Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৪

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৪

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৪
শানজানা আলম

রাত এগারোটার দিকে ঐশির কাছে একজন এটেনডেন্ট এলো। ঐশি বুঝতে পারছিল, সে আপাতত বন্দী। এখানে তাকে বাচ্চাটা নষ্ট করতেই নিয়ে আসা হয়েছে। ওর স্টাফ, বা যে সব ফ্যাসিলিটিজ সে ব্যবহার করেছে, সবই নাসিরের দেওয়া। কেউ ওর পক্ষে কথা বলার মত নেই।
আপনার সাথে কেউ আসে নি? – ঐশিকে জিজ্ঞেস করল এটেনডেন্ট মেয়েটি।
ঐশি বলল, না।
আপনার হাজবেন্ড?
ঐশির কান্না পেল, নাসির তার হাজবেন্ড না, সেও নাসিরের বউ না৷ এই সন্তানের কোনো বৈধতা নেই।

ঐশি বলল, না।
আপনি বাসায় চলে যেতে পারেন কিন্তু কাজ শেষ হলে।
ঐশি বলল, আমি পুরোপুরি সুস্থ না হয়ে কোথাও যাব না।
হ্যা, জানি। সমস্যা নেই, আমরা টেক কেয়ার করছি।
আর বেশি কিছু জানতে চাইল না মেয়েটি।
সাইন করুন৷ ঐশি সাইন করে দিলো, এখানে সে কিছুই করতে পারবে না। বাদ বাকি প্রক্রিয়া শুরু হলো এরপরে।

মিসেস নওফেল রাত দেড়টায় খবর পেলেন, কাজ হয়ে গেছে। এখন আর ঝামেলা নেই, এই সমস্যা যতক্ষণ না দূর হচ্ছিল, সেটা নিয়ে একটা টেনশন চলছিল।
নার্সিং হোম প্রাইভেট, সেটা কোনো ইস্যু না৷ ওই মেয়ের সাহসই হবে না কিছু করার।
নাসির বাড়িতে ফেরে নি। মিসেস নওফেল আভাকে ডেকে পাঠালেন।আভা শুয়ে পড়েছিল। এত রাতে মিসেস নওফেলের ডাকে সে এলো দেখা করতে।
আভা, কাজ হয়ে গেছে?
আভা বুঝতে পারলো।
সে বলল, রাজী হলো নিজে থেকেই? এত কাহিনী করল! এত জায়গায় যোগাযোগ করল!

-নাসির ম্যানেজ করে ফেলেছে।
-মা আপনি কি নিশ্চিত ও আর কিছু করবে না?
-মিসেস নওফেল বললেন, হুম, কারন ও ভয় পেয়েছে। ভয় পেয়েছে বলেই রাজী হয়েছে।
– কিন্তু ও যাদের সাথে যোগাযোগ করেছিল, তারা?
– বাচ্চাটাই তো নেই, এলিগেশন যে কেউ আনতে পারে কিন্তু প্রমাণ কই! রাস্তার একটা মেয়ে যদি বলে, সেটা তো আর মেনে নিবে না সবাই। কোথাও কেউ ওকে গুরুত্ব দিবে না। প্রমাণ ছাড়া।
– নাসিরের সাথে ওর ছবি? ভিডিও?ও যদি মিডিয়ায় যায়?
– নাসিরের সাথে অসংখ্য মেয়ের ছবি আছে। এ আই এর যুগ, তাছাড়া কোনো মিডিয়ায় কোনো খবর ফাঁস করবে না৷ আমার বলা আছে।
আভা উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, আমি দুবাই শিফট করব নেক্সট উইকে। আপনার ওকে এত সহজ ভাবে নেওয়া ঠিক হবে না। এটুকুই বললাম।
মিসেস নওফেল বললেন, এই টুকু মেয়েকে এত ভয় পেলে চলবে আভা? বি স্ট্রং!
আভা মুচকি হেসে চলে গেল।

ঐশি ছাড়া পেল সাত দিন পরে। আরো আগেই সে বের হয়ে যেতে পারতো, কিন্তু ইচ্ছে করে কিছুদিন সে এখানে থাকল।
ঐশির পরাজিত হওয়ার অনুভূতি হচ্ছে। সে হেরে গেছে, জীবনের কাছে হেরে গেছে! চিৎকার করে কান্না করতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সেটা এখানে বসে করা যাবে না। নার্সিং হোমে আসার পরে নায়েব পাশার সাথে কোনো যোগাযোগ হয় নি ঐশির।
নায়েবপাশাও যোগাযোগ করার চেষ্টা করে নি। এই জায়গাটা নাসিরের কন্ট্রোলে।
ছাড়া পেয়ে ঐশি নায়েব পাশাকে ফোন করল।
নায়েব পাশা প্রথমে ফোন পিক করল না। কিছুক্ষণ পরে সে নিজেই ফোন ব্যাক করল।
ঐশি বলছি।

নায়েব পাশা বলল, কোথায় আছ?
বের হয়েছি নার্সিং হোম থেকে।
কোথায় যেতে চাও?
কোনো একটা টিভি চ্যানেলে।
নায়েব চিৎকার করে উঠল, মানে? হোয়াট দ্য হেল আর ইউ টকিং…….. টিভি চ্যানেলে গিয়ে কি হবে? প্রেস মিট তো তুমি করলে না, নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুগলে, কত কায়দা করে তোমাকে বের করতে হয়েছে!
ঐশি বলল, ওদের সমস্যা ছিল আমার প্রেগন্যান্সি নিয়ে, ওরা বাচ্চাটা এবর্ট করার ব্যবস্থা করেছে, ব্যস। আর ভেবে নিয়েছে, আমি শেষ। ওদের কথা মেনে নিয়েছি। এখন বের হয়ে এসেছি। আমার মনে হয় না আমাকে নিয়ে ওদের আর কোনো চিন্তা আছে।
নায়েব পাশা বলল, কোন চ্যানেলে যেতে চাও?

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৩

ঐশি বলল, যে চ্যানেল টাকা দিবে। এরকম একটা নিউজ করবে, টাকা দিবে না?
নায়েব পাশা বলল, হোয়াট দ্য ফ.. তুমি টাকার জন্য নিউজ চ্যানেলে যাবে?
ঐশি বলল, না, তবে আমার টাকাও লাগবে, আমাকে দেখিয়ে ওরাও টাকা কামাবে। তোমাকে ফোন করেছি, তুমি ব্যবস্থা করে দাও, যোগাযোগ করিয়ে দাও কারো সাথে। আমি আমার জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছি।
নায়েব পাশার সাথে কথা বলে ফোন রাখল ঐশি।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৫