রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৬
সিমরান মিমি
সোভাম নিস্তেজ হয়ে দেয়ালের সাথে পিঠ করে শরীর ছেড়ে দিয়েছে। দৃষ্টি শূণ্যের দিকে পাত করা। এখানে আকাশ নেই। আছে পোড়ানো ইটের ছাদ। হয়তো সেজন্যই মন ভালো হওয়ার কোনো প্রয়াস নেই। নিস্তব্ধ, ভুবনমোহিনী আকাশ হলে এতোক্ষণে বিষাদ গুলো লেপ্টে দিতো তারার সাথে। শরীর টা অসার হয়ে আসছে। বুকটা ধুকপুক শব্দে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, ভয়ে। মায়ের অভিমানী, বিষাদ চেহারা টা ভাসছে চোখের সামনে। কি করে বোঝাবে তাকে বর্তমান পরিস্থিতি! সে কি রাগ করবে সোভামের উপর। অভিমান করে কথা বলাই বন্ধ করে দেবে? দুশ্চিন্তায় চোখের পাতা বুঝে এলো প্রায়। নাছোড়বান্দা স্পর্শীয়া বারান্দায় বিছানো কাঠের শক্ত বেঞ্চিতে বসে আছে। নিঃশ্বব্দে দুহাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে। কারোর প্রতি নেই কোনো অভিযোগ। শুধু আছে প্রশ্ন! কেনো? এমনটা কেনো হলো? জীবনটা কি নাটক, উপন্যাসের মতো! একটা জীবিত মানুষ, তাকে মৃত বানিয়ে এতোগুলো বছর ধরে অস্তিত্ব’ই বিলীন করে রেখেছে। কিন্তু কেনো? এমনটা করার কি কারন? কেনো তাকে এতিম করে রাখা হলো? কেনো এতোগুলো বছর পর সম্মুখে থাকার পরেও তার জন্মদাতা তাকে চিনতে পারলো না, সে তার বাবাকে ছুতে পারলো না! কেনো?
এসব প্রশ্নের উত্তর কে দেবে স্পর্শীকে?
পাভেল হতভম্ব হয়ে বসে আছে। মস্তিষ্ক ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ভেবে ভেবে। স্পর্শীয়া – সোভাম শামসুল সরদারের সন্তান, অথচ তার দ্বারাই কেনো এতোটা বিপদে পড়বে ছেলেমেয়ে? তিনি কি চেনেন না নিজের সন্তানকে? ভেবে পেলো না। তবে এতোসব ঘটনায় এতোটুকু নিশ্চিত যে এদের সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়। সে সোভামের দিকে তাকালো। কৌতুহলী হয়ে নরম গলায় শুধালো,
– শামসুল সরদার আপনার বাবা?
ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত হয়ে শূণ্য থেকে দৃষ্টি সরালো সোভাম। তাকালো পাভেলের দিকে। অতিশয় শান্ত হয়ে বললো,
– তোমার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, পাভেল। তবে এখন তোমার যাওয়া উচিত। ব্যক্তিগত বিষয়গুলো মিটিয়ে তবেই স্পর্শীয়াকে নিয়ে ফিরবো।
এহেন উত্তরে মন খারাপ হলো না পাভেলের। বরং খুশিই হলো। এতোটা গুমোট, অস্থির পরিবেশে থাকা যাচ্ছে না। মনের মধ্যে অজস্র প্রশ্ন। শামসুল সরদারের ব্যক্তিগত ব্যাপারে খুব একটা জানে না সে। তবে এখন জানবে। বাড়িতে গিয়েই বাবাকে জানাতে হবে সোভাম-স্পর্শীর কথা। এদের সম্পর্কের সমীকরণ মেলাতে সে হিমশিম খাচ্ছে। তবে এতোসবের মধ্যেও একটা বিষয়ে সস্তি পেলো পাভেল। স্পর্শীয়া নিশ্চয়ই আর্শির ব্যাপারে সাহায্য করবে তাকে।
পাভেল প্রস্থান করতেই নিভুনিভু চোখে স্পর্শীর দিকে তাকালো সোভাম। ধীর পায়ে এগিয়ে এলো বেঞ্চের পাশে। স্পর্শীর পায়ের কাছে হাটু ভেঙে বসে হাত ধরলো। হস্পিটাল থেকে নেওয়ার জন্য তখন কতই না জোর করেছে। টানা-হেঁচড়া, ধমক থেকে শুরু করে রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে থাপ্পড় পর্যন্ত মেরেছে। তবুও টলাতে পারেনি বোনকে। দিশা হারিয়ে বাচ্চাদের মতো কেঁদেছে। সে যাবে না এখান থেকে। কিছুতেই না।
স্পর্শীর হাতে স্পর্শ করতেই কপাল থেকে হাত সরালো। ফোলা, রক্তবর্ন চোখ দুটো নিয়ে তাকালো ভাইয়ের দিকে। আদরের বোনের এমন বেহাল দশা সহ্য হলো না সোভামের। শীতল গলায় শুধালো,
– পাগলামি কেনো করছিস, চড়ুই? সাথে চল।
– এতোটা ছলনার আশ্রয় নেওয়ার কারন কি, ভাইয়া?
কেঁপে উঠলো সোভাম৷ নিজেকে সামলে বললো,
-মায়ের কাছ থেকেই না হয় শুনলি।
– নাহ! মা বললে তো আরো আগেই জানাতো। আমি তোর কাছে শুনতে চাইছি। কি এমন কারন, যেটা তুই জানিস, অথচ আমি জানতে পারি না।
– তুই আসার জন্য জোর করতি বলেই মা জানায় নি।
– বেশ! তাহলে সবটা জানার পর নিয়ে যেতে চাইছিস কেনো? আমি যাবো না।
সোভাম থমকে গেলো। বুক টা ক্রমশ ভার হয়ে আসছে। ব্যথায় জর্জরিত হয়ে নীল হয়ে যাচ্ছে। ভাঙা গলায় শুধালো,
– কোথায় থাকবি, বাবার কাছে?
বাবা! স্পর্শীরও বাবা আছে। জীবিত, সুস্থ! ভাবতেই বুকটা হু হু করে উঠলো। খানিকটা আর্তনাদের সহিত বললো,
– কারো কাছে থাকবো না। এতো মিথ্যে! এতো ছলনা! আমার কাউকে চাই না। শুধু প্রশ্নের উত্তর চাই।
সোনালী বেগম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়ে তাকিয়ে রইলেন দু ভাই-বোনের দিকে। এই সেই সোভাম, সরদার বাড়ির বড় সন্তান। আহা! তার আসার আনন্দে শাহজাহান সরদার ( শামসুল সরদারের বাবা) সারা পিরোজপুরে মিষ্টি বিলিয়েছিলো। বড় ছেলের ঘরে বড় নাতী। প্রায় চার -পাঁচ বছর বেড়ে উঠলো ছেলেটা, এরপর হুট করেই সরদার বাড়ি মাঁড়িয়ে চলে গেলো পিপাসা। সদ্য বিবাহিত স্ত্রী সোনালী তো সারাক্ষণ সন্তান স্নেহে আগলে রাখতেন সোভামকে। মাতৃস্নেহে লালন করলেও গর্ভের টান নেই বিধায় সেদিন ছেলেটাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলো পিপাসা। প্রায় কতগুলো মাস হাহাকার করেছিলো সরদার বাড়ি। বার বার চেষ্টা করার পরেও বাচ্চা না হওয়া সোনালী দেড় বছরের মাথায় গর্ভবতী হলেন। কোল আলো করে এলো রিহান। তবেই তো ভুলতে পেরেছিলেন সোভামকে।
সোনালীর ইচ্ছে করলো ছুটে গিয়ে সোভাম কে নিজের সাথে জড়িয়ে নিতে। কিন্তু সাহস হলো। সে তো আর সেই পাঁচ বছরের বাচ্চা নেই, বড় হয়েছে। যুবক হয়েছে। আদৌ চিনতে পারবে কি তার সোনা মা কে!
স্পর্শীর কান্নারত মুখ টার দিকে তাকিয়ে বড্ড হতাশ হলেন সোনালী। মেয়েটার মুখে অসম্ভব মায়া। তবে কখনো মাতৃস্নেহে আগলানো হয়নি। মেয়েটা যখন পিপাসার গর্ভে, মাত্র আট মাসের। হুট করেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলো সব। পাঁচ বছরের ছেলে এবং আট মাসের গর্ভ নিয়ে এক কাপড়ে ছেড়ে দিলো সরদার বাড়ি। এরপর পুরোপুরি নিখোঁজ!
বেডে শুয়ে থাকতে ইচ্ছা হচ্ছে শামসুলের। মন চাইছে ছেলে মেয়ে দুটোকে উঠে দেখতে। কিন্তু সম্ভব নয়। বুকে এখনো ব্যথা। দরজার সামনে সোনালীকে দেখে তিনি উত্তেজিত হলেন। সোভাম-স্পর্শীর কন্ঠে না পেয়ে জানতে চাইলেন,
– ওরা কি চলে গেছে সোনালী?
– না ভাইজান। সোভাম যাওয়ার জন্য কম চেষ্টা করেনি। তবে বোনের জেদের সামনে পেরে উঠছে না। দুজনেই বসে আছে।
চিত্ত শান্ত হলো শামসুলের। সে জানে স্পর্শীয়া তাকে ভালোবেসে থেকে যায় নি। তীব্র জেদি এবং তেজী মেয়েটা হয়তো প্রশ্নের উত্তর চাইছে। সেটা না পেয়েই খামখেয়ালি করে বসে আছে। তবে এই ঘটনা টুকুতে তৃপ্তি পেলো শামসুল। হোক না ভিন্ন কারন, তবুও কেউ আছে তো তার অপেক্ষায়! ঠোঁট এলিয়ে পুরোনো কিছু দৃশ্য কল্পনা করে হাসলো শামসুল। পিপাসাকে বিয়ে করার পর থেকেই সন্তানের তাড়া ছিলো ভীষন। তার মেয়ে প্রয়োজন একটা। ছোট ছোট হাত, লম্বা লম্বা চুল, ডাগর ডাগর চোখ, ফোলা ফোলা ঠোঁট আর আধো আধো কন্ঠ — সব কিছু মিলিয়ে একটা মেয়েই চাই তার। সেসব ভেবে স্ত্রীর গর্ভবতী হওয়ার পূর্বেই মেয়ের নাম ঠিকঠাক। রাখবেন স্পর্শীয়া সরদার। কিন্তু বিধাতা হয়তো ইচ্ছে পূরণ করলেন না। কোলে এলো ছেলে সন্তান। তবুও দমে থাকে নি শামসুল। পরবর্তীতে যখন স্ত্রী আবারো গর্ভবতী হলো , তখন পূর্বের মতোই পাগলামি। মেয়ে সন্তান হবে, এবং নাম রাখবে স্পর্শীয়া সরদার। তবে এবারে হয়তো ভাগ্যে আরো ভয়ংকর কিছু লেখা ছিলো। পরিস্থিতি ওলোট-পালোট করে দিলো সবকিছু। আদৌ ছেলে হয়েছে, নাকি মেয়ে হয়েছে সে ব্যাপারেও অজ্ঞ ছিলো শামসুল। নেই স্ত্রীর কোনো খোঁজ। আর নেই তার কোনো অস্তিত্ব!
‘আমার শরীর বড্ড খারাপ লাগছে, চড়ুই।’
স্পর্শীয়া তাকালো। নিরেট, অনুভূতি শূণ্য কন্ঠে বললো,
– খারাপ লাগলে চলে যা।
হতাশ হলো সোভাম। স্পর্শীর অবস্থাও কাহিল। সারাদিন না খেয়ে, এতোটা মানসিক চাপের মধ্যে মাথা যন্ত্রণা হচ্ছে। বমি ও পাচ্ছে ভীষণ। আচমকাই শরীর ছেড়ে দিলো। সোভামের হাত জড়িয়ে হু হু করে কেঁদে উঠে বললো,
– আমার অনেক ক্ষুধা লেগেছে। মাথা যন্ত্রণা করছে।
হতভম্ব হয়ে গেলো সোভাম। দুহাতে স্পর্শীর গাল ঝাঁকিয়ে দিশেহারা হয়ে বললো,
– এইই, তাকা এদিকে। চড়ুই!
রাত বাজে দুইটা। এই মুহুর্তে আশেপাশের খাবারের দোকান যে খুব একটা খোলা পাবেনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত সোভাম। কি করবে ভেবে না পেয়ে ব্যস্ত দৃষ্টিতে আশেপাশে তাকাতে লাগলো। এগিয়ে এলেন সোনালী। হাতে পানির বোতল এবং ফল। মনটা বড্ড খারাপ হলো। মেয়েটা সারাদিন না খেয়ে এখানে পরে আছে। অথচ একবারের জন্যেও খেয়াল করা হয় নি। করবেই বা কিভাবে? সন্ধ্যা পর্যন্ত তো তারাই চিন্তায় মুর্ছা যাচ্ছিলো। যখন শামসুল সরদার তাকালেন, তারপর সময় করে বাইরে গিয়ে খেয়ে এসেছেন। সে সময় স্পর্শীকে আশেপাশে দেখেন নি। তাড়াহুড়োয় ওতোটা খেয়াল ও করা হয় নি।
সোনালী অপরাধীর ন্যায় স্পর্শীয়ার পাশে এসে বসলেন। মাতৃস্নেহের সহিত পানি খাইয়ে, খাওয়াতে লাগলেন কলা এবং রুটি। শুকনো রুটি গলা দিয়ে নামছে না স্পর্শীর। এখন ইচ্ছে করছে ঝালঝাল নুডুলস খেতে। তবুও আধা অচেতন রোগীদের মতো চিবোলো। প্রথমে স্পর্শীর পাশে বসলেও উঠে দাঁড়ালো সোভাম। এই ভদ্রমহিলা কে বিশ্বাস করা যায়। কতটা সুন্দর, সাবলীল ভাবে নিজের কোলে নিয়েছে স্পর্শীর মাথা। কিছু একটা ভেবে তার ভরসায় বোনকে রেখে বড় বড় পা ফেলে শামসুল সরদারের কেবিনে ঢুকলো সোভাম। মাথা নিচু করে অনিচ্ছাকৃত কথা বললো। গম্ভীর আওয়াজে শুধালো,
– চড়ুইয়ের শরীর খারাপ । ওর ঘুমের প্রয়োজন, কিন্তু যেতে চাইছে না। আপনি ওকে আমার সাথে যেতে বলুন।
কি নিদারুণ আবদার! শামসুল সরদারের চিত্ত ঠান্ডা হয়ে এলো। প্রশান্তিতে বুক ফুলে উঠলো। ছেলের কাচুমাচু হওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে বুকে ব্যথা নিয়েও হেসে উঠলো। তাচ্ছিল্য করে বললো,
– এই অনুরোধ টুকু তোমার মা করলে আরো শান্তি পেতাম । অবশ্য মেয়ের কাছে আমায় মৃত বানিয়ে ভালো করেছো, নাহলে তো রাখতে পারতে না। মাত্র এক ঘন্টার পরিচয় পেতেই তোমার কাছে যেতে চাইছে না, সেখানে দুটো দিন থাকলে হয়তো তুমিও তোমার মাকে ভুলে যেতে। পিপাসার ভয়টা অযৌক্তিক নয়!
সোভাম দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে রইলো। তার মাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করছে লোকটা। অথচ সে কি জানে, কতটা কষ্টে মানুষ করেছে তাদের। সোভাম চোয়াল শক্ত করলো। ক্রোধ মিশ্রিত কন্ঠে বললো,
– এতো তাড়া কিসের? দুটো দিন অপেক্ষা করুন। বাবা নামক আবেগে ফেসে এতোটা কাঁদছে, একটু ধাক্কাটা সামলাক। তারপর নাহয় এই দাম্ভিকতা দেখাবেন।
পরশ ফোন দিচ্ছে লাগাতার। শতবার বারন করা সত্ত্বেও সোভাম সরদারের সাথে সরদার দের কাছে গিয়েছে সে। দুশ্চিন্তায় ঘুম আসছে না চোখে। আমজাদ শিকদার নিজেও বসে আছে ড্রয়িংরুমে। ঘন্টা দেড়েক পূর্বেই পিরোজপুরে আসার খবর জানিয়েছে পাভেল। অথচ অপেক্ষা ফুরাচ্ছে না। এদিকে কল রিসিভড করার ও নাম নেই। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালো পরশ। এরইমধ্যে সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলো পাভেল। কিছুটা ক্লান্তি এবং উৎকন্ঠা নিয়ে বললো,
– এতো ফোন দেওয়ার কি আছে, আমি বুঝি না। বাইকে থাকাকালীন বারবার ফোন রিসিভড করতে ইচ্ছে হয়? তুমিই বলো!
ধমক মারলেন আমজাদ শিকদার। কিছুটা ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো,
– ওই মেয়ে জাহান্নামে যাক। সেটা নিয়ে তোর এতো মাথাব্যথা কেনো? ছুটতে ছুটতে জমের দুয়ারে গিয়ে দাঁড়াতেও দ্বিধা করিস নি। হাসপাতালে শামসুলের সন্ত্রাসী গুলো ছিলো না? যদি কয়েকটা কোপ দিতো, তবে?
পাভেল হাসলো। এরপর ক্লান্ত ভঙ্গিতে সোফায় গা এলিয়ে দিলো।কিছুটা বিরক্তির সুরে বললো,
– তা অবশ্য ভুল বলো নি। শুধু শুধু এতো দৌড় ঝাঁপ! ইচ্ছে করছে নিজের কপালে নিজে দুটো চটির বারি দেই। খালি খালি এতো টেনশন।
পরশ কৌতূহলী হলো খানিকটা। অনিশ্চিত কন্ঠে দ্বিধা – দ্বন্ব নিয়ে বললো,
– মেয়েটা কি ঠিক আছে?
পাভেল চমকে তাকালো। অসস্তিতে পড়ে গেলো পরশ। চোখ সরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে ধমক দিলো ছোটো ভাইকে। বললো,
– উত্তর দিয়ে দ্রুত ঘুমাতে যা। রাতে খাওয়ার দরকার নেই!
পাভেল হেঁসে দিলো। পরক্ষণেই বিরক্ত হয়ে বললো,
– ঠিক থাকবে না কেনো? বাপ স্ট্রোক করেছে, মেয়ে তাকে নিয়ে ছুটেছে হস্পিটালে। মাঝখানে ওর মগা ভাইটা আমায় দৌঁড় ঝাপের মধ্যে রাখলো। এমন ভান করছিলো যেনো সরদারের লোক তুলে নিয়ে খতম করে দিয়েছে।
আমজাদ শিকদার হোঁচট খেলেন। পরশ নিজেও চুপ হয়ে বোঝার চেষ্টা করলো কথাগুলো। কিন্তু ব্যর্থ হলো। অনুমানের সহিত বললো,
– স্ট্রোক তো শামসুল সরদার করেছে। ওই মেয়ের বাবাও কি অসুস্থ?
– আরে না ভাই! ওই দুটো বিচ্ছু শামসুল সরদারেরই ছাও-পোনা। সোভাম সরদার – নাম শুনেও বুঝো না? অবশ্য আমিও বুঝি নাই। কেমন যেনো সবটা ঘেঁটে গেলো। হুট করে হস্পিটালে গিয়ে দেখি এরা বাপের শোকে হাত-পা ছড়িয়ে কাঁদছে!
আসলেই কি কেঁদেছে? নাহ! এটা বিরক্তির প্রকাশিত বানোয়াট রুপ। যা এই মুহুর্তে পাভেলকে খিটখিটে মেজাজের করে তুলছে। শেষ মুহুর্তে কি-না তার চড়ুই ওই সরদারের মেয়ে! আমজাদ শিকদার গম্ভীর হয়ে উঠলেন। খানিকক্ষণ পর চিন্তিত কন্ঠে বললেন,
রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৫
– এরা দুজন তাহলে শামসুলের আগের ঘরে ছেলে-মেয়ে। কিন্তু এতো বছর পর হুট করে পিরোজপুরে কেনো? শুনেছিলাম যোগাযোগ নেই, প্রথম বউও ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছে। তাহলে?
তিনি ভেবে সমীকরণ মেলাতে পারলেন না। নিজের ভাগ্নীর জন্য চিন্তা হতে লাগলো। কিছুটা দুশ্চিন্তা নিয়ে বললো,
– আর্শিকে আনতে হবে দ্রুত । ওই সৎ ভাই-বোনের মধ্যে থাকলে বাচ্চাটা আরো কষ্ট পাবে। ভেতর থেকে মরে যাবে একদম!
