Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬১

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬১

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬১
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

শেষ বিকেলে বাস এসে থামলো ইসলাম ও খান বাড়ির গেটের সামনে। বাস থেকে সবাই নামতেই দেখতে পেলো খান ও ইসলাম বাড়ির কর্তা কর্তিরা দাঁড়িয়ে আছে তাদের জন্য। লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবা মায়েদের দেখে হেঁসে তাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরতেই তাঁরা তাঁদের ইগনোর করে লামহা কে গিয়ে ধরলো। তা দেখে চারজন ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো মায়েদের দিকে। মানে তাদের কে এভাবে ইগনোর করতে পারলো তার মায়েরা??? গাজ্জাব বেইজ্জতী। ভেবেই মুখ গোমড়া করলো। তখনই পিছন থেকে কেউ জড়িয়ে ধরতেই চারজন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখলো রাশেদা বেগমকে। রাশেদা বেগম চারজনের গোমড়া মুখ দেখে হেঁসে বলল ” কী রে ঘুরতে গিয়ে খাবার দাবার ঠিক মতো খাস নি নাকি?? মুখ এমন শুকনো লাগছে কেনো??”

” সারাদিন জার্নি করে ক্লান্ত লাগছে বড় চাচি।”
” আচ্ছা..! ঠিক আছে তোরা নিজেদের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে আমি তোদের রুমে নাস্তা পাঠিয়ে দিচ্ছি খেয়ে একটা ঘুম দে দেখবি ঠিক হয়ে যাবে।”
রাশেদা বেগম এর কথা শুনে চারজন মাথা নাড়িয়ে সামনে তাকাতেই দেখলো তাদের মায়েরা লামহা কে ধরে নিয়ে আসছে বাড়ির ভিতরে। তাঁরা তাঁদের কাছে আসতেই তায়েবা বলে উঠলো
” ভাগ্যিস বড় চাচি তুমি ছিলে নয়তো আমাদের দিকে কারোর তাকানোর সময় আছে নাকি??”
তায়েবার কথা শুনে লামিয়া,তায়েব, মাহির এক সাথে বলে উঠলো ” ঠিক ঠিক ঠিক।”
তাদের কথা শুনে মনিরা বেগম চারজনের মাথায় গাট্টা মেরে বললো ” তোরা এতো হিংসুটে কবে থেকে হলি??”
লামিয়া মুখ বাঁকিয়ে বললো ” যবে থেকে তোমরা আমাদের ইগনোর করেছো তবে থেকে।”
লতিফা বেগম এবার ধমকে বললো

” বড় বোনের সাথে হিংসে করছিস তোরা?? মেরে তক্তা বানিয়ে দিবো।”
” হ্যাঁ হ্যাঁ ওই একটা কাজ ই পারো তুমি।” বাঁকা চোখ করে বললো লামিয়া। তাঁর সাথে মাহির, তায়েব, তায়েবা ও মাথা নাড়িয়ে বললো” ঠিক, ঠিক।”
লতিফা বেগম রাগ দেখিয়ে তেড়ে গিয়ে বললো
” কী বললি??”
লতিফা বেগম এর ধমক শুনে চারজন আর এক পা না দাঁড়িয়ে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে দৌড় লাগালো বাড়ির ভিতরে। তা দেখে রাশেদা বেগম হেঁসে বলল ” এতো দিন পর এসেছে তারপর ও কেনো কেনো রাগ করছিস??”
” তুমি দেখেছো কী বলেছে??”
” আহা ছোট্ট মানুষ বাদ দে। এখন সবাই আয় ভিতরে।” বলেই পিছনে তাকালো।
শুভ্র, রাশেদ, আবির, সাফওয়ান, লাবিব, জাহিদ, আরিফ দাঁড়িয়ে আছে। রাশেদা বেগম এগিয়ে গিয়ে বললো ” কী ব্যাপার তোরা দাঁড়িয়ে আছিস কেনো??”
রাশেদ মায়ের কথায় বললো

” এই তো আসছি মা।”
শুভ্র রাশেদা বেগম এর দিকে তাকিয়ে বললো ” বড় মামনি আমি বাড়িতে চলে যাবো তোমরা ভিতরে যাও।”
” সে কি? তুই ওই বাড়িতে একা একা কি করবি এখন??”
রাশেদা বেগম একটু থেমে বললো
” কোথাও যেতে হবে না তুই বাড়িতে আয়। অনেক ক্লান্ত, ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে নে তারপর দেখা যাবে। আয় এখন আমার সাথে সবাই।”
বলেই বাড়ির দিকে অগ্রসর হলো। শুভ্র রাশেদা বেগম এর কথা আর ফেলতে না পেরে রাশেদের সাথে চলে গেলো ইসলাম বাড়িতে।

ক্লান্ত শরীর নিয়ে টেনেটুনে নিজেদের রুমে পৌঁছালো সবাই । বাড়ির সব কর্তিরা হাতে হাতে টেবিলে খাবার সাজাচ্ছে। খান বাড়ির কর্তা কর্তিরাও ইসলাম বাড়িতেই আছে।

বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে গোসল করে বের হলো লামিয়া। চুলে গামছা পেচাতে পেচাতে পিছন ঘুরে তাকাতেই থমকে গেলো সে। তাঁর সামনেই বসে আছে শুভ্র। হাতে তাঁর ছোট্ট তলোয়ার আকৃতির একটা চুলের কাঠি যা পিতলের তৈরি ‌। কাঠিটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে বেশ ধারালো। শুভ্র চেয়ার থেকে উঠে এক পা – দু পা লামিয়ার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললো
” শেষ??”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে বললো ” কী শেষ??”
” গোসল??”
লামিয়া শুভ্রর হাতের কাঠির দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে জবাব দিলো
” হুম।”
শুভ্র লামিয়ার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়ে ঘাড় কাত করে লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়া বেশ শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে।
” তুই না সকালে গোসল করে রওনা দিয়েছিলি??”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়ার শীতল দৃষ্টি কেমন লাজুক দৃষ্টিতে পরিনত হলো। সে মেঝেতে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে শুভ্রর সামনে থেকে সরে যেতেই শুভ্র লামিয়ার কোমড় টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিতেই লামিয়া সরতে চাইলো কিন্তু পারলো না। তবুও নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই শুভ্র ভ্রু কুঁচকে বললো

” কী সমস্যা এমন করছিস কেনো??”
” আপনি ছাড়ুন আমাকে।”
” কেনো?”
” আমি বলছি তাই ছাড়বেন।”
” তাহলে কাল ছাড়ার জন্য বলিস নি। কেনো??”
শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলো। মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছে না তার। এই লোকটা য তাঁকে এখন জ্বালিয়ে মারার জন্য এসেছে তা সে বুঝতে পেরেছে।
” কি হলো কথা বলছিস না কেনো??”
” আপনি আমার রুমে কি করছেন?” শুভ্রর কথার উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করলো লামিয়া।
” কাল তো তুই আমার রুমে এক সাথে ছিলি কই তখন কি আমি বলেছিলাম তুই আমার রুমে কি করছিস বা আমার সাথে কি করছিস..?”
” ছিঃ শুভ্র ভাই এইসব কথা বলতে লজ্জা করে না??”
” না করে না।”
” করবে কীভাবে আপনি একটা নির্লজ্জ লোক তাই লজ্জা করে না। ”
” তোর কাছে আমি এই দুনিয়ার সবচেয়ে নির্লজ্জ লোক হয়ে থাকতে চাই।” বলেই লামিয়ার চুল থেকে গামছা টেনে খুলে ফেলে দিলো। তারপর ভেজা চুল থেকে ঘ্রাণ নিয়ে বললো ” কালকে তোকে একটা জিনিস দেওয়া হয় নি।”
লামিয়া কপালে ভাঁজ ফেলে বললো ” কী??”
শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো ” ওয়েট।”
বলেই লামিয়ার হাত দুটো পিছনে মুচড়ে ধরে লামিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে সয়তানি হাসলো। লামিয়া চিন্তিত হয়ে কিছু বলার আগেই শুভ্র লামিয়ার গলায় মুখ গুঁজে দাঁত বসিয়ে দিতেই লামিয়া চোখ মুখ খিচে চেঁচিয়ে উঠলো ” শুভ্র ভাইইইইইইইইইই।”

শাওয়ার এর নিচে দাঁড়িয়ে আছে ছবি। বাথরুমের দরজায় টোকা পড়তেই ছবি ভ্রু কুঁচকে বললো
” কে??”
বাহিরের থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসলো না। ছবি আর কিছু না ভেবে শ্যাম্পুর বোতল হাতে নিতেই আবারো দরজায় টোকা পড়লো। ছবি বোতল রেখে এবার এগিয়ে গিয়ে দরজার কাছে দাঁড়াতেই আবারো দরজায় টোকা পড়লো। ছবি আর কিছু না ভেবে এগিয়ে গিয়ে আয়নার পিছন থেকে একটা চিকন ছোট্ট একটি ছু*রি বে*র করে আস্তে ধীরে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। তারপর বেশ সাবধানে দরজার লক ধীরে ধীরে খুলতেই কেউ ঝাঁপিয়ে পড়তেই ছবি লোকটার চুল ধরে ঘাড়ে ছু*রি ধরতেই লাবিব চেঁচিয়ে উঠলো ” এই এই বউ আমি আমি। তোর স্বামী লাবিব।”
লাবিব এর কথা শুনে ছবি ছু*রি ফেলে তাড়াহুড়ো করে লাবিব এর ঘাড়ে চোখ বুলিয়ে দেখতে লাগলো কোথাও আঘাত লেগেছে কি না।
লাবিব এর ঘাড়ে আঘাত লাগে নি দেখে ছবি স্বস্তির শ্বাস ফেলে বললো

” আপনি এখানে কী করছেন?? আর এসেছেন যখন পরিচয় না দিয়ে এমন চুপ করে ছিলেন কেনো??”
লাবিব মুখ ফুলিয়ে বললো ” তোকে আমি সারপ্রাইজ দিতে এসেছিলাম। কিন্তু তুই উল্টো আমাকে সারপ্রাইজ দিয়ে দিলি ‌ আর এভাবে কেউ জামাইয়ের গলায় ছু*ড়ি ধরে?? যদি কিছু হয়ে যেতে তখন?”
” সরি সরি লাবিব ভাই ভুল হয়েছে। আর আপনিও আছেন কথা বললে কি হতো আপনার??”
” কথা বললে সারপ্রাইজ হতো নাকি??”
” সারপ্রাইজ এইসময় দেওয়ার সময় লাবিব ভাই??”
” এই এই খবরদার লাবিব ভাই বলবি না। জামাই তোর শুধু লাবিব বলবি।”
” আচ্ছা। এখন আপনি বাহিরে যান আমি আসছি।”
” এই মেয়ে বাহিরে যাওয়ার জন্য কী তোর বাথরুমের দরজা নক করেছি নাকি??”
” তাহলে কীসের জন্য নক করেছেন??”
লাবিব দুষ্টু হেঁসে বলল ” তোর সাথে গোসল করবো তাই ‌।”
লাবিব এর কথা শুনে ছবি আঁতকে উঠলো।
” আপনার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে লাবিব ভাই। আমার সাথে গোসল করবেন মানে??
” এমন ভাব করছিস মনে হয় কোনো পরপুরুষ বলেছে এই কথা।”
” যেই বলুক আমি আপনার সাথে গোসল করবো না।”
” কেনো বউ..! আমি তো তোর স্বামী তাই না।”
” শুভ্র ভাই জানলে অনেক খারাপ হবে।”
লাবিব ছবির কথায় এবার বেশ বিরক্ত হলো।

” আবার শুভ্র?? ওই তোর ভাই জানবে কীভাবে এই কথা?? আর ওও নিজেই কালকে ওর বাসর শেষ করে ফেলেছে। আর ওর জন্য এখনো আমি বাসর তো দূরের কথা আমার বউ কে একটু জড়িয়ে ধরতেই পারিনি।”
” এতো কথা বুঝি না আপনি এখন ই বের হন।”
লাবিব ছবির কথায় এবার বেশ জেদি স্বরে বলল ” আমি বের হবো না, আর তোকেও যেতে দিবো না। আমার বউয়ের সাথে আমি কী করবো না করবো আমার ব্যাপার।”
বলেই বাথরুমের দরজা লাগিয়ে দিয়ে ছবির দিকে এগোতে লাগলো।
” লাবিব ভাই কাছে আসবেন না।”
” তাহলে তুই কাছে আয় জান।”
” একদম না।”
” একদম হ্যাঁ।”
” আমি কিন্তু চিৎকার করবো।”

ছবির কথা শুনে লাবিব এক অট্টহাসি দিয়ে বলল ” কর চিৎকার আমার কোনো সমস্যা নেই।”
ছবি পিছিয়ে যেতে যেতে একদম দেয়ালের সাথে লেগে গেলো।
লাবিব ছবির দিকে তাকিয়ে হেঁসে বলল ” আজ পালানোর রাস্তা সব বন্ধ জান।”
বলেই ছবির পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে বললো ” জান তোর ভেজা শরীর আমাকে টানছে ভীষণ।” বলেই শুকনো ঢোক গিলে ছবির দিকে তাকালো। তারপর দাঁত কেলিয়ে হেঁসে নিজের গায়ের শার্ট খুলে ফেলে দিয়ে হাত বাড়িয়ে ছবির গোলাপী ঠোঁট স্পর্শ করতেই ছবি কেঁপে উঠলো। লাবিব তা দেখে হাসলো। তারপর মাথা নিচু করে ছবির কানের কাছে ফিসফিস করে বললো ” তো শুরু করা যাক??”
ছবি কাঁপা কাঁপা গলায় বললো ” কী??”
লাবিব ফের দাঁত কেলিয়ে বললো
” দেখাচ্ছি।” বলেই ছবির ঠোঁট আঁকড়ে ধরলো।

রাতের খাবার দাবার শেষ করে খান বাড়ির লোকেরা সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন তাদের বাসায়। লুবনা বেগম লামহা কে ও সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু হামিদ সাহেব লামহা কে থেকে যেতে বলায় লুবনা বেগম আর কিছু বলেন নি।
লামহা যেখানে আবির ও সেখানেই থাকবে বউ ছাড়া সে একা থাকতে না পারায় সে ও ইসলাম বাড়িতে আজ থেকে যাবে।
আবির লামহা কে আস্তে ধীরে ধরে রুমে বসিয়ে দিয়ে পাঁচ মিনিট এর কথা বলে বের হলো রুম থেকে। লামহা ও মাথা নাড়িয়ে বিছানায় বসে টেবিলের উপরে রাখা বইটা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলো। এর মধ্যেই হাতে ইয়া বড় বড় ব্যাগ হাতে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে রুমে প্রবেশ করলো লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবা। তাদের রুমে আসতে দেখে লামহা বইয়ের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে তাদের দিকে দৃষ্টি দিলো। তাদের হাতে এতো বড় বড় প্যাকেট দেখে লামহা কপালে সামান্য ভাঁজ ফেলে বললো ” কী ব্যাপার তোদের হাতে এসব কী??”
চারজন লামহার কথা শুনে হেঁসে বললো ” তেমন কিছু না মেজো আপা। ”

” তেমন কিছু না তাহলে এই তোদের ব্যাগে এসব কী??”
চারজন একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে বিছানায় এক সাথে প্যাকেট গুলো উল্টো করতেই প্যাকেট থেকে অনেক গুলো বাচ্চাদের খেলনা বেরিয়ে আসলো। পুরো বিছানা জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো বাচ্চাদের খেলনা। এতো খেলনা দেখে লামহার চোখ কপালে।
” এতো গুলো খেলনা…?” বেশ অবাক হয়ে বললো লামহা।
” আরে এগুলো অনেক কম হয়ে গিয়েছে আপা।” হেঁসে বলল লামিয়া।
” এগুলোকে কম বলে?? মনে তো হচ্ছে পুরো দোকান উঠিয়ে নিয়ে এসেছিস তোরা।”
কথা টা শুনে সবাই পিছন দিকে তাকাতেই দেখলো আবির দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে তায়েবা দাঁত কেলিয়ে বললো ” আরেহহ আরেহহ দুলাভাই যে আসুন আসুন ভিতরে আসুন।”
তায়েবার কথায় আবির মুখ বাঁকিয়ে ভিতরে আসতে আসতে বলল
” তুই ভিতরে আসতে বললেও আমি আসবো না আসতে বললেও আমি আসবো।”
তায়েবা আবিরের দিকে তাকিয়ে বলল ” সব ই বুঝলাম কিন্তু আপনি সবসময় মুখ বাঁকিয়ে কথা বলেন কেনো??”
আবির কিছু বলতে যাবে তাঁর আগে লামিয়া তায়েবার কাঁধে হাত রেখে বললো ” আরেহহ গাঁধী উনি মুখ বাঁকিয়ে কথা বলে না তো। উনার মুখটাই কেমন ব্যাকা চ্যাকা দেখিস না তুই??”
লামিয়ার কথা শুনে মাহির, তায়েব, তায়েবা তিনজন হেঁসে উঠলো ‌। আবির মুখটা কালো করে লামহার দিকে তাকিয়ে বললো ” দেখেছিস তোর ভাই বোনদের কথা??”

মাহির হাত দিয়ে নিজের চুলে ব্রাশ করতে করতে বললো ” কথা কীভাবে মুখ দিয়ে শুনে আবির ভাই?? কথা তো কান দিয়ে শুনে তাই না। আপনার বলা উচিত ছিলো শুনেছিস লামহা তোর ভাই – বোনদের কথা।”
আবির মাহিরের দিকে তাকিয়ে বললো ” শালা বাবু তোমার কান্না করার সময় এসে গিয়েছে বোধহয়।”
মাহির ভ্রু কুঁচকে বললো ” মানে??”
আবির বাঁকা হেঁসে বলল ” সেটা তো কাল সকালেই দেখতে পাবে।”
কাল সকালে কী হবে আর কী দেখতে পাবে?? আবিরের কথা চারজন বুঝতে না পেরে আবিরের দিকে তাকাতেই আবির হেঁসে বলল
” আরেহ আরেহ আর ভাবতে হবে না। আজকে এইসব ভাবা- ভাবি বাদ দিয়ে তোরা রিল্যাক্স ভাবে একটা ঘুম দিবি। কে জানে কালের পর থেকে তোদের রিল্যাক্স ভাবে ঘুমাতে পারবি কি না??”
লামিয়া কপালে হালকা ভাঁজ ফেলে বললো ” আপনি কি বলতে চাইছেন তা স্পষ্টভাবে বলুন তো।”
” তোদের এতো স্পষ্ট ভাবে বলতে পারবো না। যাই হোক এতো ছেলেদের খেলনা এনেছিস কেনো??”
তায়েবা বলে উঠলো ” কারণ আমাদের মেজ আপার ছেলে হবে তাই।”
আবির কপাল কুঁচকে বললো

” তোদের কে বলেছে আমার ছেলে হবে?? আমার একটা ছোট্ট মেয়ে হবে বুঝলি তোরা।”
” ছেলে হবে আমাদের আপার ‌।”
” মেয়ে হবে।”
” ছেলে হবে।”
” মেয়ে হবে।”
ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে এই নিয়ে চার বিচ্ছুদের সাথে এক দফা ঝগড়া লেগে গেলো আবিরের সাথে। লামহা বিরক্ত হয়ে দেখতে লাগলো তাদের ঝগড়া। ঝগড়া শুনে পাশের রুম থেকে আরিফ আর আয়না দৌড়ে আসতেই দেখলো আবিরের সাথে চার বিচ্ছু ঝগড়া করছে। আরিফ রুমে এসে চারজনের মাথায় গাট্টা মেরে বললো ” এই রাতে ও তোদের ঝগড়া করতে হবে??”
লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো ” আমরা ঝগড়া করছি ছোট্ট মিয়া?? পুরো কথা না শুনে আমাদের উপর দোষ দিচ্ছ কেনো??”
আবির লামিয়ার কথায় বলে উঠলো

” ওওহ আইছে, তোরা এক নম্বরের ঝগড়াখুর।”
আবিরের কথা শুনে তায়েবা ক্ষেপে গিয়ে বললো ” আমরা ঝগড়া খুর?? আপনে ঝগড়াখুর। ছেলে হয়েও মেয়েদের মতো ঝগড়া করেন লজ্জা করে না..?”
তায়েবার কথা শুনে মাহির বললো
” ঠিক ঠিক, মাঝে মাঝে মনে চায় মেয়েদের মতো ঝগড়া করার জন্য রবীন্দ্রনাথের নোবেল টা এনে উনার পি*ছন দিয়ে গুঁজে দেই।”
মাহিরের কথা শুনে আবির রেগে বললো ” দেখেছিস?? শুনেছিস তোদের ভাই – বোনদের কথা?? কী ব্যাবহার তাদের। বোনের জামাইয়ের সাথে এমন ব্যাবহার মানতে পারলাম না।”
তায়েব কিছু বলতে যাবে তার আগেই পিছন থেকে কেউ তার কান জোরে টেনে ধরতেই তায়েব চেঁচিয়ে উঠলো। সবাই পিছনে তাকাতেই দেখলো রাশেদ তায়েব এর কান টেনে ধরে রেখেছে পিছনে শুভ্র।
রাশেদ চারজনের দিকে তাকিয়ে চোখ পাকিয়ে বলল ” থাপ্পড়ে তোদের গাল লাল করে দিবো। রাত কয়টা বাজে হ্যাঁ?? আর তোরা এখানে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করছিস কেনো??”

রাশেদের কথা শুনে চারজন মুখ ফোলালো। এখন কিছু বললে বড় ভাই চারজনের পিঠ ফাটিয়ে দিবে তাই ভয়ে কেউ কোনো কথা বললো না। রাশেদ আবিরের দিকে তাকিয়ে বললো ” তোরা ঘুমিয়ে পর। এদের নিয়ে আমি যাচ্ছি।”
” হ্যাঁ হ্যাঁ দ্রুত নিয়া যা। আমি ঘুমাবো আর আমার বউয়ের ও বিশ্রামের প্রয়োজন। যা তোরা এখন এখানে থেকে।”
রাশেদ চারজন কে ধমকে রুমের বাহিরে যেতে বললো। চারজন মুখ কালো করে বাহিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। তায়েব যাওয়ার সময় আস্তে করে কলমদানি থেকে একটা কলম তুলে রুমের বাহিরে এসে দাঁড়ালো।
রাশেদ আরিফ,আয়নাকে নিজের রুমে যেতে বললেই তারা নিজেদের রুমে চলে গেলো। রাশেদ চারজনের হয়ে আবিরের কাছে মাফ চাইতেই আবির হেঁসে বলল ” ছিঃ কি করছিস ওরা ছোট্ট আর সবচেয়ে বড় কথা আমি ওদের বোনের স্বামী। তাঁরা তো দুষ্টুমি মজা করবেই। আমি কখনো ওদের কথায় কষ্ট পাই নি। বরং ওদের সাথে ঝগড়া করতে ভালোই লাগে।”

আবিরের কথা শুনে রাশেদ হালকা হাসলো। তারপর এগিয়ে গিয়ে লামহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। চার বিচ্ছু এখনো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কি জানি ফুসুর ফুসুর করছে। শুভ্র ও তাদের পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তাদের কানাকানি শেষ হতেই চারজন হিহি করে হাসলো। আবির আর রাশেদ রুমের দরজায় এসে দাড়াতেই দুজন ভ্রু কুচকালো।
রাশেদ রাগি কন্ঠে বললো ” কিরে এখনো দাঁড়িয়ে আছিস তোরা এখানে। ঘুমাতে যাস নি কেনো?”
মাহির বললো ” বড় মিয়া যাবো তো। তোমার জন্যেই দাঁড়িয়ে আছি। চলো এক সাথে যাই।”
রাশেদ আর কিছু না বলে আবির কে বললো দরজা বন্ধ করে দিতে। তারপর চারজনের দিকে তাকিয়ে বললো ” চল।”
আবির যেই দরজা বন্ধ করতে যাবে তাঁর আগেই তায়েব বলে উঠলো
” আবির ভাই দেখেন মেজ আপা আপনার পিছনে।”
এই শরীর নিয়ে লামহা বিছানা ছেঁড়ে উঠেছে কেনো?? ভাবতে ভাবতে পিছন ফিরে তাকাতেই দেখলো লামহা বিছানায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। আবির ভ্রু কুঁচকে সামনের দিকে যেই ঘুরতে যাবে ওমনি তাঁর পশ্চাৎদেশ এ তায়েব কলম বিঁধে দিলো।
ব্যাথায় আবির চিৎকার করে উঠতেই লামহা লাফিয়ে উঠলো। রাশেদ আর শুভ্র নিজেদের কপাল চাপড়ালো। মাহির, তায়েবা, লামিয়া আর তাযেব কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রুমে যেতে যেতে গাইতে লাগলো

~ মাইরা ফালাইছে রে ন্যাংটা, মাইরা ফালাইছে।
মাইরা ফালাইছে রে ন্যাংটা, মাইরা ফালাইছে।
হ**গার মধ্যে কলম দিয়া, মাইরা ফালাইছে।
এদিকে এদের গান শুনে রাশেদ আর শুভ্র হাসবে নাকি আবিরের এই অবস্থায় তাঁরা কান্না করবে নাকি তাঁকে গিয়ে ধরবে কিছু বুঝতে পারছে না তাঁরা। তবে এদের গান শুনে ভীষণ হাঁসি পাচ্ছে তাদের। তবুও নিজেদের হাঁসি কন্ট্রোল করে শুভ্র আবির কে বললো ” বেশি ব্যাথা পেয়েছিস??”
আবির ঠোঁট চেপে বললো ” আমার পিছন ফেটে যাচ্ছে আর তুই বলছিস বেশি ব্যাথা পেয়েছি কি না??”
রাশেদ ঠোঁট কামড়ে হাঁসি আটকে বললো ” আয় ভাই আয় স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করে পট্টি লাগিয়ে দিচ্ছি।”
রাশেদের কথা শুনে শুভ্র হাত দিয়ে মুখ ঢেকে হাসলো। তারপর বললো
” আয় আয় আবির প্যান্ট খুল। রাশেদ যা তুলো আর স্যাভলন নিয়ে আয়। নে আবির প্যান্ট খুল।”
তাদের এমন কথা শুনে আবির দাঁতে দাঁত চেপে বললো ” আমার এই অবস্থায় তোরা মজা নিচ্ছিস?”
রাশেদ আর শুভ্র ঠোঁট চেপে হাঁসি আটকে রেখে মাথা ডানে – বামে নাড়ালো। তখনই লামহা রুম থেকে বলে উঠলো ” কী হয়েছে আবির??”
আবির হাঁসির চেষ্টা করে লামহার দিকে তাকিয়ে বললো ” কিছু না জান তুই ঘুমা।” বলেই শুভ্র আর রাশেদের দিকে তাকিয়ে বললো
” ওদের কে আমি দেখে নিবো।” বলেই দরজা বন্ধ করে দিলো। দরজা বন্ধ করতেই রাশেদ আর শুভ্র জোরে হেঁসে উঠলো। হাসতে হাসতে নিজেরাও রুমে চলে গেলো।
এই চারজন কে নিয়ে তাঁরা কোথায় যে যাবে তা বুঝতে পারে না তাঁরা।

” আজ আকাশ আসছে আমাদের বাড়িতে। ফটাফট ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নে।”
হালিমা বেগমের কথা শুনে গভীর ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলো হাফসা। কী বললো মা?? কে আসছে?? ভেবেই সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো হালিমা বেগম নেই ‌। সে হাফসা কে ঘুম থেকে তুলে চলে গিয়েছেন রান্নাঘরে। হাফসা আর কিছু না ভেবে পাশ থেকে ওড়না নিয়ে দৌড় লাগালো রুম থেকে বের হয়ে। দৌড়াতে দৌড়াতে কারোর সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতেই কেউ তাকে বাঁচিয়ে নিলো। হাফসা ভয়ে ভয়ে সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো মাহির শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। হাফসা মাহির কে দেখে দ্রুত দূরে সরে দাঁড়িয়ে বললো
” মা… মাহির ভাই আপনি??”
মাহির শান্ত কন্ঠে জবাব দিলো
” হ্যাঁ আমি। আর এভাবে দৌড়া দৌড়ি করছিস কেনো?? এখন ই যদি পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেতিস তখন কী হতো??”
” সরি। আসলে আমি তাড়াহুড়ো তে ছিলাম দেখি নি।”

হাফসার কথায় মাহির আর কিছু না বলে তাঁর পাশ কাটিয়ে সামনের দিকে যেতে লাগলো। হাফসা পিছন ফিরে মাহিরের যাওয়ার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বিড়বিড় করতে লাগলো ” প্লিজ একবার পিছন ফিরে তাকাও মাহির ভাই। প্লিজ একটি বার আমাকে তোমার ওই গোলগোল মুখটা দেখতে দাও। প্লিজ প্লিজ প্লিজ।” বিড়বিড় করতে করতে মাহির কে দেখতে লাগলো। সে ভেবেছে মাহির হয়তো একবার পিছন ফিরে তার দিকে তাকাবে বা দেখবে কিন্তু না তাঁর ভাবনার উপর এক বালতি পানি ঢেলে মাহির পিছনে না তাকিয়ে জাহিদের রুমে চলে গেলো। তা দেখে হাফসা মুখটা মলিন করে চলে গেলো রান্নাঘরের দিকে। হাফসা চলে যেতেই মাহির দরজার থেকে উঁকি মেরে হাফসার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেঁসে আবার রুমের ভিতরে চলে গেলো।

শীতের সকাল। চারদিকে কুয়াশায় ঢাকা। হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে চারপাশে। শাহরিয়া নিবাস বাড়ির ছাদের নিজ মনে ফুল গাছে পানি দিচ্ছে লামিয়া। কাল রাতে রাতে শুভ্র তাঁকে জড়াজড়ি করে এই বাড়িতে নিয়ে এসেছিলো। তারপর এখানেই তাঁকে ঘুমাতে হয়েছে। যেহেতু এইটাই তাঁর শ্বশুড় বাড়ি তাই এখন থেকে এখানেও থাকতে হবে শুভ্র কাল রাতে বলে দিয়েছে তাঁকে। লামিয়া ও কোনো কথা না বলে মাথা নাড়িয়েছিলো। শুভ্র ভেবেছিলো সে রাজি হবে না কিন্তু তাঁকে ভুল প্রমাণ করে লামিয়া কোনো কথা না বলেই রাজি হয়ে গিয়েছে দেখে ভীষণ খুশি হয়েছে শুভ্র। তারপর লামিয়ার মাথা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে সারা রাত একা একা বকবক করেছে লোকটা। তাঁর বকবক শুনতে শুনতে কখন যে লামিয়া ঘুমিয়ে গিয়েছিলো তার খেয়াল নেই। ফজরের আযানের ধ্বনি শুনে ঘুম ভেঙে যেতেই ঘুম থেকে উঠে দেখে তাঁকে বাচ্চাদের মতো জড়িয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে লোকটা। ঘুমন্ত অবস্থায় লোকটা কে দেখতে কী যে সুন্দর লাগে সেটা কী ডিটেকটিভ সাহেব জানে?? হয়তো জানে না। যদি জানতো তাহলে কী যে ভাব নিতো এই লোকটা সেটা কেবল আল্লাহ জানে। ভেবেই মুচকি হাসলো লামিয়া।

” বেশিই খুশি দেখাচ্ছে আজ কাল।”
কথা টা শুনে গাছে পানি দেওয়া বন্ধ করে পিছন ফিরে তাকালো লামিয়া। বুকে হাত ভাঁজ করে মিরা দাঁড়িয়ে আছে তাঁর পিছনে। লামিয়া মিরার দিকে তাকিয়ে হেঁসে বলল
” প্রিয় মানুষটি যদি আজ কাল সুখে রাখে তাহলে খুশি থাকাটাই স্বাভাবিক তাই না??”
লামিয়ার কথা শুনে মিরার রাগ হলো। এগিয়ে লামিয়ার দিকে যেতেই লামিয়ার গাঁয়ের দিকে চোখ পড়লো মিরার। শুভ্রর হুডি লামিয়ার গাঁয়ে। তা দেখে আরো ক্ষেপে গেলো মিরা।
” শুভ্রর হুডি তোমার গাঁয়ে কেনো??”
মিরার কথা শুনে লামিয়া নিজের গাঁয়ের হুডির দিকে তাকিয়ে হেঁসে বলল ” স্বামীর হুডি বউয়ের গাঁয়ে থাকবে নয়তো কি অন্য মেয়ের গাঁয়ে থাকবে নাকি?”
মিরা লামিয়া কে চোখ দিয়ে শাসিয়ে বললো ” আবরার এর থেকে দূরে থাকো।”
লামিয়া এক ভ্রু উঁচিয়ে বললো

” যদি না থাকি??”
” নিজের ভালো চাইলে দূরে থাকো নয়তো খুব খারাপ হবে??”
” আর আমি খারাপ হলে তোমার পিছন দিয়ে খারাপ ভ*রে দিবো শালির নাতিন।”
লামিয়ার কথায় মিরা ঠোঁট টেনে হেঁসে বলল ” আমাকে চিনো আমি কে??”
” অন্যের জামাই নিয়ে টানাটানি করা এক মাতারি তুমি।”
” লামিয়া মুখ সামলে কথা বলো।”
” তুইও তাহলে তোর চরিত্র সামলে রাখ।”
লামিয়ার কথায় মিরা এবার রাগে ফেটে পড়লো। ক্ষিপ্ত হয়ে লামিয়ার চুলের মুঠি ধরার আগেই লামিয়ার হাত মিরার গলা শক্ত করে চেপে ধরলো। মিরা ব্যাথায় ছটফট করে উঠতেই লামিয়া হিসহিসিয়ে বললো
” সাবধান করেছিলাম না আমার সাথে না লাগতে??” বলেই আরো জোরে গলা চেপে ধরলো। মিরা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো কিন্তু পারলো না। লামিয়া তা দেখে আরো জোরে গলা চেপে ধরতেই মিরার জিহ্বা বের হয়ে গেলো। তা দেখে লামিয়া বাঁকা হেঁসে ছেঁড়ে দিতেই মিরা কেশে উঠে বড় বড় শ্বাস নিতে লাগলো।
লামিয়া হাত ঝাড়তে ঝাড়তে বললো

” আমার সাথে পাঙ্গা নিতে আসলে ওইটা তোর উপর ভারি পড়বে। তাই আবারো সাবধান করছি দূরে থাক। নয়তো কেটে রেখে দিবো।”
মিরা নিজেকে সামলে শক্ত গলায় বলল ” শুভ্র কে আমি তোমার কোনোদিন ও হতে দিবো না। ছিনিয়ে নিবো তোমার থেকে আমি।”
মিলির কথা শুনে লামিয়া বাঁকা হেঁসে মিলির দিকে তাকিয়ে এইবার উচ্চ স্বরে হেঁসে বলে উঠলো
” শুভ্র কী আমার হাতের চিপসের প্যাকেট নাকি যে তোর লোভ লাগলো খেতে মন চাইলো আর হাত বাড়িয়ে ছিনিয়ে নিবি? আর আমারে কী তোর বাচ্চা মনে হয় যে শুভ্র নামের চিপসের প্যাকেট ছিনিয়ে নিতে চাইবি আর আমিও নিতে দিবো? আরেহহ এই মাং*ঙ্গের নাতি কয় কী? এই বা*ল তোর জিনিস এর মতো লামিয়ার জিনিস এতোই সস্তা নাকি? কান খুলে শুনে রাখ, এক মাত্র আমার সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আমার থেকে আমার প্রিয় জিনিস কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আর যে ব্যাক্তি আমার প্রিয় জিনিসের দিকে হাত বাড়াবে সেই হাত আমি ভেঙে তাঁর পিছনেই গুঁজে দিবো। পিছনে গুজে দিলেই সারাজীবন মনে রাখবি লামিয়ার কী জিনিস। লামিয়ার জিনিসের দিকে হাত বাড়ানোর আগে দ্বিতীয় বার ভাববি তখন।

আমার জিনিস কীভাবে রক্ষা করতে হয় আমি খুব ভালো করেই জানি। তাই সাবধান করছি দূরে থাক শুভ্রর থেকে। অতিথি, অতিথির মতো থাক। ঘরের জিনিসের দিকে চোখ দিস না। তাহলে চোখ চোখের জায়গায় রাখবো না মাথায় রাখিস কথাটা। ”
বলেই পিছন ফিরতেই দেখলো শুভ্র পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাঁর দিকে নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে। লামিয়া শুভ্র কে দেখে চোখ মুখ শক্ত করে এগিয়ে শুভ্রর সম্মুখে দাঁড়িয়ে কঠিন কন্ঠে বলে উঠলো
” তুই আমার না হলে, তোকে আমি আল্লাহর নামে কো*রবানি দিয়ে দিবো তবুও অন্য কোনো নারীর হাতে তুলে দিবো না। আর যদি তুই অন্য কোনো নারীর দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিস তাহলে তোর ওই চোখ গুলো আমি তুলে নিবো, আই রিপিট তুলে নিবো। গট ইট।”
বলেই শুভ্রর কাঁধে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে নিচে নেমে গেলো। শুভ্র মিরার দিকে তাকাতেই দেখলো মিরা তাঁর দিকে তাকিয়ে নিরবে কান্না করছে। শুভ্র তা দেখে ও না দেখের ভান করে মুখ গোল করে শিস বাজাতে বাজাতে সেও নেমে গেলো ছাদ থেকে। শুভ্র যেতেই মিরা ডুকরে কেঁদে উঠলো।

জাহিদের সাথে কথা বলে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতেই মাহিরের চোখ পড়লো খান বাড়ির হল রুমের দিকে। সেখানে বসে আছে একটি ছেলে। বয়স ২৭ বা ২৮ হবে। দেখতে কেমন ভাবা গোবা স্বভাবের। মাথায় জবজবে তেল দিয়ে মাঝখানে সিঁথি করা। গাঁয়ে হলুদ রঙের গেঞ্জি আর জিন্স প্যান্ট। মাহির তার দিকে নাক কুঁচকে তাকিয়ে আছে। হালিমা বেগম ছেলেটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর এটা ওটা বলছে। ছেলেটিও বেশ ভদ্রতা নিয়ে মাথা নাড়াচ্ছে। কিছুক্ষণ পর বেশ লাজুক কন্ঠে বললো ” ফুপি হাফসা কোথায়??”
হালিমা বেগম আকাশের কথা শুনে হেঁসে বলল ” ওই দেখো আমি তো ওকে ডাকতেই ভুলে গিয়েছি তুই বস আমি ওকে ডাকছি।” বলেই হাক ছেঁড়ে হাফসা কে ডাকতেই হাফসা নিচে নামতে লাগলো। মাহির পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো হাফসা নতুন জামা পরে সাজুগুজু করে নিচে নামছে। মাহির তা দেখে ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো হাফসার দিকে।
সিঁড়ি থেকে নামতে নামতে সামনে মাহির কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাফসার পা থেমে গেলো। মাহির হাফসা কে দেখে গম্ভীর গলায় বললো ” এতো সেজে কোথায় যাচ্ছিস?”
হাফসা আমতা আমতা করে বলল

” কোথাও না।”
” তাহলে সেজেছিস কেনো এতো?”
” মা পরিপাটি হয়ে থাকতে বলেছে।”
” কেনো?”
” ওই যে আকাশ ভাইয়া আসবে তো তাই।”
” এই আকাশ ভাইটা কে আবার??”
হাফসা হল রুমের দিকে আঙুল তাক করে বললো ” ওইযে…!”
মাহির হাফসার আঙুলের সই সই তাকিয়ে দেখলো। তারপর গম্ভীর গলায় আবারো বললো ” এটা কে??”

” আমার মামার ছেলে।”
” এখানে এসেছে কেনো??”
” বেড়াতে।”
” এই ছেলে বেড়াতে আসলে তুই সাজবি কেনো??”
” আমি সাজলে উনি অনেক খুশি হয়।”
” উনি মানে??” মাহির ভ্রু কুঁচকে বললো।
” মানে আকাশ ভাইয়া।”
” তাই নাকি?? কিন্তু কেনো?”
হাফসা আর কিছু বলতে যাবে তাঁর আগে হালিমা বেগম আবারো হাফসা কে ডেকে উঠতেই হাফসা দৌড়ে নিচে গেলো। মাহির ধীর পায়ে যেতে লাগলো হল রুমের দিকে। ব্যাপার টা কী তা জানতে হবে। হাফসা সেখানে যেতেই হালিমা বেগম হাফসা কে ধরে আকাশের পাশে বসিয়ে দিতেই আকাশ লজ্জা পেলো। হাফসা বিরক্ত হয়ে উঠে যেতেই হালিমা বেগম ধমকে উঠলো

” খবরদার উঠবি না। তোদের দেখতে ভীষণ সুন্দর লাগছে। কারোর নজর না লাগুক। এই বার ভাই বাড়িতে আসলে তোদের বিয়ের কথা পাকা করে ফেলবো।”
হালিমা বেগম এর কথা শুনে মাহিরের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো। সেখানে আর না দাঁড়িয়ে দ্রুত চলে গেলো বাড়িতে। মুখ টা মলিন করে বাড়ির দিকে আসতেই পিছন থেকে লামিয়া মাহিরের কাধে হাত রেখে বললো
” এতো সকাল সকাল খান বাড়িতে গিয়েছিলি কেনো??”
মাহির কোনো কথা না বলে চুপচাপ হাঁটতে লাগলো। মাহির কোনো কথা বলছে না দেখে লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো ” কী সমস্যা তোর, কথা বলছিস না কেনো??”
মাহির চুপ, লামিয়া ভ্রু কুঁচকে মাহিরের দিকে তাকাতেই দেখলো মাহিরের মুখটা মলিন।
” কী হয়েছে তোর?? মন খারাপ কেউ কিছু বলেছে?? মুখ এমন মলিন করে রেখেছিস কেনো??”
মাহির তবুও কোনো কথা বলছে না দেখে লামিয়ার এবার ভীষণ রাগ হলো। মাহিরের কাঁধে জোরে কিল মারতেই মাহির রেগে গিয়ে লামিয়া কে বললো ” কি সমস্যা তোর?? সবসময় ফাজলামি করিস কেনো?? সবসময় মজা ভালো লাগে না।” বলেই হনহন করে চলে গেলো বাড়িতে। লামিয়া থ হয়ে দাঁড়িয়ে মাহিরের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। কি হয়েছে এই ছেলের আবার। কখনো তো এমন ব্যাবহার করে না তাহলে?? বিষয় টা খুঁটিয়ে দেখতে হবে। ভেবেই পা ফেলে চলে গেলো বাড়িতে।

” খুব শীঘ্রই দেখা হচ্ছে বুলবুলি।”
“এটাই বুঝি তোমার স্বপ্নের মেয়েটি??”
কথাটা শুনে মুচকি হাসলো কায়সার। তারপর পিছন ফিরে বললো ” হুমমম।”
” তা কবে নিজের করবে??”
” খুব দ্রুত।”
” তখন আমার কী হবে?”
” তোমাকে তোমার বাড়িতে দিয়ে আসবো তখন।”
” তোমার কী মনে হচ্ছে না তুমি আমাকে ব্যাবহার করছো।”
” তুমি হয়তো ভুলে গিয়েছো টাকার বিনিময়ে তুমি আমার কাছে এসেছো।”
” হ্যাঁ…তবে আমি তোমাকে ভালোবাসি কায়সার।”
” কিন্তু আমি বাসি না।”
কথাটা শুনে এলিসার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো।
কায়সার তা দেখে ও না দেখার ভান করে চলে গেলো ওয়াশ রুমে। এলিসা চোখের পানি মুছে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।

শাওয়ারের নিচে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে কায়সার। তাঁর মস্তিষ্ক জুড়ে রয়েছে কেবল শ্যামবর্ণের মেয়েটি। কায়সারের চোখের সামনে কালো বাদামি চোখ গুলো ভেসে উঠতেই কায়সার ফট করে চোখ মেলে তাকাতেই দেখলো তাঁর সামনে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে লামিয়া। কায়সার অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনে থাকা লামিয়ার দিকে। তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে লামিয়ার সামনে দাঁড়াতেই লামিয়া মৃদু হাসলো। কায়সার সেই হাঁসি দেখে আস্তে করে বললো ” তুমি এখানে কিভাবে আসলে বুলবুলি??”
কায়সারের কথার উত্তর না দিয়ে লামিয়া হাসতে লাগলো। কায়সার কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে লামিয়ার হাঁসি দেখলো। তারপর হাত বাড়িয়ে লামিয়ার গাল স্পর্শ করতেই লামিয়া শূন্যে মিলিয়ে গেলো। তখনই কায়সার এর ভাবনার সুতো ছিঁড়ে যায়। কায়সার কিছুক্ষণ আশেপাশে তাকিয়ে লামিয়া কে খুঁজলো তারপর তাকে না পেয়ে নিজের মাথায় হালকা থাপ্পড় মেরে গুণগুণ করে উঠলো
~ আমার বন্ধু মহা যাদু জানে,
যাদু জানে রেএএ, আমার বন্ধু মহা যাদু জানে।। ~

ভাবুক হয়ে গালে হাত দিয়ে বসে আছে তায়েব, তায়েবা আর লামিয়া। একটু আগে মাহির লামিয়ার সাথে কেমন ব্যাবহার করেছে সেটা তায়েব আর তায়েবা শুনে চিন্তিত হলো বেশ। মাহির কখনো কারোর সাথে এইরকম ব্যাবহার করে না তাহলে আজকে কী এমন হলো যে এইরকম ভাবে কথা বললো লামিয়ার সাথে এই নিয়ে বেশ চিন্তিত তাঁরা তিনজন।
” আমার মনে হয় খান বাড়িতে কিছু একটা হয়েছে।”
” তোর এটা মনে হলো কেনো??”
” কারণ মাহিরের সাথে যখন আমার দেখা হয়েছে তখন ওও খান বাড়ির থেকেই আসছিলো।”
লামিয়ার কথা শুনে তায়েব আর তায়েবা মাথা নাড়িয়ে বললো ” তা ঠিক। তাহলে এখন কি করা যায়??”
লামিয়া চেয়ার থেকে উঠে বললো
” কি করা যায় মানে কী খান বাড়িতেই যেতে হবে আমাদের। সরিষার মাঝে যেমন ভুত লুকিয়ে থাকে তেমন খান বাড়িতেই লুকিয়ে আছে মাহিরের মন খারাপের রহস্য।”
তায়েবা বসা থেকে উঠে বললো

” তাহলে আর দেরি করা যাবে না চল এক্ষুনি।”
তায়েব আর লামিয়া মাথা নেড়ে বেড়িয়ে গেলো খান বাড়ির উদ্দেশ্যে।
সকালের খাবার টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে খান বাড়ির সদস্যরা। এর মধ্যেই লম্বা সালাম বাড়িতে প্রবেশ করলো ইসলাম বাড়ির তিন বিচ্ছু। তাদের তিনজন কে দেখে খান বাড়ির কর্তিরা বেশ খুশি হয়ে তাদের কে খাবার টেবিলে বসিয়ে খাবার দিতে লাগলেন।
লাবিব তিনজন কে দেখে কপালে ভাঁজ ফেলে বললো ” তোরা আজ সকালে আমাদের বাড়িতে কী করতে এসেছিস??”
লামিয়া রুটি মুখে পুরে চিবোতে চিবোতে বললো ” উমমম খাবার খেতে লাবিব ভাই।”
” কেনো তোদের বাড়িতে খাবার নেই বুঝি??”
লাবিব এর কথা শুনে লুবনা বেগম লাবিব কে ধমকে উঠলো। লাবিব ধমক খেয়ে চুপচাপ খাবার খেতে লাগলো। লামিয়া খাবার খেতে খেতে লুবনা বেগম কে বললো
” চাচি আমাদের আসাটা বোধহয় লাবিব ভাই পছন্দ করে নি। তাই না লাবিব ভাইইইই??”
লাবিব লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বিরক্ত কন্ঠে বললো ” একদম ঠিক বলেছিস। তোদের আসাটা আমার একদমই পছন্দ হয় নি।”

” তাঁর জন্যেই এসেছি লাবিব ভাই। যারা আমাদের দেখতে পারে না বা অপছন্দ করে তাদের চোখে সামনে থাকতে, ঘুরঘুর করতে ভীষণ ভালো লাগে। তাই না রে তায়েব, তায়েবা??”
লামিয়ার কথায় তায়েব আর তায়েবা এক সাথে মাথা নাড়ালো। লাবিব কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই লুবনা বেগম চোখ রাঙালো লাবিব কে।
লামিয়া, তায়েব, তায়েবা লাবিব এর দিকে আর পাত্তা দিয়ে আশেপাশে চোখ বোলাতেই দেখলো হালিমা বেগম একটি ছেলেকে বেশ আদর যত্ন করে খাবার খাওয়াচ্ছে। তা দেখে তিনজন ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো। হামিদা তিন ভাই – বোনের দিকে লক্ষ্য করলো কিন্তু কিছু বললো না। তিনজন সন্দেহ দৃষ্টিতে ছেলেটা কে পর্যবেক্ষণ করে পাশে ছেলেটির পাশে বসা হাফসার দিকে তাকাতেই দেখলো হাফসা মাথা নিচু করে খাচ্ছে। তা দেখে বেশ কেমন খটকা লাগলো তিনজনের। তারপর তিনজন তিনজনের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেদের শান্ত করে ঠোঁট টেনে হেঁসে হেঁসে খাবার খেতে লাগলো। লামিয়া একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে হালিমা বেগম এর উদ্দেশ্য বললো

” চাচি এই ছেলে কে?? আগে তো দেখি নি। পরিচয় করিয়ে দাও একটু।”
লামিয়ার কথা শুনে হালিমা বেগম জিহ্বা কামড়ে বললো ” দেখেছিস ভুলেই গিয়েছি পরিচয় করাতে। ওও হচ্ছে আকাশ আমার ভাইয়ের ছেলে আর এই বাড়ির মেয়ের জামাই হতে চলেছে।”
মেয়ের জামাই হতে চলেছে কথাটা শুনে খাবার খাওয়া বন্ধ করে তিনজন হালিমার দিকে তাকিয়ে।
তায়েবা বললো ” এই বাড়ির মেয়ের জামাই মানে??”
হালিমা বেগম হেঁসে বলল ” হ্যাঁ রে তায়েবা। জাহিদের বাবা ওর সাথে হাফসার বিয়ে ঠিক করেছে।”
কথাটা শুনে তিনজন একজন আরেকজনের দিকে তাকালো। তাঁর মানে মাহির এসব কথা শুনেই মন খারাপ করে বসে আছে। এটা কি সবাই আগের থেকেই জানতো নাকি?? ভেবেই তিনজন লাবিব, জাহিদ, শারমিন, ফারিয়া, সাফওয়ান, হামিদার দিকে তাকাতেই দেখলো তাঁরা বেশ নরমাল ভাবেই খাবার খাচ্ছে ‌। তাঁর মানে এইসব সবাই আগের থেকেই জানতো। কিন্তু কেউ কিছু বললো না কেনো?? ভাবতে ভাবতে গতকাল রাতে আবিরের কথা মনে পড়তেই চমকে উঠলো তিনজন। তারমানে গতকাল রাতে আবির এর কথাই বলছিলো। না না কিছুতেই এই বিয়ে হতে দেওয়া যাবে না যে করেই হোক এই বিয়ে ভাঙতে হবে। ভেবেই তিনজন চেয়ার থেকে উঠে হেঁসে বলল ” আমাদের খাবার খাওয়া শেষ আমরা চললাম।” বলেই হাঁটতে লাগলো।
পিছন থেকে খান বাড়ির কর্তিরা কতোবার বললো ” খাবার তো প্লেটেই রয়েছে খাবার টুকু খেয়ে যা।”
তিনজন যেতে যেতে জবাব দিলো

” তাদের পেট ভরে গিয়েছে।”
এদিকে লুবনা বেগম লাবিব কে ইচ্ছে মতো বকছে তার জন্য নাকি ছেলে – মেয়ে গুলো না খেয়ে চলে যাচ্ছে।
হালিমা বেগম এবার পিছন থেকে তিনজন কে ডেকে উঠতেই তিনজনের পা থেমে গেলো। হালিমা বেগম হেঁসে বলল ” তোরা যাচ্ছিস কোথায়?? আমার মেয়ের জামাইয়ের সাথে ভালোমতো পরিচয় তো হলো না। এলিয়েনরা আয় আকাশ কিন্তু বাঘের বাচ্চা বাঘ।”
হালিমা বেগম এর কথা শুনে লামিয়া পিছন দিকে ঘুরে হেঁসে বলল ” ভুল বলেছেন চাচি ওইটা বাঘের বাচ্চা হবে না, ওইটা হবে বলদার বাচ্চা বলদ।”

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬০ (২)

এদিকে লাবিব পানি খাচ্ছিলো লামিয়ার কথা শুনে মুখ থেকে পানি ছিটকে ফেলে দিলো। শারমিন রুটি মুখে পুরতেই খেক খেক করে কেশে উঠলো। এদিকে সবার মনের কথা লামিয়া হালিমা বেগম এর মুখের উপর বলে দেওয়ায় সবাই মুখ চেপে হাসছে। কারণ আকাশ কে এই বাড়ির কারোরই পছন্দ নয়। এদিকে হালিমা বেগম হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। আকাশ কাচুমাচু মুখ করে বসে আছে তবে দৃষ্টি লামিয়ার দিকে। হাফসা পারছে না খুশিতে চেয়ার থেকে উঠে লুঙ্গি ডান্স দিতে।
লামিয়া, তায়েব, তায়েবা আর কোনো কথা না বলে বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে। এখন আগে মাহির কে ঠিক করতে হবে তারপর এই আকাশের ব্যাবস্থা করবে তারা।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬২