লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২১
লিজা মনি
সমুদ্রতটে দাঁড়িয়ে ছিল নাবিদ।
নিস্তব্ধ সমুদ্রের গর্জনে মিশে ছিল এক অন্তর্গত ঝড়। দৃষ্টি তার প্রসারিত জলরাশির বুক চিরে সোজা দূর আকাশে নিবদ্ধ, যেন সেখানে লুকিয়ে রয়েছে কোন অতীতের অনুরণন। সোনালি বালির স্পর্শ, উষ্ণ বাতাসের পরশ।সবকিছু তার চারপাশে জীবন্ত অথচ অপ্রাসঙ্গিক। হঠাৎ, পিছন থেকে ভেসে আসে এক স্পষ্টত মেয়েলি কণ্ঠস্বর,
— “হাই হ্যান্ডসাম।”
অচেনা উক্তির আকস্মিকতায় নাবিদের কপাল জোড়া ভ্রু একত্রিত হয়ে যায়।
তবু, কন্ঠস্বরের উৎসে দৃষ্টিপাতের প্রয়োজন বোধ করেনি সে।
শুধু সামান্য নিঃশ্বাস বদলে দৃষ্টি স্থির রাখে সমুদ্রের দিকে।
মেয়েটি এগিয়ে আসে। বালুকার উপর অনায়াসে হেঁটে।ঠিক তার পাশ ঘেঁষে দাঁড়ায়।
আকাশে ওড়া পাখিদের মতোই ওড়নার শাড়ির খেলা বাতাসে। আর চুলগুলো উন্মুক্ত ঢেউয়ের মতো উড়ছে চঞ্চল হয়ে। মুহূর্তের জন্য পাশে কারো অস্তিত্ব টের পেয়ে নাবিদ ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়।
এক নজরেই মুখভঙ্গী কঠোর হয়ে ওঠে।চোয়াল শক্ত করে ফেলে।দৃষ্টিতে বিরক্তির ঝলক।
মেয়েটি কণ্ঠে মৃদু বিদ্রূপের আভাস এনে কিছুটা তাচ্ছিল্য নিয়ে বলে,
“ভদ্রতা বুঝেন না বুঝি? যাই হোক, শরীরের এখন অবস্থা কেমন?”
নাবিদ নিঃশব্দে কয়েক মুহূর্ত আকাশের রেখায় কিছু খুঁজে বেড়ায়।
তারপর ঠান্ডা গলায় হুমকিসূচক কণ্ঠে উচ্চারণ করে,
“আশেপাশে অনেক ‘সুদর্শন’ পুরুষ রয়েছে যাদের আপনি হয়তো মনোরম বলে বিবেচনা করতে পারেন। তাদের কারো পাশে গিয়ে দাঁড়ান। আমার ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকলে, দু’মিনিটের মধ্যে প্রাণ ত্যাগ করতে হতে পারে আপনাকে।”
মেয়েটির চোখ মুহূর্তেই সরু হয়ে আসে।চেহারায় অসন্তোষের রেখা স্পষ্ট।
সেও যেন নিজের জায়গা থেকে একচুল না সরেই নাবিদের দিকে তাকিয়ে থাকে।
সমুদ্রের বাতাস আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে।
আর বালুকায় পড়ে থাকা দুটি ছায়া একটি আগুনের মতো কঠোর।
অন্যটি বাতাসের মতো ছন্দময়
” আসলেই আপনি একটা বখাটে। ওইদিন রাতে এক্সিডেন্ট করে যখন পড়ে ছিলেন তখন এই বুঝেছিলাম। শুধু উপরে সুন্দর হলে হয় না। মুখুশধারী লোক সবকয়টা৷ এত যুদ্ধ করে হাতির মত শরীরটাকে টেনে ঠিকানায় পৌঁছে দিলাম আর সে লোক আমাকে খুন করার হুমকি দিচ্ছে। লোকে এই জন্য’ই বলে আর যায় করো গুন্ডাদের কখনো সাহায্য করো না। এরা এক একটা কালসাপ।
রিদ্ধিমা অনেক গুলো কথা এক সাথে বলে নিশ্বাস টানে। রেগে গেলে সে নিজের মধ্যে থাকে না ছোট থেকেই। মুহূর্তেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার কথে ভেবে ভয় ও পেয়ে যায়। শুকনো ঢোক গিলে পিটপিট করে তাকায়। নাবিদ এতক্ষন তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো। এরপর নিজের দৃষ্টি ঘুরিয়ে সামনে নিক্ষেপ করে। ছোট করে গম্ভীরতা টেনে বলে,
” থ্যাংক্স।
রিদ্ধিমা নাক ছিটকায় এমন ধন্যবাদ শুনে। লোকে এমন করলার মত ধন্যবাদ জানায় নাকি?
— প্রয়োজন নেই আপনার থ্যাংক্সের।
নাবিদ কিছুক্ষন চুপ থেকে এক পলক রিদ্ধিমার দিকে তাকায়। এরপর বিরক্তির শ্বাস ফেলে পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে। কার্ডটার দিকে এক পলক তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসে। এরপর রিদ্ধিমার হাতে দিয়ে বলে,
” এইটার জন্য ‘ই অপেক্ষা করছিলে? পাঁচ লক্ষ্য টাকা আছে এতে? আশা করব তোমার আশা স্বরুপ পাওনা হয়েছে।
রিদ্ধিমা কার্ডটার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষন নিরবতা পালন করো। এরপর এপিঠ – ওপিঠ উল্টে ঠোঁট কামড়ে হাসে। ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,
” কত লক্ষ্য?
নাবিদ সামনে তাকিয়ে থেকেই উত্তর দেয়,
“পাঁচ লক্ষ্য!
— আমি আপনাকে দশ লক্ষ্য দান করছি।
নাবিদ কপাল কুচকে বলে,
” মানে?
— আমি আপনাকে দশ লক্ষ্য টাকা দান করব। আপনি পুনরায় সেই একই জায়গায় এক্সিডেন্ট হয়ে পড়ে থাকবেন। আর আমিও দেখব ঠিক কতজন আপনাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। অজ্ঞান অবস্থায় ঠিক কতজনকে টাকা দিয়ে ক্রয় করতে পারেন।
নাবিদ বক্ষ টান টান করে দাড়ায়। গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে কিছু বলতে গেলে রিদ্ধিমা হাত দিয়ে থামিয়ে দেয়। মেয়েটা রাগে ঠোঁট কামড়ে ধরে রেখেছে৷ হাতে থাকা কার্ডটা নাবিদের চোখের সামনে তুলে দুইটা টুকরো করে ফেলে। এরপর সমুদ্রে ছুড়ে ফেলে দেয়। নাবিদ তাকায় সেদিকে৷ রিদ্ধিম ও সেদিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” টাকা একটা কাগজ মাত্র। আর মানবতা, মায়া শারিরীক অংশ। দুনিয়ার সব জিনিস টাকা দিয়ে কিনতে গেলেও কখনো মায়া জিনিসটা কেনার ভুল করবেন না মি. নাবিদ। মনুষ্যত্ব থেকে সেদিন সাহায্য করেছিলাম। আজ দেখে ভাবলাম শারিরীক কন্ডিশন জিজ্ঞাসা করে ফেলি। মানুষ হিসেবে মনুষ্যত্ব দেখাতে এসেছি নিজেকে বিক্রি করতে নয়। তাই আর যায় হোক সব জায়গায় টাকার গরম দেখাতে যাবেন না। আসছি আমি। এরপর থেকে দেখেশুনে গাড়ি চালাবেন। খোদা হাফেজ।
রিদ্ধিমা আর দাঁড়ায় না। উল্টো ঘুরে নিজের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়। চুলগুলো এখনও উড়ছে বাতাসের সাথে। নাবিদ সরু চোখে ঢেউগুলোর দিকে তাকায়। চোখ বন্ধ করে গম্ভীর শ্বাস ফেলে বিরবিরায়,
” যার জন্য পুরো আমিটাই বদলে গেলাম সে আজ অন্যের দখলে। এত মানবতা দিয়ে কি হয়? শেষে তো ধীরে ধীরে অশান্তির জয় হচ্ছে।
সন্ধ্যা নেমে এসেছে। আলো ধীরে ধীরে অন্ধকারের রুপ নিচ্ছে। এনি মাথা ব্যাথার কারনে ছটফট করছে। ইচ্ছে করছে চুলগুলো ছিঁড়ে ফেলতে। বড় বড় নিশ্বাস টেনে এদিক – সেদিক হাটছে। মাথা চেপে ধরে বারান্দার দিকে এগিয়ে যায়। পুরো বারান্দা ব্লাক গ্লাস দিয়ে ঘিরে রাখা। গ্লাসে তালাবদ্ধ করে রেখেছে। সামান্য আলো – বাতাস ডুকার ও কোনো সুযোগ নেই। ইয়ানা বিরক্তির নিশ্বাস ছাড়ে।
যখন এনি মার্বেলপাথরের সেই সুবিশাল বারান্দায় পা রাখে তখন এক বিষণ্ণ নৈঃশব্দ্য তার চারপাশ ঘিরে ধরে। বারান্দাটি যেন প্রাসাদেরই একটি নিষিদ্ধ অধ্যায়।যেখানে আলো আসে কেবল চাঁদের ভাঙা প্রতিফলন হয়ে।আর বাতাসে মিশে থাকে বহুজাতিক অপবাদের ঘ্রাণ। এখানেই পৃথিবীর নিকৃষ্টতম স্বপ্নগুলো একত্রিত হয়েছে। কিছু বোতলে, কিছু ধোঁয়ায়, কিছু দাগ পড়া ট্রে-তে রাখা রৌপ্যচামচে।
প্রথমেই তার চোখে পড়ে ‘Crystal Meth’—কাচের ছোট্ট কন্টেইনারে রাখা স্বচ্ছ হীরের মতো দেখতে স্ফটিক। যা একবার গ্রহণ করলেই হৃদপিণ্ড যেন কাঁপতে কাঁপতে জ্বলতে থাকে। এই বিশুদ্ধ মেথ অ্যামফেটামিন আমদানি করা হয়েছে সরাসরি ইউক্রেন সীমান্ত দিয়ে।
পাশেই আছে একটি সোনালী ধাতুর বাক্স। যার ভিতরে রাখা ‘Colombian Cocaine’—সূক্ষ্মভাবে গুঁড়ো করা, একেবারে তুষারের মতো সাদা।প্রতিটি দানার নিচে যেন কোনো অদৃশ্য শয়তানের মুখ। বারবার পরিশোধিত এই কোকেইন নিউ ইয়র্কের আন্ডারগ্রাউন্ড সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই পৌঁছেছে ক্যাপ্রিসিওর আখড়ায়।
এক কোণে পড়ে আছে চামড়া বাঁধানো একটি বাক্স।তার ঢাকনা খুলতেই দেখা যায় ‘Afghan Black Tar Heroin’, কালচে, আঠালো এক তরল গদ্য। যা শরীরে ঢুকলে কেবলই ঘুম আর মৃত্যুর মাঝখানে এক লুকানো করিডোর খুলে যায়। তাকে ঘিরে রাখা হয়েছে সিরিঞ্জ। ছোট কাঁচের টিউব। আর সিগারেটের ছাই।
সামনের কাচের টেবিলে অভিজাত রুচির পরিচয় দিতে রাখা আছে কিছু ইউরোপীয় নেশাদ্রব্য—’LSD blotters’, যেগুলো ছোট ছোট রঙিন কাগজে ছাপা হয়েছে সাইকেডেলিক প্যাটার্নে। এমনকি কিছুতে আঁকা অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডের চেহারা। পাশেই দেখা যায় ‘Psilocybin Mushrooms’, শুকনো, কুঁচকে যাওয়া ছত্রাক।যেগুলো চিবোলে সময় ও বাস্তবতার সীমানা হারিয়ে যায়।
একদিকের কাঠের তাকজোড়া আলমারিতে রাখা ‘MDMA’ ট্যাবলেট, রঙিন, চকচকে।কোনোটির উপর খোদাই করা আছে একটি স্মাইলি ফেস। আবার কোনোটিতে প্রজাপতি। এগুলোর আসল নাম ‘এক্সট্যাসি’, কিন্তু এই মহলে এগুলোকে ডাকা হয় “ডেভিলস ক্যান্ডি” নামে।
এনি এগুলো সব ঘুরে ঘুরে দেখে।তার চোখে একটুও বিস্ময়ের রেখা নেই। এনির চোখে ছিল বিরক্তি।
এমন এক উপচে পড়া কৃত্রিম বিলাসিতার প্রতি যা মানুষকে ধ্বংসের চরম আনন্দে নিমজ্জিত করে। সে একবার নাকে নিয়ে আসে বাতাস। আর পরক্ষণেই তীব্র বিতৃষ্ণায় নাক ছিটকায়।
“গন্ধটা যেন পচা কোনো জিনিসের ”
তার দৃষ্টিতে পড়ে—বিলাসবহুল সোনালী হুক্কা সেট এর দিকে। যার ভেতর ভরতি ‘Hash Oil’, মরোক্কো থেকে আনা। ধোঁয়া এখনো জ্বলছে।কেউ সদ্য ছেড়ে গেছে।হয়তো মাফিয়া বস নিজেই। পাশে পড়ে থাকা সিগারেটের ব্র্যান্ড ‘Djarum Black’—ইন্দোনেশীয় ক্লোভ সিগারেট, যার সুবাস মিশে আছে গোপন চুক্তির ঘাম ও রক্তের গন্ধে।
বারান্দার একপাশে একটি রূপালী ট্রে-তে রাখা ‘Fentanyl patches’—বহিঃপ্রয়োগযোগ্য বিষ, যা মাত্র কয়েক মিলিগ্রামেই চেতনাহীনতা ও মৃত্যু ডেকে আনতে সক্ষম।
এইসব নেশার রাজ্যে এনি যেন এক অচেনা অথচ অভ্যস্ত যাত্রী। এনির চোখে উপহাস। ঠোঁটে বিদ্রুপের রেখা খেলে যায়। মন জুড়ে এক গভীর ক্ষোভ। এই বারান্দাটি যেন সমাজের সেই স্তর যাকে সুন্দর সাজিয়ে লুকানো হয় অথচ তার ভেতরে কেবলই পচন, অবক্ষয়, আর নিঃশব্দ হাহাকার।
এনি ডিভানে গিয়ে বসে পড়ে।ধীরে চোখ বুলায় চারদিকে প্রতিটি বস্তু যেন একটি করে ‘অপরাধমূলক কবিতা’। এনি জানে, এগুলোর পিছনে রয়েছে মানবপাচার, শোষণ, অবৈধ লেনদেন, আর ক্ষমতার নিষ্ঠুর খেলা।
এক মুহূর্তে তার মুখে ফুটে ওঠে এক নিরুত্তাপ হাসি।অন্ধকারে ডুবে থাকা সেই হাসি যেন অদূর ভবিষ্যতের অশনি সংকেত। এনি মাথা ব্যথার যন্ত্রনায় ভালোভাবে তাকাতে পারছে না। এতদিন নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দিন – রাত কান্না কাটি করার কারন আজ মাথাটা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড ব্যাথার কারনে ইচ্ছে করছিলো মাথাটা ফাটিয়ে দিতে। এনি কপালে শক্ত করে চেপে ধরে কান্না করে উঠে৷ সামনে রাখা বিদেশী নেশাদ্রব্যগুলোর দিকে এক পলক তাকায়। মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একটা ওয়াইনের বোতল হাতে তুলে নেয়৷ সে জানে সামান্য নেশা করলে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে থাকবে। ফলে এই যন্ত্রনা ভোগ করতে হবে না। এনি আর কিছু ভাবে না। বাম হাত দিয়ে শক্ত করে নাক চেপে ধরে৷ এরপর বোতলটা মুখের কাছে নিয়ে চোখ বন্ধ করে ঢক ঢক করে গিলে নিতে থাকে। দুই নিশ্বাসে পুরো ওয়াইন খেয়ে ফেলে। বিরক্তিতে বোতলটা দুরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। মুহূর্তেই কাউচ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এনির পেট গুলিয়ে আসে। বমি করার জন্য সামনে এগিয়ে যেতেই পুনরায় আবার ধপাস করে ডিভানে বসে পড়ে। পুরো মাথা ঘুরছে। চোখ খুলে রাখাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ঠোঁটে সামান্য হাসি ফুটে উঠে।
নিশীথ নিস্তব্ধতা ভেদ করে এক বুক আতঙ্ক নিয়ে ছুটে চলেছে একটা মেয়ে। তার চোখে মৃত্যুর প্রতিচ্ছবি ভাসছে।কণ্ঠে নিঃশব্দ চিৎকার। বাতাসে কাঁপন ধরানো ঠাণ্ডায় শরীর জড়সড় হয়ে আছে।তবু প্রাণপণে ছুটছে অরন্যের ভিতর দিয়ে। যেন মৃত্যুর করাল ছায়া তাকে ঘিরে ধরার আগেই কোনো এক অলৌকিক আশ্রয়ে পৌঁছাতে চায়। চারপাশটা এমন নিকষ কালো যেন অন্ধকার নিজেই জীবন্ত হয়ে গিলে ফেলতে উদ্যত।
হঠাৎই পেছন থেকে ভেসে আসে মিহি অথচ কণ্ঠচ্ছেদ করা পায়ের শব্দ। অশরীরী ছায়ার মতো অনুসরণ করে যাচ্ছে। সে শব্দের মালিক এক রহস্যময় হুডি পরিহিত অবয়ব। যেন মানব রূপে আবির্ভূত কোনো নরপিশাচ। মুখে একটা বিকৃত হাসি। তবে এইটা কোনো হাসি না।যেন শতবর্ষ ধরে জমে থাকা বিকারগ্রস্ত এক পিশাচী আনন্দ। দুই চোখ ধূসর । এখানে আছে মেয়েটাকে ভোগ করার লালসা। চোখে লালসার হিংস্র দীপ্তি।শিকারি জানোয়ারের মতো ক্ষুধার্ত ধৈর্যের সীমা ছুঁয়ে ফেলার প্রতীক্ষায়।
লোকটির চলাফেরা স্বাভাবিক নয়।অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ। এমন ভাবে হেটে যাচ্ছে যেন মাটি তাকে স্পর্শই করে না। নিঃশ্বাস নেই মনে হচ্ছে। কিন্তু একটা শীতল কুয়াশা তার চারপাশে জড়িয়ে রেখেছে। সে এখন মাংসের গন্ধে মাতাল হয়ে আছে জীবন্ত মানুষের হাড় চিবিয়ে খাওয়ার উন্মাদনায় বিভোর এক ছায়া-অস্তিত্ব।
মেয়েটা হাঁপিয়ে উঠেছে।মেয়েটার পায়ের তলায় জমে ওঠা স্যাঁতসেঁতে পাতাগুলোর কর্কশ আওয়াজ তুলছে।হৃদস্পন্দনের মতো প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সে ভালো করেই জানে থেমে গেলে শেষ। কিন্তু দেহ আর মানতে চায় না। হাঁফিয়ে উঠেছে অনেক আগেই। বুক ভেঙে পড়ছে। পেছনে সেই ধীর নির্লিপ্ত পদক্ষেপে ব্যক্তিটা এগিয়ে আসছে।
মেয়েটা হুট করে একটা গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে। মাথা ফেটে তরল রক্ত বের হতে থাকে। সামান্য চিৎকার দিয়ে উঠে ব্যাথায়। নিজের অবস্থান মনে করতেই আতঙ্কে জমে যায়। পালানোর জন্য পুনরায় উঠতে যাবে এমন সময় কেউ পায়ে ধরে টেনে ধরে৷ একটা ঠাণ্ডা বাতাস গা ছুঁয়ে যায় সাথে সাথে।
ফিসফিসে আওয়াজ কানে আসে,
“থেমে যা পাখি… আমার খেলা শেষ …”
সেই কণ্ঠস্বর যেন বহু বছর মৃত কোনো কবর থেকে উঠে আসা প্রেতাত্মার ফিসফাস। যেটা রক্ত হিম করে দেয়। মেয়েটার চোখে তখন নিঃশেষ আতঙ্ক জমে উঠেছে। ঠোঁট নীল হয়ে গিয়েছে ভয়ে।হৃদয় ছিঁড়ে যাবার উপক্রম। কান্না করতে গিয়ে ও আটকে যাচ্ছে। নিজেকে বাচানোর তাগিদে আবার ও উঠে দাড়াতে চায়। মেয়েটি আতঙ্কে উন্মত্ত হরিণীর মতো জীবন রক্ষার তাগিদে আঁধারের বুক চিরে ছুটতে চাইছিলো৷ শ্বাস তার দমকা ঝড়ে ভাঙা বাঁশির মতো কেঁপে কেঁপে উঠছিল।চোখে ছিল মৃত্যুভীতির ছায়া। হঠাৎ শিকারি নেকড়ের মত লোকটা তার পিছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ক্রোধে-জীর্ণ থাবার মতো হাত বাড়িয়ে মেয়েটাকে বিদ্যুৎগতিতে চেপে ধরে। লোকটার মুখে তখন এক বিকৃত ও পৈশাচিক উল্লাসের আভা।রক্তের গন্ধে উন্মত্ত হিংস্র পশুর মতো তার দৃষ্টি ঝলমল করছে। কপালে শিরাগুলো ফুলে উঠেছে। দাঁতে দাঁত ঘষে যেন দানবীয় ক্ষুধায় সে কাঁপছে। মেয়েটির শরীর তখন ভয় আর বেদনায় কাঁপতে কাঁপতে প্রায় স্তব্ধ।বুকের ভেতর হৃদয় যেন ঝড়ের নৌকার মতো দুলছে। চারপাশের বাতাসও যেন থমকে গেছে।নিঃশব্দে ও রক্তাক্ত দৃশ্য ভেসে উঠে পৃথিবীর বুকে। মেয়েটা আচমকা চিৎকার দিয়ে উঠে,
” কে তুমি? কেনো করছো আমার সাথে এমন? প্লিজ ছেড়ে দাও আমাকে। আমার ছোট একটা মেয়ে আছে। আমার সর্বনাশ করো না। জীবন ভিক্ষে চাইছি।দয়া করুন… আমাকে ছেড়ে দিন…”
মেয়েটির কণ্ঠে করুণ এক মিনতি। যেন ছিন্ন-জীবন আশ্রয়ের সন্ধান করে। চোখ দুটো জলভরা আকাশের মতো।স্বপ্ন আর সংহার একসাথে মিশে গেছে সেখানে। মেয়েটি আচমকা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। হাতজোড় করে আকুতি জানায় একটি ক্ষীণ আশায়। হয়তো মনুষ্যত্বের নিঃশেষ ধ্বংসাবশেষে কোথাও করুণার চিহ্ন বেঁচে আছে।
কিন্তু সেই মুহূর্তেই লোকটির চোখ দুটোতে জ্বলে উঠে এক অস্বাভাবিক, বিকারগ্রস্ত তৃপ্তির আগুন। তার ঠোঁট বেঁকে যায় নৃশংস এক অর্ধ-হাসিতে।যেটা হাসি নয় যেন নরকের বাতাসে লকলকে কোনো অভিশাপ। লোকটার হৃদয়ে তখন সংবেদন বলে কিছু নেই।কেবল আছে অধঃপতনের এক কুৎসিত তৃপ্তি। যাকে বলা চলে নিকৃষ্টতম লালসার উৎসার। দয়া, অনুকম্পা, সহানুভূতি এসব তার চেতনাজগত থেকে বিলুপ্ত লোকটা এখন এক মাংসলোভী দানব যার রক্তনালিতে বইছে পাপের ঘন তরল।
লোকটি হঠাৎ এক লৌহদৃঢ় নিষ্ঠুরতায় মেয়েটার দুই হাত দুপাশে চেপে ধরে। যেন কোনো শিকারকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে শিকারির সেই আদিম পশুসুলভ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। মেয়েটা কষ্টে আর্তচিৎকার দিয়ে উঠে।যেটি বেরোনোর আগেই চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে মুখটা পেছনে টেনে নেয় লোকটা। যেন এক বালিকা নয় বরং কোনো নিষ্প্রাণ ক্রীড়ানক। যেটা এখন তার বিকৃত লালসার খেলনামাত্র।
পরমুহূর্তেই মুখে ঠেসে ধরে নির্মম এক টেপ। মেয়েটার মুখ বন্ধ করে দেয়। শব্দরহিত করে দেয় তার প্রতিরোধের শেষ সম্ভাবনাটুকুও। মেয়েটা তখন ব্যাকুল এক পাখির মতো ছটফট করছে।জীবন তার করুণ আকুতিতে জ্বলে উঠেছে। চোখে জল নয় ভেসে উঠছে রক্তের আর্তনাদ। মেয়েটার দেহ কাঁপছে অসম্ভবভাবে। কিন্তু শক্তি ফুরিয়ে আসছে শেষ চেষ্টার ছায়া মাত্র বাকি।
আর সেই মুহূর্তে লোকটির শরীর শয়তানের স্ফুলিঙ্গে জ্বলে ওঠে। এক বিকৃত উত্তেজনায় দগ্ধ হয় তার চেতনা।যেখানে আর মনুষ্যত্ব নেই।নেই কোনো নৈতিকতা। আছে কেবল এক উন্মত্ত শারীরিক বিকার। ঠোঁটে তার জমে ওঠে এক ভয়ঙ্কর পৈশাচিক হাসি।যা হাসি নয় বরং ধ্বংসের ঘৃণ্য উৎসব।লোকটার চোখে তখন আছে শিকারির শীতল নিষ্ঠুরতা। আর শরীর জুড়ে নরকের আগুন। এক লম্ফে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেয়েটার উপর। মেয়েটার জামা এক টানে ছিঁড়ে ফেলে। মেয়েটা বাঁচার জন্য ছটফট করছে। লোকটার চোখে নেশা আর ক্ষুধা। মেয়েটার বক্ষের দিকে তাকিয়ে জিহ্বা বের করে ফেলে। আচমকা এক কামড় বসায় সেখানে। কামকড়ের সাথে সাথে মেয়েটার চোখ উল্টে আসার উপক্রম।লোকটা মাংস ছিড়ে নিয়ে আসে। দাঁতে রক্ত লেগে আছে। কাচা মাংস চিবিয়ে খাচ্ছে। মেয়েটা শেষ ভরসায় আকাশের দিকে তাকায়। মন হয়ত বলছে আল্লাহ এই নরখাদক থেকে তোমার বান্দীকে রক্ষা করো।
চোখ থেকে শুধু পানি পড়ছে৷ লোকটার এক একটা কামড়ে মেয়েটা ছটফটিয়ে উঠছে৷ জীবন বের হয়ে যাচ্ছে৷ কোনোরকম শ্বাস চলছে। লোকটা এইবার মেয়েটাকে পুরো বিবস্ত্র করে ফেলে। লোকটা মেয়েটার রক্তাক্ত শরীর দেখে কুকুরের মক্ত জিহ্বা বের করে ঠোঁট ভেজায় । পৈশাচিক হাসিতে মেতে উঠে। মাথায় আগুন ধরে যায়। ক্ষুধার্ত কুকুরের মত মেয়েটার পুনরায় উপর ঝাপিয়ে পড়ে। উন্মাদের মত মেয়েটার সব থেকে বড় সম্পদ, সতিত্ব করে নিতে থাকে। পুরো সর্বাঙ্গে কুকুরের মত মাংস ছিড়ে খাচ্ছে।
জন্ম দেয় এক নৃশংস অধ্যায়ের যেখানে আলো নিভে যায়।আর রাত জেগে থাকে সাক্ষী হয়ে।
এমন হিংস্র পৈশাচিক থাবা মেয়েটা আর সহ্য করতে পারে নি। এক মিনিটের মধ্যেই মেয়েটা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। চোখ দুইটা এখনও খুলে রাখা। লোকটা থেমে যায় নি। মৃত মেয়েটার উপর নিজের কামনা মিটাতে থাকে যতক্ষন না নিজে নিস্তেজ হয়ে আসছে৷ একসময় নিজের কাজ হাসিল করে লোকটা উঠে আসে। প্যান্ট পড়ে একটা ছুঁরি বের করে বক্স থেকে৷ চোখ দুইটা জ্বল জ্বল করছে তার। ছুরিটা দিয়ে মেয়েটার বক্ষ গহ্বরের উপরে কো**প বসায়। রক্তার স্রোতে ভেসে যাচ্ছে মাটি।শুকনো পাতাগুলো রক্তাক্ত হয়ে লাল আকার ধারন করেছে। লোকটা মেয়েটার দেহে একাদিক কো*প দিতে থাকে। হাতটা কেটে একাধিক খন্ডে ভিবক্ত করে। এরপর বক্স থেকে একটা লম্বা কালো ব্যাগ বের করে। মাংসের টুকরো গুলো ব্যাগটার মধ্যে নিতে থাকে। কন্ঠানালিতে কো*প বসাতেই মাথাটা আলাদা হয়ে যায়৷ এরপর ধীরে ধীরে পুরো শরীরটাকে কেটে – টুকরো টুকরো করে ব্যাগের মধ্যে নিলো। অবশিষ্ট মাংস লোকটা চিবিয়ে খেতে থাকে।
একসময় ব্যাগ আর বক্সটা নিয়ে উঠে দাঁড়ায়৷ রক্তে লালা হয়ে আছে অনেক অংশ জুড়ে। লোকটা সেদিকে তাকিয়ে বিকৃত হাসিতে ফেটে পড়ে। রাতের অন্ধকারে কি ভয়ানক সেই হাসির শব্দ। লোকটা আর দাড়ালো না ধ্বংসের নীলাভ আলোয় আলোকিত জঙ্গলের নির্জন প্রান্তরে এই নরখাদক হাটছে যার মুখমণ্ডলে নৃশংসতার ছায়া। চক্ষু যুগল দহনময় লালাভ প্রতাপ ছড়ায়।সে ধীরপদে অগ্রসর হচ্ছে। তার কাঁধে ঝোলানো এক পুরাতন ব্যাগ যার তলদেশ দিয়ে ধীরে ধীরে রক্ত চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে যাচ্ছে।সেই রক্ত ছুঁয়ে মাটি যেন কেঁপে উঠছে এক অদৃশ্য আর্তনাদে। ভূমির ওপর ছড়িয়ে থাকা সেই লাল দাগ।রক্তের অনিঃশেষ রেখা হয়ে আঁকা হয়েছে যা মেয়েটির জীবনের সর্বশেষ চিহ্ন নীরব সাক্ষ্য।তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তে মেয়েটি আর্তনাদ করেছিলো—”দয়া করো, আমি বাঁচতে চাই!” সেই কণ্ঠস্বরে ছিলো প্রাণের আকুতি নিষ্পাপতার হাহাকার।কিন্তু হিংস্র নরখাদক অবিচলিত ছিলো। তার হৃৎপিণ্ডে করুণা নামক কোনো অনুভবের অস্তিত্ব ছিলো না। সস নির্বিকার নিষ্ঠুরতায় মেয়েটির আর্তজীবন নিভিয়ে দিয়েছিলো।
রাত গভীর। চারপাশে এমন নিস্তব্ধতা, যেন শব্দেরা আত্মহত্যা করেছে। নিশাচর পাখিরা মৌন হয়ে আছে।বাতাস থমকে আছে। নগরের বুক চিরে রাস্তাগুলো যেন মৃত কবরে পরিণত হয়েছে। এক ধরণের সুশৃঙ্খল শূন্যতা চারদিকে বিস্তার লাভ করেছে।যেটি শুধু অনুভব করা যায় কিন্তু উচ্চারণ করা যায় না।
এই ঘন নৈঃশব্দ্যের বুক চিড়ে গ্যাংস্টার বসের বিলাসবহুল কালো রঙের গাড়িটি এসে থামে। এইটি একটি নিঃশব্দে বিচারকের আসনে বসার উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়। গাড়ির দরজা খুলতেই ভারী বুটজুতা থেকে উঠে আসে এক প্রকার নিঃশব্দ ধ্বনি। নিক দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসতে থাকে নিজ গন্তব্যে
বড় বড় পা ফেলে রুমের দিকে অগ্রসর হয়।চলনে আছে এক প্রকার নির্দয় শাসনের প্রতিফলন। দরজা ঠেলে সে প্রবেশ করে নিজের রুমে৷ পুরো রুম অন্ধকার দেখে কপাল কুচকে ফেলে।
নিক হাত বাড়িয়ে সুইচে চাপ দেয়। কৃত্রিম আলোর ঝলকে অন্ধকার মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আলো জ্বলে উঠলেও কক্ষটি জনমানবহীন। রুমে তার কাঙ্খিত ব্যক্তিটি নেই৷ নিঃসঙ্গতা যেন হঠাৎ করে প্রবল হয়ে ওঠে।
নিক্রর ভ্রু কুচকে আসে আরও। মুখের পেশিতে দেখা যায় এক প্রকার সংকুচিত বিকার। এই মুহূর্তে তার দেহতত্ত্ব ও মনস্তত্ত্ব উভয়ই একযোগে প্রতিক্রিয়া জানায়।
চারপাশে ছন্নছাড়ার মত তাকায়। পাগলের মত এদিক – সেদিকে যায়। কিন্তু কোথাও কেউ নেই। রাগ ক্রমশ জমে ওঠে প্রথমে নিঃশব্দ লেলিহান এর মত সামান্য গর্জন দিয়ে উঠে। পরে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরণপ্রবণ এর মত বিরবিরায়,
” একবার হাতের নাগালে পায় তোমাকে বেবিগার্ল !
সে ঘন ঘন নিশ্বাস টানে। হুট করে ওয়াশরুম থেকে পানি পড়ার শব্দ ভেসে আসে৷ টিপবটিপ শব্দে জানান দিচ্ছে ভিতরে কেউ আছে। নিক রহস্যময় হাসি দিয়ে গ্রিবাদেশ নাড়ায়। ভারি পা ফেলে কাবার্ডের কাছে যায়। কিছু একটা বের করে বাঁকা হাসে। এরপর গম্ভীরতা নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যায়। ওয়াশরুমের দরজা হালকা খুলে রাখা। ভিতর থেকে লাগানো নেই। নিক বাম হাতের সাহায্যে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে। সামনে তাকাতেই স্তব্দ হয়ে যায়। গ্যাংস্টার বসের বুকের ভিতর তান্ডবলীলা চলতে থাকে। এনি বিবস্ত্র হয়ে বসে আছে। শরীরে সামান্য সুতা ও নেই। নিক ভিতরে প্রবেশ করতেই তার দিকে ঠোঁট উল্টে তাকায়। কি সেই মায়াবী চেহারা, নীল চোখের গভীরতা। লম্বা সোনালি চুলগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে আছে এলো- মেলোভাবে। গোলাপি ঠোঁট দুইটা কাঁপছে ঠান্ডায়। ফর্সা শরীরে পানির কণা গুলো মুক্তার মত চিকচিক করছে। নিক পাগলের মত নিশ্বাস নিতে থাকে। ঠোঁট ভিজিয়ে অন্যত্রে তাকিয়ে যায়। এনি চোখের পাতা ঝাপ্টে বাথটপের কাছ থেকে উঠে আসে। এরপর সামান্য কান্নার ফেইস করে নিকের দিকে তাকায়। এনি নিকের বক্ষের দিকে তাকিয়ে সামান্য হাসে। ছোট হাতটা নিকের চওড়া পিটানো বক্ষের উপর রাখে। মুহূর্তে নিক দুই পা পিছিয়ে যায়। পিছনে শক্ত করে বেসিন চেপে ধরে। নিশ্বাসের বেগ নিজের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে গিয়েছে। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথাটাও সে ভুলে গিয়েছে। নিককে এইভাবে দুরে সরে যেতে দেখে এনি ঠোঁট উল্টে কেঁদে দেয়৷ এনির কান্না নিকের কানে প্রবেশ করতেই আরও অস্থির হয়ে পড়ে৷ এনি আচমকা নিকের শার্টের প্রথম বোতাম খুলে ফেলে। এনির এমন ব্যবহারে নিকের কপাল কুচকে আসে। ঘন ঘন নিশ্বাস টেনে বলে,
” ক… কি করছো বেবিগার্ল? তোমার থেকে ওয়াইনের গন্ধ কেনো আসছে? মাতাল কেনো হয়েছো?
এনি নিকের কথায় কোনো উত্তর দেয় না। নিজের কাজে সে ব্যস্ত। শার্টের প্রতিটা বোতাম খুলে খিলখিল করে হেসে উঠে। নিক ঠোঁট চেপে শক্তভাবে বেসিন চেপে ধরে। এনি নিকের উন্মক্ত বুকে শক্তভাবে চুমু খায়। নিক আচমকা এনির কোমড় প্রগাঢ় ক্ষুব্দতার সাথে শক্ত করে ধরে। এনি সামান্য ব্যাথায় শব্দ করে বলে,
” ব্যাথা পাচ্ছি তো?
নিক নিশ্বাসের ঘনত্বের জন্য কথা বলতে পারছে না। কোনোরকম রাগ দেখিয়ে বলে,
” পাগলামো কেনো শুরু করে দিয়েছো? আমাকে জ্বালাচ্ছো কেনো? আমার তাপ সহ্য করার ক্ষমতা আছে তোমার?
এনি মিষ্টি হেসে নিকের বুকে হাত বুলিয়ে বলে,
” জ্বালাব না একটুও। আপনার এই বক্ষটা আমার অনেক ভালো লাগে। কিছুটা ভয়ানক টাইপ তবুও আমার পছন্দের।
নিক ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে। গ্যাংস্টার বসকে নাস্তানাবুদ করছে একজন অষ্টদশী কন্যা। এনির মুখে নিজের প্রশংসা সহ্য হলো না। রাগে এনির উন্মুক্ত নরম কোমরটা আরও শক্ত করে চেপে ধরে। রাগে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
” জ্বালাচ্ছিস কেনো এইভাবে বান্দির বাচ্চা। নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলছি বুঝতে পারছিস না? মাতলামো করার জন্য কি আমাকেই পেয়েছিলি। আমার উত্তাপ সহ্য করতে পারবি?
নিকের এমন রাগ আর ধমকে এনি নাক টেনে ফুঁপিয়ে উঠে। কোমরে ব্যাথায় টনটন করে উঠে। আচমকা নিকের প্যান্টের ব্যাল্ট ধরে টান দেয়। এনির এহেন কাজে নিক হতভম্ভ হয়ে যায়। কপালে ভাঁজ প্রখঢ় হয়ে উঠে। তবে ভুলেও এনির দিকে তাকায় না। এনি রেগে পুনরায় টান দিতে যাবে এমন সময় নিক শক্ত করে হাত চেপে ধরে। ঘন নিশ্বাস ছেড়ে ধমক দিয়ে উঠে,
” আমার জিনিস নিয়ে এইভাবে টানা- টানি করছো কেনো?
এনি প্যান্টের দিকে তাকিয়ে বলে,
” খুলোন এইটা?
নিকের ভ্রুঁ কুচকে আসে,
” কি খুলব?
— প্যান্ট?
নিক চোয়াল শক্ত করে ফেলে,
” কি বলছো এইসব?
এনি ঠোঁট উল্টে বলে,
” আমি তো কাপড় পড়িনি তাহলে আপনি কেনো পড়েছেন?
নিক চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করে বলে,
” এখন কি আমি কাপড় ছাড়া হাটাহাটি করব?
— কাপড় পড়তে হবে কেনো? না পড়লে কি হয়?
এনির এমন পাগলাটে কথায় নিক উত্তর দিতে ভুলে যায়। তার হাতের চাপ এনির কোমরে আরও গভীর করে তুলে। এনি ব্যাথায় প্রায় কান্না করে উঠে,
” এত ব্যাথা দেন কেনো আমাকে? এত টর্চার কেনো করেন? মায়া লাগে না একটুও আমার জন্য?
এনি এমন কথার মধ্যে নিক থমকে যায়। মস্তিষ্কে সজাগ হতেই নিষ্ঠুরতার সাথে উত্তর দেয়,
” একটুও মায়া লাগে না। আঘাত করতে পারলে পৈশাচিক আনন্দ পায়।
এনি নিকের বুকে হাত দিয়ে স্পর্শ করে বলে,
” খুব খারাপ আপনি নিক। আমার পুরো শরীরে আঘাত করে কালসিটে দাগ করে ফেলেছেন। প্রচুর ভয় পায় আপনাকে। প্রচুর ঘৃনা করি।
এনির মুখে নিজের নাম শুনে শান্ত আরও বেপোরোয়া হয়ে উঠে। রাগ করতে পারছে না, দুরে সরাতে পারছে না, আঘাত করতে পারছে না৷ এই কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন গ্যাংস্টার বস। বেসিনটা এমনভাবে চেপে ধরেছে যেন কিছুক্ষনের মধ্যেই ভেঙ্গে যাবে। সামান্য নিচের ঠোঁট কামড়ে ধমকে উঠে,
” ফা**ক অফ বেবিগার্ল! আমার দৃষ্টিসীমার বাহিরে যাও। নাহলে রক্তাক্ত হবে প্রচুর। মাতাল হয়ে আছো তাই এমন পাগলামী।
এনি যেন নিকের কথাটা শুনল না। নিকের উন্মুক্ত শরীরে পুনরায় ঠোঁট স্পর্শ করে বলে,
“আমাকে একটুও আদর করেন না। একটুও ভালোবাসেন না।সবসয় কেনো এইভাবে আঘাত করেন? বিশ্বাস করুন খুব কষ্ট হয়। যন্ত্রনায় ছটফট করি। ক্ষতগুলো থেকে মনে হয় বিষাক্ত পোকা বের হচ্ছে। এত দহন কেনো আমার? আপনার ঠোঁটে একটু চুমু খাই? আপনি খুব সুন্দর।
নিক শুকনো ঢোক গিললো। কি নাজেহাল অবস্থা তার! বিরবির করে,
” আমাকে সামলাতে পারবে না। খুব ছোট তুমি বেবিগার্ল। আমার স্পর্শ নরম নয় সবার মত। রক্তাক্ত স্পর্শ সহ্য করার ক্ষমতা তোমার থাকলে অনেক আগেই তুমি আমার হাতে নিজের সতিত্ব হারাতে। থেমে যাও এখানেই।
নিক কথাটা বলে আর দেরী করে নি৷ এনি নিকের পায়ের উপর নিজের পা রাখে। এরপর পা – অনেকটা উচু করে সামান্য ঠোঁট স্পর্শ করে। ব্যাস গ্যাংস্টার বস নিজের নিয়ন্ত্রন হারায়। এনির শরীরটা চেপে ধরে সাথে সাথে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। দেয়ালের সাথে আচমকা ধাক্কা খেতেই এনি ব্যাথায় ছটফটিয়ে উঠে। নিক শক্ত করে এনির হাত দুইটা একত্রিত করে মাথার উপর দিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। এক হাত কোমরে শক্তভাবে চেপে রেখেছে। কিন্তু হাত এক জায়গায় স্থায়ী হয় না। সময়ের ব্যবধানে হাতের অবাধ্য বিচরন চলতে থাকে। চুমুর উন্মদনা বাড়তে থাকে। সামান্য স্পর্শে একসময় দন্তের ঘর্ষনে রুপ নেয়। চুমুর গভীরতা ছিলো হিংস্র। শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে এনির। নিক ধীরে ধীরে গলার নিচে নেমে আসে। নিকের এমন উন্মাদ রুপে এনি ভয় পেয়ে যায়। ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চায়। কিন্তু হাত বাঁধা থাকায় পারে না। নিক পুনরায় এনির ঠোঁট আকড়ে ধরে সামান্য এগিয়ে যায়। ডান হাতের মাধ্যমে কিছুক্ষন আগে বেসিনের উপরে রাখা হ্যান্ডকাফ নিয়ে নিলো। এরপর কোনো সতর্কতা ছাড়ায় এনির দুই হাত শক্ত করে বেঁধে ফেলে। এক চুমুর গভীরতা আর দ্বিতীয়ত হাত বেঁধে ফেলা। সব মিলিয়ে এনি ভয়ে শিউরে উঠে। যেন মাতলামো ছেড়ে বাস্তব জগতে ফিরছে সে। এনি ব্যাথায় ছটফটিয়ে বলে,
” আপনি খুব খারাপ। আদর করতে গিয়ে ব্যাথা দিচ্ছেন। আমি আপনার আদর চাই না। বাজে লোক আপনি। আমি অন্যজনের কাছে যাব। আপনার কাছে আসব না আর।
এনি কথা শেষ করতেই চুলে শক্ত টান অনুভব করে। চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে মেয়েটার। নিক এনির চিবুক চেপে ধরে গর্জে উঠে,
” কার কাছে যাওয়ার ধান্দা করছিস বান্দির বাচ্চা। সামান্য স্পর্শ ও যদি কারোর লাগে পুরো শরীর জ্বালিয়ে দিব।
এনি কেঁদে উঠে,
” ছাড়ুন আমাকে। কষ্ট হচ্ছে অনেক।
নিকের রাগ নরম হয়ে আসে। কিন্তু সে এখন নিজের মধ্যে নেই। নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই। নিক এনির কানের কাছে ঠোঁট স্পর্শ করে বলে,
” নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি বেবিগার্ল। আমাকে সিডিউস করেছো তুমি বাজেভাবে। এই মুহূর্তে গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান তোমাকে চাইছে।
এনি হয়ত এর অর্থ বুঝল না ভালোভাবে। সে ভালোভাবে চোখ এই খুলতে পারছে না। কোনোরকম শব্দ করে বলে,
” আপনি ব্যাথা দিচ্ছেন৷ পরে আরও দিবেন।
নিক হিসহিসিয়ে বলে,
” সহ্য করে নে বেইবি । সকালে সূর্যদয় হওয়ার আগেই ডাক্তার চলে আসবে। দেড় বছর ধরে ছটফট করছি আমি।
এনি একদম নিশ্চুপ হয়ে আছে। নিক পুনরায় এনির মধ্যে ডুব দেয়। ধীরে ধীরে তার চোখ জ্বলে উঠে। ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি। হাতের স্পর্শ শক্ত হয়ে উঠে ধীরে ধীরে। বর্তমানে এনি পুরোটাই নিকের দখলে।নরখাদকের মত এনির দেহে রাজত্ব চালাতে থাকে। এনি চিৎকার দিয়ে উঠলে নিক মুখ বেঁধে দেয়। মেয়েটা নিস্তেজ হয়ে পড়ছে এমন শক্তপোক্ত স্পর্শের থাবায়। চোখ থেকে অনবরত পানি পড়ছে। থামানোর কোনো শক্তি নেই তার মাঝে। নিক এমনভাবে ডুব দিয়েছে যেন কোনো ক্ষুধার্ত সিংহ। হাতের বিচরন গভীর করে তুলে।
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২০
এনি আৎকে উঠে। যেন শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। উপর থেকে ঝিরঝির করে শাওয়ারের পানি পড়ছে। দুইজন ভিজে একাকার। রাত গভীর থেকে গভীর হতে থাকে৷ ঘন ঘন নিশ্বাসের শব্দ পুরো ওয়াশরুম জুড়ে৷ সময় যাচ্ছে নিকের হিংস্রতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এনি হয়ত মাতাল হয়ে পাগলামো করেছে৷ কিন্ত সকালের সূর্যদয়ে মস্তিষ্ক বাস্তবে ফিরলে কি আদ’ও এমন সত্য মেনে নিবে? জীবনের সব থেকে ঘৃনিত পুরুষটি তার সর্বাঙ্গে রাজত্ব চালাচ্ছে।
