প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ২ পর্ব ৩৬
Afnan Lara
আহানা মন খারাপ করে সেই কখন বাসার ভেতর চলে গেছে শান্তর সেদিকে খবর নেই
সে গেট সামলাতে ব্যস্ত,অনেক ঝগড়া করে শেষমেষ ৫হাজার টাকা দিয়ে সবাইকে থামালো শান্ত,নওশাদ আর সূর্য মিলে
ভিতরে গিয়ে সবাই চেয়ার টেনে বসতেছে এক এক
করে
শান্ত রিয়াজের সাথে স্টেজে এসে বসেছে,মেয়েরা বারবার নওমিকে জিজ্ঞেস করতেছে শান্ত সিঙ্গেল কিনা
কণা ভ্রু কুঁচকে কাছে এসে বললো”শান্ত শুধু আমার,ওকে??কেউ নজর দিবা না ওর দিকে”
নওমির ছোট বোন আরবি বললো”কিন্তু শুনেছিলাম আহানা আপুর সাথে নাকি উনার এঙ্গেজমেন্ট ও হয়ে গেছে?”
হয়েছে তো কিছে?বিয়ে তো আর হয়নি,সেটা না হলেই হলো,আর সেটা হবেও না,আমি হতে দিব না
একটা মেয়ে বললো”এই আহানাটা কে?আজ এসেছে?”
আরবি বললো সে আহানাকে গেট দিয়ে ঢুকতে একবার দেখেছিলো এরপর আর দেখেনি
কণা ততক্ষণে আহানাকে খুঁজতে বেরিয়ে গেছে,আহানাকে বুঝাতেই হবে যে শান্ত শুধু আমার,ওর না,ও যেন বিয়েটা ভেঙ্গে দেয়
শান্তর এবার আহানার কথা মনে পড়লো,দেরি না করে স্টেজ থেকে নেমে সে আহানাকে খুঁজতে লেগেছে
ইস একদম ভুলে গিয়েছিলাম আহানার কথা
কোথায় মেয়েটা!উফ!!!
আহানা একটা রুমের কোণায় চুপ করে বসে আছে
তার আশেপাশে মানুষে ভর্তি,সম্ভবত এরা নওমি আপুর আত্নীয় স্বজন,মন খারাপ থাকায় আহানা এখানে চুপ করে বসে আছে
কণা অবশেষে আহানাকে খুঁজে পেলো,ওর সামনে এসে ওকে ধরে টেনে নিয়ে গেলো বাড়ির সেকেন্ড ফ্লোরে
আহানা বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো” কি হইছে কণা আপু?আমাকে এভাবে এখানে নিয়ে আসছো কেন?”
তুমি একটা কথা কেন বুঝতেছো না আহানা?শান্তকে আমি ভালোবাসি,ও আমার,তুমি মাঝখানে আসতে চাইছো কি জন্যে?আর শান্ত তো তোমাকে পছন্দ করে না তাহলে কেন তুমি পড়ে আছো?
আহানা ব্রু কুঁচকে বললো”আমাদের এঙ্গেজমেন্ট হয়ে গেছে,তার পরেও তুমি এসব কেন বলতেছো?”
বিয়ে তো আর হয় নাই,সময় আছে,ভেঙ্গে ফেলো এখনই
আহানা বলতে গিয়েও পারলো না,সে দাবি করতে পারবে না যে সে শান্তর লিগালি ওয়াইফ কারণ শান্ত নিজের মুখেই বলেছে এটা একটা চুক্তি ছিলো
আহানা মাথা নিচু করে চুপ হয়ে আছে
কণা আহানাকে ঝাঁকিয়ে বললো”আমি কিছু শুনতে চাই না,তুমি এই সম্পর্ক শেষ করে দাও,নাহলে কাউকে শান্তিতে থাকতে দিব না আমি”
কণা চলে গেলো কথাগুলো বলে
শান্ত পাগলের মতন আহানাকে খুঁজতেছে,শেষে আরবি জানালো সে আহানাকে আর কণাকে সেকেন্ড ফ্লোরের দিকে যেতে দেখেছে
শান্ত সেদিকে ছুটলো,তারপর সেখানে এসে দেখলো আহানা করিডোরের শেষে যে জানালাটা আছে সেটার কাছে দাঁড়িয়ে বাইরের দিকে চেয়ে আছে আনমনে
আহানা?তুমি এখানে?আমি তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম,আমাকে না বলে কোথাও যাবা না একদম
আহানা চোখ মুছে পিছন ফিরে শান্তর দিকে তাকালো তারপর স্বাভাবিক গলায় বললো”আমাকে খুঁজতে খুঁজতে পাগল হচ্ছিলেন কেন?”
এটা কেমন প্রশ্ন!তুমি আমার সাথে এসেছো যখন তখন আমার সাথেই তো থাকবা
আমি যখন তোমাকে দেখলাম না কোথাও তখন আমার তো ভয় লেগেছিলো,না জানি সাইমন,রতন এসে পড়লো এই ভেবে
আহানা মুচকি হাসলো,তারপর বললো””ওহহ,এটারই ভয় বুঝি”
হুমম,চলো এখন
শান্ত আহানার হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে,আর আহানা এক দৃষ্টিতে শান্তর দিকে চেয়ে আছে,কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে তার
আরেক হাত দিয়ে চোখ মুছে থেমে গেলো সে
আবার কি হলো?
কতদিন পর্যন্ত সেফটি দিবেন আমায়?
যতদিন রতন আর সাইমন চিরতরে না যাচ্ছে,আই মিন তোমার পিছু না ছাড়ছে ততদিন
তার পর?
তার পর তুমি তোমার পথে আর আমি আমার পথে,সিম্পল!
আহানা থ হয়ে শান্তর মুখের দিকে চেয়ে রইলো
শান্ত হেসে বললো”আসলেই আহানা আমি ভেবেছি,আমি তোমাকে জোর করে বিয়ে করার আগে আমার বুঝা উচিত ছিলো তোমারও তো স্বপ্ন থাকতে পারে,তোমার ও তো পছন্দ থাকতে পারে,তাই আমি এই সিধান্ত নিয়েছি,এরপর তুমি তোমার মতো থাকবে”
ওহ
শান্ত আবার গিয়ে রিয়াজের পাশে বসেছে,আহানা মন খারাপ করে সামনে সব চেয়ার রাখা ছিলো ওগুলোর মধ্যে একটাতে গিয়ে বসে আছে
শান্ত যা বলেছে এসব শুনে আমার তো খুশিতে নাচার কথা তাহলে আমি কেন কষ্ট পাচ্ছি?আমি তো উনাকে ভালোবাসি না,আর উনি তো আমাকে ভালো রাখার জন্যই কথাগুলো বললেন,আমার ভালো ভেবেই
শরীর খারাপ লাগতেছে,এখান থেকে তো শান্তদের বাসা কাছেই,আমি বরং বাড়ি ফিরে যাই,এখানে ভালো লাগছে না
আহানা উঠে শান্তকে বলতে যাবে “যে সে চলে যাচ্ছে” তখনই শান্তর ফোন আসলো,সে কথা বলতে বলতে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে
আহানা ৫মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু শান্তর কথাই শেষ হচ্ছে না,বিরক্তি চরম পর্যায়
উপায় না পেয়ে আহানা এগিয়ে রিয়াজের কাছ এসে বললো”ভাইয়া আমার শরীর ভালো লাগতেছে না,আমি বাসায় ফিরে যাচ্ছি,আপনি প্লিস উনাকে বলে দিবেন এই কথা,উনি ফোনে কথা বলতেছেন সেই কখন থেকে”
কিন্তু আহানা বিয়ের খাবার তো খেয়ে যাও
না ভাইয়া,আমার একটু রেস্ট দরকার
ঠিক আছে,সাবধানে যেও
আহানা চলে গেলো সাথে সাথে
শান্ত কথা শেষ করে পিছন ফিরে চেয়ারটার দিকে তাকালো যেটাতে এতক্ষণ আহানা বসে ছিলো
ওকে আবারও দেখতে না পেয়ে শান্তর ভীষণ ভয় হলো
ছুটে এসে এদিক ওদিক তাকালো সে
রিয়াজ নওশাদ আর সূর্যর সাথে গাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ফটো গুলো দেখতেছে
মেয়েটা গেলো কই,,আমি বলেছিলাম আমাকে না বলে কোথাও না যেতে,এখন আবার কই খুঁজবো ওরে
আহানা একটা সিএনজিতে উঠে বাসায় ফিরতেছে,কান্না পাচ্ছে খুব,একটা সময়ে কেঁদে ফেললো,আর কান্না থামাতে পারলো না সে
সিএনজির ড্রাইভার বারবার জিজ্ঞেস করতেছে আহানা কেন কাঁদছে,আহানা কিছু বলছে না
বাসায় ফিরে দেখলো রিপা বুয়ার সাথে গল্প করছে সোফার রুমে,আহানাকে দেখে সে একটু অবাক হলো
আহানা?তুমি এত তাড়াতাড়ি চলে এলে?
এমনি,শরীর ভালো লাগতেছিলো না তাই চলে এলাম
আহানা আর কিছু বললো না,সোজা রুমে চলে গেলো,দরজাটা লাগিয়ে ফ্লোরে বসে পড়লো সে
যে লোকটাকে আমি পছন্দ করি না,আমার হাজার মানার পরেও যে আমাকে বিয়ে করেছে
যে বিয়েতে আমি খুশি ছিলাম না আজ সেই বিয়ের পরিণতি কি হতে পারে সেটা জেনে আমার কেন এতো কষ্ট হচ্ছে,আমি তো উনাকে ভালোবাসি না,স্বামী হিসেবে মানি না তাহলে কেন আজ আমার এমন লাগতেছে
আহানার ফোন বাজতেছে,শান্তর কল,আহানা ধরলো না,জানালার দিকে চেয়ে বসে রইলো সে
শান্ত পুরো বাড়ি খুঁজেও কোথাও আহানাকে পেলো না,চিন্তা হচ্ছে ওকে নিয়ে,রতন সাইমন আসেনি তো?
আমি কি করবো এখন,কোথায় পাবো ওকে,মূহুর্তেই চলে গেলো চোখের সামনে থেকে,কি করছে,কেমন আছে,কোনো ক্ষতি হয়নি তো?
এতক্ষণে আহানার মা আর শান্তর মাও এসে গেছেন সবার সাথে,আহানার আম্মু তো শান্তকে দেখেই ডেকে জিজ্ঞেস করলেন আহানা কোথায়
শান্ত চুপ করে থাকলো,উত্তর দিতে পারলো না,কাজের বাহানা দিয়ে সরে আসলো সে
রিপা কাজ সেরে চলে গেছে
বুয়া রাতের রান্না করে সেও চলে গেছে,বাসা পুরো খালি এখন
আহানা ফ্লোর থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সোজা শান্তর রুমে আসলো
রুমটা খালি,আলো নিভানো
আহানা আলো জ্বালিয়ে এক কদম এক কদম করে ভিতরে এসে ল্যাম্পশ্যাডের টেবিলটার উপরে রাখা তার আর শান্তর ছোটবেলার ছবিটা হাতে নিয়ে বিছানার এক কোণে গিয়ে বসলো
ছবিটা দেখে কিঞ্চিত হাসলো সে,ছবিটায় হাত বুলিয়ে আবারও আগের জায়গায় রেখে দিলো
তারপর গিয়ে শান্তর আলমারিটা খুললো,সুন্দর করে সব সাজিয়ে রাখা সেখানে
আহানা একটা পেস্ট কালারের জ্যাকেট হাতে নিলো
শান্তর গায়ের গন্ধ আসতেই তার সারা শরীরে নেশা ধরে গেছে হঠাৎ করে
জ্যাকেটটা পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসলো সে,একদম শান্তর মতোই লাগতেছে তাকে
শান্ত রিয়াজের কাছে এসে বললো যে সে আহানাকে খুঁজতে যাচ্ছে তাকে কোথাও পাচ্ছে না
রিয়াজ অবাক হয়ে বললো”আরে আহানা তো আমাকে বলেই গিয়েছিলো,তার নাকি শরীর ভালো লাগতেছে না তাই সে বাড়ি ফিরে গেছে,তুই ফোনে কথা বলতেছিলি বলে তোকে ডিস্টার্ব করেনি”
না বলে একাই বাড়ি চলে গেলো?
হুম,আমি মানা করলাম,শুনলো না,এবার তুইও যাবি না খবরদার বলে দিচ্ছি
শান্ত গাল ফুলিয়ে রিয়াজের পাশে বসে থাকলো,বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই এবার বউকে নিয়প যাওয়ার পালা,শান্ত দূরে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে,ওর মা আর আহানার মা রিয়াজদের সাথেই যাবেন কিছু রীতিনীতি আছে সেসবে রিয়াজের আম্মু অনেক রিকুয়েস্ট করলেন যাতে তারা থাকে
শান্ত পথ কেটে সোজা তার বাসার দিকে যাচ্ছে,তার জানামতে আহানা বাসায় একা,এই রিস্ক সে নিতে পারে না,রিয়াজের শত মানার সত্ত্বেও সে চলে যাচ্ছে বাসার দিকে
আহানা শান্তর একটা ছবি দেখতে দেখতেই ওর বিছানার এক কোণে শুয়ে পড়েছে
শান্ত বাসায় এসে দরজায় নক করতেই দরজা খোলা পেলো
বুয়া ভাবলো আহানা আছে যেহেতু তাই সে দরজা কোনোমতে লাগিয়ে চলে গিয়েছিলো
শান্তর তো বুক কেঁপে উঠেছে,এই ভর সন্ধ্যাবেলায় দরজা খোলা কেন??
আহানার কিছু হয়নি তো??
এক ছুটে সে আহানার রুমের দিকে গেলো
সেখানে আহানাকে না পেয়ে ভয় আরও বেড়ে গেলো তার,এদিক ওদিকে ওকে খুঁজতে খুঁজতে মনে পড়লো তার নিজের রুমেই দেখা হয়নি
এক দৌড়ে নিজের রুমে আসলো সে
এসেই আহানাকে দেখতে পেয়ে কলিজা ঠাণ্ডা হলো তার
আহানা ওর জ্যাকেটটা গায়ে দিয়ে বিছানায় গুটিশুটি দিয়ে ঘুমাচ্ছে
শান্তর রাগ প্রচণ্ড রকম ভাবে বেড়েছে
হনহনিয়ে এসে সে আহানার দুহাত ধরে ওকে ঘুম থেকে টেনে তুলে ফেললো
আহানা চোখ ডলতে ডলতে বলতে গেলো”যে কি হয়েছে”
তার আগেই গালে এক চড় খেয়ে তার সমস্ত ঘুম ঘুম ভাব পালিয়ে গেলো
গালে হাত দিয়ে সে অসহায়ের মতন শান্তর মুখের দিকে চেয়ে আছে
শান্ত এগিয়ে এসে ওর দুহাত ধরে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে বললো”কি সমস্যা তোমার??আমাকে না বলে চলে এসেছো কোন সাহসে?কতবার ফোন করেছি আমি?আমার কি কোনো অধিকার নেই তোমার প্রতি?আমার চিন্তা হয় না তোমাকে নিয়ে?যে চিন্তার জেরে তোমাকে বিয়ে পর্যন্ত করে নিয়েছি সেখানে তুমি এরকম সাহস দেখাও,আনসার মি!”
প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ২ পর্ব ৩৫
আহানা চুপ করে তাকিয়ে আছে কিছু বলছে না
শান্তর রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে,এই মূহুর্তে আহানার এক লাইন হলেও কিছু বলা উচিত কিন্তু তা না করে সে চুপ করে আছে এটাতে আরও রাগ উঠতেছে শান্তর
কি হলো বলো!কিছু বলছো না কেন,কেন এসেছিলে তুমি?আমাকে বললে কি হতো তোমার?
হাত ছাড়ুন
কেন ছাড়বো?আমার কথার উত্তর দিয়েছো তুমি?
এরকম আর কতো করবেন?আপনি তো বলেই দিয়েছেন,রতন, সাইমন চলে গেলে আপনিও সব সম্পর্ক শেষ করে দিবেন তাহলে এসবের মানে কি?
এসবের মানে কি আবার বলতেছো,তুমি আমার স্ত্রী
কয়েকদিনের জন্য
