ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬১
শানজানা আলম
ঐশি ব্যাগ গুছিয়ে নন্দীপুরে রওনা হয়ে গেল। কতদিনের জন্য যাচ্ছে, সেটা কিছু সে বলল না, নিজেও জানে না এমন। তার মন অস্থির হয়ে আছে। ঢাকার কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। নায়েবপাশার সাথে প্ল্যান করলেও ওই প্ল্যান তার হজম হয় নি।
ঐশি আসলে কি চেয়েছিল, নিজেকে কেমন অসহায় মনে হচ্ছে। নাসিরের পক্ষে তাকে বিয়ে করা সম্ভব হবে না সামাজিক ভাবে, হয়তো আশা ছিল, গোপনে হলেও নাসির স্বীকৃতি দেবে। এত কোটি কোটি টাকা ঢেলেছে নাসির! শোরুম করে দিলো! অবশ্য শোরুম নাসিরের আরেকটা আই ওয়াশ, নিজের কোনো কালো টাকা সাদা করার একটা সাইনবোর্ড, এটা ঐশির কিছু নয়।
গয়না, শাড়ি, টাকা ঐশির কাছে অনেককিছুই জমা হয়েছে। তবে শান্তি চলে গেছে। এখন পায়ের নিচের মাটি নেই, এমন অবশ লাগছে। তার ঢাকায় কোনো নিজস্ব থাকার জায়গা নেই, নাসিরের টাকা শেষ হলে পথে বসতে হবে। নায়েব বলেছে, ঐশিকে বড় অংকের টাকা দেবে , দুবাইয়ে সেটল করে দেবে, এমনকি পলিটিক্সেও নাম লেখাতে পারে ঐশি। তবে ঐশির এত কিছুর দরকার ছিল না। নাসিরের মতন পয়সাওয়ালা কেউ একজন থাকলেই হতো। চোখ বন্ধ করে শপিং, ঘোরাঘুরি করা যেত।
এহসান, এহসানকে ছেড়ে ঐশি কি ভুল করেছে! এহসানের তো টাকা ছিল না। টাকা ছিল না, এটা না বলে নাসিরের মতন কোটিপতি না এহসান। তবে ঐশিকে তো ভালোই রেখেছিল! সাজানো সংসারটা পায়ে ঠেলে ঐশি বের হয়ে এসেছে। আর বিশ্বাস ঘাতক অথৈ, তার নিজের বোন হয়ে সংসারটা দখল করে নিয়েছে, এহসানকেও। অথৈ এর এত বুদ্ধি নেই, এহসান এটা ইচ্ছে করে করেছে, যেন ঐশি দেখে আর জ্বলে।
নানান চিন্তা করতে করতে ঐশি নন্দীপুরে পৌছে গেল।
মা বাবা কে আগে বলে নি। কলিংবেল বাজাতেই দরজা খুলে তাহেরা বেগম অবাক হয়ে গেলেন।
ঐশি- কিছু জানাস নি কেন?
ঐশি বলল, এমনিই- তাহেরা বেগম খেয়াল করলেন, ঐশির চোখের নিচে কালি, মুখ কালো হয়ে আছে, বিষন্ন। আগের মত ছটফটে নেই।
ড্রয়িংরুমে ঐশিকে বসিয়ে বললেন, কি হয়েছে? এমন লাগছে কেন তোকে?
কিছু না মা, এমনিই! ভালো লাগছিল না। শরীরটাও ভালো না। মনে হচ্ছে কয়েকটা দিন ঘুরে যাই।
ঢাকায় তোর শোরুম? বিজনেস?
লোক আছে দেখার। – তোমাকে নিয়ে যাব বলতে গিয়েও বলতে পারে না ঐশি৷ নাসির আসে যখন তখন,ন্যুড চায়, তাকে বেডরুম গুছিয়ে, সেক্সি সাজে অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে পরিবারের কাউকে নেওয়া যাবে না। আগে নাসিরের জন্য সব মন থেকে করত, মনে হতো ভালোবেসে বলে নাসির। এখন নিজেকে একটা সেক্স টয় বাদে কিছুই মনে হচ্ছে না।
নিজের ঘরে গিয়ে ঐশি শাওয়ার নিলো অনেকক্ষণ। একটু ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে তার মনটা হালকা হলো। বাসায় ভালো লাগছে। তবে এখানে তো ঐশি পড়ে থাকবে না। তাকে ঢাকায় ফিরতে হবে, একটা কিছু করতে হবে! নাসিরের ট্র্যাপ থেকে বের হতে হবে, নায়েবপাশার কথা মত কাজ করতে পারলে টাকার তো চিন্তা থাকবে না।
ভাবতে ভাবতে নায়েব ফোন করল।
হ্যালো, ঐশি- কি খবর?
এই তো বলো!
তোমার জন্য খবর আছে, তোমার বোনের সাথে কথা হলো।
ঐশি নড়েচড়ে বসে।
কি বলল?
না, তেমন কিছু না৷ একটু খোঁচা দিলাম, বোনের এক্স হাজবেন্ডকে বিয়ে করেছে!
-খোঁচা দিলে তো হবে না। ওকে বের করে আনা দরকার।কিভাবে বের করব, বুঝতে পারছি না।
-তুমি নাসিরের বিষয়ে কি ভাবলে? কিভাবে কি করবে?
-আমি আপাতত বাড়িতে, ফিরে এসে জানাব।
নায়েব পাশা চিন্তা করল, ঐশি কি হাল ছেড়ে চলে গেল।ঐশিকেই কাজে লাগাতে হবে। নাসিরকে ফাঁসাতে পারবে ঐশিই।
নায়েব পাশা বলল, শোনো, মনে হচ্ছে তুমি হতাশ হয়ে পড়েছ, ওখানে গিয়ে তো তোমার লাইফে ভালো কিছু হবে না। কাম অন ঐশি, ঢাকায় ব্যাক করো। একটা দুবাই ট্যুর করে এসো তো! তারপর ফিরে এসে প্ল্যান করো। তোমার লাইফ এখন ছোট গন্ডিতে নেই। তোমাকে ইন্টারন্যাশনালি বিজনেসে ঢুকতে হবে। হালকা ইমোশন ছাড়ো। সেদিন কি বোঝালাম, আর তুমি গিয়ে বসে আছ! আজব তো! আমি তোমার ট্যুরের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, নিশার ট্রাভেলস থেকে সব ব্যবস্থা করে দেবে। তোমার একাউন্টে ব্যালান্স ঢুকে যাবে।
ঐশি বলল, এত কিছু দরকার নেই নায়েব!
আমার একটু সময় প্রয়োজন।
-ঠিক আছে। দুয়েক দিন পরে তোমাকে ফোন করব। টেক ইওর টাইম। এন্ড থিংক ইট এজ এ বিজনেস ডিল। লাইফ রিস্ক নিয়ে তুমি যে কাজটা করবে, সেটার জনঢ় তুমি পেমেন্ট পাবে এমন, তোমার লাইফ সেটল হয়ে যাবে৷ কারো উপর ডিপেন্ড না করে তুমি ইচ্ছে মতন চলতে পারবে। তুমি মিষ্টি দেখতে, মনের মতন কাউকে ঠিক পেয়ে যাবে।
ঐশি বলল, হুম! দেখি।
দেখি না৷ যা বলেছি, সেটাই করবে। একটু নিজের কথা ভাবো। বোন কি করল, সেটা ভেবে নিজের লাইফ নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না!
নায়েব ফোন রাখল।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬০
সন্ধ্যার দিকে বাসায় বড় একটা ফুলের বুকে সহ অনেক রকম ফল, মিষ্টি, অনেক রকমের শুকনো খাবারের একটা ডালা, আর চায়নিজ থেকে খাবার এলো ঐশির বাসায়। নায়েব পাশা পাঠিয়েছে।
এত সব গিফট দেখে ঐশির মন ভালো হলো। সে শুধু শুধুই নিজেকে মূল্যহীন ভাবছে, তারও গুরুত্ব কম নয়। তাকে অনেক বিস্তারিত ভাবতে হবে। এত সহজে হেরে গেলে তো চলবে না৷
ঐশি ঠিক করল দুয়েকদিন থেকে ফিরে যাবে তবে সেটা হলো না। কারন এহসানের মা ফোন করলেন ঐশি অথৈ এর বাবাকে।
