শেহেজাদার আদর পর্ব ১৪
সুমাইয়া ইসলাম নূর
ভোরের প্রথম আলোটা ধীরে ধীরে আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে…
রাতের বৃষ্টির পর চারপাশে এক অন্যরকম সতেজতা।
ভেজা মাটির গন্ধে যেন পুরো পরিবেশটা নরম, শান্ত হয়ে আছে।
গাছের পাতায় জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা টুপটাপ করে পড়ছে…
দূরে কোথাও পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে
নতুন একটা দিনের শুরু জানান দিচ্ছে।
চৌধুরী বাড়িটাও আজ ভোরের আলোয় যেন অন্যরকম সুন্দর লাগছে…
বড় বারান্দা, সিঁড়ির রেলিং, উঠোন—সব জায়গায় ভেজা ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।
সকালের নাস্তার টেবিলে আজ বাড়ির প্রায় সবাই উপস্থিত…
শুধু রিমঝিম, ইউভি আর রেদোয়ান নেই।
আজ ইউভির খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং—
এই মিটিংটা তার জন্য অনেক বড় ব্যাপার।
আর রেদোয়ান আর তিয়াও সকাল সকাল বেরিয়ে গেছে “Iva Company”-তে।
তিয়া ওই কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর তাই ওরও ব্যস্ততা কম না।
আর রিমঝিম—
CID অফিসার বলে কথা…
ছুটি থাকলেও একটা গুরুত্বপূর্ণ কেস আসায় তাকে অফিসে যেতেই হয়েছে।
এইদিকে ডাইনিং টেবিলে চলছে অন্য এক যুদ্ধ
আলুর পরোটা নিয়ে পিয়াসা আর রিদ-এর মারামারি শুরু হয়ে গেছে।
রিদ বলছে—
এইটা আমি নেবো
পিয়াসা মুখ বাঁকিয়ে বলল—
নে আমি থুতু লাগায়ে দিছি খা এখন ভালো করে খা আরে খা না।
এই কথা শুনেই রিদ একদম ছোট বাচ্চার মতো ভ্যা ভ্যা কাঁদতে শুরু করল
এই দৃশ্য দেখে রেশমা চৌধুরী এগিয়ে এসে পিয়াসার কানটা হালকা টেনে বললেন—
তুই আর বড় হবি না?
ওইদিকে নূর মা অসুস্থ—একবার খবর নিছিস?
পিয়াসা কিছু বলার আগেই—
হঠাৎ আয়াত চিৎকার করে উঠল—
ওই তো আপু আসছে!
সবাই একসাথে সিঁড়ির দিকে তাকাল বললো
নূর
ইনায়া ধীরে ধীরে নেমে আসছে…
মুখটা এখনো একটু ফ্যাকাশে, কিন্তু আগের চেয়ে অনেকটা ভালো লাগছে।
চোখে হালকা ক্লান্তি, তবুও ঠোঁটে মৃদু হাসি তার
সে এসে টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে বলল—
আমাকে খাবার দাও মা
এই কথা শুনে—
রাতিব চৌধুরী সাথে সাথে বললেন—
এদিকে আয় মা আমার কাছে বস আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
লিখন চৌধুরী সাথে সাথে বললেন
তুই সরে যা।
আমার মেয়েকে আমি খাওয়াবো
রাতিব চৌধুরী হেসে বললেন—
আমারও তো মেয়ে আছে ভাইয়া
পাশ থেকে পিয়াসা বলল—
আমাকেও খাওয়াও আমিও খাবো
আবার হেসে বলল পিহু
দাও দাও, খাইয়ে দাও।
এইদিকে আয়াত আর আতিকাও বলে উঠল—
আমাদেরও খাওয়াও মেজো চাচ্চু।
পুরো চৌধুরী বাড়িটা যেন আজ হাসি-আনন্দে ভরে গেছে…
এতদিন পর সবাই একসাথে—
একটা পূর্ণ পরিবারের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে।
দূরে বসে বাড়ির তিন গিন্নি এই দৃশ্য দেখে মৃদু হাসছে
সবাই যখন খাওয়ায় ব্যস্ত—
ঠিক তখনই ইনায়া হঠাৎ বলল—
বড় চাচ্চু আমার তোমাদের কাছে একটা চাওয়া আছে দিবা?
রাতিব চৌধুরী হেসে বললেন—
আবার বলে এখনই এনে দিবো সামনে বল কি লাগবে?
ইনায়া মাথা নেড়ে বলল—
এখন না ফুপির বিয়ের পর বলবো
তবে আগে কথা দাও আমাকে দিতে হবে
লিখন চৌধুরী হেসে বললেন—
পাকা প্রমিস।
রাতিব চৌধুরীও মাথা নেড়ে বললেন—
যা চাইবি পাবি।
ইনায়া নিচু হয়ে হালকা হাসল…
মনে মনে বলল—
এই সময়টুকুর মধ্যেই আমি নিজেকে তৈরি করে নেবো
হাজার হোক এটা তো আমার ছোটবেলার স্বপ্ন
তার চোখে তখন অদ্ভুত এক দৃঢ়তা…
আর ঠোঁটে নীরব এক প্রতিজ্ঞা।
হঠাৎ রেশমা চৌধুরী ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বললেন নূর মা তোর চুলের এ কী অবস্থা?”
ইনায়া অবাক হয়ে বলল কি অবস্থা বড় মা?
রেশমা চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে বললেন এইভাবে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বেণী করছিস কেন?
ইনায়া চুলে হাত দিয়ে বলল আমি করেছি নাকি…?
তোমারা কেউ করে দেছো।
এই কথা শুনে একে একে সবাই বলল— আমি তো করিনি নুসরাত চৌধুরী বললো আমিও করি নি পিহু বললো আমি তো ছুঁইও নাই।
ঘরে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো।
রেশমা চৌধুরী বললেন তাহলে কে করলো?
ইনায়া একটু ভাবল তারপর ধীরে বলল রাতে কেউ আমার মাথায় জলপট্টি দিচ্ছিল পানি খাওয়ায় দিছিল হয়তো… সেই ই করেছে।
কথাটা শেষ হতেই ঘরে উপস্থিত সবাই একে ওপরের দিকে তাকাচ্ছে
কেউ কিছু বলল না কিন্তু আর কারো বুঝতে বাকি রইল না—
ইউভি কতটা যত্ন করে ইনায়ার খেয়াল রেখেচে
লিখন চৌধুরী মুচকি হেসে মনে মনে বললেন বাহ ছেলে তো দেখছি একদম বাপের মতোই হয়েছে আমি তো এখন ও।
সকাল গড়িয়ে ধীরে ধীরে দুপুর নামল।
চৌধুরী বাড়ি আবার ব্যস্ত হয়ে উঠল— আজ ঘরে নানা রকম রান্নার আয়োজন।করা হয়েছে
রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে নানান রকমের খাবারের সুগন্ধ
এইদিকে— রিমঝিমও অফিস থেকে ফিরে এসেছে।
রিমঝিম এর জন্য আজ পার্লার থেকে তিন টা মেয়ে আসছে
পিয়াসা আর ইনায়া তো এই সুযোগে একেবারে পুরো সার্ভিস নিয়ে নিচ্ছে— ইনায়াও চুপচাপ বসে আছে…
হটাৎ বাইরে থেকে
রেদোয়ান চিৎকার করতে করতে ভেতরে ঢুকল।
তার সাথে ইউভি আর তিয়া।
দুজন ভাইয়ের হাত ভর্তি নানা রকম মিষ্টি।
ইউভি ঢুকেই দৌড়ে গিয়ে রেশমা চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরল—
মা আমি পেরেছি।
“আমার নতুন প্রজেক্ট শুরু হয়ে গেছে!” “আজ আমার ১০ নাম্বার এতিমখানা আর বৃদ্ধাশ্রমের কাজ শুরু হয়েছে মা।
ঘরে একসাথে সবাই অবাক হয়ে গেল।
কি বলছিস?
রিমঝিম এগিয়ে এসে বলল— “তুই এগুলো কবে থেকে শুরু করেছিস?
তার চোখ ভিজে উঠল— “আলহামদুলিল্লাহ…
আলহামদুলিল্লাহ আমি তোকে নিয়ে খুব গর্বিত বাবা।
ইউভি হেসে বলল ফুপি আজ রেদোয়ান আর তিয়া না থাকলে আমি এটা করতে পারতাম না।
এই বলে সে রেদোয়ানকে জড়িয়ে ধরল আর তিয়ার সাথে হাই-ফাইভ করল।
চারপাশে সবার চোখে তখন আনন্দের পানি।
পিয়াসা দৌড়ে এসে ইউভিকে জড়িয়ে ধরে বললো তুমি অনেক ভালো ইউ আর দ্য বেস্ট ভাইয়া।
তারপর রেদোয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল আপনাকেও অনেক থ্যাংক ইউ ভাইয়া।
এইসবের মাঝেই ইনায়া ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো।
সে একদম চুপ করে ইউভির সামনে দাঁড়িয়ে রইল একভাবে শুধু তাকিয়ে আছে।
মনে মনে বলছে একটা মানুষ সব দিক দিয়ে এতটা পারফেক্ট হয় কীভাবে…?”
— ইউভি ইনায়ার দৃষ্টি টের পেল।
হালকা হেসে আঙুল দিয়ে তুড়ি বাজিয়ে বলল এই যে মেডাম কি দেখছেন এতো মনেযোগ দিয়ে। জানি আমি দেখতে সুন্দর এখোনি সব দেখে ফেলবেন ফিউচারের জন্য কিছু রাখেন ।
ইনায়া লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে ফেলল। মনে মনে গালি দিলো সালা হিটলার একটা ভাব দেখো তো নিজেকে ভাবে শেহেজাদা বালের শেহেজাদা হুমমমমম।
ইনায়া ধীরে বলল কংগ্র্যাচুলেশন ইউভি ভাইয়া।
আরও বড় হন এই ভাবে গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ান সারাজীবন।
একটু থেমে আবার বলল আমাকে একদিন নিয়ে যাবেন ওই এতিমখানায়? আমার খুব ইচ্ছা জানেন আমি ও বড়ো হয়ে আপনার মতো হবো আমি অসহায় মানুষের পাশে থাকবো সবসময় ইন শা আল্লাহ।
ইউভির চোখ নরম হয়ে গেল মনে মনে বললো
মনে মনে বলল তোর জন্যই তো সবকিছু একদিন না আজই নিয়ে যাবো তোকে।
হঠাৎ তিয়া বলে উঠল ইউভি আমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসবি?
রিমঝিম বলল তিয়া তুমি এখন থেকেই এই বাড়িতে থাকো। আমার বিয়ের পর যেও
তিয়া হালকা হেসে বলল ওকে ফুপি আমি কাল সকালেই চলে আসবো।
তিয়া যেন এই কথাটার ই অপেক্ষাই ছিলো।
আজ একটু বাসায় যেতে হবে ফুপি
ইউভি বলল হুম চল।
রেশমা চৌধুরী বললেন কিছু খেয়ে তো যা মা
তিয়া মাথা নেড়ে বলল না আন্টি, কাল এসে খাবো ইন শা আল্লাহ আজ ইউভির সাথে একটু বের হবো শপিং আছে কাল থেকেই তো ফুপির বিয়ের পোগ্রাম শুরু
ইউভি অবাক হয়ে তিয়ার দিকে তাকাল চোখ বড় বড়
মনে মনে বললো আমি আবার কখন বললাম…?”
কিন্তু কিছু বলার আগেই
তিয়া তার হাত ধরে টান দিল চল
সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে ইউভি কিছু বলার সুযোগই পেল না…
সে একপ্রকার টেনে নিয়ে গেল তাকে।
দূর থেকে দাঁড়িয়ে ইনায়া সব দেখছিল…
তার বুকটা হঠাৎ কেমন চেপে উঠল…
মনে হলো জ্বরটা আবার ফিরে এসেছে…
চোখে কষ্ট জমে উঠল…
মনে মনে বলল—
ইচ্ছা করছে ওই তিয়ার সব চুল কেটে টাকলা বানিয়ে দেই সালি।
কাল থেকে থাকবি এই বাড়ি তে আমার শেহেজাদার পাশে তোকে ঘেসতে ও দিবো না।
শোন পেকাটি রানি আমার শেহেজাদা যদি তোকে ভালোবাসে তাহলে আমি কোনোদিন ও তোদের মাঝে যাব না যদি তোদের মাঝে কিছু নাই থাকে তাহলে আমি তোকে শেষ করে দিব। পেকাটি রানি।
আমি খুব ভালো করে বুঝে গেছি ইউভি ভাইয়ার প্রতি আমার অন্য একটা ভালো লাগা কাজ করে। ওই রাতে ইউভি ভাইয়া বলা কথা গুলো আমাকে আরো বেশি পাগল করে দিচ্ছে।
ইউভি ভাইয়ার পাশে আমার কারো কে সজ্জো হচ্ছে না।
আমার এখন অনেক কাজ আগে আমাকে জানতে হবে ওনাদের সম্পর্ক টা আসলে কি শুধুই কি বন্ধুত্ত না কি অন্য কিছু।
হঠাৎ—
ইনায়ার ফোনটা বেজে উঠল…
সে একটু অবাক হয়ে ফোনের দিকে তাকাল। অচেনা নাম্বার
ধীরে কলটা রিসিভ করল—
ওপাশ থেকে ভদ্র একটা মেয়েলি কণ্ঠে
“ম্যাম, আপনার ক্লাস আজ থেকে শুরু… আপনি বিকাল ৫টার মধ্যে রমনা পার্কে চলে আসবেন।
ইনায়া এক সেকেন্ড চুপ করে থাকল…
তারপর ধীরে বলল—
“ওকে… আমি চলে আসবো।”
কলটা কেটে দিতেই—
তার চোখে এক ঝলক আলাদা আলো ফুটে উঠল…
নিজেকে বদলে ফেলার প্রথম ধাপ শুরু আজ থেকে। আমি আমার মতো করে বাচবো ইনায়া নূর চৌধুরী নিজের মতো করে স্বাধীন ভাবে বাঁচবে।
রিমঝিম পাশ থেকে জিজ্ঞেস করল—
কে ফোন করেছিল নুর?
ইনায়া একটু থেমে খুব স্বাভাবিক গলায় বলল
কেউ না ফুপি মনি তোমরা সার্ভিসগুলো নাও আমি ওষুধ খেয়ে একটু ঘুমাবো।
দুই ঘণ্টা পর বের হবো একটু কাজ আছে।
এই বলে সে আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না…
ধীরে ধীরে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
ওদিকে বাড়ির তিন গিন্নি আবার রান্নাঘরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে…
রিমঝিম পার্লারের মেয়েদের সাথে কথা বলছে
এইদিকে—
রেদোয়ান ধীরে এসে পিয়াসার পাশে দাঁড়াল।
পিয়াসা তখন আয়নার সামনে বসে মুখে কিছু লাগাচ্ছে…
রেদোয়ান হালকা ভ্রু তুলে বলল—
“তোকে এমনিতেই ভালো লাগে পিহু…
এইসব মাখা লাগবে না।”
পিয়াসা চোখ কুঁচকে আয়নায় তাকিয়ে দুষ্টু হাসি দিল—
তাই নাকি রেদোয়ান ভাইয়া?
আমি যে দেখতে সুন্দর—এইটা আপনার চোখে পড়ছে… তাহলে তো উন্নতি হচ্ছে
রেদোয়ান হালকা হেসে
পিহুর মাথায় একটা গাট্টা মারল।
“আমার চোখে আরো অনেক কিছুই পড়ে
তারপর একটু ঝুঁকে নিচু গলায় বলল
সময় হলে বুঝিয়ে দিবো রেদোয়ান চৌধুরী কী জিনিস।
এই বলে সে আর দাঁড়াল না…
সোজা নিজের রুমে চলে গেল।
পিয়াসা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল…
তারপর নিজের ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে মুচকি হেসে বলল—
“বাহ… আমার ময়েন তো দেখি ভালোই রোমান্টিক হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে—
ইনায়া নিজের রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল।
পিছনে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ…
তার চোখে তখন অন্যরকম একটা জেদ এই আট টা দিনে অনেক পুরেছি আমি জানি আমাকে ভালো থাকতে হলে কি করতে হবে।
একটা সিদ্ধান্ত…
ইনায়া ধীরে ফিসফিস করে বলল—
“আজ থেকে শুরু…
নিজেকে বদলানোর…
নিজের স্বপ্নের পথে হাঁটার
আমি ও ইউভি ভাইয়ার মতে অসহায় মানুষের পাশে দারাবো।
বিকেলের আলোটা ধীরে ধীরে নরম হয়ে এসেছে…
দুপুরের গরম কমে গিয়ে চারপাশে এক ধরনের সোনালি শান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃষ্টির পরের ভেজা বাতাসে কেমন একটা ঠান্ডা ছোঁয়া…
গাছের পাতায় জমে থাকা পানি ঝিকমিক করছে রোদের আলোয়…
দূরে কোথাও পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে
চৌধুরি বাড়িতে দুপুরের খাওয়া অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে
সবাই যে যার রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে।
কারণ—
আজ বিকেলেই আসবে আত্মীয়-স্বজনরা…
তার আগে এই নিস্তব্ধ বিরতি সবারি প্রয়জন
এইদিকে—
ইউভি কিছুক্ষণ আগেই খাওয়া শেষ করে নিজের রুমে এসেছে।
টেবিলে বসে কাজ করার চেষ্টা করছে…
ল্যাপটপ খোলা ফাইল সামনে
কিন্তু মনটা একদমই কাজে বসছে না।
হঠাৎ—
দুপুরের সেই মুহূর্তটা মনে পড়ে গেল…
ইনায়া কী ভাবে তাকিয়ে ছিল তার দিকে
ইউভির ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল—
ইস কীভাবে দেখছিল আমার আদর আমাকে
তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন নরম হয়ে গেল…
ঠিক তখনই—
মনে পড়ল ইনায়ার বলা কথা
আমাকে নিয়ে যাবেন ওই এতিমখানায়?
ইউভি হালকা সোজা হয়ে বসল
নিজের মনে বলল—
আর ৫
পাঁচ মিনিট আদর আজই তোকে নিয়ে যাবো
আর এক মুহূর্তও দেরি করল না ইউভি
দ্রুত উঠে রেডি হয়ে নিল…
তারপর সোজা ইনায়ার রুমের দিকে গেল।
দরজা ঠেলে ঢুকতেই দেখতে পেলো।
ফাঁকা রুম ইনায়া রুমে নাই ওয়াসরুম চেক করে দেখলো সেখানে ও নাই
ইউভির পিয়াসার রুমে গেল—
“পিহু আদর বলতে গিয়ে ও থেমে গেল পিয়াসা ঘুমোচ্ছে।
কিন্তু সেখানেও ইনায়া নেই।
ছাদে গেল ইউভি ইনায়া নেই সাদে ।
লাইব্রেরি তে ওনেই।
পুরো বাড়ি খুঁজেও—
ইনায়ার কোনো খোঁজ নেই।
এবার ইউভির বুকের ভেতর হালকা অস্থিরতা কাজ করতে লাগল…
দ্রুত ফোনটা বের করে ইনায়ার নাম্বারে কল দিল।
একবার দুইবার তারপর—
কল রিসিভ করলো ইনায়া
ইউভির গলা কড়া হয়ে গেল—
কই তুই?
ওপাশ থেকে শান্ত গলা উত্তর দিল ইনায়া
রমনা পার্কে কাজ ছিল ভাইয়া। কিছু বলবেন?
এই কথাটা শুনে—
ইউভির ভেতরের রাগ, অস্থিরতা একসাথে বেরিয়ে এলো—
ওখানেই দাঁড়া আমি আসছি
কল কেটে দিল সে…
তার মনে তখন অদ্ভুত এক সন্দেহ কাজ করছে
আর তার থেকেও বেশি—
চিন্তা।
মনে মনে শুধু একটাই কথা বললো
কি এমন কাজ আদর। তোর কন্ঠ এমন শোনালো কেন? কারো সাথে আছিস তুই তুই কি আমার চোখের আরালে কিছু করছিস।
কুওার*চ্চা মেরেই ফেলবো তোকে সালি সান্তি দিলি না জীবনে।
এক মুহূর্ত দেরি না করে—
চাবি নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেল ইউভি…
বিকেলের সেই শান্ত বাতাস হঠাৎ যেন তীব্র হয়ে উঠল
দশ মিনিট এ ইউভি পৌঁছে গেলো রমনা পার্কে গিয়ে যা দেখলো সেটা সে কখনো আশা করি নি।
