পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩২
ঈশিতা রহমান সানজিদা
দম বন্ধকর পরিস্থিতিতে পড়লে চোখের সামনে সবকিছু ঝাঁপসা লাগে। অস্থিরতায় কাঁপুনি ওঠে, কি করবে দিশা পায়না। আজমাঈনের অবস্থা সেরকম হয়েছে। তাকে আটকানো কষ্টকর, ফয়েজ জোর করে চেপে ধরে আছে। আজমাঈনের হাত অসম্ভব রকমের কাঁপছে। ড্রয়িং রুমে জনা দশেক পুলিশের উপস্থিতি। রাত সাড়ে এগারোটা বেজে গেছে, এখনও বাড়ির ছোট মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাশেদ সাহেব ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সোফায় শান্ত ভাবে বসে আছেন। দু’পাশে রাহা এবং রেহানা বসে আছে। রাশেদ সাহেবের এক ফোনকলেই থানা সুদ্ধ চলে এসেছে। তারা নূরকে হন্তদন্ত হয়ে খুঁজছে। সব জায়গায় খোঁজ লাগিয়েছে। থানার ওসি রফিকুল সাহেব বেশ গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করেন,’উনার যদি কোন বন্ধু থেকে থাকে তাহলে তার সাথে যোগাযোগ করা দরকার, যদি সেখানে যায়।’
রাহা হতাশ হয়ে বলে,’আমার বোনের কোন বন্ধু নেই। এভাবে কখনো না জানিয়ে কোথাও যায় না।’
রফিকুল একটু নরম স্বরে বলেন,’উনি কি এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না?’
বিষয়টা অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। আজমাঈন এক প্রকার চেঁচিয়ে উঠলো,’আজেবাজে কথা বলছেন কেন? আমরা দুজনে চেয়েছি তাই বিয়ে হয়েছে, আমিই ওর সবকিছু।’
আজমাঈনের মেন্টালিটি ভালো নেই। তিনি বলেন, ‘খারাপ ভাবে নিবেন না। আসলে আপনাদের পারিবারিক বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। সঠিক তদন্ত করতে হলে সবকিছু জানা আবশ্যক। এতে আপনাদের খারাপ লাগলেও কিছু করার নেই। আমাদের দায়িত্ব পালন করতে সাহায্য করুন।’
ফয়েজ আজমাঈনকে শান্ত হতে বলে। এখন এতোটা উত্তেজিত হলে চলবে না। সাইমন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এতক্ষন। সে এগিয়ে এসে বলে,’অফিসার, আমার বোনের কোন বন্ধু নেই। শত্রুও নেই, ওকে কেউ জোর করে তুলে নিয়ে গেছে নাকি কি করেছে সেটা আমাদের জানা দরকার। বেশি সময় তো হয়নি। আপনারা প্লিজ তাড়াতাড়ি খুঁজে বের করুন। আমার বাবার অবস্থা একবার দেখুন।’
‘আপনি শান্ত হয়ে দাঁড়ান। আমরা চেষ্টা করছি।’
রাশেদ সাহেব চেঁচিয়ে উঠলেন। ছেলেকে ইঙ্গিত করে বলেন,’আমার মেয়ের শত্রু আছে, সেটা হলো তুই।’ রফিকুল সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলেন,’ওকে অ্যারেস্ট করুন, তাহলেই সব বেরিয়ে যাবে।’
সাইমনের মুখটা কালো হয়ে গেল,’কি বলছ আব্বু, আমি নূরের ক্ষতি করব? একথা ভাবতে পারলে তুমি?’
এলোমেলো পায়ে সাইমনের সামনে দাঁড়ালেন রাশেদ সাহেব। আঙুল তুলে বলেন,’তুই ওর শত্রু, বিজনেস হাতানোর জন্য শেষমেশ নিজের বোনের সাথে এমন করলি! ছিঃ ছিঃ!’
‘আমি কিছু জানি না আব্বু, নূর কোথায় গিয়েছিল তাও জানতাম না। প্লিজ এমন অপবাদ দিও না।’
রফিকুল বললেন,’সম্পত্তির জন্য ভাই ভাইকেও খু*ন করতে পারে, এটা সমাজে অহরহ ঘটছে। কিন্তু এখন বিনা প্রমাণে কিছু করা যাবে না। আগে ঘটনা যাচাই বাছাই করতে হবে।’
আজমাঈন ফয়েজের হাত ছাড়িয়ে বলে,’দেখুন অফিসার, আর যাই হোক না কেন। আজকের মধ্যে আপনি নূরকে খুঁজে বের করুন। ও যাওয়ার আগে আমাকে বলে গিয়েছিল খুব তাড়াতাড়ি ফিরবে।’
আজমাঈনের কথাবার্তাও বড্ড এলোমেলো হয়ে গেছে।
‘দেখুন, আমরা চেষ্টা করছি। রাস্তায় চেকপোস্ট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনার স্ত্রীর ফোন ট্র্যাক করা হয়েছে।’
কথার মাঝেই অফিসারের ফোন বেজে উঠলো। রিসিভ করতেই কেউ কিছু বললো। তিনি বললেন, ‘রেঞ্জ রোভার স্পোর্টস কার, সাদা রঙের। আচ্ছা থাকো ওখানে আমরা আসছি।’
কান থেকে ফোন নামিয়ে বললেন,’আপনাদের মেয়ের গাড়িটা পাওয়া গেছে, শপিং মলের সামনে পার্কিং করা আছে এখনো।’
আজমাঈন অস্থির হয়ে বলে,’আমি সাথে যাব।’
‘অফ কোর্স যাবেন। আপনাদের ভাষ্যমতে মেয়েটা পর্দা করে। তাই তাকে আপনিই চিনতে পারবেন।’
রাশেদ সাহেব আরো অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাকে বাড়িতে রেখে ফয়েজ, আজমাঈন ও সাইমন পুলিশের সঙ্গে গেল। শপিং মলের পার্কিং এরিয়ায় নূরের গাড়িটা পড়ে আছে। সবাই যখন গাড়ির কাছে পৌঁছায় ততক্ষণে গাড়ির ভেতরের মানুষটা হাওয়া। তার কোন অস্তিত্ব নেই। তবে গাড়ির দরজা লক করা না। গ্লাভস পরে একজন দরজা খুলে সবকিছু চেক করলো। গাড়ির চাবি এবং একটা গিফট বক্স বের করে এনে বললেন,’এগুলো পাওয়া গেছে, তাছাড়া কোন সমস্যা নেই। এমনকি কোন ধস্তাধস্তির চিহ্ন নেই।’
একটু থেমে বলেন,’মলের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজ কালেক্ট করা হয়েছে।’
এক মুহুর্ত দেরি না করে সকলে কম্পিউটারের সামনে হাজির হলো। ঘড়ির দোকান থেকে ঘড়ি কিনে প্যাকিং করার পর নূর বের হচ্ছে, আজমাঈন তাকে চিহ্নিত করলো। তবে পার্কিং এরিয়ার ফুটেজে ভিন্ন কিছু দেখা গেল। পাশের গাড়ি থেকে কেউ একজন নূরকে ডাকে। হাতের জিনিসপত্র গাড়িতে রেখে সে এগিয়ে যায় সেদিকে। কয়েক মিনিট বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেই কিছু বলতে দেখা যায়। কিন্তু তারপরেই নূর নিজ থেকে গাড়িতে চড়ে বসে এবং গাড়িটা পার্কিং এরিয়া থেকে বেরিয়ে রাস্তায় উঠে যায়। রফিকুল সাহেব আজমাঈনকে বলেন,’এখন কি বলবেন? উনি তো নিজের ইচ্ছায় গাড়িতে বসেছেন। কেউ জোরজবরদস্তি করেনি।’
শিথিল চাহনি আজমাঈনের, এটা কার গাড়ি? কার সাথে গেল নূর? চোখ কি ভুল দেখছে? নাকি এটা কোন ফাঁদ, নূরকে ফাঁসিয়েছে কেউ? সে কম্পিত কন্ঠে বলে উঠলো,’নূর বিপদে পড়েছে অফিসার, ভয়ঙ্কর বিপদে পড়েছে। আপনি ওকে খুঁজে বের করুন প্লিজ।’
‘যেখানে উনি স্বইচ্ছায় গাড়িতে উঠেছে সেখানে তার হারিয়ে যাওয়ার কথা আসছে কোথায়?’
আজমাঈন কেমন পাগল পাগল হয়ে গেল। সব কিছু ভুলে সে রফিকুল সাহেবের কলার চেপে ধরলো শক্ত করে,’আমার কথা কানে যাচ্ছে না আপনার? আমার নূরের কোন ক্ষতি হলে দুনিয়া ওলট পালট করে ফেলব। জ্বালিয়ে দিব সবকিছু।’
ফয়েজ দ্রুত ওকে ধরে। বলে,’এভাবে সিনক্রিয়েট করিস না, ব্যাপারটা ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে।’
‘কি ভাববো আমি?’ গর্জে ওঠে আজমাঈন,’এক দিনের মধ্যেই ওরা নূরকে জাস্টিফাই করছে কিভাবে? আমি ওর হাজব্যান্ড প্রায় একমাস ধরে আছি ওর সাথে। আমার থেকে ওরা বেশি বুঝে ফেলছে।’
ফয়েজ শান্ত গলায় বলে,’সব বুঝতে পারছি, কিন্তু এই সময়ে মাথা গরম করা কি ঠিক হবে? আমরা ঠান্ডা মাথায় আলোচনা করতে পারি না?’
ফয়েজ রফিকুল সাহেব কে বলে,’এমনও তো হতে পারে যে নূরকে ওর পরিচিত কেউ তুলে নিয়ে গেছে। সাধারণ অপরিচিতদের সাথে ও কথাই বলে না, সেখানে তার গাড়িতে উঠে বসেছে। এর অর্থ হলো ওকে খুব কাছের কেউ নিয়ে গেছে।’
রফিকুল সাহেব বিরক্ত হলেন,’দেখুন আমাদের বিষয়টা অতো সিরিয়াস মনে হচ্ছে না। আজকাল এমন ঘটনা অহরহ ঘটে, পুলিশ দৌড়াদৌড়ি করে ঠিকই। পরে দেখা যায় প্রেমিকের সাথে পালিয়েছে।’
আজমাঈন আবার ক্ষেপে গেল,’আপনার মুখটা দয়া করে বন্ধ করবেন, নাহলে আইন হাতে নিতে বাধ্য হব? টাকা চিনেন তো আপনারা। আমি টাকা নিয়েই মাঠে নামব।’ জ্বলন্ত চোখে তাকায় আজমাঈন,’আমার স্ত্রীর গায়ে যদি ফুলের টোকা পড়ে, তাহলে আপনার জিনা হারাম করে দিব। খোদার কসম।’
ফয়েজের দিকে তাকিয়ে বলে,’এখানে কোন কাজ হবে না, আমি ঢাকাতে যাব। যতদূর যেতে হয় যাব।’
শপিং মল থেকে দ্রুত বের হয় আজমাঈন। ফয়েজ পিছু পিছু যায়। সেও আজমাঈনের গাড়িতে চেপে বসে। সারা রাস্তা ড্রাইভ করার সময় অসংখ্যবার চোখ মুছে আজমাঈন। এ কোন পরীক্ষা নিচ্ছেন আল্লাহ! এত সাধনার পর কাছে পেয়েও হারিয়ে ফেললো। এখন যে নূর ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এক পলক দেখতেও পারবে না। আজমাঈনের বাবার বন্ধু হাশেম খান। সম্প্রতি মেজর পদ থেকে রিটায়ার্ড করেছেন। তবে তার হাত বহুত লম্বা, আজমাঈন কে ছেলের মতোই দেখেন। ভীষণ স্নেহ করেন, আজমাঈন যখন তাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বললো তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। ছেলেটার চোখের পানি আটকে যাচ্ছে নাকি আটকে রাখার অসীম ক্ষমতা রয়েছে ছেলেটার! তিনি এমন অবস্থায় কখনোই দেখেননি আজমাঈনকে। রাত দুপুরে আজমল শিকদার ও চলে এসেছেন। এই প্রথম ছেলে তার কাঁদছে। তিনি শক্ত করে আজমাঈনের হাত চেপে ধরলেন।
একজন পিতা তার জীবনের শেষ সময় অব্দি সন্তানের হাত ধরে থাকেন। আজমল শিকদার বন্ধুকে বলেন,’আমার ছেলেটাকে ছোটবেলা থেকে আগলে রেখেছি। চোট পাবে বিধায় কারো সাথে খেলতে দিতে চাইনি। রাস্তাঘাটে অনেক দুর্ঘটনা দেখে মনে কু ডাকত তাই ওর শত আকুতি মিনতি করা সত্ত্বেও সাইকেল, বাইক কিনে দেইনি। শুধুমাত্র ওকে সুস্থ দেখব বলে, আমার চোখের সামনে সশরীরে উপস্থিত থাকতে দেখব বলে। আজ আমার সেই ছেলের চোখের পানি কিভাবে সহ্য করব বল? মেয়েটা খুব বিনয়ী, ভদ্র। এখানে কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। তুই মেয়েটাকে এনে দে। আমার যা কিছু আছে সবকিছুর বিনিময়ে হলেও ফিরিয়ে এনে দে। দরকার পড়লে সবাইকে নিয়ে গাছতলায় থাকব, আমার ছেলেটা তো শান্তি পাবে।’
একজন পিতা আর কিভাবে আকুতি করতে পারে সন্তানের জন্য তা জানা নেই হাশেম খানের। তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘তোর কিছু দিতে হবে না। আমি এখনি ফোন করছি, ওই থানার কাউকে আমি ঠিকমতো ঘুমাতে দেব না। যাই হোক না কেন, মেয়েটাকে তোর ছেলের সামনে হাজির করবই।’
ওয়াদা শুনেও আজমাঈন নড়লো না। শরীরের সব শক্তি ক্ষয় হয়ে গেছে যেন। ফয়েজ ওকে টেনে তুললো। বন্ধুর এমন পরিস্থিতি দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলো না সে। সবকিছু তো ঠিকঠাক চলছিলো। এরমধ্যে এমনটা কে করলো? ফয়েজ একা ছাড়লো না আজমাঈন কে। ওরা ভোররাতে বাড়িতে পৌঁছায়। আজমাঈন নিজের রুমে গিয়ে বসে। পরিপাটি বিছানার দিকে তাকায়। একটি রাত ছিলো মেয়েটা, আর তারপর সবকিছু অন্ধকার।
ফয়েজ কিছুক্ষণ পর রুমে এলো। হাতে নূরের কেনা গিফট বক্স। আজমাঈনের দিকে তুলে ধরতেই হাত বাড়িয়ে নিলো। কাঁপা কাঁপা হাতে বক্স খুলতেই দামি ঘড়িটা দৃশ্যমান হলো। সাথে একটা চিরকুট। বাম হাতের পিঠে নাক মুছে চিঠি খোলে।
“আপনার মতো করে এতো ভালো ভাবে লিখতে পারব না জানি। তবে লেখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। লেখা হয়তো ভালো হয়নি, গাড়িতে বসে লিখলে হাতের লেখা বিচ্ছিরি লাগে। আমি কখনোই ভাবিনি যে আমার জীবন গুছিয়ে দেওয়ার মানুষ আসবে। আর আমি তাকে মন দিয়ে দিব। একজন তাকওয়াবান পুরুষ আমাকে তাঁর রাব্বাতুল বাইত করে গ্রহণ করলেন বিষয়টা আসলেই সুন্দর। একটা সময় আমার প্রেম, ভালোবাসা সবটা সৃষ্টিকর্তার জন্য ছিলো। আমার মন জুড়ে তিনি আর আব্বু ছিলেন। কিন্তু আল্লাহ আপনাকে আমার জীবনে পাঠিয়ে আপনার গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমার প্রতিটি সেজদা সৃষ্টিকর্তার জন্য হলেও প্রতিটি মোনাজাতে সর্বপ্রথম আপনি বিরাজ করেন। সেদিন আপনার পদ্মপ্রিয়া বলে ঘোষণা করে আমাকে হারিয়ে দিয়েছেন, আপনাকে কি নামে ডাকা যায় তা এখনও ভেবে পাইনি। হয়তো কোন একদিন পাব, ততদিন প্রার্থনা করুন।
আমার,,
আর কোন লেখা নেই। হয়তো নূরের ভাবনার শেষ এখানেই ছিলো বা হয়তো পরবর্তীতে সে আরো কিছু লিখতে চেয়েছিল কিন্তু সময় ফুরিয়ে গেছে। চিঠি সমেত মুখ ঢেকে বসে রইল আজমাঈন। এমন একটা দিন দেখতে হবে তা কল্পনাও করেনি ও।
ফয়েজ কাঁধে হাত রেখে বললো,’চিন্তা করিস না, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কোথাও কোন ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে মনে হয়।’
আজমাঈন মুখ তুলে তাকিয়ে বলে,’সেই ভুল বোঝাবুঝি টা কি? আমি এর উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না।’
‘দাদুর ভাষ্যমতে সাহারার বাবা এর জন্য দায়ী। উনি নাকি নূরের বিজনেস নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন। উনি কিছু করলেন না তো? সন্দেহের তীর কিন্তু সবার আগে তার দিকেই যায়।’
‘আমি কিছু বুঝতে পারছি না, যদি উনি কিছু করে থাকেন তাহলে আমি তার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইব। অন্তত নূরকে যেন ফিরিয়ে দেন।’
‘এভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। অনেক ধকল গেছে, ফ্রেশ হয়ে রেস্ট কর। তারপর বের হব।’
‘রেস্ট!!’ কথাটা বেশ অবহেলা নিয়ে বললো।
দুনিয়ার সব বিষন্নতা জেঁকে ধরেছে ওকে। অসহ্য লাগছে সবকিছু। নূর ছাড়া বুঝি শান্তি মিলবে না। সারারাত না ঘুমানোর কারণে চোখ জোড়া লাল হয়ে গেছে আজমাঈনের। তবুও সে ক্লান্ত বোধ করলো না। দিনের আলো ফুটতেই সে বেরিয়ে পড়লো। হাশেম খানের এক ফোনে রফিকুলের ঘুম উড়ে গেছে। রিতিমত তিনি এখন সাইমনকে ধমকে যাচ্ছেন। কিন্তু সাইমন বারবার একই কথা বলছে। সে কিছু জানে না। ঠিক সে সময় আজমাঈন এসে উপস্থিত। রফিকুল সাহেব বলেন,’এতক্ষণ ধরে জিজ্ঞেস করছি তাও সত্যি বলছেন না! আপনাকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হলো। এখন থেকে আপনার সবকিছু আমাদের নজরে থাকবে। কোথায় যাচ্ছেন কার সাথে কথা বলছেন সবকিছু।’
‘আমি কিছু করিনি আর কতবার বললে বিশ্বাস করবেন? নূরের কিছু হলে সন্দেহ আমাকে করবে সবাই এটা তো আমিও জানতাম। তাহলে জেনে বুঝেও কেন এমনটা করব আমি?’
অনুপমা এইবার স্বামীর হয়ে সাফাই গাইলো,’আমার হাজবেন্ড এমন কাজ করতেই পারে না। নূরকে হয়তো অন্যকেউ নিয়ে গেছে।’
রফিকুল বলেন,’ননদ সম্পর্কে আপনার কি ধারণা?’
অনুপমা কিছুটা থতমত খায়। আমতা আমতা করে বলে,’ও যথেষ্ট শান্ত, ভদ্র। নিজে থেকে তেমন কোথাও যায়না। আপনারা ওর সম্পর্কে যা বলছেন তা ভিত্তিহীন।’
অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভালো কথা বলতে হলো। যদিও কথাগুলো সত্য। রফিকুল আজমাঈন কে দেখে মৃদু হাসেন। তবে ভেতরে ভেতরে তার ক্ষোভ রয়েছে। তিনি এখনো বিশ্বাস করেন যে নূর কারো সাথে পালিয়েছে। এবং সময় হলেই সব জানা যাবে। তখন এদের ইচ্ছে মতো ধোলাই করা যাবে। শুধু শুধু এতো ঘোরানো হচ্ছে তাকে।
আজমাঈন দূর্বল পায়ে ভেতরে এলো। অনুপমা তখনই বলে উঠলো,’সময় তো কম গড়ালো না, নূর বেঁচে আছে তো?’
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩১
কথাটা কানে পৌঁছাতেই আজমাঈন বরফের ন্যায় জমে গেল। শক্তি লোপ পেলো। শরীর কেমন ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো। ওর এমন অবস্থা দেখে ফয়েজ চেঁচিয়ে উঠলো,’আশ্চর্য মানুষ তো আপনি, এমনিতেই আজমাঈনের অবস্থা ঠিক নেই। তার উপর উল্টা পাল্টা কথা বলছেন কেন?’
অনুপমা নিমজ্জিত হয়ে বলে,’আসলে আজকাল নিউজে যা দেখি, কতশত মেয়েকে,,।’
‘চুপ থাকুন!! মুখটা বন্ধ রাখুন প্লিজ।’
আজমাঈনের ধমকে কেঁপে উঠলো অনুপমা। দুকদম পিছিয়ে গেল তৎক্ষণাৎ।
