Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৩

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৩

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৩
মহাসিন

‎সিরাজ ধীরে ধীরে শাপলার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। সিরাজের দৃষ্টি শাপলার দিকেই। শাপলা ভয়ে থরথর করে কাঁপতে কাঁপছে। চোখে আতঙ্ক।
‎শাপলা কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
‎”আপনি আমার দিকে আসতেছেন কেন?”
‎কোনো উত্তর দিল না। একদম কাছে চলে এল।
‎শাপলা দৌড় দিতে যাবে, তখনই সিরাজ পেছন থেকে শাপলার চু_লে_র মু_ঠি শক্ত করে টে_নে ধরল।
‎শাপলা চিৎকার করে বলল,
‎”আমার সাথে এম_ন ক_র_তেছেন কেন? প্লি_জ চলে যান।”

‎সিরাজ টেনে ঘুরিয়ে শাপলার গালে জোরে একটা থা_প্প_ড় মা_র_ল। শাপলা টাল সামলাতে না পেরে রাস্তায় আ_ছ_ড়ে পড়ল। সিরাজ চিৎকার করে বলল,
‎”এই বে__শ্যা, এবার আমার হা_ত থেকে তোকে বাঁ_চা_বে কে? তোর সিয়ামও তো নেই যে তোকে বাঁ_চা_বে।”
‎শাপলা ভয়ে চিৎকার করতে লাগল। রাস্তায় কোনো জনমানবের চিহ্ন পর্যন্ত নেই শুধু সিরাজ আর শাপলা।সিরাজ শাপলার চু_লে_র মু_ঠি ধরে টেনে তুলতে তুলতে বলল,
‎”মা__গি, ওঠ। তোর অনেক অহংকার না? তোর অহংকার আমি শে_ষ করে ছাড়ব।”
‎শাপলা চিৎকার করতে লাগল। সিরাজ জোরে চ_ড় মে_রে বলল,
‎”এই মা__গি, চুপ কর। একদম চুপ।”
‎এই বলে সিরাজ শাপলার চু_ল ধ_রে টে_নে গাড়ির দিকে নিয়ে গেল। শাপলা গাড়িতে উঠতে চাইছে না, তবুও জো_র করে তাকে গাড়িতে তুলে দরজা আটকে দিল। সেও ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিল। মুহূর্তেই গাড়িটা ধুলো উড়িয়ে মিলিয়ে গেল।
‎সিরাজের গাড়ি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সিয়ামের গাড়ি এসে স্কুল গেটের সামনে থামল। সাথে নিরব আছে।
‎সিয়াম গাড়ি থেকে নেমে দেখল গেট বন্ধ, কোনো স্টুডেন্ট নেই, চারপাশ নিস্তব্ধ।
‎নিরবের দিকে তাকিয়ে বলল,
‎”শাপলা তো নেই। মনে হয় বাড়ি চলে গেছে।”

‎নিরব কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,
‎”তাহলে গাড়িতে উঠে আয়।”
‎এরপর সিয়াম গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিল। কিছু সময় পর দুজন বাড়ি এসে পৌঁছাল। নিরব কলিং বেল চাপল, কিন্তু কেউ দরজা খুলল না। দুজনেই বিরক্ত হয়ে গেল। নিরব অনবরত বেল বাজাতে লাগল।
‎কিছুক্ষণ পর নীলাঞ্জনা এসে দরজা খুলল, চোখে মুখে ব্যস্ততার ছাপ।
‎সিয়াম ভ্রু কুঁচকে বলল,
‎”এত দেরি কেন হলো? সেই কখন থেকে কলিং বেল বাজাচ্ছি।”
‎নীলাঞ্জনা হাত মুছতে মুছতে বলল,
‎”আরে রান্নাঘরে ছিলাম, তাই শুনতে পাইনি।
‎” শাপলা এসেছে কি?”
‎”না তো। শাপলা তো আসেইনি।”
‎সিয়াম আর নিরব দুজনেই অবাক হয়ে তাকাল। সিয়াম আতঙ্কিত গলায় বলল,
‎”তাহলে শাপলা কোথায়?”
‎হঠাৎ তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল সিরাজ কলিং।

‎সিয়াম চমকে উঠে কল রিসিভ করল। ওপাশ থেকে সিরাজের গলায় তাচ্ছিল্যের হাসি,
‎”সিয়াম, তোর শাপলা এখন আমার কাছে। তোর ক্ষমতা থাকলে আমার হা_ত থেকে ওকে বাঁ_চা। চিন্তা করিস না, আমি মেসেজে লোকেশন পাঠিয়ে দিচ্ছি।”
‎কথা শেষ হতেই সিয়াম আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। ফোন হাতে নিয়েই দৌড়ে গাড়ির দিকে ছুটল। নিরবও তার পিছু পিছু ছুটল।
‎নীলাঞ্জনা পেছন থেকে অবাক হয়ে ডাকল,
‎”কি হচ্ছে? কেউ তো কিছু বলে যাও!”
‎কিন্তু কেউ সাড়া দিল না।
‎সিয়াম দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দিল। নিরব পাশের সিটে বসতে বসতে জিজ্ঞেস করল,
‎”কে কল দিল? কি হয়েছে? আমাকে বল?”
‎সিয়ামের চোখ মুখ শক্ত। স্টিয়ারিং আঁকড়ে ধরে বলল,
‎”শাপলা এখন সিরাজের কাছে। ও শাপলাকে তু_লে নিয়ে গেছে।”
‎নিরব স্তব্ধ হয়ে গেল। চোখে আতঙ্ক।

‎নীলাঞ্জনা ড্রয়িং রুমে দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে কবিতাকে ডাকতে লাগল।
‎”কবিতা! ওই কবিতা! কোথায় হারিয়ে গেলে? কবিতা… এই কবিতা, কোথায় তুমি?”
‎কোনো সাড়া এলো না। চারপাশটা অস্বাভাবিক নিস্তব্ধ।
‎নীলাঞ্জনার বুকের ভেতর ধ_ড়ফড় করে উঠল। সে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে কবিতার ঘরে ঢুকল। দরজা ঠেলতেই বুকটা মুচড়ে উঠল । কবিতা মেঝেতে প_ড়ে ছ_টফট করছে। শ্বাস নিতে পা_র_ছে না।
‎নীলাঞ্জনা চিৎকার করে উঠল,
‎”কি হইছে তোমার? ইনহেলার কোথায়? কবিতা, কিছু বলো!”
‎কবিতা ক_ষ্টে কা_তরাতে কা_তরাতে বলল,
‎”জানি না ভাবী… আমি কিছু জানি না। ইনহেলারটা কোথায় রাখছি, খুঁজে পাচ্ছি না।”
‎কবিতার করুণ অবস্থা দেখে নীলাঞ্জনার চোখে পানি চলে এল। সে পাগলের মতো চিৎকার করতে লাগল,
‎”এখন কি হবে? কোথায় পাবো ইনহেলার?”

‎কবিতা আ_র্ত_নাদ করে বলল,
‎”ভাবী, কিছু করো… আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রাণটা বে_রি_য়ে যাবে। শ্বা_স নি_তে পারছি না… কিছু করেন!”
‎”মনে করার চেষ্টা করো, কোথায় রেখেছিলে? প্লিজ কবিতা!”
‎কবিতা এখন আর কথাই বলতে পারছে না। নীলাঞ্জনা পাগলের মতো পুরো ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজতে লাগল। ড্রয়ার, বালিশ, বিছানা কোথাও ইনহেলারটা নেই। শেষে ড্রেসিং টেবিলের পেছনে চোখ পড়তেই তার বুক থেকে পাথর নেমে গেল। ইনহেলারটা ওখানেই পড়ে আছে।
‎এক মুহূর্তও দেরি না করে নীলাঞ্জনা ইনহেলারটা কবিতার মুখে ধরিয়ে দিল। কবিতা কাঁপা হাতে সেটা ব্যবহার করতে লাগল। আস্তে আস্তে তার শ্বাস স্বাভাবিক হতে শুরু করল।
‎কিছু সময় পেরিয়ে গেল। কবিতা বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে। ক্লান্ত, ঘেমে গেছে, কিন্তু এখন বেশ সুস্থ। নীলাঞ্জনা তার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই কবিতার শ্বাসকষ্টের সমস্যা। ইনহেলার ছাড়া তার এক মুহূর্তও চলে না।

‎নীলাঞ্জনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “নিরব সিয়াম বাড়িতে এসেছিল। হঠাৎ কি একটা কল এলো, দুজনেই দৌড়ে চলে গেল। শাপলাও বাড়িতে এলো না।”
‎কবিতা ভ্রু কুঁচকে বলল, “এতক্ষণে তো শাপলার স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার কথা। তাহলে ও কোথায় গেল? নিরবকে কল দাও তো।”
‎নীলাঞ্জনা অসহায় গলায় বলল,
‎”ফোনের ব্যালেন্স শেষ।”
‎কবিতা ড্রেসিং টেবিলের দিকে ইশারা করে বলল, “আমার ফোনটা নিয়ে আসেন তো। ড্রেসিং টেবিলের ওপর আছে।”
‎নীলাঞ্জনা ধীরে ধীরে উঠে ফোনটা এনে কবিতার হাতে দিল, তারপর খাটের বসে পড়ল।
‎কবিতা ফোনের লক খুলে নিরবের নাম্বারে কল দিল। ওপাশ থেকে ভেসে এলো,
‎”হ্যালো।”
‎কবিতা ফোনটা নীলাঞ্জনার হাতে দিয়ে বলল, “ভাবী, কথা বলেন।”
‎নীলাঞ্জনা ফোন কানে নিয়ে অস্থির গলায় বলল, “তোমরা দুজন যে এভাবে চলে গেলে, কি হয়েছে কিছু তো বললে না!”

‎নিরব ওপাশ থেকে বলল, “সিরাজ শাপলাকে কি_ড_ন্যা_প করেছে। এখন বেশি কথা বলতে পারব না। পরে সব বলব।”
‎কথা শেষ হতেই কলটা কেটে গেল।
‎নীলাঞ্জনা হতভম্ব হয়ে ফোনটা হাত থেকে নামিয়ে ফেলল। মুখ দিয়ে কথা সরছে না।
‎কবিতা উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কি হলো? চুপ করে গেলে কেন?”
‎নীলাঞ্জনা ফিসফিস করে বলল, “সিরাজ… সিরাজ শাপলাকে কি_ড__ন্যা__প করেছে।”
‎কবিতার চোখ দুটো বড় হয়ে গেল।

‎অন্ধকার রুমটা যেন ন_রকের একটা ছোট্ট কোণ। দেয়ালগুলো ঘন ছায়ায় ঢাকা, বাতাস ভারী ও দমবন্ধকর। হঠাৎ দরজা খুলে গেলো। সিরাজের শক্তিশালী হা_ত শাপলাকে নি_ষ্ঠু_রভাবে টে_নে নিয়ে এলো। তার চু_লে_র মু_ঠি ধরে, শ_রী_রটা ছিঁ_ড়ে খুঁ_ড়ে লা_থি মে_রে সে তাকে রুমের মাঝখানে ফে_লে দিল। শাপলার শরীর মেঝেতে আ_ছ_ড়ে পড়লো, হাড়ে হাড়ে ব্য_থার তীব্র ঝাঁকুনি।
‎সিরাজ দরজা বন্ধ করে দিয়ে হাসলো। এই হাসি পাগলের মতো, নি_ষ্ঠুর, বিজয়ীর হাসি। আলো জ্বালিয়ে দিলো সে। ম্লান হলুদ আলোয় রুমটা আরও ভয়ঙ্কর দেখালো।
‎“কী রে শাপলা… এবার কোথায় যাবি তুই?” তার গলা গর্জনের মতো। “আমার হা_ত থেকে তোকে বাঁ_চা_বে কে? তোর সিয়ামকে লোকেশন পাঠিয়ে দিয়েছি। ও আসছে… কিন্তু ততক্ষণে তুই শে_ষ হয়ে যাবি। একদম শে_ষ।”
‎শাপলা ভয়ে কাঁপছে। তার শরীর অসাড়, চোখে আতঙ্কের ঘন কুয়াশা। হামাগুড়ি দিয়ে সে সিরাজের পা দুটো জ_ড়ি_য়ে ধ_রলো। কান্নায় ভেঙে পড়ে ফিসফিস করে বলল,
‎“প্লি_জ… আমার জী_ব_নটা শে_ষ করবেন না। আমার স_র্ব_না_শ করবেন না… আমি কিছু করিনি আপনার…”

‎জবাবে সিরাজ সজোরে একটা লা_থি মা_র_লো তার পে_টে। শাপলা ব্য_থা_য় ‌কুঁ_কড়ে গিয়ে মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে লাগলো। তার চিৎকার ঘরের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এলো। সিরাজ তার চু_লে_র মু_ঠি ধ_রে টে_নে তুললো। তারপর শুরু হলো অবিরাম চ_ড়ে_র বৃষ্টি। প্রতিটা চ_ড়ে শাপলার গাল ফু_লে উঠছে, ঠোঁট ফে_টে র_ক্ত পড়ছে।
‎“শা_লী! আজকে তো_কে ম_দ দিয়ে খা_বো। আগে একবার খে_তে পারিনি… এবার খা_বো।”
‎সিরাজ আলমারি খুলে একটা ম_দের বোতল বের করলো। ঢাকনা খুলে সে শাপলার শরীরে ম_দ ঢেলে দিল। তীব্র গন্ধে ঘর ভরে গেলো। ম_দ তার চুল, বুক, পেট, উরু বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। শাপলা চিৎকার করে কেঁদে উঠলো।
‎“কেন… কেন আ_মা_র সা_থে এম_ন করছেন? আমার জী_বনটা কেন ন_ষ্ট করতে চান?”
‎সিরাজের চোখে পাগলামি আর কা_ম_নার অন্ধকার মিশে গেছে। সে শাপলার উ_প_র ঝাঁ_পিয়ে পড়লো। তার ভারী শ_রী_রটা শাপলাকে চে_পে ধরলো। গলায় গভীর চু_মু খে_তে খে_তে সে ফিসফিস করলো,
‎“উফ… কী স্বা_দ! তোর পুরো শ_রী_র চে_টে চে_টে খা_বো। এমনভাবে খা_বো যে তুই য_ন্ত্র_ণায় ছ_ট_ফ_ট করবি… চিৎকার করবি… কিন্তু কেউ আসবে না।”

‎তার দাঁত শাপলার গ_লা_য় বসে গেলো। কা_ম_ড়ের তীব্র য_ন্ত্র_ণায় শাপলার শ_রীর কেঁপে উঠলো। সে সিরাজকে নি_জের থেকে সরানোর চেষ্টা করছে হাত পা ছুড়ছে, কিন্তু তার শক্তি সিরাজের সামনে তুচ্ছ। রুমে শুধু তার কান্না, চিৎকার আর সিরাজের নি_ষ্ঠুর হাসি মিলেমিশে এক অ_মা_নবি_ক সুর তৈরি করছে।
‎সিরাজ শাপলার চু_লে_র মু_ঠি শক্ত করে ধ_রে তার সাদা গলায় গভীর, হিং_স্র চু_ম্বন বসিয়ে দিল। তার ঠোঁ_টের চা_পে শাপলার নরম চামড়া ফে_টে গেল। শাপলার পুরো শরীর ঘৃণায়, আতঙ্কে কেঁপে উঠছে। মনে হচ্ছে তার শিরায় শিরায় বি__ষ ঢুকছে।
‎সিরাজ কিছুক্ষণ পর তার উ_প_র থেকে উঠে দাঁড়াল। শাপলা ভয়ে পাগলের মতো হামাগুড়ি দিয়ে ঘরের একদম কোণায় চলে গেল। তার চোখ দুটো থেকে অবিরাম ঝরে পড়ছে শ্রাবণের বৃষ্টি। এলোমেলো চুলগুলো তার মুখের উপর লুটিয়ে পড়ছে। নিচের ঠোঁ_ট ফে_টে র_ক্ত গড়িয়ে পড়ছে চিবুক বেয়ে। বুকের ভিতর হৃৎপিণ্ড এত জোরে লাফাচ্ছে যে মনে হচ্ছে পাঁজর ভে_ঙে বেরিয়ে আসবে। তার সারা শরীরে ম_দে_র তীব্র, ব_মি আসা গন্ধ। নিজের গায়ের উপর ম_দের এই নোং_রা স্প_র্শে তার গা গুলিয়ে উঠছে বারবার।

‎মনে মনে শাপলা ফিসফিস করে বলছে, “আমি হয়তো আর বাঁ_চ_ব না… এই ন_র_পি_শা_চের হাতে আমার জী_ব_ন_টা খুব নোং_রা, ভাবে শেষ হয়ে যাবে।”
‎সিরাজ তার দিকে তাকিয়ে একটা ভয়ঙ্কর, বাঁকা হাসি দিল। এই হাসিতে পা_শবিক আ_নন্দ আর নি_ষ্ঠুরতা। শাপলা আঁতকে উঠে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। শুকনো ঢোঁক গিলতে গিলতে তার গলা জ্বলে গেছে।
‎সিরাজ নিজের শার্টটা খু_লে ফেলল। তার পেশিবহুল, শরীর ঘরের ম্লান আলোয় আরও ভয়ংকর দেখাচ্ছে। ধীরে ধীরে সে আলমারির কাছে গিয়ে আরেকটা ম_দের বো_তল বের করল। তারপর শাপলার দিকে এগিয়ে এলো। যেন শিকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটা হিং_স্র জন্তু।
‎বোতলের ছিপি খুলে সে ঠান্ডা চোখে শাপলার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে তার সারা শরীরে ম_দ ঢালতে শুরু করল। ঠান্ডা তরলটা তার বুক, পেট, উরু বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। শাপলা আ_র্ত_নাদ করে কাঁদতে শুরু করল। তার ক_রুণ কান্না ঘরের ভিতর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, কিন্তু সিরাজের পাথরের মতো হৃদয়ে সামান্যতম সাড়া জাগাতে পারল না।

‎ম_দ ঢালা শেষ হলে সে বোতলটা পাশে রেখে দিল। তারপর কোমর থেকে বে__ল্ট খু_লে হাতে পেঁচিয়ে নিল। পরমুহূর্তে এই বে__ল্ট শাপলার নরম শরীরে আ_ছ_ড়ে পড়তে লাগল। প্রতিটি আ_ঘা_তে তার শরীরে লা_ল দা_গ পড়ছে, চামড়া ফে_টে র_ক্ত বেরোচ্ছে। শাপলা য_ন্ত্র_ণায় চিৎকার করে কাঁদছে। তার আ_র্তনা_দে ঘর ভরে উঠছে।
‎সিরাজ তাকে মা_র_তে মা_র_তে হাঁপিয়ে গেছে। শেষে হাসতে হাসতে থেমে গেল। তার হাসিটা উন্মাদের মতো। শাপলা এখনও মেঝেতে প_ড়ে করুণভাবে কাঁপছে, তার শরীর ক্ষ_ত_বি_ক্ষত।
‎সিরাজ তার নোং_রা, লো_ভা_তুর দৃষ্টি দিয়ে শাপলার পুরো শরীরটা জ_রিপ করল। তার চোখে শুধুই পা_শ_বি_ক কা_ম_না। তারপর আবার ঝাঁ_পি_য়ে পড়ল শাপলার উ_পর। তার ঠোঁ_ট শাপলার গলা, বুক, পেটের দিকে নেমে আসছে।

‎শাপলা বুঝতে পারল, এবার আর র_ক্ষা নেই। তার ইজ্জত, তার সত্ত্বা সব শে_ষ হয়ে যাবে। মরিয়া হয়ে পাশে থাকা ম_দের বোতলটা হাতে তুলে নিল। সমস্ত শক্তি দিয়ে সিরাজের মাথায় আ_ঘা_ত করল।
‎কাঁচের বোতলটা ভেঙে গেল। ধারালো কাঁচের টুকরোগুলো সিরাজের মাথা ফা_টি_য়ে দিল। র_ক্ত গড়িয়ে পড়ল তার চোখে মুখে। সিরাজ ব্য_থায় চিৎকার করে তার উপর থেকে সরে গেল।
‎শাপলা তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াল। ভাঙা বোতলের ধা_রা_লো অংশটা হাতে নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় চিৎকার করে বলল,
‎“আমার কা_ছে আসবি না! এক পা এগোলেই এটা তোর পে_টে ঢু_কিয়ে দেব!”
‎সিরাজ মাথায় হাত দিয়ে র_ক্ত দেখে চিৎকার করে উঠল, “মা__গি! তোর এত বড় সাহস? আমার মাথায় আ_ঘা_ত করলি!”
‎সে তেড়ে আসতে লাগল।

‎শাপলা পিছিয়ে গিয়ে চিৎকার করল, “না! একদম না! আমার কা_ছে আসবি না! না হলে এটা দিয়ে তোকে শে_ষ করে দেব!”
‎সিরাজ দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “হাত থেকে ফেলে দে, শাপলা। আমার মাথায় রাগ উঠাবি না বলে দিলাম। ফেল ওটা!”
‎শাপলা চোখে আ_গুন নিয়ে, কাঁপতে কাঁপতে বলল,
‎“কখনো না। তুই আমার কা_ছে আসবি না। আসলেই তোকে শে_ষ করে দেব।”
‎সিরাজের চোখ দুটো বিস্ফারিত হয়ে উঠছে। তার দৃষ্টি যেন জ্বলন্ত আ_গুনের মতো। গলায় ঘৃণা আর ক্রোধ মিশিয়ে সে গর্জে উঠলো,
‎“বে__শ্যা, আমার মাথায় রাগ উঠাবি না। তোকে কাঁ__চা চি_বি_য়ে খে_য়ে ফেলবো।”
‎শাপলা চিৎকার করে উঠলো। তার কণ্ঠস্বরে আতঙ্ক আর প্রচণ্ড রাগ মিশে গিয়েছে।
‎“তুই একটা ন_র_খা_দক! প_শু! আমার কা_ছে আসবি না। একদম না! তাহলে আজ তোর মৃ_ত্যু আমার হাতে হবে!”

‎তার হাতে ধরা ধা_রা_লো কাঁচের টুকরোটা চকচক করছে। কিন্তু সিরাজের গতি বাজের মতো। এক ঝটকায় সে শাপলার হাত থেকে কাঁচটা কেড়ে নিল। তারপর প্রচণ্ড জোরে একটা থা_প্প_ড় বসিয়ে দিল তার গালে। আওয়াজটা ঘরের ভেতর প্রতিধ্বনিত হলো।
‎“মা_গি_র তেজ কমে না দেখছি! এই বে__শ্যা, তুই এত সাহস কোথায় পাস?”
‎কথা শেষ করার আগেই সে শাপলাকে লা_থি মে_রে মেঝেতে ফে_লে দিল। শাপলার শরীরটা মেঝেতে আ_ছ_ড়ে পড়লো। সিরাজের চোখে এখন পাগলামির আভা। সে ঝাঁ_পি_য়ে পড়লো তার ওপর। ঘু_ষি, লা_থি, চ_ড়—যা ইচ্ছে তাই। নির্মমভাবে, নির্বিচারে। প্রত্যেক আ_ঘা_তের সঙ্গে তার মুখ থেকে বি_ষা_ক্ত গা_লা_গালি বেরিয়ে আসছে।
‎কিন্তু শাপলা হাল ছাড়েনি। য_ন্ত্র_ণায় কুঁকড়ে গিয়েও সে সিরাজের হাতটা কা_ম_ড়ে ধরলো। দাঁতগুলো গভীরভাবে বসে গেল মাং_সে। এক টানে সে ছিঁ_ড়ে নিল এক টুকরো মাং_স। উষ্ণ র_ক্ত তার মুখের ভেতর ছড়িয়ে পড়লো।
‎“আআআআহহহ!” সিরাজের চিৎকারে ঘর কেঁপে উঠলো। সে পিছিয়ে গেল, হাতটা চেপে ধরে। আঙুলের ফাঁক দিয়ে র_ক্ত গড়িয়ে পড়ছে।

‎শাপলার মুখে সিরাজের মাং_সে_র টুকরোটা। ঘৃণায় তার সমস্ত শরীর কেঁপে উঠলো। সে তাড়াতাড়ি থুতু ফেলে দিল। তারপরই শুরু হলো ব_মি। পেটের ভেতরটা গুলিয়ে উঠছে। হাঁপাতে হাঁপাতে সে ব_মি করতে লাগলো। শরীরটা দুর্বল হয়ে আসছে, কিন্তু বেঁচে থাকার তাড়না তাকে টেনে নিয়ে গেল দরজার দিকে।
‎দরজার কাছে পৌঁছাতেই পিছন থেকে সিরাজের হাত এসে তার চু_লে_র মু_ঠি ধরে ফেললো। প্রচণ্ড শক্তিতে টান দিল। শাপলার মাথাটা পেছনে হেলে পড়লো। তারপর আরেকটা ভয়ংকর চ_ড় এসে পড়লো তার গা_লে। টাল সামলাতে না পেরে সে আবার মেঝেতে আ_ছ_ড়ে পড়লো।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪২

‎ঘরের অন্ধকার যেন আরও গাঢ় হয়ে উঠছে। র_ক্তে_র গন্ধ, ব_মি_র উৎকট গন্ধ আর নি_ষ্ঠুর_তার নীরব হাসি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।সিরাজের চোখে এখন আর কোনো মানুষিকতা নেই, শুধু একটা ক্ষু_ধা_র্ত, আ_হ_ত জা_নো_য়া_রে_র দৃষ্টি।
‎শাপলা মেঝেতে পড়ে শ্বাস নিতে চেষ্টা করছে। তার শরীর কাঁপছে য_ন্ত্র_ণায়। কিন্তু তার চোখে এখনও স আ_গুন জ্বলছে, যে আ_গুন এখনও নেভেনি।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here