ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৯
শানজানা আলম
এহসানের ঘুম ভাঙল বেলা করে, প্রায় এগারোটা বাজে, আড়াইটা অবধি অথৈ এর সাথে কথা বলেছে। জানালা দিয়ে আলো ঢুকে পড়েছে রুমে। সাগরের গর্জন শোনা যাচ্ছে, রুম থেকে বের হয়ে বারান্দায় দাঁড়ালো এহসান।
রিসিপশন থেকে একটা ছেলে এগিয়ে এসেছে।
গুড মর্নিং স্যার, ব্রেকফাস্ট কি করবেন?
এহসান বলল, বেশি বেলা করে ফেললাম, পাওয়া।যাবে কিছু?
স্যার, ব্রেড, জ্যাম আর ডিম পোচ করে দিই? পরোটা শেষ হয়ে গেছে।
হ্যা সিওর, এতেই চলবে। – এহসান খুশি হলো।
আসলে স্যার আমাদের আসেপাশে তো কোনো রেস্টুরেন্ট নেই,।তাই গেস্টদের জন্য এটুকু করতেই হয়,
এহসান বলল, নিরিবিলি থাকার জন্য আপনাদের রিসোর্ট হাইলি রেকমেন্ডেড।
এহসান কথা বলছে দেখে ছেলেটি জানতে চাইলো, আজ কোথাও যাবেন স্যার?
টেকনাফ কত সময় লাগবে?
চল্লিশ পয়তাল্লিশ মিনিট লাগবে স্যার, যেতে চান?
হিমছড়ি?
এরকমই সময় লাগবে।
আচ্ছা দেখি, আমার জার্নি করতে।ইচ্ছে করছে না আসলে,
ঠিক আছে, আমি ব্রেকফাস্ট পাঠিয়ে দিচ্ছি।
এহসান রুমে ঢুকলো, ফোন হাতে নিয়ে অবাক হলো, রুবাই।টেক্সট করেছে, ঘুম ভাঙে নি এখনো?
এহসান সিন করে রেখে দিলো।
সিন হয়েছে দেখে রুবাই কল ব্যাক করল, পাটুয়াটেক যাচ্ছি, চলুন।আমাদের সাথে।
এহসান বলল, নাহ, আজ শুধু একবার বীচে যাব, তাও রোদ কমলে।
রুবাই হতাশ হয়ে গেল, গতরাতের পরে আশা করেছিল।এহসান।আরেকটু ফ্রি হবে।
এহসান ল্যাপটপ ওপেন করে মেইল চেক করতে বসল।
সাতদিনের ছুটি, চারদিন শেষ, এখানে আরেকটা দিন থেকে চলো যাবে ঢাকায়, নির্জনতা উপভোগ করা হয়েছে, এখন ফিরে গিয়ে বেশ কিছু কাজ আছে, অথৈ।এর বিষয়ে ভাইয়া আম্মার।সাথে।কথা বলতে হবে। তাদের জানিয়ে রাখা দরকার।
অফিসে ফিরে প্রজেক্টে মন দিতে হবে, অনেক দিন ডিপ্রেশনকে।সময় দেওয়া হয়েছে, আর নয়!
লাঞ্চের সময় রুবাইয়ের ফ্যামিলির সাথে দেখা হলো এহসানের, এহসানকে রুবাইয়ের খালা জিজ্ঞেস করল, এ্যাই তুমি যেন কোথায় জব করো? বিয়ে শাদি করেছ?
রুবাই টেক্সট করল, আমি কিছুই বলিনি, আপনি যা মন চায় বলুন
এহসান বলল, একটা প্রাইভেট ফার্মে জব করি।আন্টি।
বিয়ে শাদি তো করো নাই মনে হয়, পছন্দের মেয়ে আছে নাকি, না থাকলে তোমার বায়োডাটা দাও, তোমাকে খুব ভালো লাগছে!
এহসান হতভম্ব হয়ে গেল, এরকম অপরিচিত কাউকে কিছু।বলা যায়!
এহসান বলল, আমার।বিষয়ে।তো।আন্টি কিছুই।জানেন না!
না জানলে জানব! খোঁজ খবর করি! তুমিও।করো! বললেই তো।আর বিয়ে হয় না!
এহসান বলল,আন্টি, আমি আসলে বিয়ের।কথা ভাবছি না।
রুবাই বের হয়ে গিয়ে টেক্সট করল, আন্টির কথায় কিছু মনে করবেন না প্লিজ, আমি কিছুই বলি নি!
এহসান একটা লাইক সাইন দিলো শুধু।
দুপুরের পরে এহসান বীচে একা একা কিছুক্ষণ হেটে এলো। ফিরে আসতে আসতে দেখল, রুবাইরা।অটো।ঠিক করছে, হিমছড়ি যাবে।
যাবেন হিমছড়ি?
রুবাই ভেবেছিল খালার অমন অবিবেচকের।মত কথায় এহসান।যাবে না হিমছড়ি।
এহসান রুবাইকে অবাক করে দিয়ে বলল, চলো ঘুরে।আসি। কোনটায় উঠব?
রায়হান সরে গিয়ে বসে বলল, ভাইয়া এখানে চলে।আসুন।
এহসান উঠে বসল রুবাইয়ের পাশে।
হিমছড়িতে ওরা রেস্টুরেন্টে স্নাকস অর্ডার করে মার্কেটে ঢুকলো। এহসান রেস্টুরেন্টে না গিয়ে আগেই মার্কেটে ঢুকেছিল। মেয়েলি জিনিসপত্র বোঝাই, ভাবী ভাইয়ের বাচ্চাদের জন্য আচার চকলেট নিলো কিছু।
মায়ের জন্য ছোট পার্স। চোখ আটকে গেল পার্লের সেটে, দাম বেশি নয়, কার জন্য নেবে, অথৈ? ওকে দেওয়া কি ঠিক হবে? এহসান ইতস্তত করে দেখছিল, রুবাই এসে বলল, কিনবেন? সেটটা সুন্দর।
এহসান বলল, ভাবছি!
প্রিয় কারো জন্য নিতে পারেন, তেমন কেউ থাকলে।
তোমার পছন্দ হলে নিয়ে নাও!
রুবাই বলল, আমি একটা ব্রেসলেট নিচ্ছি।
এহসান বলল, আচ্ছা, কোথায়? রুবাই দেখালো।
সুন্দর হয়েছে। এই শপে?
হ্যা।
এহসান সেটটা নিয়ে বলল, এটা প্যাক করে দিন, আর ব্রেসলেটটা সহ প্রাইস বলুন।
রুবাই বলল, এই না না, আমি পে করছি!
কেন, আমি দিচ্ছি, সমস্যা আছে?
না না, আপনি কেন দিবেন?
এটাও একটা কথা, আমি কেন দিব, আচ্ছা তুমি না কাল খাওয়ার সময় জোর করলে তোমাদের সাথে খেতে?
শোধবোধ করতে চাইছেন?
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ২৮
এহসান বলল, একদম না। কিছু ঋণ থাকা ভালো।
আর এখন এটা আমিই কিনে দিব।
রুবাই আর কথা বাড়ালো না। সন্ধ্যার পর পরই ওরা ফিরে এলো রিসোর্টে।
