Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২২

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২২

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২২
ছায়া

রাতের নরম হাওয়ায় তালুকদার বাড়ির চারপাশ নিস্তব্ধ দূরে কোথাও ব্যাঙের ডাক, মাঝে মাঝে পাতার শব্দ, আর ছাদে বসে থাকা ইলার নিঃশব্দ নিঃশ্বাস। সন্ধার সময় শাওয়ার নেয়ার কারণে মাথার ভেজা চুল এখনো শুকায়নি, মাঝে মাঝে একেকটা ফোঁটা গাল বেয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে। ইলা হাঁটু জড়িয়ে বসে আছে চোখে এক ধরনের হালকা ভয় আর অদ্ভুত মায়া।
দূর থেকে গেস্ট হাউজের ছাদে দাঁড়িয়ে আরিয়ান একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইলার দিকেই। আলো কম তবু ইলার ভেজা চুল আর মুখের ছায়া বাতাসে দুলে দুলে আরিয়ানের চোখে ধরা দিচ্ছে।ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল কিন্তু কণ্ঠে কোনো শব্দ নেই শুধু ধীরে বলল,

আরিয়ানঃ- এই মেয়ে আমাকে ধ্বংস করবে।
ঠিক তখন পেছন থেকে আদিব এসে কাঁধে হাত রাখল, আদিব তাকিয়ে দেখে আরিয়ান সামনের ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে।আদিব আরিয়ান কে বলল
আদিবঃ- ব্রো এই রাতে তারা দেখা শুরু করছো নাকি ওদিকে দেখছো?
আরিয়ানঃ- দুটোই দেখছি একটা আকাশে আর একটা ছাদে।
আদিবঃ- ব্রো আমার মনে হয় তুমি বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই প্রেমে পড়ে যাচ্ছো।
আরিয়ানঃ- আমি প্রেমে বিশ্বাস করি না আদিব আমি শুধু মানুষ পর্যবেক্ষণ করি।
আদিবঃ- তাহলে এই পর্যবেক্ষণটা কিন্তু বেশি সময় নিচ্ছে মনে হচ্ছে তাই সাবধান।
দুজনের মাঝখানে এক ঝলক নীরবতা কেবল দূর থেকে ইলার চুলে বাতাসের দোল।
রাতে ডিনার টেবিলে সবাই বসে আছে, ইলা এক মনে খাবার খাচ্ছে আরিয়ান দুই বার ইলার দিকে তাকিয়ে ছিলো।পরে নিজের খাবারে মন দিলো। খেতে খেতে করিম উদ্দিন তালুকদার বলল রাশেদ তালুকদার কে বলল
করিমঃ- ছোট পরশু থেকে তো বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু। তুই সব দিকটা ঠিক মন দেখে রাখিস আর কালকে থেকে বাড়ির সব গেস্ট আসা শুরু করবে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছিস তো??
রাশেদঃ- আপনি কোনো টেনশন করবেন না ভাইয়া আমি সব কিছু ব্যবস্থা করে রেখেছি।
ডিনার শেষ করে সবাই ঘুমাতে গেলো আরিয়ান ছাদে দারিয়ে আছে। পিছনে এসে নেহা আরিয়ান কে ডাকলো” ভাইয়া”

আরিয়ান পিছনে ঘুরে দেখে নেহা দাঁড়িয়ে আছে।
আরিয়ানঃ- কিছু বলবি??
নেহাঃ- তুই বার বার ঐ আপুটাকে দেখছিলি কেনো??
আরিয়ানঃ- কোন আপুটা??
নেহাঃ- ঐযে সুন্দর আপুটা লম্বা লম্বা চুল আছে যে।
আরিয়ানঃ- ওর নাম ইলা
নেহাঃ- বাবা নাম ও জেনে নিয়েছিস একদিনে।
আরিয়ান একটু রাগি চোখে নেই নেহার দিকে তাকালো নেহা বুঝতে পেরেছে আরিয়ান ক্ষেপে গেছে তাই আর কিছু বলল না।চুপচাপ সেখান থেকে কেটে পড়লো।
রাতে ইলা শুয়ে শুয়ে ভাবছে আরিয়ান কেনো তার লাইফে এন্ট্রি নিলো।আর আরিয়ান কে দেখলে বার বার শাওনের কথা কেনো মনে পড়ে মনে হয় এটাই শাওন।

হালিমাঃ- তুই আর এই জীবনে ঐ বেডা পরিকে ভুলতে পারবি বলে মনে হয় না।
ইলাঃ- আমি তো মনে মনে কথা বলছি তুই বুঝলি কিভাবে।
হালিমাঃ- তোর মন এত জোরে জোরে কথা বলছে যে আমিও শুনতে পারছি। আর শুন আরিয়ান এর সাথে শাওনের কোনো দিক দিয়ে মিল নেই। প্রথমত শাওন আর্মিতে জব করে আর আরিয়ান স্টাডি করে এখনো।
দ্বিতীয় তো আরিয়ান ভাইয়া অনেক সুন্দর আর তোর শাওন তো সব সময় ফেস হাইড করে রাখে।
তৃতীয় তো আরিয়ান ভাইয়া অনেক রুড আর শাওন ভাইয়া অনেক মজার মানুষ। তাই দুইজন আলাদা মানুষ কারো সাথে কারো মিল নেই।

ইলাঃ- হ্যাঁ বুঝলাম দুইজন আলাদা মানুষ কিন্তু এই মিঃ রাক্ষস আমাকে এত থাপ্পড় মারে কেনো??
হালিমাঃ- তুই দোষ করিস তাই মারে। এখন ঘুমা বেশি কথা না বলে।
পরের দিন সকালের রোদ জানালার ফাঁক দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে রুমে। নিচে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে ঝাড়বাতি ঝুলছে, মেঝেতে ফুলের রঙিন পাপড়ি রান্নাঘরে ব্যস্ততা। পরি নোহা আর নেহা হাসতে হাসতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ইলা ছাদ থেকে নামছিলো হাতে পানি ভর্তি বোতল আরিয়ান ঠিক নিচে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলো।।হঠাৎ ইলা নামার সময় পা পিছলে বোতলটা নিচে পড়ে ঠাস শব্দ হলো । পানি সরাসরি ছিটকে পড়ল আরিয়ানের মাথায়।আরিয়ান উপরে তাকিয়ে দেখে ইলা দাঁড়িয়ে আছে। আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বলল
আরিয়ানঃ- আবার আপনি শোধ নিলেন?
ইলাঃ- এটা এক্সিডেন্ট ছিল।
আরিয়ানঃ- আপনার প্রতিটা “এক্সিডেন্ট” এই আমার ভাগ্যে পড়ে কেন?
ইলাঃ- আপনি বরাবরই নিজেকে পৃথিবীর কেন্দ্র ভাবেন তাই কিন্তু আমি আপনাকে লক্ষ্য করে কিছুই করি না।
আরিয়ানঃ- আপনি নিশ্চিত এটা আপনি ইচ্ছা করে করেন নি তো কিন্তু আমি এটা কেনো জানি বিশ্বাস করতে পারছি না।

ইলা মুখ ঘুরিয়ে চলে গেল কিন্তু মুখের কোণে অজান্তে হাসি এসে পড়ল। নিজের রুমে ঢুকে আয়নায় তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
ইলাঃ- ইলার সাথে লাগতে আসলে এমনি হবে।
অন্যদিকে হালিমা ও রায়েদ এর হাসির যুদ্ধ ডেকোরেশন সাজাচ্ছে। রায়েদ ফুলের মালা সাজাচ্ছে আর হালিমা পাশে দাঁড়িয়ে রায়েদকে ব্যঙ্গ করে বলল,
হালিমাঃ- আপনি নিশ্চয়ই শখ করে মালা গাঁথছেন আপনি ভবিষ্যতে ফুলওয়ালা হতে চান নাকি?
রায়েদঃ- না ভাবছি আপনার বিয়ের মালাটা নিজেই গাঁথবো স্পেশাল ভাবে।
হালিমাঃ- আমার বিয়েতে আপনাকে দাওয়াত দিবইনা আসবেন কোথা থেকে।
রায়েদঃ- বর কে দাওয়াত দিতে হয় না ম্যাডাম।
দুজনের কথায় এমন কাণ্ড হাসির যে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পরি বলে উঠল,
পরিঃ- তোদের ঝগড়ায় প্রেমের ঘ্রাণ পাচ্ছি সাবধান হালিমা আমার এই ভাই একদিন তোকে পটিয়ে ফেলবে।
হালিমা মুখ লাল করে চুপ করে গেল রায়েদ মুচকি হেসে হালিমাকে চোখ টিপ দিলো।
দুপুরের দিকে ইলা নিজের ঘরে বসে ফোন টিপছিলো হঠাৎ দরজায় টোকা। দরজা খুলতেই মিষ্টি চেহারার দুই মেয়ে ঢুকে পড়ল।

নেহাঃ- হাই তুমি ইলা আপু তো তাই না আমি নেহা আরিয়ান ভাইয়ার ছোট বোন আর ও আমার কপি নোহা।
ইলা হকচকিয়ে গেল
ইলাঃ- ওহ আসো বসো।
নেহা হেসে বসে পড়ল চোখ চকচক করছে মুখে দুষ্টুমি।
নেহাঃ- আপু তোমাকে কিছু মজার কথা বলি আমার ভাইটা কিন্তু বাইরে থেকে সিংহ ভিতরে ভয়ানক টেডি বিয়ার। একবার কি হয়েছিলো জানো।
একবার পিঁপড়া কামড়েছিল তিনদিন ও ভয় ছিল পিঁপড়া বালিশে ঢুকে যাবে না তো।
ইলা হেসে ফেলল চোখে পানি চলে এল হাসতে হাসতে। আরিয়ান যে কিনা হয় সময় রুডলি থাকে সে কিনা পিপড়া ভয় পায়।তার পরে নোহা বলা শুরু করলো
নোহাঃ- আর একবার না আমি দেখেছিলাম ওর ফোনে ওর ক্রাশের ছবি আছে। আমি দেখার সাথে সাথেই ফোন লুকিয়ে রেখেছিলো।

ইলা হাসতে হাসতে পেট চেপে বলল
ইলাঃ- আমি তো ভাবছিলাম উনি সবসময় এত সিরিয়াস।
নোহাঃ- হা হা সিরিয়াস দেখায় কিন্তু আমাদের সামনে এই সব পারে না। তবে রেগে গেলে আবার জামা উল্টোদিকে পরে বের হয়।
ইলাঃ- ও মাই গুডনেস এইগুলা আমি কি শুনতেছি।
নেহাঃ- আর একবার দাদু এসে ভাইয়াকে জিগ্যেস করছে,
দাদুঃ- আরিয়ান তুই নাকি প্রেম করতেছিস রাতে নাকি কোন মেয়ের সাথে কথা বলিস।
নেহাঃ-তখন ভাইয়া বিছানা শুয়া থেকে উঠে দারিয়ে দাদুকে বলেছে।
আরিয়ানঃ- কোন মাদার*চো*দ বলেছে এই কথা আমাকে বলো আমি তার ব্যবস্থা করে আসছি।
নেহাঃ- ভাইয়া উঠে উল্টো করে গেঞ্জি পড়ে বের হয়ে যাচ্ছিলো। তখন দাদু পিছন থেকে বলছে।
দাদুঃ- ঐ মাদার*চো*দ এর বাচ্চা টা দুর্ভাগ্য বসতো আমার ছেলে তোর বাপ বলেছে।
নেহাঃ- তখন ভাইয়া দরজা থেকে উল্টো হয়ে ঘুরে এসে আবার নিজের বেডে শুয়ে আস্তাগফিরুল্লা আস্তাগফিরুল্লা পড়া শুরু করে।

ইলা এই কথা শুনে এত জ্বোরে হেসে দেয় বাইরে পর্যন্ত শুনা যায়। সেই হাসির শব্দ ছাদে বসে থাকা আরিয়ান কানে আসে সেই হাসিটা আরিয়ান হাসির শব্দ শুনে হালকা নিঃশ্বাস ফেলল।
বিকেলের হালকা সোনালি আলো তখন পুরো তালুকদার বাড়ির ছড়িয়ে আছে। সাজানো ফুলের মালা, গেটের উপরে “শুভ বিবাহ” লেখা ব্যানারটা হালকা বাতাসে দুলছে। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে রান্নার ঘ্রাণ, ডেকোরেশন টিম লাইট সেট করছে চারদিকেই এক ধরনের উৎসবের ব্যস্ততা।
ঠিক তখনই দরজার দিক থেকে গাড়ির শব্দ পরির মামা আর মামি এসে পৌঁছেছেন। সবাই দৌড়ে গিয়ে তাদের রিসিভ করল। পরি এগিয়ে গিয়ে মামিকে জড়িয়ে ধরল আর মামা হাসতে হাসতে বললেন,
মামাঃ- আহা আমাদের ছোট্ট পরি এখন তো একেবারে বউ হয়ে যাচ্ছে।

পরির পেছন পেছন ইলা, হালিমা, রায়েদ, করিম উদ্দিন তালুকদার, তাসলিমা বেগম সবাই এসেছে তাদের অভ্যর্থনা জানাতে।ঠিক তখন গাড়ি থেকে নেমে এলো দুই মেয়ে রাফিকা আর তাবাসসুম।
রাফিকার বয়স ১৯ পরিমিত সৌন্দর্যের মেয়ে, চোখে গাঢ় কাজল মুখে পরিপাটি হাসি। আর তাবাসসুম এর বয়স ১৬ দুষ্টু প্রকৃতির লাল জামা পরে একেবারে প্রাণবন্ত একটা এনার্জি নিয়ে সবাইকে হ্যালো বলল।
তাবাসসুমঃ- ওহ মাই গড এই বাড়িটা তো স্বপ্নের মতো সুন্দর লাগছে।
রাফিকাঃ- মানুষগুলোও মন্দ না মনে হচ্ছে বিশেষ করে ওদিকে যে দাঁড়িয়ে আছে।
রাফিকা তাকিয়ে দেখল গেস্ট হাউজের সামনে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে আরিয়ান। কালো শার্টে হালকা বাতাসে উড়ছে চুল একটা অদ্ভুত আকর্ষণ। রাফিকা একটু এগিয়ে গেল আরিয়ান এর দিকে।
রাফিকাঃ- এক্সকিউজ মি আপনি কি এখানকার?

আরিয়ানঃ- না আমি আকাশের…..কিন্তু এখন মাটিতে আছি।
রাফিকাঃ- আহা তো আপনি খুবই মজার মানুষ মনে হচ্ছে আমি রাফিকা পরির মামাতো বোন।
আরিয়ানঃ- শুনে ভালো লাগল এখন একটু আপনি যেতে পারবেন? সূর্য আমার মাথার পেছনে তো আপনার ছায়া আলোটা ঢেকে দিচ্ছে।
রাফিকার হাসি এক মুহূর্তে থেমে গেল মুখে হালকা অপমানের ছাপ। সে কিছু বলতে যাচ্ছিলো কিন্তু না বলে চলে আসলো সাইড থেকে ইলা সব কিছু শুনে ফেলল ইলা মনে মনে বলে উঠল,
ইলাঃ- রাক্ষসটা শুধু আমার সাথেই না এখন দেখি সবার সাথেই একই রকম করে কথা বলে মন্সটার একটা।
ওদিকে রায়েদ গেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলো তখন তাবাসসুম লাফিয়ে তার সামনে এসে বলল,
তাবাসসুমঃ- আপনি কি বরপক্ষের না কনে পক্ষের কেউ?
রায়েদঃ- দুটোই ধরো তবে আমি ১৮০০ কিলোমিটার থেকে এসেছি।

তাবাসসুমঃ- মানে আপনি পরি আপুর কাজিন রায়েদ ভাই।
রায়েদঃ- বাহ আমার তো জানা ছিলো না আমি মেয়েদের মধ্যে এত পপুলার।
দুজনের হাসাহাসি করলো অনেক ক্ষমন পাশে হালিমা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রায়েদকে বলল,
হালিমাঃ- আপনি ভালো হবেন না মি: ভন্ড
রায়েদঃ- আমি সবসময়ই ভন্ড ছিলাম ভন্ড আছি ভন্ড থাকবো হালিমা ম্যাডাম।
পরি দূর থেকে তাকিয়ে বলল,
পরিঃ- আমি বলেছিলাম না তোকে হালিমা এই রায়েদ ভাই প্লে-বয় এখন প্রমাণ পেয়ে গেলি তো।
কিছুক্ষণ পর সবাই বসলো চায়ের আড্ডায় রাফিকা তখনো আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু আরিয়ান নিজের চা নিয়ে ব্যস্ত। মাঝখানে শুধু ইলার দিকে একবার তাকায় তারপর চোখ সরিয়ে নেয়। ইলা সেটা টের পেয়ে মনে মনে বলে

ইলাঃ- দেখো দেখি এই রাক্ষস টা আবার আমার দিকে তাকানো শুরু করল রাক্ষসটার মাথায় কিছু একটা সমস্যা আছে। নাকি মারার প্লান করতিছে আল্লাহ ভালো জানে।
ঠিক তখনই নোহা এসে ইলাকে বলে
নোহাঃ- ইলা আপু আজকে ভাইয়ার মুড একটু খারাপ সকাল থেকে কেউ ওকে চা বানিয়ে দেয়নি।
ইলাঃ- আচ্ছা তাহলে চা না পেলে মানুষ অন্যকে অপমান করে বুঝি তাই না?
নোহাঃ- না আপু ভাইয়া এমনিতেই মুডি কিন্তু তুমি ওর উপর রাগ করো না প্লিজ।ও আসলে ভালো মানুষ শুধু প্রকাশ করতে জানে না।
ইলা কিছু না বলে মুচকি হেসে চা কাপ হাতে নিয়ে উঠে গেল।আরিয়ান দূর থেকে তাকিয়ে শুধু বলল নিচু গলায়,
আরিয়ানঃ- এই মেয়ে কখন কি করে নিজেও জানে না ষ্টুপিড একটা।
আর দূর থেকে হালিমা আর পরি সেটা শুনে ফিসফিস করে হাসে
পরিঃ- দেখলি হালিমা প্রেমের বাতাস বইতে শুরু করেছে।
হালিমাঃ- হুম এখন শুধু একটা বৃষ্টির দরকার তাহলেই সিনেমা কমপ্লিট।
ছাদের উপর তখন সূর্য ডুবে যাচ্ছে বাতাসে ভেসে আসছে লাউডস্পিকারের মৃদু সাউন্ড আগামীকাল থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু ইলার মুখে মিষ্টি হাসি আর দূরে গেস্ট হাউজে দাঁড়িয়ে আরিয়ান সেই হাসিটাই নিরব হয়ে উপভোগ করছে। এভাবেই সবাই বিয়ে বাড়িরে মজা করছে সন্ধার পরে বাড়ির বড়রা কাজে ব্যস্ত আর ছোট রা মজা করায় ব্যস্ত।

রাত প্রায় সাড়ে দশটা ডিনার শেষ করে পুরো তালুকদার বাড়ি নিস্তব্ধ। ঘরের ভেতরে সবাই ঘুমাতে গেছে শুধু বাইরে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ শোনা যাচ্ছে। আকাশে মেঘ জমে আছে হালকা বিদ্যুৎ চমক মাঝে মাঝে আকাশ আলোকিত করে দিচ্ছে।
ইলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে ভেতরে অদ্ভুত একটা অস্থিরতা যেন বৃষ্টিটা তাকে টানছে।নিজেকে সামলাতে না পেরে ছাদে উঠে গেল।ছাদের উপর জমে থাকা বৃষ্টির পাঞ্জ গাছের পাতায় বৃষ্টির ফোঁটা হালকা বাতাসে চুল উড়ছে ইলা নিঃশব্দে হাত বাড়িয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি ধরছে আঙুলের ডগায় মুখে অজান্তে হাসি। আর তর সইতে না পেরে ইলা বৃষ্টিতে ভিজা শুরু করলো।
দূর থেকে গেস্ট হাউজের ছাদে দাঁড়িয়ে আরিয়ান চুপচাপ তাকিয়ে আছে।আলো কম তবু বৃষ্টির মাঝে ইলার সাদা পোশাক ভিজে গেছে চুল কাঁধ বেয়ে নিচে নেমে আসছে।
আরিয়ান নিঃশ্বাস ফেলল ধীরে।ঠোঁটের কোণে মৃদু এক হাসি
আরিয়ান নিজের মনে বলল
আরিয়ানঃ- এই মেয়েটা নিজেকে বুঝে না, কিন্তু আমার ধৈর্যটা শেষ করে দেয়।
বৃষ্টির শব্দে হারিয়ে যাচ্ছে সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল, পুরো ছাদ অন্ধকারে ঢেকে গেল। ইলা একা দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকালো ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে এক জোড়া হাত এসে ইলাকে দেয়ালের সাথে আটকে দিলো। ইলার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল ইলার কানের খুব কাছেই এক গভীর কণ্ঠ

আরিয়ানঃ- বার বার কেনো আপনি এমন করেন?
ইলাঃ- কী করেছি আমি?
আরিয়ানঃ- বার বার এমনভাবে আমার চোখে পড়ে যান, যেন ইচ্ছা করে নিজের প্রতি টানছেন আমাকে।
ইলার বুক ধকধক করছে সে কাঁপা গলায় বলল
ইলাঃ- আমি… আমি কিছুই করি না… আমি তো শুধু…
আরিয়ান কাছাকাছি মুখ এনে ফিসফিস করে
আরিয়ানঃ- শুধু বৃষ্টিতে ভিজেন চুল এলোমেলো করে হাসেন আর আমি শুধু হারিয়ে যাই আপনার মধ্যে।
ইলা নিঃশব্দে দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গলার স্বর যেন হারিয়ে গেছে। বৃষ্টির ফোঁটা দুইজনের মাঝখানে ঝরছে বাতাসে মিশে যাচ্ছে নিঃশ্বাসের শব্দ।
ইলাঃ- আপনি কি সব মেয়েদের সাথেই এমন কথা বলেন?
আরিয়ানঃ- সব মেয়েরা এমন হয় না… কেউ কেউ অন্ধকারেও আলো হয়ে দাঁড়ায় সেটা স্পেশাল কেউ।
এক মুহূর্ত নীরবতা শুধু বৃষ্টি আর হৃদস্পন্দনের শব্দ ইলার চোখে চোখ রেখে আরিয়ান ধীরে বলল
আরিয়ানঃ- আপনি জানেন না আমি যত দূরে যেতে চাই আপনার থেকে আপনি ততটাই কাছে টানেন আমাকে।
ইলা কাঁপা স্বরে বলল

ইলাঃ- আমি ভয় পাই আপনাকে। আপনি কথায় কথায় থাপ্পড় মারেন।
আরিয়ানঃ- তাহলে ভয়েই থাকুন কারণ আমি এখন আপনার ভয় হয়ে থাকতে চাই।
একটা বিদ্যুৎ চমক দুজনের মুখ আলোকিত করল ইলার চোখে জল আর বৃষ্টির ফোঁটা এক হয়ে গেছে। আরিয়ান হাত বাড়িয়ে তার মুখের পাশে পড়া চুল সরিয়ে দিলো। ইলা হঠাৎ সরে গিয়ে বলল
ইলাঃ- আপনি যা ভাবছেন আমি তেমন মেয়ে না।
আরিয়ান নরম হাসি দিয়ে বলল

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২১

আরিয়ানঃ- আমি তো ভাবি নাই আমি তো “দেখেছি”
ইলার আর কিছু না বলে দ্রুত ছাদ থেকে নেমে গেল, ভেজা পায়ে দৌড়াচ্ছে চুল থেকে পানি ঝরছে। আরিয়ান ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে ওর চলে যাওয়া দিকে, ঠোঁটে এক হাসি নিয়ে ফিসফিস করে বলল
আরিয়ানঃ- তুমি যতই পালাও ইলা আমি তোমার ছায়ার মধ্যে ও তোমাকে খুঁজে নেবো।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৩