যাত্রাপথ পর্ব ৫৫
মাশফিত্রা মিমুই
শুনশান রাতের অন্ধকার রাস্তা। সবুজ ঘাসের ফাঁকে ক্ষণে ক্ষণে দুয়েকটা জোনাক পোকা জ্বলে ওঠে। দূরে কোথাও কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে। গা ছমছমে পরিবেশ। চায়ের দোকানে আড্ডা শেষে টর্চ লাইট হাতে ধান ক্ষেতের সরু আইল ধরে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন সিরাজ উল্লাহ। হঠাৎ কৃত্রিম আলোর সামনে কিছু একটা নড়ে উঠতেই থমকে দাঁড়ালেন তিনি। ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে ছুঁড়ে দিলেন প্রশ্ন, “কেডারে?”
“মামু, আমি। আমনেগো নাজির।”
ঘুটঘুটে অন্ধকারে আলোটা নাজিরের মুখের উপর এসে পড়ায় সিরাজ উল্লাহর মুখভঙ্গি বুঝা গেলো না। তবে লোকটা যে অবাক হয়েছে তা তাঁর কম্পিত হাত দেখে ঠিকই আন্দাজ করা গেলো। টর্চের আলো একবার নাজিরের মুখে, একবার পাশের ধানক্ষেতে ঘুরে বেড়ায়। তারপর কম্পিত কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসে প্রশ্ন,“তুই! এনে কী করোস?”
কয়েক কদম এগিয়ে এলো নাজির। হেসে বললো, “বহুদিন দেখা সাক্ষাৎ হয় না। তাই আইয়া পড়লাম। এহন আর আমগো মিহি যান না ক্যান, মামু?”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
টর্চ লাইট চারপাশে ঘুরিয়ে কাউকে খুঁজলেন হয়তো সিরাজ উল্লাহ। চাদরটা টেনে শরীরে জড়িয়ে নিয়ে একটু পিছিয়ে যেতেই পিঠ ঠেকে গেলো কিছুর সঙ্গে। মুহূর্তেই লাফিয়ে উঠলেন তিনি। মুখ দিয়ে আওয়াজ বেরোনোর আগেই দড়ির মতো শক্ত করে কিছু গলায় প্যাঁচিয়ে ধরলো কেউ। দুর্বল হাত থেকে সঙ্গে সঙ্গে টর্চ লাইটটা পড়ে গেলো কাঁদায়। দুই হাতে ফাঁস টানতে টানতে গোঙাতে লাগলেন সিরাজ উল্লাহ।
কাঁদায় মাখামাখি টর্চ তুলে নিলো নাজির। লোকটার গায়ের চাদরেই লাইটটা মুছতে মুছতে বললো,“আহা, নওশাদ! মামুরে কষ্ট দিতাছোস ক্যান? মইরা যাইবো তো। খালি মুখটা বাঁধ, আমি হাত-পা বাঁধতাছি।”
নওশাদের চোখেমুখে তীব্র আক্রোশ। হাতের নীল রগগুলো ফর্সা চামড়া ভেদ করে যেন চোখে পড়ছে।গামছাটা গলা থেকে আলগা করতেই খুক খুক করে কাশতে লাগলেন সিরাজ উল্লাহ। কিছুক্ষণ আগেই শ্বাস আটকে গিয়েছিল। আরেকটু দেরি হলে হয়তো শেষ নিঃশ্বাসটা বেরিয়ে যেতো এতক্ষণে। বার কয়েক কাশতেই নির্দয়ের মতো সেই গামছাটা এবার শক্ত করে তাঁর মুখে বেঁধে ফেলল নওশাদ। কথা বলতে না পেরে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করতে লাগলেন লোকটা। কিন্তু সেই প্রাণপণ চেষ্টাও একসময় ব্যর্থতায় রূপ নিলো।
পকেট থেকে পাটের দড়ি বের করে নাজির চুপচাপ তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলল। তারপর চারপাশে একবার সতর্ক চোখে দেখে দুই ভাই মিলে জমির আইল ধরে লোকটাকে ধরাধরি করে নিয়ে গেলো ধান মিলে।
নাজিরের ধান মিলটা বাজারে যাওয়ার শুরুতেই। পেছনে ধানক্ষেত, পাশে বিশাল একটি মাঠ; সামনের রাস্তার ওপাশে কাঁচা সবজির বাজার। সন্ধ্যার পর এদিকটা একেবারে নিরিবিলিই থাকে।
ঘড়ির কাটায় রাত সাড়ে আটটা। খুব সাবধানে মিলের তালা খুলে লোকটাকে ভেতরে নিয়ে মেঝেতে ফেলে সাটার আটকে দিলো নাজির। গুদামজাত ধানগুলো বিক্রি হয়ে গিয়েছে; ভেতরটা আপাতত খালি। বৈশাখ এলে ব্যবসা আবার রমরমা চলবে। টেবিল থেকে কেরোসিনের বোতল এনে তেল ঢেলে কুপি জ্বালিয়ে অন্ধকার ঘুচিয়ে দিলো নাজির।
নওশাদ লোকটাকে টেনে তুলে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসালো। বড় ভাইয়ের ইশারায় খুলে দিলো মুখের বাঁধন। সিরাজ উল্লাহ জোরে জোরে শ্বাস ফেললেন।সাহসী চোখ জোড়ায় আজ ভয় আর আতঙ্ক খেলা করছে। উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন,“তোরা আমারে কই আনছোস এইডা? কী করতে চাইতাছোস? আমারে বাঁধছোস ক্যান? খোল কইতাছি, ভালা হইবো না কইয়া দিলাম।”
নওশাদ নিজের রাগ আর সংবরণ করতে পারলো না। দেহের সর্বশক্তি দিয়ে নাকে-মুখে বসিয়ে দিলো এক প্রকাণ্ড ঘুষি। বয়স্ক সিরাজ উল্লাহ তাল সামলাতে না পেরে মেঝেতে হেলে পড়লেন। শ্বাস বোধহয় বুকে আটকে গেলো। নাক দিয়ে গলগল করে বের হতে লাগলো রক্ত।
নাজির ছুটে এসে হাঁটু মুড়ে সামনে বসে পড়ল। এক হাত পিঠে রেখে, অপর হাতে বুকে মালিশ করতে করতে মিছে রাগ দেখিয়ে ছোটো ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললো,“এইডা কোনো কাম করলি তুই? মুরুব্বি মাইনষেরে সম্মান করতে জানোস না? দিনদিন বেয়াদব হইয়া যাইতাসোস?” তারপর কথার ধরণ বদলে নরম স্বরে বললো,“আমনে ঠিক আছেন তো, মামু? কিছু মনে কইরেন না। পোলাডায় আমনের শিক্ষা পাইছে। এহন আর বড়ো গো সম্মান করতে জানে না।”
সিরাজ উল্লাহর কণ্ঠে ব্যথা আর রাগ মিশে গেলো, “কী চাস তোরা? আমার পোলাডারে আমার থাইক্যা কাইরা নিয়াও শান্তি পাস নাই? ক্যান করতাছোস এই সব? কী করছি আমি? কী করছে আমার পোলায়?”
নওশাদ লোকটার কুঁচকে যাওয়া গাল দুটো চেপে ধরে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো,“কী করছোস জানোস না? ভালো মানুষ সাজোস?”
এবার আর নাজির তাকে বাঁধা দিলো না। দুই হাত হাঁটুতে রেখে আরাম করে মেঝেতে বসলো। চমৎকার করে হেসে বললো,“আমনের পোলারে প্রথম কোপটা কেডায় দিছিলো জানেন? আমার বউয়ে। একেবারে বুক বরাবর। কি নিশানা তার! রামদা আমি সপ্তাহ খানেক আগেই ধার দিছিলাম। তাই এক কোপেই কেল্লাফতে। আমি যহন বাড়িত ফিরলাম তহনো প্রাণ যায় নাই। গোলামের পুতের কৈ মাছের জান! আমার পা ধইরা বাঁচার আকুতি করল। শেষমেশ বাধ্য হইয়াই গলা বরাবর ঢুকাইয়া দিলাম রামদা। রক্তগুলা ফুটন্ত গরম পানির মতো কেমনে যে বুদবুদ কইরা উঠলো! উফ, আমনেরে যদি দেখাইতে পারতাম? দেহাইলেও বিপদ হইতো। পুলিশের কাছে আবার কইয়া দিতেন। যাই হোক, লাশ গুম করতে কেডায় সাহায্য করছিল জানেন? আমার শ্বশুরে।”
এক মুহূর্তের জন্য অসাড় হয়ে গেলো সিরাজ উল্লাহর সারা দেহ। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলেন নাজিরের মুখের দিকে। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল অশ্রু। তা দেখে নাজির মহাখুশি। মজার কোনো কৌতুক শুনলে বাচ্চারা যেমন খুশি হয় ঠিক তেমন। ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি নিয়ে বলতে লাগলো,“মিছরি হোক মাস্টর বাড়ির মাইয়া, বউ তো আমারই। নাজির শাহর বউ। আমি এই জীবনে ভরসা করার মতো কাউরে পাই নাই, কেউ আমার মাথায় একটু হাত রাখে নাই, কেমন আছি জিগায় নাই। ক্যান জিগায় নাই? আমনেগো লাইগাই তো জিগায় নাই। অথচ বিয়ার পর আমার জীবন বদলাইয়া গেলো। ওইটুকু মাইয়া আমারে বুঝাইলো, নাজির আর একলা না। নাজিরের লাইগাও অপেক্ষা করার, যত্ন করার মানুষ আছে। আমনেগো তো তাও সহ্য হইলো না। আমনের পোলারে আমি সাবধান করছিলাম না? তাইলে হুনলো না ক্যান? আমার অনুপস্থিতিতে আমার বউয়ের ঘরে ঢোকার সাহস পাইলো কই? আমি কতবার আমনেগো কইছিলাম, আমি সুবহান আলী শাহ না। তবুও ভুলটা করলেনই? এইডা হইলো তার ফল। আমনের পোলা আমনের লোভে মরছে।”
হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন সিরাজ উল্লাহ। নাজির মুগ্ধ চোখে সেই কান্না দেখে বলে উঠলো,“সিরাজ উল্লাহও তাইলে কানতে পারে?”
দেওয়ার মতো কোনো উত্তর পেলেন না তিনি। নাজির ইশারা করতেই নওশাদ উঠে গেলো। মেশিনের নিচ থেকে নিয়ে এলো একটি হাতুড়ি। নাজির ফিসফিস করে বললো,“এইবার আমনের পালা, মামু। আমনের পোলারে সহজ মৃত্যু দিলেও আমনেরে দিমু কঠিন মৃত্যু। এই হাতেই আমার মায়রে ছুঁইছিলেন না? এই হাত দিয়াই আমার আব্বার জিভ কাটছিলেন, ল্যাংরা বানাইছিলেন? এই মুখে আমার মায়রে লইয়া কুৎসিত মন্তব্য করেছিলেন? আর এই ধন দিয়া…
থামলো নাজির। সিরাজ উল্লাহর কান্না থেমে গেলো। আতঙ্কিত চোখে তাকিয়ে অনেক কষ্টে জিহ্বা নাড়িয়ে বললেন,“নাজির, তুই…
“সব জানি, সোহেলরে মারার আগে থাইক্যাই জানি। সত্য কহনো চাপাইয়া রাখা যায় না। মানেন তো?”
ভয়ে কুঁকড়ে উঠলেন সিরাজ উল্লাহ। আকুতি মিনতি করে বললেন,“হুন নাজির, বাপ আমার। আমি কহনো তোর কোনো ক্ষতি করছি? কে কইছে এইসব? সব মিছা কথা। যা করছে তোর দুই চাচা আর আমার বোইনে মিল্যা করছে। আমি নির্দোষ। আমারে ছাইড়া দে, বাপ। নওশাদ, ওরে বুঝা। আমারে মারলে তোরা নিস্তার পাইবি? জেলে পঁচতে হইবো না? আমারে তোরা ছাইড়া দে, আমি কাউরে কিচ্ছু কমু না।”
“বাঁচলে তো কাউকে কিছু বলবেন। দু দুটো খুন তো আপনারাও করেছিলেন। সাথে করেছিলেন একজন স্ত্রী, একজন মাকে ধর্ষণ। কই, আপনাদের তো কিছু হয়নি? বরং মাথা উঁচু করে দীর্ঘ বছর পৃথিবীতে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সব আইন শুধু আমাদের বেলা?” নওশাদ ব্যঙ্গ করে বললো।
নাজির আর কথা বলার সুযোগ দিলো না। নির্বাচনের মিটিং মিছিল চলছে। দীর্ঘক্ষণ লোক চক্ষুর আড়ালে থাকলে কেউ সন্দেহ করতে পারে। তার উপর হলুদ নিয়ে মেয়ে বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। মনে হয় না যেতে পারবে। মিছরি আজ ভালোই চটবে তার উপর। লোকটার পা থেকে বাঁধন খুলে পরনের লুঙ্গিটাও একটানে খুলে ফেলল নাজির। উলঙ্গ দেহে তাকিয়ে বললো,“ধন থাকলেই সবসময় সব জায়গায় ব্যবহার করতে নাই, মামু। আইজ আমনেরে তা-ই বুঝামু।”
চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো নাজিরের। কামারের মতো দক্ষ, শক্ত হাতে হাতুড়ি চালিয়ে দিলো লোকটার গোপনাঙ্গে। ব্যথায় চিৎকার করে উঠলেন সিরাজ উল্লাহ। পা দুটো মেঝেতে ঘষে খিঁচুনি দিতে লাগলেন। তৎক্ষণাৎ নাজুক স্থান থেকে বেরিয়ে এলো রক্ত।
নাজির ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে নওশাদের দিকে তাকালো। জিজ্ঞেস করল,“দিবি নাকি একটা বাড়ি? এইদিনের লাইগা তো কম অপেক্ষা করোস নাই।”
রক্তের গন্ধ ছুটে এলো নওশাদের নাকে। রঙটা খুব করে যেন তাকে টানছে। ধীর পায়ে এগিয়ে এলো সে। নাজির সরে গেলো। সাঁড়াশি এনে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,“বিচি বরাবর দিছি, বেশিক্ষণ মনে হয় না বাঁচবো। ধর, সবকয়টা আঙুল তুইল্যা ফেলা। বাঁচার আহাজারি আমগো বাপ, মাও করছিল। হুনছিল হেরা? যন্ত্রণা কারে কয় বুঝাইয়া দে।”
সাঁড়াশিটা হাতে নিয়ে বসে পড়ল নওশাদ। এতক্ষণ ধরে শরীরে টগবগ করতে থাকা রাগ হালকা হয়েছে বোধহয়। কপালে জমেছে ঘাম। হাত খানিক কাঁপলো। কখনো কারো গায়ে হাত না তোলা ছেলেটা আজ কারো আঙুল কাটবে? শুকনো ঢোক গিলে ভাইয়ের দিকে তাকালো সে। নাজির বুঝলো তা, শক্ত করে হাতটা ধরে বললো,“প্রতিশোধের নেশা এসবের কাছে তুচ্ছ। আমরা যাগো লাইগা এতিম হইছি তাগো মধ্যে এই লোকও একজন। সব নষ্টের মূল এই অমানুষটা। এই অমানুষটাই আমগো মায়রে নির্যাতন করছে, খুন কইরা মিথ্যা অপবাদ ছড়াইছে। এমনি এমনি ছাইড়া দিবি?”
আচানক পূর্বের সেই ঘৃণা, প্রতিশোধের নেশা শক্তি হয়ে ফিরে এলো নওশাদের দেহে। সব দুর্বলতা, ভয় দূরে ঠেলে দিয়ে নিষ্ঠুরের মতো এক এক করে তুলে ফেলল নরকের কীটের ন্যায় অমানুষটার দুই হাতের দশটা আঙুল। তাঁর হাহাকার, চিৎকার, মৃত্যু যন্ত্রণা যেন নাজিরের বুকটা ভরিয়ে দিলো। প্রতিশোধে এত আনন্দ কেন?
নিস্তব্ধ নিশীথে সেই আওয়াজ কারো কান পর্যন্ত পৌঁছালো না। আকুতি মিনতি করেও সিরাজ উল্লাহ বাঁচতে পারলেন না। কী কঠিন সেই মৃত্যু! একবারের জন্যও কী সেদিনের কথা ভেবে লোকটার আফসোস হয়েছিল? উপলব্ধি করতে পেরেছিল নাসরিনের যন্ত্রণা? সেই সুযোগ বোধহয় নাজির তাকে দেয়নি। অন্তত সুবহান আলী শাহর তুলনায় সহজই ছিল তাঁর মৃত্যু। বয়স্ক, খুনি লোকটার উপর নির্মম সব অত্যাচার চালিয়ে ধান ভানার মেশিনে ধীরে ধীরে দেহখানা ঢুকিয়ে দিলো দুই ভাই। আস্ত এক দেহ কিছু মুহূর্তেই পিষে গেলো, হয়ে গেলো খন্ড দ্বিখন্ডিত। মাথার খুলি থেকে মগজ বেরিয়ে যাচ্ছে তাই অবস্থা। নওশাদ তা দেখে একপর্যায়ে বমি করে দিলো। নাজিরেরও গা গুলিয়ে উঠলো। গামছা দিয়ে নাক-মুখ বেঁধে সেসব আলাদা আলাদা বস্তায় ভরে বললো,“এইবার এগুলা গুম করার পালা। নদীত ফালাইয়া দিমু? নাকি ধান ক্ষেতে পুঁইতা দিমু?”
“দুইটার মধ্যেই ঝুঁকি। হাড় চলো নদীতে ভাসিয়ে দেই, আর মাংস শালবনে ফেলে দিয়ে আসি। রাতের আঁধারে জন্তু জানোয়ার খেয়ে ফেলবে। কেউ সন্দেহ করবে না।”
বুদ্ধিটা নাজিরের পছন্দ হলো। মেঝে প্রথমে ভালো করে পরিষ্কার করে ধীরে ধীরে সাটার তুলে চারপাশ একবার দেখে নওশাদকে ইশারা করল। বস্তাটা ধরে ওই অন্ধকারেই খুব নিখুঁতভাবে দুই ভাই মিলে চিরজীবনের জন্য মিটিয়ে ফেলল সিরাজ উল্লাহর অস্তিত্ব। হাড়গুলো ফেলতে গিয়ে ঘাটে দেখা মিললো ট্রলারের। হারিকেনের আলোয় পরিচিত এক মুখ স্পষ্ট হলো। একটি চেয়ারে বসে সবকিছুর তদারকি করছে সামিউল। কিছুক্ষণ বাদে ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো পারভেজ। নাজির নওশাদের উদ্দেশ্যে বললো, “ব্যাগটা আমার হাতে দে। তুই গিয়া বরং মেশিনডা পরিষ্কার কইরা ফেলা। মিল্টন দেখলে সমস্যা। ভালা কইরা পরিষ্কার করিস। একটা প্রমাণও যদি থাকে তাইলে কিন্তু সব শেষ, নওশাদ।”
“চিন্তা করো না, সব সামলে নেবো।”
“টিউবওয়েলে যাইস না। পিছনের ক্ষেত থাইক্যা পানি আনিস। বালতি মিলেই রাখা আছে।”
নওশাদ চলে যাচ্ছিলো। নাজির আবার তাকে ডাকলো,“শার্টে রক্ত লাইগা আছে। দিয়া যা এইডা। বস্তার লগে পুড়াইয়া দিমু।”
বাধ্য ছেলের মতো পরনের শার্টটা নওশাদ খুলে দিলো। নিচে সাদা গেঞ্জি থাকায় যা রক্ষে। নাজির বললো,“লুঙ্গিতেও লাইগা আছে। মিলের ঘরে প্যান্ট, গেঞ্জি রাখা। বদলাইয়া এই লুঙ্গিও জ্বালাইয়া দেইস। কাম শেষ হইলে চাবি লইয়া সোজা বাড়িত যাইবি।”
নওশাদ মাথা নাড়িয়ে আবারো বাজারের দিকে চলে গেলো। নাজির চুপচাপ সেখানেই ট্রলার ছাড়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলো।
মিলে এসে তালা খুলে প্রথমেই নওশাদ ক্ষেত থেকে বালতি দিয়ে পানি এনে মেশিনটা ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করল, সাথে আবার পরিষ্কার করল পুরো মেঝে। বিকেলেই বোধহয় কেউ সেচ দিয়েছিল জমিতে। তাই পানির অভাব নেই। এখানে আলাদা একটা ঘর রয়েছে। যেখানে কাঠের আলনা, আর ছোট্ট একটা চৌকি রয়েছে। পরনের লুঙ্গি বদলে বাংলা প্যান্ট পরল সে। প্যান্টটা নাজিরের। তাই ভালো করে ফিট হয়ে গেলো কোমরে। পেছনের জানালা খুলে কেরোসিন তেল ঢেলে পোশাক দুটো জ্বালিয়ে দিলো নওশাদ। যতক্ষণ না তা পুড়ে ছাই হলো ততক্ষণ সেখানেই বসে রইলো। তারপর সেই ছাই ঝাড়ুর সাহায্যে তুলে জানালা দিয়ে ফেলে দিলো বাইরে। সব কাজ শেষ করে কুপি হাতে সাটার তুলে বের হতেই চমকে উঠলো সে। বুকে থুথু ছিটিয়ে ভয়ার্ত কণ্ঠে বললো,“আ..আপনি ক..কে?”
গলার মালাটা একহাতে জপছেন লোকটা, অপর হাতে ধরা হারিকেন। সন্দেহ নিয়ে ভেতরের দিকে উঁকি মেরে বললেন,“আমি হারাধন। বাজারে টহল দেই। কিছুক্ষণ আগে ভিতরে জানি কীয়ের আওয়াজ হুনলাম? তাই দাঁড়াইছি। রাইতের বেলা সবকিছুই তো বন্ধ থাহে।”
নওশাদ দ্রুত সাটার নামিয়ে তালা লাগাতে লাগাতে বললো,“বাজারে আবার পাহারা দেওয়া কবে থেকে শুরু হলো?”
“ডাকাতের উৎপাতে আমরাই দায়িত্ব লইয়া শুরু করছি। তুমি কেডা?”
“নাজির আমার বড়ো ভাই। ভাই একটা কাজে পাঠিয়েছে। বড়ো তালাটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ছোটো তালাটাই এতদিন লাগানো ছিল। কেউ আবার তালা ভেঙে ফেললে? তাই তালা সারিয়ে সোজা এখানে চলে এলাম। অন্ধকারে পা লেগে হাতুড়িটা নিচে পড়ে গিয়েছিল, তার শব্দই হয়তো পেয়েছেন।”
হারাধনের মুখমন্ডল থেকে সন্দেহ সরেছে। নাজিরকে এই বাজারে চেনে না এমন কে আছে? হেসে বললো, “ওহ, আমি ভাবলাম কেডা না কেডা। তোমার কথা নাজির অনেক কইছে। সময় সুযোগ পাইলে দিনের বেলায় একদিন আইয়ো, চা খাইতে খাইতে অনেক গপ্পো করমু।”
“আচ্ছা, আজ তাহলে আসি? এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে।”
“আইচ্ছা, সাবধানে যাইয়ো।”
ভয়ে ভয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করল নওশাদ। ওদিকে ট্রলার ছাড়তেই নাজির ব্যাগ থেকে সব হাড়গোড় মাছের খাবারের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দিলো চিলাই নদীর পানিতে। সাথে ফেলল টর্চ লাইটটাও। তারপর নিরিবিলি স্থানে পরনের শার্ট, লুঙ্গিসহ বস্তাও পুড়িয়ে দিলো। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়ই লুঙ্গির নিচে বাংলা প্যান্ট আর শার্টের নিচে অন্য আরেকটি শার্ট পরে বেরিয়েছিল ছেলেটা। এ তো আর নতুন অভিজ্ঞতা নয়।
রাত বাজে পৌনে দশটা। মেয়ের বাড়িতে হলুদ দিয়ে ছেলে-মেয়েরা বাড়িতে ফিরে এসেছে। বড়ো ফুফুর স্বামী ইকরাম হোসেন উঠোনের মাঝখানে একটি চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়লেন। দৌড়াতে থাকা সুজাতাকে ডেকে বললেন,“তোর দাদায় কই? ডাক তারে।”
সুজাতা দাদার কান পর্যন্ত সেকথা পৌঁছে দিয়ে আবারো খেলাতে মেতে উঠলো। দুলাইভাইয়ের ডাকেও নজরুল আলম এলেন না। ইকরাম হোসেন নারাজ হলেন এতে। অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা সুজনকে দেখে ডাকলেন,“সুজন!”
প্রবীণ আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলছে সুজন। পাশেই দাঁড়িয়ে আছে নাজির আর রুহুল। দেখেই বুঝা যাচ্ছে, ছেলেটাকে জোর করে নিজেদের কাছে দাঁড় করিয়ে রেখেছে তারা। ফুফার ডাকে পেছন ফিরে তাকালো সুজন। বিড়বিড় করে বললো,“ওই যে ডাক পড়ছে। প্রত্যেক বিয়াতে এই ব্যাডা ঝামেলা করে। আব্বার কানে গেলে নির্ঘাত কাইজ্জা লাগবো।”
ফুফার কাছে এসে দাঁড়ালো সে। হেসে বললো,“সব ঠিকঠাক তো, ফুফা? বাড়ির বড়ো পোলা তো তাই একটু ব্যস্ততা যাইতাছে।”
ইকরাম হোসেন দুই হাত বুকে গুঁজে নারাজ কণ্ঠে বললেন,“কিচ্ছু ঠিক না। তোর আব্বারে সেই কহন ডাকলাম, কিন্তু আইলোই না। আমারে কী এড়াইয়া চলতাছে? আমার কী মানসম্মান নাই?”
“কী যে কন না, ফুফা! আব্বার কম কাম? পোলার বিয়া। সবদিক কেমনে সামলাইবো কন? তার উপর আব্বায় এহন দাদীর ঘরে। দাদী কীয়ের লাইগা জানি ডাকছে। আমারে আর তালেবরে কইছে, আমনেগো যত্ন আত্তি করতে।”
“কী পরিবারে ভাইয়ের বিয়া ঠিক করছোস? অতিথি আপ্যায়ন কেমনে করতে হয় জানে না। এই যে আমি গেলাম, কেউ আইয়া একটা কথা পর্যন্ত কইলো না। আয়োজনও খারাপ। পাতলা ডাইলের মতো খিচুড়ি রানছে। না হইছে ঝাল, না হইছে লবণ। নর্তকী বংশ। ওই বাড়ির মাইয়া এই বাড়িতে আইয়া কীয়ের সংসার করবো? আমি হইলে এতক্ষণে বিয়া ভাইঙা দিতাম।”
কী বলবে বুঝতে পারলো না সুজন। তিন ফুফার মধ্যে সবচেয়ে জাঁদরেল আর নাক উঁচু হচ্ছে বড়জন। কিছু বললেই তালকে তিল করতে ওস্তাদ। শ্বশুরবাড়িতে হওয়া প্রত্যেক অনুষ্ঠানে ত্রুটি খুঁজতে ব্যস্ত। তাকে চুপ থাকতে দেখে মুখ বাঁকালেন ইকরাম হোসেন। অদূরে সবার সঙ্গে হেসে কথা বলতে থাকা নাজিরকে দেখে বিরক্তি নিয়ে বললেন,“তোর চাচায় এ কেমন পোলার লগে মাইয়া বিয়া দিছে? শ্বশুরবাড়ির প্রতি কোনো দায়িত্ব নাই? মাত্র সাহেব সাইজা আইছে। আইয়া একটু দেখা সাক্ষাৎ কইরা সালামও দেয় নাই। এক নম্বরের বেয়াদব।”
দীর্ঘশ্বাস ফেলল সুজন। বললো,“দাদাজানে দিছে। দাদাজানের সবচেয়ে প্রিয় নাতজামাই আছিলো। আমনের লগে তো মনে হয় আগে পরিচয় হয় নাই। তাই হয়তো…
“চিনে না আমারে? ক্যান চিনে না? হেইডা কী তগো দায়িত্ব আছিলো না? কয়দিন আগেও না একবার কথা হইলো?”
“আমি ডাইকা আনতাছি, আমনে বহেন।”
গোসল করার পরেও রুহুলের মুখটা হলুদ হয়ে আছে। ভিড় কমতেই গামছা দিয়ে ডলতে ডলতে বললো, “সবাই বরাত গেছে, তুই যাস নাই ক্যান? কই আছিলি এতক্ষণ?”
কাজ সেরে পাশের এক টিউবওয়েল থেকে হাতমুখ ধুয়েই এখানে চলে এসেছে নাজির। খুব ক্লান্ত লাগছে তার। ভেতরটা কাঁপছে, একটু বিশ্রাম চাইছে শরীর। গোসল করতে পারলে হয়তো আরো ভালো লাগতো। গা ঘিনঘিন করছে। এত বড়ো একটা কান্ড ঘটিয়ে আসার পরেও কেউ স্বাভাবিক থাকতে পারে? অথচ নাজিরকে থাকতে হচ্ছে। করতে হচ্ছে অভিনয়। চুলে হাত চালিয়ে বললো,“আমি ব্যস্ত মানুষ। এইসবে যাওয়ার সময় আছে?”
“কীয়ের ব্যস্ততা? করোস তো খালি ফাতরামি আর বেয়াদবি।”
“নিজের কথা কইলি?”
রুহুল রেগে গেলো। কড়া উত্তর দেওয়ার পূর্বেই সুজন এসে উপস্থিত হলো সেখানে। বললো,“তুই ফুফারে দেইখা সালাম দেস নাই ক্যান? বেয়াদবি না করলে ভাল্লাগে না, বান্দর?”
“বোইনের জামাইয়ের লগে এমনে কথা কও, সাহস তো কম না তোমার!”
সুজন চোখ রাঙালো,“মাইয়ার বাড়িত গিয়া মনমতো আপ্যায়ন না পাইয়া রাইগা আছে। আয়, একটু কথা কইয়া যা। ভদ্রভাবে কথা কইবি।”
“ওই ব্যাডাই বেয়াদব। উল্টাপাল্টা কথা কয় খালি, লগে তো চোগলখোরী আছেই। আমার এইসব পছন্দ না।”
“তোরেও তো পছন্দ আছিলো না, তবুও বোইন দেই নাই?”
“কত্ত বড়ো খারাপ! মুখের উপরে হাছা কথা কইয়া অপমান করে।”
“তুই যহন কস?”
রুহুল কথার মাঝখানে বলে উঠলো,“আমার বিয়ার মধ্যে যদি ফুফায় কোনো ঝামেলা করে তাইলে কিন্তু ভালা হইবো না, ভাইজান। আব্বারে কইয়া দিও। কম মানসম্মান তো ডুবায় নাই। আল্লাহ জানে, আমগো দাদার সবকয়ডা জামাই এমন ইতর হইলো ক্যান?”
“জামাই হওয়ার পর সবাই ইতর হইয়া যায়। এ আর নতুন কী? ঘরে যা তুই। নাজির আয়।”
নাজির মুখ ফিরিয়ে নিলো। দালানের দিকে যেতে যেতে বললো,“আগে আমার ময়না পাখির লগে দেখা কইরা আসি। কতদিন ধইরা তারে দেখি না! বুকটা ছলাৎ ছলাৎ করতাছে।”
“কতদিন মানে? কাইল হাইনজায় না দিয়া গেলি?”
নাজির উত্তর দিলো না। সোজা চলে গেলো দালানের দিকে। সুজন পুনরায় দীর্ঘশ্বাস ফেলল। একেকজনের একেক বাহানা আর রং দেখতে দেখতে বিরক্ত সে। রুহুল যেতে যেতে বললো,“এইডা আরেকটা নাটকী। দুনিয়াত শুধু ওরই বউ আছে, আর কেউর নাই।” মাসুমের দিকে দৃষ্টি যেতেই হতাশ কণ্ঠে ফের বললো, “এই অভাগারও তো নাই।”
হলুদের শাড়িটা বদলে সালোয়ার কামিজ পরে হাফ ছাড়লো মিছরি। চুলগুলো জবজবে ভেজা। ফ্যানের নিচে বসে তা শুকাতে দিলো। দরজায় টোকা পড়তেই মাথায় ওড়না টেনে দৌড়ে এসে খুলে দিতেই চোখমুখ কুঁচকে গেলো। নাজির ধমকালো,“কেডা না জিগাইয়া দরজা খুলছো ক্যান?”
“আপনি আসতে গেলেন কেন? একেবারে কাল এলেই তো পারতেন।”
স্ত্রী রাগ করেছে, নাজির বুঝতে পারলো। ঘরে ঢুকে বিছানায় বসলো। শার্টের প্রথম বোতাম দুটো খুলে বললো,
“তুমিও ওই বাড়ি গেছিলা?”
“শুধু কী আর গিয়েছি? জিজ্ঞেস করুন, কয়টা প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছি।”
“কয়টা?” ললাটে ভাঁজ পড়ল।
কুঞ্চিত কপাল টানটান হলো মিছরির। স্বামীর সামনে বসে গদগদ কণ্ঠ বলতে লাগলো,“সঠিক গুনতে পারিনি। মাঝখানে হাসান ভাই এসে বাগড়া দিয়ে দিলো। তবে ভালোই পেয়েছি। নতুন ভাবির ভাই তো সরাসরি একটা গাদা ফুল দিয়ে বললো, তোমাকে দেখতে পরীদের মতো লাগছে।”
নাজিরের ভালো মেজাজটা চটে গেলো। দাঁতে দাঁত পিষে বললো,“হাসান ভাই আবার কোন গোলামের পুত?”
“মুখ খারাপ করবেন না। বড়ো ফুফুর ছেলে তিনি। একসময় আমার কাজল আপাকে পছন্দ করতেন। দাদাজান আবার ভাই-বোনদের মধ্যে বিবাহ পছন্দ করতেন না। যতই মামাতো, ফুফাতো হোক। ভাই-বোন তো ভাই-বোনই হয়, তাই না? ফুফা প্রস্তাবও দিয়েছিলেন, কিন্তু দাদাজান তার মাস দুয়েক পর অন্যত্র আপার বিয়ে দিয়ে দেন। সেই থেকে বিয়ে ছাড়া হাসান ভাইকে আর এই বাড়িতে আসতে দেখা যায় না। তবে আমার বিয়েতেও তিনি আসেননি, এমনকি ফাহমিদা আপার বিয়েতেও না। ফুফা তো সেই থেকে আমার বাপ-চাচাদের উপর নারাজ।”
একে নিয়ে নাজিরের চিন্তা কমলো খানিক। কিন্তু কনের ভাইয়ের উপর থেকে রাগটা গেলো না। কাল ব্যাটাকে সে দেখে নেবে।
যাত্রাপথ পর্ব ৫৪
“এমা শার্টের কলারে রক্ত কেন? কোথায় কেটেছে আপনার? কীভাবে কাটলো? দেখি?”
নাজির ভড়কে গেলো। মিছরি দ্রুত এগিয়ে এসে শার্ট টেনে দেখতে লাগলো। গলা, হাত, বুক দেখেও ক্ষতের সন্ধান পেলো না কোথাও। নাজির উঠে গিয়ে আয়না দেখলো। খুব গুরুত্বর নয়, বরং সামান্য ছিটে এসেছে। কিন্তু কীভাবে এলো? উপরে যেই শার্ট ছিল সেটা তো ওখানেই সে! যাক, আর কেউ দেখেনি তো? চিন্তায় চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠলো। মিছরি তার সেই অস্থিরতা দেখে সন্দিহান কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,“সত্যি করে বলুন, কোথায় ছিলেন? কী অঘটন ঘটিয়ে এসেছেন? আমায় মিথ্যে বলবেন না বলে দিচ্ছি।”
একপলক মেয়েটার মুখের দিকে তাকালো নাজির। মনে মনে বুনতে লাগলো মিথ্যার জাল। এই মেয়ে এখন আর বোকা নেই, সোহেল ঘটনার পর থেকে খুব চালাক হয়েছে।
