Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪১

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪১

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪১
মহাসিন

‎সকাল হয়ে গেছে। জানালা গলে রোদ এসে ঘরের মেঝেতে আছড়ে পড়ছে। বাইরে পাখিদের কিচিরমিচিরে চারপাশ মুখর হয়ে উঠেছে।
‎শাপলার ঘুম ভেঙে গেল। চোখ খুলেই দেখে, সিয়াম তাকে শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। নিঃশ্বাসের উষ্ণতা শাপলার গলায় লাগছে। আলতো করে নিজেকে সিয়ামের বাহু থেকে ছাড়িয়ে নিলো শাপলা। তারপর অপলক চোখে ঘুমন্ত সিয়ামের দিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলো। মনে মনে বিড়বিড় করল,
‎”এই মুখটা চোখে গেঁথে নেই। যদি কখনো হারিয়ে যায়, তাহলে যেন কল্পনাতেই তাকে ছুঁতে পারি।”
‎সিয়ামের এলোমেলো চুলে আঙুল বুলিয়ে দিলো। খুব লোভ হয় ঠোঁট দুটো ছুঁয়ে দিতে তার । লোভটা আর সামলাতে পারে না শাপলা। কাঁপা কাঁপা ঠোঁট ছোঁয়াল সিয়ামের ঠোঁটে। সাথে সাথেই নিজেকে ধমক দিলো শাপলা,
‎”এই শাপলা! তুই কি করলি? মাথা ঠিক আছে তোর?”
‎লজ্জা পেয়ে বিছানা থেকে নামতে যাবে, অমনি সিয়াম ঘুমের ঘোরেই শাপলার হাতটা শক্ত করে ধরে টান দিলো। এক নিমেষে শাপলা নিজের বুকের উপর আছড়ে ফেলল। শাপলা আঁতকে উঠলো। বুকের ভেতর দ্রিম দ্রিম করে বাজে হৃদপিণ্ডটা। সিয়াম এক চোখ খুলে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
‎”ঘুমন্ত স্বামীর সুযোগ নিচ্ছিস? ভেরি ব্যাড।”

‎”এখানে খারাপের কি আছে হ্যাঁ? আমি আমার স্বামীকেই তো কি*স করছি।”
‎সিয়াম তার নাকের সাথে নাক ঘষে বলল, “আমাকে না বলে কি*স করলি কেন? এখন আমিও করবো। অনুমতি নেবো না।”
‎বলেই শাপলার ঠোঁট দুটো নিজের দখলে নিয়ে নিলো। শাপলা ছ*টফট করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। লজ্জায় গাল লাল হয়ে গেছে। তারপর আস্তে আস্তে ওয়াশরুমের দিকে এগোতে লাগলো।
‎সিয়াম বিছানায় শুয়ে শুয়েই শাপলা কে উদ্দেশ্য করে গান গাইতে লাগলো,
‎”Roly poly laffy taffy
‎সোনা তোকে লাগছে heavy
‎পাছ আনা পাছ আনা
‎করিস না রে আর বাহানা”
‎শাপলা পেছন ফিরে মুখ ভেংচি দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা আটকে দিল। আর সিয়াম মিটমিট করে হাসতে লাগলো। এই মেয়েটার লজ্জা রাগ অভিমান সবকিছুই তার নেশা।
‎সায়েক আহমেদ মহুয়া আলো বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছুক্ষণ আগেই রওনা দিয়েছেন। নীলাঞ্জনা, কবিতা আর বিরাজ তিনজনে সোফায় বসে আছে। আরিফ আর নিরব অফিসে চলে গেছে। নীলাঞ্জনার চোখে মুখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ। মেয়েটা চোখের আড়াল হতেই বুকের ভেতরটা কেমন হু হু করে উঠছে। বিরাজ নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে হাসলো।

‎”আহা ভাবী, আপনি চিন্তা কইরেন না তো। আলো বিদেশে পড়াশোনা করবে, এটা ওর জন্যই ভালো। ওখানে উন্নতমানের পড়াশোনা , ওর ক্যারিয়ারটা সুন্দর হবে। আপনি আরিফ ভাই একদম ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
‎নীলাঞ্জনা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
‎”জানি। তবুও কেমন যেন লাগছে । মায়ের মন তো।”
‎কবিতা তার কাঁধে হাত রাখলো।
‎”আরে এত চিন্তার কিছু নেই ভাবী। মা বাবা তো আছেই ওর সাথে। আর ভিডিও কলে তো কথা বলতে পারবেন। যখন ইচ্ছা কথা বলতে পারবে।”
‎তারপর প্রসঙ্গ পাল্টে কবিতা চোখ ছোট করে বিরাজের দিকে তাকালো।
‎”তা ভাই, তুই প্রেম ট্রেম করিস নাকি?”
‎বিরাজ লজ্জা পেয়ে বলল,
‎”ধ্যাত!না!”
‎নীলাঞ্জনাও কবিতার সাথে তাল মেলালো।
‎”হ্যাঁ, বলো বলো। প্রেম করো নাকি সত্যি করে বলো তো?”
‎বিরাজ আমতা আমতা করে বলল, “আরে না, প্রেম করি না। তবে… একজনকে খুব পছন্দ হইছে।”
‎”ওহো!” কবিতা উত্তেজিত হয়ে সোজা হয়ে বসলো। “তাহলে পুরো কাহিনী খুলে বল। দেরি করিস না।”
‎বিরাজ গলা খাঁকারি দিয়ে বলতে শুরু করলো, “সেদিন আলোকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ একটা মেয়ে আমার গাড়িতে ধাক্কা খায়। গাড়ি থেকে নেমে মেয়েটাকে দেখেই… ভালো লেগে যায়। বেশ সুন্দর মেয়েটা।”

‎কবিতা ভ্রু নাচিয়ে বলল, “তা নাম্বার নিয়েছিস তো?”
‎বিরাজ পকেট থেকে ফোন বের করে হাসলো। “হুম, নিয়েছি।”
‎নীলাঞ্জনা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “মেয়েটার নাম কী?
‎”কলি।” বিরাজ বলল
‎নীলাঞ্জনা নামটা শুনে একটু ভ্রু কুঁচকালো। “কলি… নামটা যেন কোথায় শুনেছি। যাই হোক। মেয়েটাকে এখন কল দাও তো।
‎বিরাজ অবাক হয়ে বলল, “এখন?”
‎কবিতা ধমক দিয়ে বলল, “হ্যাঁ, এখনই কল দে। লজ্জা কিসের?”
‎বিরাজ আর কথা বাড়ালো না। “ঠিক আছে” বলে ফোনের স্ক্রিনে ‘আগুন সুন্দরী’ লেখা নাম্বারটায় কল দিলো।
‎দুইবার রিং হতেই ওপাশ থেকে মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এলো,
‎”হ্যালো?”
‎বিরাজ একটু নার্ভাস হয়ে বলল,
‎”কেমন আছেন?”
‎ওপাশ থেকে কলি হেসে বলল, “ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন, ফোকরা মশাই?”
‎’ফোকরা মশাই’ শুনেই নীলাঞ্জনা আর কবিতা মুখে হাত চেপে শব্দ না করে হাসতে লাগলো। লজ্জা পেয়ে বিরাজের কান পর্যন্ত লাল হয়ে গেল।

‎বিরাজ একটু গলা ঝেড়ে বলল, “ভালো আছি।”
‎নীলাঞ্জনা ফিসফিস করে বলল , “বাসা কোথায় জিজ্ঞেস করো।”
‎বিরাজ নীলাঞ্জনার কথা মতো কলি কে শুধালো, “আচ্ছা, আপনার বাসা কোথায়?”
‎ওপাশ থেকে কলির গলায় তীক্ষ্ণ ভাব, “আমার বাসা কোথায়, তা জেনে আপনার কাজ কী শুনি?”
‎বিরাজ একটু থতমত খেয়ে গেল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “অনেক কাজ আছে। বলতে বলছি, বলেন।”
‎কলি যেন বিরক্ত হলো। “আমি এখন আপনার সাথে কথা বলার মুডে নেই।” বলেই ফোনটা কেটে দিলো।
‎টুট…টুট… শব্দটা ড্রয়িংরুমে প্রতিধ্বনিত হতেই নীলাঞ্জনা বিরাজের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। “মেয়েটা তো একদম পাত্তাই দিলো না।”
‎কবিতা হাসতে হাসতে বিরাজের কাঁধে চাপড় দিলো। “তাতে কী হইছে? সুযোগ পেলেই কল দিবি। কথা বলতে বলতে ঠিক পটে যাবে। মেয়েরা প্রথমে একটু এমনই করে।”
‎বিরাজ লজ্জায় মাথা চুলকালো। মনে ভাবলো, ‘ফোকরা মশাই’ ট্যাগ নিয়ে পটানো কি অত সহজ?
‎কবিতার ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠলো। স্ক্রিনের দিকে একবার তাকিয়েই তার কল রিসিভ করে ড্রয়িংরুম থেকে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। হয়তো একটু প্রাইভেসি চাইছে।
‎নীলাঞ্জনা বিরাজের দিকে তাকালো। চোখে মুখে উৎকণ্ঠা।
‎”সিয়ামকে একটা কল দাও তো ভাই। কোথায় আছে, কী করছে… মনটা বড্ড অস্থির লাগছে।”
‎বিরাজ ফোন বের করলো। সিয়ামের নাম্বারে ডায়াল করে রিং হতেই নীলাঞ্জনার দিকে ফোনটা বাড়িয়ে দিলো।
‎নীলাঞ্জনা কাঁপা হাতে ফোনটা ধরলো। ওপাশ থেকে ভেসে এলো সিয়ামের গম্ভীর কণ্ঠ, “হ্যালো?”

‎”শাপলাকে পেয়েছো ?”
‎সিয়াম একটু থমকে গেল। “বিরাজ কোথায়? আর আপনি কে বলছেন?
‎নীলাঞ্জনা হাসলো। “আরে পাগল ছেলে, আমি নীলাঞ্জনা। তোর ভাবী।”
‎”ওহ, আচ্ছা। বুঝতে পারিনি। সরি ভাবী।”
‎নীলাঞ্জনা প্রসঙ্গে ফিরলো। গলাটা নরম করে বলল, “শাপলা কোথায়? ওকে কি পেয়েছো?”
‎”হ্যাঁ ভাবী, শাপলাকে পেয়েছি। ও আমার কাছেই আছে।”
‎নীলাঞ্জনার বুক থেকে যেন পাথর নেমে গেল। “যাক, ভালো হইছে। ওকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসো।”
‎সিয়াম ইতস্তত করে বলল, “কিন্তু ভাবী… বাবা মা তো আমাদের মেনে নেবে না। ওরা তো এখনো রেগে আছে।”
‎নীলাঞ্জনা তাকে আশ্বস্ত করলো। “আরে, ওসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। বাবা মা আর আলো তো বিদেশে চলে গেছে। যাওয়ার আগে তোমাদের কথাই বলে গেছে। তারা বলেছে তোমরা দুজন বাড়িতে চলে আসো। বাবা এখনো তোমাদের উপর রাগ করে আছে ঠিকই, তবে চিন্তা নেই। ওই রাগ বেশিদিন থাকবে না। খুব তাড়াতাড়ি চলে যাবে।”
‎”আচ্ছা ঠিক আছে ভাবী। আমি খুব তাড়াতাড়ি শাপলাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসবো।”
‎”শাপলার খেয়াল রেখো।”
‎ফোন কাটার পর ও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

‎এখন দুপুর বারোটা। রোদের তেজটা বেশ কড়া।
‎চুমকির মেসেজ পেয়ে নিরব অফিসের কাজ কোনোমতে শেষ করে ছুটে এসেছে। একটা কফিশপের কর্নারের টেবিলে বসে আছে সেই কখন থেকে। সামনে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এক কাপ কফি। চুমচুক দিয়ে খাচ্ছে আর বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। কাঁটাটা যেন নড়তেই চাইছে না।
‎হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল দরজার দিকে। একজন লোক ঢুকছে। লোকটার হাঁটার ভঙ্গি, গড়ন একদম কবিতার স্বামীর আদির মতো। নিরবের বুকটা ধক করে উঠলো। ও তাড়াতাড়ি চেয়ার ছেড়ে উঠে লোকটার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু পরমুহূর্তেই লোকটা ভিড়ের মধ্যে মিশে গেল। আর দেখা গেল না। নিরব থমকে দাঁড়িয়ে নিজেই নিজেকে বকলো,
‎”ধ্যাত! আমি কি পাগল হয়ে গেলাম নাকি? কবিতার স্বামী এখানে আসবে কীভাবে? সে তো বিদেশে।”
‎মাথা ঝাঁকিয়ে বিরক্তিটা ঝেড়ে ফেলতে চাইলো। তারপর ফোন বের করে চুমকির নাম্বারে কল দিলো।
‎ওপাশ থেকে ভেসে এলো, “হ্যালো?”
‎”তুমি কোথায় হ্যাঁ? সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি।”
‎”আমি এখনো সাজগোজ করছি। খুব তাড়াতাড়ি আসছি।”
‎”মানে কী? সেই কখন থেকে বসে আছি। আর তুমি এখনো সাজগোজ করো? এটা কোনো কথা হলো?”
‎”যদি এতই বিরক্ত বোধ করেন, তাহলে দেখা করতে হবে না। চলে যান।”
‎”আরে না। বিরক্ত হবো কেন? আসলে অফিস থেকে সোজা চলে আসছি তো, তাই আর কি… তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে।”

‎”আচ্ছা ঠিক আছে। আমি আসছি।”
‎বলেই কল কেটে দিলো।
‎নিরব ফোন রেখে আবার কফির কাপে চুমুক দিলো। সামনের চেয়ারটা ফাঁকা। ওই চেয়ারটার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো,
‎”আর কতক্ষণ, চুমকি? অপেক্ষা করতে করতে কফি শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
‎কফিশপের জানালা দিয়ে রোদ এসে পড়ছে তার উপর। আর নিরব শুধু অপেক্ষা করছে… সেই মেয়েটার….
‎হঠাৎ এমন সময় কফিশপে জেরিন ঢুকলো।
‎নিরবকে একা বসে থাকতে দেখেই তার চোখ চকচক করে উঠলো। এক সেকেন্ডও দেরি না করে সোজা এসে নিরবের সামনের চেয়ারটা টেনে বসে পড়লো।
‎নিরব অবাক হয়ে তাকালো। “আরে জেরিন! তুমি এখানে?”
‎জেরিন হাসলো। “কী অবস্থা? কেমন আছেন?”
‎”এই তো ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?”
‎”হ্যাঁ, ভালো আছি।” জেরিন টেবিলের উপর রাখা মেনুটা একবার ছুঁয়ে দিলো। “তা কার জন্য অপেক্ষা করছেন?”
‎”আরে না। কারো জন্য অপেক্ষা করছি না। এমনিই কফি খেতে এলাম।”
‎জেরিন ভ্রু নাচালো। “আচ্ছা? আপনি কি অফিস থেকে এখানে কফি খেতে এসেছেন?”
‎”হ্যাঁ।” নিরব মাথা চুলকালো।
‎”কীহ! অফিস থেকে কফি খেতে এসেছেন?আপনাদের অফিসে তো কফি আছেই। তাহলে এখানে কেন?”

‎নিরব আমতা আমতা করে বলল, “অফিসের কফি খেতে খেতে আর ভালো লাগছিলো না। তাই ভাবলাম এখানকার কফিটা টেস্ট করি।”
‎”আচ্ছা।” জেরিন উঠে দাঁড়ালো। “আমি তাহলে উঠি?”
‎নিরব অবাক হলো। “কেন? কফি খাবে না?”
‎জেরিন ঠোঁটে একটা রহস্যময় হাসি ঝুলালো। “না। আমার বান্ধবীরা হয়তো অপেক্ষা করছে। টিস্যু নিতে এসেছিলাম আর কী।”
‎নিরব কিছু বলার আগেই জেরিন আবার হাসলো। একটা মুচকি হাসি। “তাহলে ভালো থাকবেন। বাই।”
‎বলেই জেরিন চলে গেল।
‎টেবিলের উপর রাখা ফোনটা হঠাৎ ভাইব্রেট করে উঠলো। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নামটা দেখে বুকের ভেতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠলো।
‎মেসেজ ওপেন করতেই চোখে পড়লো কয়েকটা লাইন,
‎’সরি ভাইয়া। আপনাকে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করিয়েছি। আমি আর আসতে পারবো না। মা বারণ করছে এখন বাইরে যেতে।’
‎এর পর নিরব ওয়েটারকে টাকা দিয়ে বিল মিটিয়ে দিলো।তারপর চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ালো।
‎বাইরে রোদের তেজটা যেন আরও বেড়ে গেছে। নিরব হনহন করে হাঁটতে লাগলো অফিসের দিকে।

‎হঠাৎ করে কলিং বেলটা বেজে উঠলো। একবার, দুইবার, তারপর অনবরত।
‎রান্নাঘর থেকে নীলাঞ্জনার গলা ভেসে এলো, “একটু অপেক্ষা করুন, আসছি।”
‎কিন্তু ওপাশের মানুষের যেন তর সইছে না। বেলের শব্দ থামছেই না। নীলাঞ্জনা বিরক্ত হয়ে হাতের কাজ ফেলে দৌড়ে এলো। দরজা খুলতেই মুখে হাসি ফুটে উঠলো তার।
‎দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে আছে সিয়াম আর শাপলা।
‎শাপলা এক মুহূর্তও দেরি করলো না। ছুটে এসে নীলাঞ্জনাকে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে। তার চোখে টলটল করছে পানি। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, “ভাবী, কতদিন পর আপনাকে দেখলাম।”
‎নীলাঞ্জনা আঁচল দিয়ে শাপলার চোখের পানি মুছে দিল। মমতার সুরে বলল,
‎”পাগলী মেয়ে। আর কখনো কোথাও যেতে হবে না তোর। সারাজীবন আমাদের সাথেই থাকবি।”
‎তারপর সিয়ামের দিকে তাকিয়ে হাসলো। “শাপলাকে নিয়ে ঘরে যাও। আমি রান্নাঘরে যাই।”
‎বলে নীলাঞ্জনা আবার রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ালো।
‎সিয়াম ধীরে সদর দরজাটা ভিড়িয়ে দিল। দুজনেই পা রাখলো সিঁড়িতে। নীরবতা ভেঙে কেবল ওদের পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
‎সিয়ামের ঘরের সামনে এসে শাপলা নিজের রুমের দিকে পা বাড়াতেই সিয়াম হাত টেনে ধরলো।

‎”কোথায় যাচ্ছিস, হ্যাঁ?”
‎”কেন, আমার রুমে।”
‎”এখন থেকে তুই আমার ঘরেই থাকবি।”
‎”কেন? আমি কেন আপনার ঘরে থাকবো?”
‎সিয়ামের ঠোঁটে দুষ্টু হাসি। একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল, “কারণ তুই আমার বিয়ে করা বউ। বউ যদি স্বামীর ঘরে না থাকে, তবে থাকবে কোথায়?”
‎কথাটা বলেই শাপলার হাত ধরে ঘরের ভেতর ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিল সিয়াম।
‎তারপর লাফ দিয়ে বিছানার উপর লুটিয়ে পড়লো।
‎সিয়াম শাপলার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে ডাকলো, “এই বউ, কাছে আয় তো।”
‎শাপলা মুখ ভেংচে বলল, “কেন হ্যাঁ?”
‎”আদর করবো তাই।”
‎”প্রয়োজন নেই।”
‎সিয়াম এবার একটু গম্ভীর হয়ে বলল, “প্রয়োজন নেই? তাহলে অন্য কারো সাথে স*ম্পর্ক করে তাকে আ*দর করতে হবে।”
‎কথাটা শুনেই শাপলার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। রাগে তার সারা শরীর কাঁপছে। কিছু বোঝার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়ে সিয়ামের গ*লা চে*পে ধরলো।
‎”আপনার এত বড় সাহস হয় কিভাবে? অন্য মেয়েকে আ*দর করার কথা বলছেন?”
‎সিয়ামের দ*ম বন্ধ হয়ে আসছে। হাত দিয়ে শাপলার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলল, “আরে ম*রে যাবো তো! ছাড় বলছি… আমি মজা করছিলাম পাগলী। তুই জেলাস হস কিনা তাই দেখছিলাম।”

‎শাপলা আরও শক্ত করে চে*পে ধরলো,
‎”আপনার এত বড় সাহস হয় কিভাবে আমার সাথে এমন মজা করার? আজ আপনাকে গ**লা টি**পে মে**রেই ফেলবো।”
‎সিয়াম কষ্ট করে হাসলো। “আমাকে মে*রে ফেললে তোর সাথে রো*মা*ন্স করবে কে হ্যাঁ? এত সুন্দর, রোমান্টিক সে**ক্সি হ*ট স্বামীটা চলে গেলে পরে আফসোস করবি না তো?”
‎কথাটা শুনেই শাপলা চমকে উঠে সিয়ামকে ছেড়ে দিলো।
‎সিয়াম সুযোগ পেয়েই
‎তার দিকে ঝুঁকে পড়লো। ফিসফিসিয়ে বলল,
‎”কি, মা*রলি না কেন? তার মানে তুই চাস আমি তোকে আ*দর করি, তাই না?”
‎শাপলা লজ্জায় লাল হয়ে গেল।
‎”আমি কখন বললাম হ্যাঁ?”
‎বলে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো।
‎সিয়াম খাটে হেলান দিয়ে বাঁকা হাসি দিলো। “তুই যখন চাস না আমি তোকে আদর করি, তাহলে করবো না। আমারও দরকার নেই।”
‎শাপলা মুখ ফুলিয়ে বলল, “না, আদর করতেই হবে।”
‎”ঠিক আছে, কাছে আয় তাহলে আদর করি।”
‎”না না, আদর করতে হবে না।” শাপলা আবার পিছিয়ে গেল।
‎সিয়াম ভ্রু কুঁচকে বলল, “এই তো এখন বললি আদর করতে হবে। আবার না করছিস যে?”

‎”আমি বলতে চাইনি… মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে।”
‎”মুখ ফসকালো কেন হ্যাঁ? আমার কাছে আয়, তোর মুখে চু*মু দিই। দেখিস তোর মুখ নিজেই বলে দেবে কেন ফসকালো।”
‎”ধ্যাত, সবসময় আজেবাজে কথা।”
‎”আজেবাজে না রে বউ। এগুলোই তো ভালোবাসার কথা।”
‎ঘর জুড়ে নেমে এলো একরাশ লজ্জা আর ভালোবাসার নীরবতা।
‎হঠাৎ করেই “খ্যাক খ্যাক” করে কাশির শব্দ ভেসে এলো দরজার ওপাশ থেকে। শাপলা দরজা খুলে দিল।
‎নীলাঞ্জনা রুমে ঢুকলো। তার ঠোঁটে দুষ্টু হাসি।
‎”তা কি চলছে হ্যাঁ এখানে?” নীলাঞ্জনা ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো।
‎শাপলা আমতা আমতা করে বলল, “মানে… আমি তো বুঝলাম না ভাবী।”
‎নীলাঞ্জনা হেসে ফেলল। “বুঝেও না বোঝার ভান করছো দেখছি। যাই হোক, এই নাও তোমার ফোনটা। বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে দিয়ে গিয়েছিলে। তোমার স্বামীকে দেওয়ার আগেই বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলো, তাই দিতে পারিনি।”

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪০

‎শাপলা লজ্জা মাখা হাতে নীলাঞ্জনার কাছ থেকে ফোনটা নিলো।
‎নীলাঞ্জনা এবার সিয়ামের দিকে তাকালো। মুচকি হেসে বলল, “কি চলছে সেটা তো তোমার বউ বোঝে না । আমি যাওয়ার পর সুন্দর করে হাতে
‎কলমে বুঝিয়ে দিও।”
‎কথাটা বলেই নীলাঞ্জনা চোখ টিপে হাসতে হাসতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

রোমান্টিক ভাইয়া বোনাস পর্ব 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here