প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৭
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
রাস্তার ধারে হলুদ ল্যাম্প পোস্টের আলোতে আলোকিত হয়ে আছে চারদিকে। চারপাশে মানুষের কোনো আনাগোনা নেই। রাস্তার মাঝে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে লামিয়া। তাঁর সামনেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জ্যাকি। জ্যাকির সামনে তিনজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতে পিস্তল যা জ্যাকির দিকে তাক করে রেখেছে। লোকটি ট্রিগারে চাপ দিতেই ঠাস করে গুলি ছুঁড়তেই অন্ধকার থেকে কেউ সিটি বাজাতেই জ্যাকি মাটিতে শুয়ে পড়লো। যার কারণে গুলি জ্যাকির মাথার উপর দিয়ে চলে গেলো।
লোকগুলো সিটির শব্দ পেতেই আশেপাশে তাকালো। কাউকে না দেখতে পেয়ে সামনে তাকিয়ে দেখলো জ্যাকি দাঁড়িয়ে আছে আগের ন্যায়ে। লোকটা আবার ট্রিগারে চাপ দিতেই হঠাৎ তাঁর হাত ফুটো করে একটি গুলি চলে গেলো। লোকটি ব্যাথায় কাতরাতে কাতরাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
তাঁর সাথে আরো দুজন লোক দুটো হাত উপরে উঠিয়ে কিছু সিগন্যাল দিতেই কোথা থেকে দৌড়ে আরো তিন এসে তাদের সামনে দাঁড়ালো।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
তাঁরা আশেপাশে তাকালো কাউকে দেখতে না পেয়ে একজন লোক একটা জাল হাতে নিয়ে এগিয়ে আস্তে করে জ্যাকির উপরে ফেললো। জ্যাকি ছোটাছুটি করছে ছোটার জন্য। উউউ উউউ করে ডাকছে। তবুও জাল থেকে নিজেকে ছাড়াতে পারছে না দেখে রেগে জাল গুলো কামড়ে ছিঁড়তে চাইলো।
আরেকটা লোক এগিয়ে গিয়ে লামিয়া কে স্পর্শ করতে যাবে তাঁর আগেই একটা শক্ত পোক্ত ইটের আঘাত পড়লো তাঁর মাথার উপর। লোকটি ব্যাথায় চিৎকার করে দূরে সরে দাঁড়ালো। তাঁর চিৎকার শুনে তাঁর সাথে থাকা লোক গুলো সামনে তাকাতেই তাদের রুহ অব্দি কেঁপে উঠলো।
ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। তাঁদের সামনে স্বয়ং ফ্যালকন আর তাঁর পুরো টিম দাঁড়িয়ে আছে। যাদের আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি। যাঁরা গোপনে এতো বছর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আড়ালে থেকে লড়াই করেছে তাঁরা তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
লোক গুলো বেশ ভয়ে পিছিয়ে যেতে চাইলো কিন্তু যেতে পারলো না কারণ তাদের পিছনে তাদের দিকে পিস্তল তাক করে রেখেছে লাবিব, রাশেদ জাহিদ।
লোকগুলো পালানোর পথ খুঁজে না পেয়ে দু হাত উপরে তুলে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসলো।
শুভ্র রক্তিম চোখে তাকিয়ে আছে লোকগুলো দিকে। তাঁর ইচ্ছে করছে এই মুহূর্তে এই লোকগুলোর মগজ বের করে কুকুদের খাওয়াতে। জ্যাকি শুভ্র কে দেখে মনে হয় বেশ খুশি হলো। তাই জালের মধ্যে উউউ করতে করতে লাফালাফি করতে লাগলো। জাহিদ এগিয়ে গিয়ে জাল জ্যাকির উপর থেকে সরিয়ে দিতেই জ্যাকি দৌড়ে শুভ্রর কাছে গিয়ে উউউ উউউ করতে লাগলো। তাকে দেখে মনে হচ্ছে শুভ্রর কাছে বিচার দিচ্ছে এই লোকগুলোর নামে। শুভ্র মাথা নিচু করে জ্যাকির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বেশ সন্তুষ্ট গলায় বললো ” ভেরি গুড চ্যাম্প। এখনো ট্রেনিং ভুলো নি তুমি গুড। এইভাবেই সর্বদা তোমার মাম্মা কে রক্ষা করবে।”
জ্যাকি লেজ নাড়িয়ে লামিয়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে ঘেউ ঘেউ করে লেজ গুটিয়ে লামিয়ার সামনে বসে লামিয়ার পেটে মাথা রেখে বেশ নিচু কন্ঠ খেউ করে উঠলো। জ্যাকি লামিয়া কে ডাকার চেষ্টা করছে কিন্তু লামিয়া চোখ খুলছে না।
শুভ্র কোমর থেকে পিস্তল বের করে এগিয়ে গেলো লোকগুলো দিকে। চোখ তাঁর লাল টুকটুকে হয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে চোখ থেকে এখন ই রক্ত ঝরে পড়বে।
শুভ্র লোক গুলো সামনে দাঁড়িয়ে বেশ শান্ত কন্ঠে বললো ” কি করেছিস ওর সাথে?”
লোক গুলোর ভয়ে মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছে না। লোকগুলো কে শান্ত দেখে শুভ্রর ভেতরে আগুন যেনো আরো বাড়তে লাগলো। শুভ্র আবারো বেশ শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো ” কি করেছিস ওর সাথে?”
লোক গুলো তবুও কথা বলছে না দেখে শুভ্র আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারলো না একটা লোকের পায়ের হাঁটু বরাবর সুট করে দিলো। লোকটা চিৎকার করে উঠতেই শুভ্র লোকটার গলায় পা দিয়ে চেপে হিসহিসিয়ে বললো ” কি করেছিস ওর সাথে তাড়াতাড়ি বল।”
” ঘু…ঘুমের ইনজেকশন।” বেশ ভীত কন্ঠে বলে উঠলো লোকটি।
তা শুনে শুভ্র লোকটির গলা আরো চেপে ধরলো পা দিয়ে। লোকটি ছটফট করতে লাগলো তবুও শুভ্র ছাড়ছে না। তা দেখে পাশের লোকগুলো আরো ভয় পেতে লাগলো। ফ্যালকন সম্পর্কে তাঁরা যতটুকু শুনেছে তাঁর থেকে বেশ ভয়ংকর এই লোক। দেখতে অনেকটা সাইকোর মতো। তাঁর চোখ গুলো বেশ ভয়ংকর হয়ে উঠেছে যা দেখে লোকগুলো ভয় আরো বারতে লাগলো।
শুভ্র লোকটার গলা ছেড়ে আরো একটা লোকের সামনে এসে দাঁড়ালো। লোকটা ভয়ে ভয়ে চোখ তুলে তাকাতেই শুভ্র লোকটার চুল গুলো শক্ত করে টেনে ধরে পিস্তলের নল মুখে ঢুকিয়ে তেজি কন্ঠে বললো ” কে পাঠিয়েছে তোদের?”
লোকটি ভয়ে কন্না করতে করতে কিছু বলতে চাইলো। তখনই লোকটি ফোন বেজে উঠলো শুভ্র লোকটিকে চোখ দিয়ে ইশারা করলো ফোন বের করতে। লোকটি কাঁপা কাঁপা হাতে পকেট থেকে মোবাইল বের করে সামনে আনতেই শুভ্র ফোন কেড়ে নিয়ে স্ক্রিনের নাম দেখতেই মাথা আরো গরম হয়ে গেলো। রাগে গজগজ করতে করতে সামনে থাকা লোকটার মাথায় পিস্তল দিয়ে আঘাত করতেই লোকটির মাথা ফেটে গিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোতে লাগলো।
শুভ্র পিস্তল পেন্টের পিছন গুঁজে রাশেদ কে বললো ” এদের কে গোডাউনে নিয়ে যাওয়ার ব্যাবস্থা কর। ঘুমের ইনজেকশন কতো প্রকার ও কি কি ওদের ঘাড়ে দিয়ে বোঝাবো। ”
রাশেদ মাথা নাড়িয়ে পাশে থাকা তাদের টিমের কয়েকজন কে ইশারা দিতেই তাঁরা তাঁদের নিয়ে গেলো। নিয়ে যাবার সময় লোকগুলো অনেক আকুতি মিনতি করলো কিন্তু শুভ্র তা শুনলো না।
হঠাৎ পিছন থেকে চিৎকার শুনতেই লাবিব, জাহিদ, রাশেদ, শুভ্র পিছন ঘুরে তাকাতেই দেখলো তায়েবা মাটিতে বসে লামিয়া কে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।
তা পাশেই ছবি দাঁড়িয়ে আছে। জাহিদ এগিয়ে গিয়ে তায়েবা কে ধরতেই তায়েবা জাহিদের হাত ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে কন্না জড়িত স্বরে বললো ” কি হয়েছে লামিয়ার , ও এইভাবে পড়ে আছে কেনো জাহিদ ভাই??”
শুভ্র কোনো কথা না বলে এগিয়ে এসে তায়েবার হাত থেকে লামিয়া কে সরিয়ে নিয়ে পাঁচ কোলে তুলে নিলো।
তায়েবা কিছু বলার আগেই জাহিদ তায়েবার হাত ধরে ধীর কন্ঠে বললো ” ওকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে।”
” মানে?”
” সব পড়ে বলবো এখন চুপ থাক।”
তায়েবা আর কিছু না বলে লামিয়ার দিকে তাকালো। তাঁদের সব ভাই বোন হচ্ছে তাদের জান। ভাই – বোনদের কিছু হলে কেউ ঠিক থাকতে পারে না।
তায়েবা ডুকরে কেঁদে উঠলো। জাহিদ তায়েবার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকালো। এই মেয়ে কান্না করতেও পারে। কোনোদিন তায়েবার কান্না দেখেছে কি না সে জানেনা। তবে সবসময় হাসিখুশি, কপাল কুঁচকানো, তেজি তায়েবা কে দেখেছে সে। তায়েবা কান্না করছে দেখে জাহিদ তায়েবার কাঁধ হালকা করে ধরতেই তায়েবা আবেগের বশে জাহিদ কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলো। তায়েবার এমন কান্ডে জাহিদ থমকে গেলো।
তায়েবা নিজ থেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরেছে তাঁর বিশ্বাস হচ্ছে না।
শুভ্র লামিয়া কে কোলে তুলে ধীর পায়ে হাঁটতে লাগলো বাড়ির দিকে। তাঁর গলা দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না। নিজেকে কেমন অসহায় লাগছে, আর কেমন অপরাধী লাগছে। আজ সে না দেখলে হয়তো লামিয়া কে নিয়ে যেতো তাঁরা। ভেবেই শুভ্রর বুক মোচড়ে উঠলো। তবে যে এর পিছনে থাকা লোককে সে ছাড়বে না সে।
লাবিব, ছবি, রাশেদ শুভ্রর পিছু পিছু বাড়ি যেতে লাগলো। জাহিদ আর তায়েবা এখনো সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। রাশেদ অর্ধেক আসতেই শারমিন কে দেখতে পেলো । শারমিন রাশেদের দিকে দৌড়ে এগিয়ে গিয়ে অস্থির গলায় বললো ” কি হয়েছে লামিয়ার রাশেদ ভাই?”
শুভ্র, লাবিব, ছবি সামনে এগিয়ে গেলো। রাশেদ শারমিনের দিকে বিরক্ত হয়ে তাকালো। এই মেয়ে আবারো তাঁকে ভাই ডাকছে। ভেবেই রাগ লাগছে রাশেদ এর। শারমিন রাশেদ এর উত্তরের আশায় তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। রাশেদ কথা বলছে না দেখে শারমিন ভাবলো রাশেদ এখনো তাঁর সাথে রাগ করে আছে তাই মন খারাপ করে পিছন ঘুরে চলে যেতেই রাশেদ শারমিনের ঘাড় ধরে সামনের দিকে ঘুরিয়ে নিজের কাছে টেনে নিয়ে আসলো। শারমিন অবাক হয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাশেদ শারমিনের ওষ্ঠের সাথে নিজের ওষ্ঠ মিলিয়ে দিতেই শারমিন বড় বড় চোখ করে তাকাতেই দেখলো রাশেদ তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে শারমিন দ্রুত চোখ বন্ধ করে নিলো।
শুভ্র রুমে এনে বিছানায় লামিয়া কে শুইয়ে দিয়ে দাঁড়ালো। বাড়ির বড়রা এখনো এসব এর কিছুই জানে না তাই শুভ্র কাউকে জানাতে ও চায় না। তাঁরা জানলে টেনশন করবে তখন দেখে যাবে বিয়ের আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে তাই কাউকে কিছু জানাতে চাইলো না।
লাবিব আর ছবি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে রুমে। শুভ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ছবির উদ্দেশ্যে ধীর কন্ঠে বললো ” ছবি এখানে থাক। লামিয়া কে দেখে রাখিস।” বলেই লাবিব এর দিকে তাকিয়ে বললো ” তুই চল আমার সাথে। ”
বলেই বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। লাবিব ছবির দিকে তাকালো তারপর এক নজর লামিয়ার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে স্থান ত্যাগ করলো।
ছবি লাবিব এর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে লামিয়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে বিছানার একপাশে বসলো। বেশ কিছুক্ষণ লামিয়ার মুখে দিকে তাকিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লামিয়া কে দেখলো। তারপর মুচকি হেসে আস্তে করে কপাল থেকে টিকলি খুললো তারপর কানের দুল। তাঁর আস্তে আস্তে হাত থেকে চুরি খুলে, গাঁয়ের উপর চাদর টেনে দিলো।
” এইভাবে সারাজীবন জড়িয়ে ধরে রাখলে মন্দ হয় না কিন্তু।”
জাহিদ এর এমন কথায় তায়েবার টনক নড়তেই ছিটকে দূরে সরে দাঁড়ালো। জাহিদ মুচকি মুচকি হাসছে। তায়েবা বেশ লজ্জা পেয়েছে তা তার গাল দেখেই বোঝা যাচ্ছে। ফর্সা গাল দুটো লাল টুকটুকে হয়ে গেছে। তায়েবা আশেপাশে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললো ” আমি ইচ্ছে করে আপনাকে জড়িয়ে ধরি নি জাহিদ ভাই। আসলে ”
” আসলে নকলে বোঝানোর কোনো দরকার নেই। তবে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিস এটা তো সত্যি তাই না।”
” দেখুন আপনাকে ইচ্ছে করে জড়িয়ে ধরিনি। তাই বেশি কথা বলবেন না। তখন আমার আবেগে কাজ করেছিলো বিবেগ কাজ করে নি। বিবেগ কাজ করলে কোনোদিন ও আপনাকে জড়িয়ে ধরতাম না।”
জাহিদ তায়েবার কথায় ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তায়েবা তা দেখে মুখ বাঁকিয়ে হাঁটা ধরলো বাড়ির দিকে। জাহিদ তা দেখে দৌড়ে বলতে লাগলো ” এই দাঁড়া বলছি একা যাস না ভুতে ধরবে।”
বেশ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শারমিন। সামনেই রাশেদ চুপচাপ তাকিয়ে আছে শারমিনের দিকে। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে বেশ ইনোসেন্ট একটা ছেলে।
” আপনি একটু আগে কি করলেন?” কাঁপা কাঁপা গলায় বললো শারমিন।
” কিছু করিনি তো।”
” আপনি আমাকে”
” কী তোকে?” ভ্রু উঁচিয়ে বললো রাশেদ।
” আপনি জানেন না?”
” না।”
” রাশেদ ভাই আপনি জানেন কিন্তু কী করেছেন তারপরও কেনো না জানার ভান করছেন?”
” এই কে তোর ভাই?? বলেছি না আমার চারটা বোন আছে আমার আর কোনো বোনের দরকার নেই। তারপর ও কেনো ভাই ভাই করছিস?”
” ভাই বললে কী সমস্যা? আর ভাই না বললে কী বলবো?” বেশ অবাক হয়ে বললো শারমিন।
” আমি কী জানি কী বলবি তবে ভাই বলবি না। ভাই বললে থাপ্পড়ে গাল ফাটিয়ে দিবো অসভ্য মেয়ে।” বেশ বিরক্ত হয়ে বলে বাড়ির দিকে রওনা হলো। শারমিন দাঁড়িয়ে আছে দেখে রাশেদ চেঁচিয়ে বললো ” দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? এখন কি কোলে তুলে তোকে বাড়িতে নিতে হবে?”
” কোলে তুললে কিন্তু মন্দ হয় না। ” বেশ মিনমিন করে বললো শারমিন।
রাশেদ তা শুনে ও ফেললো। শারমিন যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই রাশেদ ঝড়ের গতিতে এসে শারমিন কে কোলে তুলে হাঁটা শুরু করলো।
শারমিন বেশ অবাক চোখে তাকালো রাশেদের দিকে।
তারপর চেঁচিয়ে উঠলো ” আরে কি করছেন ছাড়ুন নিচে নামান আমাকে।”
” তুই না বলেছিস কোলে তুললে মন্দ হয় না। তাই কোলে তুলে নিলাম। এখন বেশি কথা বললো কসম রাস্তার মাঝে ফেলে দিবো। ” হাঁটতে হাঁটতে বললো রাশেদ।
শারমিন রাশেদ এর হুমকি শুনে মুখ ফুলিয়ে চুপ করে থাকলো।
চারদিকে হৈ হুল্লোড় তায়েব, মাহির, ইভান, ইমন লামিয়া আর তায়েবা কে চারদিকে চিরুনি তলাসি করেও পাচ্ছে না দেখে বেশ চিন্তিত হলো। তাঁদের কে না বলে কোনো প্লান বা কোথাও যাবে না এই দুজন তাহলে কোথায় গেলো। ভেবেই গেটের দিকে তাকাতেই দেখলো তায়েবা বেশ অস্থির হয়ে দৌড়ে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করছে। তা দেখে মাহির, তায়েব, ইভান, ইমন একজন আরেকজনের দিকে তাকালো। কোনো খারাপ কিছু হয়নি তো ভেবেই তায়েবার পিছনে দৌড় দিলো।
তায়েবা লামিয়ার রুমে প্রবেশ করতেই দেখলো ছবি বসে আছে লামিয়ার কাছে। তায়েবা দৌড়ে লামিয়ার বুকে মাথা রেখে স্বস্তির শ্বাস ফেললো। না যাক বেঁচে আছে। ভেবেই একটু ঝুঁকে লামিয়ার মুখের দিকে তাকালো।
মাহির, তায়েব, ইভান, ইমন রুমে এসে দেখলো তায়েবা লামিয়ার মুখের দিকে ঝুঁকে আছে। তবে পিছন থেকে দেখার কারণে দেখে মনে হচ্ছে চুমু খাচ্ছে।তা দেখে তাঁরা চোখ বড় বড় করে তাকালো।
” আমি বলেছিলাম না ওদের সমস্যা আছে। ছিঃ তায়েবা , ছিঃ লামিয়া তোরা যে লেসবিয়ান আগেই বুঝতে পেরেছি। সেদিন তো দেখলাম লামিয়া তোর দিকে ঝুঁকে ছিলো আর আজ কিনা তোরা চুমু খাচ্ছিস ওয়াককক। তাই তো তোরা দুজন সবসময় বলিস ছেলেদের প্রতি ইন্টারেস্ট নেই তোদের। তোদের যে মেয়েদের প্রতি ইন্টারেস্ট আছে সেটা অনেক আগেই বুঝেছিলাম তবে আজকে পুরোপুরি সিউর হয়ে গেলাম। ইয়াককক।” বলেই বমি করতে লাগলো তায়েব।
তায়েব এর কথা শুনে তায়েবা বিরক্ত হয়ে ঘুরে তাকালো। একে তো এতো বড় ঘটনা ঘটে গিয়েছে তার উপর লামিয়া চোখ খুলছে না তা টেনশনে শেষ হয়ে যাচ্ছে তাঁর উপর এই ছেলের ফালতু কথা শুনে তায়েবা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। তায়েবা বেশ রেগে তায়েব এর দিকে এগিয়ে গিয়ে তায়েব এর পিঠে ধাম ধাম কিল দিয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো ” তোর ব্রেন এর জায়গায় গু আর গুয়ের জায়গায় হলো ব্রেন, তাই সবসময় উল্টা পাল্টা কথা বলিস। তোর পিছন থেকে ব্রেন এনে ব্রেনের জায়গায় ব্রেন বসিয়ে তারপর কথা বলবি। যত্তসব ফালতু কথা।” বলেই সামনে এগিয়ে গেলো।
তায়েব অসহায় চোখে পাশে তাকাতেই দেখলো মাহির, ইভান, ইমন মুখ চেপে হাসছে। তা দেখে তায়েব মুখ লটকে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।
হঠাৎ মাহির ভ্রু কুঁচকে এলো। কারণ লামিয়ার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সামনে ঘুরে তাকালো। লামিয়া সেখানেই চোখ বুজে শুয়ে আছে তা দেখে সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তায়েবা কে বললো ” লামিয়ার কিছু কি হয়েছে?? ওও এইভাবে শুয়ে আছে কেনো??”
মাহিরের এমন কথা শুনে তায়েব, ইভান, ইমন এর ও এইবার হুস আসলো। ঠিকই তো লামিয়া তো এমন করে শুয়ে থাকার কথা না। মাহির দ্রুত বিছানার দিকে এগোতেই নাক টানার শব্দ শুনতে পেয়ে তায়েবাকে নিজের সামনে ঘুরাতেই দেখলো তায়েবার চোখে পানি তায়েবা কান্না করছে। তায়েবার কান্না দেখে মাহির, তায়েব অস্থির হয়ে পড়লো। কারণ তাঁদের কোনো ভাই বোনের অল্প কিছুতে কোনো সময় চোখ দিয়ে পানি পড়ে না। তবে কি লামিয়ার সাথে খারাপ কিছু হয়েছে? ভাবতেই মাহির অস্থির গলায় তায়েবা কে বলে উঠলো
” এ ভাই বল না কি হয়েছে? এমন কান্না করছিস কেনো? আর লামিয়া এভাবে শুয়ে আছে কেনো ??”
তায়েবা কথা না বলে শুধু কান্না করছে তা দেখে তায়েব তা দেখে বেশ রেগে গিয়ে ধমকে বললো ” কান্না থামিয়ে বল কি হয়েছে?”
তায়েবা কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই পাশ থেকে ছবি বলে উঠলো ” আমি বলছি।”
সবাই চোখ ঘুরিয়ে ছবির দিকে তাকাতেই ছবি হেঁসে বললো ” তেমন কিছুই না এখানে এসে বোস বলছি আমি।”
মাহির, তায়েব, ইভান, ইমন এগিয়ে গিয়ে বিছানায় বসলো। তায়েবা চোখের পানি মুছে লামিয়ার মাথার কাছে গিয়ে বসলো।
তাঁদের বসতে দেখে ছবি মুচকি হেসে বলতে শুরু করলো সব।
” এই হাত বাড়িয়ে ছিলি তাই না??” বলেই লোকটার হাতে এসিড ঢেলে দিলো শুভ্র।
হাতের উপর এসিড পড়তেই লোকটি হাত সঙ্গে সঙ্গে ঝলসে গেলো। লোকটি চিৎকার করতে চাইলো কিন্তু পারলো না। কারণ তাঁর মুখ টেপ দিয়ে আটকানো।
লোকটার অবস্থা দেখে পাশের চেয়ারে হাত পা বাঁধা লোক গুলো ভয় পেয়ে কান্না করতে লাগলো।
শুভ্র এবার এগিয়ে গিয়ে টেবিল থেকে একটা বড় ইনজেকশন
তুলে নিলো। যার মধ্যে নীল রঙের কিছু দেখা যাচ্ছে।
টেবিল থেকে ইনজেকশন তুলে চেয়ারে বাঁধা লোক গুলোর দিকে এগিয়ে এসে দাঁড়ালো। লোকগুলো বেশ ভয় পাচ্ছে শুভ্র কে দেখে। শুভ্র কে দেখতে এখন বেশ হিংস্র লাগছে। শুভ্র লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে বেশ শান্ত কন্ঠে বললো
” তোদের মধ্যে থেকে কে ওর ঘাড়ে ইনজেকশন পুশ করেছিলি?? আমি এক কথা বারবার বলতে পছন্দ করি না। তাই দ্রুত বলে ফেল।”
লোকগুলো ভয়ে কান্না করছে। ভয়ের ঠেলায় কথা মুখ থেকে বের হচ্ছে না তাদের। শুভ্র তা দেখে শুভ্র সামনে তাকিয়ে লাবিব কে ইশারা করতেই লাবিব কোমড় থেকে পিস্তল নিয়ে একটা লোকের পা বরাবর সুট করতেই লোকটা ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলো। তা দেখে সবাই ভয় পেয়ে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে একটি লোক বলে উঠলো ” আমি…আমি দিয়েছিলাম।”
লোকটার বলতে দেরি শুভ্র লোকটার ঘাড়ে সুই পুশ করতে দেরি হলো না। ঘাড়ে সুই পড়তেই লোকটা ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলো।
শুভ্র তা দেখে ঘাড় কাত করে লোকটার দিকে তাকিয়ে বললো ” খুব ব্যাথা লাগছে তাই না? আমার ছোট্ট বউয়ের ও এমন ব্যাথা লেগেছিলো। জানিস ছোট্ট থেকেই আমার বউ ব্যাথা সহ্য করতে পারে না। তবুও তুই ওর ঘাড়ে সুঁই দিয়েছিস।” একটু থেমে টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে আবারো বললো
” আজকে জীবনের প্রথম আমার বউ লাল টুকটুকে সেজেছিলো। আজকে তাঁর কতো প্লান ছিলো কিন্তু তুই তাঁর ঘাড়ে সুঁই বিধিয়ে দিলি? হুমমমম অনেক অন্যায় করেছিস অনেক । তোর জন্য আমার বউয়ের আনন্দ মাটি হয়ে গিয়েছে। তোর জন্য আজ আনন্দ করা বাদ দিয়ে আমার বউ বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। শুধু মাত্র তোর জন্য। আমার বউয়ের আনন্দ, হাসি খুশি মুখটা যে নষ্ট করবে তাকে আমি মেরে ফেলবো।” বলেই টেবিল থেকে আরো একটা ইনজেকশন তুলে ঝড়ের গতিতে লোকটার ঘাড়ে আবার পুশ করতেই। লোকটা ছটফট করতে লাগলো। কিছুক্ষণ ছটফট করতে করতে প্রাণ হারালো লোকটা।
শুভ্র সামনে তাকিয়ে রাশেদ কে বললো ” এই সব গুলোর হাত কেটে পার্সেল করে পাঠিয়ে দে তাদের মালিকের কাছে। ”
রাশেদ, জাহিদ, লাবিব শুভ্রর কথা মতো কাজ শুরু করলো।
রাত প্রায় একটা বাজে।
লামিয়া তখন ও ঘুমে। তাঁর পাশেই বসে আছে ছবি, তায়েবা, মাহির, তায়েব, ইভান, ইমন। ছবির থেকে সব শুনে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে বসে ছিলো কতোক্ষণ। কারোর মুখে কোনো কথা নেই।
তখনই রুমে প্রবেশ করলো শুভ্র আর রাশেদ। লাবিব আর জাহিদ চলে গিয়েছে তাদের বাড়িতে।
শুভ্র রুমে প্রবেশ করতেই তায়েবা সরে দাঁড়ালো। শুভ্র এগিয়ে গিয়ে হাঁটু গেড়ে ফ্লোরে বসে দু হাত দিয়ে লামিয়ার ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দিলো।
রাশেদ সবাইকে ইশারা করতেই নিরবে সবাই রুম থেকে বেরিয়ে বাহিরে গিয়ে দাঁড়ালো।
শুভ্র লামিয়ার দু গালে হাত রেখে পাগলের মতো চুমু খেলো লামিয়ার গালে। কপালে কপাল ঠেকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। শুভ্রর চোখ অসম্ভব জ্বালা পোড়া করছে। আজ সে যদি না দেখতো তাহলে লামিয়া কে নিয়ে যেতো শুভ্রর থেকে। অনেক দূরে সরিয়ে দিতো লামিয়া কে। ভাবতেই শুভ্রর বুকে যন্ত্রণা শুরু হলো। দু এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো শুভ্রর চোখ থেকে। লামিয়া ঘুমের ঘোরে শুভ্রর এক আঙ্গুল আঁকড়ে ধরতেই শুভ্র চমকে তাকালো হাতের দিকে।
শুভ্র শুকনো ঢোক গিলে লামিয়ার হাত তাঁর গালে ঠেকিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো।
হারানোর ভয় যে তাকে তিলে তিলে খাচ্ছে। সবসময় মনে হয় এই যেনো তাঁর প্রেয়সীকে হারিয়ে ফেলবে। আপন জনদের হারানোর যন্ত্রণা যে কেমন সেটা শুভ্র ভালো করে জানে। লামিয়া কে সে হারাতে চায় না, এই মেয়ে হারিয়ে গেলে তাঁর বাঁচা মুশকিল হয়ে পড়বে।
শুভ্র চোখ মুখ মুছে লামিয়ার কপালে গম্ভীর চুম্বন একে দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। রুমের বাইরে এসে তায়েবা আর ছবি কে বললো লামিয়া কে জানি দেখে রাখতে আর চোখে চোখে রাখতে। ছবি আর তায়েবা মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো রুমে। রাশেদ, শুভ্র, তায়েব, মাহির, ইভান, ইমন ও চলে গেলো নিজেদের রুমে।
।
চিৎকার চেঁচামেচির শব্দে ঘুম ভাঙলো লামিয়ার । পিটপিট করে তাকাতেই বিরক্ত হলো বেশ। ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। কারণ মুখের সামনে ঝুঁকে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে তায়েব, তায়েবা, মাহির, ইভান, ইমন। তা দেখে লামিয়া উঠে বসে বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো ” সকাল সকাল তোদের এই গুয়ের চেহারা না দেখালে হতো না আমাকে??”
লামিয়ার কথায় তাঁরা পাত্তা না দিয়ে উল্টো তাড়া দিয়ে বললো ” তাড়াতাড়ি উঠ আজকে বাড়িতে বিয়ে। এখন কয়টা বাজে হিসেব আছে তোর??”
লামিয়া বিরক্ত হয়ে ঘড়ির দিকে তাকাতেই চোখ কপালে উঠলো ” হায় আল্লাহ দশটা বাজে তো। আগে ডাকিস নি কেনো?? আজকে প্লান আছে ভুলে গিয়েছিলি??” বলেই দ্রুত বিছানা থেকে নেমে আলমারি থেকে জামা বের করে বাথরুমে ঢুকে গেলো।
” ওর কিছু মনে নাই মনে হয়।” বলেই সবার দিকে তাকালো ইমন।
” ওকে কিছু মনে পড়তে দেওয়া যাবে না। শুভ্র ভায়ের আদেশ। ” বলে উঠলো মাহির।
তাঁর কথায় মাথা ঝাকালো সবাই। বেশ কিছুক্ষণ পর লামিয়া ফ্রেশ হয়ে আসতেই সবাই বাগানের দিকে গেলো।
আজ বাড়িতে বিয়ে। আজকে বর এবং কনে দের বিয়ের গোসল করানো হবে আজকে। অনেক নিয়ম কানুন ও আছে বটে। যা আগে কার দিনের দাদী নানী রা করে এসেছে। আর তা আজকে হতেও চলেছে। যেমন হলুদের আগে মেহেদী তুলতে যাওয়া, পানি আনতে যাওয়া। তাঁর ধান, দুবলা, হলুদ ইত্যাদি দিয়ে কনে আর বরদের বরণ করে গাঁয়ে হলুদ মাখিয়ে তুলে আনা পানি দিয়ে গোসল করানো। সেই গোসলের সময় সবাই কাঁদা মাটি খেলা। বিয়ের দিন এই মূহুর্তে বেশি মজা হয়। আর এই কাঁদা মাটিতে ইসলাম বাড়ির ডাকাতরা যা প্ল্যান করেছে তা আজ সাকসেসফুল করেই ছাড়বে। যে ভাবা সেই কাজ ছয়জন হাতে গ্লাভস পড়ে নিলো। সবাই এখনো জড় হয়নি জড় হওয়ার পর সব নিয়মকানুনের অনুষ্ঠান শুরু হবে। তাই আগেই তাঁরা সব কিছু রেডি করে রাখবে।
হাতে গ্লাভস পড়ে বালতি নিয়ে চলে গেলো নিজেদের কাজে।
শুভ্র ঘুম থেকে উঠে লামিয়ার রুমের দিকে যেতেই দেখলো রুম ফাঁকা। তাড়াতাড়ি করে নিচে নামতেই লতিফা বেগম এর সাথে দেখা হলো। শুভ্র লতিফা বেগম এর কাছে লামিয়ার কথা জিজ্ঞেস করতেই সে জানালো লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির, ইভান, ইমন সবাই কিছুক্ষণ আগেই একসাথে বের হয়েছে কোথায় যেনো। শুভ্র তা শুনে কিছু না বলে বের হয়ে গেলো বাগানের দিকে।
আরিফ, আবির আর সাফওয়ান কে লুঙ্গি আর সেন্টু গেঞ্জি কড়ে সেই সকাল থেকে বসিয়ে রেখেছে। কালকে রাতে তাঁরা তাঁদের বউ দেখেছে তারপর থেকে এখনো পর্যন্ত দেখে নি তাঁরা।
আবির বেশ বিরক্ত হয়ে লুঙ্গি ধরে দাঁড়িয়ে আছে। জীবনে কোনোদিন লুঙ্গি পড়েনি সে। তাই বেশ বিরক্ত এই লুঙ্গির উপর। তাঁর অবস্থা দেখে আরিফ আর সাফওয়ান বেশ হাসাহাসি করছে। এতে আবির বেশ বিরক্ত হচ্ছে। কিছু একটা ভেবে আবির দ্রুত লুঙ্গি ধরে রুম থেকে বের হতেই সাফওয়ান হাসতে হাসতে বললো
” এই অবস্থায় মান সম্মান খেতে বাহিরে যাচ্ছিস ?”
আবির সাফওয়ান এর কথায় বিরক্ত হয়ে হাঁটা ধরলো তার মায়ের রুমের দিকে।
রুমে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ আলমারিতে কিছু খুঁজতে লাগলো। খুঁজতে খুঁজতে তা পেয়ে ও গেলো। বেশ ভাব নিয়ে বাঁকা হেঁসে বললো ” পেয়েছি তুই আমার লুঙ্গির কাজ করবি।” বলেই সয়তানি হাঁসি দিয়ে লুবনা বেগম এর সাদা রঙের পেটিকোট পড়ে নিয়ে কোমড়ে কোনো রকম গিট্টু দিয়ে নিলো। তারপর দ্রুত সাফওয়ান আর আরিফ এর সামনে দাড়াতেই তাঁরা আবির কে দেখে পেটে হাত রেখে হেঁসে উঠলো। আবির তা দেখে বিরক্ত হয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।
” এই আবির কোথায় যাচ্ছিস? শেষে কিনা পেটিকোট পড়ে গোসলে যাবি??” বলেই আবার হাসতে লাগলো।
লামিয়া রা নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস পেয়ে মনের সুখে বাড়িতে এসে দেখলো শারমিন, হাফসা, ফারিয়া, ছবি, মনিকা, মিলি, তিহা সবাই জড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কলসি নিয়ে আর আজমেরী বেগম এর হাতে কুলো তাঁর উপর মিষ্টি, সরিসার তেল আরো অনেক কিছু। এখন ই হয়তো মেহেদী তুলতে যাবে। তাই দ্রুত একটা স্থানে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো রেখে আজমেরী বেগম আর সবার সঙ্গে যোগ দিলো। লামিয়া কে দেখে মিলি মুখ বাঁকিয়ে রাখলো।
পিছন থেকে এসে রাশেদ, শুভ্র, লাবিব, জাহিদ , ফাহিম, সামির ও যোগ দিয়েছে সবার সঙ্গে।
এখানে কোথাও মেহেদী গাছ নেই তাই মেহেদী তুলতে শুভ্রা নিবাসে যেতে হবে তাই লামিয়া রুমে গিয়ে চাবির গোছা নিয়ে এসে হাঁটা ধরলো সেদিকে। তাঁর পিছন পিছন সবাই।
শুভ্রা নিবাসে এসে আজমেরী বেগম মেহেদী তুলতে লাগলেন। মেহেদী তোলা শেষে আজমেরী বেগম ভ্রু কুঁচকে বললো ” এহন এই মিষ্টি খান কারে দিমু? মিষ্টি তো দেওয়ান লাগে বাড়ির মালিক রে। ”
” সমস্যা কি এই মিষ্টি গুলো লামিয়া কে দিয়ে দাও দাদী। এই বাড়ির মালিক আর গাছের মালিক তো লামিয়া”। পাশ থেকে মাহির বললো।
” হ ঠিক কইছোস লামিয়া মাথায় উড়না টাইন্না খাড়া তো সামনে ।”
লামিয়া কোনো কথা না বলে মাথায় উড়না টেনে দাঁড়াতেই শুভ্র মুচকি হাসলো। আজমেরী বেগম লামিয়ার হাতে মিষ্টি তুলে দিতেই লামিয়া হেঁসে গিন্নিদের মতো করে আজমেরী বেগম কে বললো ” আপনার নাতি নাতনিদের সর্বদা মঙ্গল হোক।
লামিয়ার কথা শুনে সবাই হেঁসে উঠলো।
লামিয়া মিষ্টি গুলো একে একে সবাই কে দিয়ে দিলো। লাস্ট একটা মিষ্টি বাকি আছে সে মিষ্টি শুভ্রর দিকে এগিয়ে দিতেই শুভ্র হেঁসে বললো ” মিষ্টি তো বাড়ির মালিক কে দিয়েছে আর বাড়ির মালিক না খেয়ে আমাদের বিলিয়ে দিচ্ছে এটা কী ঠিক?”
” মিষ্টি জিনিস তেমন পছন্দ নয় মিষ্টার। তাই আপনাকে দিচ্ছি খেয়ে নিন। ”
” খেতে পারি তবে আপনি আগে খাবেন।”
” বললাম তো আ…” বলতেই শুভ্র অর্ধেক মিষ্টি লামিয়ার মুখের ঢুকিয়ে দিয়ে আর অর্ধেক নিজের মুখে পুরে হাঁটতে লাগলো।
লামিয়াও কিছু না বলে গেটে তালা দিয়ে চলে গেলো।
পাশের পুকুরের থেকে সবাই লাইন ধরে পানি এনে সাজিয়ে রাখলো কলসি।
হামিদা, আয়না, লামহা, আরিফ,আবির, সাফওয়ান কে ও আনা হলো বাগানে।
আবির পেটিকোট পড়েছে দেখে সবাই হাসলো। আবির মুখ ভোঁতা করে দাঁড়িয়ে আছে।
তারপর তাদের গাঁয়ে হলুদ মাখিয়ে গোসলের পর্ব শুরু করলো। চারপাশে সবাই রঙা রঙি করতে লাগলো। একজন আরেকজনকে রঙ দিয়ে পুরো ভুত বানিয়ে দিয়েছে
রঙা রঙির মাঝে সাউন্ড বক্সে গান বেজে উঠলো
~ Itna maza, kyun aa raha hai
Tune hawa mein bhaang milaya
Dugna nasha, kyun ho raha hai
Aankhon Se meetha tune khilaya
Ho teri malmal ki kurti gulabi ho gayi
Manchali chal kaise
Nawaabi ho gayi, TOH?
Balam pichkari jo tune mujhe maari
Toh seedhi saadi chhori sharaabi ho gayi
গান বাজতেই সবাই নাচতে লাগলো যে যেভাবে পারে। ওইদিকে আবিরের পেটিকোট এর গিট্টু যে ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে সেদিকে তার খেয়াল নেই। সে দিব্যি লামহার হাত ধরে নাচতে আছে। গান শেষ হতেই সবাই নাচ শেষ করে কড় তালি দিয়ে পিছনে ঘুরে তাকলো। আবির আজ বেশ খুশি তাই খুশিতে লাফিয়ে বললো
” ইয়েএএএএএএ আই লাভ ইউ লামা। তোকে অনেক ভালোবাসি। ” আবির এর কথা শুনে সবাই তাদের দিকে দাঁড়িয়ে তালি দিয়ে হৈহৈ করে উঠলো। আবার কেউ কেউ সিটি বাজালো।
আবির হেঁসে এক পা এগিয়ে লামহার দিকে এগোতেই ফুরুৎ করে পেটিকোট খুলে পড়ে গেলো।
লামহা আবিরের দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলো। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। আবির হতভম্ব হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আআআআআআআআআ করে একটা চিৎকার করে উঠলো।
এইদিকে সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছে। লামিয়া, তায়েব , তায়েবা, মাহির হাতে তালি দিয়ে গান ধরলো
প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৬ (২)
~ হেই নাচতে নাচতে পেটিকোট খুলছে তাঁতে কি হইছে?
হেই নাচতে নাচতে পেটিকোট
খুলছে তাঁতে কী হইছে?
নিচে ভায়ের মোডা একটা
জাইঙ্গা আছে ভাইরে জাইঙ্গা আছে।
ভায়া আপনে কেনো গেলেন
পেটিকোট পড়িতেতেএএ?
নাচতে নাচতে খুলে যেতেই দেখে
ফেললাম কি যেএএএ।
লজ্জা সরম খেয়ে দিলো
ভায়ার পেটিকোটে
আমরা আজকে দেখে ফেললাম
ভায়ার ওইযে কি যেএএ
আরেএএ ভায়ার ওইযে কি যেএএ
হেই নাচতে নাচতে পেটিকোট
খুলছে তাঁতে কী হইছে?
নিচে ভায়ের মোডা একটা
জাইঙ্গা আছে ভাইরে জাইঙ্গা আছে।
