Home মাটির পিঞ্জর মাটির পিঞ্জর পর্ব ২৭

মাটির পিঞ্জর পর্ব ২৭

মাটির পিঞ্জর পর্ব ২৭
নূরায়েশা মাহনূর

গরম উত্তপ্ত শ্বাস গালে গলায় আগুনের মত আছড়ে পড়ছে দৃষ্টির উপর। অবসন্ন শরীরে একফোঁটা শক্তিও অবশিষ্ট নেই, তবু নিদ্রার স্তব্ধতা খানিকটা সরিয়ে নিয়ে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো সে। অনমনীয় ভারে থমকে আছে সমস্ত স্নায়ু, দেহ কোনো অদৃশ্য পাথরের তলদেশে ডুবে আছে। এক মুহূর্তের জন্য সমস্ত স্মৃতি, সমস্ত অনুভব হারিয়ে গেছে তার। কোথায় আছে সে, কি ঘটছে কিছুই স্পষ্ট নয়। ধুকপুক করা বুকের ভেতর থেকে উষ্ণ শ্বাস গড়িয়ে বেরোল একে একে; নিজেকে শান্ত করতে চাইলো দৃষ্টি।

ধীরে ধীরে ঘাড় কাত করে তাকাতেই দৃষ্টি দেখতে পেল তার বুকের উপর মুখ থুবড়ে ফোসফাস করে ঘুমিয়ে আছে সাইফ। বহুক্ষণ পর মন্থর হয়ে আসা স্মৃতি দৃষ্টির কানে ফিসফিস করে জানালো, হ্যাঁ, সে এখন বিবাহিত। আর একা একা শ্বাস ফেলে ঘুমানোর অভ্যাস নেই। পাশে একটা ষাঁড় সমান ভারী প্রাণী নিয়েও স্বপ্ন ভাগ করতে হয় তার। অন্যদিন ঘুম ভেঙে গেলে চিত্রটা থাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। গুটিশুটি মেরে সাইফের বুকে লুকিয়ে থাকে দৃষ্টি নিজেই। কিন্তু আজকের চিত্রটা অন্যরকম।আজ সাইফই গুটিশুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে তার বুকের উপর। মনিবের বুকে নিশ্চিন্ততায় ডুবে থাকা এক বিড়ালছানার মতো মনে হচ্ছে তাকে। মৃদু আলোয় চোখ সরিয়ে দৃষ্টি এবার রয়েসয়ে তাকালো দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটির দিকে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

ঘড়ির কাঁটা নিরবিচ্ছিন্ন টিকটিক শব্দে জানিয়ে দিচ্ছে সকাল ঠিক ৮টা ১৩। মাথার ভেতর ভাজ পড়লো তার। আজ এতটা বেলা হয়ে গেলো কীভাবে! ঘুম এত দেরিতে ভাঙলো কেন? মুহূর্তেই কাল রাতের স্মৃতিগুলো ঝলসে উঠলো চোখের সামনে, সাথে সাথেই গালদুটো লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠলো।একটুখানি শুষ্ক ঢোক গিলে ফেলল সে, বুকের ভেতর অস্থির স্পন্দন। যে করেই হোক সাইফ জেগে ওঠার আগেই এখান থেকে কেটে পড়তে হবে।
আস্তে আস্তে দেহ সরাতে দৃষ্টি থমকে গেলো। সাইফ বুকের উপর মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে থাকলেও দৃষ্টির সামান্য নড়াচড়াতেই সে ঘুমটা খানিক ছুটে গেলো। মোহনীয় স্বরে বিড়বিড় করে উঠলো,

– উমম… আরেকটু ঘুমাতে দিন।
বলতে বলতেই সাইফের আলস্যমাখা হাতের বাঁধন আরও কিছুটা দৃঢ় হলো। দৃষ্টির এখন মরনাপন্ন অবস্থা, ভেতরের তোলপাড় কোনোভাবে চাপা দিয়ে কষ্টেসৃষ্টে ফিসফিস করে বললো,
– অনেক বেলা হয়ে গেছে… আমি এবার উঠবো।
সাইফ এখনও আধোঘুমে তবুও ঠোঁটে অবচেতন হাসি খেলে গেলো । কণ্ঠস্বর নিস্তব্ধতায় থিতিয়ে ভেসে এলো,
– ঘুমিয়েছি অনেক রাত করে… ভুলে গেলেন?

দৃষ্টি আরও একধাপ ঝটকা খেলো। ঘুমের ঘোরেও লোকটার সবকিছু মনে আছে নাকি! কি আশ্চর্যসাধ্য স্মৃতি! অথচ তার নিজেরই তো জেগে ওঠার পর কয়েক মিনিটের জন্য সব স্মৃতি ঝাপসা হয়ে গিয়েছিলো। ভিতরে ভিতরে অস্বস্তি জমে উঠলেও এবার দৃষ্টি কিছুটা জোর করেই সাইফকে সরানোর চেষ্টা করলো।
– সরুউউউউউউন! আমাকে উঠতে হবে… আমি ওয়াশরুমে যাবো।
হালকা নড়াচড়ার সঙ্গেই সাইফ এবার পিটপিট করে চোখ খুলে তাকালো। অর্ধনিদ্রালু চোখের গভীরে এক চিলতে মোহ খেলিয়ে বললো,

– যেতে পারবেন তো? নাকি কোলে করে নিয়ে যেতে হবে?
দৃষ্টি আঁতকে উঠে চোখ কুঁচকে তাকালো।
– আমি কি বাচ্চা নাকি!
বলেই ঝপাট করে উঠে বসে গেলো দৃষ্টি। সেই সঙ্গে শরীরটা বিদ্রোহ করে উঠলো। তীব্র টান খেলে গেলো মেরুদণ্ড বরাবর, গা মোচড়িয়ে উঠলো কেমন যেন। কপালে হাত রাখতেই অনুভব করলো শরীর হালকা জ্বরে আচ্ছন্ন। সাইফও ধীরে ধীরে উঠে বসে পড়লো। খোলা বুক আর অর্ধনগ্ন কোমর সামান্য বাকিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লক্ষ্য করলো দৃষ্টিকে। তারপর চিন্তিত গলায় বললো,

– গা গরম আপনার… জ্বর আসবে বোধহয়।
দৃষ্টি আমতা আমতা করতে লাগলো। অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে চোরা চোখে এদিক-সেদিক তাকিয়ে গলা খাঁকারি দিলো।
– ওই… বৃষ্টিতে ভিজেছি যে… হয়তো তাই।
সাইফের ঠোঁটে মৃদু হাসির রেখা খেললো। দৃষ্টিকে খানিকটা লজ্জা দেয়ার ইচ্ছে নিয়েই সে ঝুঁকে এল দৃষ্টির কানের কাছে। শ্বাসের উষ্ণতা ছুঁয়ে গেলো ত্বক।
– এটা… আদর দেওয়ার জ্বর।
মুহূর্তেই দৃষ্টির কান পুড়ে উঠলো তপ্ত শিখায়। গালদুটোও লালিমায় ভিজে উঠলো একেবারে। কাল রাতেও তো এতটা লজ্জা লাগেনি, অথচ আজ কেন জানি বুকের ভেতর কেমন তোলপাড় হচ্ছে। উফফফ! সাইফ একেবারে ইচ্ছে করেই তাকে জ্বালাচ্ছে।

দৃষ্টি মাথা নিচু করে বসে রইলো। গায়ে মোড়ানো ব্ল্যাংকেটের কিনারায় আঙুলের ডগায় টান দিতে লাগলো বারবার। সাইফ এক ঝলকেই ধরতে পারলো দৃষ্টির ভেতরের স্নিগ্ধ অস্বস্তি। ধীরে আলতো করে গা হেলিয়ে শুয়ে পড়লো দৃষ্টির কোলের উপর মাথা রেখে। হঠাৎই চোখাচোখি হয়ে গেলো দু’জনের। দৃষ্টি তড়িঘড়ি করে আরও মাথা নুইয়ে নিলো। অবাধ্য কয়েকটি চুল এসে ঢেকে দিলো তার চোখ-মুখ।
সাইফ অসীম মমতায় দু’আঙুলে সেই চুল সরিয়ে নিলো, কানের পাশে গুঁজে দিলো যত্নে। দৃষ্টির এক হাত তুলে হাতের উল্টো পিঠে আলতো চুমু খেলো। এরপর সেটি গালের কাছে ধরে মৃদু স্বরে বললো,

– এমন একটা সকালের জন্য… আমি কতকাল ধরে অপেক্ষা করছি, জানেন আপনি?
– বেশি না… মাত্র পাঁচ বছর।
ছোট্ট, গম্ভীর উত্তর দিলো দৃষ্টি। সাইফের ঠোঁটে হাসির রেখা ফুটে উঠলো, মাথা খানিক দুলিয়ে ধীরে বললো,
– উহু… আট বছর!
দৃষ্টি ভ্রু কুঁচকে তাকালো, চোখ কুঁচকে সরু করে ফেললো অবিশ্বাসে।
– কিন্তু… আমাদের বিয়ের তো পাঁচ বছর হলো!
সাইফ আর কিছুই বললো না। কোনো শব্দের বদলে সে দু’হাতে দৃষ্টির কোমর জড়িয়ে মুখ গুঁজে দিলো তার পেটের কাছে। গভীর, দীর্ঘ এক শ্বাস টেনে নিলো বুক ভরে, সেই নিশ্বাসে আটকে আছে আট বছরের অপ্রকাশিত সবকিছু। দৃষ্টি হকচকিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলো,

– আপনি… এর আগ থেকেই…???
– মনে হলো অনন্তকাল পর আমার দোয়া কবুল হয়েছে।
– মানে….!
সাইফ ধীরে মাথা তুললো । কোনো আগাম সংকেত ছাড়াই সে দৃষ্টিকে চেপে ধরলো, বিছানায় ফেলে তার উপর চড়ে বসল। নাকের ডগায় একখানি ক্ষণস্থায়ী চুমু এঁকে কণ্ঠে মোহনীয় ফিসফিস করলো,
– আমার আবার… আদর চাই।
দৃষ্টি লজ্জা আর রাগে মিশ্রিত কণ্ঠে তড়িঘড়ি করে দু’হাতে তার বুকের উপর ধাক্কা দিলো।
– সেটা জন্মদিনের উপহার ছিলো, সরুউউউন!
সাইফের ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ছড়িয়ে পড়লো।
– কিন্তু কালকে তো জন্মরাত ছিলো… জন্মদিন তো এখন চলছে। তার মানে আজকে সারাদিন সুযোগ আছে আমার!!
বাক্য শেষ হতেই আচমকা ফট করে ঢুকে পড়লো ব্ল্যাংকেটের নিচে। দৃষ্টি চমকে উঠে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলো,
– আমি কিন্তু কেস করে দেবো বলে দিলামমমম!

নাস্তার টেবিলে বসে আছে সাইফ আর ইমন। পাশেই দাঁড়িয়ে নাস্তা তুলে দিচ্ছেন রাহেলা বেগম, সঙ্গে দৃষ্টি। ইদানীং বাড়িতে একটা নতুন নিয়ম চলছে যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, অন্তত সকালের খাবারটা সবাই একসাথে খায়। আজ বাইরে অবিরাম বর্ষণ। ঝুমঝুম বৃষ্টির শব্দে আঙিনা ভিজে সোনালি কাদা, বাতাসে সোঁদা গন্ধ। বের হওয়ার কোনো উপায়ই নেই বললেই চলে। সাইফ আর ইমনের আজ ক্লাবে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু প্রকৃতির ইচ্ছা অন্য কিছু। তাই সকালের পরিকল্পনা বদলে গেছে, তার বদলে রাহেলা বেগম বানিয়েছেন ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ি।
আজ সবাই একটু দেরিতেই উঠেছে, তাই এখন নাস্তার আয়োজন জমে উঠেছে। ইমন আর সাইফ পাশাপাশি বসে খাচ্ছে আর নিজেদের মতো আলাপ করছে। হঠাৎ ইমন চোখ কুঁচকে থেমে গেল। চোখের কোণে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়তেই তৎক্ষণাৎ হাত বাড়িয়ে সাইফের গলায় স্পর্শ করলো।

– ভাই… আপনের এইখানে কি হইছে?
সাইফ একেবারে চমকে উঠলো। কথার মাঝেই বিশম খেয়ে গলা ভারী হয়ে গেলো, চট করে চামচটা নামিয়ে রেখে খানিকটা দূরে সরে বসল।
– ক…কই… কি হইছে?
বলার সাথে সাথেই নিজের টিশার্টের কলার টেনে নামিয়ে ডাকতে চাইলো জায়গাটা। এইদিকে দৃষ্টি প্রথমে খেয়াল না করলেও ইমনের হাতের টানাটানিতে তার চোখ সেদিকে পড়ে গেল। চোখে তৎক্ষণাৎ কৌতূহলে অস্থির হয়ে চোরের মতো এদিক-ওদিক তাকাতে লাগলো দৃষ্টি।
কিন্তু ইমন যে একেবারে নাছোড়বান্দা! তাহার পরানের ভাইয়ের শরীরে সামান্য আঁচড়ও তার শিশুতুল্য মনে সহ্য হয় না। তাই তো সে আরো তোড়জোড় করে টেনে ধরলো সাইফের টিশার্টের কলার।

– এই দেখেন! এইখানে, ভাই!
ইমন আঙুল দিয়ে গলার একপাশ দেখিয়ে প্রায় জোরেই বলে উঠলো।
– আরে …হইসে ক-কি… কিছু না। সর!
সাইফ কেমন যেন গলা আটকে কথাগুলো টেনে টেনে বললো। হাতের আঙুল কাঁপছে সামান্য। ইমন এবার আরো ক্ষেপে উঠলো। মুখটা কাছে এনে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিলো সাইফের চোখে ।
– ভাই, কিছু তো হইছে আপনের !! আপনে এমনে তোতলাইতেছেন কেন? আবার লুকাইতেছেনও। আমি দেখি… আমারে দেখতে দেন!
ঠিক তখনই সেখানে এসে হাজির হলো নীলিমা। ভেজা চুলের লম্বা বিনুনি পিছনে দোল খাচ্ছে, এক হাতে চেয়ার টেনে দপ করে বসল সে। সবার মুখে এত নাটকীয়তা, অথচ নীলিমার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। নিজের প্লেটে খাবার তুলে নিয়ে খেতে খেতেই হঠাৎ করে বলে উঠলো,

– আপু, কালকে বেলুনগুলা নিয়ে করলি বললি না তো! ওইগুলো কিন্তু আমার জন্মদিনে এক বন্ধু দিয়েছিলো। তুই সব নিয়ে নিয়েছিস।
বলার সাথে সাথেই ইমনের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। তার চাহনি সোজা বিদ্ধ হলো দৃষ্টির মুখে। দৃষ্টি এখন ইতিমধ্যে মৃত্যুশয্যার রোগীর মতো অবস্থা নিয়ে দাড়িয়ে আছে। মুখ গরম হয়ে বুক ধুকপুক করছে, মনে হচ্ছে এখনই কোনো জানালা ভেঙে পালিয়ে যাবে। কিন্তু কপালটাই খারাপ। নীলিমার চোখও হঠাৎ থমকে গেলো। সে একবার সাইফের দিকে তাকালো, আবার দৃষ্টির দিকে। ইমনও ঠিক একই কাজ করলো।
দু’জনের এমন কৌতূহলী, দুষ্টু দৃষ্টি একসাথে এসে পড়লো সাইফ আর দৃষ্টির উপর। মুহূর্তের মধ্যে ঘরে হিমশীতল অস্বস্তি নেমে এলো। দৃষ্টি লালচে মুখে নিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে, সাইফ অস্বাভাবিক গম্ভীর।পরিস্থিতি সামাল দিতে সাইফ শেষমেশ গলা খাঁকারি দিলো। কণ্ঠে জোর আনার ব্যর্থ চেষ্টা করলো,

– কি এমনে তাকাই আছস কেন তোরা? ভূত দেখছস নাকি?
ইমন এবার আর চুপ করে থাকতে পারলো না।একেবারে ধপ করে চেয়ারে বসে গা হেলিয়ে, ঠোঁটের কোণে দুষ্ট হাসি মেখে বললো,
– আহা! অবশেষে আমার ভাই পারলো! আমার তো ইচ্ছে করতেছে মাইক ধইরা পুরা এলাকায় ঘোষণা কইরা দিই। আমার ভাই ঘরেও বাঘ… বাইরেও বাঘ! আহায়ায়ায়ায়া!!
নীলিমা পাশ থেকে হাত দিয়ে বারবার ইশারা করে থামানোর চেষ্টা করছে ইমনকে। চোখ কুঁচকে ভুরু নাচিয়ে তাকে চুপ করতে বলছে, কিন্তু ইমন পুরো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। তার ভেতরকার আনন্দ কোনোভাবেই থামছে না। মুখের হাসি কান পর্যন্ত গড়িয়ে পড়েছে, মনে হচ্ছে সাইফ না, বাসর সে নিজেই সেরে এসেছে। ইমন এবার মুখ গোমড়া করে দৃষ্টির দিকে তাকালো।

– ভাবি এটা কিন্তু ঠিক করেন নাই আপনি। শুধু বেলুন দিয়ে সাজালে কি সুন্দর হয়! আমার কত ইচ্ছে ছিলো হরেক রকমের ফুল দিয়ে আমার ভাইয়ের বাসর ঘর সাজাবো। কিন্তু আপনি চুপারুস্তমের মত একা একাই সব করে ফেলেছেন। কষ্ট পেলাম আমি খুব কষ্ট পেলাম।
সাইফ ঝপাট করে ইমনের কান মলে ধরলো।
– তুই খুব বেড়েছিস, তোর মাথা কা’টার ব্যবস্থা করতেছি।
কোনো রকম নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো ইমন। এরপর একটা চামচ নিয়ে টেবিল থেকে দূরে গিয়ে দাড়ালো। মাইকের মত করে মুখের সামনে ধরে জোরে বলে উঠলো,
– শোনেন, সবাই! আমার ভাইয়েরে কনগ্রেচুলেশন! অবশেষে উনি সফল মানুষ হয়েছেন। কাল রাত থেকে আমার ভাই অফিসিয়ালি বাঘ হয়ে গেছেন।
বলেই সাইফ উঠে তাকে ধরার আগেই সে পগারপার।

বিকেলের ম্লান আলোয় বারান্দার রেলিঙে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টি। আকাশজুড়ে গাঢ় মেঘের ছায়া, বৃষ্টির টুপটাপ শব্দে চারপাশ কেমন স্যাঁতসেঁতে হয়ে উঠেছে। বাতাসে ভেসে আসছে ভিজে মাটির সোঁদা গন্ধ। প্রকৃতি এক অদ্ভুত বিষণ্নতায় মোড়া, অথচ দৃষ্টির কাছে এ মুহূর্তে সবকিছু অব্যক্ত শান্তির মতো লাগছে। ঠান্ডা হাওয়ার স্পর্শে শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে স্নিগ্ধ এক অনুভূতি। তখনই পেছন থেকে এক উষ্ণ স্বর ভেসে এলো,

– এই নিন কফি।
বিকেলের আবহে সাইফ এগিয়ে দিলো ধোঁয়া ওঠা এক মগ কফি। নিজেও হাতে নিলো আরেকটা। দৃষ্টি খানিক ঘাড় কাত করে তাকাল সেদিকে, চোখের কোণে হালকা অবাক ভাব, তবে কিছু বলল না। মগটা হাতে নিয়ে দূরে বৃষ্টির আঁধারে চোখ স্থির রেখে শান্ত গলায় বলল,
– কি দরকার ছিলো! আমাকে বললেই হতো।
সাইফের ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটল। কোমল স্বরে বলল সে,
– দরকার হলেও মুখ ফুটে আপনি কোনোদিন বলবেন না। তাই ভাবলাম, এইটুকু করাই যায়।
দৃষ্টি হালকা মুচকি হাসল। সেই হাসির কোমল পরশ সাইফের চোখে ধরা পড়তেই সে নিবিড় কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে উঠল,

– আপনি হাসলে ভীষণ সুন্দর লাগেন জানেন? ফুলেরা যেমন বাতাসে দুলে খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে, আপনাকেও তেমনই লাগে। সবসময় এমনই হাসবেন।
অবচেতনে দৃষ্টির ভ্রু কুঁচকে গেল। শব্দগুলো তার কানে ঢুকে বুকের গভীরে কোথাও অদ্ভুত এক আলোড়ন তুলল। তবুও ঠোঁটের কোণে আবার হালকা হাসি খেলে গেল। এই হাসি এখন আর কৃত্রিম নয়, ভেতর থেকে উঠে আসে। নিজের মধ্যেকার এমন কোমল দিকটা আগে কখনো অনুভব করেনি দৃষ্টি। কিন্তু ইদানীং সাইফের আশেপাশে থাকলেই তার ভেতরের শিশুসুলভ সত্তাটা নিজে থেকেই জেগে ওঠে। হয়তো সাইফ প্রশ্রয় দেয় বলেই।
সাইফ এবার তার খুব কাছেই দাঁড়াল। রেলিঙে পিঠ ঠেকিয়ে মুখোমুখি হলো দৃষ্টির। বাতাসে ভিজে মাটির গন্ধ, কফির গরম ধোঁয়া আর বৃষ্টির গুঞ্জন সব মিলিয়ে মুহূর্তটা অব্যক্ত। দৃষ্টি কফিতে হালকা চুমুক দিতে দিতে দূরে চোখ রেখে হঠাৎ নরম গলায় বলল,

– আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।
সাইফের নজর তখন শুধুই তার ওপর। শান্ত স্বরে উত্তর এলো,
– হুম…
দৃষ্টি এবার চোখ তুলে তাকালো তার দিকে,
– আমার মনে হয়… এই বাগানে কিছু একটা আছে।
সাইফের ভ্রু কুঁচকে গেল। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মগটা একপাশে রেখে সতর্ক গলায় বলল,
– মানে, কি আছে?
দৃষ্টি মগটা রেলিঙে নামিয়ে সামনে তাকিয়ে নীচু স্বরে বলল,
– আমি ঠিক জানি না কি… তবে নিশ্চয়ই কিছু একটা আছে। কয়েকবার রাতের বেলায় চুপিচুপি কাউকে যেতে দেখেছি আমি।
সাইফ চোখের চাহনি সরু করে চারপাশে তাকাল। নীরবতা আরও ঘনীভূত হয়ে উঠলো। তারপর স্থির স্বরে বলল,

– কি থাকবে এখানে? গাছপালা ছাড়া তো আর কিছুই নেই। আমি তো কখনও দেখিনি।
– আপনি দেখেননি কারণ আগে তো বারান্দায় আসতেনই না। এই যে গাছগুলো দেখুন… কয়েকদিনেই প্রাণ ফিরেছে। আমি যখন এসেছিলাম, একদম কুঁকড়ে ছিল।
কথা শেষ করেই দৃষ্টি মুখ বাকিয়ে বারান্দায় থাকা গাছগুলোর দিকে ইশারা করল। সত্যিই, সাইফ আগে খুব একটা বাড়িতে সময় দিত না। সারাদিন বাইরে থাকত, ক্লাবে কাজ, দৃষ্টির উপর পাহারার দায়িত্ব, নানা ব্যস্ততায় কাটত তার সময়। কিন্তু দৃষ্টি ফিরে আসার পর থেকেই সাইফের দিনযাপন পাল্টে গেছে। সে এখন অনেকটাই ঘরমুখো।সাইফের ঠোঁটে এক চিলতে দুষ্টু হাসি ফুটল। ধীরে ধীরে দৃষ্টির দিকে ঝুঁকে কোমল স্বরে বলল,

– এই গাছগুলো আমার মনের মতই নেতিয়ে পড়েছিল, বুঝলেন? এখন আপনি এসেছেন… আমার মন আর গাছ দুটোই একসাথে সতেজ হয়ে গেছে।
দৃষ্টি চোখ কুঁচকে একঝটকায় কনুই দিয়ে সাইফের পেটে হালকা গুতো মারল। মুখ ফুলিয়ে বলল,
– বেশি বকবক করেন আপনি।
সাইফ হেসে উঠে আবার গম্ভীর মুখ করে বলল,
– আচ্ছা তাহলে চলুন দেখে আসি এখনই… কি আছে ওখানে। আপনি যেহেতু বলেছেন, তাহলে নিশ্চয়ই কিছু একটা আছে। আপনার চোখ ভুল দেখবে না নিশ্চয়ই!
কথা শেষ করেই সাইফ এগোতে উদ্যত হলে দৃষ্টি দ্রুত হাত বাড়িয়ে তার কব্জি চেপে থামিয়ে দিল।
– উহু… এখন না। রাতের বেলায় যাবো, চুপিচুপি। যদি সত্যিই কিছু থাকে, এখন গেলে সমস্যা হবে। বুঝেছেন?
সাইফ হালকা মাথা নুইয়ে হেসে বলল,
– জ্বী, আজ্ঞে মহারানী!

ইশিতা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে কম্বলটা শক্ত করে মুড়ে বসে আছে। বাহিরে ঝমঝম বৃষ্টির শব্দ এতটাই তীব্র যে পৃথিবীর অন্য কোনো শব্দ কানে পৌঁছাচ্ছে না। রাত যত গাঢ় হচ্ছে, ততই বৃষ্টির ধারা হু-হু করে বাড়ছে। বিশাল বাড়িটার চারপাশ অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। মানুষজন নেই তেমন তার মা আর উজানের মা দূরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন শোকের সংবাদে। চারদিন হলো উজানের বন্ধুরাও ফিরে গেছে। এই পুরো বিশাল অট্টালিকায় এখন কেবল তিনটি প্রাণ মরিয়ম, উজান আর ইশিতা।

তবুও ইশিতার কাছে মনে হচ্ছে, এত বড় বাড়িটা হঠাৎ করেই রূপ নিয়েছে এক ভুতুড়ে প্রাসাদে। দেয়ালের ছায়া, ছাদের খটখট শব্দ, আর বৃষ্টির একটানা গর্জন মিলেমিশে এক ভয়াল আবহ তৈরি করেছে। নিচতলায় মরিয়ম নিশ্চিত গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। তার সেই বিখ্যাত নাক ডাকার আওয়াজ হয়তো দূর থেকেও শোনা যাচ্ছে, যদিও ইশিতার কানে কিছুই বাজছে না। দুনিয়া উল্টে গেলেও মরিয়মকে এই মুহূর্তে জাগানো সম্ভব নয়। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি, ভেতরে কাঁথা মুড়ে উষ্ণতার আরাম, এমন অবস্থায় যে কেউ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে। ইশিতারও তাই হবার কথা ছিল, যদি না বুকের গভীরে ভয়টা বরফের মতো জমাট বেঁধে থাকত।

অবশেষে সহ্য করতে না পেরে উঠে দাঁড়াল ইশিতা। উদ্দেশ্য নিচতলার মরিয়মের ঘর। কম্বলটা কাঁধ থেকে পেছিয়ে দিয়ে মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালাল সে। প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছে অতি সাবধানে, পা টিপে টিপে, যাতে কারও ঘুম ভেঙে না যায়। মনের ভেতর এক অদ্ভুত কল্পনা জাগলো তার। ভূতেরাও নিশ্চিত ঘুমাচ্ছে এখন… আওয়াজ করলেই যদি জেগে ওঠে! নিজের এই ভাবনাতেই অস্থির হাসি পেয়ে যায় তার। কিন্তু পরক্ষণেই বুকের ধুকপুকানিতে গলা শুকিয়ে আসে।

করিডরে পা রাখতেই গা ছমছম করে উঠল। দেয়ালের ফাঁকফোকরে আলো ফেলে এগোতে লাগল দোয়া-দুরুদ পড়তে পড়তে। উজানের ঘরের সামনে এসে হঠাৎ থেমে গেল। কিছু একটা তাকে আটকে দিল। ফ্ল্যাশ মেরে দেখল দরজা আধখোলা। উজান দরজা খোলা রেখেছে কেন? সাহস সঞ্চয় করে হাত বাড়িয়ে ধীরে ধীরে দরজা ঠেলে উঁকি দিল ইশিতা।অবাক হয়ে দেখল, ঘর পুরোপুরি ফাঁকা। এত রাতে কোথায় গেল উজান! নিজেকে বোঝাল, হয়তো ওয়াশরুমে গেছে। যাকগে, যেখানেই থাকুক তার কিছু যায় আসে না। মরিয়মের ঘরে পৌঁছাতে পারলেই বাঁচে এখন সে।

ভাবতে ভাবতেই দরজা টেনে বন্ধ করে আবার পা টিপে সামনে এগোল। করিডরের বাতাস হঠাৎ আরও ভারী হয়ে উঠেছে। দূরে কোথাও মেঝেতে পানির ফোঁটা পড়ার ক্ষুদ্র টুপটাপ শব্দ, বৃষ্টির গর্জন আর নিজের তীব্র নিশ্বাস ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। কিন্তু মাত্র এক পা এগোতেই আচমকা কেউ পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। বুকের ভেতর জমাট বাঁধা ভয়ের ঢেউ এক ধাক্কায় মাথার চূড়ায় উঠে গেল। পুরো শরীরের শিরদাঁড়া বেয়ে কাঁপন নামল স্রোতের মতো। আতঙ্কে হাত থেকে মোবাইলটা ফসকে পড়ে গেল মেঝেতে, শব্দটা নিস্তব্ধতার বুক চিরে প্রতিধ্বনিত হলো। এরপরই কর্কশ, গর্জনভরা এক কণ্ঠস্বর,

– শালা চোরের বাচ্চা চোর…! আজকে তোর একদিন না, আমার একদিন!
বলেই ইশিতাকে আরও জোরে ঝাপ্টে ধরল উজান।হঠাৎ এমন আক্রমণাত্মক চাপে ইশিতার বুকের ভেতরকার হৃদস্পন্দন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা বিস্ফোরিত ঢোলের মতো বাজতে লাগল। কোনো শব্দ বের হলো না তার কণ্ঠ থেকে। এতরাতের বেলা, হঠাৎ পেছন থেকে উজান এসে এমনভাবে ধরে ফেলায় ভয়ে আত্মা শুকিয়ে আসার জোগাড়।
উজান একহাতে তাকে আঁকড়ে ধরে অন্য হাতে তার কাঁধ থেকে কম্বলটা টেনে নামিয়ে নিল। আলো-আঁধারির ফ্ল্যাশে দেখা গেল, ইশিতার মুখটা ভেজা মাটির মতো কাদো কাদো চেহারায় টলমল করছে।পিটপিট করে চোখ মেলে উজানের দিকে তাকাতেই উজানের ভ্রু কুঁচকে চমকে উঠল।

– তুই??
কোনো উত্তর দিল না ইশিতা। শুধু পরের মুহূর্তেই ভ্যা করে কান্নায় ভেঙে পড়ল। শিশুসুলভ কণ্ঠে বেদনামাখা অস্থিরতায় তার ভেতরের সব ভয় ঝরে এলো জল হয়ে। চোখের পানি, নাকের পানি মিশে একাকার হয়ে গড়িয়ে পড়ছে গাল বেয়ে। মাঝরাতের নিস্তব্ধতায় এই হঠাৎ কান্নার শব্দে উজান আরো অস্থির হয়ে গেল।
– এই ইশুর বাচ্চা, ভ্যা ভ্যা বন্ধ কর!
কিন্তু কান্নার ইঞ্জিন একবার ছেড়ে দিলে থামানো যায় না। কান্না চলছেই, থামার কোনো ইচ্ছেই নেই। উজান বিরক্ত হয়ে তার দুই হাত দিয়ে ইশিতার মুখটা দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। মুহূর্তেই থেমে গেল ইশিতা। চোখ বড় বড় করে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল উজানের দিকে। সেই অদ্ভুত মুহূর্তে, তার অষ্টাদশী অন্তরে অকারণ এক প্রবল নাড়া দিয়ে গেল।

ফ্ল্যাশের ম্লান আলোয় উজানের অবয়ব আধো আধো দৃশ্যমান। ইশিতার চোখ আটকে গেল তার চেহারায়। উজানের চুল বেয়ে টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে, বৃষ্টির শিশির কণার মতো ঝকঝক করছে ত্বকে। সেই ভেজা চুলের পানি নেমে এসে নাকের ডগায় থেমে থেকে হঠাৎ এক ফোঁটা টুপ করে ঝরে পড়ল ইশিতার কপালে। ঠান্ডা পানির ছোঁয়ায় সজোরে কেঁপে উঠল ইশিতা। অজান্তেই চোখ বুজে এলো তার। উজানও খেয়াল করল, কিন্তু কিছু বলল না। শুধু চোখের চাহনিটা কিছুটা অদ্ভুত হয়ে উঠল।

শ্বাস নিতে না পেরে ইশিতা হঠাৎ দম ফেলে নড়েচড়ে উঠতেই হুঁশ ফিরে পেল উজান। দ্রুত হাত ছেড়ে দিল। মুক্ত হতেই ইশিতা বুক ভরে এক দীর্ঘশ্বাস টেনে নিল, জমাট বাঁধা আতঙ্কটা একবারে শরীর থেকে বের করে দিল। মোবাইলটা কুড়িয়ে হাতে তুলে আলো ফেলল উজানের দিকে। তখনই চোখে পড়ল উজানের সারা শরীর ভিজে একেবারে ঝপঝপ করছে। ভেজা টিশার্ট লেপ্টে আছে গায়ে, পেশিবহুল বাহুগুলো স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। ভিজে চুল থেকে টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে মুখের ভেতর দিয়ে। উৎকণ্ঠায় হঠাৎ লাফিয়ে উঠল ইশিতা।

– তুমি… তুমি বৃষ্টিতে ভিজেছো উজান ভাই?
উজান সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গম্ভীর ভাবে তাকাল তার চোখের দিকে। একদম স্থির স্বরে বলল,
– হ্যাঁ, তো? তুই এখানে কি করছিস?
ইশিতা এক মুহূর্ত দ্বিধা না করেই বলে উঠলো ,
– আমিও ভিজবো!
উজান কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু ইশিতা তাকে একেবারে কথা বলার সুযোগই দিল না। তড়িঘড়ি করে বলল,

মাটির পিঞ্জর পর্ব ২৬

– চলো না উজান ভাই, প্লিজ… আমিও একটু ভিজবো। রাতের বেলায় কখনো বৃষ্টিতে ভিজিনি। একা একা খুব ভয় লাগে আমার। আম্মু দেখলেই বকা দেয়। আজকে আম্মু নেই, এই সুযোগে আমি একটু ভিজবো… প্লিজ, প্লিজ!!
উজানের ভ্রু কুঁচকালেও মুখে কোনো শব্দ আসল না। হতবিহ্বল চোখে একবার ইশিতার দিকে তাকাল। হঠাৎই গায়ের কম্বলটা উজানের ঘরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তার হাত শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে গেল সিঁড়ির দিকে। উজান বুঝে উঠতেই পারল না কি হচ্ছে। নিজের অজান্তেই ইশিতার পিছন পিছন হাঁটতে লাগল।

মাটির পিঞ্জর পর্ব ২৮