Home উপসংহারে তুমি উপসংহারে তুমি পর্ব ১১

উপসংহারে তুমি পর্ব ১১

উপসংহারে তুমি পর্ব ১১
রুহানিয়া ইমরোজ

সময়টা রাতের মধ্যভাগ। ঘোর আঁধারে ডুবে আছে কক্ষ। চারপাশে সুনসান নীরবতা। বাইরে গুমোট আবহাওয়া থাকলেও ঘরটা শীতলতায় আছন্ন। শীতের তীব্রতা চামড়ায় হুল ফোটাচ্ছে রীতিমতো। ফলস্বরূপ কুঁকড়ে যাচ্ছে চিত্রা। সেই সাথে শরীরটাও অসার ঠেকছে।
খানিক্ষণ সময় পর কিছুটা শক্তি যোগাড় করে চোখ মেলে তাকায় ও। নড়চড়ে উঠে পাশ ফিরে। এক কাত হয়ে শুয়ে থাকায় প্যারালাইজ রোগীদের মতো অনুভূতি হচ্ছে। ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা মাত্রই চিত্রা আবিষ্কার করে, তার পেটের কাছটায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে কেউ একজন। সেই পুরো কম্বল গায়ে পেঁচিয়ে রেখেছে।

তার অবচেতন মন ভেবে নেয়, ওটা নাফিম। পরক্ষণে মস্তিষ্কে হানা দেয় সকালে অপ্রীতিকর মুহূর্তগুলো। সাথে সাথেই ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে চিত্রা। গলায় শ্বাস আঁটকে যায় তার। অন্ধকারে বিছানা হাতড়ে খুঁজতে যায় নাফিমকে। কোথাও কোনো।হদিস মেলে না। মিলবে কীভাবে? সে তো এখন সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে থাকা বিছানায় শায়িত।
চিত্রা উদভ্রান্ত হয়। মস্তিষ্ক সত্যটা জানলেও মন তা মানতে নারাজ। মনের খায়েশ মেটাতেই কম্বল ধরে টান দেয় ও। সঙ্গে সঙ্গেই উন্মুক্ত হয় নাওয়াফের ফ্যাকাসে মুখমন্ডল। চিত্রা হকচকিয়ে তাকায়। নাওয়াফ.. তাও এখানে? এভাবে?
চিত্রার মনে হয় ও স্বপ্ন দেখছে কিংবা আঁটকে আছে কোনো ভ্রমে। সবকিছু বড্ড অসহ্য ঠেকে তার নিকট৷ সমস্ত জড়তা ভুলে নাওয়াফকে ডাকতে থাকে ও। দু হাতে ওর কম্বল টেনে ধরে বলে,

–” প্রয়োজনে আমায় মারুন কাটুন তবুও আমার ছেলেকে এনে দিন। দয়া করুন আমার উপর। কথা দিচ্ছি, দুনিয়াটা ধ্বংস করে দিলেও আমি ওর দিকে গরম চোখে তাকাবো না ; বকা দেওয়া তো দূরের বিষয়৷
চিত্রা হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠে কথাগুলো বলতে গিয়ে কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো নাওয়াফের কোনো হেলদোল নেই। সে মরা মাছের মতো পড়ে আছে একই ভঙ্গিতে। কান্নার এক পর্যায়ে উন্মাদ হয়ে উঠে চিত্রা। ভাবে, নাওয়াফ হয়তো ইচ্ছা করে ওমন শক্ত হয়ে আছে। তাই চটজলদি ওর পায়ের কাছে যায়। বাম পায়ে ধরে বলতে শুরু করে,
–” প্লিজ দ্..
কথাটা বলতে গিয়েও থেমে যায় চিত্রা। নাওয়াফের পা স্পর্শ করে বুঝতে পারে, অস্বাভাবিক রকমের ঠান্ডা তা। ঠিক যেমন মরা মানুষের শরীরের তাপমাত্রা হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ভয়েরা এসে আঁকড়ে ধরে চিত্রাকে। কোনোকিছু পরখ না করেই সজোরে চিল্লিয়ে উঠে ও। কাঁদতে কাঁদতে আতঙ্কিত গলায় বলে,
–” আমার নাফির আব্বুর কী যেনো হয়েছে। কেউ এসে দেখো । বাঁচাও উনাকে..

একেই মরা বাড়ি তার উপর আহামরি রাত হয়নি। ঘড়ির কাঁটা তখন স্রেফ বারোটার ঘরে গিয়ে ঠেকেছে। এমন সময় চিত্রার আহাজারি শুনে হুড়মুড়িয়ে তাদের কক্ষে উপস্থিত হয় সকলে। চিত্রা তখন হুঁশে নেই। নাওয়াফের মাথা কোলে নিয়ে অনবরত তাকে ডেকে যাচ্ছে।
সবাই এই দৃশ্য দেখে চমকে উঠে। তন্মধ্যে একজন ডক্টর ছিলেন। উনি এগিয়ে এসে নাওয়াফের পালস চেক করেন। উপস্থিত সকলেই প্রশ্নাত্মক চোখে চেয়ে থাকে ডক্টরের দিকে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ডক্টর বলে উঠেন,
–” পালস রেট খুবই স্লো। কন্ডিশন দেখে মনে হচ্ছে, স্ট্রোক করেছে। বসে থাকলে চলবে না, ইমিডিয়েটলি হসপিটালে নিতে হবে। অলরেডি রেড জোনে আছে ও৷
ডক্টরের কথায় ভড়কে যায় সবাই। নাতিকে হারিয়ে নাজনীন বেগম হুঁশে নেই৷ তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। আশরাফ সাহেবও যথেষ্ট ক্লান্ত। এরমধ্যে ছেলের এমন অসুখের কথা শুনে চোখ ভিজে আসে উনার। উপস্থিত সকলে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে নাওয়াফ কে হসপিটালে নেয়। চিত্রাও যায় স্বামীর সাথে।
আজ কীভাবে যেনো সব ভুলেছে ও। বেহায়া মনটা অস্থির হয়ে উঠছে নাওয়াফের জন্য। বুক পুড়ছে ওই নিষ্ঠুর মানুষটার কষ্টে। কী কপাল তার! অমানুষদের বেলায়ও স্বার্থপর হতে পারে না। এতটা কোমল হৃদয় না দিলেও পারতেন খোদা৷ ভাবতে ভাবতেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে চিত্রা। ঘন্টা দুয়েক সময় পেরোয়। ডক্টর বেরিয়ে এসে জানান,

–” অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেওয়ায় মাইনর স্ট্রোক করেছেন উনি। লাস্ট মোমেন্টে হসপিটালে এনেছেন বলে এই যাত্রায় বেঁচে গিয়েছে। পরবর্তীতে যেনো এমনটা না হয়। মানসিক চাপ নেওয়া উনার জন্য হারাম। নয়তো মেজর স্ট্রোক ও হতে পারে৷
ডক্টরের কথা শুনে বুক কেঁপে উঠে চিত্রার। যদি ওর ঘুম না ভাঙতো তবে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়তো ওই মানুষটা। কী অদ্ভুত সমীকরণ। তার চেয়েও বড় কথা সন্তান শোকে কাতর পিতাকে কীভাবে মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখবে ও? চিন্তারা জট পাকিয়ে যায়। চিত্রাকে নির্নিমেষ চেয়ে থাকতে দেখে ডক্টর বলেন,
–” আর ইয়্যু ওকে মিসেস চিত্রা?
চিত্রা নিচু স্বরে বলে,
–” জি।
ডক্টর তার ম্লাব চেহারা দেখে আশ্বাস দিয়ে বলে,

–” সামান্য যত্ন নিলেই সুস্থ হয়ে উঠবেন উনি। চিন্তার কিছু নেই৷
বলেই ডক্টর বেরিয়ে যান৷ চিত্রা ম্লান হেসে নাওয়াফ এর কেবিনের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। কাঁচ ঘেরা অংশে চোখ রেখে, ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকা মানুষটা কে একপলক দেখে বিড়বিড়িয়ে বলে,
–” যত্ন নেওয়ার অধিকার নেই ডক্টর। বড়জোর সেবা করার অনুমতি পাওয়া যেতে পারে। কাগজে কলমে বউ হলেও আসলে আমি বান্দি। বাড়ির কাজ করা পর্যন্তই আমার দুঃসাহস সীমিত। কর্তার দিকে করুণার হাত বাড়িয়ে দেওয়া থোড়াই না আমার কর্ম৷

চোখের পলকে সময় কাটে ৷ নাফিমের চলে গেছে প্রায় মাসখানেক হলো। তবুও কেউ ভুলতে পারেনি তাকে এমনকি স্বয়ং শিকদার ভিলাও তার শোকে নিস্তব্ধ। ছোটো বাচ্চাটা প্রাণভোমরা ছিলো শিকদার পরিবারের। তার অভাবে সবাই নির্জীব;সবই নিষ্ক্রিয়। তবে অন্যদের মতো শোক প্রকাশ করতে পারে না চিত্রা। তাহলেই শুনতে হয়,
–” মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি।
এই একটা ঘটনা ভীষণ বুঝদার বানিয়ে দিয়েছে চিত্রাকে। দেহের বয়স উনিশ হলেও মনের বয়স পঁচিশ পেরিয়েছে অনায়াসে। দায়িত্ব সামলাতে শিখে গেছে এখন। নাতির শোকে নাজনীন বেগম উদাসীন।
ফলস্বরূপ পুরো সংসারের দায়ভার চিত্রার হাতে। অপরিপক্ক মানুষ হলেও তার কাজকর্ম এতই নিখুঁত যে কেউ কখনো সামান্য অভিযোগ করার মতো কিছু খুঁজে পায়নি। ফ্রীতে থাকতে খেতে চায় না ও। তাইতো নিজের সবটুকু দিয়ে পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
এসবের মাঝে আশরাফ সাহেবের চোখের মণি হয়ে উঠেছে চিত্রা। নাজনীন বেগমও খানিকটা নরম হয়েছেন তার প্রতি তবে মাঝেমধ্যে তিক্ত কথার ঝাঁজে ঝাঁঝরা করতে ভুলেন না চিত্রাকে। সে-ও চুপ থাকে না। শান্ত গলায় যতটুকু সম্ভব উত্তর দেয়। এই যেমন সেদিন নাজনীন বেগম কেঁদেকুটে বিলাপ করে বলেন,

–” এই অপয়ারা জন্যই হয়েছে সব। ওর লাইগা আমার কলিজারে হোস্টেলে দিতে গেছিল। ওয় আমার নাতির খুনি..
কথাগুলো তীব্র ভাবে আঘাত করে চিত্রাকে। সে জানে, নাজনীন বেগম মানসিক ভাবে স্টেবল নয় তবুও সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মাঝেমধ্যে নিজেকে মানসিক রোগী বলে মনে হয় চিত্রার। এই যেমন ওই কথাগুলোর জবাবে চুপ থাকতে পারতো তবুও সে নিচু স্বরে বলে উঠেছিল,
–” তাহলে তো একই দোষে আপনার ছেলেও দোষী। হোস্টেলে দেওয়ার সিধান্ত উনার ছিলো। উনি জোর করে বাসে তুলে দিয়েছিলেন নাফিমকে। খুনি হিসেবে তাকেও আখ্যা দেওয়া যায়৷ সেটা বলছেন না কেনো?
ব্যস চুপসে যান নাজনীন বেগম তবুও গলার জোর কমে না। তর্কবাজ বলে উচ্চশব্দে গালাগালি করতে থাকেন চিত্রাকে। পরবর্তী আর কোনো কথার জবাব দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করে না চিত্রা। ঘরে ঢুকে দোর আঁটকে বিছানায় শুয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে। অস্ফুটস্বরে বলে,
–” যাকে আগলে নেওয়ার কেউ নেই তাকে আকাশসম যন্ত্রণা কেনো দাও খোদা? আত্মহত্যা মহাপাপ বলে হাজারবার আত্মিক মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করাও। এ কেমন অবিচার তোমার?

অদ্ভুত এক গোলকধাঁধায় আঁটকে আছে চিত্রার জীবন। ও ভেবেছিল, জেগে উঠার পর নাওয়াফ তাকে দু’চোখে সহ্য করতে পারবে না অথচ জ্ঞান ফেরার পর থেকে চিত্রাকে নিজের থেকে এক মুহূর্তের জন্যও দূরে সরতে দেয়নি। প্রায় সপ্তাহ খানেক হসপিটালে থাকতে হয়েছিল নাওয়াফকে।
এরমধ্যে চিত্রা একদিনও বাড়ি ফিরতে পারেনি। নাফিমের শোক পালন করার ফুরসত টুকুও দেওয়া হয়নি তাকে। সারাক্ষণ স্বামীর সেবায় নিয়োজিত থাকতে হতো চিত্রাকে৷ বাইরে প্রকাশ না করলেও সন্তান হারানোর শোকে একদম মুষড়ে পড়েছিল নাওয়াফ৷ ফলস্বরূপ সাংঘাতিক রকমের অসুস্থতা জেঁকে ধরে তাকে৷
চিত্রা কীভাবে যেনো সামলে নেয় সবটা। নাওয়াফ নির্নিমেষ চোখে চেয়ে দেখতো তার বালিকা বধূকে। পাথর মানব সে। তার অনুভূতির ভাষা বোঝা বড় দায়। চিত্রা এতটুকু বুঝতো, ওর উপস্থিতি নাওয়াফ কে বিরক্ত করে না। ব্যস, আরকিছু জানার প্রয়োজন বোধ করেনি ৷ নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে নাওয়াফ কে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করেছে৷
রিলিজ দেওয়ার পর নাওয়াফকে বাসায় আনা হয়। কতশত মানুষ আসে দেখতে। বলে যায় নানান কথা। চিত্রার খারাপ লাগলেও কখনো মুখ ফুটে কিছু বলেনি৷ আশ্রিতাদের অতো কথা মানায় না। চোখের অশ্রু লুকিয়ে পাথর চেপে নিজের দায়িত্ব পালনে তৎপর হয় চিত্রা৷
দিন পেরিয়ে রাত নামে। ইতস্তত করে ঘরে আসে চিত্রা৷ কী করবে বুঝে উঠতে না পেরে আড় চোখে তাকায় নাওয়াফের দিকে। ব্যপারটা বুঝে নাওয়াফ বলে,

–” বেডে আসো। বাম পাশটা তোমার জন্য রেখেছি৷
কথাটা শুনে বিশেষ কোনো অনুভূতি হয় না চিত্রার৷ সারাটাদিন অভিনয় করে ভীষণ ক্লান্ত ও৷ মন, শরীর দু’টোই বিশ্রাম চায়৷ এমনিতেও মস্তিষ্ক কাজ করে না ইদানীং। কেমন যেনো হয়ে যাচ্ছে চিত্রা৷ নিজেকে ঠিক ঠাক বুঝে উঠতে পারে না।
চিত্রা এগিয়ে এসে পাশ ফিরে শুতেই, ক্লান্তিরা জেঁকে ধরে। মস্তিষ্কের কোথাও উঁকি দেয় ছোট্ট মায়া মাখানো একটা পবিত্র মুখ৷ বুক মুচড়ে ওঠে চিত্রার৷ একি বিছানায় পাশাপাশি শোয়া নাওয়াফ শুধু নাফিমটা নেই৷ ছেলেটার ভীষণ শখ ছিলো, মা বাবার মাঝে ঘুমানোর। ছোটোবেলায় পায়নি কি-না, তাই বড়বেলায় চেয়েছিল কিন্তু শখ পূরণের আগেই ওদের শোকাচ্ছন্ন করে অজানায় হারিয়ে গেলো৷
চিত্রার চোখ টইটুম্বুর হয়ে ওঠে পানিতে। শব্দ করে কাঁদতে পারে না কারণ মানুষটা পাশেই শোয়া৷ ও ভেঙে পড়লে নাওয়াফ ও কষ্ট পাবে নাফিমের কথা ভেবে। তার ভাবনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে পেছন থেকে একটা হাত এসে আলতো করে ওকে ওপাশ ফিরায় এরপর আগলে নেয় নিজের শক্তপোক্ত বুকে। তার মাথাটা বুকে চেপে রেখে আলতো করে চুলে হাত বুলাতে থাকে।

এই আশ্রয়টা ভীষণ দরকার ছিলো চিত্রার। তার ছোট্ট হৃদয়ে আকাশসম যন্ত্রণা জমেছে। ফলস্বরূপ কোনোরকম ভনিতা ছাড়াই শব্দ করে কেঁদে উঠে চিত্রা। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মানুষটাকে। নাওয়াফ তাকে থামায় না। সান্ত্বনাও দেয় না। না তো করে কোনো প্রশ্ন শুধু আগলে রাখে। মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করতে চায়।
কাঁদতে কাঁদতে একটা সময় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে চিত্রা। সকালে উঠে নিজেকে আবিষ্কার করে একই জায়গায়। ব্যস, এরপর থেকে এটা হয়ে ওঠে রোজকার ঘটনা। সারা দুনিয়ার সাথে লড়াই করে এসে দুজন দু’জনের কাছে স্বস্তি খুঁজে নেয়। নাওয়াফের ব্যপারে জানে না চিত্রা তবে ওই লোকের ওইটুকু স্পর্শ মেডিসিনের মতো কাজ করে তার জন্য

রাতটুকু ভীষণ আরামে কাটে চিত্রার৷ ওই বুকটাকে নিরাপদ মনে হয়। ওখানে মাথা রাখলে সব চিন্তারা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। তাইতো রাতের ঘুমটা ভীষণ গাঢ় হয় তার। অবশ্য মাঝেমধ্যে নানান চিন্তা উঁকি দিয়ে যায়। বিভিন্ন প্রশ্নে জর্জরিত করতে মন চায় লোকটাকে। আশ্রয় হারানোর ভয়ে সাহসে কুলিয়ে উঠেনা আরকি।

উপসংহারে তুমি পর্ব ১০

অদ্ভুত প্রহেলিকায় আঁটকে আছে প্রহর। কে জানে অন্তিমে গিয়ে কী হবে। তবে এই বুকে আজন্ম থেকে যাওয়ার লোভে সবকিছু বিসর্জন দিতে রাজি চিত্রা। কথায় আছে, অভাগা যেদিকে যায় সেদিকেই সাগর শুকায়। বেচারি জানে না, এই উন্মাদনা কোথায় গিয়ে দাঁড় করাবে ওকে। জানলে বোধহয় কখনোই ওমন নিষ্ঠুর মানুষ কে হৃদয়ে ঠাঁই দিতো না।

উপসংহারে তুমি পর্ব ১২

4 COMMENTS

  1. এই জন্যই আপনাদের গল্প গুলো আর পড়তে ইচ্ছা করে না অপেক্ষার পরেও আপনারা দিতে চান না ।

Comments are closed.