Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৩
শানজানা আলম

রাত দেড়টা বাজে। অথৈ ঘুমিয়ে পড়েছে, এহসানের ঘুম আসছিল না। দরজা ঠেলে উঁকি দিলো, অথৈ এর গরম লাগছে বোধ হয়। সেকেন্ড বেডে এসি নেই। অথৈ সাধারণত ঘুমের আগে সালোয়ার কামিজ বদলে নেয়, আজ পোশাক বদল করে নি৷ কাছে গিয়ে দেখল এহসান, পিঠ ঘামে ভিজে গেছে, ফোন চার্জে লাগানো ছিল, সেটা মাথার কাছে।
হাতে নিতেই নায়েবপাশার টেক্সট সামনে এলো।

“প্রয়োজন মনে করলে ফোন দিও- এনি টাইম”
এহসান চমকে উঠল! অথৈ এর সাথে নায়েব পাশার যোগাযোগ আছে? চ্যাট হিস্ট্রিতে তো কোনো মেসেজ নেই, ডিসএপেয়ার করা টেক্সট হতে পারে! কিন্তু অথৈ তো এমন মেয়ে নয়! এমন হলে সে নায়েব পাশাকে বিয়ে করতে পারত, এহসানকে বিয়ে করে নিজের জীবনটা দোজখ বানানোর দরকার ছিল না।
কল হিস্ট্রি চেক করে দেখল এহসান গতকাল থেকে দু বার কথা হয়েছে, ১৫ মিনিট করে! তাহলে ঐশির খোজ নিতে যোগাযোগ করেছে!
এহসান স্থির হয়ে বসল। মাথা গরম করা যাবে না।
প্রথম সম্পর্কে চিৎকার চেঁচামেচি করা যায়, বারবার একই কাজ করলে সবাই তাকে দোষী মনে করবে। ভুলটা তারই, সে সাপোর্ট করলে অথৈ এর নায়েব পাশাকে দরকার হতো না। অথৈ এ যুগের মেয়ে, ঠান্ডা চুপচাপ হলেও সে বুদ্ধিমতি৷ তাকে একটা কিছু জোর করলে মেনে নিবে, এমনটা ভাবা বোকামি হয়েছে।

এহসান বরং তেমন কোনো লাড্ডু না।
এই সব বড়লোকের ছেলেদের চাকচিক্য অনেক বেশি। অথৈও ঐশির মতন বদলে যেতে পারে? এহসানের ভয় হতে শুরু করে, কি করবে এখন!
যত জোর সব বাইরে করা সম্ভব, মনের উপর জোর খাটে না তো!
এহসান অথৈ এর ফোনটা চার্জে দিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। ঐশির প্রতি এই অনুভূতি ছিল না, অথৈকে হারানোর ভয় হচ্ছে ভীষণ।
অথৈ তো ওর সন্তানের মা হতে চলেছে, অথৈ কি ওকে ছেড়ে চলে যেতে পারবে! কেমন অসহায় লাগছে, এমন যদি হয়, বাচ্চা রেখে অথৈ চলে গেল, তখন!!
কি সব ভাবছে এহসান!

অথৈ এর ঘুম ভেঙে গেছে, এহসান মাথার কাছে বসে আছে।
অথৈ উঠে বসার চেষ্টা করল। এহসান ওকে ধরে বসাল।
অথৈ জিজ্ঞেস করল, তুমি? এত রাতে, ঘুমাও নি, সকালে অফিস আছে তো!
এহসান বলল, ঘুম আসছে না। তোমাকে দেখতে এসে দেখলাম ঘেমে গেছ, চেইঞ্জ করে নাও, ঠান্ডা লাগলে সমস্যা, এখন সব ওষুধ তো খাওয়া যাবে না।
-এহসান, এমন লাগছে কেন, তুমি কি চিন্তিত?
-না, তোমার একটা টেক্সট ওপেন করে ফেলেছি, উচিৎ হয় নি, কৌতূহল দমাতে পারি নি, নায়েব পাশা টেক্সট করেছে?
অথৈ বলল, দেখি, আপুর কথা কিছু বলেছে?
না, তোমাকে প্রয়োজনে কল করতে বলেছে!
অথৈ হাই তুলে বলল, ওহ আচ্ছা, আমার আর কি প্রয়োজন, আপুর খোঁজ দিলো।
কথা হয়েছে তোমার?

হ্যা, আপু ফোন করেছিল।
কি সমস্যা হয়েছিল?
সেটা বলে নি, শরীর খারাপ, নার্সিং হোমে আছে, মাকে আসতে বলেছে।
বেবি এবর্ট করেছে সম্ভবত! – এহসান বলল
অথৈ চমকে উঠল, এটাও অস্বাভাবিক নয়, কি হয়েছে যে ঐশির, এখনো স্পষ্ট নয়!
এহসান বলতেই লাগল,আসলে ঐশির বয়ফ্রেন্ড নাসির খুব প্রভাবশালী লোক, তার এমন দু চারটা বান্ধবী, ট্যুরমেট অস্বাভাবিক না, তবে তাকে বিয়ে করাটা কোয়াইট ইম্পসিবল। সম্ভবত এজন্যই কয়েকদিন গা ঢাকা দিয়ে ছিল।
অথৈ বলল, সবটাই ধারনা করলে?
হুম, তবে পসিবলিটি আশি ভাগ এরকম।
ও আচ্ছা।

চলো অথৈ, বেডরুমে চলো। গরমে ঠান্ডা লেগে যাবে।
অথৈ বলল, এহসান, আমি না তোমাকে সহ্য করতে পারছি না, আমি কয়েকটা দিন এখানে থাকি। বা মায়ের কাছে যাই।
এহসান বলল, না, সহ্য করতে না পারলেও তোমাকে আমার সাথেই থাকতে হবে।
অথৈ বলল, কেন?
কারন আমি তোমার কেউ না হতে পারি, কিন্তু তুমি আমার পুরো পৃথিবী। তোমাকে দূরে রেখে আমি থাকতে পারব না।

অথৈ এর মনটা নরম হয়ে গেল। ঠিকই তো, এহসান ডুবন্ত অবস্থায় তাকে খড়কুটোর মতন আঁকড়ে ধরেছে, আর তাকে বিয়ে করার পরে এহসান তাকে ছাড়া কিছুই পায় নি। আরেকটা মেয়েকে বিয়ে করলে এহসান সব কিছু পেত। জামাই আদর, বউ, শ্বশুরবাড়ি, সব পেত। শুধু তাকে বিয়ে করেছে বলেই সমাজের কাছে এহসান কালপ্রিট হয়ে গেছে।
অথৈ বলল, সরি। আমার এভাবে বলা ঠিক হয় নি, আসলে মনটা কেমন যেন হয়ে গেছে, শান্তি পাচ্ছি না।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮২

ঠিক আছে, অথৈ, চলো আমরা দুয়েকটা দিন কোথাও থেকে বেরিয়ে আসি। ঐশির খোঁজ তো পেয়েছ। তোমার একটু চেইঞ্জ হলে ভালো লাগবে। ভাইয়ার বাসায় গিয়ে থাকবে দুয়েকদিন?
অথৈ বলল, ওখানে গিয়ে থাকলে ফোনে কথা বলতে সমস্যা হবে৷ আনইজি লাগবে!
কিন্তু ওখানে তোমার যত্নের অভাব হবে না। আমার ভাবী এমনিতে যথেষ্ট ভালো মানুষ। মাও আছে ওখানে। তোমাকে মাথায় তুলে রাখবে।
অথৈ দ্বিধা নিয়ে রাজী হলো।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৪