Home মেঘের ওপারে আলো মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৬০

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৬০

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৬০
Tahmina Akhter

— কোথায় হারিয়ে গেলে? চলো চলো।
রিনি আলোর হাতটা ধরে টান দেয়ার পর আলো হতভম্ব হয়ে তাকায়। তারপর, আশপাশে তাকিয়ে ডাক্তার সাহেবকে খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু, সে তো নেই। তারমানে, এতক্ষণ যা কিছু ঘটল সবটা কি নিছক কল্পনা ছিল……
আলোর হৃদয়টা কয়েকশো টুকরো হলো যেন। দুইহাত দিয়ে মুখ ঢেকে আনমনে ভাবছে,,
— কবে সবকিছু ঠিক হবে আমাদের মাঝে? আমি তো মাত্র দুইদিনে ধৈর্য হারা হয়ে যাচ্ছি।
নিজের মস্তিষ্কে বারবার বিক্ষিপ্ত ভাবনা ফিরে আসছে। আলো নিজের কপাল চেপে বসে রইল। রিনি আলোর মনের অবস্থা টের পেলো কিনা! আলোর পাশের চেয়ারটাতে বসে বলল,

— কি হয়েছে তোমার? রেস্টুরেন্টে ঢোকার পর থেকে কেমন মনমরা হয়ে আছে? আর কল্পনা জগতের হারিয়ে যাচ্ছে যেন?
আলো রিনির হাতটা ধরে বলল,
— আমি তো এখানে তোমার সামনে বসে আছি রিনি। কিন্তু আমার কল্পনার জগতে আমি ছাড়াও ডাক্তার সাহেব আছে আমার সঙ্গে। যাকে নিয়ে আমি কতশত ভালো এবং মন্দ মূহুর্তের চিন্তাভাবনায় ডুবে যাচ্ছি! এই যে এখানে বসে আছি অথচ আমি তাকে নিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলাম! যেখানে কেবল আমি আর সে!
আলোর চোখ ভিজে ওঠার আগে রিনি আলোর মাথায় হাত রেখে বলল,
— ভালোবাসা এমনই হয় আলো। কাছে থাকলে মনে হয় দূরে থাকুক। আর দূরে থাকলে মনে হয় কাছে এসে বসুক। স্বশরীরের উপস্থিতি যতটা ব্যাকুল করে তোলে তারচেয়েও বেশি পোড়ায় মানুষটার অনুপস্থিতিতে!
আলো রিনির হাতটা শক্ত করে ধরে বলল,

— আমি তো কোনোটাতে শান্তি পাচ্ছি না। সে যে আমায় কেমন করে ভালোবেসেছে তুমি তো জানো না রিনি? আমি তার সেই ভালোবাসাকে প্রত্যাখান করে চলে গিয়েছিলাম । এই যে আমার ভুল ভেঙে যাবার পর ফিরে এলাম এসে তাকে আগের মতো করে পাচ্ছি না এটাই আমাকে ভেঙেচুরে ফেলছে বারবার। আমি যে তার ভালোবাসায় ডুবে অভ্যস্থ। তার কড়া চোখের দৃষ্টি আমাকে কতটা অসহায় করে তুলছে, তা যদি একবার তোমাকে বোঝাতে পারতাম!!
আলোর হাহাকার দেখে রিনি চোখ বন্ধ করে ফেলল। তারপর, নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে গিয়ে নিজেকেই বলল,
— মানুষটা তোকে ভালোবাসেনি রিনি, এতেই তুই তার জন্য আধমরা হয়ে গিয়েছিলি। আর আলোকে তো সে উজাড় করে ভালেবেসেছিল। মেঘালয়ের ভালোবাসা পাবার জন্য আলোর এমন ব্যাকুলতা সত্যি চোখে পরার মতো। বোধহয় ভালোবাসি থেকেও ভালোবাসা পাবার সৌভাগ্য অর্জন সবাই করতে পারে না। আলো মেঘালয়ের ভালোবাসা পেয়েছে!!! আর কি চাই এই মেয়ের? মেঘালয়ের মিছে রাগের আড়ালে যদি ভালোবাসা দেখত তাহলে আলো নিশ্চয়ই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটাই হতো আজ!
রেস্টুরেন্টের ভেতরকার ভিড় কমতে শুরু করেছে। মিউজিক থেমে গেছে বহুক্ষণ হলো। রিনি, আরাফাত আর আলো এক টেবিলে বসে অপেক্ষা করছে মেঘালয়ের জন্য। কোথায় যে হারিয়ে গেছে কে জানে?
আলো বারবার দৃষ্টি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মেঘালয়কে খুঁজে ফিরছে। আরাফাত গালে একহাত রেখে রিনিকে দেখছে। রিনি লজ্জা পেয়ে মাথা নীচু করে রেখেছে। হঠাৎ করে এমন দৃশ্য চোখে পড়ার পর আলোর লজ্জা লাগছে। নতুন দম্পতির মাঝে তার উপস্থিতি…
আলো উঠে দাঁড়ালো। রিনি আর আরাফাত আলোর দিকে তাকাতেই আলো মুচকি হেসে বলল,

— পা ধরে গেছে বসে থাকতে থাকতে। আমি একটু হেঁটে আসি।
আরাফাত স্বস্তি পেলো আলোর কথা শুনে। মনে মনে একশোবার ধন্যবাদ জানালো আলোকে। রিনি আরাফাতের হাসিখুশি মুখটা দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেলল। তারপর, বিড়বিড় করে বলল,
— আল্লাহ….
আলো চলে যাবার পর আরাফাত আলতোভাবে রিনির ডান হাতটা মুঠোয় নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ রিনির হাতটার দিকে তাকিয়ে রইল। রিনি আরাফাতের কান্ড দেখছে চুপটি করে। বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত হবার পর আরাফাত রিনির হাতটায় চুমু দিয়ে নরম সুরে বলল,

— তুমি যে আমার হলে বিশ্বাস হচ্ছিল না। তাই নিজেকে ভুল প্রমাণিত করতে….
বাকি কথা সম্পূর্ণ করার সাহস পাচ্ছে না আরফাত। পাছে রিনি রেগে না যায়। এমনিতেই রিনির অনুমতি নেয়নি চুমু দেবার আগে। বামহাত দিয়ে নেভি ব্লু স্যুটের পকেট থেকে একটা লাল রঙের রিং এর বক্স বের করল আরাফাত। তারপর, বক্স খুলে আংটি বের করে রিনির বামহাতের অনামিকা আঙুলে পরিয়ে দেয়। আরাফাত বেশ কিছুক্ষণ আংটির দিকে তাকিয়ে রইল কারণ সামান্য আংটিটা যেন আরাফাতের নামে রিনিকে দখল করে ফেলল। রিনি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এত চমৎকার ডিজাইনের আংটি! আরাফাত রিনির হাতটা উঁচু করে আংটির ওপর চুমু দিয়ে রিনিকে ফিসফিস করে বলল,

— বাসররাতে এই আংটি তোমাকে পরিয়ে দেব ভেবেছিলাম কিন্ত…
এতটুকু বলেই থেমে যায় আরাফাত। রিনি উশখুশ করছে বাকি কথা শোনার জন্য। রিনির উৎসুক দৃষ্টি যেন আরও বেশি কাছে টানছে আরাফাতকে। আরাফাত দুটো শুকনো ঢোক গিলে রিনিকে বলল,
— তোমাকে ছাড়া আমি নিজেকে কল্পনা করতে পারছি না, রিনি। কে চায় বলো বিবাহিত হয়ে ব্যাচেলার নামে জীবন কাটিয়ে দিতে? আমি একরাতেই কেমন লোভী হয়ে গেছি দেখেছো?
আরাফাতের এলোমেলো কথাগুলো শুনে রিনি হেসে ফেলল। রিনির হৃদয় কানন ভরে উঠলো কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাক্য দিয়ে। রিনি আরাফাতের মুখটার দিকে তাকিয়ে ভাবছে,
যাক শেষমেশ কেউ তো এলো তার জীবনে। যে কিনা তাকে ভালোবাসতে চাইছে। তার রুপ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকায়। তার ভালো-মন্দ নিয়ে চিন্তিত হয়। তার উপস্থিতি অনুপস্থিতি মানুষটাকপ ব্যাকুল করে তোলে। এরকম একজন মানুষ তার জীবনে কখনো আসবে এরকম চিন্তাভাবনা কখনো আসেনি!!! সবসময় তো ভেবেছিল মেঘালয়কে ভালোবেসে সব বুঝি জলাঞ্জলি দিয়ে ফেলল।

আলো রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আসে। রাতের আকাশে ধ্রুবতারা সহ আর অনেক অনেক তাঁরাদের উপস্থিতি যেন আকাশটাকে কেমন কাছে টানছে!! আচমকা একটা শীতল বাতাস এসে আলোকে স্পর্শ করল। আলো চোখ বন্ধ করে ভীনদেশের বাতাস গায়ে মাখছে।
এমন সময় কেউ আলোকে পাশ কাটিয়ে যায়। পরিচিত গায়ের গন্ধ পেয়ে আলো চোখ খুলে তাকায়। পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখতে পেলো আলোর কাঙ্ক্ষিত মানুষটাকে। আলোর কাছ থেকে মাত্র একহাত দূরে মেঘালয় দুই হাত প্যান্টের ভেতরে গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে।
আলোর ভেতরে যেন প্রশান্তির জোয়ার বইছে। মেঘালয় তার সঙ্গে কথা না বলুক কিন্তু আলোর নিরাপত্তা নিয়ে সে এখনও ভাবে। স্ট্রীটে চলন্ত গাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে আলো। মেঘালয় তাকিয়ে আছে আলোর দিকে। দু’জনের মধ্যে কথা হচ্ছে না ঠিকই কিন্তু টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যেন কয়েকশ শব্দের বাক্য আদান-প্রদান হচ্ছে। অভিমান জমে থাকা অভিযোগগুলো, অপ্রকাশিত ভালোবাসার স্বীকারোক্তি, আর একে অপরকে হারানোর ভয়…
আলো পেছনে ফিরে তাকায়। আচমকা মেঘালয় অপ্রস্তুত হয়ে যায়। দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে ফেলল। কিন্তু, আলোর চোখ ফাঁকি দিতে পারলে তো? আলো মুচকি হেসে গুনগুন করে গান গাইছে,,

তুমি এই রোদের মতো
আমি তোমায় মাখছি গো,
তুমি এই মেঘের মতো
বৃষ্টির আশায় থাকছি গো।
ভাবি যেতে যেতে থেমে
সেই দেখা শেষ দেখা না হোক,
তোমার আমার প্রেমের
আমি কি একাই স্মৃতির বাহক।
তুমি সব ভালো আমার
তুমি সব আলো আমার,
অন্ধকার তো না,
তবে কি বৃথা যাবে প্রেম প্রার্থনা।
ঈশ্বর কি তোমার আমার
মিলন লিখতে পারতোনা ?

আলোর গানের গলা যতটা শ্রুতিমধুর শোনাচ্ছে তারচেয়ে বেশি হৃদয়কে কেটে ফেলার মতো যন্ত্রনাদায়ক। আলোর কন্ঠে এই গানটা শুনে মেঘালয় নিজেকে শান্ত রাখতে পারছে না। আলো কি বলতে চাইছে? আলো কি তার ডাক্তার সাহেব এর মনের অবস্থা টের পাচ্ছে না? কেন টের পাচ্ছে না? ভালোবাসার যুদ্ধ জয়ী হবার জন্যই তো বাংলাদেশ থেকে ৮,০০০ কি.মি. সুদূর লন্ডনে এলো। আর এখানে এসে মাত্র একদিনে হার মেনে নিচ্ছে। কই মেঘালয় তো হার মানছে না! যদি আলোর জন্য তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয় মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত সে অপেক্ষা করবে। তবুও, তার বুকের বা পাঁজরের নারীটাকে চাই।
আলো এবং মেঘালয় যখন নিজেদের ভেতরে ভেতরে ঝড় সামলাতে ব্যস্ত ঠিক তখনি একটা মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এলো,

— Well… well… Meghaloy?
দুজনেই ঘুরে তাকাল। একজন বিদেশিনী দাঁড়িয়ে আছে। সোনালি চুল, লালছে ঠোঁট, ঠোঁটের কোণে মেকি হাসি ফুটে আছে।
আলো মেয়েটাকে আগাগোড়া খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। মেয়েটার পরনে ওয়েস্টার্ন লাল গাউন পরা। যার দরুন একটা হাঁটু বেরিয়ে আছে। লজ্জায় আলো চোখ অন্যদিকে ফিরিয়ে নিলো।
মেঘালয় আলোর দিকে একবার তাকালো। তারপর, কি মনে করে সেই মেয়েটার দিকে ফিরল। মেয়েটা এগিয়ে এলো। তারপর, মেঘালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সফট কন্ঠে বলল,
— Long time no see…
— Fiona??
ফিওনা ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,
— Didn’t expect to see you here… especially with… her.
শেষ কথাটা বলার সময় তার চোখ সরাসরি গিয়ে থামল আলোর ওপর।
তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। পারলে চোখের দৃষ্টির দ্বারা আলোকে ভস্ম করে দেবে।
আলো অস্বস্তিতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কারণ, এই বিদেশিনী কথাবার্তা সুবিধাজনক না। মেঘালয় আরেকটু সামনে এগিয়ে এসে আলোকে আড়াল করে দাঁড়ায়। ফিওনার চোখে সেই দৃশ্য ধরা পড়ে গেল। সে হালকা ভ্রু নাচিয়ে বলল,

— Oh… interesting.
তারপর এগিয়ে এসে মেঘালয়ের একদম সামনে দাঁড়াল।
— You didn’t even call me after you came to London… that hurts me. you know?
মেঘালয় ঠান্ডা গলায় বলল—
— I was busy.
— Busy… or avoiding me?
কথার ভেতরেই স্পষ্ট খোঁচা ছিল।
চারপাশে কয়েকজন লোক তাকাতে শুরু করেছে। আলো কিছুই বুঝতে পারছে না। তবে এতটুকু বুঝতে পারছে এই মেয়েটা সাধারণ পরিচিত কেউ না। চেনাজানা মানুষ।
ফিওনা হঠাৎ আলোর দিকে তাকিয়ে বলল,
— So… what’s your name?
আলো একটু থেমে বলল,
— আলো।
— Aalo! nice name. Exotic.
ফিওনার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি। কিন্তু চোখে নেই। মিথ্যা হাসি দিয়ে সবাইকে বোকা বানাতে পারলেও আলোকে পারল না।

— I’m Fiona. Meghaloy’s… old friend.
“old friend” শব্দটা একটু টেনে বলল ফিওনা। মেঘালয়ের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। ভীষণ রেগে যায় কিন্তু তৎক্ষনাৎ নিজেকে সামলে বলল,
— Fiona, don’t start.
— Start what?
ফিওনা এই প্রশ্নটি করে হেসে উঠল। তারপর, হাসি বন্ধ করে বলল,
— I’m just talking.
তারপর হঠাৎই সে হাত বাড়িয়ে মেঘালয়ের শার্টের কলার ঠিক করে দিল।
একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে। কিন্তু স্পর্শটা ইচ্ছে করেই একটু বেশি সময় ধরে রাখল।
আলোর বুকটা ধক করে উঠল। তার চোখ চলে গেল ফিওনার বাড়িয়ে দেয়া হাতের দিকে।
মেঘালয় সঙ্গে সঙ্গে ফিওনার হাতটা সরিয়ে দিল।
— Don’t.
মেঘালয়ের ভেতরকার রাগ স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। । ফিওনা থামল না।সে মুচকি হেসে বলল
— You used to like it when I did that…
নীরবতা। কথাটা যেন সরাসরি এসে আঘাত করল আলোর মনে। পরক্ষণেই মনে পড়ল এই দেশে এসব কথা, স্পর্শ খুব স্বাভাবিক। তাই আলো এসব কিছুকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে গেল রেস্টুরেন্ট এর ভেতরে।
আলোকে ওভাবে চলে যেতে দেখে মেঘালয় ফিওনার দিকে ফিরে কিছু বলতে গিয়েও বলল না। হনহনিয়ে চলে গেল রেস্টুরেন্টে এর ভেতরে।
ফিওনা মেঘালয়ের এমন আচরণের সঙ্গে খুব পরিচিত তাই গায়ে মাখল না। সেও ভেতরে ঢুকে পড়ল।
আলো গিয়ে সেই আগের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে রইল। রিনি আর আরাফাত আলোকে দেখে বলল,

— কিছু হয়েছে?
আলো মাথা নেড়ে বলল,
— কিছু না।
এমন সময় মেঘালয় এবং মেঘালয়ের পেছনে থাকা ফিওনাকে দেখে রিনি ভ্রু কুঁচকে ফেলল। বেহায়া ফিওনাকে দেখে রিনি উঠে দাঁড়ালো। তারপর, আলোর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বলল,

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫৯

— পৃথিবীতে যদি শ্রেষ্ঠ বেহায়ার পুরুষ্কার দেয়া হয় তবে এই ফিওনা পাবে সেরা বেহায়ার সেরা পুরুষ্কার পাবে।
আলো কটমট করে তাকালো ফিওনার দিকে। মেঘালয় এবার বেশ আনন্দ পাচ্ছে। “যাক আলোকে জ্বালানোর জন্য একটা কারণ তো পাওয়া গেছে “। মেঘালয় আনন্দ লাগছে বেশ। এবার বুঝবে আলো বুঝবে,
“কত ধানে কত চাল হয়?”
মেঘালয়কে একা একা হাসতে দেখে রিনি মনে মনে বলল,
— হেসো না মিঞা। তোমার বউ সব দেখছে। কখন জানি তোমার বউ তোমার আর তোমার ফিওনার ওপর টেবিল ছুঁড়ে মারে?

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৬১