লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ১৩
লিজা মনি
রিসোর্টের পাশে এসে নাজলী অন্যমনষ্ক হয়ে ভেবে যাচ্ছে। দৃষ্টি তার মেঝেতে নিবদ্ধ করে রাখা। হঠাৎ চোখের সামনে কাউকে দেখে থেমে যায়। নিচ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সামনে তাকায়। নাজলী তাকাতেই নাবিদ ভ্রুঁ কুচকে বলে,
” কখন থেকে ডাকছি, মনযোগ কোথায় নাজলী?
নাজলী গম্ভীর নিশ্বাস ফেলে বলে,
” হুম বলো। তোমার কন্ঠস্বর খেয়াল করি নি।
নাবিদ সানগ্লাসটা চোখ থেকে নামিয়ে বলে,
” কোথায় গিয়েছিলে?
— মি, আরিশের কাছে।
নাবিদ গম্ভীর হয়ে বলে,
” কি বলেছে সে?
নাজলী চারদিকে তাকিয়ে একটা খোলা চেয়ারে গিয়ে বসে। নাজলীকে অনুসরন করে নাবিদ ও যায়। এরপর তার মুখোমুখী হয়ে হয়ে বসে। নাজলী নাবিদের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে সব কথা বলতে থাকে।
— নিক জেভরানকে এত দ্রুত হারানো সম্ভব নয় নাজলী।
— কি বুঝাতে চাচ্ছো সামনা- সামনি লড়তে পারব না।
— সেই ক্ষমতা নেই।
— তাহলে পিছনে লড়ব।
— কিভাবে?
নাজলী বাঁকা হেসে নিচের দিকে তাকায়। আরিশ নিচের ঠোঁট চেপে ধরে বলে ,
” একটা উপাই আছে বাট অনেকটা কষ্টকর।
নাজলী কপাল কুচকে বলে ,
” কোন উপাই নাভিদ?
— তোমাকে প্রেমের অভিনয় করতে হবে। কোনো একজনকে তোমার প্রেমের ফাঁদে ফেলতে হবে।
নাজলী চমকে উঠে। কিছুটা রাগ নিয়ে বলে,
” হুয়াট! পাগল হয়ে গিয়েছো তুমি? আমার বোন মরন যন্ত্রনা উপভোগ করছে। আর আমি এখানে তামাসা করব? তোমার থেকে এইটা আশা করি নি নাবিদ।
নাবিদ কিছুক্ষন চুপ থেকে নাজলীর দিকে তাকিয়ে বলে,
” সত্যিকারের প্রেম করতে বলি নি। যাস্ট অভিনয় করতে বলেছি। নিক জেভরানের দুর্বল জায়গায় হাত দিতে হবে। এমন একজনকে বশে আনতে হবে যার কথা সে মানে।
নাজলী ছোট ছোট চোখে তাকায় নাবিদের দিকে। নাবিদ বাঁকা হেসে বলে,
” বুঝ নি আমার কথা তাই তো?
— না।
— প্রেম করবে তুমি আরিশের সাথে নাজলী। এমনভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলবে যাতে সর্বক্ষন শুধু তোমাকে চাই। আর ওর দুর্বল অস্ত্র হয়ে উঠবে তুমি। আর সেই অস্ত্রকেই কাজে লাগিয়ে তুমি এনির কাছে প্রবেশ করবে। ওর সান্নিধ্যে যাবে।
নাজলী অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে নাবিদের দিকে। হুট করে বসা থেকে উঠে বলে,
” নাবিদ তুমি এখন সজ্ঞানে নেই। এনির জন্য তুমি পাগল হয়ে যাচ্ছো। তুমি কি বলছো ভেবে বলছো? আরিশ! উনি দুই বছরের বাচ্চা নয় যে আমি প্রেমের প্রস্তাব দিব আর এক্সেপ্ট করে নিবে। উনি ক্রিমিনাল গ্যাং এর লিডার নাবিদ। উনার তীক্ষ্ম চতুরতা সম্পর্কে শুধু আমি নয় পুরো শহর চিনে। উনার সাথে খেলা মানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ করা। একবার ধরা পড়তে পারলে আমার বোনটাকে চিরতরে হারিয়ে ফেলব।
নাজলী অধৈর্য হয়ে পড়ে। নাবিদ নাজলীর কাধে হাত রেখে শান্ত করে বলে,
” তোমাকে এমনটা করতেই হবে। আমাদের এনিকে ফিরিয়ে আনার জন্য এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর নেই। হ্যা যদি বলো অন্যান্য মাফিয়াদের সাথে হাত মিলানোর কথা তাহলে আমি মিলাতে পারি। নিক জেভরানের সবচেয়ে বড় শত্রু মি, কায়াত। ইচ্ছে করলে তার সাথে এই মুহূর্তে চুক্তিবদ্ধ হতে পারি। রক্তপাতের মাধ্যমে হলেও এনিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতি পারি।কিন্তু মি, কায়াত যে এনির কোনো ক্ষতি করবে না তার কি নিশ্চয়তা আছে? মি. কায়াত এনিকে পাগলা কুকুরের মত চাচ্ছে। শুধু ও নয় আরও অনেকে। সুযোগ বুঝেই ছিনিয়ে নিবে। এখন আমি যদি সবার সাথে হাত মিলিয়ে নিকের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনি, তারা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিবে না তার কি গ্যারান্টি আছে? ভুলে গেলে চলবে না নাজলী আমরা কার বিপক্ষে যাচ্ছি। উনি আন্ডারগ্রাউন্ড এর গ্যাংস্টার বস। হাজার ও মাফিয়া উনার সম্মুখে মাথা নত করে। সেখানে আমরা দুজন জনসম্মুখে যদ্ধ করা মানে সবচেয়ে বড় বোকামি করা। যদি এনিকে পেয়ে যায় তাহলে হাজার ছুঁরির আঘাত ও সহ্য করতে রাজি আছি। বুক ছিন্ন- বিচ্ছন্ন হয়ে যাক কিন্তু আমি আমার এনিকে তো পাব। কিন্তু বর্তমানে রক্তপাত হলে এনির ক্ষতি। তাই শক্তি নয় বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতে হবে নাজলী। তাই সবার আগে ক্রিমিনাল লিডার আরিশকে হাত করতে হবে। যে কোনো মূল্যেই তোমাকে এই কাজ করতে হবে নাজলী।
নাবিদ কাতর দৃষ্টিতে তাকায় নাজলীর দিকে। নাজলীর চোখে পানি টলমল করছে।
— ভালোবাসা কি এত সোজা নাবিদ। যদি উনি আমার ফাঁদে পা না দেয়?
— চেষ্টা করতে ক্ষতি কি? নিকের ডান হত হলো আরিশ। তুমি চেষ্টা চালিয়ে যাবে যতদিন না ও তোমার ফাঁদে পা দিচ্ছে।
নাজলী চোখের পানি মুছে নাবিদের দিকে তাকায়। এরপর মুচকি হাসি দিয়ে বলে,
” কাটা দিয়ে কাটা তুলতে হয়। আমি না হয় সবচেয়ে ধারালো সূচটা ব্যবহার করব। মিথ্যে ভালোবাসার সূচ!
নাবিদ ঠোঁট কামড়ে হেসে। নাজলী তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলে,
” পরবর্তী প্লান করা যাক।
” রক্তাক্ত নগ্ন বডি নিয়ে উল্লাস আমার বরাবর’ই পছন্দ। আর যদি হয় সেটা কোনো মেয়ের তাহলে তো কামনা সার্থক”
লোকটা গলা ফায়িয়ে একটা বিকৃত হাসি দিয়ে উঠে। কি সেই ভংকর বিশ্রি হাসির গর্জন। জঙ্গলের ভেতরে থাকা পাখি গুলো ও মনে হয় ভয়ে সিটিয়ে গিয়েছে। লোকটা মেয়েটার রক্তাক্ত নগ্ন বডিতে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। ঠোঁটের কোনে লেগে আছে নিষ্ঠুর পৈশাচিক হাসি।মেয়েটা কিছুক্ষন আগে পর্যন্ত বেঁচে ছিলো কিন্তু দুই মিনিটে সে আজ পরোপারের সঙ্গী। বাঁচতে দেয় নি এই কঠিন সমাজ। সমাজে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মানুষরুপী জানোয়ার।
অন্ধকার কক্ষজুড়ে মৃত্যুর শীতলতা ছমছমে ভাবে ছড়িয়ে আছে। ভাঙা কাচের টুকরোর মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নীরবতা চারপাশে ঘন কুয়াশার মতো জমাট বেঁধে আছে। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা উন্মাদ লোকটির নগ্ন দেহ রক্তে ভিজে ওঠা তামাটে আভায় জ্বলজ্বল করছে। তার চোখে উন্মত্ততার নেশা, ঠোঁটে রক্তমাখা এক বিকৃত হাসি যেন মৃত্যু তার কাছে আনন্দের একমাত্র উৎসব।
তার কাঁপা কাঁপা আঙুল রক্তাক্ত শরীরের উপর দিয়ে বুলিয়ে যায়। হঠাৎই রক্ত চেটে নিয়ে শীতল উল্লাসে কেঁপে ওঠে। মুখে রক্তের কষা গন্ধ, আর কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসা বিকৃত হাসি দেয়াল ছুঁয়ে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। প্রতিটি চুমুক যেন তার অস্থির আত্মাকে তৃপ্তি দিচ্ছে, প্রতিটি ফোঁটা রক্ত তার ভেতরের হিংস্র ক্ষুধাকে আরও জাগিয়ে তুলছে।
নগ্ন দেহটি নিস্পন্দ পড়ে আছে। চোখ শূন্য, ঠোঁট নিস্তেজ, ত্বকের উপর অসংখ্য ছিঁড়ে যাওয়া ক্ষত। শরীরের উষ্ণতা ইতোমধ্যেই নিঃশেষিত, অথচ তার উপর নেমে আসা উন্মাদ লোকটির রক্তপিপাসা যেন থামতে জানে না।
চারপাশের নিস্তব্ধতা ভারী হয়ে ওঠে। শুধু শোনা যায় সেই উন্মাদ হাসি আর রক্ত চাটার অশুভ শব্দ। লোকটা মেয়েটির বক্ষ থেকে শুরু করে নিচ পর্যন্ত জিহ্বা দিয়ে চেটে নিচে নামতে থাকে। ভয়ংকর সেই শব্দ। অন্ধকারের বুক চিরে মানুষের শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে ভয়ের শীতল স্রোত বইয়ে দেয়।
লোকটার চোখদুটি রক্তমাখা তৃপ্তিতে অগ্নিশিখার মত হয়ে যায়। দীপ্ত মৃত্যুকেও সে আজ বশীভূত করেছে। এক উন্মাদনায় ভর করে চিৎকার করে ওঠে।
” রক্ত ওইত আসল নেশা! নগ্ন মেয়েলী বডিতেই তো আসল খেলা ”
সেই চিৎকার দেয়ালের ভেতর ছিটকে পড়ে।আর মৃতপ্রাণ নগ্ন শরীরটি নিস্পৃহ, জড়পদার্থের মতো পড়ে থাকে। এক শয়তানি উল্লাস, যেখানে রক্ত, উন্মাদনা আর মৃত্যুর গন্ধ মিশে গিয়ে সৃষ্টি করেছে এক বিভীষিকাময় নরক। জঙ্গলের ভেতরে একটা নরম প্রান চলে গেলো। একটা পাতা ও হয়ত জানে না। বদ্ধ রুমটার মধ্যে চলছে এক পৈশাচিক নির্যাতন। লোকটা শরীর থেকে দাঁত দিয়ে কাচা মাংস খুবলে খেতে থাকে।
হুট করে একটা শব্দ হয়। দরজা খুলার শব্দ কানে আসতেই লোকটা বিরক্তি নিয়ে সামনে তাকায়। রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। তার আনন্দের মধ্যে ডিস্ট্রাব দেওয়া সে একদম পছন্দ করে না। লোকটা সামনে তাকাতেই একটা হুডি পড়া লোক তার সম্মুখে আসে। হুডি পড়া লোকটা নগ্ন বডিটার দিকে এক পলক তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলে,
— কোথা থেক পেয়েছিস? সত্যিটা বলবি জেড।
— পাচার কেন্দ্র থেকে।
হুডি পড়া লোকটা রাগে কিড়মিড় করে উঠে বলে,
” কখন বের হয়েছিলি?
— কাল রাতে।
— কেনো বের হয়েছিলি?
— মাটিতে তাঁরা খুজতে।
— হেয়ালি করলে গলা কেটে ফেলব শালা। কাল রাত থেকে শুরু করে পুরোটা রাত মেয়েটা তর কাছে ছিলো?
হুডি পড়া লোকটার তীক্ষ্ণ প্রশ্নে জেড কিছুক্ষন চুপ হয়ে যায়। ছলনার আশ্রয় নিয়ে বলে,
” রাত ছিলো তবে শারীরিকভাবে কিছু করি নি। যা করার এখন করেছি।
হুডি পড়া লোকটার সহ্য হলো না কথাটা। হুট করে জেডের গলা চেপে বলে,
‘ শুয়রের বাচ্চা বারন করছি না আমি এইসব অশালীন কাজ না করতে। পাচার কেন্দ্রে থেকে মেয়ে এনেছিস কোন সাহসে? যদি নিক জানতে পারে তাহলে তকে আস্ত রাখবে ভেবেছিস? আর্জেন্ট আর ও ছয়জন মেয়ে দরকার। আর তুই সেখান থেকে মেয়ে নিয়ে এসে ফুর্তি করিস? আর আমাকে এইটাও মানতে বলছিস তুই সারারাত মেয়েটার সাথে কিছু করিস নি। একদিন মেয়ে নিয়ে বিছানা যেতে না পারলে তর নিচ দিয়ে সুড়সুড়ি উঠে যায় আর তুই আমাকে বুঝাচ্ছিস মেয়েটাকে কিছু করিস নি।
জেড হুডি পড়া লোকটার হাত নিজের গলা থেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলে,
‘ গলা ছেড়ে কথা বলো ভাই। শ্বাস আটকে মরে যাব।
হুডি পড়া লোকটা দাঁতে দাঁত পিষে গলা ছেড়ে দেয়।এরপর তিরিক্ষি মেজাজে বলে,
” আর যাতে কখনো এমন পরিস্থিতি না দেখি। মেয়েটার সাথে এমন করা তর উচিত হয় নি জেড। নিক জানতে পারলে প্রচুর রেগে যাবে। তকে অনেকবার ওয়ার্ন করেছে কিন্তু।
জেড মেয়েটার নগ্ন বডিটাতে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বলে,
” ফা*ক অফ ভাই। বান্দির বাচ্চাকে ভালোভাবে স্পর্শ ও করতে পারলাম না। তার আগেই রক্তক্ষরনে মরে গেলো।
হুডি পড়া লোকটা জেডের কথায় নিজের ধৈর্য হারাচ্ছে। জানে আর কিছুক্ষন থাকলে আঘাত করে বসবে। নিজেকে কোনোভাবে নিয়ন্ত্রন রেখে বলে,
” রক্তক্ষরন হয়ে মরে গিয়েছে এর পর ও বলছিস স্পর্শ করিস নি। কুত্তার বাচ্চার আর কিভাবে স্পর্শ করে? জানোয়ারের মত পশু হিসেবে মানুষ খাওয়া শুরু করে দিস।
জেড পৈশাচিক হেসে একটা স্টিলের চেয়ে বসে। এরপর মেয়েটার রক্ত একটা অনামিকা আঙ্গুলে নিয়ে নিজের জিহ্বা দিয়ে স্বাদ নেয়। হুডি পড়া লোকটা নাক মুখ কুচকে অন্যদিকে তাকিয়ে যায়।
জেডএইবার শব্দ করে হেসে বলে,
” তোমাদের কামনা নেই বলে যে আমার থাকবে না, তার তো কোনো কথা নেই ভাই। জেড যত দিন বেঁচে আছে ততদিন মেয়ে তার বিছানায় আসবে এইটাই স্বাভাবিক। আর প্রতিদিন রক্ত নিয়ে উল্লাস করবে। নাহলে তার ব্যক্তিত্বে প্রচুর লাগে ভাই।
জেড পৈশাচিস হাসতে থাকে। হুডি পড়া লোকটা নিজের নিয়ন্ত্রন করতে চোখ দুটি বন্ধ করে ফেলে। নির্ঘাত খুব কাছের কেউ, নাহলে এতক্ষন খুন করে ফেলত। জেডের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ ওয়ার্ন দিয়ে যাচ্ছি জেড। পরের বার চোখে পড়লে কিন্তু এই নগ্ন বডির থেকেও খারাপ অবস্থা করব তর।
জেড কিছু বলে না। শুঁধু উন্মাদের মত হাসতে থাকে। হুডি পড়া লোকটা বেরিয়ে যায়। লোকটা চলে যেতেই জেড মেয়েটার ক্ষত বডিটার দিকে তাকিয়ে বলে,
” নগ্ন বডি নিয়ে উল্লাস করাটাই আমার এক মাত্র তৃপ্তি ভাই। এইটাতে আলাদা এক স্বাদ। মেয়ে দেখে নিজেকে আটকে রাখা পৌরষ্যত্বে লাগে। যদি তাদের ছুঁতেই না পারি তাহলে কিভাবে হবে? যদি কেউ মরে যায় তাহলে সেটা তাদের ব্যাপার। মরে গেলেও নিজের কামনা না মিটিয়ে উঠি না। আর এইটাই আমি ভাই। আমি স্পর্শ করব আর ওরা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করবে। এইটাই তো শান্তি।
রাতে বারোটার কাছা- কাছি। চারদিক জুড়ে ঘন অন্ধকারের আস্তরন ছড়িয়ে আছে।পৃথীবির বুক থেকে সকল আলো শুষে নিয়ে এক আনিন্দ্য কাফিনে আবদ্ধ করেছে। পত্রপল্লবের ক্ষুদ্রতম আন্দোলনও কানে বাজে বজ্রের মতো, আর বাতাসের অনিয়মিত নিশ্বাস শিরদাঁড়ায় বয়ে নিয়ে আসছে। শীতল ভয়ের ছায়া। এই নৈঃশব্দ্যে সময় শিকলবন্দি। প্রতিটি মুহূর্ত স্থবির। প্রতিটি ছায়া অনির্বচনীয় আতঙ্কের পূর্বাভাস হয়ে দণ্ডায়মান হয়ে আছে।
এনি বিছানের এক কোণে গুটিশুটি মেরে বসে আছে। প্রতিদিন রাত এখন তার কাছে অভিশপ্ত রাত মনে হয়। বার বার মনে হচ্ছে এখন’ই নিক এসে তার দেহেকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে কলঙ্কিত করে দিবে। সে কলঙ্ক লাগাতে চায় না। পুরুষ যদি ভালো হয় তাহলে ভালোবেসে হাজার ও কলঙ্ক লাগানো যায়। কিন্তু এই লোক সাইকো, জানোয়ার। প্রচন্ড ভয়ে গলা শুকিয়ে আসে প্রতিটা সময়। আর কতদিন এইভাবে ভয়ে ভয়ে থাকবে। একদিন তো ঠিক শয্যাসঙ্গী হতে হবে? তার আগেই এখান থেকে পালাতে হবে। অনেক দুর চলে যেতে হবে। ঠিক ততটা দুর যেখানে নরপশুর ক্ষমতা আর টাকা দিয়ে ও আমাকে খুঁজে পাবে না। চারপাশে কালো দেয়াল গুলো কেমন অন্ধকার হয়ে আছে।
রাতটা যেন নিজের অদৃশ্য অথচ ভয়ার্ত আঙুলে সমগ্র সৃষ্টিকে আবদ্ধ করে রেখে গোপনে কোনো ভয়াল রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। এনি কাঁপছে, হাপাচ্ছে, আতঙ্কে জমে যাচ্ছে।
হুট করে দরজা খুলার শব্দ পেতেই বরফের ন্যায় জমে যায়। নিক এসেছে অনুভব করে আর ও সিটিয়ে যায়। বুকের ভিতরে ভয়ে দ্রিম দ্রিম শব্দ করছে। হার্টবিট উচ্চ আওয়াজে কম্পিত হতে থাকে। এনির গলা শুকিয়ে আসছে ধীরে ধীরে। এনির সর্বাঙ্গ ঘৃনা আর আতঙ্কে শিউরে তোলার জন্য গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান’ই যথেষ্ট।
নিক গায়ের কোর্টটা খুলে ডিভানে ছুঁরে মারে। এনি রুমের মধ্যে বিষাক্ত গন্ধ অনুভব করে নাক চেপে ধরে। এইটা যে তীব্র ওয়াইনের গন্ধ এইটা তার বুঝতে বাকি নেই। শ্বাস নিতে পারছে না সে। নাক চেপে ধরে নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” প্লিজ শাওয়ার নিয়ে আসুন, আর আমাকে মুক্তি দিন। সহ্য করতে পারছি না এমন পচনশীল দুর্গন্ধ।
নিক মাত্র’ই ওয়াশরুমে ডুকতে যাচ্ছিলো। এনির কথায় সে থেমে যায়। ঘাড় কাৎ করে তাকায় এনির দিকে। এরপর বাঁকা হেসে একদম বেড সাইটে এসে দাঁড়ায়। এনির দম বন্ধ হয়ে আসছে। আ্যলকোহলের গন্ধ চার- পাশ ছড়িয়ে গেছে। শ্বাস নিলেই গন্ধটা বাজেভাবে নাকে প্রবেশ করছে। এনির ছন্নছাড়া অবস্থা দেখে নিক ঝুঁকে পড়ে এনির দিকে। এরপর এনির কানের কাছ থেকে শুরু করে গলা পর্যন্ত ধীরে ধীরে ঠোঁটের স্পর্শ দিতে দিতে বলে,
” ফা*ক অফ বেবিগার্ল। অভ্যস্ত করে নাও এইটা। নাহলে প্রতিক্ষনে ক্ষনে অস্বস্তিতে পড়তে হবে। তবে অস্বস্তি বা মরে যাও, আই ডোন্ট কেয়ার। বাট আমার সামনে নাক ছিটকাতে আসবে না। আই অ্যাম ওয়ার্নিং ইউ ফর দ্যা লাস্ট টাইম। নেক্সট টাইম, আই উওন্ট ওয়ার্ন ইউ, আই’ল জাস্ট মেইক ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড।
নিকের স্পর্শ এনির শরীরে জ্বলন দিয়ে উঠে। রাগে কিড়মিড়িয়ে বলে,
” ডু নট টাচ অ্যাট অল। আপনার নোংরা স্পর্শ লাগাবেন না আমার শরীরে। শরীর জ্বলে উঠে, শরীর ঘিন ঘিন করে।
এনি কথাটা বলে শ্বাস নিতে পারে নি। তার আগেই গলায় চাপ অনুভব হতেই কেঁশে উঠে। নিক শক্তভাবে এনির গলা চেপে ধরে। এনি নিশ্বাস নিতে পারছে না। শ্বাস আটকে আসছে। চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম। নিকের চোখ দুটি জ্বলে উঠে। হাতের চাপ গভীর করে গর্জন করে উঠে,
” বান্দির বাচ্চা কার স্পর্শ ভালো লাগে? এই অবৈধ প্রেমিক নাবিদের? এই ছুঁয়েছি আমি তকে? শরীরের সাথে পিষে ফেলি নি বলে সাহস বেড়ে গিয়েছে।
এনি স্তব্দ হয়ে যায়। নাবিদ ওর ভাই সমতুল্য। যে তার আপা আর তাকে সবসময় প্রটেক্ট করে এসেছে। আর এই জঘন্য লোক অবৈধ প্রেমিক বানিয়ে দিয়েছে? এনি অনেক কষ্টে দুইটা কথা উচ্চারন করে,
” আল্লাহর গজব পড়বে এমন কথা বলবেন না। নাবিদ আমার ভাই সমতুল্য। ওর সম্পর্কের যাথে অবৈধ ট্যাগ লাগাবেন না। আপনার মত সবাই নয়। আপনার মত কেউ অবৈধভাবে একটা মেয়েকে নিজের রুমে বন্ধী করে রাখে না।
নিক এনির গলা আর ও চেপে ধরে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” তকে সেদিন বিয়ে করাটাই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো। বিয়ে ছাড়া দিনের পর দিন আমার সাথে এক বিছানায় থাকতি সেটাই ভালো ছিলো।
এনির চোখ দিয়ে গড়গড় করে পানি ঝড়তে থাকে। কোনোদিন কি ভেবেছিলো এইসব অশালীন বাক্যের সম্মুখীন হবে?
— বিয়ে কেনো করেছেন? আপনি তো মেয়েদের সহ্য করতে পারেন না।
— তর রং- তামাসা দেখার জন্য করছিলাম শালী।
— চরিত্রের সাথে মুখের ভাষা ও খুব জঘন্য আপনার। মেয়েদের সহ্য করতে পারেন না তাহলে কি ছেলেদের ভালো লাগে? গোপন সূত্রে লেসবিয়ান নয় তো আপনি?
নিক এইবার নিজের ধৈর্য হারায়। রাগে কাঁপতে থাকে পুরো শরীর। আচমকা এনির গাল ছেড়ে দিয়ে বিছানার সাথে চেপে ধরে। দুই হাত এমনভাবে চেপে ধরেছে যে জান যায় অবস্থা। এক ওয়াইনের এমন বিশ্রি গন্ধ তার উপর নিকের রাগের গুটি। নিকের ধূসর বাদামী চোখ রাগে লাল হয়ে আছে। এনির নীল মায়াবী চোখ গুলোর দিকে তাকালে হাজার ও রাগ মাটি হয়ে যায়। কিন্তু সামনে থাকা পুরুষটার মনে সামান্য মায়া জিনিসটাও জন্মায় না।
নিক এনির চুল চেপে ধরে শক্তভাবে ঠোঁটের সাথে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। এনির পুরো শরীর বৈদ্যুতিক শক খেলে যায় । রাগে আর ক্ষোভে কেঁপে উঠে সর্বাঙ্গ। নিক এনির ঠোঁটে শক্তভাবে চুমু খেতে থাকে উন্মাদের মত। দন্তের ঘর্ষনে রক্তাক্ত হতে থাকে ঠোঁটের ভিবিন্ন অংশ। ব্যাথায় এনির চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অনবরত। কাল ঠোঁটে সামান্য ছুঁরির আঘাত পেয়েছে বলে এখন আর ও জ্বলন হচ্ছে। কাঁটা স্থান থেকে পুনরায় রক্ত নির্গত হতে থাকে। নিক ঠোঁট ছেড়ে এনির গলায় নেমে আসে। অবাধ্য হাতের বিচরন শরীরের পড়তেই এনি নাক – মুখ খিঁচে ফেলে। ঘৃনায় শরীরে রি রি করে উঠে। নিক গলায় কামড় বসিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। চোখ বন্ধ করে থামিয়ে দেয় নিজের উন্মাদনা। কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে গম্ভীর শ্বাস টানে।
এনির চোখ রাগে জ্বলজ্বল করছে। ইচ্ছে করছে নিককে খুন করে ফেলতে। শরীরের সব শক্তি কমে আসছে ধীরে ধীরে। নিককে নিরব দেখে এনি সেই সময়টাকে কাজে লাগায়। মাথা থেকে ধারালো ক্লিপটা খুলে দিক – বিবেচনা না করে একদম নিকের বুক বরাবর বসিয়ে দেয়। আচমকা আক্রমনে নিক চোখ মেলে তাকায়। বুক থেকে তরল রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। কালো শাার্টের উপরের অংশ ভিজে উঠছে তরল রক্তে। এনি প্রচুর ক্ষোভ নিয়ে নিকের মুখের দিকে তাকায়। নিক নিজের ক্ষতস্থানের দিকে এক পলক তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে উঠে। বুকে চিনচিন ব্যাথা অনুভব করতে থাকে। তবে একজন হার্টল্যাস ব্যক্তির কাছে এইসব ব্যাথা অনুভব করা নিত্যান্তই জোক্স। এনি ক্লিপটাকে বের করে পুনরায় ডুকাতে যাবে নিক হাত ধরে ফলে। এনির হাতটাকে শক্ত করে চেপে ধরে গর্জন করে উঠে,
” কার বুকে আঘাত করেছো জেনে করেছো? হাত কেটে , শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলি? জানের ভয় নেই?
এনি সামান্য শব্দ করে হেসে উঠে। ঠোঁটের ব্যাথায় হাসতে ও পারছে না ভালোভাবে। এনিকে হাসতে দেখে নিক কপাল কুচকে ফেলে। এনি নিজের হাসিটাকে থামিয়ে বলে,
” জানের ভয় থাকলে কি আর জমরাজের বুকে আঘাত করতাম মি, জেভরান। আমি ও চাই আমাকে মেরে ফেলুন। এই যে মৃত্যু কামনা করছি আমি আপনার কাছে। আপনার মনে হয় আমি বেঁচে আছি? শরীরের মৃত্যু না ঘটলেও আত্নিক মৃত্যু অনেক আগেই ঘটেছে।
নিক এনির হাতটাকে ছেড়ে দিয়ে বাঁকা হেসে বলে,
” এই কারনেই তো মারব না বেবিগার্ল।ইচ্ছে তো করছে এখন ওই শরীরটা কেটে শত ভাগ করে ফেলি। গলা চেপে শ্বাসরোধ করে সিলিং – এ ঝুলিয়ে রাখি। কিন্ত তোমাকে মেরে ফেললে আমার চলবে না।
এনি কিছু বলতে গিয়ে ও আটকে যায়। সহ্য করতে পারছে না এই গন্ধ। পেটের ভিতরে থেকে নাড়ি- ভুড়ি উল্টিয়ে আসতে চাইছে। এনি মুখে হাত দিয়ে ওয়াশরুমের দিকে অগ্রসর হয়। এক দৌঁড়ে চলে যায় বেসিনের কাছে। গড়গড় করে পেট থেকে সব বের করে ফেলে। মনমত সব কিছু বের করে মুখে পানি ঝাপটা দিতেই ব্যাথায় আর্তনাদ করে ঠোঁটে। ক্ষত চিহ্নগুলোতে পানির স্পর্শ পড়তেই ঝলে উঠে। মনে হচ্ছ কেউ মরিচ লাগিয়ে দিয়েছে শত্রুতা করে। এনি ধপ করে দেয়াল ঘেষে বসে পড়ে। দুর্বল শরীরটা আর নাড়ানোর শক্তি নেই। একদম নিশ্চুপ হয়ে চোখের পানি বিসর্জন দিতে থাকে। সামান্য জ্বলন কমলে দেয়াল ধরে উঠে দাঁড়ায়। এরপর ধীর পায়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখতে পায় পাষন্ড নিক জেভরানকে। যে এই মুহূর্তে গম্ভীর হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। এনি না চাইতেও বিছানার কাছে যায়। নিক ইশারা দিয়ে বলে,
” একটা একটা করে আমার শার্টের বোতাম খুলো তো বেবিগার্ল।
এনি বিরক্তি নিয়ে তাকায়। এনিকে আসতে না দেখে নিক হাত মুঠোঁ করে ফেলে। রাগে দাঁত কটমট করে বলে,
” কথার অবাধ্য হইও না বেবিগার্ল। আমার রাগ কন্ট্রোল করার ক্ষমতা কারোর নেই। রেগে গেলে আবার ও রক্তাক্ত হয়ে যাবে। সামান্য ঠোঁট আর গলায় স্পর্শ করে ছেড়ে দিয়েছি। অবাধ্য হলে এই স্পর্শ তোমার পুরো সর্বাঙ্গে থাকবে। লাস্ট বার বলছি কাছে আসো আর বোতামগুলো খুলো।
এনি একদম নিরবে নিকের কথাগুলো শুনে। কোনোরকম অবাধ্যতা না করে নিকের কাছে এসে বসে। এরপর বিরক্তি নিয়ে একটা একটা করে খুলতে থাকে । তিনটা বোতাম খোলার পর ওই ঝলঝল করে উঠে তার দেওয়া ক্ষতটা। কেমন গর্তের মত ডেবে গিয়েছে। এনি ক্ষতটার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে উঠে,
” এই ক্ষতটা সামান্য হয়ে গিয়েছে। আরও গভীরে দেওয়া উচিত ছিলো। যাতে জানোয়ারটা ছটফট করে উঠে। সমস্যা নেই আজ ট্রেইলার দেখিয়েছি অন্যদিন পুরো কাহিনী দেখাব। যাস্ট সময়ের অপেক্ষা।
এনি ভাবনার মধ্যেই প্রতিটা বোতাম খুলে ফেলে। নিকের দিকে না তাকিয়েই সরে যেতে চাইলে নিক কোমড় পেচিয়ে ধরে শক্তভাবে। এনি রাগান্বিত চোখে তাকায় নিকের দিকে।
নিক এনির চোখের চাহনি দেখে গলার খাদ নামিয়ে বলে,
” চোখ নিচে বাবিগার্ল।।নাহলে এই সুন্দর মনিগুলো হারাবে। এখন এই ক্ষতটার উপর ড্রেসিং করে দাও।
এনি তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” সামান্য আঘাতে ড্রেসিং করতে হয় গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান? বিগত অনেকদিন ধরে যে আমাকে ক্ষত – বিক্ষত করে রক্তাক্ত করছেন তার ড্রেসিং কে করে দেয়। আমার শরীরে অসংখ্য কালসিটে দাগ পড়েছে যাস্ট আপনার আঘাতে। আর আমার সামান্য আঘতে ড্রেসিং এর প্রয়োজন পড়ে গেলো?
নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে এনির ঠোঁটের চিহ্নগুলোকে স্পর্শ করে। এনি চোখ খিঁচে ফেলে। নিক সেদিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বলে,
” আমার ক্ষতের হিসেব করতে এসো না বেবিগার্ল। ক্ষতে পচন ধরে গিয়েছে সেই ক্ষত নিয়ে ও নিক জেভরান দিনের পর দিন পার করেছে। নিজের কাটাস্থানে নিজে সেলাই করেছে। কিন্তু এই ক্ষতে ড্রেসিং লাগবে। আর সেটা তোমাকে করতেই হবে। অ্যান্ড ইফ ইউ ডোন্ট, দেন আই উইল টেক অ্যানাদার স্টেপ দ্যাট উইল মেইক ইউ স্ক্রিম। আর আমি যা চাই তাই করি। থেমে যাব না। মরে গেলেও নিজের কাজ চালিয়ে যাব।
এনি ঘাবড়ে যায়। নত মস্তিষ্কে চোখ বন্ধ করে একটা টিস্যু তুলে নেয় হাতে। ক্ষতটার উপর থেকে রক্ত পরিষ্কার করে। ক্ষতের উপর থেকে এখন ও উষ্ণ রক্ত ঝির ঝির করছে। প্রথমে ক্ষতের চারপাশ নরমভাবে পরিষ্কার করে নেয়।
সামান্য মেডিসিন লাগিয়ে দিয়ে তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ১২
” কি আশ্চর্য তাই না, আমি ক্ষতি করেছি আবার আমি’ই মেডিসিন লাগিয়ে দিচ্ছি। অথচ আমার ক্ষতে মেডিসিন লাগিয়ে দেওয়ার কেউ নেই। কারন আমি রক্ষিতা। রক্ষিতাদের আঘাত করতে শোভা পায় যত্নে নয়।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের । চোখ বন্ধ করে ফেলে। তার কি রাগ হচ্ছে? বুকের ভেতরে অস্থির কেনো হয়ে উঠছে? শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। মনে হচ্ছে কেউ কলিজায় আঘাত করছে। তার এমন তীব্র দহন কেনো হচ্ছ হুট করে?নিক নিজেকে সামলাতে না পেরে এনিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এরপর এক পলক না তাকিয়ে দ্রুত বেলকনিতে চলে যায়। এনি কপাল কুচকে তাকিয়ে থাকে সেদিকে। বিরতহীন নিশ্বাস ছেড়ে চোখের পানি মুছে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। ক্লান্ত, শরীরটা মুহূর্তেই নেতিয়ে পড়ে।
