ভিলেন ক্যান বি লাভার পর্ব ১৪
মিথুবুড়ি
‘আচমকা এক অজানা স্রোত যেন শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। ঠিক তখনই হালকা একটা শব্দে সতর্ক হয়ে ঘুরার সাথে সাথেই শক্তিশালী এক হাত এসে গলায় চেপে ধরল। মুহূর্তের মধ্যে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে উঠল, গলার চারপাশে চাপ বাড়তে লাগল। গলা থেকে বেরোতে চাওয়া আওয়াজ আটকে গেল। অদৃশ্য শিকলে বাঁধা পড়া এক অজানা ভয়ের অনুভূতি সমস্ত অস্তিত্বে ছড়িয়ে পড়ল। প্রকম্পিত চোখের পাতা মেলে যখন সামনের বিশাল আকৃতির মিররে তাকালে এলিজাবেথের সমস্ত শরীর শিউরে উঠল। বুকের ভিতর ঘূর্ণিঝড় অনুভূত হলো।
‘ধীরে ধীরে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, ঘাম হতে থাকে। শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হয়ে যায়। হাত-পা ঠান্ডা হতে থাকে। রিচার্ডের সমুদ্র নীল চোখ দু’টোতে ঘনীভূত আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত হচ্ছে। যা এলিজাবেথের বুকের ভিতর ভয়ের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্রোধে রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে রিচার্ডের অবয়ব। ক্ষুধার্ত হিংস্র প্রাণীর মতো গর্জে উঠল রিচার্ড।
“ইউ শুড’নট হ্যাভ লেট হিম টাচ ইউ রাইট,রেড! ইউ নো হোয়াই? বিকজ নো ওয়ান টাচড হোয়াট বিলংড টু মি।”
‘রিচার্ডের শরীরের পেশিগুলো টানটান হয়ে আছে। ক্রোধে প্রতিটি অঙ্গ উত্তেজনার শীর্ষে অবস্থান করছে। কথার অন্তরালে থাকা কঠোরতার মতোই গলার মধ্যে চাপ বাড়ায় রিচার্ড। এলিজাবেথের শ্বাসপ্রশ্বাস ভারি হয়ে আসে। শরীরে আতঙ্কের স্রোত বইতে শুরু করে।বেঁচে থাকার জন্য সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও রিচার্ডের হাত এক চুল পরিমাণ সরাতে পারে না। যখন চোখের সামনে যখন সব অন্ধকার হয়ে আসতে থাকে, তখন মুখ দিয়ে শব্দ বের করে এলিজাবেথ। ছটফট করতে করতে দূর্বল চিত্তে অস্পষ্ট স্বরে আওড়ায়, ” নাহ। স্পর্শ করেনি আম-আমাকে।”
‘ছেড়ে দিল রিচার্ড এলিজাবেথকে তৎক্ষনাৎ।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
অস্থির মনে যেন এক পশলা শীতল হাওয়া শীতলতা ছুঁইয়ে দিয়ে গেল রিচার্ডের। তবে চোখ তখনও আগুনের লেলিহান দাউদাউ করে জ্বলছিল। ক্রোধে মটমট করতে থাকা ধারালো চিবুকে তাকাল নিচে বসে গলা ধরে কাশতে থাকা এলিজাবেথের দিকে। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিতে পারছে না এলিজাবেথ। গলার পাশটায় টনটনে ব্যাথা করছে। ছাড়া পেয়েও মনে হচ্ছে এখনও কেউ শক্ত হাতে চেপে রেখেছে । চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝড়তে থাকে। ঘৃণায় বিষিয়ে যাওয়া মন একবারও তাকাল না রিচার্ডের দিকে। এলিজাবেথ সিঙ্কে ধরে ওঠে দরজার অভিমূখী হয়ে দৌঁড়ে পালাতে চাইলে রিচার্ড খপ করে পিছন থেকে এলিজাবেথের হাত টেনে ধরে। এক ঝটকায় টান দিয়ে পিছনে এনে দেয়ালে ছুঁড়ে মারে এলিজাবেথকে একটা অবহেলিত বস্তুর মতো।
‘দেয়ালে মাথা ঠুকে এলিজাবেথের। আঁতকে উঠে ‘ আহ ‘ বলে আবারো নিচে পড়ে যায়। দেয়ালের সাথে লেপ্টে নিচে পড়ার কারণে দেয়ালে তাজা উষ্ণ রক্তের লম্বা ছাপ বসে যায়। এলিজাবেথের রক্তক্ষরণের বিপরীতে রিচার্ডের ঠৌঁটের কোণে লেগে আছে পৈশাচিক হাসি। মরুভূমির মতো খরখরে হৃদয়ে একটু দাগ ফেলে না এলিজাবেথের কান্না। গ্যাংস্টারদের সহানুভূতির অভাব, ফলে তাদের পক্ষে অন্যদের কষ্ট বা যন্ত্রণা কিছুই মানে হয় না। বরং তা তাদের জন্য আনন্দের বা সন্তুষ্টির কারণ হয়। এলিজাবেথ দাঁতে দাঁত চেপে ব্যাথা সহ্য করে সহসাই চেঁচাল,
” আমাকে যেতে দিন। আমি কিন্তু চেঁচাব। ”
‘ হঠাৎ রিচার্ডের অট্টহাসিতে গাঁ ছমছমে গোমট পরিবেশ যাত্রাপালার স্টেজে পরিণত হলো। ওয়াশরুমের প্রতিটা কোণায় কোণায় বারি খেতে থাকে রিচার্ডের কর্কশ গলার হাসি। রুক্ষ কর্কশ গলায় অর্নথক হাসি হেসে চাপা স্বরে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“চেঁচাও! গো এহেড।”
‘চেঁচাতে চাইল এলিজাবেথ। কিন্তু ভয়গুলো গলায় কুন্ডলী পাকিয়ে থাকার কারণে শব্দ বের হয় না গলা থেকে। নিজের অসহায়ত্বতা দেখে নিজের জন্য নিজের মায়া হচ্ছে খুব ওর। ভাগ্য তাকে বার বার কোথায় ঠেলে নিয়ে আছে। সে চায় সুখ সাগরে পা ডুবাতে। তবে তার জীবনের করুন পরিণতিতে আছে শুধু কষ্টের পাহাড়। যা শুধু গাছের ডগার অংশের মতো বাড়তেই থাকে। হঠাৎ এলিজাবেথের চোখে সন্দেহ সংকুচিত হলো। এতো বড় হোটেল এতোক্ষণে তো নিশ্চয়ই কেউ না কেউ আসতো। তবে? তবে কি? ভাবতেই বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠল। ভেজা চোখের পাতা মেলে এলিজাবেথ তাকাল রিচার্ডের আক্রমণাত্মক চওড়া তামুকে। ক্রোধের পাহাড়ে ভারি হয়ে যাওয়া চোয়াল দিয়ে যেন এই মুহুর্তে ভস্ম করে দিবে সকলকে। নৃশংসতা, সহিংসতা, ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়া কোনো সহানুভূতির ঠায় নেই এই নরখাদক জীবনে।
গলা হতে নির্গত কর্কশ গোঙানির শব্দে দূর্বল গলায় উচ্চারণ করল এলিজাবেথ, “কেন এসেছেন আবার?
‘রিচার্ডের অভিব্যক্তি তখন একদম স্বাভাবিক। দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে ঘনঘন ঘাড় ঘোরাচ্ছিল আর রিভ/লভারের আঙুল ঢুকিয়ে শব্দ করছি। এলিজাবেথের কথা কর্ণপাত হলে এবার পূর্ণ দৃষ্টি দিল এলিজাবেথের রক্তাভ মূখশ্রীতে। ঠৌঁট বাঁকা করে হেসে বলল, ” পানিশমেন্ট দিতে। ”
‘এলিজাবেথ হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ” পানিশমেন্ট! কিসের?
‘রির্চাড আগুন বর্জন করল কথায়, চোখে জ্বলছে ক্রোধের অগ্নি। ঘুটঘুটে অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া মেঘলা আকাশে বজ্রপাতের বিজলির মতো হিংস্রতার ছাপ ফুটে উঠল রুক্ষ পুরুষালি শক্ত চিবুকে। গুরুগম্ভীর গলার চেঁচিয়ে বলল, ” গত তিন রাত ধরে আমাকে এই ফা*কিং মাথা ব্যাথায় সাফার করানো জন্য “। বলতে বলতে রিচার্ডের নজর যায় এলিজাবেথের ঠৌঁটে লেপ্টে থাকা গাঢ় লাল লিপস্টিকে। হাঁটু মুড়ে বসল এলিজাবেথের সামনে। রুক্ষ খসখসে বুড়ো আঙুল রাখল এলিজাবেথের ঠৌঁটে। ঘৃণায় গা শিউরে উঠল এলিজাবেথের। নিজেকে শক্ত করে রাখে। রিচার্ডের ঠৌঁটের কোণে বক্র হাসি ঝুলিয়ে এলিজাবেথের লাল রঙে রঞ্জিত ওষ্ঠপুটে আঙুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে বলে,
” আমার জন্য দিয়েছ নিশ্চয়ই ? তবে আমার এখন একটুও মুড নেই। আই হ্যাভ টু ফিক্সড দিস। ”
‘রিচার্ডের কণ্ঠনালী বেয়ে উদগীরণ হল অযাচিত ক্ষুব্ধতার তপ্ত শ্বাস। হিংস্রতা প্রভাবে বিড়বিড়িয়ে ওঠে পৈশাচিক, সাইকো মস্তিষ্কের কথা গুলো এলিজাবেথের ভিতরে ঝড় তুলে দেয়। তিরতির করে কাঁপতে থাকে গড়ন। ধনুকের মতো বাঁকানো শরীরে সুন্দর ভাবে সজ্জিত শাড়ি এলোমেলো হয়ে বিছিয়ে আছে ফ্লোরে। হঠাৎ অতর্কিত আক্রমণে চমকে উঠল। কিছু বুঝে উঠার আগেই অনুভুব করল শ্রাবণের ধারা অঝোরে মুখের উপর পড়ার কারণে শ্বাস ফেলতে পারছে না। রিচার্ড এলিজাবেথকে ফ্যাসেটের নিচে চাপ দিয়ে ধরে রেখে ট্যাব ছেড়ে দিয়েছে। পানি সোজা এলিজাবেথের নাকের সরু ছিদ্র পথ দিয়ে ভিতরে যাচ্ছে। ঠৌঁটের লিপস্টিকের সাথে কপালের রক্ত গুলোও ধুইয়ে মুছে যাচ্ছে। লিকুইড জ্যালের লিপস্টিক হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে যায়। লিপস্টিকের একফোঁটা আভাও নেই এটা শিউর হয়ে রিচার্ড ছাড়ল এলিজাবেথ কে। এলিজাবেথ ফ্যাসেটের পাশের খালি জায়গাটায় ঝুঁকে হাঁপাতে থাকে। শরীরের সম্ভব শক্তি যেন কে শুষে নিয়েছে। নাকের ভিতর পানি যাওয়ার কারণে ফর্সা মুখ ফ্যাকাসে রূপ ধারণ করে। বিভীষিকায়ম দ্বন্দ্বের জীবনে অভিশপ্ত রাজার আগমন ছিল বিষাদের চেয়েও বিষাক্ত।
‘ রিচার্ডের ক্রোধ যেন আজ সংযম, বাঁধ মানবে না। ক্ষুব্ধ হয়ে আবারো তেড়ে গেল এলিজাবেথের দিকে। চুলের মুঠি ধরে টেনে সোজা করল। সুগভীর, নিকষ নীল চোখ হতে অগ্নিশিখা বিচ্ছুরিত হচ্ছে। ব্যাথায় কুকড়িয়ে ওঠলেও নিজেকে শক্ত করে এলিজাবেথ। হঠাৎ নারীবাদী শক্তিশালী আত্মার জাগরণ হলো এলিজাবেথের মাঝে। দু-হাত দিয়ে বুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় রিচার্ড কে। ভাঙা কণ্ঠে গর্জে উঠল,
” আপনার নোংরা হাতে ছুবেন না আমাকে। আমি অন্য কারোর স্ত্রী। ”
‘ রিচার্ড দু’ কদম পিছিয়ে গেলেও আবার তেড়ে আসে না। স্থির হয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে শুনতে থাকে এলিজাবেথের কথা। রিচার্ডের নিরবতা দেখে এলিজাবেথ যেন আরও সাহস পেল স্বরে দ্বিগুণ তেজ এনে ঝাঁঝালো স্বরে বললো,
” লাল শাড়িও পরেছি, বউও সেজেছি। তবে কারোর রক্ষিতা হয়ে নয়। পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। একদম ছুঁবেন না আমাকে। ”
‘ রিচার্ড আসামী মতো দু’হাত উপরে তুলে সারেন্ডার করে। কপাল কুঁচকে, দুই ঠৌঁট গোল করে ক্ষীণ আওয়াজে বলতে বলতে এক পা এক পা করে এগিয়ে আসতে থাকে, ” সরি, সরি, সরি,ফা*কিং সরি।” শেষের দু’টি বাক্য চিবিয়ে চিবিয়ে বলে আকস্মিক হামলা করে বসল এলিজাবেথের উপর। এলোমেলো শাড়ি ভাঁজ ভেদ করে উদীয়মান বাঁকানো কোমর শক্ত হাতের বাঁধনে এঁটে এলিজাবেথকে নিজের সাথে আবদ্ধ করে ফেলল। আক্রমণাত্মক লুকের ড্রাগন ট্যাটু খচিত হাতে চেপে ধরল এলিজাবেথের চিবুক। চাপের প্রভাব এতোই দৃঢ় ছিল যে গালের নরম অংশ দাঁতের সাথে পিষে রক্তপাত হয় অন্তরালে। এলিজাবেথ তবুও নিটল, ঘৃণিত চোখের তাকিয়ে আছে রিচার্ডের উতপ্ত খরখরে মরুভূমির পানে। এলিজাবেথের সাহস দেখে আরো রাগ বাড়ে রিচার্ডের। আরো শক্ত করে ধরে এলিজাবেথের গাল। এলিজাবেথের মুখের ভিতর থেকে তাজা রক্ত ঠৌঁটের ফাঁক গলিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তাজা রক্তে সিক্ত হল রিচার্ডের হাত।
” এজন্য তোদের মেয়ে জাত কে আমি এতো ঘৃণা করি। তোরা শুইবি এখন জনের সাথে আর সংসার করার চিন্তা করবি আরেকজনের সাথে। ছলনাময়ীর জাত। এইযে তোর গলার এটা দেখছিস এটা আমাকে বহন করে। আর কারোর এখতিয়ার নেই আমার ব্যবহারিত জিনিসে ছোঁয়া। আন্ডারস্ট্যান্ড ?
‘ এতো নোংরা নোংরা কথা শুনে গাঁ ঘিনঘিন করে উঠল এলিজাবেথের। বাঁধ ভাঙে চোখের জল। রিচার্ডের শক্ত বাঁধন থেকে ছোটার জন্য ছটফর করতে থাকে এলিজাবেথ। মোচড়ামুচড়ির ফলে দুই শরীরের মধ্যে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়। রিচার্ড ঘোরলাগা দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে এলিজাবেথের দিকে। রিচার্ডের হাত এলিজাবেথের উন্মুক্ত কোমরে এলোমেলো ভাবে বিচরণ করে। জবুথবু করে কাঁপছে এলিজাবেথের গড়ন। রিচার্ড ক্রদনরত আড়ষ্ট মেয়েটার কানের লতির কাছে ঝুঁকে। পুরুষালি হাস্কি ভয়েসে বলল, ” স্টোপ মুভিং। এভাবে নড়াচড়া করলে আমি কন্ট্রোল হারাতে বাধ্য হব। আমার মনে হয় বাথরুমের সিঙ্ক গুলো খুবই নড়বড়ে। ”
‘ এবার রিচার্ডের বুকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে এলিজাবেথ। তুষ্ট হাসে রিচার্ড এলিজাবেথের বোকামো কর্মে। দূরে সরে আসলো । এলিজাবেথ তখন হাঁপাচ্ছে একপ্রকার। রিচার্ড পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরালো। কালচে ঠৌঁটের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে আসলো বিষাক্ত ধোঁয়া। ঠৌঁটের কোণে তখনও বাঁকা হাসি। এলিজাবেথের দিকে নিস্প্রভ দ্বিধাহীন নজরে গমগমে গলায় বললো, ” কিছু করলাম না এতেই এই অবস্থা। ছ্যাৎ ,,
‘ থেমে,
“তা তোমার প্রাণের স্বামী কোথায় ফা*কিং ডার্ক রেড।
‘ তাকবীররে কথা মনে হতেই গতি হারায় হৃদস্পন্দন। খেই হারিয়ে তড়িঘড়ি করে ছুটে গেল এলিজাবেথ। বাঁধা দিল না রিচার্ড, না ফিরে দেখল। শূন্য দৃষ্টিতে জমে আছে ষড়যন্ত্রে পাহাড়। হো হো করে হাসতে থাকল অযথা।
‘বাইরের পরিবেশ এখনও গমগমে। বরংচ মানুষের গিজগিজ আরো বেড়েছে। মদ খেয়ে টাল হয়ে আছে একেকজন। ছেলে মেয়ে সংমিশ্রিণ ভাবে নাচানাচি করছে। একজনের শরীরে আরেকজন ঢলে পড়ছে নাচের তালে তালে। এলিজাবেথ ছুটে গেল খোলা রুফটপে। দূর থেকে তাকবীর কে টেবিলের উপর মাথা হেলিয়ে পরে থাকতে দেখে পা থেমে যায়। —শূন্যতা, হতাশা, অবিশ্বাস, দুঃখ, এবং ব্যথা সব একসঙ্গে এসে মনের ভেতর গভীর ক্ষত তৈরি করে চাপ দিয়ে ধরে। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় এলিজাবেথের শরীর ছেড়ে দেয়। মনে হচ্ছে তার সুখ প্রদীপের আলো নিভে গেল। যে মানুষটা কিছু সময়েই তাকে সর্বত্র দিয়ে দিয়েছে। এলিজাবেথ ফাঁকা ঢোক গিলে সামনে এগিয়ে যায়। তাকবীর সামনে দাঁড়িয়ে ওর নিস্তেজ কৃষ্ণগহ্বরের দিকে তাকাতেই বুকের ছ্যাত করে উঠল। কাঁপা কাঁপা হাত নিল নাকের কাছে। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে মেঝেতে শরীর ছেড়ে দেয় এলিজাবেথ। টেবিলের উপর জুসের গ্লাস। যেটা অর্ধেক খাওয়া হয়েছে। সময় লাগে না এলিজাবেথের বুঝতে এগুলো রিচার্ডের ই কাজ।
‘ হোটেল স্টাফের সাহায্যে এলিজাবেথ তাকবীর কে নিয়ে নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টে যায়। ওকে ওর রুমে শুইয়ে দিয়ে এলিজাবেথ নিজের রুমে যায়। ফ্রেস না হয়ে চলে যায় খোলা বারান্দায়। দমকা হাওয়া বইছে। বাতাসে এলিজাবেথের বুক থেকে শাড়ির আঁচল আলগা হয়ে নিচে পরে যায়। কোমর সমান ঘন চুল গুলো বিধ্বস্ত ভাবে উড়তে থাকে হাওয়ার তালে তালে। চাঁদের সেনাবাহিনী তাঁরা গুলো আকাশে অনুপস্থিত থাকলেও চারপাশের বিশাল বিশাল অট্টালিকা গুলো থেকে চুঁইয়ে আসা আলোতে জ্বলজ্বল করছে চারিপাশ। খোলা বারান্দায়, খোলা চুলে, এলোমেলো ভাবে উড়তে থাকা শাড়ির আঁচল, বাইশ তলা বিল্ডিংয়ের উপর পিছন থেকে ক্রদনরত এলিজাবেথ কে বিধ্বংসী লাগছে। এলিজাবেথ শূন্যে তাকিয়ে আছে একদৃষ্টিতে। কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে শ্রাবণের ধারা। এই কান্নার কারণ এগুলো একান্তই ব্যক্তিগত। যা কেউ জানে না, কেউ না। সে আর সৃষ্টিকর্তা ছাড়া।
‘ খুব বেলা করেই ঘুম ভাঙে এলিজাবেথের। অলস ভঙ্গিতে নড়াচড়া করতে গেলেই শরীরে টনটনে ব্যাথা হয়। অনুভূত হয় ঢোক গিলতে পারছে না, খুব ব্যাথা। মস্তিষ্ক সজাগ হতেই সকল কিছু মনে পড়ে এলিজাবেথের। তপ্ত শ্বাস ফেলে ওঠে বসে। কিচেন থেকে শব্দ আসছে, কপালে সুক্ষ্ম ভাঁজ পরে এলিজাবেথের। স্লিপার পরে ব্যগ্র পায়ে রুম থেকে বের হয় এলিজাবেথ।
” রুপকথা তুই তো আমারই..!
জীবনের চেয়ে আরো দামি..!
” বাহ! খুব ভালো গান গাইতে পারেন তো আপনি। ”
‘ তাকবীর ট্রোস্টারে টোস্ট দিয়ে পিছন ফিরে তাকায়। পরনে কিচেন এপ্রোন। এলিজাবেথ ডাইনিং এরিয়ায় বুক বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। ঠৌঁটের কোণে সস্নিগ্ধতা ফুটে উঠেছে মেয়েটার মুখে। ফোলা ফোলা ঠৌঁট, মুখে আরো বেশি কিউট লাগছে। তাকবীর গুড মর্নিং না বলে অমায়িক হাসি দিল। পরপর কাটিং নাইফ দিতে পেয়াজ কাটতে কাটতে উত্তর দিল,
” এই একটুআধটু আরকি। ”
‘ এলিজাবেথ আগ্রহ নিয়ে কয়েক কদম এগিয়ে এল। উচ্ছুক হয়ে জানতে চাইল, ” সত্যি? ”
” যদি আমি কবি হতাম তবে দুনিয়াতে তুমি ছাড়া আর কোনো সৌন্দর্যের দাম থাকত না। যদি আমি শিল্পী হতাম তবে, সকলের হিংসের পাত্রী হতে তুমি। ”
‘ এক কাল রাত অতিবাহিত হবার পর সকাল সকালই এলিজাবেথের তনুমন পুলকিত হয়ে যায় । লাজুক হেসে কিচেন স্পেসে পা রাখতেই তাকবীর থামিয়ে দিল।
” এই একদম না। ”
‘ গাল ফুলিয়ে কোমরে দু-হাত গুঁজে দাঁড়ায় এলিজাবেথ,অভিমানী কণ্ঠে বললো, ” কেন? আমি করি? আর অডার দিয়ে দিলেই তো হয়ে যেত এতো কষ্ট করে রান্না করতে গেলেন কেন?”
‘ তাকবীর একটা একটা করে প্লেট সাজাতে সাজাতে সবিনয়ে উত্তর দিল, ” প্রথমত তোমাকে খাটানোর জন্য বিয়ে করেনি। দ্বিতীয়ত, খুব ইচ্ছে হল তোমাকে কিছু বানিয়ে খাওয়াতে। ”
” আমি রান্না পারি তো। ”
” ভুলে যাও। ‘ তাকবীরের তাৎক্ষণিক জবার। এলিজাবেথ কিছু বলতে যাবে তার আগেই তাকিয়ে বলে ওঠে, ” একটু পর ডক্টর আসবে মাথা ড্রেসিং করানোর জন্য। টেবিলের উপর দেখো নীল প্যাকেটে একটা মলম আছে ওটা গলায় লাগিয়ে নাও। দাগ ওঠে যাবে। ফ্রেস হয়ে আসো আমি চা দিচ্ছি গলার জড়তা চলে যাবে। ”
‘ স্তব্ধ হয়ে যায় এলিজাবেথ। নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকল তাকবীরের কৃষ্ণগহ্বরে। গলা ধরে আসে রাতের কথা মনে হতেই। অস্পষ্ট স্বরে আওড়ায়, ” আ
” আমি জানি, সব জানি। ”
‘মুখ থেকে কথা কেড়ে নিল তাকবীর। এলিজাবেথ এবার কেঁদেই দেয়। তাকবীর কিচেন এপ্রোন খুলে এলিজাবেথের সামনে এসে দাঁড়াল। হেসে নিদারুণ কোমল স্বরে বললো, ” তুমি না বললেও আমি সবকিছুই বুঝতে পারি এলোকেশী। এই যে সারারাত কাঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলা, এই সব, সব কিছুই বুঝতে পারি আমি। তবুও আমি চাই একটা খোলা বইয়ের মতো আমার কাছের নিজের সবটা স্পষ্ট রাখো সবসময় । প্লিজ গোপন কর না কোনো কিছু আমার কাছে কখনো।
‘দুটো খাদযুক্ত দৃষ্টি মিলে গেল। কণ্ঠ বুজে এলো কান্নায় এলিজাবেথের। ফ্যাসফ্যাসে আওয়াজে বলল, ” চলুন না আমরা দূরে কোথাও চলে যায়। জানো/য়ার টা পিছু পিছু এখানেও চলে এসেছে। ”
‘ তাকবীর টেবিল থেকে টিস্যু নিয়ে এলিজাবেথের হাতে দিল। পরপর স্মিত স্বরে বললো, ” কিছু হবে না এলোকেশী। আমি আছি তো। আর চারদিন পর আমরা এখান থেকে চলে যাব অনেক দূর। ”
‘মানতে পারে না এলিজাবেথ। মন কুঁ ডাকতে থাকে। চোখ ভরা অসহায়তা নিয়ে বলল, ” সে মানুষ না। সাইকোপ্যাথ একটা। ”
” আমি সব সামলে নিব । যাও ফ্রেস হয়ে নাও। একটু পর চেকিং করব আমরা। ”
‘ কান্নার তোড় কমে এল এলিজাবেথের,কপালে ভাঁজ বললো, ” কোথায় যাব?”
‘ তাকবীর ঠৌঁট কামড়ে কিছু একটা ভাবল। অতঃপর বললো, ” নতুন হোটেলে উঠবো দূরে কোথায়। এখানে থাকাটা এখন রিস্ক। ”
” কিন্তু এভাবে ক,,,,
ভিলেন ক্যান বি লাভার পর্ব ১৩
‘ হাত তুলে থামিয়ে দিল তাকবীর। কিছু ভেসে আসা শব্দগুলো কে মস্তিষ্ক শব্দের খণ্ডিত অংশকে পুরো শব্দের অংশ কে পরিনত করার চেষ্টা করল। এলিজাবেথের কানেও আবছা আসল কিছু শব্দ। তাকবীরের তীক্ষ মস্তিষ্ক খুব সহজেই ধরে ফেলে এটা কিসের শব্দ। হঠাৎ বোমা সর্তক সংকেত বার্তার সাইরেন বেজে উঠল। এলিজাবেথ কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকবীর এলিজাবেথ হাত টেনে ধরে দরজার দিকে ছুটে। দরজার অভিমূখে যাওয়ার আগেই,,
~ঠাস~
