প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৪
রাত্রি মনি
ক্যালাব্রিয়া দুপুর ১২টা।
সূর্য তীব্র, কিন্তু সমুদ্রের নীল জলে তার আলো যেন সোনালি দাগ ফেলে। হালকা বাতাসে লবণ মিশ্রিত ঘ্রাণ, আর দূরে পাহাড়ি সবুজ ঢালগুলো যেন চুপচাপ চোখে বলছে—“এখানে মুহূর্তটা ধরে রাখো।” সমুদ্র তীরে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মৃদু শব্দ, এবং দূরে নৌকা হেঁটে যাচ্ছে, সব মিলিয়ে যেন সময় থেমে গেছে, শুধুই প্রেম আর নিঃশব্দ সৌন্দর্যের গল্প বলতে।
ঘরজুড়ে এক মায়াবী নিস্তব্ধতা, শুধু ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দ আর রিমের প্রশান্ত নিঃশ্বাসের ছন্দ। জেইনের বুকের উত্তাপে রিম ধীরে ধীরে তন্দ্রার অতলে তলিয়ে যায়, জেইনের মনে হয় এই মুহূর্তটা যদি অনন্তকাল স্তব্ধ হয়ে যেত! জেইন অত্যন্ত সতর্কতায়, যেন পৃথিবীর কোনো অতি ভঙ্গুর রত্ন আগলাচ্ছে, রিমকে নিজের বুক থেকে আলগা করে বিছানায় শুইয়ে দিতে চাইল। কিন্তু স্পর্শ শিথিল হতেই রিম ঘুমের ঘোরেই কুঁকড়ে উঠল, চোখ-মুখ কুঁচকে আরও শক্ত করে জাপ্টে ধরল জেইনের পেশিবহুল শরীরটা।
জেইনের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল। পরম মমতায় সে রিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো, যতক্ষণ না মেয়েটির নিঃশ্বাস ভারী আর ছন্দময় হয়ে আসে। রিম গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতেই জেইন তাকে আলগোছে তুলে নরম মখমলে বালিশে শুইয়ে দিল। ঝুঁকে গিয়ে তার ললাটে এঁকে দিল এক পবিত্র সিক্ত চুম্বন।
পরক্ষনেই মনে পড়ে, রিমকে দুপুরের খাবার খাওয়াতে হবে, ওষুধও খাওয়াতে হবে।কিন্তু উঠে দাঁড়াতে গিয়েই সে থমকে গেল। শার্টের নিচের দিকে একটা জোরালো টান। ফিরে তাকাতেই জেইনের হৃদপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়াল। রিম তার ছোট্ট মুঠোর ভেতর জেইনের শার্টের কোণাটা এমনভাবে আঁকড়ে ধরে আছে, যেন এটাই তার বেঁচে থাকার একমাত্র খড়কুটো। জেইনের চোখে এক অপার প্রশান্তি খেলে যায়। বুক ভরে ওঠে এক অদ্ভুত অনুভূতিতে।
সে আবারো বিছানার কিনারায় বসে রিমের দিকে ঝুঁকে পড়ল। অতি সন্তর্পণে একটি একটি করে আঙুল ছাড়িয়ে নিতে চাইল। কিন্তু অবচেতন রিম যেন এক অদৃশ্য ভয়ে জেইনের শার্টটা আরও সজোরে নিজের দিকে টেনে নিল।জেইন থেমে গেল। বুঝতে পারছে, যদি জোর করে হাত ছাড়াতে চায় তবে রিমের ঘুম ভেঙে যাবে। যেটা সে কখনোই চায় না। হঠাতই সেই আকস্মিক টানে জেইন ভারসাম্য হারিয়ে ফেলল।
মুহূর্তের ব্যবধানে জেইনের মুখ আছড়ে পড়ল রিমের মুখচ্ছবির একদম ওপরে। তার ঠোঁট ছুঁয়ে গেল রিমের ঠোঁটের কোণ। স্থবির হয়ে গেল সময়। রিমের তপ্ত নিঃশ্বাস জেইনের ঠোঁটে আর নাকে আছড়ে পড়ছে, আর সেই ঘ্রাণে জেইনের মস্তিষ্কের প্রতিটি স্নায়ু যেন অবশ হয়ে এল। তার বুক ধড়ফড় করতে শুরু করল, হৃদস্পন্দন যেন বুক ফুঁড়ে বাইরে চলে আসবে।
জেইনের শরীর ঝাঁকিয়ে দিল সেই অজানা তীব্রতা। মনে হচ্ছে বুকের কোথাও ধারালো এক যন্ত্রণা গেঁথে বসে আছে। সে সহ্য করতে পারছে না। নিজের ভেতরেই যুদ্ধ করছে। গলা শুকিয়ে গেছে, ঠোঁট ভিজে আসছে অজান্তে। চোখগুলো রক্তাভ লালচে, যেন অনিয়ন্ত্রিত তৃষ্ণায় জ্বলে উঠেছে।
তার হাত বিছানার চাদরে গিয়ে থেমে গেল, আঙুলগুলো চাদর খামচে ধরল জোরে। দাঁত দিয়ে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে রেখেছে। নিজেকে আটকে রাখতে হবে, এখনই ভেঙে পড়া যাবে না। কিন্তু শরীর আর মানতে চাইছে না।
নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল। সে ঘন ঘন নিশ্বাস টানছে, বুকের ভেতর যেন আগুন জ্বলছে। নিজের ভেতরের দহনকে সামলাতে না পেরে বিরক্তিতে চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করল,
“ধুর… অসভ্যটা… কিছুতেই শুনছে না…!”
মনে হচ্ছে বুকের ভেতর থেকে হৃদপিণ্ডের সাথে ওটাকেও কেটে ফেলে দেয়। কেন এভাবে পাগলের মতো লাফাচ্ছে?
তার কপালে ঘাম জমতে শুরু করেছে। শার্ট ভিজে যাচ্ছে দমচাপা উত্তাপে। আর থাকতে না পেরে কালো শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খুলে দিল সে। বুক ভরে বড় বড় শ্বাস টেনে নিল, যেন একটু হলেও শান্ত হওয়া যায়। কিন্তু শান্তি কোথায়! প্রতিটা নিশ্বাসেই রিমের গন্ধ, তার উষ্ণতা, তার অবচেতন স্পর্শ আরও তীব্র কামনার মতো জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
জেইনের চোখ অন্ধকারে দীপ্ত হয়ে উঠল। বন্য এক কামনার আগুন, কামুক আর নিয়ন্ত্রণহীন। তার ভেতরের সমস্ত বাঁধ ভেঙে যেন এক উন্মত্ত সাগর গর্জন করে উঠল। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ঘুমন্ত রিমের কোমল ঠোঁটে এক ঝটকায় চেপে ধরল নিজের তপ্ত ঠোঁট। শক্ত, বেপরোয়া এক চুমুতে যেন বুকের ভেতরে জমে থাকা সব দহন উগরে দিল।
রিম হঠাৎ ঘুমের মাঝেই ছটফটিয়ে উঠল, শরীরটা এদিক-ওদিক মোচড়াতে লাগল। কিন্তু জেইনের আগ্রাসন থামল না। বরং আরও তীব্র হলো। দাঁতে দাঁত চেপে শক্ত করে রিমের নরম তুলতুলে ঠোঁটটা নিজের মুঠোর মধ্যে ধরে রাখল।
ব্যথায় হঠাৎ ককিয়ে উঠল রিম। মুখটা যন্ত্রণায় কুঁচকে গেল। ওর চোখের কোণ বেয়ে উষ্ণ অশ্রু গড়িয়ে পড়ল, ভিজিয়ে দিল তার তুলতুলে গাল।
ঠিক তখনই জেইনের মস্তিষ্ক যেন বিদ্যুতের ঝটকায় সজাগ হয়ে গেল। যেন নিজের ভেতরের আগুনে ভস্মীভূত হতে বসেছে। ঝড়ের বেগে রিমের কাছ থেকে ছিটকে উঠে দাঁড়াল সে। বুক ওঠানামা করছে তীব্রভাবে, বড় বড় করে শ্বাস টানছে নিজেকে শান্ত করতে। কপালে ঘামের ফোঁটা জমেছে, মুখ থেকে শুরু করে কান অবধি টকটকে লাল হয়ে উঠেছে।
সে এক পলক তাকাল রিমের দিকে। মেয়েটা গভীর ঘুমে অচেতন। তার নিচের তুলতুলে ঠোঁটটা ফুলে লাল হয়ে উঠেছে, তার আগ্রাসনের চিহ্ন স্পষ্ট। মেয়েটার চোখের কোনেও জল জমে আছে। তার বুকের ভেতরে জমে গেল অদ্ভুত এক নেশা, গলায় শুকনো তৃষ্ণা জমে তাকে আরও পাগল করে তুলল।
অসহায় দৃষ্টিতে, যেন ছোট্ট শিশুর মতো অসীম আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাকিয়ে রইল রিমের ঠোঁটের নিচের সেই ক্ষুদ্র কালো তিলটির দিকে। ঠোঁট শুকিয়ে এল, গলা কেঁপে উঠল শুষ্ক ঢোকে, নড়ে উঠলো অ্যাডামস অ্যাপেল। নেশাভরা দৃষ্টি যেন তার সবটুকু সংযম ভেঙে ফেলছিল। ফিসফিস স্বরে বেরিয়ে এলো তার ভেতরের তৃষ্ণা
“ইমহ্ খাবোহ্… আই ওয়ান্না ইট ইউ…”
শব্দটা ঠোঁট ছুঁয়ে বেরোতেই নিজের শরীরের ওপর ঘৃণা ভর করল। শুষ্ক গলায় একটুখানি ঢোক গিলে নিল। বুকের আগুন যেন আরও ছড়িয়ে পড়ছে তবুও সে দাঁতে দাঁত চেপে সেই আগুন দমন করল। তারপর আর এক মুহূর্ত দেরি না করে, প্রায় পালানোর মতো তাড়াহুড়ো করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল জেইন।
রুম থেকে বেরিয়েই জেইন ভারী পায়ে ঠোক্কর খেতে খেতে দেয়ালে গিয়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়াল। বুক ধড়ফড় করছে এতটাই জোরে যে মনে হচ্ছে এখনই ফেটে যাবে। বড় বড় করে শ্বাস টেনে নিতে লাগল, কিন্তু তাতেও যেন ফুসফুস ভরছে না।
তার চোয়াল শক্ত হয়ে আছে, চোখ লালচে। রাগে নয়, দহন থেকে। নিজের মুষ্ঠি শক্ত করে গুঁটিয়ে ধরাম একবার দেয়ালে আঘাত করল। ঘামে ভিজে গেছে শরীর। কালো শার্টের বোতাম আরও দুটো খুলে দিল সে, তবুও উত্তাপ কমছে না।
চোখ বন্ধ করলেই ভেসে উঠছে রিমের ফুলে ওঠা লাল ঠোঁট… সেই কালো তিল… আর নিজের আগ্রাসনের চিহ্ন। তৃষ্ণায় পাগল লাগছে তাকে। ঠোঁট কামড়ে গলা শুকনো স্বরে বিড়বিড় করে উঠল,
“Why is this happening to me…? কেন তোমাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারছি না…”
বুকের ভেতর থেকে গর্জনের মতো শব্দ বেরোল। চুলের মুঠি চেপে ধরে মাথা নিচু করল জেইন। মনে হচ্ছে নিজের শরীরটাই বিশ্বাসঘাতকতা করছে। যা কিছু নিষিদ্ধ, তা নিয়েই তার আসক্তি।
তার কপাল বেয়ে ঘামের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে। ঘন ঘন শ্বাস নিতে নিতে হঠাৎ মেঝেতে বসে পড়ল। মাথা ঠেসে দিল ঠান্ডা দেয়ালে। কণ্ঠে হাহাকার মিশে ফিসফিস করে বলল,
“আই নিড ইউ… ব্যাডলি… লাইক ফায়ার নিডস অক্সিজেন… ইউ হ্যাভ নো আইডিয়া হাউ হাংরি আই অ্যাম ফর ইউ… আই ওয়ান্ট টু লুজ মাইসেল্ফ ইন ইউ।”
মুহূর্তের জন্য মনে হলো বুকের ভেতর থেকে হৃদপিণ্ডটা ছিঁড়ে ফেলে দেয়। কারণ সেটা তার কথা কিছুতেই শুনছে না।
চোখের চশমাটা খুলে টেবিলের ওপর রাখলো আলেসান্দ্রো। কাঁচের ফ্রেমের গ্লাসে আলো পড়তেই তাতে প্রতিফলিত হলো তার ক্লান্ত চোখের নিস্তেজ ঝিলিক। দেহের সমস্ত শক্তি যেন নিঃশেষ হয়ে গেছে, তবুও গা ছাড়া ভাব নিয়ে ভারী দেহটা ফেলে দিলো চেয়ারে।
আলো-অন্ধকারে ভরা বিশাল ল্যাবরেটরির ভেতর চারদিকে ছড়িয়ে আছে আধুনিক যন্ত্রপাতি, কাচের টিউবে জমাট বাঁধা অচেনা ভ্রূণ, আর রাসায়নিক তরল। তীব্র ওষুধের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে আছে, অথচ এই দুর্গন্ধ যেন তার কাছে পরিচিত ও স্বাভাবিক।
তার মুখটা স্থির, চোখে অদ্ভুত শূন্যতা ক্লান্তি, রাগ, নাকি বিদ্বেষ ঠিক বোঝা যায় না। নিজের উপরই প্রবল বিরক্ত সে। কপালের ভাঁজে জমেছে ব্যর্থতার দগদগে ক্ষত।
“এত চেষ্টা, এত পরিশ্রম… তবু কেন?”
ভেতরে ভেতরে যেন নিজেকেই গিলে খেতে চাইছে সে।
তার জীবনজুড়ে আছে অবিশ্বাস্য সব অর্জন। মানুষ পশু-পাখি থেকে শুরু করে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর জিন নিয়ে সে গড়েছে আজব, বিকট জন্তু। প্রকৃতিকে অমানবিকভাবে বদলে দেওয়া, অপ্রাকৃত সৃষ্টি করা এসব তার কাছে গর্ব। কখনো তাকে ব্যর্থ হতে হয়নি, কখনো “অক্ষম” শব্দটা তাকে স্পর্শও করেনি। কিন্তু এই এক প্রকল্প… এই একটিমাত্র প্রয়াসই বারবার তাকে হাঁটু গেড়ে ফেলছে।
ল্যাবের বিশাল গ্লাস ট্যাঙ্কের দিকে তাকাল সে। সেখানে ভাসছে কত মৃতদেহ, কত অচল শিরা-উপশিরা। মানুষগুলো তার কাছে কেবল পরীক্ষার উপাদান। অসহায় নারী-পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ কেউ তার চোখে মানুষ নয়। তার কাছে তারা এই বিশাল মহাবিশ্বের নোংরা আবর্জনা। পরগাছার মতো জন্ম নেওয়া ক্ষুদ্র প্রাণী।যাদের শ্বাস কেবল পৃথিবীর পবিত্র বায়ুকে দূষিত করে।
কিন্তু এবার… এবার তার প্রয়োজন অন্য কিছু। প্রাপ্তবয়স্ক শরীর নয়, শিশু নয় এবার তার চাই ভিন্ন কিছু। একটা হেলদি ভ্রূণ। এক মাসের বেশি বয়স নয়। ডিএনএ অবশ্যই মানুষের, কিন্তু সেই রক্তকণিকায় থাকবে পশুর মতো হিংস্রতা, অদম্য বন্যতা। কিন্তু পৃথিবীর কোন কোণে লুকিয়ে আছে সেই দুর্লভ রক্ত? সে চেয়ারে হেলান দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
“কোথায়… কোথায় পাবো আমি সেই রক্ত?”
হঠাৎ আলেসান্দ্রোর ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে এক কুটিল, বিকৃত হাসি জন্ম নিলো। ঘরের অন্ধকার যেন আরও ঘনীভূত হলো সেই হাসির সঙ্গে। মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে লাগলো শয়তানি চিন্তা,
“আমি আবিষ্কার করবো সেই দ্রবণ, যা মৃত মানুষকেও জীবিত করে তুলবে। তখন আমিই হব ঈশ্বরের ঊর্ধ্বে। স্বয়ং ঈশ্বর নতজানু হবে আমার সামনে। তার রাজত্ব ভেঙে আমি শাসন করবো পুরো ইউনিভার্স।”
কিন্তু তার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য যে ডিএনএ প্রয়োজন,
সেটা একজনের কাছেই লুকিয়ে আছে। একজন মানুষ আছে, যার হিংস্রতা গভীর সমুদ্রের ঘূর্ণিঝড়ের থেকেও ভয়ংকর। একজন, যার রক্তে বহমান শিকারীর নেশা আর হত্যাকারীর উন্মাদনা। আলেসান্দ্রোর ঠোঁট বাঁকা হয়ে উঠল। চোখে ঝিলিক খেল দমবন্ধ করা শীতল আলো।
“সেই রক্ত আছে…. এই পৃথিবীতেই। সে আর কেউ নয়, আমারই রক্ত। আমারই একসময়ের ভাই… বন্ধু… আর আজকের সবচেয়ে বড় শত্রু।”
আলেসান্দ্রোর চোখে ভেসে উঠলো সেই মুখ। হৃদস্পন্দন যেন থেমে গেল মুহূর্তে। সে রহস্যময়ী ভাবে ঠোঁট বাঁকিয়ে ফিসফিস করে বললো,
“I know where the DNA is. শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা।”
আলেসান্দ্রো হঠাৎ চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলো। কাঁচের দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে। প্রতিচ্ছবির চোখ দুটো লালচে, ভেতরে যেন সমুদ্র গর্জে উঠছে। বাইরের শহরের উপর নেমে এসেছে লালচে আভা, যেন রক্তে রাঙানো কোনো ভৌতিক আবরণ।
সে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।চোখে জ্বলে উঠলো অদ্ভুত এক উন্মাদনা।
তার ঠোঁটে জন্ম নিলো বাঁকা হাসি। আর মুহূর্তেই সেই হাসি ফেটে পড়লো এক ভয়ংকর, হাড় কাঁপানো অট্টহাসিতে। অট্টহাসির প্রতিধ্বনি কাঁপিয়ে দিলো পুরো ল্যাবরেটরি। যেন মৃতদেহগুলোও কেঁপে উঠলো ভেতরে ভেতরে। যে কোনো মানুষ এই হাসি শুনলে তার শরীর দিয়ে শীতল স্রোত বইয়ে যাবে, মেরুদণ্ড অবশ হয়ে আসবে ভয়ে।
আর সেই হাসির মাঝেই আলেসান্দ্রোর চোখে ঝিলিক দিলো প্রতিশোধের শিখা।
“হ্যাঁ… সেই রক্তই হবে আমার অমরত্বের সূত্র।”
তারপর চোখ নামিয়ে নিচু কন্ঠে ফিসফিস করে বললো,
“আমি….আমি তোমাকে ফিরিয়ে আনবো মাই লাভ।”
ক্যালাব্রিয়া , পেন্টহাউজ
রান্নাঘরের নীরবতা ভেদ করে জেইনের উপস্থিতি যেন অদ্ভুতভাবে ঘন হয়ে উঠল। আলো-আঁধারি ঘরটায় সাদা আলো পড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে স্টিলের কাউন্টারে। সে নিঃশব্দে হাতা গোটালো। বুকের ভেতর ফু দিয়ে বড়বড় করে নিঃশ্বাস টেনে অদ্ভুত শান্তভাবে নিজের ধৈর্যকে গুছিয়ে নিল।
ফ্রিজ খুলে একে একে বের করতে লাগল ফলমূল টাটকা ডালিম, রসালো স্ট্রবেরি, সবুজ আপেল, আঙুর। তারপর রান্নাঘরের ছুরি হাতে নিল। প্রতিবার ছুরি চালানোর সাথে সাথে ব্লেডের ঠকঠক শব্দ যেন তার দমিয়ে রাখা কামনাকে কেটে ফেলার মতো বাজছিল। অথচ তার হাতের স্পর্শ ছিল ভীষণ কোমল, মমতায় ভরা। তখন হঠাৎ রান্নাঘরের ডিজিটাল কল সিস্টেমটা টুং করে বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল ইয়াশের মুখ। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে উঠল সে,
“এ কি? এ আমি কি দেখছি! তুই, আর রান্নাঘরে? ইজ ইট আ জোক?”
ছুরিটা থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত গলায় বলল জেইন,
“কি বলার জন্য কল করেছিস সেটা বল।”
ইয়াশ সন্দেহভাজন দৃষ্টিতে তাকালো অভিমানী স্বরে বলে উঠল,
“বাহ রে বাহ! বউয়ের জন্য এত কিছু! কই আমাদের জন্য তো কোনদিন একটু কষ্ট করে কিছু বানালি না?”
জেইনের ঠোঁটের কোণ শক্ত হয়ে গেল। চোখে ঝিলিক খেলল বিরক্তির,
“আমার বউয়ের জন্য আমি বানাচ্ছি তাতে তোর বাপের কি? ইঁদুরের বাচ্চা!!! বিরক্ত করবি না একদম।”
ইয়াশ এক গাল হেসে বলল,
“বাপেরই তো অনেক কিছু! আমার বাপ তো তুই। তাহলে কি আমি তোকে ইঁদুর ধরে নিব?”
জেইন ছুরি নামিয়ে চাপা নিঃশ্বাস ফেলল, চোখে মুখে রাগ স্পষ্ট। সে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
“দেখ, আমার হাতে সময় নেই। খুব ইম্পরট্যান্ট কাজ করছি। মনোযোগ নষ্ট করিস না। যা বলার তাড়াতাড়ি বল।”
ইয়াশ হঠাৎ মুখ গম্ভীর করে ফেলল। তারপর বাঁকা হাসি নিয়ে উৎসুক কন্ঠে বললো,
“ভিডিওটা ওর কাছে পৌঁছে গেছে। এতক্ষণে নিশ্চয়ই বেচারা বড়সড়ো একটা শক খেয়েছে। হয়তো বুঝতেই পারছে না ভিডিওতে আসলে কে আছে।”
ছুরির ধার টেবিলে ঠক করে বাজল। জেইনের ঠোঁটে বাঁকা, শীতল একটা মুচকি হাসি ফুটল যেটা ভূতের মত ভয়ংকর।
“ইডিয়েট…! ও হয়তো জানেই না কার সাথে পাঙ্গা নিতে এসেছিল। মাদার ফা**”
কণ্ঠ ঠান্ডা কিন্তু হাড় কাঁপানো। তারপর হালকা হেসে মাথা নাড়ল,
“যাই হোক… এখন আমার অনেক কাজ। তুই ফোন রাখ।”
“ড্রেভেন আর ডাইসুকিকে মেরে ফেলা হয়েছে। শুনেছিস?”
জেইন এক মুহূর্ত থেমে বললো,
“হ্যাঁ, এই নিয়ে তোর সাথে পরে কথা হবে। রাখ এখন।”
কথা শেষ করে স্ক্রিন অফ করল। আবার ছুরি হাতে তুলে নিল। স্ট্রবেরি গুলো অর্ধেক কেটে নিখুঁতভাবে সাজাল সাদা প্লেটে। আঙুরগুলো আলাদা করে ধুয়ে রাখল ক্রিস্টাল বাটিতে। সবুজ আপেলের খোসা ছাড়িয়ে পাতলা স্লাইস করল এমন যত্নে, যেন প্রতিটি টুকরোয় সে নিজের হৃদয়ের কোমল অংশ কেটে দিচ্ছে রিমের জন্য।
এরপর কমলার ফালি গুলো ব্লেন্ডারে ফেলে, সাথে ডালিমের দানা মিশিয়ে এক গ্লাস তাজা জুস বানালো। কোনো চিনি নয়, কোনো কৃত্রিম স্বাদ নয় শুধু প্রকৃতির খাঁটি মিষ্টতা। পাশে ওটস আর কয়েকটা বাদাম রাখল ছোট্ট সেরামিক বাটিতে।
ট্রে সাজাতে সাজাতে তার চোখে ভেসে উঠল ঘুমন্ত রিমের চেহারা। ঠোঁটে চাপা হাসি ফুটল। খাবারের ট্রে তুলে নিয়ে সে ধীরে ধীরে পা বাড়ালো রিমের ঘরের দিকে।
জেইন আস্তে করে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো। হাতে খাবারের ট্রে। নিঃশব্দে টেবিলে রেখে এক পলকে চোখ গেলো বিছানার দিকে। রিম ঘুমাচ্ছে। নিস্তব্ধ, শান্ত, স্বস্তিময় নিঃশ্বাস তার বুক ওঠা-নামার সঙ্গে মিলেমিশে যেন এক মায়াবী সুর তৈরি করছে।
জেইনের পা থেমে গেল। চোখ আটকে রইলো শুধু তার মুখে। কি এমন আছে এই চেহারায়… যেখানে লুকানো তার পৃথিবীর সমস্ত সুখ? কেন এই মুখটা দেখলেই তার ভেতরে গড়ে তোলা কঠিন দেয়ালগুলো ধুলোয় মিশে যায়? কেন তার অস্থির মহাবিশ্ব এক নিমিষেই শান্ত হয়ে আসে?
ধীরে ধীরে বিছানার কাছে গিয়ে ঝুঁকল সে। রিমের কপালের কাছে অবাধ্যভাবে ঝুলে থাকা একগুচ্ছ চুল আঙুলের ডগা দিয়ে সরিয়ে দিল ভেলভেটের মতো নরম স্পর্শে। কত স্নিগ্ধ আর সরল সেই ঘুমন্ত মুখ।জেইন একদৃষ্টিতে নেশাক্ত চোখে তাকিয়ে থাকল। সময় যেন থেমে গেলো সেই মুখের চারপাশে। এই মুখটা এত মায়াবী কেন? কেন প্রতিবার দেখলেই তার বুকের সব ঝড় থেমে যায়? জেইনের নেশাসক্ত দৃষ্টি ধীরে ধীরে নিচে নেমে এল। বুকের ওপর থেকে কম্ফোরটারটা সামান্য সরে গেছে। লাল কামিজের চওড়া গলার ফাঁক দিয়ে দৃশ্যমান হলো রিমের সুডৌল বক্ষবিভাজিকা।
মুহূর্তেই জেইনের শিরদাঁড়া দিয়ে এক তীব্র দহনের স্রোত বয়ে গেল। বুকের ভেতর চাপা আগুন জ্বলে উঠলো তার।গলার ভেতরটা মরুভূমির মতো খাঁ খাঁ করে উঠল, নিঃশ্বাস হয়ে এল ভারী আর অগোছালো। চোখ ঘোলাটে। বিছানার চাদরটা দু-হাতে খামচে ধরল সে। ঠোঁট হালকা ফাঁক হয়ে এলো। সেই পিচ্চি মেয়েটা কবে এতো বড়ো হলো? যে তার নিমটাও ঠিক করে উচ্চারণ করতে পারতো না। কতটা নিষ্পাপ ভঙ্গিতে তুলতুলে ছোট ছোট ঠোঁট নাড়িয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলতো, ‘আলাতলো তুমি আমাল তাতে তাকবেতো তালাজীবন? আমলা একতাতে পুলো পিতিবি ঘুলবো’ ।
হঠাৎ তার স্বাস আটকে এলো গলায়। বুকের ভেতর কেমন যেন তীব্র যন্ত্রণা অনুভব হচ্ছে। কিন্তু কেন? মেয়েটা তো তার কাছেই আছে। যখন দুরে ছিল যন্ত্রণায় ছটফট করছে। কিন্তু এখন… এখন তো মেয়েটা তার কাছে আছে, তার চোখের সামনে। তবুও এতো দহন কেন? সে সবসময় চায় রিম তাকে ঘৃণা করুক। কিন্তু এখন হঠাৎ করেই রিমের সেই ঘৃণা সেই দুরত্ব তার বুকের ভেতরটা জ্বালিয়ে দেয়। তাহলে কি সে রিমের এই তীব্র ঘৃণা আর সহ্য করতে পারছে না? সে কি চায় মেয়েটা তাকে ভালোবাসুক? না না কখনোই না! ভালোবাসা মানে শুধু ছলনা। সে এ জীবনে কোনদিন রিমকে জানতেই দিবে না যে সেই তার আরাত্র!
তার নজর কোনো এক অদৃশ্য টানে আটকে আছে, রিমের বক্ষের সেই কোমল জায়গায়। চাইলেও নিজের দৃষ্টি ফেরাতে পারছে না। সে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারে না এক ঝটকায় মাথা নিচু করে মুখ ডুবিয়ে দিল রিমের ব*ক্ষের মাঝে। প্রথমে গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে ভরিয়ে নিলো নিজের ভেতর সেই বিমোহিত নেশাক্ত ঘ্রাণ। তারপর ধীরে ধীরে, অবচেতন মনেই তার ঠোঁট ছুঁয়ে দিল রিমের উন্মুক্ত ত্বক। ছোট ছোট, সিক্ত আর তৃষ্ণার্ত চুম্বনে সে রাঙিয়ে দিতে লাগল চারপাশ।
রিম ঘুমের ঘোরেই শিউরে উঠল। তার শরীর এক অজানা শিহরণে মোচড় দিয়ে উঠল। ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এল এক অস্ফুট, আবেগী গোঙানি।
সেই শব্দ জেইনের ভেতরের সুপ্ত আগ্নেয়গিরিতে যেন ঘৃতাহুতি দিল। সে নিজের শরীরের সমস্ত ভার নিয়ে রিমের ওপর ঝুঁকে পড়ল। জেইনের প্রশস্ত আর কঠিন বুকের চাপে পিষ্ট হয়ে রিম চোখ বন্ধ রেখেই এক যন্ত্রণাবিদ্ধ শ্বাস ছাড়ল,
“আহ্…”
জেইনের ঠোঁট থামলো না। রিমের গলা, ঘাড়, বুক, যেন এক তৃষ্ণার্ত মানুষ মরুভূমিতে পানি খুঁজে পেয়েছে, সে তেমনি ক্ষুধার্ত চুমুতে ভরিয়ে দিচ্ছে তাকে। রিম তার শরীরের ভারে ভেজা ঠোঁটের স্পর্শে কেঁপে উঠলো ব্যথায়। মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে অস্পষ্ট গোঙানির আওয়াজ।
জেইন এক মুহূর্তের জন্য থামলো। ঘন ঘন শ্বাস টেনে নিজেকে শান্ত করে নিলো। তারপর ঠোঁটে আঙুল চেপে ধরে হুইস্কির মতো গাঢ় আর গা শিরশির করা কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে উঠল,
“শুহহহ্ ডিস্টার্ব করো না সোনা… আদর করছি তো।”
জেইন আরও শক্ত করে তাকে চেপে ধরলো। রিম এবার ছটফটিয়ে উঠলো। চোখের কোণে জল চিকচিক করছে। তার ফিসফিস কণ্ঠ ভাঙা, কাঁদো কাঁদো। ব্যথায় ককিয়ে উঠলো সে,
“আহহ্… উঠুন না… আপনি খুব ভারী… ব্যথা পাচ্ছি তো…”
জেইনের মুখে ভর করলো বিরক্তি। যেন কেউ তার সবচেয়ে মহৎ কাজে বাধা প্রদান করছে। সে চোখ-মুখ কুঁচকে রূঢ় গলায় ফিসফিস করে উঠল
“উফফ্ সোনা… এত ছটফট করো কেন? একটু শান্ত থাকো না… আরাম পাচ্ছি তো।”
রিম ভ্রু কুঁচকালো। আধোঘুমে চোখ মেলে ধরতে চাইলেও ক্লান্তি আর জেইনের স্পর্শের মাদকতা তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল।সে চোখ খুলে রাখতে পারল না। তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছিল, অথচ জেইনের ছোঁয়া আরও অস্থির হয়ে উঠছিল প্রতি মুহূর্তে।
সে রিমের শরীর জুড়ে মুখ ডুবিয়ে দিলো। একেকটা চুমু যেন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে ঘাড় থেকে বুকের কাছে। জেইন রিমের কামিজের হাতাটা কাঁধ থেকে নামিয়ে দিয়ে নিজের জন্য আরও একটু জায়গা করে নিল নিজের জন্য। তারপর বক্ষের ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে ক্ষুধার্ত কণ্ঠে ফিসফিস করল
“তোমার শরীর এত তুলতুলে কেন, বলতো? তুমি কি তুলো খাও নাকি?”
তার নিঃশ্বাসে কাঁপন। সে শুষ্ক ঢোক গিলে ঠোঁট ভিজিয়ে আঠালো গলায় ফিসফিসিয়ে বললো,
“উফ্… ইচ্ছে করছে কামড়ে খেয়ে ফেলি। কিন্তু না… একেবারে খেয়ে শেষ করার মজা নেই। একটু একটু করে, আস্তে আস্তে খেয়ে শেষ করব তোমাকে। তোমার শরীরের প্রতিটা অংশে, প্রতিটা শিরায় রেখে দেবো আমার ছাপ। যাতে তুমি যতবার আয়নায় নিজেকে দেখো শুধু আমাকেই মনে পড়ে।”
রিম জেইনের এহেন কথায় আধোঘুমের ঘোরেই কেঁপে উঠল। শ্বাস-প্রশ্বাস হঠাৎ ভারী হয়ে এলো। হাতগুলো অজান্তেই চলে গেল জেইনের চুলে, যেন নিজেকে সামলানোর, একটু স্বাচ্ছন্দবোধ করার নিছক চেষ্টা। কিন্তু শরীর অচেতনভাবে তার দিকে ঝুঁকে গেল, অথচ মন বারবার চেষ্টা করল দূরে সরবার।
জেইন তার এই দুর্বল অবস্থা দেখে ঠোঁটের কোণে ক্রুর হাসি খেলাল। থুতনিতে ঠোঁট দিয়ে হালকা শোষন করে, চুমুর ছোঁয়া দিয়ে ফিসফিস করে আঠালো গলায় বলল,
“এতোটুকুতেই বেসামাল হয়ে যাচ্ছ? এখনো তো অনেক কিছু বাকি সোনা। তোমাকে তো খাওয়া শুরুই করিনি। যখন শুরু করব, তখন কী করবে? শুধু শ্বাস আটকে থাকবে নাকি আমাকে পুরোপুরি নিজের মতো অনুভব করবে?”
তার প্রতিটা বাক্য যেন অচেতনভাবে রিমের শরীরে গলে গলে ঝলসানো আগুনে পরিনত করছে। অচেতনেই শরীরটা শিউরে উঠছে।
জেইন আরও ধীরে, আরও মনোযোগ দিয়ে তার দিকে ঝুঁকল। মুখ ডুবিয়ে দিল রিমের ঘাড়ের কাছে সেই কালো তিলটায় একটা গভীর চুম্বন, ঘাড় থেকে নিচে নামতে লাগলো চুমুর কোমল স্পর্শে। ধীরে ধীরে ঠোঁট নামল বুকের কাছে। চুমুর মধ্যেই মাঝে মাঝে চোখ উঠিয়ে রিমের প্রতিক্রিয়া গুলো দেখে উপভোগ করছে।
রিম এখনও ঘুমের ঘোরে। কিন্তু প্রতিটি স্পর্শে কুঁচকে উঠছে। শ্বাস কাঁপছে, হাত অনিচ্ছাকৃতভাবে জেইনের দিকে চলে যাচ্ছে। সে যেন নিজেকে সামলাতে চায়, কিন্তু শরীরের নিয়ন্ত্রণ বাইরে চলে গেছে।
জেইন তার কাজ খুব মনোযোগ দিয়ে করতে থাকলো। তার ঠোঁট, চোখ, স্পর্শ সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে রিমের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি শিহরণ খুঁজে পাচ্ছে। জেইন এবার ধীরে ধীরে নিচে নামতে লাগল। তার চুম্বনের রেশ বুক থেকে নেমে এল নাভির দিকে। সে আলতো হাতে রিমের কামিজটা পেটের ওপর তুলে ধরল। উন্মুক্ত হলো এক মসৃণ, শ্বেতশুভ্র কেন্দ্রবিন্দু। জেইনের চোখ নেশার মত জ্বলে উঠলো। গলা শুকিয়ে এলো। সে ঢোক গিলে ভিজিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু তার তৃষ্ণা বাড়তেই থাকলো। সে এক ঝটকায় মুখ ডুবিয়ে দিলো সেই কোমল চাঁদের দাগে। পরপর ছোট ছোট চুমু, তার প্রতিটা স্পর্শেই যেন কুঁকড়ে উঠলো রিম। হঠাৎই জিভ দিয়ে স্পর্শ করতেই ঝাঁকুনি দিয়ে ঘুম থেকে উঠে বসে পড়লো রিম। হাঁপাতে হাঁপাতে বড় বড় করে শ্বাস টেনে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলো। সামনে দিয়ে তাকাতেই মুহূর্তেই জেইনের মুখ দেখে চোখ দুটো আগুনের মতো জ্বলে উঠলো। ক্রোধে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো,
প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৩
“আপনার সাহস কি করে হলো আমাকে ছোয়ার? আপনার স্পর্ধা তো কম নয়! দূরে থাকুন আমার থেকে। নয়তো আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না। আপনার কোনো অধি…”
তার কথা শেষ করার আগেই জেইন শয়তানি হেসে গভীর চাপা কন্ঠে কৌতুক করে বললো,
“আ….আ… সোনা। ভুলেও এ কথা উচ্চারণ করো না। কারণ তোমার আর তোমার শরীর দুটোর ওপর’ই এখন শুধু আমার অধিকার। তোমার আত্মা তোমার শরীর সম্পূর্ণটাই আমার। তুমি ধর্মীয়ত আমার, আইনত আমার, শুধু আমার।
