Home রাজনীতির রংমহল ৩ রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৭

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৭

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৭
সিমরান মিমি

শীতের সূচনা মাত্র! বিকেলের নরম রোদ, বাতাসে মিষ্টি গন্ধ! প্রাণখোলা হাওয়ায় দুলছে নদীর পাড়। সারিবদ্ধ ঢেউ, তার সাথে তাল মিলিয়ে বৈঠা চালানো মাঝি — সবটাই যেনো উপন্যাসের পাতায় বর্নিত চিত্রপট। স্পর্শীয়া বড় রাস্তা পেরিয়ে নদীর পাড়ে গিয়ে বসেছে। পাড়ের ছোট্ট এই চরটুকুতে মিহি ঘনত্বে কিছু কাশফুল ফুটেছে। চোখে দেখে গোণা যাবে, ঠিক তেমন।

শেষ বিকেলের এই পরিবেশ টুকু চমৎকার হলেও স্পর্শীয়া ডুবে আছে বিষাদে। আশেপাশের মানুষ, অহেতুক সম্পর্ক, সবকিছুই বিষাক্ত লাগছে। মন চাইছে নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে। অচেনা জায়গা, অজানা পরিবেশ, অস্তিত্বহীন স্পর্শীয়া — হয়তো এটুকুই মন ভালো করতে পারবে তার। গত দু – রাত ধরে ঘুম হচ্ছে না। ঢাকায় ফেরারও ইচ্ছে নেই। সে রাতে শরীর ক্লান্ত হওয়ায় হস্পিটালেই কাটিয়েছিলো সোভাম এবং স্পর্শী। শামসুল সরদার তৃপ্তি পেয়েছিলেন তাতে। ভেবেছিলেন সুস্থ হওয়ার সাথে সাথে মেয়েকে নিয়ে নিজের ভবনে আসবেন। বোনের জেদের সাথে পেরে উঠতে না পেরে সোভাম নিজেও আসবে। কিন্তু তার এই অলীক কল্পনা সকাল আট টার পূর্বেই নষ্ট হয়ে যায়। সারারাত নির্ঘুম কাটানোর পর বিধ্বস্ত সোভাম স্পর্শীর কাছে গিয়ে সব থেকে কঠিন বাস্তবতা টুকু তুলে ধরেছিলো। ক্লান্ত,পরিশ্রান্ত গলায় বিষাদ নিয়ে বলেছিলো,

– মা থাকাকালীন বাবা অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছিলো। দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলো। তোর তখন জন্মই হয় নি। হুট করে নিজের সাজানো, গোছানো সংসারে অন্য নারীর কর্তৃত্ব মেনে নিতে পারেন নি। সপত্নী বাদের স্বাদ নেবেন না বলেই সব ছেড়েছুড়ে আমাকে আর তোকে নিয়ে বাড়ি ছেড়েছে। এরকম একজন বিশ্বাসঘাতক লোকের ছায়া আমাদের জীবনে রাখতে চায় নি বলেই মিথ্যে বলেছে।
স্তব্ধ হয়ে ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলো স্পর্শী। টু শব্দ টুকুও করতে পারে নি। এতোটা তিক্ত অতীত না জানাই তো বরং বেশি ভালো ছিলো। অন্তত বাবা নামক মানুষ টাকে আজীবন মৃত ভেবে সম্মান তো করা যেতো।
ভাইয়ের কথার বিপরীতে কিছু বলার ইচ্ছে হয়নি তৎক্ষনাৎ। পাঁচ মিনিটের মধ্যে হস্পিটাল প্রাঙ্গণ ছেড়েছে। মন টা একটু শান্ত এবং শরীরটা ঠিক লাগলেই ঢাকা ফিরবে — এই কথা দিয়ে পুণরায় উঠে এলো ভাইয়ের বাসায়। এ যাবৎ কমপক্ষে দশ বার সরদার বাড়ি থেকে লোক এসেছে তাদের ফিরিয়ে নিতে। কিন্তু সক্ষম হয় নি। প্রতিবারই শূণ্য হাতে ফিরতে হয়েছে।

পিপাসা ফোন দিয়েছিলেন স্পর্শীয়ার নাম্বারে। সেখানেও বেজে যায় বিপত্তি। ভুল করে কল রিসিভড করে ফেলেছিলো সোভাম। স্পর্শীয়া পিরোজপুরে বুঝতে পারতেই উত্তেজিত হয়ে যান পিপাসা। কেনো, কোন কারনে স্পর্শী এখানে, সেসব নিয়ে প্রশ্নের ঝুড়ি খুলেছিলেন। তবে শেষমেষ তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলো সোভাম। মিথ্যের পর মিথ্যে সাজিয়ে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য বলেছে,
– স্পর্শীয়ার বান্ধবীর শশুরবাড়ি খুলনায় মা। ও সেখানেই এসেছিলো। পিরোজপুর খুব বেশি কাছে হওয়ায় জেদ ধরে আমার সাথে দেখা করতে এসেছে। ফেরাতে পারে নি, নানা প্রশ্ন করছে। তাই বাধ্য হয়ে এনেছি। দু দিন আমার কাছে থাকুক, এরপর গাড়িতে তুলে দেবো। তুমি বেশি চিন্তা করো না। শেষে সন্দেহ করবে।
বিশ্বাসযোগ্য অজুহাত! পিপাসা চোখ বন্ধ করে মেনে নিলো। তবে চিন্তার রেশ তাতে সামান্যও কাটলো না। কোনোভাবে যদি এতোদিনের সাজানো সম্পর্ক গুলো অতীতের সাথে মিলেমিশে যায়! তখন সে কিভাবে সামলাবে?

একটা প্রাইভেট কার থামলো নদীর ধারের রাস্তায়। পর পর দু-বার হর্ণ বাজানোর পর নিরবতায় ছেয়ে গেলো আবারো। শামসুল সরদার গায়ের চাদরটা আরেকটু জড়িয়ে নিলেন। শেষ বিকেলে মৃদু ঠান্ডা পড়েছে। অসুস্থ শরীরে সেই ঠান্ডাটুকু প্রবলভাবে জেকে ধরবে ভেবেই এই গরম পোশাক পড়েছেন। অতি সাবধানে ঢালু, এবড়োখেবড়ো মাটিতে পা ফেলে নেমে এলেন চড়ে। ধীরস্থির হয়ে বুকে হাত বেঁধে স্পর্শীর পেছনে দাঁড়ালেন। কারোর অস্তিত্ব অনুভব হতেই মস্তিষ্ক সচল হলো স্পর্শীয়ার। সময় নিয়ে পিছনে তাকিয়ে বাবাকে দেখে নিলো এক ঝলক। এরপর পুণরায় তাকালো নদীর দিকে।
সূর্য প্রায় ডুবুডুবু। নিস্ক্রিয় লাভার ন্যায় রক্তিম আভা গুলো পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। সেই চমৎকার দৃশ্যটা ফুটে উঠেছে পানিতে। শামসুল সরদার আকস্মিক নিজস্ব দাপট, দাম্ভিকতা ছুড়ে ফেলে মেয়ের পাশে বসলেন। ঘাঁসের নরম স্তরের উপর।

-এখানে বসছেন কেনো? আশেপাশে কি কম জায়গা আছে?
স্পর্শীর কন্ঠে স্পষ্ট ক্ষোভ। মুখে অভিমানে ছাঁপ। তা দেখে শামসুল সরদার অগোচরে হাসলেন। কিছুটা ঝগড়ার ন্যায় বলে উঠলেন,
-জায়গাটা কি তোমার বাপের?
চোখ দুটো ছোটো ছোটো করে ফেললো স্পর্শী।কপাল কুঁচকে বিরক্তি নিয়ে তাকালো। কিছু বলতে গিয়েও আবারো চুপ করে অন্যদিকে মনোনিবেশ করলো।
– মামণি, একটু শান্ত হও। আমি কিছু বলতে চাই তোমায়।
সবসময়ের বজ্রকন্ঠে আজ নরম, মলিন অনুরোধ। সন্তানদের কাছে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। স্পর্শী মানলো না। অভিমান মিশ্রিত কন্ঠে বললো,
– একজন মৃত মানুষের থেকে আমার কিছুই শোনার নেই।
থমকে গেলেন শামসুল। ভারাক্রান্ত কন্ঠে বললেন,

-মৃতদেরও অনেক কিছু বলার থাকে।
-হয়তো অনেক কিছু থাকে। কিন্তু ক-জনই বা শোনো সেসব। বিগত তেইশ বছরে যখন বলার প্রয়োজন মনে করেন নি, খোঁজেন নি — তাহলে বাকি দিন গুলোও এভাবে যাক। আমি কিছু শুনতে চাই না।
– কে বলেছে খুঁজিনি? বরং ব্যর্থ হয়েছি প্রতিবার।
স্পর্শী তাচ্ছিল্য করে হাসলো। বললো,
– হাস্যকর অজুহাত! তিনটা জলজ্যান্ত মানুষ উবে যাবে?
শামসুল সরদার মেয়ের ঘৃণামিশ্রিত মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। খানিকক্ষণ পর বললো,
-হয়তো হাস্যকর! তবে হারিয়ে যাওয়া মানুষ খুঁজে পাওয়া সহজ হলেও, যারা নিজে থাকা হারায় তাদের পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাছাড়া বাড়ি ছাড়ার তিনমাস পরেই তোমার মা আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। তখনকার পরিস্থিতি আমাকে অভিমানী করতে বাধ্য করেছে।
স্পর্শীয়া তড়িৎ গতিতে উঠে দাঁড়ালো। হাতের ফোনটা শক্ত করে চেপে ধরে বললো,
– বেশ তো! বাকি জীবনটাও নাহয় অভিমান নিয়ে কাটিয়ে দিন আপনারা। বাঁধা তো আর কেউ দিচ্ছে না। আমার পিছু নেবেন না একদম।
শক্ত মুখশ্রী নিয়ে কথাগুলো বলে রাস্তার দিকে উঠতে লাগলো। শামসুল করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ডেকে উঠলেন। বললেন,

-স্পর্শীয়া!
-ডাকবেন না একদম। আমার নাম ধরে মোটেই ডাকবেন না।
ক্ষোভ নিয়ে উচ্চস্বরে কথাটা বলে উঠলো স্পর্শী। শামসুল সরদার হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলেন। হৃদয়টা ধক্ করে কেঁপে উঠলো। সময় নিয়ে, নিজেকে সামলে মেয়ের উদ্দেশ্যে বললেন,
– কত শখের নাম আমার। অথচ আমি ডাকবো না? বিয়ের পরপরই ঠিক করে রাখা, আমার মেয়ের নাম ধরে আমি ডাকবো না? এতোগুলো বছর পরেও ডাকবো না?
কথাগুলো বিষাদে ভরপুর। স্পর্শীর বুকটা কেমন যেনো করে উঠলো। কি করবে সে? সামনাসামনি কঠোরতা দেখালেও বাস্তবতাকে মাড়িয়ে হৃদয়টা তো নরম হচ্ছে দিন দিন। ইচ্ছে করছে সব কিছু ভুলে যেতে। কিন্তু সম্ভব নয়। সে এতোটা সার্থপর হতে পারে না। কোনো উত্তর না দিয়ে রাস্তায় উঠে দাঁড়ালো স্পর্শী। ইতোমধ্যে শামসুল সরদারও উঠে এসেছেন। হঠাৎ ’ই এতোক্ষণের নরম, শান্ত কন্ঠের পরিবর্তন ঘটলো। চিবুক শক্ত করে, শাসনের সুরে স্পর্শীকে বললেন,

– আম্মু, শুনেছিলাম শিকদারের ছোটো ছেলেটা তোমার বন্ধু। আমার খারাপ লেগেছে। তুমি ওদের সাথে আর কোনো সখ্যতা রাখবে না। ওরা আমাদের শত্রু।
স্পর্শী চমকে বাবার দিকে তাকালো। হুট করে এমন অধিকার বোধে অবাক কম, রাগই বেশি লাগলো। ত্যাড়া কন্ঠে বললো,
– আপনার শত্রু, আমার নয়।
-তোমার বাপের শত্রু মানেই তোমার শত্রু। তাছাড়াও ওরা সুবিধার নয়।
শামসুল সরদার জেদ দেখাচ্ছেন। তাও স্পর্শীয়াকে। যার রক্তের প্রতিটা কণিকায় জেদ বিদ্যমান। নিজের চিরাচরিত ত্যাড়া রুপটা দেখাতে তৎক্ষণাৎ ফোন বের করলো। পাভেলের নাম্বার বের করে কল লাগালো। ওপাশ থেকে রিসিভড হতেই দ্রুততার সাথে শামসুল সরদারকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে উঠলো,
– আমি নদীর পাড়ে, ফেরী ঘাটের অপজিটে আছি। বাসায় যাবো, দশ মিনিটের মধ্যে তুই এখানে আসবি।
হতভম্ব দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন শামসুল। চোখ -মুখ শক্ত করে খিটখিটে মেজাজে গিয়ে বসলেন গাড়িতে। স্পর্শী তৃপ্তি পেলো ভীষণ।

– যেভাবে গিয়েছো, ঠিক সেইভাবে বাসায় ফিরবে। হাত-পা নেই? অসভ্য, গায়ে পড়া মেয়ে! দ্বিতীয়বার আর পাভেলকে ফোন দেবে না। তোমার পরিকল্পনাটা কি একবার বলবে? বাপ- মেয়ে মিলে চাইছো টা কি? আমার ছোটো ভাইটাকে ফাঁসাবে? ঠিক ফুপির মতো।
এই কন্ঠ পাভেলের নয়। এমন কর্কশ, বিশ্রী কন্ঠ পাভেলের হতেই পারে না। স্পর্শী স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো গাড়িতে বসে অপেক্ষা করা বাবার দিকে। ভাগ্যিস শোনে নি, নাহলে কি অপমান টাই না হতো। মেজাজ টা মুহুর্তে’ই খারাপ হয়ে গেলো। কি করে এতোসব বলতে পারলো তাকে? এগুলো কি পাভেল শোনেনি, নাকি পাশে বসেই ভাইকে নির্দেশনা দিচ্ছিলো।

– চলে আসো। বাড়ি নিয়ে যাবো না, তোমার ভাইয়ের বাসাতেই রেখে আসবো।
তৎক্ষনাৎ গাড়িতে উঠলো না স্পর্শী। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কয়েকজন উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। শামসুল সরদার মেয়ের অপেক্ষায় এতোক্ষণ বসে আছেন, অথচ মেয়ে পাত্তাই দিচ্ছে না।বিষয়টা বড্ড অসস্তিদায়ক এবং অসম্মানজনক। পরিস্থিতি বিচার করে খানিকক্ষণ সময় নিয়ে ধীর স্থির পায়ে গাড়িতে গিয়ে বসলো। আপ্লুত হয়ে গাড়ি চালাতে লাগলো শামসুল। তিনি কোনো ড্রাইভার আনেননি। নিজেই চালাচ্ছেন গাড়ি। পাশের সিটে গম্ভীর হয়ে বসে আছে স্পর্শীয়া। সেদিকে একবার তাকিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বলে উঠলেন,
– তোমার মা সারাজীবন আমার ক্ষতিই করে গেলো।
স্পর্শী ভ্রু কুচকে কৌতুহলী দৃষ্টিতে তাকালো। সেদিকে তাকিয়ে খানিকটা হেসে শামসুল বললেন,
– এই যে সামনে নির্বাচন, অথচ তোমাদের দুই-ভাই বোনের’ই ভোটার হয়েছে ঢাকায়। দুটো ভোট কমে গেলো আমার। কি মুছিবত বলো তো আম্মু?
স্পর্শী অগোচরে হাসলো। পরক্ষণেই মুখশ্রী থমথমে করে বললো,
– আমি আপনাকে কখনোই ভোট দিতাম না।
– তাহলে কাকে দিতে? যার বুকে ছুরি মেরেছো, তাকে? অবশ্য আমি শুরু থেকেই তোমার প্রতি সন্তুষ্ট আম্মা। ভাবছিলাম, এতো তেজী রক্ত কার হতে পারে? এখন দেখছি সে শামসুল সরদারের আম্মাজান। সরদারের রক্ত সমসময় টগবগে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।

নিজের ঘরে দরজা আটকে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে আছে আর্শি। কাল সারারাত সে কেঁদেছে। বাবার অসুস্থতায় ঠিক যতটা কষ্ট পেয়েছিলো, তিনি আসার পর তার অধিক কষ্ট পেয়েছে। কারন শামসুল সরদার একা আসেননি। এসেছেন নিজের সন্তানদের পরিচয় নিয়ে। প্রতিনিয়ত বাড়ির মধ্যে সকলের চাপা উত্তেজনা। কিভাবে স্পর্শীয়া সরদার এবং সোভাম সরদারকে বুঝিয়ে বাড়িতে আনবে, এ নিয়ে পরিকল্পনার অভাব নেই। এই তো সোনা মা, যে কি-না আর্শিকে সবথেকে বেশি ভালোবাসতো, সেও আজ বদলে গেছে। শীতের শুরুতেই বাড়ির বড় ছেলে-মেয়েকে পিঠা খাওয়াবে বলে পিঠা পর্যন্ত বানাচ্ছে। কাল সকালে নিজ হাতে নিয়ে গিয়ে খাইয়ে আসবে তাদের। এতোসব আয়োজন বিষের মতো ফুড়ছে আর্শিয়ার শরীরে। মানতে কষ্ট হচ্ছে ভীষণ। কই? বাবা তো তাকে এতো ভালোবাসে না। বিগত দু দিনে তিনি যতবার স্পর্শীয়া সরদার নামক মেয়ের সাহস নিয়ে প্রশংসা করেছেন, ততবার আজ অবধি আর্শিয়াকে নাম ধরেও ডাকেন নি। রুমের বাইরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না আর্শির। দম বন্ধ লাগছে। সে থাকবে না এ বাড়িতে। চলে যাবে। কিন্তু কোথায় যাবে? যাওয়ার জায়গার চিন্তা করতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো পিয়াশা শিকদারের মায়াবী মুখ। পরক্ষণেই কোনো এক পাগলাটে যুবকের প্রতিচ্ছবি, যিনি কোলে নেওয়ার জন্য অনুমতি চাইছিলেন বারবার। আর্শিয়া মিইয়ে পড়লো। খানিকক্ষণ হতভম্ব হয়ে চোখ বন্ধ করে বসে রইলো।

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৬

হ্যাঁ, সে যাবে শিকদার বাড়িতে। বাবাকে রাগানোর জন্য হলেও যাবে। কোর্টে কেস লড়ার সময় তাদের বিপক্ষের উকিল পরশ শিকদারের ফোন নাম্বার দিয়েছিলো। কার্ড টা এখনো আছে আর্শির নিকট। বাবার প্রতি একপ্রকার রাগ, জেদ নিয়ে সে ড্রয়ার থেকে কার্ড বের করলো। ধীর স্থির হয়ে নাম্বার টা তুলে কল লাগালো। দু, তিনবার রিং পড়ে সময় নিয়ে রিসিভড হলো ওপাশ থেকে। আর্শির অসস্তি হচ্ছে এখন। কি বলবে, কি করবে ভেবে পেলো না। আচমকা শ্বাসরুদ্ধ করে এক দমে বলে উঠলো,
– আমি আর্শিয়া, আপনাদের বাড়িতে কিছুদিন থাকতে চাই। আব্বু হয়তো যেতে দেবেন না। আপনি কাল এসে নিয়ে যাবেন আমায়?

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৮