Home প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ২ প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ২ পর্ব ৫৫

প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ২ পর্ব ৫৫

প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ২ পর্ব ৫৫
Afnan Lara

অফিস থেকে বেরিয়েছিলাম ৩টার সময় সেটা ঠিক তবে আসতে লেট হয়েছিলো কারণ একটা ঝামেলায় পড়েছিলাম সাথে ফোনে নেটওয়ার্ক ও ছিলো না
কি ঝামেলা?
বাসায় ঢুকে বলতেছি,এখানে বসে আলাপ করার মন মানসিকতা নেই আমার,আর আমি অনেক টায়ার্ড,সো ভেতরে চলো
আহানা তাও যেতে চাইলো না,শক্ত হয়ে একি জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো
শান্ত আহানার হাত ধরে টেনেও যখন দেখলো সে বিন্দুমাত্র নড়ছে না তখন কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বললো”তোমাকে কোলে করে নিয়ে যাওয়ার শক্তিটাও আমার নেই,বুঝার চেষ্টা করো আহানা,ভেতরে চলো”
আহানা শান্তর হাত দুটো ধরে বললো”শক্তি নেই মানে?কি হয়েছে?আমাকে বলুন এখনই”

বৃষ্টির কমাকমি নাই,জোরে সোরে হচ্ছে
এদিকে আহানাও নাছোড়বান্দা সে এই জায়গা থেকে কিছুতেই নড়বে না যতক্ষন না শান্ত তাকে সবটা খুলে বলছে
শান্ত কিছু না বলেই বাসার ভেতর চলে গেলো
শান্ত চলে যাওয়ায় আহানা নিচে বসে পড়লো,বাসার সামনে বাগান বাদ রেখে যতটা খালি জায়গা আছে সবটা সিমেন্ট দিয়ে ঢালায় করা
আহানা সেখানেই বসে পড়েছে,চিৎকার করে আহানা বললো”আপনি আমাকে ভালোবাসেন না শান্ত,ঠিক এই কারণে আমি আপনাকে ভালোবাসি কথাটা বলতে চাইনি,অপমান হবো বলো
সেই অপমানটা করেই গেলেন আপনি,আপনি ঠিক করেননি,আমি শুধু ভালোবেসেছি,পাইনি কখনও”

শান্ত রুমে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গায়ের থেকে কোটটা খুলে ফেললো,তারপর ভেতরের হালকা নীল রঙের শার্ট আর টাইটাও খুলে ফ্লোরে ফেললো
বুকের এক পাশে কাটা দাগ,সেই ক্ষতটা থেকে রক্ত পড়তেছে এখনও
শান্ত নিচু হয়ে ড্রয়ার থেকে তুলার একটা বক্স নিয়ে সেখান থেকে তুলা নিয়ে বুকে চেপে ধরে ল্যান্ড লাইন থেকে ফোন করার জন্য সোফার রুম পর্যন্ত আসলো তারপর সেখান থেকে তাহসিনকে ফোন করে বললো”ডাক্তার নিয়ে আসতে”
কথা শেষ করে শান্ত বাসার বাইরে তাকালো একবার,আহানা কোথাও নেই,শান্ত ভেবেছিলো আহানা ওর পিছু পিছু আসবে কিন্তু না!
সে কোথায় তাহলে?
শান্ত নিজের রুমে ফিরে এসে ফ্লোর থেকে নীল শার্টটা নিয়ে পরে আবারও বেরিয়ে পড়লো,আহানাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না,কোথায় গেলো মেয়েটা!
এরকম পরিস্থিতিতে উধাও হয়ে আমাকে আরও টেনসনে ফেলে সবসময়
শান্ত আবার কারে উঠে বসে আহানাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে
আহানা যে সোজা তার মায়ের কাছে যাবে এ ব্যাপারে শান্ত ২০০%সিউর
পথে এদিক ওদিক তাকিয়েও আহানাকে দেখলো না সে
এত জলদি চলে গেলো?
অবশ্য বাসাও বেশি দূর না!
উফ বুকের ব্যাথা এত বেশি যেন ভেতর থেকে মনে হচ্ছে সুই ফোঁড়ছে,ওদিকে তাহসিন ডাক্তার নিয়ে আসতেছে এদিকে আমার বউ আবারও রাগ করেছে এঅসময়ে,কি একটা জ্বালা!

আহানা নিজের বাসায় ফিরে সোজা নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে ফ্লোরে বসে আছে
মা আর খালা মিলে বাইরে থেকে ওকে বারবার জিজ্ঞেস করছে যে হয়েছে টা কি কিন্তু সে উত্তর দিচ্ছে না কিছুতেই
শেষে মা আন্দাজ করে বললো হয়ত শান্তর সাথে ঝগড়া হয়েছে
এসব ভাবতে ভাবতেই পিছন ফিরে তারা শান্তকে দেখলো,শান্ত জোরে জোরে সিঁড়ি বেয়ে তড়িঘড়ি করে উপরে আসতে আসতে বললো”আহানা কি এখানে?”
মা মাথা নাড়ালেন
শান্ত দরজার কাছে এসে দাঁড়াতেই মা আর খালা চলে গেলেন সাথেসাথে
আহানা প্লিস দরজা খোলো,তুমি আমাকে এত ভেজালে কেন ফেলো বলতে পারো?কি ঝামেলা হয়েছে সেটা বাসায় ঢুকে বললে কি তোমার মানসম্মান যেতো নাকি অন্য কিছু হতো?
এত জেদ কেন ধরো??আর আবার রাগ করে বাসা থেকে এই বৃষ্টির মধ্যে একা একা চলেও এসেছো

আহানা শান্তর কথা শুনে দরজা খুললো,শান্ত ডান হাত কোমড়ে রেখে দাঁড়িয়ে আছে,আহানা কিছু বলার আগেই শান্তর ফোন বেজে উঠলো,শান্ত রিসিভ করে রুমে ঢুকতে ঢুকতে বললো”তাহসিন ডাক্তার নিয়ে আহানাদের বাসায় আসো,আমি সেখানে আছি”
ওকে স্যার
আহানা এগিয়ে এসে বললো”ডাক্তার কেন?কার কি হয়েছে?”
সেটা বলার সুযোগ দিয়েছো?একের পর এক জেদ দেখিয়েই যাচ্ছিলা তুমি,তোমাকে চড় মারি নাই এটা তোমার ভাগ্য বুঝলা?
আহানা বিচলিত হয়ে শান্তর পাশে বসে বললো”কি হয়েছে বলুন তো”

শান্ত কিছু বলার আগেই আহানার মুখের অবস্থা দেখে তার মুখের সব কথা হাওয়া হয়ে গেলো
আহানার চোখ অশ্রুতে ভরা,চোখের কাজলগুলো লেপটে গেছে,নিশ্চয় এতক্ষণ কাঁদতেছিলো
শান্ত তাই কিছু না বলেই আহানার চোখগুলো মুছে দিলো তারপর বললো”আমার হাই প্রেসার তাই ডাক্তার ডেকেছি,আর কিছু না”
আহানা মুখটা কালো করে বললো”আগে বলবেন না,আমি তো ভেবেছিলাম কি না কি হয়েছে”
আহানা উঠে গিয়ে ফ্যানটা চালু করে শান্তকে জোর করে ধরে তার বিছানায় শুইয়ে দিয়ে চাদরটা টেনে দিয়ে বললো”ডাক্তার আসা পর্যন্ত শুয়ে থাকুন,এরকম অফিসের কাজ নিয়ে টেনসন করলে তো হাই প্রেসার হবেই,আর এমন টেনসন করবেন না, আমি আপনার লাঞ্চের ব্যবস্থা করতেছি
কথাগুলো বলে আহানা চলে গেলো,তারপর রান্নাঘরে ঢুকার সময় দেখলো তাহসিন একজন ডাক্তার নিয়ে আসতেছে এদিকে
আহানা ওদের বললো শান্ত উপরের রুমে তারপর নিজের কাজে চলে গেলো

আপনার শরীরের ক্ষতটা ঠিক কতটা গভীর এটা জানতে আপনাকে হসপিটালে এডমিট হতে হবে মিঃশান্ত
শান্ত খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে হাতের ঘড়ির দিকে চেয়ে বললো”ওতো সময় নেই,আপনি তাড়াতাড়ি ব্যান্ডোজ করে দিন,আর তাহসিন এসব তুলা,রক্ত পরিষ্কার করে তুমি একটা ব্যাগে ভরে নিয়ে যাও,আহানা একটা ছোট খুঁত পেলেও সন্দেহ করবে,আমি চাই না ও জানুক
ওকে স্যার,বাট আপনি এটা তো হসপিটালে গিয়েও করতে পারতেন,এত দেরি হয়ে গেলো ট্রিটমেন্ট করতে
হুম পারতাম কিন্তু কথা হলো বিষয়টা মিডিয়ায় ছড়িয়ে যাবে,আর আমি সেটা চাইনি,মা জানলে মা অনেক টেনসন করবে,সাথে আহানা তো আছেই,২ঘন্টা ধরে ফোন ধরিনি বলে কেঁদে ভাসিয়ে দিয়েছে,এসব দেখলে ওরে সামলানো কঠিন হয়ে যাবে
ওকে স্যার

এদিকে আহানা এসে হাজির,দরজায় নক করতে করতে বললো”কি ব্যাপার দরজা লাগালেন কেন আপনারা?”
শান্ত জলদি করে শার্টটা পরে নিলো
তাহসিন গিয়ে দরজা খুলতেই আহানা ভিতরে ঢুকে এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো”সব ঠিক আছে তো?”
জি ঠিক আছে,একটু খেয়াল রাখবেন উনার,আজ আমি আসি
ডাক্তার আর তাহসিন মূহুর্তেই উধাও,আহানা কিছু বুঝে উঠার আগেই ওদের ছিঁটেফোটা পর্যন্ত নিঃশেষ হয়ে গেলো
আহানা মুখ বাঁকিয়ে হাতে থাকা খাবারের ট্রেটা শান্তর সামনে রেখে মুচকি হেসে বললো”আজ আমি নিজের হাতে আপনাকে খাইয়ে দেবো”

আহানা প্লেট হাতে নিতেই শান্ত এগিয়ে এসে ওকে জড়িয়ে ধরলো হঠাৎ করে
আহানা তো অবাক,এত অবাক যে তার মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না
শান্ত ওকে শক্ত করে ধরে বললো”আমাকে ভালোবাসো তাহলে শেষমেষ বলেই ফেললা!”
আহানা মনে হয় লজ্জায় মরে যবে,লজ্জা এক সাইড করে তারপর বললো”খাবার ঠাণ্ডা হয়ে যাবে”
শান্ত আহানাকে ছেড়ে দিয়ে হা করলো আর আহানা নিজের হাতে ওকে খাবার খাইয়ে দিতে লাগলো
শান্তদের বাড়িতে বিরিয়ানি বানিয়েছিলো সে কিন্তু এখন এ বাড়িতে যা পেয়েছে তাই নিয়ে এসেছে আহানা

খাওয়ানো শেষ করে আহানা হাত ধুয়ে রুমে এসে দেখলো শান্ত চাদর টেনে ঘুমিয়ে গেছে ততক্ষণে
আহানা তাই রুমের লাইটটা অফ করে বারান্দার সামনের পর্দাটা টেনে দিলো তারপর পা টিপে টিপে শান্তর একপাশে বসে চেয়ে থাকলো অনেকক্ষণ
আহানার ফোনটা ভাইব্রেশন করে রাখা,৫/১০মিনিট বাদে ওর ফোনে একটা কল এসেছে
আহানা ফোন কাছে রেখেছিলো বলেই টের পেয়েছে তার ফোন এসেছে
হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠলো”আজকের ডোজটা আশা করি যথেষ্ট, এরপর বেশি উড়ার স্বপ্ন দেখো না”তারপর লাইনটা কাটা গেলো

আহানা ভাবনায় পড়ে গেছে যে আজকের ডোজ মানে কি বুঝালো,শান্তর তো জাস্ট প্রেসার হাই হয়ে গিয়েছিলো,আর কিছু তো!
তারপর আহানার মনে কেমন যেন ঘটকা লাগলো,সে শান্তর দিকে ভালো করে তাকিয়ে বললো”এমন নয় তো যে উনি আমার থেকে কিছু লুকালেন?”
আহানা এগিয়ে এসে শান্তর হাত পা সব চেক করলো কিন্তু কিছুইও সন্দেহ করার মতন পেলো না তারপর ওর নজর গেলো শান্তর নীল শার্টটার দিকে
বুকের অংশে লাল দাগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে,অথচ এতক্ষণ এই দাগটা ছিলো না
আহানার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে
সে জলদি করে শান্তর গায়ের থেকে চাদর সরিয়ে শার্টের বোতাম খুলতে লাগলো
ততক্ষণে শান্ত ও জেগে গেছে,সে ঘুম থেকে হঠাৎ উঠে আহানা ঠিক কি করতে চাইছে তা সে বুঝতে পারলো না
এদিকে আহানা শার্টের বোতাম সব গুলো খুলে যা দেখলো তাতে তার মাথা ঘুরে উঠেছে
ব্যান্ডেজ করা তারপরেও ব্যান্ডেজ ছেদ করে রক্ত বেরিয়ে তা জ্বলজ্বল করছে
আহানা মুখ হাতে দিয়ে এক চিৎকার করে পিছিয়ে গেলো
শান্ত মাথায় হাত দিয়ে ভাবতেছে সে এখন আহানাকে কি করে সামলাবে
আহানা দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে মুখে হাত দিয়ে রেখেছে
শান্ত বিছানা থেকে নেমে এগিয়ে আসতে আসতে বললো”কিছু হয়নি আহানা,আই এম ফাইন”

এএএএসসসব!আপনি আমাকে জানালেন না কেন,কি করে হলো এসব?”
শান্ত এগিয়ে এসে আহানার মাথায় হাত বুলিয়ে ওর চোখ মুছে দিয়ে বললো”কিছু হয়নি,দেখো না আমি এখন তোমার সামনে সেফলি দাঁড়িয়ে আছি”
রক্তের একটা ফোটা বুক থেকে বেয়ে শান্তর সারা শরীর বেয়ে নিচে ফ্লোরে গিয়ে পড়লো
আহানা সেটা দেখে কাঁদতে কাঁদতে নিচে বসে গেছে তারপর কোনোরকম কান্না থামিয়ে সে উঠে গিয়ে ফোন হাতে নিয়ে শান্তর ডাক্তারকে ফোন করে বললো জলদি আসতে
আহানার কান্না থামছেই না,সে কি করবে না করবে ভেবে পাচ্ছে না ঠিক
শান্ত বিছানার এক কোণে দুপাশে দুহাত রেখে পা ঝুলিয়ে ফ্লোরের দিকে চেয়ে আছে
আহানা তুলা খুঁজতে ব্যস্ত,সাথে কান্না তো আছেই
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সে বলছে”যা হয়েছে সব তার দোষে হয়েছে,তার আর তার মায়ের সম্পত্তি শান্ত মজনুর থেকে নিয়ে নেওয়ায় আজ তাকে এত বড় বিপদে পড়তে হলো”
শান্ত আহানার দিকে তাকিয়ে বললো”এটা মজনুর কাজ নাও হতে পারে,যারা এটাক করেছিলো তাদের আমি চিনি না,আর কার দ্বারা তো কোনো বিপদ হয়নি,হঠাৎ কারের সামনে এসে ওরা পথ আটকিয়েছিলো
বেশি ক্ষতি তো করতে পারেনি,

আহানা আবারও চোখের পানি মুছে তুলা এনে হাঁটু গেড়ে শান্তর সামনে বসে তুলাগুলো শান্তর বুকে চেপে ধরে নাক টানতে টানতে বললো”আপনার কিছু হলে আমি এমনি এমনি মরে যাবো”
কিছু হয়নি,আমি একদম ফিট আছি,তুমি এত টেনসন করো না আহানা
আহানা হাত পা ছড়িয়ে আবারও কেঁদে ফেললো,কোথায় হাই প্রেসার আর কোথায় বুকে ছুরির আঘাত
আকাশ পাতাল তফাৎ সব
আর আমি কিনা এখন জানলাম,সব আমার কারণে হয়েছে
আহানা ফ্লোর থেকে উঠে শান্তর পাশে বসে ওর বুকে হাত রেখে ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে,লাল রক্ত, লম্বা একটা দাগ,না জানি শান্তর কত কষ্ট হচ্ছে,এই ক্ষতটা দীর্ঘমেয়াদি না তো?
উনি সুস্থ হয়ে যাবে তো??

শান্ত গম্ভীর একটা লুক নিয়ে আহানার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে,আহানা মনে হয় আধমরা আর পুরা পাগল হয়ে গেছে
বুকে শান্তর শার্ট জড়িয়ে কাঁদতেছে সে যেখানে সয়ং শান্ত ওর সামনে বসা
তার উপর কান্না কিছু থামলে শান্তর বুকের ক্ষতটার দিকে চেয়ে আরও ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করে দেয় সে
শান্ত বিরক্ত হয়ে আহানার হাত থেকে ছোঁ মেরে শার্টটা নিয়ে পরতে লাগতেই আহানা বললো”পরবেন না,ক্ষতটা শার্টের সাথে লাগলে আরও ব্যাথা পাবেন”
তো?বসে বসে তোমার কান্না দেখার চেয়ে এটা মাচ বেটার
আচ্ছা কাঁদব না,তাও শার্ট পরিয়েন না
কথাটা বলে আহানা শাড়ীর আঁচল দিয়ে চোখ মুছে নিলো
শান্ত হালকা হেসে আহানাকে কাছে টেনে বসিয়ে ওর চুলে বিলি কাটতে কাটতে বললো”আহানার কান্নার জোরে আমি ফাইন”

আহানা তার ভেতরের কষ্টটা চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না,খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে কিন্তু শান্ত যে রেগে যাবে এই ভেবে সে বারবার ঢোক গিলে কান্না থামানোর চেষ্টা করছে
শান্ত ভাবলো আহানা বুঝি এসময়ে তাকে কাছে পেতে চাইছে
শান্ত আহানার খোলা চুলগুলো মুঠো করে ধরলো
আহানার সেদিকে খবর নেই,সে ড্যাবড্যাব করে শান্তর বুকের ক্ষতটার অবস্থান চেক করে যাচ্ছে
শান্ত আহানার ঠোঁটজোড়ার দিকে এতক্ষণ চেয়েছিলো এখন যখন আহানা নিজ থেকে সাঁই দিচ্ছে,আজ কিস করলে নিশ্চয় চড় খাবো না?
বাইরে হালকাপাতলা বৃষ্টি,মেঘ কালো বলে অন্ধকার নেমে এসেছে চারিদিক জুড়ে
শান্ত তার মাথাটা এগিয়ে আহানার ঠোঁটজোড়ার খুব কাছে নিয়ে আসলো
আহানা এবার ক্ষত জায়গাটার থেকে চোখ সরিয়ে সামনে তাকাতেই শান্তর নাকের সাথে ওর নাকে এক ঘষা খেলো
ঠিক এসময়ে এসব আহানা কল্পনাও করতে পারেনি

এমনকি শান্ত ঠিক কি কারণে তার মুখটা এত কাছে এনেছে তা আহানার ভাবনার বাইরে
এ অবস্থায় সে কিস নিয়ে ভাবতেই পারে না কিন্তু শান্ত যে ভেবে নিয়েছে তা আহানা জানে না
শান্ত চোখ বন্ধ করে আহানকে ছুঁতে যেতেই দুম করে এক চড় খেয়ে এই জনমে কিস করার সাধ মিটে গেলো তার
গালে হাত দিয়ে পিছিয়ে খাটের সাথে লেগে গেলো সে
আহানা অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো”এ অসময়ে আপনার কিস পায়???থাবড়িয়ে দাঁত সব ফালায় দিব!ভালোবাসি বলছি মানে এই নয় যে আজকেই কোলে বাচ্চা এনে দেবেন

প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ২ পর্ব ৫৪

বেয়াদব একটা!!আমি কাঁদতে কাঁদতে মরে যাচ্ছি উনি আসছেন কিস করতে!আমার ইমোশনকে রোমান্স বানাতে চান উনি!আপনি সিক বলে জাস্ট চড় মারলাম,নাহলে হাড্ডি সব! থাক আর বললাম না,চুপ করে বসে থাকুন এখানে,ডাক্তার না আসা অবদি আমি আপনার সামনেও আসবো না,কতটা খারাপ মাইন্ডেড হলে মানুষ এরকম একটা সময়ে কিস করতে চাবে”

প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ২ পর্ব ৫৬