বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ২০
Muntaha jahan
—“ভালো তো বাসেন না তাহলে আমার বুকে অন্যকে দেখে কান্না কেনো করছেন ম্যাডাম?
বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলো তাহা।চোখ বেয়ে না চাইতে ও পানি পড়ছিলো। হঠাৎই পরিচিত কন্ঠ স্বর কানে পৌঁছাতেই কান্না থেমে গেলো।ঘুরে তাকালো এ্যাশের দিকে।বারান্দার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এ্যাশ।তাহা হঠাৎই দৌড়ে গিয়ে জরিয়ে ধরলো এ্যাশকে।ভরকে গেলো এ্যাশ।কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।বুঝার চেষ্টা করলো ওর সাথে কি হয়েছে যখনই বিষয়টা বোধগম্য হলো তখনই বাঁকা হেসে সে ও শক্ত করে জরিয়ে ধরলো ওকে।তাহার ফুপানোর শব্দ কানে আসছে।এ্যাশ সেটা শুনে বললো
—“বাহ এতো প্রেম?
—“আপনি এতোদিন কোথায় ছিলেন এ্যাশ?
কান্নামাখা কন্ঠে বললো তাহা,এ্যাশ মৃদু হেঁসে তাহাকে আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরে বললো
—“কেনো?মিস করছিলেন বুঝি?
—“যদি বলি হ্যাঁ তাহলে বিশ্বাস করবেন?
—“উমম।করাই যায়।
—“তাহলে বলুন কোথায় ছিলেন?
—“ছিলাম কোথাও।তবে সেটা কোথায় বলা যাবে না।সিক্রেট।
এ্যাশকে ছাড়তে চাইলো তাহা,তবে এ্যাশ ছাড়লো না শক্ত করে ধরে রাখলো।তাই তাহা ও আর ছাড়ানোর চেষ্টা করলো না।কিছুক্ষণ সময় নিয়ে কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো
—“অনু আপুর সাথে আপনার আসলেই সম্পর্ক ছিলো?বিয়ে করতেন তাকে?
—“কোনটা বললে খুশি হবে?
—“যেটা সত্যি সেটা।
এ্যাশ একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো
—“ওর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক ছিলো না।মিডিয়ার সামনে আমাকে খারাপ বানাতে ও এই মিথ্যা রটিয়েছে এখন।
—“তাহলে আপনি ওকে জরিয়ে ধরলেন কেন?
আকাশের থেকে চোখ সরিয়ে তাহার মাথাটা তুলে ওর দিয়ে ভ্রকুটি করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো
—“আমি কখন ওকে জরিয়ে ধরলাম?ওই তো ধরলো।
—“তো? আপনি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতেন।
এ্যাশ নিজের কুঞ্জিত ভ্রু শীতল করে তাহার দিকে একটু ঝুঁকে এসে বললো
—“মেডাম কি জেলাস?
—“নাহ।
—“তাহলে আমি বরং অন্যন্যার কাছে যাই।
—“হ্যাঁ যান না করেছি আমি অসভ্য ছাড়ুন আমায়।
এ্যাশ ছাড়লো না। উল্টো ওকে কোলে তুলে বিছানায় এনে শুইয়ে শক্ত করে জাপটে ধরে ওর গাড়ে মুখ গুজে বললো
—“লাফাতে লাফাতে এসে জরিয়ে তুমি ধরেছো আমি না।সো নো নড়াচড়া। আমি এখন ঘুমামো সারারাত ঘুমাই নি।তাই চুপচাপ শুয়ে থাকো আমার সাথে।
সময়টা তখন ১২ টার ঘরে।বেঘোরে ঘুমে এ্যাশ।তাহা হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ওর মাথায় চোখ দুটো জানালা ভেদ করে বাহিরে তাক করা।সূর্যের প্রকরতা আজকে বেশি পৃথিবী জ্বালিয়ে দেওয়া রোদ আজ।সেদিক থেকে চোখ সরিয়ে তাহা এখন এ্যাশের দিকে তাকালো এ্যাশের মাথাটা তখন তাহার গাড়ে উপর বাঁকা হয়ে রাখা।তাহা সেটা সোজা করে বালিশে দিতেই এ্যাশ নড়াচড়া করে তাহা গলায় এসে মুখ গুজলো আবার।বিড়বিড় করে হুমকি দিলো
—“ঘুমে ডিস্টার্ব করলে বাসর করে নিবো।
কিছুক্ষণ ভ্রুর কুঁচকে এ্যাশের দিকে তাকিয়ে পরমুহূর্তেই দীর্ঘ শ্বাস ফেললো তাহা।মনে মনে ঠিক করেছে এ্যাশকে সব সত্যি বলবে।যদি এ্যাশ মেনে নেয় তাকে তাহলে সে ও এ্যাশকে মেনে নিয়ে সংসার করবে এরকম টানাপোড়েনের মধ্যে থাকা যায় না।জীবনকে একটা মোড়ে এনে দাঁড় করানো উচিত।কতদিন আর এভাবে চলবে দিন?একটা বিহিত করা দরকার।তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ্যাশকে সব বলবে সেটা ও আজ।আচ্ছা এ্যাশ যদি না মানে?দূরে সরে যায়? কথাটা ভাবতেই বুকটা ধক করে উঠলো তাহার।চোখ দুটো মুহুতেই ভিজে উঠলো।এ্যাশকে শক্ত করে ধরে চোখ বন্ধ করে নিলো।
অন্ধকার একটা রুমে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ঈশান।আর তার সামনে রড হাতে দাঁড়িয়ে ফাহাদ।ফাহাদের পুরো মুখ রক্তে লাল।সাদা শার্টটা রক্ত ভিজে উঠেছে। জেল দিয়ে সেট করা চুল গুলো এখন ঘামে উষ্কখুষ্ক হয়ে কপালে পড়ে আছে।তাতে বিন্দু মাএ ভ্রুক্ষেপ নেই ফাহাদের।আপাতত একহাতে রড ধরে অন্যহাতে সিগারেট খেতে ব্যাস্ত। ফাহাদের থেকে কিছু হাত দূরে দাঁড়িয়ে আছে নিলয়।হাতে জলের বোতল।টকটক করে কাঁপছে সে।একবার জল খাচ্ছে তো আরেকবার ফাহাদের দিকে তাকাচ্ছে ফাহাদকে এতো রাগতে কখনো দেখেনি।তাহলে এখন এতো রাগের কারণ?এই ছেলে এ্যাশকে ঠকিয়েছে বলে? নিলয়ের ভাবনার মধ্যে আবার ও শুনা গেলো ফাহাদের হুঙ্কার
—“এ্যাশ যতই বলুক তোর প্রতি দূবল নয়। কিন্তু সত্যি এটা সে তোর প্রতি ভিষণ দূর্বল।তোকে মারতে তার হাত কাঁপবে।মারতে পারবে না।আর সেটা আমি সহ্য করতে পারবো না।তুই যা করেছিস তার শেষ পরিণত মৃত্যু। তাই তোকে আমই মৃত্যু দিলাম।
কথাটা বলার সাথে জোরে একটা শব্দ হলো,সাথে কারো চিৎকার। যে চিৎকারে কারো রুহ অব্দি কাঁপতে বাধ্য।ব্যাস।তারপর সব সাভাবিক। ফাহাদ নিলয়ের সামনে এসে বললো
—“একে নিয়ে নদীতে ফেলে দে।
কথা শেষ হতেই হাতের রড শব্দ করে ফেলে জায়গা ছাড়লো ফাহাদ।নিলয় চোখ পিটপিট করে ঈশানের দিকে তাকালো।হাতের রডটা ঈশানের পেটের ভিতর ঢুকিয়েছে ফাহাদ। নিলয় একটা ঢোক গিললো। বিড়বিড় করে বললো
—“এই ময়মার্ন্তিক দৃশ্যের সাক্ষী করতে ভাই আমাকে ইমারজেন্সি দেশে নিয়ে আসলো?
পিছন থেকে শুনা গেলো রাশভারি এক গম্ভীর কন্ঠ
—“এই দৃশ্যের সাক্ষী তোকে এমনি এমনি করি নি।ভবিষ্যতে তুই কখনো যাতে এরমতো না করতে পারিস,তারজনয়ই তোর সামনে একে মারলাম।
বিয়ের বাড়ির এতো ঝামেলার মধ্যে ও আরাবী একটা কফিশপে এসে বসে আছে।আর তার পাশে বসে আছে তার অনেক পুরোনো এক বন্ধু অভি। মূলত অভির সাথে দেখা করতেই এসেছে আরাবী।অভিকে ওর ভাইয়ের বিয়েতে দাওয়াত করতে।
—“অভি তোর দাওয়াত রইলো।তুই কিন্তু অবশ্যই আসবি ভাইয়ের বিয়েতে।
কফিতে শেষ চুমুক দিয়ে বললো অভি
—“হ্যাঁ। অবশ্যই যাবো।আর আজকে তোর সাথে অনেকদিন পর দেখা হয়ে ভালো লাগলো অনেক। তুই অনেক কিউট ও হয়ে গেছিস।
লাস্টের কথাটা আরাবীর গাল টেনে বললো অভি।দুজনের মুখেই তখন হাসি।খানিকসময় তাদের দুষ্টমি চললো।কফি শপে বসেই একে অপরের হাতে থাপ্পড় দিলো মজা করে।তাদের হাসিখুশি মিষ্টি ঝগড়ার মধ্যে সেখানে প্রবেশ করলো কেউ। যাকে দেখা মাএই চারপাশে হইচই পড়ে গেলো।কিন্তু তাতে ভ্রুক্ষেপ হলো না ব্যাক্তিটির।সে আরাবীর সামনে দাঁড়িয়ে বললো
—“আমাকে না বলে আপনি এখানে কেনো এসেছেন?
পরিচিত কন্ঠস্বর শুনে পাশে তাকালো আরাবী।ফাহাদকে দেখে প্রথম একটু অবাক হলো।তারপরই হাসি মুখে বললো
—“আপনাকে ফোন দিয়েছি অনেক কিন্তু আপনি ধরেননি।তাই আপনাকে না বলে এসেছি।সরি।
শেষের কথাটা ঢং করে বললো আরাবী।যাতে শরীল জ্বলে উঠলো ফাহাদের।তবুও নিজেকে সামলে নিলো।শান্ত কন্ঠে বললো
—“অনেকক্ষণ থেকেছো।এখন চলো বাসায় যাবে।
—“আরেকটু থাকি প্লিজ। ওর সাথে কতোদিন পর দেখা হলো।
—“আরা চলুন প্লিজ। আপনার ভাইয়ের বিয়ে ২ দিন পর ভুলে গেছেন?
—“না ভুলি নি তারজন্যই তো ওকে দাওয়াত করতে এসেছি। আপনার তাড়া থাকলে আপনি যান।আমি একটু পরে আসবো।
নিজের হাত মুষ্টি বদ্ধ করে রাগ নিয়ন্ত্রণ করলো ফাহাদ।নিলয় পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া পড়ছে।এই তো ক্ষেপে আছে এমনিতেই। তারপর এ আবার রাগাচ্ছে। আল্লাহ জানে এখন না এর ভিতর রড ঢুকিয়ে একেই মেরে দেয়।
—“আরা বিয়েতে তো দেখা হবেই আপনি প্লিজ চলুন।আমি আপনার জন্যই এসেছি।
এবার আর না করলো না আরাবী। অভিকে বায় বলে উঠে আসলো।অভি টায় তাকিয়ে আছে ফাহাদের দিকে। ফাহাদের দৃষ্টি ওর দিকে তাক করা।যেটা দেখে ভয় লাগছে ভিষণ তার।সে আরাবীর আগেই উঠে তাড়াহুড়ো করে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলো।
গাড়ির সামনে আসতেই ফাহাদ গম্ভীর কন্ঠে বললো
—“নিলয় তুই ওকে নিয়ে বস,আমি একটু আসছি।
বলে সেখান থেকে চলে গেলো।নিলয় নিজের কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে বসে পড়লো গাড়িতে তার বুঝা হয়ে গেছে ফাহাদ কি করতে গেলো।
কিছুক্ষণ পরই ফাহাদ আসলো,আর তার সাথে শুনা গেলো লোকজনের চেচামেচির শব্দ। আরাবী সেটা শুনে নামতে চাইলে ফাহাদ ওর হাত শক্ত করে চেপে ধরে বসে নিলয়ের উদ্দেশ্য বললো
—“চল। ফুল স্পিডে গাড়ি চালাবি।
বিছানার উপর গোল হয়ে বসে আছে তাহা।তারপাশে রাখা কয়েকটা লেহেঙ্গা। কয়েক কালারের এগুলো। একটু আগেই আয়েশা বেগম এনে দিয়ে গেছেন। তখন এ্যাশকে জরিয়ে সে ও ঘুমিয়ে পরেছিলে সে ই ঘুম ভেঙেছে বিকাল ৪ টার দিকে।তখন বাড়িতে আরো মেহমানের ভরপুর হয়ে গেছে। প্রথমে তাহা একটু বিব্রত হলেও পরে নিজেকে সামলে নিয়েছে। এখন বাজে সন্ধ্যা ৭ টা। ৮ টার পর থেকে মেহেদী অনুষ্ঠান শুরু হবে।তাহাকে রেডি হতে বলে গেছেন আয়েশা বেগম।সেজন্যই লেহেঙ্গা পছন্দ করার জন্য গোল হয়ে বসে আছে কোনটা পড়বে ঠিক বুঝতে পারছে না। তাহা যখন গভীর মনোযোগে লেহেঙ্গা দেখতে ব্যাস্ত।তখনই সেখানে আসলো তিশা এবং আরাবী। তিশা হাসিখুশি থাকলেও আরাবীর মুখটা বাংলার পাঁচের মতে করে রাখা।সেটা দেখে তাহা বললো
—“তোর আবার কি হলো রে?মুখটা ওমন করে রাখা কেনো?
—“কিছু হয়নি।
বিছানার উপর দপ করে বসে বললো আরাবী। তাহা আর কিছু বলার আগেই তিশা বললো
—“দেখ হয়তো বয়ফ্রেন্ড ছ্যাকা দিয়েছে।
তিশার কথায় অবাক হলো তাহা।আরাবীর দিকে তাকিয়ে বললো
—“তোর বয়ফ্রেন্ড হলো কবে থেকে?আমি কেন জানি না?
—“তরা রেডি হবি? দেখ আমার ভাল্লাগছে না,তরা রেডি হ তো আমাকে জ্বালাইস না।,,,কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললো”””” ভাইয়া কোথায়?ওর সাথে এখনো দেখা হয়নি আমার।
মন খারাপ করে কথা বলে তাহা দিকে তাকালো।আরাবী।তিশা ও তাকালো। তাহা দুজনের দিকে তাকিয়ে বললো
—“আমার দিকে তাকাচ্ছো কেনো? আমি কি জানি? আজব।
—“তুই জানবি না তো কে জানবে?ভাইয়া না তোর সাথে ছিলো?
—“ছিলো, কিন্তু তারপর কোথায় গেছে জানি না আমি।
তাহাকে আর কিছু বললো না আরাবী।পাশ থেকে সবুজ রঙের লেহেঙ্গাটা তাহার হাতে তুলে দিয়ে বললো
—“এটা পড়।
তাহা লেহেঙ্গাটা নিয়ে ওয়াশরুমে গেলো।একে একে তিশা,আরাবী ও তৈরী হতে নিলো।সময় নিয়ে তিনজনই ভারী মেকাপে নিজেকে সাজিয়ে নিলো।তারপর আয়নার শেষ বার নিজেকে দেখে তিনজনেই নূরের রুমে উদ্দেশ্য গেলো।
মিনাল খানের রুমে বসে আছে ইহান,এ্যাশ। এই দ্বিতীয় বারের মতো দুই ভাই মুখোমুখি হলো। ইহান তাকিয়ে আছে এ্যাশের মুখের দিকে। আধাঘন্টা ধরে এ্যাশ মিনাল খানের রুমে এনে কিছু বলবে বলে বসিয়েছে রেখেছে এ্যাশ।কিন্তু কিছু বলছে না চুপ করে আছে। মিনাল খান একটু বিরক্ত হয়ে বললেন
—“কি হলো চুপ করে আছিস কেনো?বল কি বলবি।
এ্যাশ চোখ তুলে তার বাবার দিকে তাকালো।ওই চোখে তাকিয়ে নিজের জন্য একটু ভালোবাসা খুঁজলো কিন্তু পেলো না।মনে মনে একটু হাসলো এ্যাশ “সে ও ভালোবাসা খুঁজছে? তার ও ভালোবাসার প্রয়োজন পড়ে?” মিনাল খান ছেলের এমন দৃষ্টির মানে বুঝলেন না।তবুও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন। এ্যাশের থেকে চোখ নামিয়ে নিচের দিকে তাকালেন। এ্যাশ গলা খাঁকারি দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো
—“ইহানের সাথে আমিও আবার বিয়ে করবো।সেটা ও তোমার শালীর মেয়েকে।সবকিছু প্রস্তুত করো রেখো।
বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৯
নোট:- আমি আবার ও সিলেট যাচ্ছি এক সপ্তাহের জন্য,এরমধ্যে আমি গল্প দিতে পারলে দেওয়ার চেষ্টা করবো,আর না পারলে এক সপ্তাহ পর থেকে রেগুলার পর্ব দিবো।
