লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৮ (২)
লিজা মনি
“তোমার সপ্নের পুরুষ বেবিগার্ল!
এনির চোখে -মুখ অন্যরকম হয়ে যায়। ঘাড় বাঁকা করে তাকিয়ে বলে,
” কি বলতে চাইছেন? আমার সপ্নের পুরুষ সম্পর্ক আপনি কতটুকু জানেন?
নিক খাপছাড়া ভাবে হাসলো। এনির গলায় আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করে ফিসফিস করে ,
” সপ্নের পুরুষ কেমন তোমার? কেমন পুরুষ চাও?
এনির শরীর শিরশির করে উঠে। নিকের আঙ্গুল গলা বেয়ে ধীরে ধীরে নিচে নামতে থাকে। অঘটন থেকে বাঁচতে এনি খপ করে নিকের হাত চেপে ধরে।কাঁপা চোখ -মুখ নিয়ে তাকায় নিকের দিকে। নিক চোখ ছোট ছোট করে তীর্যকভাবে চোখ রাখে। ভ্রুঁ নাচাতেই এনি কেঁপে উঠে। চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস টেনে নিকের ধূসর বাদামী চোখে চোখ রাখে। অধরে হাসি ফুটিয়ে বিষাদময় কন্ঠে বলে,
” আমি এমন একজন পুরুষকে চেয়েছিলাম যে হবে আমার সপ্নের রাজকুমার। আমি চেয়েছিলাম এমন একজনকে, যার স্পর্শে ভয়ের কোনো শিহরণ থাকবে না। থাকবে শুধু এক অদ্ভুত প্রশান্তি। আমি চেয়েছিলাম এমন একজোড়া চোখ। যেখানে তাকালে নিজেকে অপরাধী মনে হবে না বরং মনে হবে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান নারী।
আমার স্বপ্নের পুরুষটি হতো আমার সেই আকাশ যেখানে আমি ডানা মেলে উড়তে পারতাম। খাঁচায় বন্দি হওয়ার ভয় থাকতো না। তার কন্ঠস্বর হবে ভোরের শিশিরের মতো শীতল যা আমার সব অস্থিরতাকে শান্ত করে দেবে। আমি চেয়েছিলাম এমন একজনকে, যে আমার নীরবতা পড়তে জানবে, আমার কাঁপুনি দেখে আনন্দ পাবে না বরং আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বলবে,
‘আমি আছি তো”
আমি চেয়েছিলাম এমন একজনকে, যে আমার হাসির পেছনের নীরবতাটুকুও পড়তে জানবে। সে হবে এমন একজন মানুষ, যার কাছে গিয়ে দাড়ালে আমার নিজেকে খুব ছোট বা তুচ্ছ মনে হবে না। বরং তার বিশাল হৃদয়ের ছায়ায় আমি নিজেকে আরও মহীয়ান অনুভব করব।
তার ভালোবাসা হবে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার মতো স্বচ্ছ। সে আমার ওপর তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না, বরং আমার ইচ্ছাগুলোকে পরম মমতায় গুরুত্ব দেবে। আমি এমন এক পুরুষকে চেয়েছিলাম যে হবে আমার সেই মানুষ, যার কাছে আমি নিজের অন্ধকারগুলোও নিঃসঙ্কোচে বলতে পারব। সে আমায় বিচার করবে না বরং আমার ক্ষতগুলোতে ভালোবাসার প্রলেপ দিয়ে দেবে।
সে আমার হাতটা এমনভাবে ধরবে, যেন সেই হাতের ছোঁয়ায় আমি অনুভব করতে পারি।এই পৃথিবীতে আমি একা নই। সে হবে আমার সেই ধ্রুবতারা। যে আমাকে পথ দেখাবে কিন্তু কখনও আমার চলার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না। আমার রাজকুমার হবে আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু, আমার পরম আশ্রয়।”
কিন্তু নিয়তি আমার গলায় শিকল বেঁধে দিয়েছে। আজ এই বদ্ধ ঘরে আপনার এই নিষ্ঠুর চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আমি বুঝতে পারি … স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝে এক বিশাল রক্তের সমুদ্র থাকে। আমি মায়া চেয়েছিলাম গ্যাংস্টার বস। আর আপনি আমাকে দিলেন এক অন্ধকার খাঁচা। যেখানে যন্ত্রনা আছে চিৎকার করা যাবে না। মন খুলে কাউকে বলতে পারব না ” আমি ভালো নেই, আমি ভালো নেই ”
এনির নীল চোখ থেকে যেন সমুদ্রের পানি গড়িয়ে পড়ছে। বার বার কেঁপে উঠছে ছোটখাটো শরীরটা। গ্যাংস্টার বসের হাতের বাঁধন শক্ত হয়। এনির দুই চোয়াল শক্ত করে ধরে তুচ্ছভাবে হাসে,
” নিক জেভরান কারোর সপ্নের পুরুষ হতে আশাবাদী নয় ।তার যা প্রয়োজন সে ছিনিয়ে নেয়। একজন গ্যাংস্টার বসকে কোমল হতে বলো বেবিগার্ল! কোমলতা দিয়ে কোন বা*ল ছিঁড়ব?
নিক এনির খুব কাছে ঝুঁকে আসে। তার উষ্ণ ও তামাকগন্ধী নিঃশ্বাস এনির কম্পিত ঠোঁটে আছড়ে পড়ে। সিগারেটের গন্ধ এনি সহ্য করতে পারে না। নিক অত্যন্ত নিচু স্বরে কিন্তু হাড়কাঁপানো দৃঢ়তায় বলে,
”তোমার স্বপ্নের সেই শুভ্র ক্যানভাসে আমি আজ থেকে কালির দাগ টেনে দিলাম। তুমি এখন থেকে যে নিরাপত্তা খুঁজবে তার নাম হব আমি। আর তুমি যে রাজকুমারকে চাইবে তার নাম হবে ‘নিক জেভরান’। তোমার কল্পনাগুলোকেও আজ থেকে আমার বাধ্যতার শিকলে বেঁধে দিলাম । আমি ব্যতীত অন্য কাউকে কল্পনা করলে অনেক কিছুই ঘটে যাবে। ঝড়ের পূর্বাভাস সম্পর্কে ধারনা দিলাম। তাই ঝড় উঠার আগে নিয়ন্ত্রনে রাখার দায়িত্ব তোমার।
এনি বিদ্রুপ হেসে অন্য দিকে তাকায়। তাচ্ছিল্য ভাবে বলে,
” আপনার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে সব ঝড় সামলে নিয়েছি। এইটা আর নতুন কি ঝড়? ছেড়ে চলে যাব সেটা নিয়ে এত ভয়?
এনির সেই অবজ্ঞাসূচক হাসি নিক জেভরানের পাষাণ হৃদয়ে তপ্ত সিসার মতো বিঁধে। নিকের মতো একজন দোর্দণ্ডপ্রতাপ পুরুষের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে ‘ভয়’ শব্দ দিয়ে বিদ্ধ করার স্পর্ধা সচরাচর কেউ দেখায় না। নিকের শান্ত চোখের আড়ালে থাকা সেই আদিম ও হিংস্র সত্তাটি যেন মুহূর্তেই ফণা তুলে দাঁড়ায়। নিকের বলিষ্ঠ হস্তযুগল এবার আর কোনো শিষ্টাচারের ধার ধারল না; তার দীর্ঘ ও শক্ত আঙুলগুলো এনির ধনুকের ন্যায় বক্র কটিদেশ অত্যন্ত নির্দয়ভাবে সুদৃঢ় আবেষ্টনীতে আবদ্ধ করল।
আকস্মিক এই আকর্ষণে এনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে নিকের পাষাণবৎ বক্ষস্থলে আছড়ে পড়ল। নিকের গ্রীবাদেশের পেশিগুলো এক রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় তিরতির করে কাঁপছিল, যা তার অন্তরের প্রলয়ংকরী ক্রোধের এক নিঃশব্দ বহিঃপ্রকাশ। সে তার মস্তকটি কিঞ্চিৎ আনত করে এনির কর্ণের সন্নিকটে নিয়ে এল। নিকের সেই তপ্ত ও তামাকগন্ধী নিশ্বাস এনির গ্রীবায় এক দহনজ্বালার সৃষ্টি করছিল।
নিক তার অধরযুগল দন্তপাটি দিয়ে সজোরে দংশন করে এক পৈশাচিক অথচ সম্মোহনী স্মিতহাসি হাসল। সেই হাসিতে কোনো করুণার লেশমাত্র ছিল না।ছিল কেবল একচ্ছত্র বিজয়ের আসুরিক দম্ভ।
সে অত্যন্ত নিচু ও গম্ভীর স্বরে, ফিসফিসানির মতো উচ্চারণ করে,
” এইসব ফা*কিং ভয় নিক জেভরানের হৃদয়ে আসে না।
এনির হুট করে হাসি পেলো খুব। নিকের কথাটা শুনে কেনো জানি তার খুব হাসতে ইচ্ছে করছে। নিকের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,
” তবে কোথাও পালিয়ে যায়?
সাথে সাথে গর্জে উঠে গ্যাংস্টার বস,
” হারামির বাচ্চা জবান ছিঁড়ে ফেলব তর।
নিক খুবলে ধরে এনির পেটের মাংস। এনি ব্যথা পেলেও শব্দ করে হেসে দেয়। এনিকে এইভাবে হাসতে দেখে ভ্রুঁ কুচকে ফেলে। খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে এনির হাসির কারন। এনি নিকের শার্টের বোতাম হাতিয়ে বলে,
” ফা*ক অফ মি, জেভরান! এইভাবে গর্জে উঠলে চলবে? আপনি তো এইসব ফা*কিং ভয় পান না।
নিক খুব শান্ত গলায় বলে,
” দুর্বল জায়গায় কথা বলতে শিখে গিয়েছো?
এনি অবিশ্বাস কন্ঠে বলে,
” আমি আপনার দুর্বল জায়গা?
নিক শক্ত গলায় অস্বীকার করে বলে,
” আমার কোনো দুর্বলতা নেই। ইফ ইউ সে দিস কাইন্ড অব ননসেন্স, ইউ’ল গেট বিটেন।
এনি বিরক্তিকর চোখে তাকায়। রাগ দেখিয়ে বলে,
” এত ঘাড়ত্যারা কেনো আপনি? সহজভাবে বলে দিন, এনি তোমাকে ছাড়া আমি ঠিকভাবে চলতে পারব না।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে। হাতের স্পর্শ আরও গভীর করে তুলে। উন্মুক্ত কোমড়ে শীতল হাতের বিচরনে এনি বার বার ছটফটিয়ে উঠছে। নিক নিচের দিকে তাকিয়ে বলে,
” জাস্ট দিস ওয়ান থিং ইজ ট্রু, বেবিগার্ল। তোমাকে ছাড়া আমি ঠিকভাবে চলতে পারি না। ব্যক্তিগত সূর্য যখন উদিত হয় তখন তোমাকে খুব প্রয়োজন পড়ে যায়।
নিকের কথা এনির সরল মস্তিষ্কে এক দুর্ভেদ্য ধাঁধার মতো শোনাল। সে নিকের চোখের সেই প্রলয়ংকরী দহন আর ঠোঁটের কোণে ঝুলে থাকা পৈশাচিক হাসির অর্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। নিকের বাহুবন্ধনের নিঠুর চাপ আর গ্রীবাদেশের সেই টানটান ভঙ্গি এনিকে শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও বেশি এক মানসিক বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত করছে।
এনি তার আয়ত চোখের মণি দুটো সামান্য বড় করে। একরাশ বিস্ময় আর অবুঝ আকুলতা নিয়ে নিকের পাথুরে মুখের দিকে তাকাল। তার ললাটে বা কপালে সূক্ষ্ম কিছু ভাঁজ পড়ে যায়।
সে অতিশয় অস্ফুট এবং কম্পিত স্বরে জিজ্ঞাসা করে,
” সূর্য উদিত হয় মানে?
নিক অদ্ভুতভাবে হাসে। গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে দুষ্টু হাসে গ্যাংস্টার বস। এনির চুলে মুখাবয়ব লুক্কায়িত করে এক দীর্ঘ ও তপ্ত শ্বাস গ্রহণ করে। এনির গাত্রলগ্নে যে এক অদ্ভুত ঘ্রাণ বিরাজ করছিল তা নিকের দখলদারিত্বের আকাঙ্ক্ষাকে বহুগুণে প্রজ্জ্বলিত করছে। সে যেন এনির প্রতিটি লোমকূপে নিজের আধিপত্যের অলিখিত সিলমোহর অঙ্কিত করছিল। কন্ঠের খাদ নামিয়ে বলে,
” আকাশের সূর্য উদিত হয় জমিনকে আলোকিত করার জন্য, সৃষ্টিকর্তার ইশারায়। আর আমার ব্যক্তিগত সূর্য নিয়ন্ত্রন করে আমার ধ্বংসকারী, আমার বৈধ বাঁকা হাড্ডি । সবটাই সুন্দরভাবে হয় তবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলো এইটাই সমস্যা। উত্তাপ গ্রহন করতে শিখো বেইবি।
নিকের প্রতিটা কথা বুঝতেই এনি সাথে সাথে ছিটকে দুরে সরে যায়। চোখ -মুখ খিঁচে শাষিয়ে উঠে,
” বেহায়া, নির্লজ্জ লোক! এত অশ্লীল কথাবার্তা কিভাবে উচ্চারন করেন?
নিক কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায় ফোনের আওয়াজে। ফোনের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
” অশ্লীল না হলে পুরুষদের বউ টিকে না।
এনি চোখ – মুখ খিঁচে ফেলে। যেমন ভয়ানক তেমন অশ্লীল! নিক ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে ভ্রুঁ ভাঁজ করে।
কায়াতের নাম্বার দেখে বাঁকা হাসে। ফোন রিসিভ করে কানে নিতেই কায়াতের রাগান্বিত গলার আওয়াজ,
” তুই মেরেছেন ইগরকে? বাস্ট্রাড!
কায়াতের সেই শ্রুতিকটু গালি শ্রবণ করা মাত্রই নিকের মুখাবয়বে এক ভয়ংকর ও পাথুরে জঠররাগ ফুটে উঠে। তার চোয়ালের হাড়গুলো দপদপ করে নড়ে উঠতে চাইছে। যা তার অন্তরালে থাকা সুপ্ত দানবটির জেগে ওঠার অশুভ সংকেত। ললাটের সেই ভাঁজগুলো এখন এক রক্তাক্ত ধ্বংসলীলার মানচিত্র হয়ে ধরা দিচ্ছে। তার ধূসর-বাদামী নয়নযুগল হঠাৎ কুঞ্চিত হয়ে এক হিমশীতল শূন্যতায় পর্যবসিত হয়। নিক তবুও হাসলো,
” ভেতরে অগ্নি কান্ডে জ্বলে যাচ্ছিস কায়াত? ভয় পেয়েছিস?
কায়াত অট্টহাসির মত হাসি দিয়ে উঠে,
” বাইন**** ইচ্ছে করলে তকে আমি অনেক আগেই মারতে পারতাম। শুধু পারিনি তকে কঠিন মরন দিব সেটা ভেবে । ইগরের কাছে আমার কোটি -কোটি টাকার হিসেব। এইসব হিসেব চুকাতে না পেরে আমি এখন দেওলিয়া হওয়ার পথে।
কথাগুলো বলতে বলতে কায়াত চিৎকার দিয়ে উঠে। নিক উপহাস করে বলে,
” ইচ্ছে হয়েছে তাই মেরেছি। নিজের বন্ধুর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন লাশ নিশ্চই দেখেছিস! ওকে এমনভাবে মেরেছি যে কেউ দ্বিতীয়বার তাকানোর সাহস করে নি। কেউ ভয়ে ছবিটাও পোস্ট করতে পারেনি মিডিয়ায়। দেওলিয়া হয়েছিস এইটা তো খুশির সংবাদ। থালা নিয়ে বসলে দুই টাকা ভিক্ষে দিব নে। এত চিন্তা করছিস কিসের?
আগুনের মধ্যে ঘি ঢাললে যেমন টগবগ করে উঠে। নিকের উপহাস করা প্রতিটা বাক্য কায়াতের শরীরকে যেন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। কুত্তার মত চিৎকার দিয়ে বলে,
” তর জীবন আমি জাহান্নাম করব নিক। বসে অনেক তামাসা দেখেছি। অনেক সময়ের অপেক্ষা করেছি। কিন্তু এখন আর নয়। নিক, তুই কি ভাবিস ইগরকে মেরে তুই জিতে গেছিস? আসল খেলা তো কেবল শুরু হলো। তোর ওই রক্ষিতার দেহটা আমি এমনভাবে ব্যবচ্ছেদ করব যে তুই চিনতেই পারবি না ওটা কোনো নারী নাকি একতাল রক্তাক্ত মাংস। তোর ওই ‘প্রাণভ্রমরা’র পবিত্রতার যে অহংকার তুই করিস সেটা আমি তোর চোখের সামনে ধুলোয় মিশিয়ে দেব।
আমি ওকে কেবল ভোগ করব না নিক, আমি ওর প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস আর কান্নার আর্তনাদ রেকর্ড করে তোকে শোনাব। ওর ওই ফর্সা শরীরে আমার নখের আঁচড়গুলো যখন তোর নামের ওপর দিয়ে বয়ে যাবে তখন তুই বুঝবি প্রতিহিংসা কারে বলে। আমি ওর আত্মাকে এমনভাবে অপবিত্র করব যে তুই চাইলেও আর কোনোদিন ওকে ছুঁতে পারবি না। এই রক্ষিতাকে আমি প্রানে মারব না। কিন্তু ওর শরীর নিয়ে বছরের জ্বালা আর প্রতিহিংসা মিটাব। তুই চাইলেও এই মেয়েকে আর গ্রহন করতে পারবি না। ঘৃণায় তোর নিজের হাত কেঁপে উঠবে। নিজের পরিস্থিতির কথা ভেবে নিজেই চিৎকার করে উঠবি।
কায়াতের সেই জঘন্য এবং কুরুচিপূর্ণ আস্ফালন নিক জেভরানের কর্ণে পৌঁছানো মাত্রই তার ধমনীতে থাকা রক্ত যেন উত্তপ্ত লাভার ন্যায় ফুটতে শুরু করে। তার সুগঠিত চোয়ালের পেশিগুলো পাথরের ন্যায় কঠিন হয়ে স্ফীত হতে শুরু করে। ললাটের নীলচে শিরাগুলো এক রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় দপদপ করতে লাগে। তার ধূসর-বাদামী নয়নযুগল এক নিমেষে রক্তবর্ণ অগ্নিকুণ্ডে পর্যবসিত হয়ে যায়। যেখান থেকে যেন বিচ্ছুরিত হচ্ছিল কেবল বিনাশের তীব্র নীল শিখা। নিক ক্রোধ সামলাতে না পেরে ডিভানের সামনে রাখা কাউচটাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সাথে সাথে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় টেবিলটা। কাউচের উপরে রাখা ল্যাপটপ ও ছিটকে পড়ে দুরে কোথাও। বিকট শব্দ প্রতিটা দেয়ালে ধ্বক্কা খেয়ে কেমন ছমছমে করে তুলে রুমটাকে। এনি মুখে হাত দিয়ে পিছিয়ে যায় কিছুটা। নিকের সেই রাগান্বিত অবয়ব। যেটার সম্মুখীন সে বার বার হয়েছিলো। পালিয়ে যাওয়ার পর জীবন্ত কবর, চাবুক দিয়ে আঘাত করা। ওই ভয়ানক দিনটার কথা এনি কোনোদিন ও ভুলবে না। এক নরকময় সময় ছিলো সেটা তার কাছে। সেদিনের পর থেকে নিকের এই ধ্বংসকারী উন্মাদ রাগটাকে এনি সহ্য করতে পারে না। ভয়ে মুচড়ে যায় তার হৃৎপিন্ড।নিশ্বাস ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এনি পিছাতে পিছাতে দেয়াল চেপে ধরে।
নিকের কণ্ঠ হতে নির্গত হলো এক বজ্রনির্ঘোষ গর্জন, যা প্রকোষ্ঠের নিশ্ছিদ্র নিস্তব্ধতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে এক বীভৎস প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করে,
” শুয়রের বাচ্চা, খোদার কসম করে বলছি যে জিহ্বা দিয়ে তুই আমার স্ত্রীকে বাজে কথা বলেছিস সে জিহ্বা টেনে না ছিঁড়া অব্দি আমার শান্তি মিলবে না। তর কলিজা মেপে দেখব আমি কায়াত। ভুলে যাবি না এই মেয়ে আমার জন্য কি!
নিকের এই হিংস্র রাগটা দেখে কায়াত অনেক মজা পেলো। কিছু ভাঙ্গার শব্দ তার কানেও গিয়েছে। এত বড় প্রলয় ঘটেছে, শুনাটা স্বাভাবিক। কায়াত ওয়াইনে চুমুক দিয়ে কৌতূক করে বলে,
” রক্ষিতার জন্য এত দরদ, ছ্যাহহহ!
নিক এইবার চিৎকার করলো না। তবে কন্ঠে ছিলো বিষাক্ত সূচের মত ধাঁরালো। মাথার চুলে হাত দিয়ে বলে,
” রক্ষিতা নয় সে। ও আমার সম্রাজ্যের মালকিন। আমার অন্ধকার জীবনের আলো। আমার স্ত্রিকে রক্ষিতা বলে নিজের বিপদ আরও ডেকে আনিস না।
কায়াত হুমকিতে ভয় পেলো না। বিদ্রুপ করে বলে,
” ছ্যাহহ, তর ও যে এই দিন দেখব কল্পনা করি নি। একজন পতিতালয়ের মেয়ের জন্য চিৎকার করছিস নিক? ভুলে যাস না এই মেয়েকে পাচার কেন্দ্রে রাখা হয়েছিলো। আর পাচার কেন্দ্রের নারীদের সাথে কেমন ব্যবহার করা হয় সেটা তর থেকে ভালো আর কে জানে। ইউ আর দ্য লিডার অব দ্য বিগেস্ট ক্রাইম সিন্ডিকেট ইন দ্য কান্ট্রি। যে কারোর ব্যবহার করা গ্লাসটা পর্যন্ত ছুঁয়ে দেখে না সে অন্যের স্পর্শ করা একজন পতিতার সাথে সংসার করছে। ছ্যাহহহ!
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরলো নিজের। রাগের উত্তাপে লাল হয়ে আছে চোখ-মুখ। অদ্ভুতভাবে হেসে বলে,
” এত বোকা হয়ে আমার সাথে খেলতে নেমেছিস কায়াত? তুই ভুলে যাচ্ছিস নিক জেভরান তার সম্পত্তিকে ঠিক কিভাবে নিরাপদে রাখে। আর এইটা তো ছিলো আমার দুর্বলতা। পাচার কেন্দ্রেও রানীর হালে ছিলো। পুরুষ তো দুরের থাক মাছিও তাকে স্পর্শ করতে পারে নি। কারন তাকে পাহারা দেওয়ার জন্য ছিলো আন্ডাগ্রাউন্ড টেরোরিস্ট গ্যাংস্টার বস। যে নিক জেভরানের পিছনে হাজারটা গার্ড ঘুরে সেই নিক জেভরান একজন নারীকে পাহারা দিয়েছে সারারাত জেগে। রানীর হালে থেকেছে সে। বিকজ’ সে গ্যাংসটার বসের স্ত্রী। যার অর্থ পুরু সম্রাজ্যের মালকিন। জেনে রাখ কায়াত, পুরুষ তো দুরের কথা একটা পাখিও ওকে ছুঁয়ে দেখার ক্ষমতা রাখে না। তকে একবার বলেছিলাম যেদিন ওকে সামান্য স্পর্শ করবি সেদিন আমি গ্যাংস্টার পদ ছেড়ে দিব। দুই বছর হতে চলল পারিস নি। এখন কোন বাল ছিঁড়বি দেখিয়ে দিস। নয়ত তর যে ছিঁড়ব সেটা কনফার্ম, রাস্কেল!
কায়াত নেশায় বুদ হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। চেয়ারে হাত-পা ছড়িয়ে বসে অট্টহাসি দিয়ে বলে,
” তুই শক্তিশালী সেটা অস্বীকার করব না। কিন্তু তুই বাস্তবতা বদলাতে পারবি? পাচার থেকে তুলে ওকে নিলামে তুলেছিলাম আমি। আঠারো জন মিলে ওর শরীরের ভাঁজে লালসার দৃষ্টি দিয়েছে। চোখ দিয়ে এমনভাবে নোংরা করেছে যে স্পর্শের প্রয়োজন নেই। আর সেই নোংরাকে নিয়ে তুই রাত কাটাচ্ছিস। বলছি বেড পারফর্ম্যান্স কেমন দেয়? দেখতে তো ছোটোখাটো মনে হয় তাহলে তর মত এমন দানবকে সামলায় কিভাবে? শক্তি আছে বলতে হবে!
নিকের চোখ শিকারির মত জ্বলে উঠে। তার নিশ্বাসের শব্দ পুরো রুম জুড়ে বিরাজ করছে। হাতের রগগুলো কেমন অস্বাভাবিক ফুলে উঠেছে। ঘাড় আঙ্গুল ঘেষে বলে,
” থেমে যা কায়াত।নয়ত তর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করব।
তর কলিজা আমি নিজে ছিঁড়ে খাব।
তর শরীরের প্রতিটা মাংসপিন্ড বিষাক্ত পোকার আহার করাব। টুনাইট ইজ দ্য ফাইনাল ফা*কিং সেলিব্রেশন অব ইওর চ্যাপ্টার। কারন পরবর্তী আগুন তর চিতার মধ্যে জ্বলবে শুয়রের বাচ্চা।
মদ খেয়ে টাল হয়ে থাকা কায়াতের বিশ্রি হাসির শব্দ শুধু ভেসে আসছে। ক্ষ্যাপা বাঘের মত মোবাইলটা দুরে কোথাও ছুঁড়ে ফেলে দেয় নিক । খন্ড-বিখন্ড হয়ে যায় মোবাইলটা। নিক চুল টেনে ধরে অপর ফোনে কাউকে ফোন করে। ফোন রিসিভ হতেই চিৎকার করে উঠে,
” কায়াতের খোঁজ কর। আকাশ, পাতাল, জমিন যেখানে লুকিয়ে আছে সেখান থেকে খুঁজে বের করে আমাকে জানা। সাত ঘন্টার মধ্যে যদি কায়াতের খোঁজ করতে না পারিস তবে তদের মাথা কেটে আমি মাটি রাঙ্গাব। দ্যাট পারসন হার্ট মি ফা*কিং ডিপলি। দেয়ার ভেরি এগজিস্টেন্স, ইভেন ফর আ মোমেন্ট, ইজ দ্য রিজন ফর মাই আনরেস্ট।
কেটে দেয় ফোন। চুল টেনে ধরে চিৎকার করে উঠে নিক। হাতের ফোনটাও আছড়ে ফেলে দেয়। বার বার বিকট শব্দে ঘরটা যেন কেমন ছমছমে হয়ে উঠেছে। নিক আচমকা এনির দিকে তাকাতেই অবাক হয়ে যায়। সামান্য সময়ের জন্য তো ভুলে বসেছিলো তার উপস্থিতির কথা। এনি কেমন বিধ্বস্ত হয়ে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। কানের মধ্যে দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে আছে। নিক চোখ-মুখে হাত দিয়ে ঘন নিশ্বাস টানে। কায়াতের প্রতিটা কথা এনি নিশ্বঃন্দেহে শুনে নিকের বুঝতে বাকি রইলো না।
নিক সামনে এগিয়ে যেতে পারছে না। কেমন যেন নিজেকে নিস্তেজ মনে হচ্ছে। আশ্চর্য! গ্যাংস্টার বস কি ভয় পাচ্ছে? একটু আগেও তো হুংকারে কেঁপে উঠেছিলো শত্রুপক্ষে। তবে মুহূর্তেই কেনো এইভাবে ভয় পাচ্ছে সে। নিক অনুভব করলো পা দুইটাকে সামনে নিতে পারছে না। জন্মদাত্রীকে খুন করেছে যে ছেলে সে একটা নারীর বিধ্বস্ত মুখ দেখে সহ্য করতে পারছে না। নিক ছন্নছাড়া হয়ে আশে-পাশে তাকায়। এনির সামনে সামান্য ঝুঁকে তার শরীরে হাত রাখে। এনি নিকের দিকে তাকায়। নিজেকে সামলাতে না পেরে আচমকা নিকের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বুকে মাথা রেখে পিছন থেকে শার্টটাকে খাঁমছে ধরে শক্তভাবে। কান্নার কারনে কথা বলতে পারছে না। বুক চীঁড়ে চিৎকার করে উঠে,
” আমি অপবিত্র নয়। আমাকে কোনো পুরুষ ছুঁয়ে কলঙ্কিত করে নি। ওদেরকে বলে দিন আমি কারোর রক্ষিতা নয়। আপনি তো আমাকে বৈধভাবে ছুঁয়েছেন। তবে তারা কেনো আমাকে নিয়ে এত জঘন্য কথা বলে? রক্ষিতা নয় আমি কারোর। এই শব্দের ভার আমি বহন করতে পারি না। কষ্টে কলিজা ছিঁড়ে যায় আমার। ওদেরকে বলে দিন নিক, আমি কলঙ্কিত নয়।
এনির কান্নার শব্দে হাহাকার করছে প্রতিটা দেয়াল। এনির মুখে প্রথমবারের মত নিজের নাম শুনে থমকে যায়। অন্যকিছু ভুলে বার বার ‘নিক’ শব্দটা প্রতিধ্বনি হচ্ছে।
এনি হুট করেই কান্না থামিয়ে দেয়। ক্লান্ত শরীরটা ছেড়ে দেয় নিকের বুকের মাঝেই। নিক চেপে ধরে এনির শরীরটা।
” কান্না থামাও ব্লাডরোজ। তুমি যদি পৃথিবীর সব থেকে কলঙ্কিত নারী হও তবুও আমার কাছে পৃথিবীর সব থেকে শুদ্ধতম নারী।
নিকের কন্ঠ কানে যেতেই এনি কিছুটা নিস্তব্দ হয়ে যায়। হুট করেই ছিটকে যায় নিকের থেকে। নিকের কপাল কুচকে আসে। এনি পিছিয়ে গিয়ে বলে,
” এত জঘন্য কথা আমি কোনোদিন শুনিনি। আজ এইটাও প্রশ্ন উঠছে বিছানার পারফর্ম্যান্স কেমন দেয়? আমার সাথেই কেনো এমন? কেনো ঘটে আমার সাথে এমন? কি অপরাধ করেছি আমি। আমি একটা বিষাক্ত জিনিস।
এনির পাগলের প্রলাপ নিকের রাগ বাড়ানোর জন্য আরও যথেষ্ট। এনির দুই হাত ঝাঁকি দিয়ে বলে,
” স্টপ! অন্যের কথা নিয়ে যদি আর এক ফোটাও চোখের পানিও ফেলেছিস তবে জান খেয়ে ফেলব হারামির বাচ্চা। তুই কায়াতকে চিনিস? ছিঁচকাদুনির মত কেঁদেই যাচ্ছিস। ও একটা নরখাদক। প্রতি দিন পার্টির মধ্যে মানুষের মাংস, রক্ত খেয়ে উল্লাস করে। শালার শক্তি যতক্ষণ থাকে ততক্ষন পর্যন্ত কুমারী মেয়েদের সাথে রাত কাটায়। এর টাওয়ার চেক করলে লক্ষ নারীর ছুঁয়া পাওয়া যবে। এর মত একটা কুত্তার বাচ্চার কথায় তুই কাঁদছিস কেনো? আবার ও ফুঁপানোর শব্দ আসলে মেরে মাটিতে পুতে দিয়ে আসব। কান্না থামা!
নিকের ধমকের কারনে এনির হেচকিও কমে যায়। ফ্যাঁলফ্যাল করে তাকায় নিকের দিকে। লোক কতটা খারাপ হলে এমন সময়ে এইভাবে ধমকায়। একটু মাথায় হাত বুলিয়ে মিষ্টি কথা বললে কি খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যেত! এনি কান্নার কারনে কথা বলতে পারছে না। বাচ্চাদের মত ঠোঁট উল্টে আসছে বার বার।
” কোনোদিন মানুষ হবেন না। সাইকো একটা!
এনির ঠোঁটের দিকে তাকেই নিকের অবস্থা কাহিল। এনির ঠোঁটের উপরে নিজের আঙ্গুল চেপে ধরে বলে,
” টানছে খুব।
এনি হকচকিয়ে উঠে বলে,
” কি?
নিক পিছন থেকে এনির মাথা চেপে ধরে একদম নিজের কাছে নিয়ে আসে। চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,
” টানছে অনেক কিছুই। কিন্তু সময়টা খুব অল্প। বাহিরে গিয়ে কাউকে চিতার মধ্যে নিতে হবে। অল্প সময়ে অল্প কাজ করা যাক।
এনিকে আর বুঝতে দিলো না নিক। উন্মাদের মত চেপে ধরে এনির ঠোঁট। এনির চোখ বড় বড় হয়ে আসে। কষ্টে তার কলিজা ফেটে যাচ্ছে। আর এমন মোমেন্টে নিকের উন্মাদ ব্যবহারে রেগে যায়। নিকের পিঠে ঘুষি দেয় ইচ্ছেমত। নিক হাত চেপে ধরতে গিয়েও থেমে যায়। ওষ্ঠের মিলনে এনির নাজেহাল অবস্থা। নিকের বুকে নখের আচড় দিতে থাকে ইচ্ছে মত। নিক কামড় বসায় নরম ঠোঁটের উপর। এনি ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে। নিকের হাত চলে যায় অবাধ্যভাবে। এনির পুরো শরীর যেন স্তব্দ হয়ে যায়। এমনভাবে বিশ মিনিট চলে এই উন্মাদনা। নিক ছেড়ে দেয় এনিকে। এনি শ্বাস নিয়ে হাঁপাচ্ছে। এনির ঠোঁট থেকে রক্ত মুছে দিয়ে নিক বলে,
” বাকি কাজটা রাতে করব বেইবি।
নাজলী গুনগুন করে গান গাচ্ছে আর এদিক-সেদিক হাটছে। মেইড এসে রুম পরিস্কার করে দিয়ে যায়। আরিশকে এই মুহূর্তে ইমার্জেন্সি বাহিরে যেতে হবে। কিন্তু শাওয়ার ছাড়া কিভাবে বের হবে সে? হাত এমনভাবে কেটেছে যে পানি লাগলেই জ্বলে উঠবে। আরিশের ঠোঁটের কোণে বক্র হাসি ফুটে উঠে। নাজলীর দিকে তাকিয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
” সামনে এসো।
নাজলী শুনেও না শুনার অভিনয় ধরে বসে আছে। আরিশের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। ধমকে উঠে,
” শুনতে পাচ্ছো না কি বলছি?
নাজলী খাপছাড়া ভঙ্গিতে বলে,
” ডিস্ট্রাব করবেন না মুভি দেখছি। নায়কটা এত জোশ! আহহহ, এমন একটা ছেলে যদি আমার উনি হত।
আরিশ হাত মুষ্টি করে কটমট করে তাকায়। হিংসায় জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে ক্রিমিনাল লিডার। বসা থেকে উঠে খপ করে নাজলীর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে বাহিরে ফেলে দেয়। নিজের ফোনের এমন অকাল মৃত্যুতে নাজলী পারছে না কেঁদে দিবে এমন অবস্থা। নাজলী বাহিরে যেতে চাইলে আরিশ হাত দিয়ে আটকে ফেলে। নাজলী রাগে -দুঃখে চেঁচিয়ে উঠে,
” আপনার সাহস হলো কিভাবে আমার ফোনটাকে নিচে ফেলে দেওয়ার। অসভ্য লোক।
আরিশ ও সেইমভাবে চোয়াল শক্ত করে ফেলে,
” আবার ও ত্যারামি করলে মোবাইলের জায়গায় মাথাটাকে আছড়ে মগজ বের করব, বেয়াদব।
নাজলী ভ্রুঁ নাচায়,
” মগজটা মনে হয় আপনার বাপের সম্পত্তি?
আরিশ নিজেও ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,
” আমার বাপের হলে তো তুমি আপন বোন হয়ে যাবে। তুমি হলে তোমার বাপের কষ্টের ফল ডার্লিং। আমার বাপের আমি ছাড়া উনার কোনো সন্তান ছিলো না।
আরিশের এমন অদ্ভুত যুক্তিতে নাজলী তেরে যায়। আরিশ একই জায়গায় শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। নাজলী থতমত খেয়ে বলে,
” আপনাকে আমি দেখে নিব।
” কোথা থেকে শুরু করবে?
” মানে?
আরিশ সরে গিয়ে বলে,
” আমাকে দেখার কথা বলেছো। শুরু কি উপর থেকে নিচে যাবে নাকি নিচ থেকে উপরে যাবে?
নাজকী হতভম্ভ হয়ে যায়। আরিশের দিকে কুশন ছুড়ে দিয়ে বলে,
” গজব পড়ুক আপনার মুখের উপর। নির্লজ্জ!
আরিশ কুশনটা ধরে বিছানায় বসে পড়ে। নাজলী সাইট টেবিল থেকে আরিশের ফোনটা তুলে জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। এমনভাবে ফেলেছে যে কত জায়গায় ধ্বাক্কা খেয়েছে তার ইয়াত্তা নেই। নাজলী ভেবেছে আরিশ হয়ত ক্ষেঁপে যাবে এমন করাতে।।কিন্তু আরিশ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,
” ফোন ফেলে নিজে থেকে গেলে কেনো? নিজেও লাফ মারতে এর সাথে।
” আপনার ঘাড়ের রক্ত খাওয়ার জন্য থেকে গিয়েছি।
” জঙলী কি আর কারন ছাড়া বলি। রক্ত তো সেই প্রথম থেকেই খাচ্ছো।
নাজলী রাগে কাঁপছে অথচ কিছুই করতে পারছে না। আরিশের সামনে গিয়ে কোমরে হাত দিয়ে বলে,
” এর প্রতিশোধ আমি ভিন্নভাবে তুলব। আমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নিশ্চই বিয়ে করবেন। তার থেকে অবশ্যই ডজন-ডজন বাচ্চা ফুটাবেন। যে উত্তেজনা আমি দেখতে পাচ্ছি এতে ডজন ও কম হয়ে যাবে।
আরিশ গম্ভীর অথচ শান্ত গলায় বলে,
” চেক করেছিলে নাকি আমার উত্তেজনা? কতদিন গিয়েছিলে আমার সাথে বেডের উপর?
নাজলী লজ্জায় চোখ-মুখ খিঁচে ফেলে। তবুও জেতার জন্য সাহস বিয়ে বলে,
” অভ্যন্তরীন জিনিস আরেক নারীর সম্পত্তি। আমার দেখার এত ইচ্ছে নেই।
আরিশ কাঁধ নাড়ায়,
” ডজন কেনো আমি তো হাজারটা বাচ্চা নিব। যদি আমার বউ সেটা গ্রহন করতে পারে। মুলত সে প্রচুর রাগী। মৃত্যুর ভয় নেই, যা বলে একদম মুখের উপর। অদম্য সাহস নিয়ে তার চলাফেরা আর কথাবার্তা। দেখতে এতটা রুপবতী যে আরিশের হৃদয় থমকানোর জন্য যথেষ্ট। মুলত এমন মেয়ে পেলেই বিয়ে করে ফেলব।
নাজলী প্রথমে ভেঙ্গে পড়েছিলো। ভেবেছিলো হয়ত অন্য মেয়েকে পছন্দ করে ফেলেছে। হুট করে এমন পাল্টি নেওয়াতে রাগে ইচ্ছে করছিলো নিজের চুল ছিঁড়তে। ছেলে মানুষ এত ঝগড়ুটে কিভাবে হয়? নাজলীর অসাম্ত কথাটা মনে মনে পড়ে। কেঁশে বলে,
” আমার কথাটাকে সমাপ্ত করতে না দিয়ে তামাসা করবেন না। বাচ্চার কথা বলছিলাম। প্রতিটা বাচ্চার উপর প্রতিশোধ তুলব আমি। বাপকে তো কিছু করতে পারছি না। এদেরকে মেরে মনের জ্বালা মিটাব।
নাজলীর কথায় আরিশ অদ্ভুতভাবে তাকায়। শান্ত গলায় বলে,
” কথাটা ভালোভাবে মনে রেখো। বাচ্চাদের উপরে কিন্তু প্রতিশোধ তুলবে যে কোনো মূল্যে হোক। তখন যদি এক থাপ্পর দিতে গিয়েই বলো, আমার বাবা। তখন কিন্তু এইটা আমি মেনে নিব না।
নাজলী কপাল কুচকে বলে,
” আশ্চর্য আপনার বাচ্চাকে আমি বাবা বলব নাকি। সে কি আমার সন্তান নাকি?
আরিশ রহস্যময়ভাবে হাসলো। আজকাল কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে সে।।আগে তো সে এমন ছিলো না।।তার সাথে কেউ গলা উঁচু করে কথা বলতে পারে না। তবে আজ কেনো সে কিছু বলছে না?
আরিশ কাবার্ডের কাছে গিয়ে বলে,
” আমাকে শাওয়ারে সাহায্য করো।
নাজলীর চোখ কপালে উঠে যাওয়ার উপক্রম।
” ঠিক বয়সে বিয়ে হলে এতদিনে দশ বাচ্চার বাপ থাকতেন। আপনাকে কি সাহায্য করব।
আরিশ কাবার্ড থেকে শার্ট বের করদ বলে,
” বার বার বাচ্চার কথা বলে কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছো? তুমি যদি নিতে পারো তবে শুধু দশটা নয়। এর থেকেও বেশি দিতে রাজি আছি। আমার আর কি কষ্ট!
নাজলীর নাক-মুখ কেমন কুচকে আসে। মুখ নাকি এটম বোমা এইটা? নাজলী কিছু বলার ও সুযোগ পায় নি। আরিশ নিজের রুপে ফিরে আসে। সেই গম্ভীরতা নিয়ে বলে,
” অযথা তর্ক না করে সাহায্য করো আমাকে।
” একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না? এমন অযথা ঢং করছেন কেনো? পুরো শরীরে যখন ক্ষত নিয়ে পড়ে থাকতেন তখন কাকে খুঁজেছেন?
আরিশ ঠোঁট কামড়ে ধরে হাসে। নাজলীর হাত চেপে ধরে ঠেলে ওয়াশরুমে নিয়ে যায়। নাজলী ছটফট করে উঠে,
” আপনার ধান্দা আমি বুঝেছি। একা একটা মেয়েকে পেয়ে এইভাবে ফায়দা তুলছেন।
আরিশ দরজা লাগিয়ে বলে,
” ফায়দা তুলার ইচ্ছে থাকলে অনেক আগেই করতে পারতাম। এতদিনে আমার ফটোকপি পেটে নিয়ে ঘুরতে তুমি। চুপচাপ আমার শরীর থেকে শার্টটা খুলো। নয়ত ফটোকপি নিয়ে ঘুররার প্রসেসিং শুরু করে দিব। প্রমিস!
নাজলী থমকে যায়। নিস্তব্ধতা ছিঁড়ে নাজলীর হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানিটা যেন দেয়ালগুলোতে আছড়ে পড়ছে। আরিশের পাথরের মতো শক্ত হাতের মুঠোর সামনে সে কতটা অসহায়। কি করনে সে এখন? লোকটা যে পুরোটা অভিনয় করছে সবটাই নাজলীর জানা। যার কোনো অনুভুতি নেই সে আজ হুট করে ব্যাথার ভয়ে চুপসে যাবে। হাস্যকর!
নাজলী কোনো কথা বলে নার আর।।ঝগড়া করার মুড নেই। বাথরুমের নিওন আলোটা কেন জানি আজ বড্ড বেশি ফ্যাকাশে। আরিশের এক হাতে সাদা ব্যান্ডেজ, যা থেকে হালকা রক্তের আভা উঁকি দিচ্ছে। সেই রক্তাক্ত হাতেই সে বাথটাবের পাশে নাজলীকে নিয়ে এসে দাঁড়ালো। তার চোখের দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত জেদ আর নেশা মেশানো। নাজলী সেই চোখের দিকে তাকাতে পারছে না। আরিশ আবার ও বলে,
” খুলো।
আরিশের ফিসফিস কন্ঠে কেঁপে উঠে নাজলী। গলার স্বর নিচু কিন্তু হুকুমের মতো শোনাচ্ছিলো। শার্টটা খুলে দেওয়ার জন্য। নাজলীর হাত দুটো কাঁপছে। আঙুলগুলো তার কথা শুনছে না। কাপড়ের বোতামগুলো খুলতে গিয়ে সে বারবার খেই হারিয়ে ফেলছে। আরিশের শরীরের উষ্ণতা আর সেই তীব্র পুরুষালি সুবাস তাকে আরও বেশি অস্থির করে তুলছে। সে জানে না এই কম্পন কি কেবল ভয়ের নাকি অবচেতনে লুকিয়ে থাকা অন্য কোনো অনুভূতির। শার্ট খুলতেই আরিশ বাঁকা হাসে।
হঠাৎ করেই আরিশ শাওয়ারটা ছেড়ে দেয়। মুহূর্তেই বরফশীতল জল নাজলীর পিঠ বেয়ে নেমে যায়। ভিজে একাকার হয়ে যায় মুহূর্তেই। জলের ঝাপটায় নাজলীর তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবটা কেটে গেল এক নিমেষে। সে ছিটকে সরে যেতে চাইলো। আর্তনাদ করে উঠল—”কি করছেন আপনি !”
কিন্তু পালানোর পথটা আরিশ আগে থেকেই বন্ধ করে রেখেছে। তার এক হাতের শক্ত বাঁধন নাজলীর কোমরকে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নেয়। পানির ঝাপটায় নাজলীর জামা শার্ট লেপ্টে গেছে শরীরের সাথে। শিরশির করে কেঁপে উঠছে রমণী। আরিশের ব্যান্ডেজ করা হাতটার দিকে নজর যেতেই অবাক হয়ে যায়। ব্যান্ডেজ ভিজে একাকার। তাহলে তাকে নিয়ে আসাটা ইচ্ছেকৃত ছিলো? নাজলী ছটফট করে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৮
” মিথ্যুক লোক, ব্যান্ডেজ নিয়ে অভিনয় করলেন কেনো?
” তুমি বিশ্বাস করে নিলে যে ক্রিমিনাল লিডার আরিশ ইলহাম সামান্য ক্ষত নিয়ে আহ্লাদি করবে? তোমার অবস্থান, তোমার পরিচয় স্মরন করাচ্ছি মিসেস আরিশ ইলহাম। শাওয়ারের নিচে নগ্ন অবস্থায় ল্যাপ্টে থাকা পুরুষটা আপনার কি সেটা মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছিলাম। বৈধতা মনে করাচ্ছি। আমার অধিকার স্মরন অরো। পরেরবার আমার সামনে পর পুরুষ নিয়ে কথা বলবে না।
