Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৫

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৫

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৫
লিজা মনি

আরিশ এরিকের গালে সামান্য চাপড় মেরে বলে,
” তর বাপ যদি দুই ঘন্টার বেশি সময় অপচয় করে তবে দরজা ভেঙে ডুকে যাব দুজনে। কি বলিস? পারবি না বাবা -মায়ের রোমান্স ভেস্তে দিতে?
এরিক কি বুঝলো বুঝা গেলো না। দুই হাত- পা নাড়িয়ে শব্দ করে উঠে,
” আইইইই.. উউউউ!
” একদম ঠিক। কত বড় সাহস ভাবতে পারিস? ম্যাচ খেলবে বলে রুম থেকে বের করে দিলো। একটু ও মায়া হলো না তদের প্রতি।
” উউউউ..মমম..ইইইইই
” হ্যা সেটাই। আমিও এইটাও বলছি। একটুও মায়া নেই। শুন বাপ একটা আইডিয়া দেয় তকে। যখন এই তর বাবা – মা চুম্বকের মত কাছে আসতে চাইবে তখন এই গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে থাকবি। মনে থাকবে আমার কথা?
” ইইইই. আয়াউউউয়..
” এইতো ভদ্র ছেলে। সব কথা শুনছে আমার। তর বাপ অনেক মাইর দিছে আমারে এই জীবনে। কত যে নির্যাতন করছে এইসব লিখতে বসলে দুনিয়ার সব কাগজ শেষ হয়ে যাবে। তাই আর লিখলাম না। শুধু তকে বললাম। কিছুতেই ওদের এক হতে দিবি না। এইটা হচ্ছে আমার হয়ে তর নেওয়া প্রতিশোধ। বুঝলি কিছু?

” উউউউইইই! আপপইইই,
আরিশ চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। এরিক দুই হাত – পা সমান তালে নাচাচ্ছে। নাজলী বিরক্তি নিয়ে বলে,
” ওকে এইসব বলছেন কেনো? বুঝে এইসব?এমন ভাবে কথা বলছেন যেন আপনি এরিকের সব কথা বুঝতে পারছেন?
আরিশ এরিকের দুই পা উপরে তুলে নাভির এইদিকে সুঁড়সুঁড়ি দিয়ে বলে,
” আমরা একে- অপরের কথা বুঝি না? বুঝি তো সব! দুইজন এই গ্যাংস্টার বসের হাতে অত্যাচারিত মাল। একজনকে রোমান্স টাইমে রুম থেকে বের করে দেয়। আরেকজনকে হুমকি দিতে থাকে সারাক্ষণ। কিরে বলে দে, যে আমার কথা সব বুঝতে পারছিস!
এরিক দুই ঠোঁট চৌকা করে থু- থু বের করে শব্দ করে,
” চচ,চচচুউউউই, আপ…
নাজলী অবাক হয়ে তাকায়। আরিশ চোখ টিপে শব্দ করে হেসে উঠে,

” এইতো দেড় ব্যাটারি উত্তর দিয়েছে। তবে এখন থেকে সময় কাউন্ট করি কি বলিস? দুই ঘন্টার বেশি নয়। তবে আরেকটা উপাই আছে। জোরে -জোরে কাঁদতে থাক। যখন কান্নার আওয়াজ শুনবে তখন সব ছেড়ে ছুটে আসবে। কাঁদতে থাক বাপ! তদের বাপ- মায়ের রোমান্স আমার সহ্য হচ্ছে না। আমি উপোষ করে আছি আর এইদিকে তর বাপ কত কি করে ফেলছে।
আরিশ কথাটা বলে এরিকের পেটে খুঁচা দেয়। উন্মুক্ত পেটে হাতের নরম স্পর্শ পেতেই এরিক খিলখিল করে হেসে উঠে। আরিশ অন্ধকার মুখ করে এরিকের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,
” তকে কাঁদতে বলেছিলাম বাপ হাসতে নয়। আরে ব্যাটা সুযোগ যে দিচ্ছিস আরেকটা ভাই- বোন চলে আসলে কি করবি?
নাজলী নীরকে দুল দিতে দিতে আরিশের দিকে কড়া চোখে তাকায়। নাবালক শিশুর সামনে কিসব কথা বলছে! আরিশ নাজলীর চোখ দেখেও পাত্তা দিলো না। আরিশের এমন আচরন দেখে দাঁত পিষে বলে,
” লজ্জা বলতে কিছু নেই তাই না? একটা বাচ্চার সামনে কিসব বলছেন?
” মিথ্যে কি বললাম? লজ্জা পাওয়ার কি আছে? প্রচুর জ্বালিয়েছে ওই নিকের বাচ্চা। এইবার ওর ছেলেকে মেরে সব হিসেব তুলব।

নাজলীর থেকে চোখ সরিয়ে এরিকের দিকে তাকায়। এরিকের হাস্যজ্জল মুখটা দেখে সামান্য ঠোঁট নাড়ায়। সমুদ্রের ন্যায় নীলচে চোখ দুইটা যেন হুবহু এনির চোখ এনে বসিয়েছে।।মুখের গঠন সব যেন সেই লাস্যময়ী নারীর কপি! মনে পড়ে সেই প্রথম দিনের কথা। সামান্য দেখাতে কিভাবে থমকে গিয়েছিলো তার হৃৎপিন্ড। ভিতু হরিণীর মত চোখ দুইটার মায়ায় স্তব্দ হয়ে পড়েছিলো সে। মন শুধু বলছিলো এই জগতে এখনও এত নিষ্পাপ, লাস্যময়ী নারী টিকে আছে কিভাবে? এত সুন্দর ঝলকানি কি শুধুই সৌন্দর্য নাকি পবিত্রতা! ক্ষনিকের সেই অনুভতিটা কি ছিলো আরিশের জানা নেই। তবে সেই অনুভুতিটাকে সে সহজে ভুলতে পারে নি। আজও পেরেছে কি- না সেটা সে নিজেও জানে না বা জানতে ইচ্ছে নেই তার। আরিশ ঝুঁকে এরিকের কপালে চুমু খেয়ে গালে গাল স্পর্শ করে। ফিসফিস করে বলে,
” একদম মায়ের কপি হয়েছো তুমি এরিক। মায়ের মত ধৈর্যশীল হও। বাবার মত শক্তিশালী হয়ে উঠো। এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে এইগুলো প্রয়োজন বাবা। নয়ত টিকতে পারবে না কিছুতেই।
দুনিয়াটা অনেক স্বার্থপর বাবা। অনেক স্বার্থপর!

শাওয়ার শেষ করে নিক এইমাত্র আয়নার সামনে এসে দাঁড়ায়। তার সিক্ত শরীরে তখনও জমে থাকা জলকণাগুলো মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করছে। ভেজা চুলগুলো অবিন্যস্তভাবে কপালে ও মাথায় লেপ্টে আছে। কটিদেশে জড়ানো রয়েছে একটি কালো ট্রাউজার।

এনি মাত্র এসে শুয়েছে। তীব্র মাথাব্যথায় অস্থির হয়ে ওষুধ সেবনের পর চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। এক ধরনের অদ্ভুত অবসাদ আর জড়তায় তার পুরো শরীর ভেঙে আসছে। তপ্ত শরীরের এই অনুভূতি স্পষ্ট জানান দিচ্ছে যে জ্বর আসা স্রেফ সময়ের ব্যাপার। শারীরিক আর মানসিক এই চরম অস্বস্তির মুহূর্তে বুক ঠেলে কেবল কেঁদে উঠতে ইচ্ছে করছে। চাঁদরের নিচ থেকেই আওয়াজ করে বলে,
” এরিক আর নীরকে বলেন দিয়ে যেতে। কাঁদছে নিশ্চই!
নিক টাওয়েল দিয়ে চুল মুছে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় এনির দিকে। এইভাবে আপাদমস্তক ঢাকা দেখে হালকা ধমক দেয়,
” আমি তোমার মামাশশুর নাকি চাচাশশুর? এইভাবে ঢেকে রেখেছো কেনো নিজেকে?
এনি চট করে সরিয়ে ফেলে চাঁদরটা। রাগ দেখিয়ে কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। নিকের বুকের দিকে তাকিয়ে সব কথা ফুরিয়ে যায় তার। কিছুক্ষন আগে তো শার্ট পড়া ছিলো না। তখন তো খেয়াল করে নি দৃশ্যটা! নিকের বাম বুকে তিনটা ছোট্ট ছোট্ট পায়ের ছাপ স্পষ্ট। আর ডান দিকের রমণীকে সে চিনতে ভুল করে নি। তার এই অবয়ব এইটা! এনির দৃষ্টি অনুসরণ করে নিক ঠোঁট নাড়ায়। ভ্রুঁ কুচকে বলে,
” হোয়াট ডু ইউ সি মাই ফা*কিং বেবিগার্ল ?
এনি আনমনে বলে,

” কখন করেছেন এই ট্যাটু? আমি দেখিনি কেনো?
শান্ত গলায় উত্তর দেয় গ্যাংস্টার বস,
” কারন তুমি আমার বুক থেকে দুরে ছিলে এতদিন!
এনি ঠোঁট চেপে চোখের পানি আটকে রাখতে চাচ্ছে। চাঁদরটা সরিয়ে ঠিকভাবে উঠে বসে। খাটে হেলান দিয়ে বলে,
” আমাকে কেনো দুরে সরিয়ে রাখলেন এতদিন? কেনো দেখান নি এইগুলো?
” আমি দুরে সরিয়ে রেখেছি। তুমি তো চাইলেই বুকে মাথা রাখতে পারতে। আমি কি সরিয়ে দিতাম?
” আমি কেনো যাব? আপনি কেনো দুরে সরাবেন?
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে এনির দিকে এগিয়ে আসে। এনির দিকে ঝুঁকে বাঁকা হেসে বলে,
” তোমার কেনো মনে হলো আমি তোমাকে চারমাস দুরে সরিয়ে রেখেছি? বর্তমানে বাচ্চাদের বাবা হলেও তোমার স্বামীর পদ থেকে সরে যায় নি। সেই উন্মাদ, বেপোরোয়া, জানোয়ার নিক জেভরান এই আছি।
তোমার গলায় যে রকেট তা আমার বার্তাবাহক। তোমার প্রতিটা নিশ্বাস আমার জানা। তুমি ঘুমিয়ে গেলে বুকে টেনে নিয়েছি আবার জেগে উঠার আগেই সরিয়ে দিয়েছি। নিজ স্থানে, নিজ গন্তব্যে! ইজ ইট পসিবল টু স্লিপ উইদাউট মাই ওয়াইফ?
এনি অবাক হয়ে আছে। কি সাঙ্ঘাতিক জঘন্য মাস্টার মাইন্ডের লোক এইটা? এতদিন সে তবে বিনা কারনে কেঁদে -কুটে অস্থির হয়ে ছিলো। এনি দাঁত পিষে বলে,

” খুব তো বলতেন আমার কান্না সহ্য হয় না। তবে এতদিন কাঁদালেন তার ক্ষেত্রে?
” কান্নাটা আমাকে ঘিরে ছিলো। এতে রাগ নয় প্রশান্তি এসেছে মনে। আইভ এক্সপেরিয়েন্সড আ টেরিফাইং, ডেভিলিশ সেন্স অব প্লেজার বেবিগার্ল!
এনি হতভম্ভ! এই সাইকো কি জীবনে সুধরাবে? হয়ত না! এনি তপ্ত শ্বাস ফেলে নিকের বাম দিকে স্পর্শ করে। পায়ের ছাপগুলোতে হাত বুলিয়ে বলে,
” আমার নিভ্রিতার পা কোনটা নিক?
নিক উপরের দিকে ইশারা করে এনির ঘাড়ের দিকে চেপে ধরে বলে,
” উপরের ছাপটা।
” আজ যদি সে বেঁচে থাকত তবে আমাদের তিনটা সন্তান থাকত তাই না? এরিক আর নীরের সাথে সেও বড় হয়ে উঠত। সেও আমাকে কিছুদিন পর মাম্মাম বলে ডাক দিত। আমার বুকটাকে এমন খালি করলো কেনো বলেন তো? অভাগা যেদিকে যায় সেদিকে বিপদ খুঁড়ে রাখা হয়। এই একটা জীবনে আর শান্তি পেলাম না। পূর্নতার থেকে ব্যার্থতার বর্ণনা বেশি।
এনি ফুঁপিয়ে উঠে আচমকা। নিকের কি হলো কে জানে। এনির ঘাড়টা চেপে ধরে নিজের সম্মুখে নিয়ে এসে বলে,

” বাবা – মায়ের হৃদয় থেকে কখনো সন্তানের অস্তিত্ব মুছে যায় না মিসেস নিক জেভরান! সে আমার মত এক পাপীর রক্ত ছিলো। কিন্তু সে পবিত্র! আমার পবিত্র অংশ। আর গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের অস্তিত্ব কখনো হারিয়ে যায় না। সে আছে, ছিলো, আজীবন থাকবে। শারীরিকভাবে না হোক অন্তরের অন্তস্থলে থাকবে। এরিক তাদের সাথেই বড় হয়ে উঠব। শুধু হৃদয় দিয়ে অনুভব করবে। ঠিক নিভ্রিতা নামক অস্তিত্বের সন্ধান পাবে!
এনি চোখ বন্ধ করে শ্বাস টেনে বলে,
” আমাকে আজীবন ভালোবাসবে নিক? একটু ভালোবাসা পেতে চাই। কখনো আর অবহেলা করো না সইতে পারব না।
” তোমাকে সেদিন কে এইসব ছবি পাঠিয়েছিলো?
নিকের গম্ভীর গলা। এনি আচমকা চোখ মেলে তাকায়। বুঝতে পারছে তার কথাটা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাচ্ছে। এনির রাগ হলো অনেক। কেনো এড়িয়ে যাবে তার কথাকে? ভালোবাসা কি অপরাধ? তবে কেনো ভালোবাসি শব্দটা বলে না? এনি ক্ষুব্দ চোখে বলে,

” আপনাকে আমি অন্য প্রশ্ন করেছি এরিকের পাপা।
” কতবার উত্তর দিব একই প্রশ্নের?
” যতবার উত্তর জানতে চাইব।
নিক এনির চুলগুলো সরিয়ে ঘাড়ে শক্তভাবে কামড় খায়। এনি নাক -মুখ খিঁচে শব্দ করে উঠে সামান্য। নিক সেখানে পুনরায় চুমু খেয়ে হিসহিসিয়ে বলে,
” ইউ আর মাই অ্যাডিকশান, মাই ইনটক্সিকেশান, মাই ডীপ প্যাশন। আই ডোন্ট কেয়ার ফর সুপারফিশিয়াল লাভ। তোমার সংস্পর্শে এসে আমি মাদক সেবন করা ভুলে গিয়েছি। ড্রাগস, ওয়াইনে সারাক্ষণ ডুবে থাকা ব্যাক্তিটা তোমার উপস্থিতিতে মাতাল হয়ে যায়। আর কাছে না পেলে উন্মাদ হয়ে যায়। ড্রাগসের নেশা থেকেও বড় নেশা তুমি বেবিগার্ল!
এনির শরীর শিউরে উঠে। শক্ত গলায় বলে,
” বুকে স্থান দিয়ে দিলেন অথচ ভালোবাসি শব্দটা বলতে পারছেন না। আ……
এনি থেমে যায় দরজা ধাক্কানোর শব্দে। নিক বিরক্তিতে এনির কাছ থেকে সরে এসে দরজার কাছে যায়। আরিশ এরিককে নিয়ে থতমত মুখে দাঁড়িয়ে আছে। এরিকের অবস্থা দেখে নিক চোয়াল শক্ত করে ফেলে। ছেলেটার শরীরে একটা কাপড় নেই। আরিশ গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,

” বস! আপনার সহধর্মিণী কি সুস্থ আছেন? হসপিটাকে নিতে হবে কি? নাকি ডাক্তার মোনালিসাকে ডাকব আবার?
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে ভ্রুঁ নাচায়। কপাল ঘেষে বলে,
” গ্যাংস্টার বসকে সহ্য করার ক্ষমতা তার স্ত্রীর আপাতত আছে।
” আসলেই কি দুই ঘন্টা লেগেছে বস? অনেক দিন পর তো লাগলেও লাগতে পারে। কোনো ব্যাপার না এইসব। দুই ঘন্টা শেষ। এরিক তোমার পাপাকে বলো বাকি কাজ রাতে করতে। এখন আর সময় দিতে পারবে না তুমি।
নিক কটমট চোখে তাকিয়ে ধমক দেয়,
” আমার ব্যাংকে কি টাকার অভাব পড়েছে? ওকে এইভাবে উলঙ্গ রেখেছিস কেনো?
আরিশ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,
” চেক করছিলাম সব কিছু ঠিকঠাক আছে কি না। মেয়ের জামাইর সব কিছু দেখা শশুর হিসেবে আমার দায়িত্ব। ফিউচারে কি বাপের মত বউ অজ্ঞান করবে নাকি হাসপাতালে পাঠাবে সেটা এই দেখছিলাম। একমাত্র মেয়ের জামাই বলে কথা!
নিক রাগে তাকায় আরিশের দিকে। এই মুহূর্তে এইটাকে মারতে না পারলে তার শান্তি মিলবে না। দাঁত কটমট করে বলে,

” আমার ছেলেরটা চেক না করে নিজেরটা করে নিতি। কাজে আসত অনেক। রাবিশ! সামনে থেকে বিদায় হ নয়ত মাইর খাবি এই মুহূর্তে!
আরিশ শব্দ করে হেসে এরিককে নিকের কাছে দেওয়ার জন্য এগিয়ে যায়। তার আগেই এরিক এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। আরিশের কোলের মধ্যেই প্রস্রাব করে দেয়। আরিশ চোখ বড় বড় করে চেঁচিয়ে উঠে,
” এই পান্ডা, শশুরের কোলে হিসু করতে লজ্জা করে না? একদম বাপের মত হয়েছিস নির্লজ্জ! এমন নির্লজ্জকে জামাই বানাব না। কি সাঙ্ঘাতিক জামাই, শশুরের কোলে হিসু করে দেয়।
নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে আরিশের কোল থেকে ছিনিয়ে নেয় একপ্রকার। অপরিপক্ক হাতে ছেলেকে কোলে নিয়ে আরিশের উদ্দেশ্যে বলে,
” ভাগ্য ভালো তর শরীরে ঢেলেছে। শুক্রিয়া কর একদম মুখে ঢালে নি। যে শশুর জামাইর জিনিস চেক করতে পারে তার মুখেই করা উচিত ছিলো ইডিয়েট! আমার মেয়ে কোথায়?
আরিশ শার্ট খুলে বলে,
” নাজলীর সাথে ঘুমাচ্ছে। ওদেরকে ফিডার খাইয়ে দিয়েছে। এরিক কাঁদছিলো তাই নিয়ে এসেছি।
নিক দরজা লাগাতে -লাগাতে বলে,
” আমার মেয়ে ঘুম থেকে উঠলে সোজা নিয়ে আসবি। আবার কোনো অঘটন ঘটালে খোদার কসম আরিশ ছাড়ব না তকে।
আরিশ ওপাশ থেকে কি বললো সাউন্ড প্রুফ রুমে কোনো শব্দ আসলো না। এরিক নিকের কাধে মাথাটা এলিয়ে দেয়। নিক মনের অজান্তেই ফিসফিস করে বলে,

” বাবা আমার। কবে পাপা ডাক শিখবে তুমি? গ্যাংস্টার বসকে অধৈর্য বানিয়ে দিচ্ছো। এত ক্ষমতা তোমার!
নিকের কথা এরিক পর্যন্ত এই ছিলো। এনির কানে পৌঁছালো না কিছু। এরিক এনিকে দেখেই লাফিয়ে উঠে খুশিতে। একপ্রকার ঝাঁপিয়ে পড়ে এনির কোলে। এনি এরিককে নিয়ে কিছুক্ষণ চুমু খায়। চুলে হাত বুলিয়ে বলে,
” বাবা আমার! মিস করো নি মাম্মামকে? হুম।
এরিক বর্তমানে কোনো কথা শুনতে চাচ্ছে না। এনির বুকে নাক – মুখ ঘেষতে থাকে। এনি হালকা হেসে তার কাঙ্খিত জিনিসটা দিয়ে দেয়। পাঁচ সেকেন্ডের ভেতরে শব্দ আসে,
” চ… চ্চ,চুউউউউ!
নিক শব্দ শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। কিছক্ষণ তাকিয়ে থাকে সেই দৃশ্যে। পাষন্ড হৃদয়টা কেমন অশান্ত হয়ে উঠেছে। খেতে অসাবধানতা হয়েছে ভেবে কপাল কুচকে বলে,
” এমন শব্দ হচ্ছে কেনো? ঠিকভাবে নাও।
এনি লজ্জায় হাঁশফাঁশ করে উঠে,
” বাচ্চারা কিছু খেলে হুটহাট এমন শব্দ হওয়া স্বাভাবিক।
নিক এনির ফোন হাতে নিয়ে বলে,

” তোমার ছেলে এমন ভাবে শব্দ করে খাচ্ছে যেন আমেরিকার সব ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে তুলবে।
এনি হেসে এরিকের কপালে চুমু খায়। নিককে ফোন নিতে দেখে তপ্ত শ্বাস ফেলে। ছবি গুলো দেওয়া গুপ্তচরকে খুঁজে বের করে কঠিন যন্ত্রনা দিয়ে মারবে সিউর। এনি তবুও সুপারিশ করে বলে,
” প্রানে না মারলে হয় না? শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দিন।
নিক দরজার বাহিরে যেতে গিয়েও থেমে যায়। সামনের দিকে তাকিয়েই বলে,
” শত্রুকে জীবিত রাখা গ্যাংস্টার বসের রুলসে নেই। ধরে নাও এই গুপ্তচর এই আমার মেয়ের আসল খুনী। আর যে আমার অস্তিত্বকে নিশ্বেস করতে চেয়েছে তার পুরো অস্তিত্বকেই আমি ফুটন্ত তেলে ভাজব!

আরিশ, অধিরাজ আর নিক আছে মিনারের সেই গোপন ল্যাবে। এনির মুঠোফোনের পর্দায় ভেসে উঠেছে নিকের কিছু গোপন আলোকচিত্র। কোনো এক অপরিচিতা নারীর সাথে কাটানো কিছু চরম অন্তরঙ্গ মুহূর্তের প্রমাণ সেগুলো। তার মধ্যে একটি ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে—নিক মেয়েটিকে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছে। ছবিটা দেখামাত্রই নিকের চোখ-মুখ কুঁচকে আসে। তীব্র অস্বস্তি আর ঘৃণায় ছেয়ে যায় পুরো অবয়ব। পরক্ষণেই এক অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধে সমস্ত শরীর রি রি করে কাঁপতে থাকে। আরিশ সেদিকে তাকিয়ে নিকের উদ্দেশ্যে বলে,
” এনি কোনো রিয়্যাক্ট করে নি ছবিগুলো দেখে?
নিক গলার কাছের শার্টের বোতামগুলো খুলে বলে,
” বুঝে গিয়েছিলো এইটা আমি নয়।
আরিশ ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,

” এত সহজে কিভাবে বুঝে গেলো? তর শরীরের প্রতিটা ট্যাটুও সুক্ষ্ম ভাবে নকল করা হয়েছে। এক দেখাতেই বলবে তুই। এনি কিভাবে বুঝলো তুই না?
নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলে,
” আমার কানে রিং আছে এইটাতে নেই। ঘাড়ের ঠিক মাঝঝানে তিল আছে বাট এইটাতে নেই। শরীরের লোমগুলো ও আলাদা।
আরিশ হাসলো সামান্য। গম্ভীর হয়ে বলে,
” বুদ্ধির প্রশংসা না করে পারছি না। এত নজর কে দেয় ভাই।
” বউ আমার সব সময় বুদ্ধিমতী। মাঝে মাঝে স্ক্রু ঢিলা হয়ে যায় এইটা এই সমস্যা।
আরিশের মন খারাপ হয়ে আসে। কিবোর্ডে হাত রাখে বিরবির করে বলে,
” তরটা তো মাঝে- মাঝে। আর আমারটা যে ক্ষণে-ক্ষণে নাকে চুবানি খাওয়াচ্ছে সেটা কার কাছে বলি! রক্ষা করো খোদা। রক্ষা করো! মেয়ে জাতির প্যাচ থেকে রক্ষা করো।
অধিরাজ মনিটরে কিছুক্ষন নজর রেখে বলে,
” বস আপনি সিউর। এইটা সেই লুকায়িত শত্রু? যাকে আমরা এতমাস ধরে খুঁজছিলাম। যদি সে হয়ে থাকে তবে এতটা বোকার মত কাজ কিভাবে করলো। নাম্বার হ্যাক করাতো বা হাতের কাজ। জানা সত্তেও কেনো এমন কাজ করবে? তাও আবার ম্যামকে ব্লেকমেইল!
নিকের চোখের মণি দুটো তখন রাগে আর হিংস্রতায় টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। ঠিক যেন এক ক্ষুধার্ত নেকড়ের দৃষ্টি। আন্ডারওয়ার্ল্ডের একচ্ছত্র সম্রাট সে; যার একটা দীর্ঘশ্বাসে পুরো শহরের অপরাধ সাম্রাজ্যে ভূমিকম্প হয়, তাকেই কি না ব্লাকমেইল করার দুঃসাহস! নিকের হাত কাঁপছিল। তার ধমনীতে প্রতিশোধের রক্ত ফুটছে। কপাল ঘেঁষে বলে,

” সে ভেবেছিলো আমার স্ত্রী বোকা। আমাকে অবিশ্বাস করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে। আর এই সুযোগের ব্যবহার করবে ইবলিশের বাচ্চা । সে হয়ত জানে না বাস্তবে এই নারী যতটা সরল পরিস্থিতির চাপে পড়লে তার থেকেও বেশি হিংস্র হয়ে উঠে। মাদার্ফাক!
​নিক ড্রয়ার থেকে একটি এনক্রিপ্টেড স্যাটেলাইট ফোন বের করে।অধিরাজের দিকে তাকিয়ে গর্জন করে বলে,
” ওইপাশে যে শুয়রের বাচ্চা থাকুক, তাকে ত্রিশ মিনিটের মধ্যে আমার পদতলে চাই।
অধিরাজ কানে ইয়ারপাস লাগিয়ে টেবিলে বসে যায়। শুরু হয় নিজস্ব ব্ল্যাক-বক্স ট্র্যাকিং। কোনো সাধারণ ফিশিং লিংকে যায় নি। আরিশের ইশারাতে একদম সরাসরি ব্যবহার করে অবৈধ ‘পেগাসাস’ গোছের জিরো-ক্লিক স্পাইওয়্যার। ওপাশের অপরাধী কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মুঠোফোনের ব্যাকডোর দিয়ে ঢুকে পড়ে মূল ডেটাবেজে। মাত্র বিশ মিনিটের মাথায় নিকের ফোনের স্ক্রিনে একটি এনক্রিপ্টেড ফাইল এসে পৌঁছে যায়। নিক বাঁকা হেসে সেদিকে তাকায় । সেখানে ওই অজ্ঞাত নম্বরের আইএমইআই (IMEI), বর্তমান নিখুঁত জিপিএস কো-অর্ডিনেটস, এবং সেই সিমটি যার নামে নিবন্ধিত তার সমস্ত গোপন নথিপত্র, ব্যাংকের লেনদেন এবং বর্তমান লাইভ ছবি ভেসে উঠে। এত কম সময়ে কাজে সফল হয়ে অধিরাজ কান থেকে ইয়ারপাস নামিয়ে শ্বাস ফেলে। তিন জন এই মনিটরের দিকে তাকায়। আরিশ অবাকের চূড়ান্ত সীমাতে গিয়ে পৌঁছেছে। অধিরাজ কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলছে।
​স্ক্রিনে ফুটে ওঠা সেই চেনা মুখটার দিকে তাকিয়ে নিকের ঠোঁটের কোণে এক নিষ্ঠুর পৈশাচিক হাসির রেখা ফুটে উঠে আচমকা। অপরাধী নিজের মৃত্যু পরোয়ানা নিজেই নিকের হাতে তুলে দিয়েছে। নিকের চোখ থেকে যেন আগুন ঝড়ছে। বন্ধুকের ট্রিগারে হাত ডুকিয়ে নিষ্ঠুর ভাবে হাসলো,
” দ্য গেম ইজ ফাইনালি ওভার। ওয়েলকাম টু দ্য ড্রেডফুল টর্চার সেল অব দ্য গ্লাস ম্যিনার”

আরিশ রুমে প্রবেশ করে প্রায় শেষ রাতে। নাজলীকে বলে গিয়েছিলো ফিরতে একটু দেরী হবে। তাই আপাতত টর্নেডো থেকে বেঁচে গেলো সে। নাজলী আরিশের ওয়ালেট হাতে নিয়ে কটমট চোখে তাকিয়ে আছে। আরিশ ভ্রুঁ কুচকে বলে,
” এইভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?
নাজলী দাঁত পিষে ওয়ালেটটা আরিশের দিকে ছুঁড়ে মারে। আরিশ কোনোরকম ক্যাচ করে ক্ষুব্দ চোখে তাকায়। নাজলীর চোখে পানি টলমল করছে। আরিশ হতভম্ভ হয়ে থাকায়। কথা বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। কোনোরকম ঠোঁট ভিজিয়ে নাজলীর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
” কি অপরাধ করেছি? কাঁদছো কেনো হুট করে? টাকা প্রয়োজন? ক্যাশ পাও নি বললে কাঁদছো?
আরিশের কথাটা বলতে দেরী নাজলী আক্রমন করতে দেরী করে নি। টেবিলের উপরে রাখা গ্লাসটা হাতে নিয়ে আরিশের দিকে পানি ছুঁড়ে মারে। আরিশের পা থেম যায়। সামান্য কিছুটা পিছিয়ে যেতেই নাজলীর রাগী গলা ভেসে আসে,

” তর টাকার গুষ্টি মারি। ওয়ালেটের মধ্যে আমার ছবি নেই কেনো? ছবি রাখতে কষ্ট লাগে? কেনো নেই একটা ছবি?
আরিশ বহু কষ্টে নিজের রাগটাকে কন্ট্রোলে রাখে। ডাক্তার বলেছে এই সময় অনেক মুড সুইং হবে। ধৈর্য ধরে সবটা সামলাতে হবে।
মুখের পানি মুছে ধমক দিয়ে উঠে,
” থাপ্পর মেরে কান তব্দা লাগিয়ে দিব বিয়াদব! তুই – তুই কারী কি ধরনের ভাষা? বন্ধু হয় আমি তোমার নাকি বয়সে ছোট?
আরিশের ধমকে নাজলীর মন বিষিয়ে উঠে। তবুও বেহায়ার মত মৃদু আওয়াজে বলে,
” একটা ছবি নেই কেনো? কেনো থাকবে না আমার ছবি?
” তোমার ছবি আমার পাছার মধ্যে থাকতে যাবে কেনো?
নাজলী চট করে মাথা তুলে চেঁচিয়ে উঠে,
” খবিশ লোক! কিসব অভদ্র ভাষা। আমি ওয়ালেটে রাখার কথা বলেছি।
আরিশ শার্টের কলার ঠিক করলো। আস্তে করে নাজলীর দুই কাধ জড়িয়ে ধরে। রাগে নাজলীর ঠোঁট কাঁপছে। আরিশ ঝুঁকে ঠোঁটের মধ্যে কামড় বসিয়ে বলে,
” ওয়ালেট আমার পিছনে থাকে সব সময়। বুকের মধ্যে নয়। আর পিছনটাকে সহজ ভাষায় পাছা বলে। আমার বউয়ের দাম এত কম নাকি যে…..

” থায়ায়ায়ায়াক!
আরিশকে বলতে না দিয়ে নাজলী মাঝপথে থামিয়ে দেয়। আরিশ চোখ ছোট – ছোট করে তাকায় ক্লান্ত নাজলীর দিকে। নাজলী বিছানার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
‘ ভুল হয়েছে আমার। উচিত হয় নি আপনাকে এইসব বলা। আবার যদি ওই অভদ্র ভাষাটা ব্যবহার করেছেন তো রুম থেকে বের করে দিব সোজা।
আরিশের যেন দাম্ভিকতায় লাগলো কথাটা। নিয়তির হিসেব মিলাতে পারছে না সে। ক্রিমিনাল লিডার আরিশকে কেউ রুম থেকে বের করে দিবে এমন হুমকি দিচ্ছে! আরিশ ভ্রুঁ ভাঁজ করে বলে,
” হুমকি দিচ্ছো আমাকে?
” দিচ্ছি।
” সাহস বেড়েছে?
” সব সময় এই ছিলো।
আরিশ শার্টের বোতাম একটা – একটা করে খুলে জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলে বলে,

” দেখি আমাকে কিভাবে রুম থেকে বের করো। তোমার সাহস আর ক্ষমতা আমিও দেখতে চাই।
নাজলী কিছুক্ষণ শক্ত চোখে-মুখে তাকিয়ে রইলো। অসুস্থতার মধ্যে সব কেমন অসহ্য লাগছে।মাথাটা ঘুরছে প্রচন্ড। আবার ও পেট উল্টে সব কিছু বের হয়ে আসতে চাইছে। নাজলী কপালে এক হাত দিয়ে চেপে ধরে রেখে আঙ্গুল উচিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই থেমে যায়। কথাটা আর বলা হলো না তার। মুখে হাত দিয়ে দ্রুত বেসিনের কাছে যায়। গলায় হাত দিয়ে গলগল করে বমি করে ভাসিয়ে দেয় সব। আরিশ দ্রুত নাজলীর মাথাটা চেপে ধরে। চিন্তায় তার মস্তিষ্কের রগগুলো কেমন ভেসে উঠেছে। চোখ- মুখে পানি দিতেই নাজলীর শরীর একদম নিস্তেজ হয়ে আসে। পুরোটা ওজন আরিশের শরীরের উপর এলিয়ে দেয়। ইচ্ছে করছে মাথাটা রেখে শান্তির ঘুম দিতে। কিন্ত জেদ আর অভিমানে সেটা আর করা হলো না। আরিশ ছোটখাটো শরীরটাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে চিন্তিত গলায় বলে,

” কেমন লাগছে জান?
নাজলী ছ্যাৎ করে উঠে আচমকা। আরিশের উন্মুক্ত গলায় কামড় বসিয়ে বলে,
” একদম ভালো সাজতে আসবেন না। ব্যাপারটা এমন হলো না, যার জন্য মৃত্যুকে গ্রহন করলো সেই এসেছে জানাজায় শরিক হয়ে মৃত আত্নাকা শান্তনা দিতে। সব আপনার দোষ। আপনার কারনে আজ আমার এই হাল। যেমন ঘাড়ত্যারা আপনি ঠিক আরেকটা অনুরুপ আমার মধ্যে দিয়ে দিয়েছেন।
আরিশ সবটা অভিযোগ শুনলো। মেয়ে মানুষ সানলানো এত কঠিন তার জানা ছিলো না। এমনিতেই গুলাবারুদ তার উপর প্রেগনেন্সির মুড সুইং! আরিশ শুকনো ঢোক গিলে বলে,
” সে কি বেশি কষ্ট দেয়? ”
” নিজের পেটে নিয়ে দেখুন কেমন মজা লাগে। কষ্ট দেয় নাকি শান্তি দিচ্ছে বুঝতে পারবেন।
আরিশ তপ্ত শ্বাস ফেলে বিরবির করে আওড়ায়,
” আমার সাথে রাগ দেখাচ্ছো কেনো?
নাজলী ওরনা দিয়ে মুখ মুছে বলে,
” আপনি ছাড়া কে আছে আমার? কে সহ্য করবে এমন খিটখিটে মেজাজ?
আরিশ ঠোঁট কামড়ে হাসলো। নাজলীর শুষ্ক ঠোঁটে চুমু খেয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়,

” একটু রেস্ট নাও। শরীরের খারাপ লাগা কিছুটা কমবে।
নাজলী পিটপিট করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বলে,
” টক খেতে ইচ্ছে করছে। নিয়ে আসুন দ্রুত।
আরিশ পাশে বসতে গিয়েও বসলো না। পাশে রাখা মিনি ফ্রিজের কাছে এগিয়ে যায়। পুরো ফ্রিজ ভর্তি আচার এনে রাখা। রাতে ঘুমের ঘুরে আচার খাওয়ার কথা বলেছিলো। পরেরদিন এই ফ্রিজ ভর্তি আচার নিয়ে এসেছে সে। আরিশ ফ্রিজ খুলে বয়ামে হাত দিতেই নাজলীর মত পাল্টে যায়।
” উহুম আচার খাব না আর। ইচ্ছে করছে না কিছু।
আরিশ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। অবাক হয়ে বলে,
” এই মাত্র তো বললে খাবে? এখন না কেনো?
নাজলী চোয়াল পিষে তাকায়। আরিশ স্ত্রীর চোখ দেখে চুপ হয়ে যায়। নিজেকে মাঝে – মাঝে খুব অসহায় লাগে। সে যে ভেজা বেড়াল হয়ে থাকে এইটা বাহিরে কেউ না জানলেই চলবে। নয়ত লোক-সমাজে থাকা মুশকিল হয়ে পড়বে। নিউজে আসবে যার ভয়ে শত্রুপক্ষ প্যান্ট ভেজায় সে নিজেই বউয়ের রাগান্বিত চোখ দেখে চুপসে যায়!
দরজায় হুট করে শব্দ করে উঠে কেউ। আরিশ ভ্রুঁ কুচকে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। দরজা খুলতেই রিদ্ধিমার অধৈর্য মুখটা ভেসে উঠে। রিদ্ধিমা হাপাচ্ছে অনেক।

” কি হয়েছে? এমন দেখাচ্ছে কেনো তোমাকে?
রিদ্ধিমা আরিশকে কি উত্তর দিবে বুঝে পায় না। ঠোঁট ভিজিয়ে কোনোরকম বলে,
” আপনি একটু বাহিরে যাবেন ভাইয়া? আপুর সাথে আমার কিছু কথা ছিলো।
আরিশের কপালে ভাঁজ পড়ে। গম্ভীর গলায় বলে,
” আমার সামনে বললে কি সমস্যা?
” কথাটা পার্সোনাল ভাইয়া, আমার জন্য।
আরিশ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বাহিরে বের হয়ে যায়। রিদ্ধিমা শক্ত করে দরজাটা চাপিয়ে নাজলীর দিকে এগিয়ে যায়। শ্বাস দ্রুত বেগে চলছে। কপালে বিন্দু-বিন্দু ঘামের কণা। নাজলী সোজা হয়ে বসে রিদ্ধিমার দিকে তাকায়।
” তোমাকে অন্যরকম লাগছে অনেক।
রিদ্ধিমা আর বলতে পারলো না। হাঁউমাঁউ করে কেঁদে উঠে। কান্নাটা কেমন যেন করুণ শুনালো। নাজলী হতভম্ভ হয়ে যায়,

” কি হয়েছে রিদ্ধিমা? এইভাবে কাঁদছো কেনো? রিলাক্স!
রিদ্ধিমা ধপ করে বিছানায় বসে যায়। কথা গুলিয়ে ফেলছে সে। সব কেমন কন্ঠনালীতে আটকে আসছে। উন্মাদের মত কেঁদে উঠে,
” ন… নাভিদ!
নাজলী উঠে আসে নিজের স্থান থেকে। রিদ্ধিমার কাঁপতে থাকা দেহটাকে আকড়ে ধরে বলে,
“. ক.. কি হয়েছে নাভিদের? ত.. তুমি এমন করছো কেনো?
” আপু.. আপু নাভিদ ঠিক নেই। নাভিদ একদম ঠিক নেই। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে আপু। একদম ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
রিদ্ধিমা কথা বলতে পারছে না ঠিকভাবে। নাজলী শুকনো ঢোক গিলে। আতঙ্কে তার ভেতরটাকে খামছে ধরেছে যেন কেউ। ঢোক গিলে বলে,
” ক.. কি হয়েছে? প্লিজ রিদ্ধিমা কিছু একটা বলো। আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। ছেলেটা বেঁচে আছে তো?
রিদ্ধিমা ফুঁপিয়ে উঠে। দুই হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে নিস্তেজ গলায় বলে,
” পিলগ্রিম স্টেট মানসিক হসপিটালে সে ভর্তি আছে। নামটা পরিচিত লাগছে? এইটা সেই হাসপাতাল যেখানে ১৯৫৪ সালের দিকে এর ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে। ইতিহাসের সব থেকে বড় হাসপাতাল ছিলো। ওই জঘন্য হাসপাতালে আমার নাভিদ ভর্তি আছে আপু।
নাজলী স্তব্দ হয়ে যায়। মস্তিষ্কের প্রতিটা নিউরন কেমন কাঁপছে। দুই হাত দিয়ে খামছে ধরে বিছানার চাদর। কান্না গলায় আটকে আসছে তার। ঠোঁট কামড়ে ধরে বড় বড় নিশ্বাস টেনে বলে,

” ভগ্য কেনো এমন জঘন্য খেলা খেললো রিদ্ধিমা? কেনো সে এইভাবে ঠকে গেলো? ভাগ্য কেনো তাকে ধ্বংসের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেলো তাকে। সবাই আজ সুখী কিন্তু সে নয়। কেনো? তাকে কেনো কেউ আগলে নিলো না।
রিদ্ধিমা মুখে হাত দিয়ে কেঁদে উঠে,
” আমি তাকে আগলে নিতে চেয়েছিলাম আপু। জীবনের প্রথম প্রণয় সে আমার। নিজের সবটুকু অনুভুতি দিয়ে ভালোবেসেছি। এই হৃদয়টা দিয়ে ওকে আগলে নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেদিন ঝড়ের রাতে আমার সব জন্মানো অনুভুতিকে সে ফিরিয়ে দিয়েছিলো। তার হৃদয়ে অন্য নারীর বসবাস। সে অন্য নারীর প্রতি দিশাহারা। তার অতীত জেনেও ভালোবেসেছি আপু। সেদিন এই সত্য মানতে পারিনি। কেঁদেছিলাম খুব। বদ্ধ রুমে উন্মাদের মত চিৎকার করে কেঁদেছি। যাকে ভালোবাসলাম সে কেনো অন্যকে ভালোবাসে। কেনো অন্যের জন্য অপেক্ষা করছে, আমার জন্য নয় কেনো? অভিমানে সরে এসেছিলাম সাময়িকের জন্য। কিন্তু কি করে জানব তার ধ্বংস নিজ চোখে দেখব! আমি আর পারছি না আপু। একটা পলক দেখতে চাই শুধু।
নাজলী অবাক হয়ে তাকায় রিদ্ধিমার দিকে। চোখের পানি মুছে আশ্চর্য হয়ে বলে,

” তুমি নাভিদকে ভালোবাসো? ক.. কবে থেকে?
রিদ্ধিমা অশ্রুসিক্ত নিয়ে তাকিয়ে বলে,
” হুট করে পড়া প্রণয়ের কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকে না আপু। কখন, কিভাবে পড়েছি আমি নিজেই জানি না। তোমাকে কি বলব?
” ত.. তুমি সব জানো?
” কোনটা?
নাজলী ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” নাভিদ কাকে ভালোবাসে? বা ওর অতীত?
রিদ্ধিমা কৃত্রিম হাসলো। তার ঠোঁট কাঁপছে,
” সব জানি আপু। নাভিদ এনিকে ভালোবাসে।তার জন্য নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করেছিলো। নিজের পরিচয়, নিজের ধর্ম, নিজের কাজ, নিজের পরিস্থিতি, এমনকি নিজের সেই ভয়ানক সত্তা! পুরোটা পরিবর্তনের পিছনে ছিলো একজন নারী। আর সে হলো এনি।
” ত.. তোমার রাগ হয় নি?

” রাগ নয় হিংসা হয়েছে। কতটা ভাগ্য নিয়ে জন্মালে কেউ এমন ভালোবাসা পাওয়ার সুযোগ পায়। কি ভয়ানক সেই ভালোবাসা! সবাই এর গভীরতা বুঝতে পারবে না। একজন সাইকোপ্যাথ কিভাবে সামান্য এক নারীর টানে এত ভালো হতে পারে তার ভয়ানক উদাহারন নাভিদ আপু। দুনিয়ার সবাই সঠিক পথে ফিরলে ও কোনো মানুষ খেকো সাইকোপ্যথ স্বাভাবিক পথে ফিরতে পারে না। এইটা আমি- তুমি সবাই জানি। কিন্তু সে ফিরেছিলো। একজন আদর্শ প্রেমিক হয়েছিলো। কিন্তু নিয়তি তাকে ধোঁকা দিলো। কেনো এমন ধোঁকা লিখলো আপু? কেনো সে হেরে গেলো? আর কেনো’ই বা আমাকেও হারিয়ে দিলো? আমি হাত বাড়িয়েছিলাম বহুবার, একবার ধরেই দেখত!
রিদ্ধিমা কাঁদতে- কাঁদতে হেঁচকি তুলে ফেলছে। নাজলী নিজেই চোখের পানি থামাতে পারছে না। প্রতিটা ঘটনা, প্রতিটা কাহিনীর চাক্ষুস স্বাক্ষী সে। আচ্ছা সে কি স্বার্থপর! হ্যা, অবশ্যই একজন বিরাট বড় স্বার্থপর! সে তো কথা দিয়েছিলো, একদিন এনিকে তার হাতে তুলে দিবে। রাখতে পারে নি সে এই কথা। নিক কতদিন থেকে আসক্ত এনির প্রতি? চার বছর? তিন বছর ? কিন্তু নাভিদ তো বাল্যকাল থেকে মেয়েটাকে আগলে রেখেছে! ভালোবেসেছে! তবে সে কেনো পেলো না?

নাজলী আর ভাবতে পারছে না। সব কিছুই এখন হাতের বাহিরে। বর্তমানে এনি কারোর সন্তানের মা। তাছাড়া নিককে হারিয়ে এনির কেমন মানসিক অবস্থা হয়েছিলো সব জানা তার। নাজলী কিছুতেই বুঝতে পারছে না, যে তাকে এত জঘন্যভাবে অত্যাচার করত সে কিভাবে তার প্রেমে পড়লো! একটা রুমের ভেতরে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বন্ধী থাকা কোনো মরণ যন্ত্রনা থেকে কম নয়। সেখানে এনি দুইটা বছর একা এক অন্ধকার বদ্ধ রুমে কাটিয়েছে। কোনো আলো নেই, কোনো কোলাহল নেই, কোনো বাতাস নেই, কোনো মানুষ নেই! কিভাবে কাটিয়েছে এমন একটা রুমে! দম বন্ধ হয়ে আসে নি? কোনোভাবে সেও সাইকোতে পরিনত হয় নি তো? নাহলে তার এই শাস্তিদাতার মায়ায় কিভাবে পড়ে গেলো? কোনো সাধারন মানুষের পক্ষে একটা সপ্তাহ বন্ধী হয়ে থাকা পসিবল হয়ে উঠে না সেখানে দুই বছর কিভাবে? কিভাবে ভালোবেসে ফেললে নিককে! কিভাবে সম্ভব?

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৪ (২)

” আপু কিছু বলবে না? আমি নাভিদের সাথে দেখা করতে চাই।
নাজলীর ধ্যান ভাঙ্গে। নাক টেনে রিদ্ধিনাকে শান্তনা দিয়ে বলে,
” সময়ের অপেক্ষা করো। আমিও যাব তোমার সাথে। তবে সাবধান, আরিশ যাতে জানতে না পারে। রেগে যাবে অনেক। আমার আরেকজন ফ্রেন্ড আছে। তার সাথে আগে যোগাযোগ করতে হবে।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here