত ধরে ওড়নার সেকশনে নিয়ে গেল। সেখানে সাধারণ কিন্তু রুচিশীল ডিজাইনের চমৎকার সব ওড়নার কালেকশন রয়েছে।
সেখানে দাঁড়িয়ে রিত্তিকা নানা রঙের ওড়না দেখতে দেখতে একপর্যায়ে একটা হালকা কাজের ওড়না বেশ পছন্দ করে ফেলল। পছন্দ হতেই সেলসম্যানের দিকে তাকিয়ে দাম জিজ্ঞেস করল। দোকানদার ভদ্রলোক বেশ বিনয়ের সাথে হাসি মুখে বললেন,
__”ম্যাম, এটার প্রাইস মাত্র দশ হাজার টাকা।”
কথাটা শোনামাত্রই রিত্তিকার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল! চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল তার। ওড়নাটায় তেমন ভারী কোনো কারুকাজই নেই, একদম প্লেন আর সিম্পল একটা জিনিস, তার দাম কি না ‘মাত্র’ দশ হাজার টাকা! দশ হাজার টাকা কি উপার্জন করতে কষ্ট হয় না? সে কিছুতেই বুঝতে পারে না, কোটি কোটি টাকার মালিকরা এত এত টাকাকে এভাবে ‘মাত্র’ বলে কীভাবে চালিয়ে দেয়! মাত্র দশ টাকার জন্য সাধারণ মানুষকে যেখানে ঘাম ঝরাতে হয়, সেখানে এমন বিলাসিতা তার কাছে নিতান্তই হাস্যকর ঠেকলো।
রিত্তিকা চট করে পেছনে ঘুরে দাঁড়াল এবং জিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,
__প্রফেসর সাহেব চলুন এখান থেকে ওড়না কিনবো না আমি।বালের এক ওড়নার দাম বলে দশ হাজার টাকা। সেম ওড়না রাস্তার পাশের দোকান থেকে কিনলে নেবে দুইশো টাকা।
বউয়ের এমন আনকাট মন্তব্য শুনে জিয়ানের অবাক হওয়ার সীমা রইল না! সে স্তম্ভিত হয়ে মনে মনে বলল,
__মেয়েরা শপিং করতে এসে জামাইয়ের পকেট খালি করে দেয় আর আমার বউ কিনা টাকা বাঁচানোর জন্য রাস্তার পাশ থেকে কিনবে।কপালে একটা বউ জুটেছে আমার। বউ তোমার বর এতাটাও গরীব নই।
জিয়ান পরিস্থিতি সামলে নিয়ে স্বর স্বাভাবিক করে বলল,
__ “দশ হাজার টাকা তো কী হয়েছে? পছন্দ হয়েছে যখন নাও।
__”আরে দশ হাজার টাকা দিয়ে রোড সাইড থেকে কিনলে ডজন ডজন সুন্দর সুন্দর ওড়না হয়ে যাবে, বুঝলেন?”
__”বেশি না বকে যেটা পছন্দ হয় জলদি নাও।”
__”না, একদম নিব না!”
রিত্তিকার এমন চরম তেড়ামো আর জেদ দেখে জিয়ান আর তাকে জিজ্ঞেস করার তোয়াক্কাই করল না। সে নিজের পছন্দমতো একের পর এক ওড়না, থ্রি-পিস, শাড়ি এবং মেয়েদের যাবতীয় প্রসাধনী প্যাক করিয়ে নিলো। রিত্তিকা জিয়ানকে বারবার হাত ধরে বারণ করল এত জিনিস না কিনতে, কিন্তু কে শোনে কার কথা! জিয়ান একাই সব বিল পরিশোধ করে দিল।
এবার জিয়ানকে একটু শায়েস্তা করার জন্য রিত্তিকার মাথায় এক দুর্দান্ত বুদ্ধি খেলে গেল। সে জিয়ানকে টেনে এক বিশাল মেকআপ শপে নিয়ে গেল। সোজা গিয়ে দাঁড়াল লিপস্টিক কর্নারে।
একটা গাঢ় শেডের লিপস্টিক হাতে নিয়ে রিত্তিকা বেশ আড়চোখে জিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,
__”আপনার হাতটা একটু দিন তো?”
জিয়ান ভ্রু কুঁচকে শুধাল,
__ “কেন? আমার হাত দিয়ে আবার কী করবে?”
__”আরে বাবা, দিতে বলছি দিন না!”
জিয়ান সরল মনে কিছু না ভেবেই নিজের হাতটা এগিয়ে দিল। আর রিত্তিকা সঙ্গে সঙ্গে লিপস্টিকটা খুলে জিয়ানের ধবধবে ফর্সা হাতের তালুর উল্টো পিঠে ঘষে ট্রায়াল দিতে শুরু করল।
জিয়ান ছিটকে হাত সরাতে গিয়েও পারল না। বিরক্তি প্রকাশ করে বলল,
__”হোয়াট রাবিশ রিত্তিকা! আমার হাতে লিপস্টিক লাগাচ্ছ কেন?”
__”ট্রায়াল দিয়ে দেখছি কোন কালারটা বেশি ফুটবে।”
__”তো তোমার নিজের হাত থাকতে আমার হাতে কেন?”
__”কেন মানে? আপনি কিনে দিচ্ছেন, তাই আপনার হাতেই তো ট্রায়াল দেখব! অন্য কোনো পরপুরুষের হাতে এভাবে দিতে গেলে তো আপনি রেগে বোম হয়ে যাবেন, তাই বাধ্য হয়ে আপনার হাতটাকেই ক্যানভাস বানাচ্ছি।”
__”হাত ছাড়ো রিত্তিকা! মানুষ দেখছে!”
__”উঁহু, এখনো তো সবগুলো শেড দেখাই হলো না!”
__”বললাম তো, নিজের হাতে ট্রায়াল দাও!”
__”নো! বর হিসেবে আপনার এটা সম্পূর্ণ হক, তাই আপনার হাতেই দেখব।”
জিয়ান মৃদু হেসে এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
__ “বউ হিসেবে অন্য কোনো আসল হক তো দাও না কখনো, তা এটা হঠাৎ কেমন হক দেওয়া হচ্ছে? আর এসব কি কোনোদিক দিয়ে হক হয় নাকি?”
রিত্তিকা মুখ বাকিয়ে বলল, ”
__হ্যাঁ, নিশ্চয়ই হয়! এটাই হচ্ছে ভালোবাসার প্রধান হক। বেশি কথা না বলে চুপচাপ হাত ধরে রাখুন তো!”
এই বলে রিত্তিকা জিয়ানের হাতের পুরো চামড়ায় একের পর এক লাল, গোলাপি আর খয়েরি লিপস্টিকের লম্বা লম্বা শেড আঁকতে লাগল, আর গম্ভীর প্রফেসর জিয়ান নিঃশব্দে শুধু নিজের এই পাগল বউয়ের কাণ্ড দেখে হাসতে লাগল।
একই শহরের অন্য প্রান্তে, কোচিং থেকে ফিরে ক্লান্ত হয়ে রিদিতা নিজের ঘরের বিছানায় ধপাস করে শুয়ে পড়ল। সারাদিনের পড়ালেখা আর যাতায়াতের ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসছে।
ফোনটা জামার পকেট থেকে বের করে ওয়াইফাই অন করতেই ফেসবুক নোটিফিকেশনের বন্যা বয়ে গেল। নিউজফিডে স্ক্রোল করতেই হঠাৎ একটা সুপুরুষের ছবি তার চোখের সামনে ভেসে উঠল।
ছবিটা দেখা মাত্রই রিদিতার হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমে গেল। কেমন যেন খুব চেনা চেনা ঠেকছে লোকটির চেহারা! কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ চোখে ছবিটি পর্যবেক্ষণ করার পর রিদিতা বুঝতে পারল—চেনা চেনা ঠেকছে না, লোকটা আসলেই তার পরিচিত বা আগে দেখা কেউ!
কৌতূহল সংবরণ করতে না পেরে রিদিতা চট করে লোকটির মূল প্রোফাইলে ঢুকে পড়ল। প্রোফাইল জুড়ে চোখ ধাঁধানো সব কন্টেন্ট আর ট্রাভেল ফটোগ্রাফি পোস্ট করা। কোনোটা বিশালাকার নীল সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে তোলা, কোনোটা বরফাবৃত পাহাড়ের চূড়ায়, আবার কোনোটা আকাশের হাজার ফুট ওপর থেকে স্কাই ডাইভিং করার মুহূর্ত!
রিদিতা মুগ্ধ হয়ে ছবিগুলো দেখতে দেখতে মনে মনে ভাবল,
__’বাপরে! সাহসের প্রশংসা করতেই হয় মানুষটার। সবাই
তো আর এভাবে প্লেন থেকে লাফিয়ে পড়ে স্কাই ডাইভিং করার হিম্মত রাখে না!’
হৃদয়ের ভেতরের গোপন আকুলতায় রিদিতা পোস্টগুলোতে এক এক করে লাভ রিয়েক্ট দিতে শুরু করল। প্রথমে কয়েকটি ছবিতে লাইক দিয়েছিল, কিন্তু পরে কী ভেবে যেন লাইক তুলে নিয়ে ‘লাভ’ রিয়েক্ট চাপল।
একটি ডাইভিংয়ের ছবির নিচে নিজের অজান্তেই কমেন্ট বক্সে গিয়ে রিদিতা লিখে ফেলল:
__‘মানুষ কত শৌখিন আর স্বাধীন হয়! কত সুন্দর সুন্দর জায়গায় ঘুরতে চলে যেতে পারে… আর আমার ভাগ্যটা দেখুন, আমি কোথাও যেতে পারি না!’
কমেন্ট পোস্ট করে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল মেয়েটি। তারপর ফোনটা বিছানার পাশে রেখে, ক্লান্ত শরীরটাকে এলিয়ে দিয়ে ঘুমের কোলে ঢলে পড়ল রিদিতা।
রাত তখন অনেকটাই গড়িয়েছে। বাইরের শহরটি এখন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর নিশুতি নীরবতায় নিস্তব্ধ। জিয়ানের ফ্ল্যাটের বেডরুমে কেবল ডিম লাইটের আবছা নীল আলো জ্বলছে।
প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৩৭
বিছানার মাঝখানে একটা কোলবালিশ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমে কাদা হয়ে আছে রিত্তিকা।
জিয়ান ফ্রেশ হয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে ধীরপায়ে ঘরে প্রবেশ করল। ঘরের আবছা আলোয় তার চোখ পড়ল বিছানার দিকে। দেখলো এলোমেলো ভাবে ঘুমিয়ে আছে রিত্তিকা।
