লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৬০
Fatima Fariyal
সূর্য তখন ঠিক মাথার ওপর। বেলা অনেকটাই গড়িয়ে গেছে অথচ রোদের তেজ তেমন নেই বললেই চলে। হালকা, নরম এক উষ্ণতা চারপাশ জুড়ে আছে। শীতের প্রভাবেই হয়তো এমন শান্ত রোদ। আহাদ একটু আগেই বেরিয়েছিল। এখন হাতে খাবারের প্যাকেট নিয়ে ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ল, রিদিতা নেই। মুহূর্তেই বুকের ভেতর কেমন একটা টনটনে ব্যথা জেগে উঠল। অজান্তেই দুশ্চিন্তা চেপে ধরল তাকে। টেবিলের ওপর প্যাকেটগুলো রাখতে রাখতে গলা উঁচু করে ডাকল,
“রিদি! রিদিইই!”
কোনো সাড়া নেই। আসলে রিদিতা তখন বারান্দার দোলনায় গুটিশুটি হয়ে বসে আছে। পা দুটো দোলনার ওপর তুলে হাঁটুতে চিবুক ঠেকিয়ে রেখেছে। দৃষ্টি আটকে আছে অদূরে, সাদা মার্বেলের তাজমহলের দিকে। এখান থেকে সেটাকে বেশ স্পষ্টই দেখা যায়। অনেকক্ষণ ধরেই সে ওদিকে তাকিয়ে আছে। তবে মনটা পড়ে আছে ভিন্ন চিন্তায়; আনিকা খুলনা যাওয়ার পর থেকে আর কোনো খোঁজ নেই। ফোন বন্ধ, কোনো বার্তা নেই। আহিয়া আর রিদিতা কতভাবে যে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, তার হিসেব নেই। কিন্তু কোনোভাবেই সফল হয়নি। শেষমেশ রিদিতা জেদ ধরেই আহাদকে বলেছে আনিকার খোঁজ নিয়ে দিতে। আহাদ ওয়াদা ও করেছে, নেবে। এখন শুধু বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষা।
“রিদি! জানু!”
আহাদের ডাকে চিন্তার সুতো ছিঁড়ে গেল। রিদিতা সঙ্গে সঙ্গে পা নামিয়ে সোজা হয়ে বসল। কারন আহাদ দেখলে আবার শুরু করবে, এভাবে বসে আছো কেন? বেবিদের কষ্ট হয়, এই ভঙ্গিতে বসা যাবে না। আর কী কী বলবে তারও হিসেব নেই। কাল রাত থেকে আহাদের এই অতিরিক্ত সচেতনতা, পাগলামো দেখতে দেখতে রিদিতা ক্লান্ত। তাই বুদ্ধি করে তাকে একটু বাইরে পাঠিয়েছিল। বায়না ধরেছিল সে ইন্ডিয়ান দোসা খাবে। উদ্দেশ্য একটাই, আহাদ বাইরে গেলে সে একটু নিজের মতো করে হাঁটাচলা করতে পারবে। এমনিতেই তো ঘরবন্দি; তার ওপর যদি নড়াচড়া বন্ধ থাকে তাহলে তো নিশ্বাসই আটকে আসবে।
“এই তো! এখানে আমি!”
রিদিতার কণ্ঠ শুনেই আহাদ বারান্দার দিকে এগিয়ে এল। চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। সামনে গিয়ে তার কোমল দুই গালে হাত রেখে বলল,
“কী হয়েছে হুম? শরীর খারাপ লাগছে? আদনানকে কল করবো? নাকি ডাক্তারের কাছে যাবে?”
রিদিতা শুধু না সূচক মাথা নাড়ল। আহাদ ফের জিজ্ঞেস করল, “তাহলে? খিদে পেয়েছে?”
আবারও মাথা নাড়ল। এবার আহাদের দুই ভ্রুর মাঝখানে গভীর ভাঁজ পড়ল।
“একটু আগেই তো বললে খিদে পেয়েছে। আমি খাবার নিয়ে এলাম। এখন বলছো খিদে নেই?”
রিদিতা কিছু বলল না। শুধু উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
আহাদ আর কিছু না বলে তাকে তুলে নিজে দোলনায় বসল। তারপর রিদিতাকে আলতো করে নিজের কোলের ভেতর বসিয়ে নিল। কণ্ঠ নরম করে জিজ্ঞেস করল,
“মন খারাপ?”
একটা গভীর নিশ্বাস ছেড়ে রিদিতা বলল,
“আচ্ছা মন্ত্রীমশাই… আমি যদি কখনো চিরতরে হারিয়ে যাই, আপনি কি খুব বেশি কষ্ট পাবেন?”
নির্লিপ্ত স্বরে উত্তর এল, “উহুম।”
রিদিতা বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইল তার গভীর বাদামি চোখের দিকে। আহাদ এবার তার ঘাড়ে থুতনি ঠেকিয়ে ধীরে বলল,
“কষ্ট পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। যেখানে তুমি নেই, সেখানে এই আহাদ রাজাও নেই। তাহলে তোমাকে হারানোর কষ্ট অনুভব করারও কেউ নেই।”
“ভালোবাসেন আমাকে?”
“কী মনে হয়? বাসি?”
“উহুম। আপনি বলেন।”
আহাদ ধীরে ধীরে হাত রাখল রিদিতার উদরে। অনুভব করতে চাইল দুটো জীবনের স্পন্দন। কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
“আমার অস্তিত্ব বহন করছো। আর কত প্রমাণ চাও?”
রিদিতা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল, “আপনার একার না। আমারও।”
আহাদ হেসে ফেলল। একটু নিচু হয়ে তার নাকের ডগায় আলতো চুমু খেয়ে বলল, “হুম, তোমারও।”
রিদিতা এবার পুরোপুরি নিজের ভার ছেড়ে দিল আহাদের বাহুতে। আদুরে বিড়ালের মতো কয়েকবার নাক ঘষে আবার সামনে তাকাল। দৃষ্টি গিয়ে পড়ল তাজমহলের দিকে। সে মাথা তুলে আহাদের মুখোমুখি হয়ে বলল,
“ভালোবাসা জিনিসটা কত অদ্ভুত, তাই না? মমতাজের কোনো অতুলনীয় রূপ ছিল না, তবুও শাহজাহানের হৃদয়ে তার জন্য গভীর টান জন্মেছিল। সেই টানই পরিণত হয়েছিল নিখাদ ভালোবাসায়। মৃত্যুর পরও সেই ভালোবাসা একটুও কমেনি, বরং আরও গভীর হয়েছিল। প্রিয় মানুষটাকে ভালোবেসে; তার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে শাহজাহান গড়ে তুলেছিলেন গোটা এক তাজমহল। এটা ভাবলেই আমার মনটা ভালো হয়ে যায়।”
এই কথা শুনে আহাদের ভেতরে কোথাও একটা ঈর্ষা জেগে উঠল। কপাল শক্ত হয়ে এল। একটু ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল,
“চাইলে আমিও এমন মহল বানাতে পারি। কিন্তু আমি চাই না কেউ আমাদের ভালোবাসা নিয়ে মন্তব্য করুক।”
রিদিতা বিভ্রান্ত হয়ে তাকাল।
“মানে?”
আহাদ গম্ভীর স্বরে বলল,
“প্রতিদিন তাজমহল দেখতে হাজারো মানুষ ভিড় করে। সবাই ভালো-মন্দ কত কী বলে। আমি চাই না আমাদের ভালোবাসা নিয়ে কেউ কিছু বলুক। ভালোবাসা হচ্ছে গোপন ব্যাপার স্যাপার। যত গোপনে থাকবে, ততই ভালো। মানুষের নজর লাগলে তার জোর কমে যায়। আমি আবার নজরে বিশ্বাস করি। আমি চাই না তোমার প্রতি, আমাদের ভালোবাসার প্রতি কারও বদ নজর লাগুক।”
রিদিতা হা করে তাকিয়ে রইল। সে কী বলেছে আর এই মানুষটা কী বুঝেছে!
“এটা আবার কেমন যুক্তি?”
“এটা আহাদ রাজার যুক্তি! ফারদার আমার ভালোবাসার তুলনা করলে খবর করে ছাড়বো। কথাটা মস্তিষ্কে বসিয়ে নাও জানু।”
“আপনি আসলেই পাগল।”
“তুমি তার ফিমেল ভার্সন।”
“বজ্জাত বেডা!”
“তুমি ওটারও ফিমেল ভার্সন।”
রিদিতা এবার প্রচণ্ড আকারে ক্ষিপ্ত হয়ে আহাদের বাহুতে দাঁত বসিয়ে দিল। আহাদ চোখ মুখ খিঁচে নিল ব্যাথায়।
“আআআআ! ছোট বেলায় কী দিয়ে দাঁত মাজছিলে বলো তো? তোমার দাঁতে এত জোড় কেন?”
“ছাই।”
“এ্যাহ! কী?”
“ছাই দিয়ে। ছোট বেলায় দেখতাম আমার এক ফুপ্পু সকালে ঘুম থেকে উঠেই ছাই দিয়ে দাঁত মাজতো। বলতো ছাই দিয়ে দাঁত মাজলে নাকি দাঁত চকচক করে। তাই তার সাথে প্রতিদিন আমিও মাজতাম।”
অবিশ্বাসের সাথে আহাদ তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, “তাই বলি সবসময় এমন আফ্রিকান শিংওয়ালা ব্যাঙের মতো কুটুস কুটুস কামড় দেও কীভাবে!”
রিদিতা রাগে আর অভিমানে কিলঘুষি বসাতে লাগল তার বুকে। আহাদ তার দুই হাত শক্ত করে ধরে রেখে শব্দ করে হেসে উঠল। বারান্দাজুড়ে তখন শুধু হাসি আর ভালোবাসার উষ্ণতা।
সেই সকালে শপিংয়ে বেরিয়েছে আদনান, আহিয়া, শাহীন আর নীলা। দেখতে দেখতে দুপুর প্রায় গড়িয়ে এসেছে, অথচ কেনাকাটার কোনো শেষ নেই। বিশেষ করে আহিয়ার ক্ষেত্রে তো প্রশ্নই ওঠে না। শপিং মানেই আহিয়ার আলাদা একটা উচ্ছ্বাস। নীলাও তার থেকে খুব একটা আলাদা নয়। যদিও আজ তার আগ্রহটা একটু কম। শরীরের ক্লান্তি না থাকলেও মনের ভার তাকে একটু ধীর করে রেখেছে। তবু আহিয়া তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে। ওদের ঠিক পেছনে একগাদা শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে হাঁটছে আদনান আর শাহীন। দুজনেই ক্লান্ত, কিন্তু তার চেয়েও বেশি অস্বস্তিতে ভরা। কেউ কারো সঙ্গে কথা বলছে না। চোখ তুলে তাকানোরও প্রয়োজন বোধ করছে না। এর আগে কখনো একসাথে সময় কাটানোর সুযোগ হয়নি তাদের। তাছাড়া আদনানের কাছে শাহীন বরাবরই একটু অপছন্দের মানুষ। আর আজ বউদের চক্করে পড়ে কত কিছু যে সহ্য করতে হচ্ছে ভাবতেই বিরক্ত লাগছে।
অনেক অনুরোধ, অনেক বায়নার পর আহিয়া শেষমেশ নীলাকে একটা ড্রেস ট্রাই করতে রাজি করিয়েছে। নীলা ড্রেসটা নিয়ে ট্রায়াল রুমে ঢুকেছে প্রায় পনেরো, বিশ মিনিট পেরিয়ে গেল; অথচ বেরোনোর কোনো নাম নেই। শাহীন এসব নিয়ে প্রথমে মাথা ঘামায়নি কিন্তু আহিয়ার বারবার বলায় সে গিয়ে দরজায় হালকা টোকা দিয়ে ডাকল,
“নীলা! নীলা… তুমি ঠিক আছো?”
ভেতর থেকে নাক টানার একটা ক্ষীণ শব্দ শোনা গেল। তারপর একটু ভাঙা কণ্ঠে উত্তর এল,
“আমি ঠিক আছি। এই তো আসছি।”
শাহীন দরজার পাশেই দাঁড়িয়ে রইল। মিনিটখানেক পর নীলা বেরিয়ে এল, গায়ে অলিভ রঙের ওপর কালো সুতার সূক্ষ্ম কারুকাজ করা গাউন। পোশাকটা তাকে সত্যিই মানিয়েছে। শাহীন এক ঝলক তাকিয়েই অস্বস্তিতে দৃষ্টি নামিয়ে নিল। নীলা জিজ্ঞেস করল,
“আহিয়া কই? ওকে একটু ডেকে দিবেন?”
শাহীন চারদিকে তাকিয়ে দেখল আদনান আর আহিয়া কোথাও নেই।
“ওদের তো দেখছি না… কেন? কোনো দরকার?”
নীলা একটু ইতস্তত করল। ঠোঁট ভিজিয়ে নিয়ে বলল,
“আ… আসলে.. এই ড্রেসটা ও ট্রায়াল দিতে বলেছিল। তাই আর কী…”
শাহীন এবার স্বাভাবিকভাবেই তাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার অবলোকন করে নিল।
“ভালোই তো লাগছে। বেশ মানিয়েছে। নিতে পারো, কিন্তু এটাআআ…”
কথাটা শেষ করার আগেই শাহীনের ভ্রু কুঁচকে গেল। নীলা তার দৃষ্টিতে অস্বস্তি টের পেয়ে নিজের ভেতর গুটিয়ে গেল। মনে মনে ভাবল তাকে এতটা খারাপ লাগছে নাকি? নাকি… খুব বেশি ভালো লাগছে? সে আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল,
“কিন্তু কী?”
শাহীন চারদিকে একবার চোখ বুলিয়ে পরিস্থিতি বুঝে নিল। তারপর কাছে এসে একটু নিচু গলায় বলল,
“তোমার… তোমার মানে… ওইটা। দে-দেখা যাচ্ছে।”
নীলা কিছুই বুঝল না। চোখের ইশারায় প্রশ্ন করল,
“কী দেখা যাচ্ছে?”
শাহীন দৃষ্টি সরিয়ে আঙুল দিয়ে গলার দিকে ইশারা করল।
“জামার গলা অনেক বড়। এটা না নেয়াই ভালো।”
নীলার চোখ বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যেই সে পিছু হটে আবার ভিতরল ঢুকে পড়ল। আয়নায় তাকিয়েই বুঝল গলার পাশ দিয়ে ইনারের একাংশ দেখা যাচ্ছে। লজ্জায় সে মুখ ঢেকে ফেলল। ছি! ছি! কী এক এলাহী কাণ্ড! আর এক সেকেন্ড দেরি হলে মানসম্মান সব ধুলোয় মিশে যেত। সে তড়িঘড়ি করে ড্রেসটা খুলে আগের পোশাক পরে বেরিয়ে এল। শাহীন একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিল। চোখাচোখি হতেই সে অস্বস্তিতে দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিল।
ঠিক তখনই পাশের ট্রায়াল রুমের সামনে হঠাৎ এক হট্টগোল শুরু হলো। কয়েকজন জোরে জোরে হিন্দিতে কথা বলছে। ভিড় জমে গেছে। ভিড়ের ফাঁক দিয়ে দেখা গেল আদনানের সাথে এক মধ্যবয়স্ক লোকের তর্ক চলছে। শাহীন দ্রুত এগিয়ে গেল। নীলাও কৌতূহল আর উদ্বেগে ভিড় ঠেলে সামনে এল। আদনান কর্কশ গলায় চেঁচাচ্ছে,
“আরে মশাই! আমার বউয়ের সাথে আমি কী করব না করব তা আপনাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে? নিজের লিমিটে থাকেন!”
লোকটা বেজায় ক্ষেপে আছে। আদনানের বাংলা সে বুঝছে না। তবুও নিজের মতো করে হিন্দিতে চেঁচিয়ে যাচ্ছে,
“এ লেডিস ট্রায়াল রুম হে সাব! আপ এয়সে আন্দার নেহি যা সাকতে! কুছ তো শারম কারে!”
একজন আরেকজনের ভাষা বুঝছে না ঠিকিই, কিন্তু তর্কের তেজ কমছে না। সাথে আরও কয়েকজন মহিলা অভিযোগ তুলেছে আদনান নাকি লেডিস ট্রায়াল রুমে ঢুকেছে। শাহীন হিন্দিতে বেশ পারদর্শী। সে দ্রুত এগিয়ে এসে বলল,
“এক্সকিউজ মি! এক্সকিউজ মি! মেরি বাত শোনে প্লিজ!”
মধ্যবয়সী লোকটা আদনানকে দেখিয়ে বলল,
“এ লারকা আপকে সাথ হে?”
“জি, জি।”
“সামালকার রাখে আপনে ভাইকো। বেত্তমিজ ইনসান!”
আদনান পুরোপুরি না বুঝলেও বেত্তমিজ শব্দটা ঠিকই বুঝেছে। সে হাত মুঠো করে তুলতেই একটা ছেলে এগিয়ে এসে বলল,
“ভাই আপনারা বাংলাদেশী, তাই না?”
শাহীন মাথা নাড়ল। “জি।”
ছেলেটা বাংলায় ব্যাখ্যা করল,
“আমি বাংলা জানি। কাজের জন্য কয়েকবার বাংলাদেশে গিয়েছি। আসলে সমস্যা হলো, উনি লেডিস ট্রায়াল রুমে ঢুকে পড়েছেন বলে সবাই খুব রেগে গেছে। এমনটা করা উচিত হয়নি।”
শাহীন অবিশ্বাসের চোখে তাকাল আদনানের দিকে। এমন লাগামছাড়া কাজ সে করবে ভাবতেই পারেনি। আদনান বিরক্তিতে আহিয়ার দিকে ইশারা করে বলল,
“সি ইজ মাই ওয়াইফ! ওকে সাহায্য করতে গিয়েছিলাম। এতে খারাপটা কী করেছি?”
শাহীন দাঁতে দাঁত চেপে আদনানের কানে ফিসফিস করে বলল, “ভাই, চুপ করেন না! আর বাড়াবাড়ি করলে পাবলিকের কেলানি খাবেন।”
আদনান গভীর নিশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করল। শাহীন অনেক বুঝিয়ে, অনুরোধ করে কোনোমতে পরিস্থিতি সামলাল। এখন সবাই শপিং মল থেকে বেরিয়ে পার্কিং লটের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু কারো মুখে কথা নেই। নীরবতা ভারী হয়ে ঝুলে আছে। হঠাৎ নীলা সেই নীরবতা ভেঙে ফিসফিস করে বলল,
“আহিয়া, আদনান ভাই সত্যি সত্যি ট্রায়াল রুমে… আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। তোরা প্রেম করার আর জায়গা পেলি না?”
আহিয়া লজ্জায় লাল হয়ে গেল।
“উনাকে শুধু আমার জামার জিপার খুলে দিতে ডাকছিলাম। কিন্তু কী থেকে কী হয়ে গেল। ওই বুড়ি মহিলা বেশি বাড়াবাড়ি করেছে।”
নীলা ভ্রু তুলে বলল,
“নিশ্চয়ই কিছু দেখেছে। এমনি এমনি তো আর বলবে না।”
“ফা… ফা-ফাও কথা বলবি না। এ… এমন কিছুই হয়নি।”
লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৯
কিন্তু আহিয়ার চোখ-মুখে সব লেখা। নীলা হালকা করে হেসে ফেলল। তাতেই শাহীন আড়চোখে তাকাল তার দিকে। আজ অনেকদিন পর নীলাকে হাসতে দেখছে। চোখাচোখি হতেই নীলার মাথায় ফিরে এল একটু আগের অস্বস্তিকর মুহূর্তটা। সে দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিল। শাহীনও ব্যস্ত ভঙ্গিতে শপিং ব্যাগগুলো গাড়িতে তুলতে লাগল। আবারো সেই নীরবতা। এই নীরবতার ভেতরেই জমে থাকল অজস্র না-বলা কথা।
