রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৪০
সোহানা ইসলাম
আরমান সাদা তোয়ালে জড়িয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে গেল। ফারিয়া বেগম কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। পাশে বসে থাকা জেসমিন বেগম। ছেলের এমন পাগল মার্কা কান্ডে হাসবে না-কি কান্না করবে বোঝতে পারছে না দুজন।
__” আপা, তোমার ছেলেটা তোয়ালে পরেই বাইরে গেল? টাস্কি খেয়ে জেসমিন বেগম বলেন।
ফারিয়া বেগম গম্ভীর এবং চিন্তিত গলায় বলেন
___” আমিও বুঝলাম না, কী এমন জরুরি কাজ পরেছে কাপড় পরারও সময় পেলেও না? কিছু না পরেই বের হয়ে গেল। আবার অনেক রেগেও ছিলো। মাথায় যেন আগুন জ্বলছে, চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
জেসমিন বেগম :— ” আমার মনে হয় নতুন কোম্পানির কাজের ওই খানে কোনো সমস্যা হয়েছে। তাই হয় তো চোখে আগুন, মুখে রাগ—কিছু একটা হয়েছে নিশ্চয়ই।
ফারিয়া বেগম :—” হ্যাঁ, মনে হয় কোনো বড় ঝামেলায় হয়েছে। এখন যতই জিজ্ঞেস করি, মুখ খোলে না। শুধু বলে, “আম্মু, সব ঠিক হয়ে যাবে।”
জেসমিন বেগম শ্বাস ফেলে বলেন
___” ছেলেরা বড় হলে মায়েদের থেকে সব কিছু লুকাতে শেখে। কিন্তু আপা, তুমি ওর দিকে খেয়াল রেখো। ছেলেটা অনেক কাজের চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ”
ফারিয়া বেগম চোখ ভিজে আসে
__” আমার বুকটা ধক করে উঠছে। কী এমন হলো, যে এত ব্যস্ত, এত অস্থির হয়ে উঠেছে? আল্লাহ জানেন, কী হয়েছে ওখানে? ”
__” চিন্তা করো না আপা। সব ঠিক হয়ে যাবে। ওখানে তো জাহেদ, রোহান আছেই। ”
__” ওরা আছে কিন্তু জিনিয়া আম্মু ও আছে সেখানে। এটা নিয়েই বড় চিন্তা। ”
__” জিনিয়া কে নিয়ে চিন্তা করি না আমি। কারণ ওর ভাইয়েরা ওকে জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবে, এই বিশ্বাস আমার আছে। ”
দুই জা এতো বেশি আর ঘটালো না বিষয় টা নিয়ে। দুপুরের কান্নার ব্যবস্থা করতে কিচেনের দিকে চলে যান। বাড়ির দুই কর্তা অফিস থেকে বাড়ি আসে প্রতি দিন দুপুরে লাঞ্চ করতে।
ময়মনসিংহ শহর থেকে ঠিক দুপুর ১২টার দিকে গাড়ি বের করল আরমান। আকাশে রোদের তেজ, রাস্তার ওপর ধুলা আর গরম বাতাস। স্টিয়ারিং ধরতেই তার মাথায় তখন শুধু একটাই আগুনের মতো খবর ঘুরছিল—”চেয়ারম্যানের ছেলে জারাকে জোর করে বিয়ে করতে চাইছে।”
রোহান ফোনে যখন কথাটা বলেছিল, তখন থেকেই বুকের ভেতর ঝড় উঠেছে। চোখ লাল হয়ে উঠেছে, শরীরের প্রতিটি স্নায়ুতে শুধু রাগ আর বিদ্রোহের ঝাঁজ। স্টিয়ারিং আঁকড়ে ধরে ঠোঁট কামড়ে বিড়বিড় করল সে—
“না, এটা হতে দেব না। মানজারা আমার মানে আমার।”
মোবাইল টা হাতে নিয়ে কাকে যেন কল করে আরমান।ওপাশ থেকে কি কথা হয়েছে শুনা গেলো না। শুধু আরমানের কথা ছাড়া।
___” এ্যাট এ্যানি কোস্ট তোমাদের ইসলাম পুড় গ্রাম দেখতে চাই আমি। আর যা বললাম কাজ টা যেনো হয়ে যায়। ”
__” হ্যাঁ! তুলে নাও। রাতে এসে দেখা করব আমি।কী..কী আনতে বলেছি মনে আছে? ”
____ওপাশে কি বললো শুনা গেলো না ___
রাস্তার দুপাশে ভরদুপুরের নীরবতা। গরমে মানুষজন অলস হয়ে আছে, শুধু মাঝে মাঝে হেঁটে চলা দু’একজনের ছায়া পড়ছে। গাড়ির হর্ন বাজিয়ে এগোতে লাগল সে। বাতাস গরম, কিন্তু তার মাথার ভেতরের আগুন আরও ভয়ঙ্কর।
প্রায় চার ঘন্টার মতো গাড়ি চালিয়ে ঢাকার ভিতরে ঢুকে আরমান । ফোন টা হাতে তুলে রোহানকে কল দিল।
— “কোথায় আছিস?”
— “ জারাদের বাড়িতে এখনো। তুই কোথায় আছিস? ”
— “ আসছি আমি আর এক ঘন্টা সময় লাগবে। জারা কেমন আছে? কী করছে ও?”
— “ কান্না করতে করতে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়ে গিয়েছিলো। ঔষধ দিয়ে ঘুম পারিয়ে রেখেছে জিনিয়া। ”
— “আর একটু সামলে রাখ আমার কলিজা টাকে ভাই! আমি আসছি বেশি সময় লাগবে না ।”
ফোন কেটে দিল আরমান।
গাড়ির গতি বাড়াতে বাড়াতে তার চোখে ভেসে উঠল জারার মুখ। মোবাইল চেক করে দেখে কাল থেকে হাজার টা কল করেছে, মেসেজ দিয়েছে পাগলিটা। পাগলিটা নিশ্চয়ই অনেক কান্না করছে। ভয়ে কাঁপছে। হয়তো মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে। বুকটা ধক করে উঠল। একবার বলে আসলে হয়তো এমন ভাবে কষ্ট পেতো না। ফিসফিস করে বলল—
“ভয় পাস না সোনা , আমি আসছি।”
দুপুরের রোদ তখন মাথার ওপর হেলে পরে বিকেলের আগমন হচ্ছে ।গ্রামের রাস্তায় মাএ গাড়ি নিয়ে ঢুকেছে আরমান। বাজারের দিকটা কাছে আসতেই মানুষের ভিড় বাড়তে লাগল। দোকানগুলোর সামনে ভিড়, চায়ের দোকান থেকে ভেসে আসছে হৈ-হল্লা।
গাড়ি থামাল বাজারের মোড়ে। হেডলাইট বন্ধ করতেই চারপাশে গরম আর ভিড়ের চাপা শব্দ কানে এলো। দূর থেকে দেখা গেল চেয়ারম্যানের ছেলে সত্যিই বসে আছে দোকানের বেঞ্চে, কয়েকজন দোসরকে নিয়ে জোর গলায় হাসাহাসি করছে। তার ঠোঁটে স্পষ্ট অহংকার আর নোংকারি।
স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরল আরমান। বুকের ভেতর রক্ত টগবগ করে ফুটছে। নিজের সঙ্গে ফিসফিস করে বলল—
“এবার সব হিসাব মেটাব বাইন**দের বাচ্চা। আর কিছু সময় অপেক্ষা কর।”
গাড়িতে বসেই রহিমের ফটাফট কয়টা ছবি তুলে নেয় আরমান। আর একটা নাম্বারে সেন্ট করে দেয়। সে গভীর শ্বাস নিল।
দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। চারদিকে ভরদুপুরের নীরবতা, শুধু মাঝে মাঝে পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। জারা নিজের রুমে চুপচাপ শুয়ে আছে। শরীর খুব ক্লান্ত। পাশে বসেছে জিনিয়া, মিম আর ফিহা। সবাই তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু জারার মুখে একটাও কথা নেই। শুধু লালচে চোখে বোঝা যাচ্ছে কতটা কান্না চেপে রেখেছে সে।
ড্রইং রুমে বসে আছে রাশেদ, রোহান আর জাহেদ। দুপুরের খাওয়া শেষ হলেও কারও মন ভরেনি। সবার চোখেমুখে চিন্তার ছাপ। কারও কথায় প্রাণ নেই। তারা শুধু অপেক্ষা করছে—কখন আরমান ফোন করবে, কখন জানাবে সে ইসলামপুর পৌঁছেছে।
ঠিক সেই সময় রান্নাঘর থেকে ভেসে এল মারজিয়া বেগমের গলা।
— “মিম… ও মিম, একটু রান্না ঘরে আয় মা।”
শব্দটা শুনেই রাশেদ চমকে উঠল। হঠাৎ মনে হলো বুকের ভেতর কেঁপে উঠল কিছু একটা। মিম? এই নামটা তো তার ভীষণ পরিচিত। এ নাম শুনলেই মনে পড়ে যায় পুরনো দিনের কিছু মুহূর্ত, এক পরিচিত সৃতি । কিন্তু… এখানে কার নাম মিম?
সে কিছুটা গম্ভীর হয়ে চারদিকে তাকাল। কিন্তু কেউ কোনো উত্তর দিল না। জাহেদ আর রোহান খেয়ালই করেনি তার মুখের পরিবর্তন। রাশেদ তখনও মনে মনে নামটা উচ্চারণ করছে—
“মিম…!”
হঠাৎ জারার ঘরের দরজা খচ করে খুলে গেল। ধীরে ধীরে বাইরে বেরিয়ে এলো একটা মেয়ে। মাথায় ওড়না টানা, হাতে পানির গ্লাস। মুখে একধরনের শান্ত ভদ্রতা, কিন্তু চোখেমুখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ।
রাশেদ তাকিয়ে রইল অবাক হয়ে। এটাই কি মিম? এ মিমই কি সেই মিম, যার নাম এতদিন ধরে তার ভেতরে চাপা পড়ে ছিল? নাকি কেবলই কাকতালীয় মিল?
মিম সবার দিকে তাকিয়ে হালকা হাসি দিল, তারপর রান্নাঘরের দিকে এগোতে লাগল। রাশেদের চোখ তখনও স্থির তার ওপর। বুকের ভেতর অদ্ভুত এক আলোড়ন, কেমন অস্থিরতা কাজ করছে।
রোহান হঠাৎ রাশেদের দিকে তাকিয়ে বলল—
“কী হলো? এমনভাবে ঘামছো কেন?”
রাশেদ চমকে উঠে দৃষ্টি সরিয়ে নিল। ঠোঁট কামড়ে নিচু গলায় শুধু বলল—“কিছু না…”
কিন্তু তার চোখের ভেতর তখনও ঘুরছে একটা প্রশ্ন—”এ মেয়েটাই কি সেই মিম, যাকে আমি মনের ভিতর লুকিয়ে রেখেছি? ”
আবার ভাবে __ একজনের সাথে অন্য জনের নাম তো মিল থাকতেই পারে।এটা স্বাভাবিক বিষয়।
এর মাঝেই একটু থরথরে পরিবেশ—হঠাৎ সেই নিরবতার মাঝেই ঘর কাঁপিয়ে রোহানের মোবাইল বেজে উঠল। স্ক্রিনে নাম—আরমান। রোহান দ্রুত ফোন ধরে কল কেটে আসলো বসার ঘরে। সবাই তাকিয়ে রইল।
— “হ্যাঁ ভাই, বল কী খবর? কোথায় আছিস?” রোহানের কণ্ঠে শ্বাসের সঙ্গে অস্থিরতা।
— “আমি ইসলামপুর গ্রামে পৌঁছে গেছি , বড় রাস্তায় আছি এখন। ”
আরমান আবার রোহান কে সরাসরি বলে
___“ জারাকে নিয়ে বের হ বাড়ি থেকে ফাস্ট । ”
__” কি ভাবে নিয়ে আসব? ওর মা তো প্রশ্ন করবে। তখন কি বলব আমি? ”
__” এতো কিছু যানি না আমি। যে কোনো ভাবে ওকে বাইরে নিয়ে আয় — আমি অপেক্ষা করছি।”
__” তুই নিয়ে যা। আমি পারব না? ”
__” রোহান এটা কোন নাটক করার সময় না? নিয়ে আয় তাড়াতাড়ি, ধেরি করবি না।”
বলেই কলটা কেটে দেয় আরমান। রোহান মুখটা মাএ হা করে কিছু বলার জন্য, কিন্তু আর বলা হলো না। রোহান বিরবির করে বলে __” শা*লা নিজে ওখানে সাহেব সেজে বসে আছে। আর আমাদের বলছে রিস্ক নিতে। আরে কলিজা কি আমার নাকি তোর বা*ল?”
রোহান একহাতে ফোন ধরেই একবার রান্না ঘরের দিকে তাকায় আবার জারা’র রুমের দিকে তাকায়। এখন কি ভাবে জারা’কে এখান থেকে বের করবে। দোটানায় পড়ে যায় রোহান।
রোহানের দিকে তাকিয়ে আছে দুই জোরা চোখ। রাশেদ আর জাহেদ। চোখে তাদের প্রশ্নের আভাস।
__” আরমান ভাইয়া কি বলেছে? ” প্রশ্ন করলো জাহেদ।
__” জারা’কে বড় রাস্তায় নিয়ে যেতে বলেছে? ”
__” ভাইয়া চলে এসেছে? ”
আরমান ইসলাম পুড় গ্রামে চলে এসেছে শুনে রাশেদ এর দুনিয়ার সব চিন্তা বাদ দিয়ে দেয়। চোখে মুখে তার উজ্জ্বলতার ঝিলিক।
__” স্যার চলে এসেছে? ”
রোহান কোনো কথা না বলে রান্না ঘরের দিকে যেতে থাকে। জাহেদ আর রাশেদ ও তার পিছন পিছন যায়। রান্না ঘরে এসে দাঁড়ায় রোহান।
__” আন্টি! একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা ছিলো? ” বলল রোহান।
__” কী কথা বলবে বাবা? ” বললেন মারজিয়া বেগম।
__” সন্ধ্যা তো প্রায় হয়েই এলো। এখন যদি চেয়ারম্যান এর ছেলে চলো আসে, তাহলে তো পরিস্থিতি সামলানো দায় হয়ে পরবে। তাই বলছি লাম কী…?”
__” কী কথা বলো? ”
__” জারা’কে যদি আমাদের সাথে নিয়ে যাই! না..নামে ও তো আমাদের বোনের মতো তাই ওকে সেফটি দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ”
__” হ্যাঁ! তোমাদের উপর আমার পুরো বিশ্বাস আছে। তুমি নির ভয়ে বলো। ”
রোহানকে কথার মাজে আটকে যেতে দেখে জাহেদ এগিয়ে আসে। সে বোঝতে পারছে রোহান হয়তো ভয় পাচ্ছে।
‘ জাহেদ : __” আন্টি আসলে ভাইয়া বলতে চাচ্ছে, আমরা যদি ভাবিকে.. না মানে জারা’কে আমাদের সাথে নিয়ে যাই। তাহলে ওই চেয়ারম্যান এর ছেলে এসে ওকে পাবে না আর ঝামেলা ও করবে না বেশি। ”
মারজিয়া বেগম উত্তর করলেন না। তাদের কথা ভাবতে থাকেন। সত্যিই জারাকে এখানে না তো আর ঝামেলা করবে না রহিম। ওদের কথায় অনুমতি দিয়ে দেন তিনি। কারণ সবার আগে নিজের সন্তানদের রক্ষা করতে হবে।
ঘরে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। জারা স্তব্ধ থেকে হঠাৎ কাঁপতে লাগল। মারজিয়া বেগম রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে জারার রুমে জিনিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন_
__“ জিনিয়া মা! রোহান বাবা বলছে ওকে নিরাপদ রাখতে তোমাদের সাথে নিয়ে যাবে। এখানের সব কিছু ঠান্ডা হলে আবার জারা’কে পৌঁছে দিয়ে যাবে বলেছে।”
মারজিয়া বেগম এর কথা শুনে জিনিয়া বোঝতে পারলো আরমান হয় তো চলে এসেছে। তাই জারাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছ।
জিনিয়া শান্ত গলায় বলল,__ “ আচ্ছা আন্টি! তাহলে আমি ওকে সুন্দর করে ঢেকে আনছি।”
মিম আর ফিহা ও বলে __” আমরাও জারা সাথে যাব জিনিয়া আপু। ”
মারজিয়া বেগম __” তোরা ওর সাথে গেলে আমি তোর মা – বাবাকে কি জবাব দিব। যদি কোনো বিপদ হয়, তখন? ”
__” কিছু হবে না আমাদের। আমরা আমাদের জানু কে একা কোথাও ছাড়ব না। ” বলল ফিহা।
__” হ্যাঁ আন্টি একদম তাই! আর বাড়িতে কল করে বলে দিচ্ছি আজ বাড়ি ফিরব না, আমরা আপনাদের বাসায় থাকব। “বলল মিম
মারজিয়া বেগম তাদের কোনো ভাবেই অনুমতি দিতে রাজি না। তিনি চান না নিজের মেয়ের জন্য ওরা বিপদে পরুক। কিন্তু মিম আর ফিহা জেদ ধরে বসে আছে তারা যাবেই। শেষ পর্যন্ত তাদের জেদের কাছে হার মানতে হলো মারজিয়া বেগম কে।
__” আচ্ছা যাবে। এখন একটা উরনার ব্যবস্তা করে দাও আমায়। “বলল জিনিয়া
মিম জারার ওয়ার্ডব থেকে একটা হালকা পার্কটোনের উরনা, অতটা ঘন নয় কিন্তু চেহারা ঢেকে বাড়ি থেকে বের করার জন্য যথেষ্ট।জিনিয়া উরনা টা দিয়ে সুন্দর করে ডেকে দেয়।
ফিহা চেক করে বলল, “দরজা-জানালা লক করে দেই । আন্টি আমরা বের হয়ে গেলে আপনি সদর দরজায় ভালো করে বন্ধ করে জোহানকে নিয়ে জারার রুমে বসে থাকবেন। ”
সব ঠিকঠাক কিন্তু বিপত্তি হলো এক জায়গায়। জারা যেতে রাজি হচ্ছে না। জিনিয়া উরনা দিয়ে ডেকে দিচ্ছে আর জারা বার বার তা খুলে ফেলছে। জেদ, ভয় আর অভিমান সব এক সাথে। এখন সে স্বার্থপরের মতো চলে যাবে, যদি ওর মা ভাইয়ের কোনো ক্ষতি হয় তখন? নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবে না। আর মুখ ফুটে বলতেও পারছে না সে আরমানের কাছে কিছু তেই যাবে না। কারণ তার মা আছে এখানে।
ফিহা জারা’কে বোঝায় __” জানু এটা জেদ করার সময় না। আরও ধেরি হয়ে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ”
__” যাব না আমি আম্মু আর ভাই কে একা ফেলে? এতো টাও স্বর্থ পর হতে পারব না আমি। ”
মেয়ের এমন জেদ এর কারণ বোঝাতে পারলেন মারজিয়া বেগম। মেয়েটাকে তাদের নিয়ে চিন্তা করছে।
__” আমাদের কিছু হবে না তুই ওদের সাথে যা। আল্লাহ উপর ভরসা রাখ মা। ”
মিমি রাশেদ আর জাহেদ এর দিকে তাকিয়ে বলে
___” ভাইয়া আপনারা দুইজন একটু বাইরে দেখে আসুন কেউ আছে কি না? ”
রোহান আর জাহেদ চুষে নিয়ে মাথা নোড়াল তারা দ্রুত এগিয়ে গেল দরজার দিকে ।
জারা উঠেই ধীরে ধীরে বসার ঘর থেকে বেরোল। জিনিয়া করেড়ে তার কাঁধে উরনা দিয়ে গায়ে ঢেকেই নিল—ওর লম্বা চুল, গলার গৃহ সব ভালো করে ঢাকা হলো যেন জনসমক্ষে চিনে ফেলা না যায়। মিম নীরবে এগিয়ে এসে দরজার পাশে দাঁড়াল, মুচকে হাত চাপড়ে ধরল। ফিহা চোখ বুজে দোয়া পড়তে থাকে রাস্তায় যেন ওই শয়তানটার সাথে দেখা না হয়ে যায়।
বাড়ির ভেতর দ্রুত কাজটি সম্পন্ন হলো; দরজা নীরবে খোলা হলো। সবাই একসঙ্গে বের হতে লাগল—রোহান সামনে, জাহেদ পাশে ফিহা, রাশেদ একটু পিছনে তার সাথে মিম , জারা জিনিয়ার সঙ্গেই। মায়ের চোখের কোণে অচেনা রক্তঝাপটা; মারজিয়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে দরজায় দাঁড়িয়ে সহসা বললেন,
___ “ ভয় পাবি না মা। তোর এই ভাই গুলো তোর সাথে আছে । এখন ওই বদমাইশটা তোর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। ”
আচল দিয়ে মুখ চেপে কান্না আটকে চেষ্টা করেন তিনি। রোহান দের দিকে তাকিয়ে বলেন
__” আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো বাবা! ”
বাহিরে গ্রামের বাজারের বিলেকের ঝাপসা রোদের গরম, মানুষের কোলাহল। কিন্তু তাদের পরিকল্পনা চালু—আরমানের কথা মনে রেখেই তারা দ্রুত ভেতরে ঢুকে আশপাশে মিলিয়ে নিল শক্তভাবে। আরও মিনিট পাঁচ এক সময় লাগবে বড় রাস্তায় যেতে। সবাইর ধমধম করে ধরা হৃদয়, কিন্তু চোখে একটাই আশ্বাস—” জারাকে নিয়ে দূত্ব আরমানের কাছে যেতে হবে।”
বড় রাস্তায় এসে দাঁড়াতেই সবাই প্রথমেই চোখে পড়ে একটা black Mercedes-Benz রাস্তার একপাশে সুন্দর করে পার্ক করা। গাড়িটা যেন আলাদা করে চকচক করছে। চারপাশের সন্ধ্যার অন্ধকারের ভেতর গাড়ির সাদা হেডলাইট দুটো মৃদু জ্বলতে থাকায় মনে হচ্ছিল যেন কারও চোখ দুটো কেমন ঘুরে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।
রোহান দ্রুত হাঁটা শুরু করল গাড়ির দিকে। তার সাথে ছিল জাহেদ, রাশেদ, মিম, ফিহা আর জিনিয়া। জিনিয়া জারাকে ধরে নিয়ে আসছে। কিন্তু সবার মাঝখানে এক অদ্ভুত অস্থিরতায় হাঁটছিল জারা। তার বুক ধকধক করছে। ভেতরে ভয়, লজ্জা, অস্বস্তি সব একসাথে গিলে খাচ্ছে।
মনে মনে ভাবছিল—
“যাব না আমি ওই পাষাণ লোকটার কাছে। কথাও বলব না। কেমন করে কষ্ট দিয়ে চলে গিয়েছিলো ?
আবার ভাবে এতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করলেন, রাগ করেছেন কিনা?”
আরমান সাধারণত শান্ত স্বভাবের নয়। একটু দেরি হলেই তার মাথা গরম হয়ে যায়। তার কল এসেছিল প্রায় ৪০ মিনিট আগে। অথচ এই জায়গায় আসতে মাত্র ২০ মিনিটের মতো সময় লাগে। জারা জানত, এর মাঝেই সে রেগে আগুন হয়ে বসে আছে।
গাড়ির একেবারে কাছে আসতেই click শব্দ করে জানালাটা নামিয়ে দিল আরমান। ভেতর থেকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল—
“জারাকে গাড়ির ভেতরে বসিয়ে দে।”
কথাটা এতটাই হুকুমের মতো শোনাল যে চারপাশে এক মুহূর্ত নিস্তব্ধ হয়ে গেল। মিম, ফিহা আর জিনিয়া তিনজনেই জারার হাত ধরে টানাটানি শুরু করল।
—“চল না, জানু।Late হয়ে গেছে অনেক।”
জিনিয়াও জারা’কে গাড়িতে বসার জন্য বলে
—“আরমান ভাইয়া কিন্তু রেগে যাবে বনু তাড়াতাড়ি যাও ।”
কিন্তু জারা একেবারে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ার মতো করে আঁকড়ে ধরল তাদের হাত। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল—
—“না, আমি যাব না! প্লিজ, তোমরা আমাকে ওই বাঘের খাঁচায় যাওয়ার জন্য জোর করো না।”
তার শরীর কেঁপে উঠছিল। চোখে জল টলমল করছিল।
গাড়ির ভেতর থেকে সবকিছুই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল আরমানের। হঠাৎই সে ধমক দিয়ে উঠল—
“ হাফ ইঞ্চির বাচচচচ্চা! এক মিনিটের মধ্যে গাড়িতে এসে না বসলে পা ভেঙ্গে ফেলব আমি। ”
একটা শব্দে কেঁপে উঠল চারপাশ। যেন বজ্রপাত হলো। জারার বুকটা কেঁপে গেল। পা কাঁপতে কাঁপতে ধীরে ধীরে সে গাড়ির দিকে এগোল। মিমরা কিছুই করতে পারছিল না।
জারা একেবারে গাড়ির কাছে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দরজা খুলল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই তার চোখ পড়ল ভেতরে বসা আরমানের দিকে।
এবং যা দেখল তাতে সে যেন মাথা ঘুরে পড়ে যাবে এমন করে উঠে।
আরমান খালি গায়ে বসে আছে। তার গায়ের উপর শুধু একটা সাদা তোয়ালে জড়ানো। সেই তোয়ালেটাই কোমরের নিচে শক্ত করে পেঁচানো। অন্য কোনো পোশাক নেই। এটা চারশো বিশ বোল্ডের ঝটকা খেয়েছে।
জারার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। বুকের ভেতর ধপধপ আওয়াজ হচ্ছিল।ওকে এমন অবস্থায় দেখে জারা’র যেব চোখে কোঠা থেকে চোখ বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম। সে আরমানের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে । “এ কেমন অবস্থা!” মনে হলো তার।
মুহূর্তের ভেতর দরজাটা ঠাস করে বন্ধ করে দিল জারা। ঘুরে দৌড়ে আবার ফিহা, জিনিয়া আর মিমদের কাছে চলে এল।
সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।এই মাএ একটা ধমক খেয়ে গাড়িতে বসতে গেল, আবার চলে আসছে কেন?
রোহান তড়িঘড়ি করে জিজ্ঞেস করল—
—“কী হইছে ? আবার কেন চলে এলে?”
জাহেদও এগিয়ে এল—
—“গাড়িতে তো উঠছিলে, হঠাৎ আবার চলে আসলে কেন ভাবি ?”
কিন্তু জারা কোনো উত্তর দিতে পারল না। বুকের ভেতর যেন কেউ শিকল বেঁধে ফেলেছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
ফিহা কাঁধে হাত রাখল—
—“বল না জানু, কী হইছে?”
অবশেষে অনেক কষ্টে মুখ খুলল সে। গলা কাঁপছিল——“ও… ওনি তো… শুধু তোয়ালে জড়িয়ে বসে আছে গাড়িতে।”
কথাটা শোনার পর মুহূর্তেই সবাই টাস্কি খেয়ে গেল।
মিম আর ফিহার চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল। তারপর তারা দুজনেই হঠাৎ লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। কিন্তু লজ্জার ফাঁকে ফাঁকেই দুজনের ঠোঁটে মিটিমিটি হাসি খেলে গেল। যেন পরিস্থিতি যতটা সিরিয়াস, তার থেকেও অনেক বেশি funny লাগছে তাদের কাছে।
রোহান হতভম্ব হয়ে বলল—
—“কি!! তোয়ালে পরে বসছে?!”
জাহেদ হাসি চাপতে না পেরে বলে উঠল—
—“ ভাইয়া মনে হইতেছে যেন bathroom theke direct চলে আইছে!”
রাশেদ তো একেবারেই হেসে কুটিপাটি। পেট চেপে বলল——“Oh my God! আমার স্যার সব বিষয়ে short cut?!”
এদিকে গাড়ির ভেতর বসে থাকা আরমান বুঝতে পারল জারা ফিরছে না। তাই দরজা খুলে নেমে এল সে।আর নেমে আসতেই পুরো রাস্তার পরিবেশ জমে গেল।
তার গায়ে তখনও শুধু সেই সাদা তোয়ালে। খালি বুক, ভেজা ভেজা চুল, চোখেমুখে বিরক্তির ছাপ।
মিম আর ফিহা লজ্জায় একেবারে মুখ ঢেকে ফেলল। তবু চুপি চুপি হাসি থামাতে পারছিল না।
রোহান, জাহেদ আর রাশেদ একসাথে চিৎকার করে উঠল—
—“ভাই! তোর এটা কী অবস্থা?!”
—“তুমি কি সোজা bathroom থেকে এসেছো নাকি ভাইয়া ?” বললো জাহেদ
—“Seriously? Mercedes আর তোয়ালে—this is next level fashion sir !”বলল রাশেদ
সবাই হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগল।
আরমান বিরক্তি নিয়ে কপালে হাত দিয়ে বলল—
—“ আমার কাছে বিয়ে আটকানো টা বেশি Important। পোশাক নয়। আর আমি কি নেংটা হয়ে এসেছি? ”
রাহোন মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল—
—“ দোস্ত, কাপড় পড়ার টাইম ও পেলি না তুই ?”
আরমান দাঁত চেপে উত্তর দিল—
—“ না সময় পাই নাই। কল দিছিলাম ৪০ মিনিট আগে। তোরা আসছিস ২০ মিনিট late করে।”
মিম লজ্জায় মুখ ঢেকে ফিহার কানে ফিসফিস করে বলে—
—“I can’t believe this situation!”
ফিহা মাথা নিচু করে হাসতে হাসতে বলল—
—“এমন scene তো সিনেমাতেও দেখা যায় না রে দোস্ত ।”
জারা দাঁড়িয়ে ছিল একেবারে স্থির হয়ে। তার শরীরটা কেমন কেঁপে উঠছিল। চোখে জল চলে এসেছিল আবার আরমানের অবস্থা দেখে লজ্জা ও লাগছে । মনে হচ্ছিল—
” নির্লজ্জ পুরুষ! তোয়ালে পরে এসে কি বোঝাতে চাচ্ছে ওনি আমাকে অনেক ভালোবাসে? কচু বাসে খবিশ লোক কোথাকার। লজ্জা শরম কিছু নেই, কেমন করে এতো গুলো মেয়ের সামনে দাড়িয়ে আছে?জারার বুকের ভেতর ভয়, রাগ আর লজ্জায় পুড়ে যাচ্ছে।”
এদিকে ছেলেরা থামছেই না।
জাহেদ আবার হেসে হেসে বলে
—“ ভাই, মিডিয়ার লোকেরা যদি খবর পেতে নাম করা ব্যবসায় আরিফ খান এর একমাত্র ছেলে তোয়ালে পরে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। তাহলে তো হেডলাইন হয়ে যেতো কালকের paper।”
সবাই আবার হেসে লুটোপুটি খেল।
আরমান এবার একেবারেই বিরক্ত হয়ে চিৎকার করে উঠল—
—“চুপ কর গাধা ! সব কয়টার দাঁত বের করা বন্ধ না করলে, এক এক জনরে গাড়ির নিচে ফেলে বুকে ভইরা দিমু!”
কিন্তু হুমকি দিয়েও লাভ হলো না। ওদের হাসি থামল না।
মিম আর ফিহা এতটাই হেসে ফেলল যে চোখে জল চলে এল।অবস্থা এমন দাঁড়াল যে পুরো রাস্তাই হাসির আওয়াজে ভরে গেল।
আরমান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিরক্তিতে দাঁত চেপে শ্বাস ফেলছিল। তবু মনের ভেতরে সেও বুঝতে পারছিল, পরিস্থিতিটা আসলেই ridiculous হয়ে গেছে।আরমান জারার চোখে দিকে তাকিয়ে দেখে শুধু ভয় আর লজ্জার ছায়া।কিন্তু রাগও হচ্ছে তার, এবার গলায় চারশো বোল্ডের জোর নিয়ে জারা’কে ধমক দিয়ে বলে
___’ তোকে গাড়িতে বসতে বলেছি আমি? কান দিয়ে কথা যায় না তোর বা*ল? ”
ভয়ে কেঁপে ওঠে জারা। চোখ দিয়ে পানি চলে আসে তার। কিন্তু সে এক চুলও নড়ে না জায়গা থেকে।
এভাবেই কিছুক্ষণ চলতে থাকল হাসাহাসি আর মজা। শেষে আরমান বিরক্ত স্বরে বলল—
—“Okay fine! তোরা হাসিস, জারা গাড়িতে উঠবি না, তাই তো?”
বলেই সে তোয়ালে ঠিক করতে করতে আবার গাড়ির ভেতরে উঠে গেল।গাড়ির দরজা জোরে বন্ধ হওয়ার শব্দ শোনা গেল।
সবাই তখনও হেসে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিল। আবার ভয়ও পাচ্ছে। রেগে গেছে অনেক, এখন এই ঝড় কার উপর দিয়ে যাবে আল্লাহ যানে?
জারা যখন দাঁড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে ভাবছিল—“আমি কি করব এখন? যাব না আমি। ওনার বা লাজলজ্জা কিছু নেই। তার মানে কি আমারও নেই নাকি ?”
ঠিক সেই সময় হঠাৎ গাড়ির দরজা আবার জোরে খুলে দিল আরমান।
সে ধাপে ধাপে এগিয়ে আসতে লাগল জারার দিকে। তার চোখে আগুন জ্বলছিল। সবার সামনে যেন লজ্জা, রাগ আর অধৈর্যের আগুন মিশে গেছে।
মুহূর্তের ভেতরই কাছে গিয়ে একটা কষিয়ে থাপ্পড় দিল জারার গালে।ঠাসসস!
চারপাশে নিস্তব্ধতা নেমে এল। শুধু জারার গালটা লাল হয়ে উঠল।
আরমান গর্জে উঠল—
“তোর এত সাহস! আমি ডাকি, তুই আসিস না? নাটক করিস? আমার patience already শেষ হয়ে গেছে তোর কাছে ।”
ধমকটা এত জোরে বের হল যে জারার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। চোখে জল চলে এল। সবার সামনে অপমানের লজ্জা, রাগ, ভয়—সব একসাথে বুক চেপে ধরল তাকে।
মিম, ফিহা, জিনিয়া কেউ একটা শব্দও করতে পারল না। রোহান, জাহেদ, রাশেদরাও হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।
জারার শরীর কাঁপছিল। হঠাৎ সে ভয়ে ফুটফুট করে কেঁদে উঠল। তার কান্নার শব্দ রাস্তার নীরবতা ভেদ করে বেরিয়ে এল।
আরমান এবার আর কিছু না বলে ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্রুত জারার হাত ধরে হাঁটতে থাকে গাড়ির দিকে । দরজা খুলে ভেতরে ঠাস করে বসাল জারাকে।
সে মুহূর্তে যেন আর কোনো বিকল্প রইল না। ভয়, কান্না, লজ্জা সব মিলিয়ে কান্না করতে করতে গাড়ির সিটে গুটিসুটি মেরে বসে থাকে চুপ করে। । আর অনবরত কান্না করতে থাকে । চোখে তখনো জল টলমল করছিল।
বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বাকিরা একে অপরের দিকে তাকাল। কারো মুখে কোনো কথা নেই। শুধু বাতাসে চাপা ভারি একটা বোঝা ঝুলে থাকল।
__” আমি ওকে নিয়ে যাচ্ছি। যদি মন চায় আসতে তো আয়। ” গম্ভীর কণ্ঠে বলে আরমান।
__” কোথায় যাবি তুই? “প্রশ্ন করলো রোহান
__” কাজি অফিস। “বলেই গাড়িতে ওঠে ঠাস করে দরজা লক করে দিয়ে বসে পরে আরমান।
রোহনরা সবাই আবালের মতো দাড়িয়ে আছে। কি বলে গেলো বোঝতে পারলো না। কাজি অফিসে কেন যাবে হঠাৎ করে? ”
__” স্যার কাজি অফিসে কেন যাবে? “বলল রাশেদ।
রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৩৯
রাশেদের প্রশ্ন শুনে দেন ভাঙ্গে সবার। কিন্তু একজনের বিরক্ত লাগে। মিম। কাজি অফিসে কী করতে যায় মানুষ? কপাল কুঁচকে রাশেদের দিকে তাকিয়ে উত্তর দেয়
__” কাজি অফিসে মানুষ কী করতে যায়? আবাল লোক! ”
__” কী আর করতে যায়? কাজি অফিসে তো সবাই বিয়েই করে। স্যার ও তা…… তার মানে?
