প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১
উম্মে হাবিবা
~~”আপনার না ভাইয়ের বিয়ে তাহলে আপনি আমার বাসর ঘরে কি করছেন?
বাসর ঘরে বসে আপন ভাবনায় ডুবে ছিলো সোহা। হঠাৎ তার ভাবনার বেগাত ঘঠিয়ে ভেসে এলো এক গুরুগম্ভীর কন্ঠ।
আজ না আপনার ভাইয়ের বিয়ে, তাহলে আপনি আমার বাসর ঘরে কি করছেন ।
সোহার মনে হলো কন্ঠ টা কেমন চেনা চেনা। এমন করলা কন্ঠের অধিকারী মানুষটাকে দেখার জন্য সামনে তাকাতেই ৪০৭ ভোল্ট এর কারেন্টের ঝটকা খায় সোহা। তার সামনে স্বয়ং রুদ্র মেহতাব দাঁড়িয়ে।কলেজের সব চেয়ে গম্ভীর, হ্যান্ডসাম আর সবথেকে কড়া মেজাজের স্যার দাঁড়িয়ে আছে।
তার মনে পড়ে যায় গত দুই দিন আগের কথা_____
ফ্লাসব্যাক_______!
স্যার আমার দশ দিনের ছুটি লাগবে।
কারণ?
আসলে স্যার আমার ভাইয়ের বিয়ে তো তাই।
বিয়ের জন্য দশ দিন? কলেজ টা কি আপনার দাদার যে আপনি যখন তখন যে কোনো বাহানায় ছুটি নিবেন? গত মাসেও আপনি কাজিনের বিয়ের কথা বলে পাঁচ দিন ছুটি নিয়েছেন। এখন আর কোনো ছুটি পাবেন না। আপনি আসতে পারেন।
স্যার প্লিজ স্যার এইবার লাস্ট আর চাইবো না স্যার প্লিজ।
রুদ্র এবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো সোহার দিকে। মুখ দেখে মনে হচ্ছে না মিথ্যে বলছে।
ঠিক আছে আপনাকে ৩ দিনের ছুটি দেয়া হলো।
মাত্র তিন দিন স্যার আসতে যেতেই তো তিনদিন চলে যাবে।
তা আপনার ভাই কি মঙ্গলগ্রহে বিয়ে করছে যে দশ দিন ছুটি লাগবে।
রুদ্রের রাগী আর গম্ভীর কন্ঠস্বর শুনে সোহা কিছুটা ভয়ে পেয়ে যায়।
ভয়ে ভয়ে বলে__
স্যার আর একটু বাড়িয়ে দেয়া যায় না।
ঠিক আছে পাঁচ দিন, আর কোনো কথা না এবার আপনি আসতে পারে৷
রুদ্রের সাথে আর কথা বাড়ানোর সাহস পায় না সোহা। পাঁচ দিন যে ছুটি দিয়েছে এটাই বেশি।
মাথা নিচু করে চুপচাপ বেরিয়ে যায়। আর বিরবির করে রুদ্রের বংশ উদ্ধার করতে থাকে।
তেতো করলা একটা,, আপনি জীবনেও বউ পাবেন না,, আর বউ পেলেও একদম ডাইনি কটকটি পেকাটি মার্কা বউ পাবেন।
ফ্লাসব্যাক ফ্ল্যাশব্যাক এইন্ড।
কি হলো কথা বলছে নাকেনো?
ভাবনা থেকে ফিরে আসে সোহা।
স,,স্যা,,স্যার আপনি এখানে?
আমার রুমে বসে আমাকেই জিজ্ঞেস করছো আমি এখানে কেনো?
আ,আপনার রুম মানে? আপনি নিশ্চয়ই মজা করছেন।
মিস সোহা ওহ সরি সরি মিসেস সোহা আপনার সাথে কি কোনো কালে আমার মজার সম্পর্ক ছিলো?
না মানে স্যার আসলে __
আগে আমার কথার উত্তর দিন মিথ্যা বলে ছুটি নিয়েছেন কেনো?
নিজের বিয়ের কথা বলতে লজ্জা লাগে তো তাই।
নিজের স্যারকে বিয়ে করতে আপনার লজ্জা করলো না?
আপনার লজ্জা করলো না নিজের ছাত্রী কে বিয়ে করতে।
এই পাঁচ আঙ্গুলে মেয়েকে এইভাবে কথার উত্তর দিতে দেখে রাগে ফর্সা মুখ খানা লাল হয়ে আসে রুদ্রের।
জাস্ট সেট আপ, আপনি কিন্তু এখন বেয়াদবি করছেন।
আর তাছাড়া আমি জানতাম নাকি বিয়েটা আপনার সঙ্গে হচ্ছে?
আচানক ধমকে ভয় পেয়ে যায় সোহা। কিন্তু তা প্রকাশ না করেই বলে __
তো আমি মনে হয় আগে থেকে জানতাম! প্রয়োজনে সারা জীবন বিয়ে না করে থকতাম তাও আপনাকে বিয়ে করতাম না।
রুদ্র রাগ নিয়ে এগিয়ে আসে সোহার দিকে।
ভয় পেয়ে সোহা ও একটু পিছিয়ে যায়।
রুদ্র একদম সোহার মুখের কাছে এসে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরত্ব রেখে ঠান্ডা কিন্তু অত্যন্ত কঠিন কণ্ঠে বলে____
নিজের লিমিটে থাকুন মি_সে_স সোহা। নয়তো পরে যা হবে আপনি ভাবতেও পারবেন না।
সোহা চোখ খিচে বন্ধ করে আছে। হঠাৎ দরজা বন্ধের শব্দ চোখ মেলে তাকায়। বুঝতে পারে রুদ্র ওয়াসরুমে গিয়েছে,, হয়তো ফ্রেস হতে।
সোহা যে যেনো হাপ ছেড়ে বাঁচলো, কপালে,নাকে আর ঠোঁটের নিচে মুক্তোর মতো জ্বলতে থাক থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম টুকু মুছে নেয় হাত দিয়ে।
বুকে হাত দিয়ে জোরে নিশ্বাস নেয়।
জোর বাঁচা বেঁচে গেছি আজ। এখন তো নিজের মাথা নিজেই পাটাতে ইচ্ছে করতেছে কেনো বিয়ের আগে ছবিটা দেখলো না। দেখলেতো আজ এমন দিন দেখতে হতো না। সবই কপাল উফ আর ভাবতে পারছি না।
জেদের বসে নেয়া সব সিদ্ধান্তই ভুল হয়।
