Home রাজনীতির রংমহল ৩ রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৯

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৯

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৯
সিমরান মিমি

মধ্যাহ্ন ভোজের সূচনা মাত্র। ঘড়ির কাঁটা তখন দুইটার ঘরে। শিকদার মঞ্জিলের রান্নাঘর থেকে প্লেট-চামচের টুংটাং আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। পিয়াশা শিকদার তার হেল্পিং হ্যান্ডের সহায়তা নিয়ে খাবার গুলো টেবিলে এনে রাখছেন। মুখে তৃপ্তির হাঁসি। ডাইনিং টেবিলে ইতোমধ্যে বাড়ির লোকেরা চলে এসেছে। শিকদার বাড়িতে লোক বলতে মাত্র পাঁচজন। তিন ছেলে-মেয়ে এবং পিপাশা-আমজাদ। পরশ, পাভেল, আমজাদ খেতে আসলেও এখনো আসে নি প্রেমা। আর্শিকে নিয়ে নিজের ঘরেই অবস্থান করছে সে। পিয়াশা হাঁক ছেড়ে তাকে ডাকলো। বললো,

– কিরে, অনেক তো হলো। এবার মেয়েটাকে নিয়ে খেতে আয়।
আর্শিয়া চমকালো। এমন অচেনা,অজানা পরিবেশে অপরিচিত মানুষ গুলোর সাথে বসে খেতে হবে ভাবতেই জড়তায় আড়ষ্ট হয়ে বসে রইলো। সে তো নিজ বাড়িতেও প্রায়শই একা একা খেয়েছে। কখনো সবার আগে, তো কখনো সকলের পরে। আবার কখনো কখনো নিজের রুমে প্লেট নিয়ে এসেও খেয়েছে। এসব সামাজিকতায় বড্ড অসস্তি হয় তার। প্রেমা তার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ফুলালো। সেই সকাল থেকে যে – চে পড়ে সহজ হওয়ার চেষ্টা করছে। কথা বলছে, দুষ্টুমি করছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। আর্শি পূর্বের মতোই নির্বিকার। যেনো ঝোঁকের বশে এ বাড়িতে এসে পড়ে ফেঁসে গেছে। কিছুক্ষণ পর পর ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছে আশেপাশে। কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলেও হু, হা বলে সংক্ষেপে উত্তর দিচ্ছে। প্রেমা কোমড়ে বেধে দাঁড়ালো। বললো,

– আরে তুমি এমন করছো কেনো? সবাই মামাবাড়িতে এলে কত মজা করে! চলো, খেতে চলো। নাহলে আম্মু আবার বকবে।
হাত ধরে টেনে আর্শিকে রুমের বাইরে আনলো। সে বাঁধা দিলো না। থেমে থেমে পা বাড়ালো সিঁড়ির দিকে। ডাইনিং এ পরশ শিকদার, পাভেল শিকদার এবং আমজাদ কে দেখে হাসফাস করে উঠলো। প্রেমার হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বললো,
– হাত ছাড়ো, আমি একাই যাচ্ছি।
প্রেমা চোখ তুলে তাকালো পেছনে। কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। হাত ছেড়ে দিয়ে মৃদু হেসে বলে ওঠে,
– ঠিক আছে, আসো।
পাভেল ঘাড় ঘুরিয়ে সিঁড়ির দিকে তাকালো। যেখানে প্রেমার পিছু পিছু নতমুখে নেমে আসছে আর্শিয়া। প্রতিটা কদম অনিচ্ছুক ভাবে এগিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে আসছে। তা দেখে মশকরা করে বললো,

– আরে, তুমি এভাবে কষ্ট করে সিঁড়ি গুণতে কেনো গেলে? আমাকে জিজ্ঞেস করলেই বলে দিতাম – আমাদের সিঁড়ি তেরোটা।
আর্শিয়া চমকে পাভেলের পানে তাকায়। লোকটা পিশাচের মতো হাঁসছে। তা দেখে সে বেশ লজ্জা পেলো। পরক্ষণেই চোখ ফিরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে হেঁটে গিয়ে বসলো চেয়ারে। এই মেয়ে পাভেলকে অপমান করলো? এতো সুন্দর মশকরা করার পরেও একটা কথা বললো না। এমনকি হাঁসি, রাগ কোনো রিয়াকশনই দেখালো না। যেনো এখানে পাভেলের অস্তিত্ব ই নেই। থাকলেও তা সে গোণায় ধরে না।
খাওয়ার পুরোটা সময় বেশ আতিথেয়তার সাথে আদুরে ভঙ্গিতে আর্শিয়াকে বেড়ে খাওয়ালো পিয়াশা এবং আমজাদ। বস্তুত নিজের পাশেই বসিয়েছে ভাগনীকে। তবে টু শব্দটাও করেনি আর্শি। চুপচাপ মাথা নাড়িয়ে খেতে রইলো। এক পর্যায়ে পরশ কথা বলে উঠলো। শান্ত কন্ঠে আর্শির দিকে তাকিয়ে বললো,

– তোমার কি কোনো অসস্তি হচ্ছে? নাকি বাবার কথা ভেবে ভয় লাগছে।
আর্শি গুমরে উঠলো। নুয়ে যাওয়া কন্ঠে বললো,
– নাহ! কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
– বেশ! যতদিন মন চায় এখানে থাকো। কাল থেকে প্রেমার সাথেই কলেজে যাবে, আসবে। এর আগে কখনো আসোনি তো, তাই এমন অসস্তি। দুটো দিন থাকো, জড়তা কাটুক, এরপর আর যেতে ইচ্ছে করবে না।
আর্শি ধীরস্থির হয়ে মাথা নাড়ালো। ছোট্ট করে বললো,
– জ্বী!

দুপুরের খাওয়া শেষে রুমে যায় নি প্রেমা। সে এখন সোফায় বসে বসে বিশ্রাম নেবে। ছোটো বোনকে জ্বালাতে পাভেল নিজেও বসে পড়লো পাশে। এখানে উপস্থিত নেই আর্শি। খাওয়া শেষে চলে গেছে প্রেমার রুমে। এক পর্যায়ে বোনের মাথায় টোকা মারলো পাভেল। রসিয়ে রসিয়ে রাগিয়ে দেওয়ার জন্য বলে উঠলো,
– আর্শি কিন্তু তোর বয়সীই। অথচ দেখ, মেয়েটা কত ভদ্র। দোলনা নড়ে, তাও ও নড়ে না। আমার মুখের উপর কথা তো দূর, টু শব্দটাও করে না। বড্ড ভয় পায় তো। কিন্তু তুই তো বেয়াদব।
কথাগুলো যখন বলছিলো তখন আর্শির অবস্থান পাভেলের ঠিক পেছনে ছিলো। সে শুনেছে পুরোটা। মস্তিষ্কে চাপ ফেলেছে কথাগুলো। সে ভয় পায় এই লোকটাকে? কতটা গর্বের সাথে বলছে। বেশ আত্মসম্মানে লাগলো আর্শির। পাভেলের গর্বকে তৎক্ষণাৎ চুরমার করে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,
– আমি আপনাকে ভয় পাই, একথা কে বললো?
চমকে চোখের আকার বড় হয়ে যায়। কপালে সুক্ষ্ম ভাঁজ পড়ে পাভেলের। থতমত খেয়ে ঘুরে তাকায় পেছনে আর্শির দিকে। তার মুখ এখনো গম্ভীর। পাভেল মিনমিনে স্বরে বললো,

– ভয়’ই তো পাও। নাহলে তো কথা বলতে আমার সাথে।
আর্শি মৃদু হাসলো। বললো,
– কারো সাথে কথা না বললেই তাকে ভয় পেতে হবে? এমনো তো হতে পারে — আমি তাকে অপছন্দ করি বলেই কথা বলছি না।
টনক নড়ে উঠলো পাভেলের। চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে আশ্চর্যের সুরে বললো,
– তুমি আমায় অপছন্দ করো? কিন্ত কেনো? সেদিন তো আমি তোমায় কত সাহায্য করলাম।
আর্শি ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো। বললো,
– কি সাহায্য করেছেন?
পাভেল সময় নেয় না। তড়িৎ গতিতে কিছু না ভেবেই বলে ওঠে,
– এই যে তোমায় কোলে নিয়ে হস্পিটালে ভর্তি করেছিলাম।
চোয়াল শক্ত করে ফেললো আর্শি। একটা সাবালক মেয়েকে কোলে নিয়ে, গর্ব করে তা বলে বেড়াচ্ছে। নির্লজ্জ! রুক্ষস্বরে বলে উঠলো,
– কে বলেছিলো নিতে?
হতবাক, হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে রইলো পাভেল। অবাকে চোখের পলক পড়ছে। খানিকক্ষণ পর আশ্চর্যের রেশ কাটিয়ে বলে উঠলো,

– কতটা অকৃতজ্ঞ তুমি! ঠিক তোমার বোনেরই মতো।
এতোক্ষণের কথাপোকোথন মন্দ লাগছিলো না আর্শির। অদৃশ্য এক ইচ্ছে বেঁধেছিলো মনে। হুট করেই কথা বলতে ইচ্ছে করছিলো পাভেলের সাথে। দুরুদুরু বুক নিয়ে ড্রয়িংরুমে বসে থাকা দুই ভাই-বোনের খুনশুটি দেখে এগিয়েও এসেছিলো। অদ্ভুত ভাবে যেচে পড়ে ঝগড়ার নামে কথাও এগোচ্ছিলো। কিন্তু এখন কি ঘটলো? পুরো অনুভূতিতে মুহুর্তেই বিষ ঢেলে দিলো পাভেল শিকদার। তেতো হয়ে উঠলো আর্শির মুখ। বুকের ভেতরটা জ্বলে উঠলো। মুহুর্তে ’ই ক্ষুদ্ধ পায়ে এগিয়ে যায় সিঁড়ির দিকে। যাওয়ার পূর্বে চোখ দিয়ে পাভেলকে ভস্ম করে বলে ওঠে,
– আমার কোনো বোন নেই। আমি একা! দ্বিতীয়বার আর এ ধরণের কোনো কথা বলবেন না। খবরদার!

আর্শি রেগেমেগে প্রস্থান করার পরপরই ঘরে এসেছে পাভেল। স্পর্শীয়ার কথা মাথায় এসেছে। তার সাথে কথা বলা প্রয়োজন। সকালের ঘটা ঘটনার ব্যাপারে জানা প্রয়োজন। তখন তো মুখের উপর ফোন কেটে দিলো। জিজ্ঞেস করাই হলো না কিছু। বিছানায় সোজা হয়ে শুয়ে ফোন হাতে নিয়ে কল লাগালো স্পর্শীর নাম্বারে। পর পর তিন বার কল কাটার পরেও দমলো না পাভেল। আবারো লাগালো কল। রিসিভড হলো। সাথে সাথেই ওপাশ থেকে ঝাঁঝালো কন্ঠস্বরে স্পর্শীয়া বললো,
– তোকে না বলেছি, আমায় কল দিবি না। তাও কেনো নির্লজ্জের মতো জ্বালাচ্ছিস?
পাভেল বিরক্ত হলো। বললো,
– আহা! বলেছি তো সরি! ফোনটা সোফার উপর ছিলো। ভাইয়া তোর নাম দেখে রিসিভড করে ফেলেছে। তোর সাথে কথা বললে রাগ করে ও। প্লিজ মন খারাপ করিস না চড়ুই। ও যা বলেছে ভুলে যা।
স্পর্শীর রাগ হলো। কই, সে তো কারো কথা শুনে পাভেলের সাথে কথা বন্ধ করে নি। রাগী কন্ঠে বললো,

– ওহহ! বেশ তো। ভাইয়ের চামচা, তোর ভাইয়ের কথাই শোন। আমায় আর কল দিবি না।
– তুই কিন্তু কথা ঘুরাচ্ছিস।
থমকে গেলো স্পর্শী। চুপ হয়ে শুনতে লাগলো ওপাশের কথা। পাভেল কৌতূহলী কন্ঠে বললো —
– তখন ভাইয়ার দিকে ওভাবে তাকিয়ে ছিলি কেনো?
সম্পূর্ণ ভাবে দ্বিমত করলো স্পর্শীয়া। কিছু না জানার ভান ধরে বলে উঠলো,
– আজব! আমি কেনো তোর ভাইয়ের দিকে তাকাতে যাবো? ফালতু কথাবার্তা!
– তুই তাকিয়েছিস। আমি নিজে দেখেছি। হাঁসছিলিও তখন।
স্পর্শী রেগে যাওয়ার ভান ধরে শক্ত কন্ঠে বললো,
– বললাম না তাকাইনি।
– তুই তাকিয়েছিস।
– বেশ তো! হ্যাঁ তাকিয়েছি। তো?
হতভম্ব হয়ে গেলো পাভেল। বললো,

– তুই কেনো আমার ভাইয়ের দিকে ওভাবে তাকাতে যাবি?
স্পর্শী ক্ষেপে গেলো। সামান্য একটা বিষয় নিয়ে এতোটা জবাবদিহিতা। তার রাগ হলো। ক্ষ্যাপাটে স্বরে বললো,
– তাকাবো, একশোবার তাকাবো। আমার চোখ, আমার হাঁসি। তোর বাপের কি?
পাভেল আহত হলো। সে কিছুতেই মানতে পারছে না। বুকের বা পাশ টা চিনচিন করে ব্যথা হচ্ছে। স্পর্শী কেনো পরশ ভাইয়ের দিকে তাকাবে, তাও সে থাকতে। কিন্তু এই অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারলো না। মেজাজ হারিয়ে বললো,
– তোর যার ইচ্ছে তার দিকে তাকা। তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু আমার ভাইয়ের দিকে একদম তাকাবি না।
– একশোবার তাকাবো। আমার চোখের সামনে যে থাকবে তাকে দেখে হাসবো। তোর এতো সমস্যা হলে ভাইকে বোরকা পড়িয়ে রাখিস। আর খবরদার! আমাকে আর কক্ষনো ফোন করবি না। তোর সাথে যাবতীয় সম্পর্ক এখানেই শেষ।
পাভেল আফসোস করে উঠলো। সে কি রাগিয়ে দিয়েছে স্পর্শীকে। তার কি এসব নিয়ে কথা বলা উচিত ছিলো না। নাকি সময়টা ভুল, স্পর্শীর মেজাজ খারাপ। কিন্তু যতই রেগে যাক, তাই বলে এসব বলবে। একবারও মুখে বাঁধছে না? সে আহত স্বরে চাপা আর্তনাদ করে বলে উঠলো,

– এতোটাই ঠুনকো আমাদের সম্পর্ক?
প্রশ্নটা স্পর্শীকে আরো ভাবিয়ে তুললো। মেজাজ খারাপ করে দিলো মুহুর্তেই। সে জানে পাভেল তার প্রতি দূর্বল। কিন্তু এ বিষয় নিয়ে আরো আগেই খোলামেলা কথা বলেছে। সে স্রেফ বন্ধু তার কাছে। এমনকি পাভেল নিজেও জানিয়েছে স্পর্শীর প্রতি তার ভিন্ন কোনো অনুভূতি নেই। শুধুই বেস্ট ফ্রেন্ড। কিন্তু তারপরেও এসব ছোটোখাটো বিষয়ে কেনো জবাবদিহিতা চাইবে সে? এই হুটহাট রিয়াকশন গুলো স্পর্শীকে রাগিয়ে দেয়। মস্তিষ্ক বলে, এখনই সম্পর্ক ছিন্ন কর, অনুভূতি গাঢ় হওয়ার পূর্বেই। স্পর্শী ভেবে পায় না, আর কিভাবে বুঝাবে পাভেল কে? সেই পরিস্থিতি টুকু কি রেখেছে ও। এখন আবার সম্পর্কের ব্যাপারে দোহাই দিচ্ছে। নিজেকে সামলাতে পারলো না স্পর্শী। চেঁচিয়ে উঠলো সহসা। বললো,

– তোর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু বন্ধুত্ব! আর তার বিস্তারও এতোটুকু। আমি তোর প্রেমিকা নই যে সারাক্ষণ জবাবদিহিতা চাইবি। কাকে আমার ভালো লাগলো, কার দিকে তাকিয়ে থাকলাম, কার দিকে চেয়ে হাসলাম — এসব প্রশ্ন করে আমাকে শাসানোর কোনো অধিকার তোর নেই। বুঝেছিস?
কেটে দিলো ফোন। সহসা ছুঁড়ে মারলো বিছানার উপরে। সোভাম ঘরে উপস্থিত নেই। নাহলে এই চিৎকার – চেঁচামেচির জন্য আবারো জবাবদিহি করতে হতো তাকে। নাহ! আর পারা যাচ্ছে না। পাভেল তাকে ভাবে টা কি? ও ছাড়া আর কোনো ছেলে বন্ধু বানায়নি বলে, ওকে ভালোবাসতে হবে। আশ্চর্য! অতি শীঘ্রই এই সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। নাহলে শেষে পস্তাবে স্পর্শীয়া।

পাভেল উদাসচিত্তে বসে আছে ছাদে। হাতে সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরো। ক্ষণে ক্ষণে সুখটান দিচ্ছে তাতে। আদৌ কি সুখ নাকি বিষাদ? রাত প্রায় দেড়টা। অথচ সে রাতে খায় নি পর্যন্ত। পরশ খুঁজছে তাকে। মেজাজ ভালো নেই তার। পাভেলের উপর বেজায় ক্ষেপে আছে। সামনে পেলে এক্ষুণি দু গালে দুটো চড় বসাবে। রাতে খাচ্ছিলো না বলে পিয়াশা জোর করেছিলো। কিন্তু তা আমলে নেয় নি পাভেল। বরং মায়ের সাথে উচ্চস্বরে রেগে, চেঁচিয়ে কথা বলেছে। আর এই ঘটনাটুকুই আরো বিস্তর বর্ননা দিয়ে বড় ভাইয়ের কানে তুলেছে প্রেমা।
– সমস্যা কি তোর?
বড় ভাইয়ের গলার আওয়াজ পেতেই চমকে পেছনে তাকালো পাভেল। দ্রুত ফেলে দিলো সিগারেট। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মাথা নত করে তাকালো পায়ের দিকে। তার চুলগুলো উস্কোখুস্কো। পরশ থমকালো। সন্দেহের জের ধরে জিজ্ঞেস করলো,

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১৮

– কি হয়েছে?
পাভেল দ্রুত নিজের বিষাদ ঢেকে মলিন হাসলো। এরপর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ভাইয়ের দিকে। স্পর্শীয়া, পরশ শিকদারকে পছন্দ করে, এই ভ্রান্ত ধারণা টুকু গেঁথে গেছে মাথায়। তাও খুব দৃঢ়তার সাথে। সে ভাইয়ের দিকে চাইলো। তাকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে ভাবলো – কি এমন করেছে তার ভাই, যা সে বিগত ৩ বছরেও করতে পারে নি। সোভামকে মারা, স্পর্শীয়াকে থাপ্পড় মারার চেয়ে ইউনিক কিছু তো করেনি। তাহলে কি এমন রগচটা হওয়াই উচিত ছিলো পাভেলের? মেয়েরা কি এমন রাগী, গম্ভীর, কথায় কথায় গায়ে হাত তোলা ছেলেদেরই পছন্দ করে? আচমকাই আনমনে পরশের সামনে বলে উঠলো,
– ভদ্র, শান্ত ছেলেরা মেয়েদের নজরেই পড়ে না। সারাজীবন বেছেবুছে প্রেমে পড়ে গিয়ে বদমেজাজি,গম্ভীর, খিটখিটে লোকেদের।

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ২০