রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৮
সিমরান মিমি
সাতসকালে এক উদ্ভট, অকল্পনীয়, অবাঞ্ছনীয় স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলো স্পর্শীর। চোখ খুলে হতভম্ব হয়ে বিছানায় বসে রইলো কতক্ষণ। ধীরে ধীরে অবাকের রেশটা কাটিয়ে পাটি গুছিয়ে উঠে পড়লো ফ্লোর থেকে। বিছানায় আরাম করে, নাক ডেকে সোভাম ঘুমাচ্ছে। স্পর্শী অকারণেই একটা ভেংচি মারলো সেদিকে তাকিয়ে। কতটা সার্থপর হলে নিজে খাটে শুয়ে বোনকে মাটিতে শোয়ায়। এ খবর যদি শামসুল সরদার জানে তাহলে কি আস্ত রাখবে এই সোভাম সরদারকে? হ্যাঁ, রাখবে। শুধু প্রতিশোধ হিসেবে মেয়েকে বিশাল এক পালঙ্ক এনে দেবেন। স্পর্শী নিজের ভাবনার উপর আরেকদফায় অবাক হলো। আজকাল কিছু হলেই বাবা নামক শামসুল সরদারের কথা স্মরণে আসে। এটা ভালো লক্ষণ নয়। অতি শীঘ্রই পিরোজপুর ছাড়তে হবে।
সকালের হালকা কুয়াশা এবং শীতের আমেজকে অবহেলা করে সোভামের আরামদায়ক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালো কলিংবেল। স্পর্শী তখন রান্নাঘরে, পরোটা এবং চা বানাতে ব্যস্ত। অলসতা কাটিয়ে হামি দিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো সোভাম। গায়ে পাতলা একটা টিশার্ট জড়ানো। দরজার খিল খুলতেই ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটার সাথে ভেতরে প্রবেশ করলো কলেজের অধ্যক্ষ। হাতে ফলের প্যাকেট এবং মুখে মিষ্টি হাসি। সোভাম অবাক হলো। চেয়ে রইলো কপাল কুঁচকে। অধ্যক্ষ সাহেব তাতে মোটেও ভড়কালেন না। যেচে এসে বসলেন এলোমেলো বিছানায়। হাসিমুখে বিনয়ী হয়ে বললেন,
– তোমার নাকি হাত ভেঙেছে? তাই দেখতে এলাম। এগুলো রাখো।
এ পর্যায়ে চিবুক শক্ত করে ফেললো সোভাম। অধ্যক্ষ সাহেব এতোদিন পর ঠিক কেনো এসেছেন তা বুঝতে বাকি রইলো না। ক্ষমতা থাকলে তেলপট্টি দেওয়ার লোকের অভাব থাকে না। অথচ একটানা দুদিন হস্পিটালে ভর্তি থাকাকালীন কলেজ থেকে একটা কাক পক্ষীও যায় না। অধ্যক্ষের দিকে না তাকিয়ে সোভাম জানালায় দৃষ্টি পাত করলো। গমগমে স্বরে বলে উঠলো,
– হাত ঠিক হয়ে গেছে। আর আমিও এখন সুস্থ। কষ্ট করে এই শীতের সকালে আসার প্রয়োজন ছিলো না,স্যার।
অধ্যক্ষ খানিকটা লজ্জায় পড়লেন। জিভে কামড় দিয়ে দুপাশে মাথা ঝুলিয়ে হাসলেন। বললেন,
-আমি আসলে জানতাম না।
কে এসেছে তা দেখতে রান্নাঘর থেকে উঁকি দিলো। একহাতে নরম আটা এবং অন্যহাতে বেলুন। ভদ্রলোকের কথা শুনে টিপ্পনী কেটে বললো,
-এখন কিভাবে জানলেন? শামসুল সরদার বলেছে?
সোভাম চোখ রাঙালো তাকে। পরপর’ই বসতে বলে এগিয়ে গেলো চা আনতে। ফিরে আসতেই অধ্যক্ষ সাহেব আহ্লাদী কন্ঠে বললেন,
– তুমি বরং একমাস ছুটি নাও। শরীর ঠিক হোক, তারপর কলেজে যেও।
তৎক্ষণাৎ আপত্তি করলো সোভাম। ভরাট গলায় বললো,
– আমি এখন সম্পুর্ন সুস্থ স্যার৷ ভাবছি কাল থেকেই কলেজে যাবো।
– বাবার এতো বড় বাড়ি থাকতে বাসা ভাড়া করে কেনো থাকো? এক্সট্রা খরচ!
সোভাম চিবুক শক্ত করে ফেললো। চাপা রাগ দেখিয়ে চিবিয়ে বললো,
– আমার এক্সট্রা খরচ করতে ভাল্লাগে স্যার। বাড়ি থাকলে ভাড়া বাসায় থাকা যাবে না, এমন কোনো নিয়ম আছে?
আবারো জিভ কাটলেন অধ্যক্ষ। ভেতরে ভেতরে সম্পর্কের যে কিছু অবনতি হয়েছে তা সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত। বাবা-ছেলের মধ্যে মনোমালিন্য হতেই পারে। তবুও তার জানার আগ্রহ একটু বেশিই। কিন্তু সোভাম যে কিছুই বলছে না। হেঁসে দিয়ে বললেন,
– না না। থাকাই যায়।
সোভামের ফ্লাটের দরজা হা করে খোলা। ফলস্বরূপ, খুব একটা অনুমতি নিতে হলো না সোনালীকে। হাস্যজ্জ্বল মুখে মেঝো ছেলে রুহানকে নিয়ে প্রবেশ করলো ঘরে। তার হাতে এবং রুহানের হাতে ব্যাগ। ভেতরে ঢুকে অধ্যক্ষ নামক এক মোটাতাজা ভদ্রলোক কে দেখে অসস্তিতে পড়লেন। ব্যাগ হাতে সোজা ঢুকে পড়লেন রান্নাঘরে। চির পরিচিত মানুষের মতো কপাল কুঁচকে স্পর্শীকে জিজ্ঞেস করলেন,
– এ আবার কে? কতক্ষণ বসে থাকবে।
স্পর্শীয়া থতমত খেয়ে গেলো। ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,
-উনি ভাইয়ার কলেজের অধ্যক্ষ। দেখতে এসেছেন।
– যাবে কখন?
স্পর্শীয়া অবাক হতে গিয়েও ভুলে গেলো। আচমকা এমন প্রশ্ন ঠোঁট টিপে হাসলো। রুহান ব্যাগ রেখে অধ্যক্ষের সামনে দাঁড়ালো। বয়সে স্পর্শীর থেকে প্রায় নয় মাসের ছোটো। তবুও এই মেয়েকে আপু বলতে ঘোর আপত্তি তার। সোনালী সারা রাস্তা শিখিয়ে এসেছেন সোভাম-স্পর্শীকে ভাইয়া এবং আপু বলে সম্বোধন করতে। কিন্তু রুহানের দ্বারা তা সম্ভব নয়। সে কিছুতেই ওই নয় মাসের বড় একটা মেয়েকে আপু ডাকতে পারবে না। প্রয়োজনে বদল করে সোভামকে দুইবার ভাইয়া ডাকবে, তাও না।
রুহানকে কে না চেনে? অধ্যক্ষও ফট করে চিনে ফেললেন। হেঁসে জিজ্ঞেস করলেন,
– কি অবস্থা কতদুর?
– এইতো স্যার। আপনার হয়ে গেলে আমাদের টা শুরু করবো। মানে কথাপোকোথন!
ভড়কে গেলেন অধ্যক্ষ। বললেন,
-হ্যাঁ হ্যাঁ হয়ে গেছে। সোভাম ভালো থেকো তাহলে। আজ নাহয় আসি। আবার দেখতে আসবো।
সোভামের খুব করে বলতে ইচ্ছে করলো, – আর আসবেন না। বাকি দেখাটূকু কলেজে বসেই হবে। ‘ কিন্তু পারলো না। সে অত্যন্ত ভদ্র বলেই।
বস্তুত এই অংশ টুকু রান্নাঘর নয়, রুমেরই। আলাদা জায়গা নেই বলেই একটু পর্দা টেনে আড়াল করা হয়েছে। টেবিলের উপর স্টিলের একটা গামলা। তাতে নরম হয়ে যাওয়া আটায় বারংবার আটা মেশাচ্ছে স্পর্শী। আজকে এতো পানি কি করে হয়ে গেলো ভেবে পায় না। সোনালী পরোটার জন্য গোলা আটার খামি দেখে হেসে ফেললো। স্পর্শীর হাত ধরে টেনে এদিকে আনলো। তারপর ব্যাগ থেকে বক্স গুলো বের করতে করতে বললো,
-আপনারা তো বাড়ি যাবেন না। আর সামনে বসিয়ে খাওয়ানোর শখটাও আমার মিটবে না। তাই নিয়ে এলাম।
একে একে বাটির মুখ গুলো খুলতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো স্পর্শীর। হরেক রকম পিঠা! হাসের মাংস, রুটি পিঠা, চিতই পিঠা, দুধ চিতই, ছিটা রুটি, রাজ হাসের মাংস, আর গরুর মাংস। এতো কিছু! স্পর্শী ফ্যালফ্যাল করে ভাইয়ের দিকে চাইলো। সোভাম কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। সোনালী এতক্ষণে পাটি বিছিয়ে নিজেই থালা এনে বসলেন। স্পর্শীকে পাটিতে বসিয়ে সোভামকে টেনে আনলেন। বললেন,
– বসো, আমি বেড়ে খাওয়াবো। তারপর যাবো।
রুহান স্বেচ্ছায় স্পর্শীর থেকে কিছুটা দূরত্ব নিয়ে বসলো। সোভামের উদ্দেশ্যে হেঁসে বললো,
– ব্রো! করুণা করে বাড়ি গেলে আমাদের ভাগেও কিছু জুটতো।
ধমক মারলেন সোনালী। বললেন,
– কি সব ছাইপাঁশ ডাকছিস। ভাইজান বল।
থতমত খেয়ে গেলো রুহান। আমতা-আমতা করে বললো,
– ভাইয়া, ভাইয়া চলবে? প্লিজ ভাইজান বলতে বলিও না।
সোভাম এখনো বসে নি। ভেতরটা কেমন করছে। আমতা-আমতা করে অন্যদিকে তাকিয়ে বললো,
– আন্টি, এসবের কি দরকার ছিলো? নিয়ে যান এগুলো।
সাথে তাল মেলালো স্পর্শী। বললো,
– আমি বানাতে পারি এগুলো। কষ্ট করে আনতে গেলেন কেনো?
গায়ে মাখলো না সোনালী। বললো,
– সে তো পরোটার খামি দেখেই বুঝে গেছি।
স্পর্শীয়া মলিন দৃষ্টিতে রান্নাঘরের দিকে চাইলো। বললো,
– আমি আসলেই পারি। আজকে একটু পানি বেশি হয়ে গেছে।
সোনালী সোভামের দিকে তাকালেন। ছেলেটাকে টেনে এনেও বসানো যায় নি। তার ভীষণ খারাপ লাগলো। এতো জেদ এইটুকু ছেলের। অভিমান মিশ্রিত কন্ঠে বললেন,
– আগে তো সোনামা বলেই ডাকতে। এখন এসব আন্টি নাহয় নাইই বললে। আর ঝামেলা তো বাবা-মায়ের মধ্যে। চাচি কি দোষ করলো। নাকি আমার হাতের রান্না খাওয়া যাবে না?
স্পর্শী অসহায় দৃষ্টিতে সোনালীর দিকে চাইলো। মানুষ টা খুব আদুরে। এতো কষ্ট করে, এতোপদ রান্না করে এনেছে। না আনলেও বা কি হতো? ভাশুরের ছেলে-মেয়ে খেয়ে থাক বা না খেয়ে, তাতে তার কিইবা এসে যায়। তবুও এসেছে তো। নিশ্চয়ই ভালোবেসেই এতো রান্না করেছে। ফিরিয়ে দিলো বেমালা কষ্ট পাবে। ভেবে রুটি ছিড়ে গরুর মাংস দিয়ে মুখে পুড়লো। সোনালী উচ্ছ্বসিত দৃষ্টিতে তাকালো। আনন্দ প্রকাশ করার পূর্বেই বেজে উঠলো কল। রিহানের স্ত্রী কল করেছে। চিন্তিত হয়ে রিসিভড করতেই ওপাশ থেকে ধরা গলায় বললো,
– মা, আর্শিয়া কে তো আমজাদ শিকদার এসে নিয়ে গেছে।
আর্তনাদ করে উঠলেন সোনালী। বললেন,
– সে কি! তুমি কিছু বললে না? ওকে যেতে দিলে কেনো?
– অনেক বলেছি, কিন্তু মেয়েটা তো কথাই শুনলো না। বাড়িতে শুধু আমি। বললো বেড়াতে যাচ্ছি, এরপর সোজা চলে গেলো। আমার কথা শোনার প্রয়োজনও করলো না।
ঝামেলা! একের পর এক ঝামেলা। না জানি শামসুল সরদার একথা শোনার পর তুলকালাম কান্ড বাঁধান। দ্রুত উঠে দাঁড়ালো সোনালী। সোভামের দিকে তাকিয়ে অভিমান জড়িত গলায় বললো,
– ইচ্ছে হলে খেও, না হলে ফেলে দিও।
– আমি এখনো ব্রাশ করি নি, সোনামা।
সোভামের আওয়াজ ভাঙা। যেনো এটুকু বলতে কয়েকবার অসস্তিতে পড়ে গেছে সে। সোনালীর চিত্ত জুড়ালো। তবে বসতে পারলো না এক মুহুর্ত ও। দ্রুত বেরিয়ে পড়লো ছেলেকে নিয়ে।
সোভামের ফ্লাট তিনতলায়। বিল্ডিং টা ঠিক শিকদার ক্লাবের সম্মুখে। যেতে- আসতে গাড়ি পার্ক করলে তা দেখা যায় বেলকোনি থেকে। বলতে গেলে ওই ক্লাবে প্রতিদিন কারা ঢোকে, বের হয় সব নজরদারি করা যায় এখান থেকে। সোভাম বাইরে বেরিয়েছে খানিকক্ষণ আগে। মন টা খচখচ করছে তার। কি হয়েছে জানার বড্ড আগ্রহ। সে বাড়িতে না গেলেও কোনো না কোনো ভাবে জেনে যাবে ঘটনা। তাই স্পর্শীর অগোচরেই কাজ আছে বলে বেরিয়ে পড়েছে। অতোসতো মাথা ঘামায়নি স্পর্শী নিজেও। আজকের স্বপ্ন নিয়ে ভারী চিন্তা তার। থেমে থেমে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কেনো দেখলো, কি দেখলো – এসব নিয়ে ভাবনার অন্ত নেই।
বেলকনিতে সূর্যের তীর্যক আলো পড়েছে। গায়ে ওড়না পেঁচিয়ে চেয়ারটা নিয়ে এগিয়ে গেলো স্পর্শী। বসলো আয়েষ করে। খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর নজরে এলো পরশ শিকদারের গাড়ি। ক্লাবের সামনেই পার্ক করা। পাশেই কয়েকটা ছেলের সাথে আলাপে ব্যস্ত। গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে মাথা ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে সায় দিচ্ছে পাভেল। স্পর্শী পুণরায় স্বপ্নে ডুবে গেলো।
সেদিন মোবাইলে ওমন অপমানের পর মোটেই স্থান ত্যাগ করে নি সে। বসে ছিলো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে। একে একে শামসুল সরদার, সোভাম সরদার সহ তার গোষ্ঠীর চাচা-চাচী সবাই এসেছে গাড়ি নিয়ে। অনুরোধের সুরে বলেছে,
– চলো, আমরা তোমায় পৌঁছে দেই, তবুও আর অপেক্ষা করিও না।
কিন্তু স্পর্শী তো স্পর্শীই। আঠার মতো চিপকে বসে ছিলো। পরশ শিকদারের সাহস কিভাবে হয়, তাকে এতোসব বলার? এবারে যতক্ষণ না পর্যন্ত সে আসবে স্পর্শী এক পা ও নড়বে না। মাসের পর মাস কেটে গেলো। পুলিশ, আর্মি, পরশ শিকদারের বাপ, পাভেল সবাই গাড়ি নিয়ে তাকে সাধছে বাড়ি পৌছে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তবুও স্পর্শী যাবে না।
অবশেষে এলো সেই পাষাণ পুরুষ। গাড়ি নিয়ে ক্লান্ত ভঙ্গিতে স্পর্শীর সামনে দাঁড়িয়ে বললো,
– সব আমার ভুল। তুমি চলো, আমি নিয়ে যাবো তোমায়।
কিন্তু এই কথাটুকুতেই কি রাগ কমে যাবে স্পর্শীর? মোটেও না। নিজের জেদের সর্বোচ্চ চুড়ায় গিয়ে বললো,
– যাবো, এক শর্তে। আপনি আমায় রিকশা চালিয়ে নিয়ে যাবেন। নাহলে যাবো না।
অতঃপর…. পরশ শিকদার মানলো। মাথায় গামছা পেচিয়ে সে উঠলো রিকশায়। আর স্পর্শী পেছনে বসলো। এরপর চালাতে চালাতে নিয়ে গেলো শিকদার বাড়ি।
উহু! স্বপ্নে তো বেজায় একটা ভুল হয়ে গেছে। তাকে তো সরদার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু পরশ শিকদার তো ভুল করে শিকদার বাড়ি নিয়ে গেলো। গন্তব্য ভুল! অতএব আজ রাতের স্বপ্নে আবারো তার রিকশায় উঠতে হবে।
স্বপ্নের কথা ভাবতে ভাবতে স্পর্শী ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেললো। কতটা আজগুবি কল্পনা! কিন্তু এরই মধ্যে ঘটে গেলো অঘটন। একটানা পাঁচ মিনিট পরশ শিকদারের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসছিলো স্পর্শীয়া, তা আড়াল হয়নি পরশের দৃষ্টি থেকে। সে সহ পাভেল এবং অন্য ছেলেরা হতভম্ব হয়ে চেয়ে রইলো। ওভাবে হাসতে দেখে শ্বাস নিতে ভুলে গেলো পরশ। পাভেলের দিকে এক পলক তাকিয়ে অনুমানের স্বরে বললো,
– ওর কি মাথায় সমস্যা আছে?
বাকহারা পাভেল হতভম্ব দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো স্পর্শীর দিকে। সাথে সাথে ফোন বের করে কল দিয়ে বললো,
রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৭
– আস্তাগফিরুল্লাহ চড়ুই! তুই আমার বড় ভাইয়ের দিকে ওমন বখাটে নজরে চেয়ে আছিস কেনো?
পাভেলের কন্ঠস্বর শুনতেই ভড়কে গেলো স্পর্শী। সম্বিত ফিরে পেয়ে দেখলো তাকে দেখছে পরশ সহ সবাই। এভাবে তাকিয়ে তাকিয়ে স্বপ্নের কথা ভাবছিলো, আর হাসছিলো — না জানি তারা কতকিছু ভুল-ভাল ভাবনা ভেবে বসে আছে। লজ্জায় আর বেলকনিতে দাঁড়াতে পারলো না সে। ছুটে এসে ধড়াম করে লাগিয়ে দিলো রুমের দরজা। আহাম্মক হয়ে গেলো পরশ। দ্রুত ক্লাবের মধ্যে ঢুকতে লাগলো। সুজন মশকরা করে বললো,
– মেয়ের হাসি তো সুবিধার না। মনে হইলো ভাইয়ের প্রেমে পড়ছে। এইটা হইলে মন্দ হয় না। শামসুল সরদারের মেয়ে শিকদারের প্রেমে। একদম তেইশ বছর আগের ঘটনার পুণরাবৃত্তি!
