Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪৭

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪৭

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪৭
ছায়া

গাড়িটা যখন বাড়ির গেটের সামনে থামল,রাত তখন প্রায় দেড়টা।চাঁদের আলোয় সাদা কম্পাউন্ড ওয়ালটা যেন হালকা জ্বলছে।আরিয়ান গাড়ি বন্ধ করে ইলার দিকে তাকাল।ইলা এখনো ফোনটা হাতে ধরে আছে,হালিমা-পরির সাথে কথা শেষ করে এইমাত্র ডিসকানেক্ট করেছে।
ইলাঃ- সবাই জেগে আছে নিশ্চয়ই…
আরিয়ান মৃদু হেসে বলল,
আরিয়ানঃ- জেগে থাকাটাই স্বাভাবিক আমরা দুজনেই হারিয়ে গিয়েছিলাম কয়েক ঘণ্টার জন্য।
ইলা একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে দরজা খুলল পা মাটিতে পড়তেই বাড়ির মূল দরজা খুলে গেল।দরজার মুখে দাঁড়িয়ে আছে মেহেরাব খান ,নাফিযা, নোহা,নেহা পেছনে আরও দুই-একজন কাজের লোক।সবার মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে সবাজ একই প্রশ্ন করবে?নোহা প্রথম ছুটে এল চোখে-মুখে দুশ্চিন্তা আর রাগ মিশিয়ে।
নোহাঃ- তোমরা কোথায় ছিলে আমরা পুলিশে যাব ভাবছিলাম তোমাদের ফোন দিচ্ছি কেউ ফোন ধরো না
নেহা পেছন থেকে বলে উঠল,

নেহাঃ- আর ভাইয়া তুমি তো তখন তাড়াহুড়া করে বের হয়ে চলে গেলা আর কিছুই বললে না।
ইলা আর আরিয়ান দুজনেই একসাথে হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে।ইলা একটু লাজুক হাসি দিয়ে বলল,
ইলাঃ- সবাই ভেতরে চলো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলব না আমার পা ব্যথা করছে।
সবাই ভেতরে ঢুকল ড্রয়িংরুমের সোফায় বসার আগেই আরিয়ানের মা এগিয়ে এসে ইলাকে জড়িয়ে ধরলেন চোখে পানি।
নাফিযাঃ- তুই ঠিক আছিস তো মা কোথায় ছিলি এতক্ষণ তুই যাওয়ার পরে আরিয়ান এভাবে চলে গেলো আমি ভেবেছি তোর কিছু হয়ে গেছে।
ইলা আরিয়ানের মায়ের পিঠে হাত বুলিয়ে বলল,
ইলাঃ- আমি ঠিক আছি আম্মু একটু ভুল বুঝেছিলাম আপনার ছেলেকে ভেবেছিলাম সব শেষ তাই চলে যাচ্ছিলাম।কিন্তু যেতে পারিনি আপনাদের টানে।
আরিয়ানের বাবা গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলেন,

বাবাঃ- তুই আরিয়ান এত কেয়ার লেস কিভাবে হতে পারিস। এতবার ফোন দিচ্ছি ফোন ধরিস না কেনো?
আরিয়ান মাথা নিচু করে বলল,
আরিয়ানঃ- আব্বূ একটু ঝামেলায় ছিলাম তাই বুঝতে পারিনি। আর কখনো এমন হবে না প্রতিজ্ঞা করছি।
নোহা আর থাকতে পারল না হাত তুলে বলে উঠল,
হালিমাঃ- এইসব ড্রামা বাদ দেও ভাই সোজা কথায় বল কী হয়েছে?কি কাহিনি হইছিলো সেটা বলো। আমার মাথা ঘুরছে এখনো বিকেল থেকে।
ইলা হেসে ফেলল তারপর ধীরে ধীরে সব খুলে বলতে শুরু করল রাফায়েল কীভাবে সত্যিটা বলল, টিকটক আইডি, শাওনের পোস্ট, আরিয়ানের সেই ক্যাপশন “ইলাফুল” নেহা মুখে হাত দিয়ে বলল,
নেহাঃ- ও মাই গড এটা তো পুরা বইয়ের মতো লাগছে।
নোহাঃ- এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না।
নাফিযাঃ- মানে তুমি বলছো যে যাকে তুমি পাগলের মত ভালোবেসেছিলে সে আমাদের আরিয়ান?
আরিয়ান হেসে বলল,

আরিয়ানঃ হ্যাঁ আম্মু এটা নিয়েই একটু ঝামেলা চলছিলো তাই আমরা সব ঠিক করে নিলাম।
আরিয়ানের মা এবার সবার দিকে তাকিয়ে বললেন,
নাফিযাঃ- এখন যা হয়েছে হয়েছে আল্লাহ যা করেছেন ভালোর জন্যই করেছেন। এখন থেকে আর কোনো লুকোচুরি নাই বুঝলি দুজনেই?
ইলা আর আরিয়ান দুজনেই মাথা নাড়ল। আরিয়ানের বাবা শেষে একটা লম্বা শ্বাস ছেড়ে বললেন,
মেহেরাবঃ- ঠিক আছে এখন খাওয়া করে সবাই ঘুমা আজ থেকে আবার নতুন করে পথ শুরু কর। আর হ্যাঁ কাল সন্ধ্যায় সবাই মিলে একটা ছোট করে দোয়া-খাওয়া-দাওয়া করব। এই ঝড়ের পর একটু শান্তি তো দরকার।
কথা শেষ করে মেহেরাব নিজের রুমে চলে গেলো।নোহা উঠে দাঁড়িয়ে ইলার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
নোহাঃ- ভাবি আমরা কি রুম সাজাবো নাকি আবার নতুন করে।
ইলা নোহার কথা শুনে লজ্জায় লাল হয়ে গেলো
ইলাঃ- দুষ্টু খালি ফাজলামি না।
আরিয়ান ইলার হাত ধরে আস্তে আস্তে নিজের রুমের দিকে এগোল। পেছন থেকে নাফিযা বলল
নাফিযাঃ- কি রে খাওয়া করে নে।
আরিয়ান পিছনে ঘুরে বলল
আরিয়ানঃ- আম্মু আগে ফ্রেশ হয়ে নেই তারপরে খাবো তুমি ঘুমাও।
আরিয়ান ইলাকে নিয়ে রুমের ভিতরে গেলো ইলার চুল ঠিক করে দিয়ে বলল
আরিয়ানঃ- এবার থেকে শুধু সত্যি ভালোবাসা থাকবে আর কোনো মায়াজাল থাকবে না।
ইলা চোখ বন্ধ করে বলল,

ইলাঃ- প্রমিস?
আরিয়ানঃ- প্রমিস “তিলবতী “ আব্বু তো বলল নতুন করে সব শুরু করতে তাহলে কি…
ইলা আরিয়ানের কথা শুনে কাসতে শুরু করে দিলো। আরিয়ান ইলার এই অবস্থা দেখে আরিয়ান ইলার হাত ছেড়ে দিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি তুমি বসো ইলাফুল
ইলা মাথা নাড়ল বিছানার কোণায় বসে পড়ল। পা দুটো ঝুলিয়ে দিল।আজকের সারাদিনের ঘটনা মনে পড়তেই চোখ বন্ধ করে একটা লম্বা শ্বাস নিল।বুকের ভেতরটা এখনো একটু কাঁপছে,কিন্তু এবার কষ্টের জন্য না একটা অদ্ভুত শান্তি আর লজ্জার মিশেল।
১৫ মিনিট পরে বাথরুমের দরজা খুলে আরিয়ান বেরিয়ে এল।কালো টাওয়েলটা কোমরে জড়ানো।চুল ভেজা, পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে কাঁধ বেয়ে।শরীরে হালকা শাওয়ার জেল এর স্মেল।ইলা আরিয়ানের দিকে চোখ তুলতেই চমকে উঠল।দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল ইলার গাল দুটো লাল হয়ে গেল।
আরিয়ান মুচকি হেসে বিছানার কাছে এসে দাঁড়াল।
আরিয়ানঃ- কী হলো এমন করে তাকাচ্ছ কেন ইলাফুল?
ইলাঃ- ক… কিছু না আপনি…. আপনি তারাতাড়ি জামা পরে নিন।
আরিয়ান হাসি চেপে বলল,

আরিয়ানঃ- আজ অনেক গরম লাগছে তাই কাপড় পড়ার ইচ্ছা করছে না।
ইলা আরও লজ্জা পেয়ে মুখ নিচু করল। হাত দিয়ে চোখ ঢেকে ফেলল।
ইলাঃ- ফাজলামি করবেন না তারাতাড়ি জামা পরে নিন।
আরিয়ান বিছানায় বসে পড়ল ইলার পাশে। খুব কাছে। ইলা একটু পিছিয়ে যেতে চাইল, কিন্তু আরিয়ান হাত বাড়িয়ে তার কোমর ধরে টেনে নিল।
আরিয়ানঃ- পালাবে কোথায় তিলবতী? আজ তো সব কথা খোলাখুলি হয়ে গেছে।এখন লজ্জা পাচ্ছ কেন? আগে তুমি নিজ ইচ্ছায় আমার হতে চেয়েছিলে এখন না হয় আমি আমার মত করে নেই।
ইলা কাঁপা গলায় বলল,

ইলাঃ- আপনি এভাবে বললে আমার লজ্জা লাগে।
আরিয়ান তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
আরিয়ানঃ- লজ্জা লাগলে তো আরও ভালো। তোমার এই লাল গাল দুটো দেখতে আমার খুব ভালো লাগে জানো?
ইলা দুহাতে মুখ ঢেকে ফেলল।
ইলাঃ প্লিজ… থামুন আমার লজ্জা লাগে।
আরিয়ান হাসতে হাসতে তার হাত সরিয়ে নিল। ইলার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- এতদিন তোমাকে কত কষ্ট দিয়েছি এখন একটু কমপেনসেট করতে দাও না?
ইলাঃ- কীভাবে?
আরিয়ান একটু থেমে তারপর নরম গলায় বলল,
আরিয়ানঃ- এভাবে তোমাকে কাছে রেখে। তোমার চুলে হাত বুলিয়ে আদর করে।তোমার কপালে চুমু খেয়ে।
ইলা চুপ করে রইল চোখ নিচু কিন্তু ঠোঁটের কোণে একটা ছোট্ট হাসি ফুটে উঠেছে। আরিয়ান তার চিবুক ধরে মুখ তুলল।

আরিয়ানঃ- দেখো আমার দিকে ইলাফুল।
ইলা ধীরে ধীরে চোখ তুলল আরিয়ানের চোখে এখন আর কোনো দুষ্টুমি নেই শুধু গভীর ভালোবাসা।
আরিয়ানঃ- তুমি জানো না ইলাফুল… তোমার এই লজ্জা পাওয়া মুখটা দেখলে আমার মনে হয় পুরো দুনিয়াটা থামিয়ে দিয়ে শুধু তোমাকে দেখি।
ইলা আর পারল না লজ্জায় তার গলা আটকে গেল। সে আরিয়ানের বুকে মুখ গুঁজে দিল। আরিয়ানের ভেজা চুল থেকে পানির ফোঁটা তার গালে পড়ছে।
ইলাঃ- আপনি খুব খারাপ।
আরিয়ান হেসে উঠল তারপর ইলাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
আরিয়ানঃ- হ্যাঁ, খুব খারাপ কিন্তু শুধু তোমার জন্য খারাপ আর কারো জন্য না।
ইলা মুখ তুলে তাকাল চোখে চোখ রেখে বলল,
ইলাঃ- প্রমিস করুন আর কখনো আমাকে এত কষ্ট দেবে না।
আরিয়ান তার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল,

আরিয়ানঃ- প্রমিস আমার তিলবতীকে আর কখনো এক ফোঁটা চোখের পানিও ফেলতে দেব না।
ইলা চোখ বন্ধ করল আরিয়ানের বুকে মাথা রেখে চুপ করে রইল রুমের ভেতর শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ। কিছুক্ষণ পর আরিয়ান ফিসফিস করে বলল,
আরিয়ানঃ- জানো তোমার পেটের নিচের ওই ছোট্ট তিলটা আমার বার বার দেখতে মন চায়।
ইলা আরিয়ান কে ধাক্কা দিয়ে সরে গেল। লজ্জায় চিৎকার করে উঠল,
ইলাঃ- বজ্জাত বেডাপরি।
আরিয়ান হাসতে হাসতে বিছানায় শুয়ে পড়ল। হাত বাড়িয়ে ইলাকে টেনে নিল।
আরিয়ানঃ- আরে রাগ করো না আমি তো শুধু বলছি তুমি আমার সবচেয়ে সুন্দর জায়গা।
ইলা তার বুকে মাথা রেখে আবার লুকিয়ে পড়ল।কিন্তু এবার হাসি চেপে রাখতে পারল না।
ইলাঃ- আপনি সত্যিই পাগল সোস্যাল মিডিয়ার থেকেও বাস্তবে বেশি দুষ্টু।
আরিয়ানঃ হ্যাঁ… শুধু তোমার জন্য পাগল, চিরকালের জন্য।

দুজনে এভাবেই জড়াজড়ি করে শুয়ে রইল কিছুক্ষন। ইলা আরিয়ানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে আলমারি থেকে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেল। আরিয়ান নিজের ল্যাপটপ কাছে নিয়ে আধশোয়া হয়ে কিছু দেখা শুরু করলো।
ইলা ওয়াশরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল
ইলাঃ- আমি শাওয়ার নিয়ে আসচ্ছি ঘুমাবেন না কিন্তু কিছু খাননি আবার মেডিসিন ও নেনি।
আরিয়ান ল্যাপটপ থেকে চোখ নামিয়ে ইলার দিকে তাকাল আরিয়ান দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল
আরিয়ানঃ- তোমাকে ছাড়া ঘুমাবো কি করে আমার তিলবতী।
ইলা আরিয়ানের কথা শুনে লজ্জায় মাথা নিচু করে ওয়াশরুমে ডুকে গেলো।
কয়েক মিনিট পর ওয়াশরুম থেকে শাওয়ারের পানির শব্দ ভেসে আসলো। সাথে হালকা গুন গুন করে ইলা মনে মনে গান গাইছে। আরিয়ান ল্যাপটপ স্লিপ করে দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুনছে। হঠাৎ আচমকা এক তিক্ষ্ণ চিৎকারে আরিয়ানের চোখ খুলে গেল।
ইলা চিৎকার করছে “আআআআআ আআআআআআ”!!!
আরিয়ান এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে বেড থেকে লাফিয়ে নামল।দৌড়ে ওয়াশরুমের দরজার সামনে গিয়ে ধাক্কা দিতে শুরু করলো।

আরিয়ানঃ- ইলা..ইলাফুল কি হয়েছে? দরজা খোলো।
ভেতর থেকে কোনো কথা শুনা যাচ্ছে না শুধু ইলার কান্নার মতো আওয়াজ আর অসংলগ্ন চিৎকার। আরিয়ানের বুকের ভেতরটা দুরুদুরু কাপছে। আরিয়ান আর কিছু না ভেবে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে দরজায় এক লাথি বসিয়ে দিলো। দুই তিনবার চেষ্টার পরে লকটা মট করে ভেঙে গেল।
দরজা খুলে আরিয়ান দেখল,শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে ইলা ভয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এক কোণায় একটা বড় তেলাপোকা উড়ছে। ইলা আরিয়ানকে দেখা মাত্রই কোনো কিছু চিন্তা না করে এক লাফে এসে আরিয়ানকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে।

ইলাঃ- প্লিজ ওটাকে বের করে দিন ওটা আমাকে কামড়ে দিবে।
ইলা ভয়ে কাপছে আর আরিয়ানকে খামচে ধরে আছে। শাওয়ারের পানি তখনো পড়ছে। ইলা আরিয়ান দুজনি সম্পূর্ণ ভিজে গেছে।ইলার ভেজা শরীরের ঠান্ডা উত্তাপ আরিয়ানের গায়ে লাগছে। ইলা কাদতে কাদতে বলল
ইলাঃ- ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম ওটা আমার দিকে আসছিল।
আরিয়ান ইলাকে শক্ত করে দুই হাত দিয়ে জরিয়ে ধরলো।ইলাকে শান্ত করার জন্য আরিয়ান ইলার পিঠে হাত রাখলো। কিন্তু ইলার ভেজা শরীরের স্পর্শ আর ইলার গা থেকে আসা শাওয়ার জেলের মিষ্টি ঘ্রান আরিয়ানের মস্তিস্ককে অবশ করে দিতে শুরু করলো।
ইলার চুল থেকে পানি কাধ বেয়ে নামছে, আরিয়ানের গলা ভারী হয়ে গেল। চোখ বন্ধ করে বলল
আরিয়ানঃ- আমি আছি আর কিছু হবে না।
আরিয়ানের হাত ইলার পিঠে বুলতে শুরু করলো ধীরে ধীরে কিন্তু আরিয়ানের হাতের আঙুল গুলো কাপছে।
ইলাকে এই অবস্থায় দেখে আরিয়ান ঠিক থাকতে পারছে না। ইলার ভেজা শরীর একটা পাতলা টাওয়াল ছাড়া আর কিছু নেই শরীরে। পানির ফোটা গুলো ইলার গলা বেয়ে নামছে। আরিয়ানের চোখ সেই পথ ধরে নামতে শুরু করল।
ইলার কাধ,ইলার কালারবোন ইলার বুকের উপরের অংশ দেখে আরিয়ানের শ্বাস ভারী হয়ে এল। আরিয়ান ফিসফিস করে বলল

আরিয়ানঃ- লিটিলহার্ট তুমি যেভাবে এখন আমার সামনে আছো… আমি তো আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না।
ইলা মুখ তুলে আরিয়ানের দিকে তাকালো,আরিয়ানের চোখ জোড়া তখন লাল হয়ে গেছে। ইলার কোমরের মাধন আরও শক্ত হয়ে গেলো।ইলা বুঝতে পারল আরিয়ানের দৃষ্টি বদলে গেছে। ওর নিশ্বাস ঘন হয়ে আসছে। ইলা নিচু স্বরে বলল

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪৬

ইলাঃ- আমাকে…আমাকে ছাড়ুন আমি পুরো ভিজে গেছি
আরিয়ান ইলার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল
আরিয়ানঃ- ভিজে গেছ বলেই তো তোমাকে আরও বেশি সুন্দর লাগছে। আর আমি নিজেকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছি ইলাফুল।
আরিয়ান আলতো করে ইলার ঘাড়ের ভেজা চুলগুলো সরিয়ে দিল।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪৮