লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৩
Fatima Fariyal
সময় তার নিজস্ব শ্রোতে গড়িয়ে যায় নিঃশব্দে, নির্দয় ভঙ্গিতে। স্মৃতির পাতা উল্টাতে উল্টাতেই কেটে গেল বেশ কয়েকটা দিন। এর মধ্যেই আনিকাদের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। গতকালই শেষ প্র্যাকটিক্যাল জমা দিয়ে এসেছে সবাই। আর আজ সন্ধ্যাতেই আহিয়া আর রিদিতার হলুদের অনুষ্ঠান। বাড়ি জুড়ে উৎসবের প্রস্তুতি।
আনিকা আর নীলার আরও আগেই বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আনিকার উঠতেই দেরি হয়ে গেল। কারণটা খুব সাধারণ, রাত জেগে শাহীনের সঙ্গে কথা বলেছে।
কথা বলেছে বলা ভুল হবে, একপ্রকার ঝগড়াই করেছে।
সেদিনের পর থেকে শাহীনের মুখে একটাই বাক্য, প্রতিদিন, অবিরাম বলছেন,
“চলেন, বিয়ে করি।”
ঘুম ভাঙল আবার সেই শাহীনের কলেই। সকাল সকাল আনিকার মেজাজটা এমনিতেই টগবগ করে ফুটছিল, তার ওপর এই কল যেন আগুনে ঘি ঢালল।
“আজব! বিয়ে ছাড়া দুনিয়ায় আর কোনো শব্দ নাই নাকি? কথায় কথায় বিয়ে, বিয়ে! বিয়ে কি ডাল-ভাত নাকি? মানছি আমিও বিয়ে করতে চাই, তাই বলে এমন! কথা নেই, বার্তা নেই বুবু একখান হাফ টিকিট!”
রাগে নিজেই বকবক করতে করতে রেডি হতে লাগল আনিকা। তার মায়ের কান এড়িয়ে গেল না এই বকবকানি। পাশের ঘর থেকে এসে তিনি উঁকি দিয়ে বললেন,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“কিরে? সকাল সকাল কার সঙ্গে কথা বলছিস এমন করে?”
“কপাল আম্মা, কপাল! আমার কপালের সাথেই কথা বলতেছি। বুড়া হয়ে যাইতেছি আর তোমরা এখনো আমার বিয়ে দিতে পারতেছো না। আমি কি সারাজীবন এমনই থাকবো? বিয়া-শাদি দিবা না?”
আনিকা দাঁতে দাঁত চেপে উত্তর দিল। আনিকার মা তার আগোছালো কাপড়চোপড় গুছাতে গুছাতে নির্বিকার কণ্ঠে
বললেন,
“দিবো না কেন? তুই মেয়ে মানুষ, একদিন না একদিন বিয়ে তো দিতেই হবে। তার জন্য ভালো ছেলে পাওয়া লাগবে না?”
“আর কবে দিবা আম্মু?” আনিকার গলায় নাটকীয় হাহাকার। “আমার এক পা কবরে চলে গেছে। কবে আমার বিয়ে হবে আর কবে তিনটা বাচ্চা হবে?”
তিনি এবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“এহ! এক পা কবরে গেছে উনার? আমার থেকে বয়স বেশি তোর? তোর মতো বেহায়া মেয়ে আমি দেখি নাই। এই বয়সে আমরা লজ্জায় বিয়ের নাম মুখে আনতাম না আর তুই বিয়ের জন্য এমন পাগল হয়ে গেছিস! তোরে স্বাদে কি বসায়া রাখছি?”
আনিকা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“তুমি বুঝবা না আমার দুঃখ। তোমার তো বিয়ে হয়ে গেছে, দুইটা বাচ্চাও আছে, সুখের সংসার আছে। তাই পরের দুঃখ বুঝবা না।”
“অসভ্য!”
এই এক শব্দ ছুড়ে দিয়ে মা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন।
আনিকা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে শাড়ির আঁচল সামলাতে সামলাতে গজগজ করতে করতে বাসা থেকে বেরিয়ে এল। ঠিক তখনই সামনে চোখে পড়ল শাহীন। সবুজ রঙের পাঞ্জাবি, হাতা গুটানো। চোখে কালো চশমা। গলায় হলুদ ওড়না পেঁচানো। সব মিলিয়ে, মাশাআল্লাহ!
একদম কাঁচাপাকা পেয়ারার মতো লাগছে। ভাবতেই আনিকার হাসি পেয়ে গেল। সেই হাসি চোখ এড়াল না শাহীনের। সে চশমা খুলে ভ্রু তুলে প্রশ্ন করল,
“আপনি হাসছেন কেন? আমাকে দেখে কি জোকার মনে হলো?”
আনিকা হাসি সামলে কটাক্ষ ছুড়ল,
“বাহ! আপনি তো বেশ বুদ্ধিমান। কী করে বুঝলেন আমার মনের খবর?”
শাহীন একচুলও ছাড়ল না,
“আমি বুঝবো না তো কে বুঝবে? আপনাকে বিয়ে করবো আর আপনার মনের খবর জানবো না, তা হয়?”
আবার সেই বিয়ে। আনিকার ঠোঁট শক্ত হয়ে গেল। এতদিন সে একাই বিয়ে-বিয়ে করেছে তাই আহিয়াদর কাছে বিরক্ত লাগত। এখন দেখছে, তার থেকেও বড় বিয়ে-পাগল দুনিয়ায় বিদ্যমান। কপালে বিরক্তির ভাঁজ ফেলে বলল,
“আপনার কি বিয়ে ছাড়া আর কোনো কথা নাই? আর এখানে কেন এসেছেন? কেউ দেখে ফেললে আব্বুকে বলে দেবে। তখন কী হবে?”
“কী আর হবে? বিয়ে হয়ে যাবে।”
“আপনি কেন এসেছেন?”
“বিয়ে করতে। চলেন, বিয়ে করি।”
“শুধু বিয়ে, বিয়ে, বিয়ে! সমস্যাটা কী আপনার?”
শাহীন গভীর ভাব ধরল।
“সমস্যা? সমস্যা তো অনেক। ঘুমাইলে চোখে কিছু দেখি না, চোখ খুললে সরিষার বাগান দেখি। খাইলে খিদা লাগে না। মাথা ঝিমঝিম করে। আরও বড় বড় রোগ আছে।”
“তো ডাক্তার দেখান!”
“দেখাইছি। ডাক্তার বলছে, বিয়ে করতে।”
“বিয়ে করলে চোখে ভালো দেখবেন?”
“হ্যাঁ। চলেন, বিয়ে করি।”
“বেহায়া, বদমাইশ, নির্লজ্জ লোক একটা!”
নির্লজ্জ না হলে বিয়ে করবো কীভাবে?”
আনিকা আর কোনো উত্তর খুঁজে পেল না। দাঁতে দাঁত চেপে সামনে একটা ফাঁকা রিকশা পেয়ে ঝট করে উঠে পড়ল। শাহীন যে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, সেটা বৃথাই যাক। এই মুহূর্তে সেটা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। সেও এক সেকেন্ড দেরি না করে আনিকার পাশেই উঠে বসল রিকশায়। আনিকা একটু সরে বসল, তবু কিছু বলল না। একটা অদ্ভুত অনুভূতি বুকের ভেতর খেলা করতে লাগল। তারও পিছু নিতে পারে কেউ, তার জন্যও কেউ পাগলামি করছে, এটা ভেবে বেশ ভালই লাগছে তার। ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটা মৃদু হাসির রেখা ফুটে উঠল।
শাহীন সেটা লক্ষ করল। এবার তার মুখেও হাসির রেশ দেখা গেল। দুটো মনেই যে একে অন্যের জন্য অপ্রকাশিত, অস্বীকৃত অনুভূতি বহন করছে, তা যে কেউ দেখলে অনায়াসে বলে দিতে পারবে।
মীর হাউজ আজ আলোয় মোড়া এক রাজকীয় প্রাসাদ। ছাদের কার্নিশ বেয়ে বেয়ে ঝুলে থাকা সোনালি রঙের ছোট ছোট মরিচ বাতিগুলো বাতাসে দুলে দুলে আলো ছড়াচ্ছে চারপাশে। বাগান থেকে শুরু করে মূল ফটক পর্যন্ত প্রতিটি ইঞ্চি ঝলমলে উৎসবের সূর্যের মতো বিছিয়ে দিয়েছে। পুরো বাড়িটা লোকালয়ের ঢেউয়ে কাঁপছে। নিরাপত্তার দিকেও কোনো ঘাটতি রাখানি আমজাদ মীর। স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে চারপাশে। প্রত্যেক আমন্ত্রিত অতিথিকে কার্ড যাচাই করে ভেতরে প্রবেশ করাচ্ছেন তত্ত্বাবধায়করা। কারণটা ছোট নয়। মীর বাড়ির দুই পুত্র এবং এক কন্যার একসাথে বিয়ে। এমন উপলক্ষ্যে এলাকা গমগম করছে। বড় বড় কেন্দ্রীয় এমপি, রাজনৈতিক নেতা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজন, কেউই বাদ পড়েনি। রিদিতাদের গ্রাম থেকেও এসেছে পুরো পরিবার, সাথে আরও কিছু আত্মীয়। সব মিলিয়ে মীর হাউজ এখন এক বিশাল কর্মযজ্ঞের কেন্দ্রস্থল।
গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান প্রায় শুরু হয়ে গেছে। অথচ রিদিতা এখনো গাল ফুলিয়ে বসে আছে এক কোণে। কারণ একটাই, আহাদ তার সাজ নষ্ট করে দিয়েছে। কত যত্ন করে পার্লারের লোক এসে নিখুঁত, পরিমিত সাজে সাজিয়ে দিয়ে গেছে। সবই আহাদের হাতে লেপ্টে গেছে। তার যুক্তি অনুযায়ী, এতো সাজের কী দরকার? তার প্রেয়সী এমনিতেই সুন্দর। তার উপর বেশি সাজলে নাকি সে তার প্রেয়সীকে চিনতেই পারে না!
এই আজব যুক্তির কোনো মানে রিদিতা খুঁজে পায় না। এখন সে জেদ ধরে বসে আছে, বিয়েই করবে না। আহিয়া, জেরিন, আনিকা, হালিমা সবাই বোঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু রিদিতার এক কথা, সে কিছুতেই স্টেজে যাবে না। এদিকে কনেদের জন্য অপেক্ষা করছে গোটা আয়োজন। শেষমেশ আফরোজা শেখ অনেক বুঝিয়ে-সুজিয়ে তাকে নিয়ে এলেন। চোখেমুখে হালকা সাজ, পরিমিত অলংকার। এই বিশাল ভিড়ের মাঝে তাকেই সবচেয়ে সাধারণ লাগছে। বাকিরা সবাই ভারী সাজে সজ্জিত, ঝলমলে, চাকচিক্যপূর্ণ। রিদিতার চোখ ছলছল করে ওঠে। সে আনিকার কানে ফিসফিস করে বলল,
“আমি কি আদৌ বিয়ের পাত্রী? নাকি বিয়েতে আসা কোনো মুসাফির যাত্রী?”
আনিকা মজা নেয়ার জন্য আরও উস্কে দিল,
“দোস্ত। ওরা তো আমার থেকেও বেশি সেজেছে, দেখ!”
রিদিতা কাঁদোকাঁদো গলায় বলল,
“আমি কি সবসময় সাজি বল? প্রথম বিয়েতে তো তেমন সাজিনি এবার একটু সেজেছি, তাও ওই বজ্জাত বেডা সব নষ্ট করে দিল!”
“থাক দোস্ত, কষ্ট পাইসনা। বাঁইচ্চা থাকলে আবার বিয়া হবে।”
“আমার এখন খুব রাগ হচ্ছে!”
“জমিয়ে রাখ। কাজে লাগবে।”
আহিয়া আর রিদিতা পাশাপাশি বসে। তাদের দুই পাশে এসে বসেছে আদনান আর আহাদ। একে একে বড়রা এসে হলুদ ছুঁইয়ে দিচ্ছেন। আশীর্বাদের হলুদে ভরে উঠছে চারপাশ। কিন্তু আহাদ ধীরে ধীরে অধৈর্য হয়ে উঠছে। হলুদ লেগে তার মুখ কেমন কিটকিট করছে। লোকচক্ষুর আড়ালে সে রিদিতার শাড়ির আঁচল টেনে নিজের গালের হলুদ মুছে নিল। আহ! যেন শান্তি ফিরে এলো। মুখে স্বস্তির হাসি নিয়ে তাকাতেই দেখে রিদিতা কটমট করে তাকিয়ে আছে। মুহূর্তেই তার হাসি মিলিয়ে গেল। বিড়বিড় করে বলল,
“এই রে! সেরেছে!”
“আপনি এটা কেন করলেন?”
রাগে কাঁপা, কাঁদোকাঁদো স্বরে বলল রিদিতা। আহাদ চারপাশে একবার তাকাল। চারদিকে বড় বড় নেতা, মন্ত্রী, গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। এই ভিড়ের মাঝে সে কীভাবে সামলাবে তার প্রেয়সীকে? ছোট ঘটনাও বড় শিরোনাম হয়ে যেতে পারে। গলা নরম করে বলল,
“জানু… বিশ্বাস করো, আমার গালটা জ্বলছিল।”
“তো টিস্যু ছিল না? আপনার রুমালও তো আছে!”
রিদিতার কানের কাছে ঝুঁকে হিসহিস করে বলল আহাদ, “বউয়ের আঁচলে মুখ মোছাতে যে শান্তি থাকে, সেটা টিস্যু কিংবা রুমালে থাকে না।”
অদ্ভুতভাবে কথাটা রিদিতার ভালো লেগে গেল। সে আর কিছু বলল না। আর বলেই বা কী হবে, আহাদ রাজা তো আহাদ রাজাই। জন্মগত ঘাড় ত্যাড়া। শুনেছে জন্মের সময়ও নাকি মাথার বদলে আগে পা বের হয়েছিল, ডাক্তারেরা নাকি হিমশিম খেয়েছিল! বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই ত্যাড়ামি শুধু রূপ বদলেছে, কমেনি।
এমন সময় তুহিন আর রিয়াদ এসে আহাদকে টেনে দাঁড় করাল। স্টেজে নাচের পারফরম্যান্স আছে। তাদের সাথে যোগ দিল শাহীন, শাওন, নাদিম, তানভীর আর আদিল।
আদনানকে টানতেই সে সরাসরি নাকচ করে দিল। এইসব ছেলেমানুষি পাগলামো তার ধাতে নেই। সে আহিয়ার পাশে দৃঢ় হয়ে বসে থাকল। মাঝেমাঝে চোরা চোখে আহিয়ার দিকে তাকাচ্ছে। আজ আহিয়াকে অন্যরকম লাগছে। হলুদ আর সবুজ শাড়ির মিশ্রণে মেয়েটা যেন আরও মোহনীয় হয়ে উঠেছে। তার দৃষ্টির ভার টের পেয়ে আহিয়া লজ্জায় মিইয়ে গেল। আদনানের এই গভীর দৃষ্টি সে আজকাল আর সহজে সহ্য করতে পারে না।
এই গমগমে পরিবেশের মাঝেই শুরু হয়ে গেল আদিল আর জেরিনের সেই চিরচেনা টম অ্যান্ড জেরির লড়াই। দুজনের কেউই কাউকে এক ইঞ্চি ছাড় দেওয়ার পক্ষপাতী নয়। সুযোগ পেলেই খোঁচা, প্রতিশোধ আর পাল্টা আঘাত চলতে থাকে সমান তালে। এক অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কায় আদিলের হাতে থাকা রঙের ঢালা উল্টে গিয়ে সোজা আছড়ে পড়ল জেরিনের উপর। তাকে চেনার উপায়ই রইল না। ভুতুম প্যাঁচার মতো লাগছে চোখেমুখে, চুলে, শাড়ির আঁচলে সর্বত্র রঙের দাপট। আদিল তো হেসে কুটিকুটি। কিন্তু জেরিনও কম যায় না। এক সেকেন্ড দেরি না করে সেও ঝাঁপিয়ে পড়ল। আদিলকে রঙ মেখে বানিয়ে দিল একেবারে রঙিলা কাকাতুয়া। মাথা থেকে পা কিছুই বাদ রাখল না। এইবার আদিলের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল নিমিষেই। জেরিন বিদ্রুপমাখা কণ্ঠে হেসে বলল,
“বাহ! পুরাই আক্কাসের বাপ ঝাক্কাস! একদম পারফেক্ট!”
আদিল চোখ কুঁচকে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“এই মেয়ে! আমি কি তোমার বেয়াই লাগি নাকি? আমার সাথে এমন মজা করতেছো?”
জেরিন ঠোঁট বাঁকিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
“মজা কোথায় করলাম? তুমি আমাকে লাগিয়েছো, আমি তোমাকে। শোধবাদ!”
“শোধবাদ না?” দাঁতে দাঁত কুটিয়ে আদিল ফোঁস করে উঠল, “এইবার দেখাচ্ছি মজা!”
কথা শেষ না হতেই জেরিন এক দৌড়ে ছুট দিল। আর পিছু নিল আদিল। আজকে এই জেরিকে সে শায়েস্তা করেই ছাড়বে। এই পণ নিয়েই দৌড়াচ্ছে। মেয়েটা দিন দিন মাথায় উঠে যাচ্ছে, আর সে কিছুই বলছে না, এটা আর চলবে না।
লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫২
দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ করেই থেমে গেল আদিল।
কারণ কোলাহল, হাসি, গান আর উল্লাসের ভিড় চিরে হঠাৎ ভেসে এলো এক চাপা কান্নার শব্দ। খুবই করুণ, খুবই অসহায় সেই কান্না। শব্দটা আসছে আহাদের ঘরের দিক থেকে। আদিলের বুক কেমন করে উঠল। ঘরের দরজাটা খানিকটা ফাঁকা। কৌতূহল আর অস্বস্তি মিলিয়ে সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল দরজার দিকে। মাথার ভেতর একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে,
আহাদ আর রিদিতা দুজনেই তো স্টেজে। তাহলে… তাদের ঘরে কাঁদছে কে?
