উপসংহারে তুমি পর্ব ১০
রুহানিয়া ইমরোজ
সৃষ্টিকর্তার লীলাখেলা বোঝা বড় দায়। পোড়া কপালির কথাগুলো কীভাবে যেন মিলে যায় আজ৷ মাত্র ঘরে ফিরে রিল্যাক্সে বসেছিল নাওয়াফ। এমন সময় হুট করে কল আসে তার ফোনে৷ রিসিভ করে কানে ধরতেই অপর পাশের জন ভীষণ হুড়োহুড়ি করে আতংকের সহিত বলে,
–” সর্বনাশ হয়ে গেছে স্যার। স্কুল বাসে বোমা ছিল৷ দ্বিতীয় স্টপেজে গিয়ে থামতেই ব্লাস্ট হয়ে যায় সেটা। কাউকে বাঁচানো যায়নি। জলদি আসেন আপনি।
কথাটুকু শুনে মূর্তিবনে যায় নাওয়াফ। কিয়ৎকাল ওমনই রোবটের মতো বসে থাকে। কল অব্দি কাটে না৷ তার মস্তিষ্ক তখনও প্রসেস করতে পারে না সদ্য শোনা নিউজটা। পরপরই যখন আরেকবার ফোন কেঁপে উঠে আপকামিং কলের জন্য তখন টনক নড়ে নাওয়াফের। কলের পুতুলের মতো ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে সে। অপর পাশ থেকেও ঠিক একই নিউজ আসে কিন্তু কেনো জেনো সেটা একটুও বিশ্বাস হয় না নাওয়াফের।
কীভাবে হতে পারে এমন? মাত্রই তো দিয়ে আসলো বাচ্চাটাকে৷ এখনো ওর বাহুবন্ধনে লেপ্টে আছে নাফিমের ছোঁয়া। এইটুকু সময়ের মধ্যে কীভাবে এত বড় বিপদ ঘটতে পারে? নিশ্চয়ই নাফিম দুষ্টুটা হোস্টেলে যাওয়ার ভয়ে এসব বলাচ্ছে। এসব ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে চাইল নাওয়াফ। অথচ তার বুক কাঁপছে সন্তান হারানোর শঙ্কায়।
অনবরত ফোন বেজে চলেছে তার কিন্তু রিসিভ করতে মন চাইছে না। কীসব বাজে নিউজ দিয়ে শঙ্কিত করে তুলছে সবাই। নাহ্ আর পারা গেলো না।নাওয়াফ বাধ্য হয়ে সিধান্ত নিলো, দিবে না নাফিমকে হোস্টেলে। আপাতত বাসায় নিয়ে আসবে। ছেলেটা একটু বড় হলে তখন দেখা যাবে।
যে-ই ভাবা সেই কাজ। পাথর কঠিন নাওয়াফ এই প্রথম সিধান্ত পাল্টছে তাও আবার ইমোশনাল হয়ে। অবিশ্বাস্য ব্যপার। এটা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই নাওয়াফের উল্টো নাফিমকে কীভাবে চমক দিবে সেই চিন্তা করতে লাগলো। কিছু একটা মনে পড়তেই দিশেহারা গলায় ডাকল নাওয়াফ ,
–” চিত্রলেখা? এই নাফির মাম্মাম.. জলদি বের হও তো। আমার ছেলে ডাকছে তোমায়। ওকে পিক করতে যাব আমরা।
বাসায় পৌঁছে ঘরে ঢুকে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল চিত্রা। আচমকা নাওয়াফের বলা কথাগুলো ওর কানে পৌঁছাতেই লাফ মেরে উঠে বসে ও। সত্যি শুনছে কি-না সেটাও একবার চেক করে। না ভুল হয়নি ; ঠিকই শুনেছে। ব্যপারটা উপলব্ধি হতেই খুশিতপ ডগমগিয়ে উঠে চিত্রার মন। কোনো প্রশ্নোত্তর পর্বে যায় না ও। চোখমুখ মুছে ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়ায় কেবল।
সর্বদা শান্ত থাকা নাওয়াফ আজ চরম অধৈর্য্যবান। উদ্ভট বিহেব করছে ও। নাওয়াফের হুলুস্থুল কর্মকান্ড দেখে হতবাক চোখে তাকায় চিত্রা। কিছু বলার পূর্বেই তার হাত টেনে ধরে জোর কদমে হাঁটতে থাকে নাওয়াফ। চিত্রা হকচকিয়ে যায়। অস্ফুটস্বরে বলে,
–” ক্ কী করছেন। হাঁটছি তো। আপনি আগে চলুন আমি আসছি..
নাওয়াফ অধৈর্য গলায় জবাব দেয়,
–” এত সময় নেই হাতে। নাফিম অপেক্ষা করছে। কে জানে কী অবস্থা আমার বাচ্চাটার।
চিত্রা বুঝল, নাফিম হয়তো কান্নাকাটি করছে। তার মনটা ভার হয়ে গেলো আকস্মিক। সাময়িক দূরত্ব মানতে পারছে না। ক’দিন পর তো পুরোপুরি দূরে চলে যাবে। তখন?
জবাব জানা নেই। এসব নিয়ে ভাবতেও চায় না চিত্রা৷ বর্তমান মুহূর্তটুকু উপভোগ করতে চায় ও। ভবিষ্যতে কী হবে দেখা যাবে। এসব ভাবনার মাঝেই গাড়িতে উঠে বসে তারা। আজ নাওয়াফ ড্রাইভিং সিটে বসেনি উল্টো ড্রাইভার নিয়েছে। আর ক্রমেই তাকে তাড়া দিচ্ছে ফাস্ট চালানোর জন্য। চিত্রা বুঝল না কিছু। নাওয়াফের এই ছটফটে ভাবটা হজম করতে কষ্টই হলো তার। মনে প্রশ্ন জাগলো, হুট করে কী হলো লোকটার? সাময়িক দূরত্বের বিরহে এই দশা নাকি?
কে জানে? তবে চিত্রার কিছু ভালো লাগছে না৷ নাফিমটাকে বুকে না নেওয়া অব্দি শান্তি নেই। নিষ্ঠুর নিয়তি বরাবরই চিত্রার বেলায় কঠোর। তাইতো আর কখনোই ওর বুকে শান্তির বর্ষণ নামাতে ছুটে আসবে না নাফিম৷ মন ভোলানো স্বরে ডাকবে না ‘মাম্মাম’ বলে।
মোটামুটি বিশ মিনিটের মাথায় চিত্রারা এসে পৌঁছাল দ্বিতীয় স্টপেজের নিকটে কিন্তু সামনে বিশাল জটলা থাকায় আগাতে পারলো না গাড়ি নিয়ে। বাধ্য হয়ে নেমে দাঁড়াল ওরা। এত লোকসমাগম দেখে চিত্রা প্রশ্নাত্মক চোখে চাইল এদিক ওদিক। চারপাশে পুলিশ, রিপোর্টার, ফায়ার সার্ভিসের টিম আর আমজনতার ঢল। মেইন রোড ডুবে আছে জলের সমুদ্রে। চিত্রা বুঝল, আগুন লেগেছে সামনে অথচ সে ঘুণাক্ষরেও টের পেলো না ওই আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলেপুড়ে ভস্ম করে দিয়েছে তার সুখপাখিকে।
যে সান্ত্বনা দিয়ে নিজেকে শান্ত রেখেছিল নাওয়াফ ; চারপাশের দৃশ্য দেখে তা নিমিষেই ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। জোরালো একটা ধাক্কা খায় সে। বুঝে যায়, কল দাতার একটা কথাও মিথ্যা ছিলো না। বুকের কম্পন জোরালো হয় সন্তান হারানোর ভয়ে।
নাওয়াফকে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চিত্রা বলে,
–” সামনে বিশাল জ্যাম। এত দ্রুত ছাড়বে বলে তো মনে হচ্ছে না। স্কুলে যাবেন কীভাবে?
নাওয়াফ অস্ফুটে জবাব দেয়,
–” এখানেই আছে ওরা।
চিত্রার চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ভাবল, হয়তো তাদের স্কুল বাসও জ্যামে পড়েছে। তাই কোনো দিক না ভেবে সে দৌড়ে গেলো সামনে। সন্তানের খোঁজে নাওয়াফও ছুটল চিত্রার পিছু। শঙ্কায় কাঁপতে থাকা বুকটা খুব করে চাইছে ওই নরম শরীরটাকে আগলে নিয়ে আদরে ভরিয়ে দিতে। মনে মনে শপথ নিলো৷ আর কখনোই নাফিমের কোনো আবদার ফেরাবে না ও।
মানুষ হিসেবে প্রচন্ড বাস্তববাদী নাওয়াফ কিন্তু আজ তার অবচেতন মন দোয়া করছে একটা মিরাকলের জন্য। এতকিছু দেখার পরও মন বলছে, সব ভ্রম আর মিথ্যা স্বপ্ন। চোখ খুলে দেখ, তোর কলিজা তোর বুকেই ঘাপটি মেরে শুয়ে আছে। অথচ চারপাশে চোখ বুলালে কেবল মানুষের হাহাকার আর রেস্কিউ টিমের দৌড়াদৌড়ি চোখে পড়ছে নাওয়াফের। বুকের যন্ত্রণা কমাতে বুক ভরে শ্বাস টানলো ও কিন্তু তাতে কী আর দহন কমে?
কয়েক কদম বাড়াতেই থমকে দাঁড়াল ওরা। নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেলো সমস্ত কল্পনা জল্পনা। সামান্য দূরেই দেখা গেলো ক্রমশ জ্বলতে থাকা বিধ্বস্ত স্কুল বাস। যার ভেতরে বসে আছে জান্নাতের ফুলেরা। এতক্ষণে হয়তো পৌঁছে গেছে নিজ গন্তব্যে।
চোখের সামনে নিজের পৃথিবীটা শেষ হতে দেখেও ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইল নাওয়াফ। কোনো নড়চড় নেই তার। না আছে চোখমুখে পানির ছাপ। পাহাড়ের ন্যায় অটল ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে সে। দৃষ্টি নিবদ্ধ ওই ধ্বংসস্তুপের দিকে।
চোখের সামনে এমন বীভৎস দৃশ্য দেখে দিকবিদিকশুন্য হয়ে সেদিকে ছুটে যেতে নেয় চিত্রা কিন্তু পারে না। নাওয়াফ আঁটকে দেয় তাকে। শক্ত করে ধরে রাখে তার হাতের কব্জি। চিত্রা পাগলের মতো আঘাত করে ছাড়াতে চায় নিজেকে। ছুটতে চায় নাফিমকে বাঁচানোর জন্য। মৃত মানুষ কে থোড়াই না ফেরানো যায়। কাঁদতে কাঁদতে নাওয়াফের পায়ের কাছে বসে পড়ে চিত্রা। তার আর্তনাদের স্বরে ভারী হয়ে ওঠে আশপাশ।
অন্যদেরও একই অবস্থা। সকলে ছুটে এসেছে খবর পেয়ে। কিছু মানুষ আবার ভিডিও করছে। এক দল প্রশাসনের লোক ভীড় কমাতে ব্যস্ত । সবার চোখে উদ্বিগ্নতা, হাবভাবে অস্থিরতা অথচ নাওয়াফ অবিচল চোখে চেয়ে নিজের চিতা জ্বলতে দেখে। উপলব্ধি করে, আত্মিক মৃত্যুর যন্ত্রণা। শুধু প্রকাশ করতে পারে না। অন্যদের মতো ভেঙে চুরে গুড়িয়ে যেতে পারলো না। এখনও সন্তানের লাশ বহন করা বাকি। শক্ত না থাকলে ওইটুকু থেকেও বঞ্চিত হতে হবে যে। এমনিতেই বাচ্চাটা অভিমান নিয়ে দুনিয়া ছেড়েছে। অন্তিম মুহূর্তে আদর না করে তাকে বিদায় জানাতে চায় না নাওয়াফ।
সময় গড়ালো আরও কিছুক্ষণ। নিভলো আগুন কিন্তু ভেতরে কাউকেই জীবিত পাওয়া গেলো না। প্রত্যেকে শেষ। ড্রাইভার এবং সুপারভাইজার সহ টোটাল ২৯ জন নিহত। ব্লাস্টের কারণে অনেকের শরীর ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে। কোনটা কার শরীরের অংশ তা বোঝার উপায় নেই। উপরন্তু নরম হাড্ডি হওয়ায় সইতে পারেনি উত্তপ্ত আগুনের লেলিহান শিখা। জ্বলে পুড়ে ছাইয়ে পরিণত হয়েছে বাবা মায়ের শখের সন্তানেরা।
চারপাশে তখন বৈরী অবস্থা। আপনজনদের আর্তনাদে ভারী পরিবেশ। অবস্থা বেগতিক দেখে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সবাইকে। জানাজার জন্য কাঙ্খিত অংশবিশেষ পৌঁছে যাবে বলে সান্ত্বনা দিচ্ছেন কর্মরত লোকেরা। অথচ সকাল বেলা একটা প্রাণবন্ত পাখিকে সঁপে দেওয়া হয়েছিল তাদের হাতে৷
নাওয়াফ ভাবে কতটা হতভাগা পিতা হলে সন্তানের লাশটা পর্যন্ত নসিব হয় না। এ কেমন কপাল দিয়ে খোদা দুনিয়ায় পাঠালেন তাকে? সবসময় তার প্রিয় মানুষ গুলোই এমন অস্পর্শ দূরত্ব নিয়ে হারিয়ে যায়? যদি কেড়েই নিবে তবে মায়া বসাতে জীবনে কেনো আসে?
সময় গড়ালো। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকাল চারটা। বৃষ্টিমুখর পরিবেশ। আকাশেরও মন ভার হয়েছে বোধহয়। শিকদার ভিলায় শোকের মাতম চলছে। দূর দূরান্ত থেকে লোকজন এসেছে জানাজায় শরিক হতে। নিরিবিলি বাড়িটা গমগম করছে কান্নার গুঞ্জনে। একমাত্র নাতিকে হারিয়ে নাজনীন বেগম শয্যাশায়ী। আশরাফ শিকদার বিমূঢ় এবং ব্যথিত। চিত্রার অবস্থাও ভালো না। পরপর তিনবার জ্ঞান হারিয়েছে। এক্সেস ব্লিডিং শুরু হওয়ায় ডক্টর তাকে মেডিসিন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে।
এত সবকিছুর মাঝে স্বাভাবিক শুধু ওই একটা মানুষ। চুপচাপ সোফার কার্ণিশে গা এলিয়ে দিয়ে বসে আছে। না দুঃখ না কান্না না আফসোস না অনুতাপ; তার চেহারা দেখে কোনো কিছু বোঝার জো নেই । নাওয়াফ এর ওমন অবস্থা দেখে কেউ কেউ তো বলেই ফেলল, অধিক শোকে পাথর হয়ে গেছে ও।
ঘড়ির কাঁটায় সময় যখন পাঁচটা দশ ঠিক তখুনি দু’জন লোক এলো সাদা কাফনে মোড়ানো কয়েক টুকরো হাড্ডি মাংসের দলা নিয়ে। তাদেরকে দেখে শক্ত হয়ে বসে রইল নাওয়াফ। সুস্থ সবল নাতির বদলে মাংসের দলা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নাজনীন বেগম। আহাজারি করে বললেন,
–” ও নাফি রে, তুই ফিরে আয় কলিজা। দাদি তোর লাইগা কান্দে। আর কষ্ট দিস না রে ময়না।
উনার কান্নার শব্দে ভারী হলো ড্রয়িং রুমের পরিবেশ। লাশ নিতে নাওয়াফকে ডাকা হলো কিন্তু ও কিছুতেই উঠতে পারলো না। যে হাতে তোয়ালে প্যাঁচানো প্রাণবন্ত নাফিমকে কোলে নিয়েছে ওই হাতেই তার কাফনে মোড়ানো লাশ কীভাবে গ্রহণ করবে?
ছেলের অবস্থা বুঝে আশরাফ সাহেব আগিয়ে যান। ফর্মালিটি পূরণ করে নাফিমকে কোলে নেন। এত সময় কান্না আঁটকে রাখলেও এবার আর সম্ভব হয় না। নাতিকে কোলে নিতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন উনি। মানুষজন তাকে বুঝিয়ে সামলে নেন।
শুধু অবুঝ রয়ে যায় একজন পিতা। ব্যর্থতা আর গ্লানি বুকে চেপে শেষ বিদায় জানায় সন্তানকে। কেউ আর আলাদা করে কাফনের কাপড় খুলেনি। এমনি বহুত কষ্টে মারা গেছে বাচ্চাটা। নাওয়াফও তাকে শেষবার দেখার দুঃসাহস দেখায়নি। শুধু খাটিয়া বহন করে নিয়ে গেছে বাড়ির পেছন অব্দি। অতঃপর নিয়ম মেনে চৈত্রিকার পাশেই দাফন করা হয়েছে নাফিমকে।
শেষকৃত্য খতম হওয়ার পর নাওয়াফ একমুহূর্ত দাঁড়ায়নি সেখানে। ধীর পায়ে হেঁটে নিজ ঘরে এসে দোর আঁটকেছে। ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মন শরীর দুটোই ক্লান্ত। কিচ্ছু প্রসেস করতে পারছে না ও। মস্তিষ্ক কাজ করছে না। কষ্ট হচ্ছে কল্পনাতীত কিন্তু প্রকাশ করতে পারছে না। কান্নার দলা এসে আঁটকেছে গলায় তবুও চোখ ফেটে এক কণা বেরোচ্ছে না। এই প্রথম কঠিন পুরুষ হওয়ায় নিজের প্রতি বিশাল আক্ষেপ জন্মে নাওয়াফের৷ আফসোস হয়, ও কেনো আর পাঁচটা মানুষের মতো নয়?
ভাবতে ভাবতেই শাওয়ার শেষ করে নাওয়াফ। শরীর ভীষণ ক্লান্ত। মাথা ঝিমঝিম করছে। যেকোনো সময় হারিয়ে ফেলবে শরীরের ভারসাম্য। আজ নিজেকে কঠোর নিয়মে আবদ্ধ করলো না নাওয়াফ। ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো বিছানার দিকে। একপাশে জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ে আছে চিত্রা। নাওয়াফ তোয়াক্কা করল না সেসব। অপর পাশে শুয়ে প্রথমবার স্ব ইচ্ছায় চিত্রাকে স্পর্শ করল । চিত্রার বুকে মুখ গুঁজে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাকে।
উপসংহারে তুমি পর্ব ৯
প্রায় সময় নাফিমকে বলতে শুনেছে, “মাম্মামের বুকে কুব শান্তি। ” সেই শান্তির সন্ধানেই লাগামছাড়া হয়েছে নাওয়াফ। শর্ত, কথা আর ওয়াদা ভুলেছে খানিক্ষনের জন্য। নাফিম ভুল বলেনি। মেয়েটার মধ্যে জাদু আছে। তাইতো তাকে জড়িয়ে ধরার পরপরই নাওয়াফের মানসিক টানাপোড়েনের অবকাশ ঘটে। গলায় আঁটকে থাকা কান্নারা চোখ ছাপিয়ে নামে। বহু বছর পর নাওয়াফের দমবন্ধকর কান্নার গুঞ্জন বাড়ি খায় ঘরের প্রতিটি দেওয়ালে। কত সময় পেরোয় জানা নেই তবে শোকে কাতর নাওয়াফ তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হুঁশ খুইয়ে বসে৷ আধো আধো চোখে চিত্রার ম্লান মুখশ্রীর দিকে চেয়ে বলে,
–” নাফিমের শেষ স্মৃতি হারাতে দিব না আমি।
কথার অর্থ স্পষ্ট। তবে কী বদলে যাবে তাদের কেমিস্ট্রি নাকি ভাগ্যের নির্মমতায় ধ্বংস হবে?
