শেহেজাদার আদর পর্ব ৫২
সুমাইয়া ইসলাম নূর
গোধূলি বিকেলের শেষ আলোটুকু মিলিয়ে যেতেই সন্ধ্যার আগমন হলো। চারপাশ ধীরে ধীরে অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে। শহরের ব্যস্ততা তখনও থামেনি, তবে তার মাঝেও মালিথা ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কোম্পানির হেড অফিসের সর্বোচ্চ তলার বিশাল সিইও কেবিনে বিরাজ করছে এক অদ্ভুত নীরবতা।
বিলাসবহুল কেবিনের কাঁচের দেয়াল ভেদ করে শহরের আলোকিত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। মাঝখানে রাখা বিশাল কালো টেবিলের দুই পাশে মুখোমুখি বসে আছে তিয়া আর রুমি মালিথা।
রুমি মালিথার ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
তো মিস তিয়া চৌধুরী…পরক্ষণেই হেসে বললেন,
উফফ! সরি… বেবি তিয়া মালিথা।তিয়া সঙ্গে সঙ্গে মুচকি হেসে উঠল।মম, বাপি কোথায়?তোমার বাপি একটা মিটিংয়ে আছে।হঠাৎ তিয়ার মুখ গম্ভীর হয়ে গেল। মম, জানো? ওই রিমঝিম চৌধুরী নাকি মা হতে চলেছে।কথাটা শুনেই রুমি মালিথার চোখ-মুখে ক্রোধের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠল।
তিয়া অবাক হয়ে বলল, মম, তুমি ওই বাড়ি থেকে কেন চলে এসেছে?
রুমি ঠান্ডা কণ্ঠে বললেন,শুনো তাহলে
তারপর ধীরে ধীরে বললেন, তোমার বাপি সাজ্জাদ মালিথার সঙ্গে আমি একদিন দেখা করি বিষয় টা রিমঝিম দেখে ফেলেছিল। এরপর সে পুরো বাড়ির সবাইকে জানিয়ে দেয়। তবে আমি খুব কৌশলে পুরো বিষয়টা সামলে নিয়েছিলাম। কাউকে কিছু বুঝতে দিইনি। কিন্তু তারপরও রাইহান চৌধুরী আমাকে নিয়ে বাংলাদেশে থাকেনি। লন্ডনে চলে গিয়েছিল।তিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল,
তার মানে?রুমি গভীর শ্বাস ফেলে বললেন,
তার মানে তখনই আমাদের বহু বছরের পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে শুরু করে। কারণ চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কোম্পানিকে দখল করতে হলে আমার বাংলাদেশে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।তিয়া ধীরে ধীরে বলল,
তাহলে তুমি বলতে চাও আজ মালিথা কোম্পানির এই অবস্থার জন্য রিমঝিম চৌধুরী দায়ী?
রুমি মালিথা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
— তোমার দাদু শরিফুল মালিথা কখনোই ইউভিদের দাদুকে সহ্য করতে পারতেন না। অবশ্য তার যথেষ্ট কারণও ছিল। চৌধুরীদের ক্রমাগত উন্নতি মালিথাদের বহুবার লোকসানের মুখে ফেলেছে।
তিনি কিছুক্ষণ থেমে আবার বললেন, সেই কারণেই তোমার দাদু আর তোমার বাবা মালিথা কোম্পানিকে শক্তিশালী করার জন্য আমাকে বিয়ের অভিনয় করতে বাধ্য করেছিলেন। কৌশলে আমাকে রাইহান চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন তোমার ভাই রবার্টের বয়স ছিল পাঁচ বছর। তাকে আমি এই মালিথা ভিলাতেই রেখে গিয়েছিলাম। আর তুমি তখন আমার গর্ভে ছিলে।তিয়ার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।রুমি তিক্ত হাসলেন। রাইহানের সঙ্গে বিয়ের ঠিক দশ দিন পর আমি জানতে পারি তুমি আমার গর্ভে আছো। তবে আমি বিষয়টা গোপন রেখেছিলাম চৌধুরী পরিবার কে বুঝতে দেই নি
কেবিনে আবারও নীরবতা নেমে এলো।
— যাই হোক মম, এখন মালিথাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে।
তিয়া মাথা নেড়ে বললেন,সম্মতি জানালো
— অবশ্যই।তোমাকে চৌধুরীদের কাছে রাখার একটাই কারণ ছিল। তাদের সব গোপন নথিপত্র, ব্যবসায়িক তথ্য আর দুর্বলতা জানার জন্য।
তারপর তার চোখে কঠোরতা নেমে এলো। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, চৌধুরীদের সঙ্গে টিকে থাকা ততটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ওই আতিক চৌধুরী মারা যাওয়ার আগে দুইটা দক্ষ বিজনেসম্যান তৈরি করে রেখে গেছে। শেহেজাদা ইউভি চৌধুরী আর মাহতিব রেদোয়ান চৌধুরী। এমনিতেই লিখন চৌধুরী, রাতিব চৌধুরী, রবিউল চৌধুরীদের সঙ্গে তোমার বাপিরা পেরে ওঠে না। সবসময় নাম্বার ওয়ানে থাকে চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কোম্পানি।
রুমি মালিথার চোখে তখন বহু বছরের জমে থাকা হিংসা আর প্রতিশোধের আগুন দেখা দিলো
তবে গত পঁচিশ বছরে মালিথারা যা করতে পারেনি… আশা করি তুমি সেটা করবে, তিয়া।
তিয়া ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।তার ঠোঁটের কোণে ভয়ংকর এক হাসি ফুটে উঠল।
রুমি বললেন, মনে রাখবে… শুধু এলএলবি নয়…
আমি চৌধুরীদের প্রতিটা কোম্পানি… আমাদের হাতের মুঠোয় চাই।
লন্ডনের
শহরের সবচেয়ে অভিজাত নাইট ক্লাবগুলোর মধ্যে একটি। চারপাশে ঝলমলে আলো, দামি পারফিউমের গন্ধ আর উচ্চস্বরে বাজতে থাকা মিউজিক মিলিয়ে যেন অন্য এক জগৎ তৈরি হয়েছে এখানে সাধারণ কেউ আসে না।
উপস্থিত প্রায় সবাই কোনো না কোনো বিজনেস টাইকুন, বিলিয়নিয়ার কিংবা প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান।ক্লাবের ভিআইপি সেকশনে বসে আছে রবার্ট মালিথা।হাতে ড্রিংকের গ্লাস।অতিরিক্ত ড্রিংক করার কারণে চোখ দুটো লাল হয়ে আছে।ঠিক তখনই ক্লাবের দরজা ধীরে ধীরে খুলে গেল।মুহূর্তেই যেন পুরো পরিবেশ থমকে গেল।দুইজন সুদর্শন যুবক ধীর পায়ে ভেতরে প্রবেশ করল।একজনের পরনে নিখুঁত ব্ল্যাক থ্রি-পিস স্যুট, অন্যজনের পরনে চারকোল ব্ল্যাক স্যুট। দুজনেরই হাতে ক্রিস্টাল গ্লাস।
তাদের আত্মবিশ্বাসী হাঁটার ভঙ্গি, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর রাজকীয় উপস্থিতি মুহূর্তেই সবার নজর কাড়ল।
ক্লাবের মেয়েরা একপ্রকার হা হয়ে তাকিয়ে রইল।
কারও হাতে থাকা গ্লাস মাঝ আকাশে থেমে গেল।
কেউ ফিসফিস করে বলল—
Oh My God…
Who are they?
They look like movie stars…
দুই যুবক একবার চারপাশে তাকিয়ে মেয়েদের এমন অবস্থা দেখে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটিয়ে তুলল।যেন এসব তাদের কাছে নতুন কিছু নয়।এইদিকে রবার্ট বিরক্ত হয়ে চারপাশে তাকাল।
সবাই কোথায় তাকিয়ে আছে দেখতে গিয়েই তার চোখ বড় হয়ে গেল।
শেহেজাদ ইউভি চৌধুরী
দাঁতে দাঁত চেপে নামটা উচ্চারণ করল সে।
কিন্তু ইউভি যেন তাকে দেখেও দেখল না না দেখার ভান করে সোজা এগিয়ে গেল ক্লাবের মাঝখানে।
সেখানে কয়েকজন যুবক আর্ম রেসলিং খেলছিল।
টেবিলের উপর হাত রেখে শক্তি পরীক্ষা করার খেলা।যে প্রতিপক্ষের হাত টেবিলে চেপে ধরতে পারবে, সেই বিজয়ী।ইউভি শান্ত গলায় বলল
— আমার সঙ্গে ট্রাই করবে কেউ?উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে তাকাল।প্রথম যুবক এগিয়ে এল।
মাত্র কয়েক সেকেন্ড পড়েই হাত টেবিলের উপর ফেলে দিল ইউভি একে একে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ
একজনের পর একজন আসলো কিন্তু কেউই ইউভির হাত এক ইঞ্চিও সরাতে পারল না।
রেদোয়ান পাশে দাঁড়িয়ে ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি নিয়ে সব দেখছে।ঠিক তখনই রবার্ট উচ্চস্বরে বলে উঠল— কী ব্যাপার, শেহেজাদ ইউভি চৌধুরীর এত খারাপ দিন এসেছে নাকি?পিঁপড়েদের সঙ্গে গেম খেলছ?
ক্লাবের সদস্যরা সবাই নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
ইউভি ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তার দিকে তাকাল।
তারপর ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি এনে বলল এখানে পিঁপড়া ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী তো দেখছি না। ব্যাস কথাটা সরাসরি গিয়ে রবার্টের বুকে আঘাত করল।রবার্ট দাঁত চেপে বলল আমার সঙ্গে ট্রাই করতে পারিস।ইউভি শান্তভাবে চেয়ার টেনে বসল।দুজন মুখোমুখি।
হাত মিলল।চারপাশে সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে গেল সবাই বলতে লাগলো
Three… Two… One…
শুরু।
প্রথম কয়েক সেকেন্ড রবার্ট নিজের সব শক্তি দিয়ে ইউভির হাত চাপ দিতে লাগল।তার মুখ লাল হয়ে উঠেছে।কপালে ঘাম জমেছে।অন্যদিকে ইউভি?
মুখে শান্ত হাসি।যেন কোনো চাপই অনুভব করছে না। হঠাৎ ইউভি এক সেকেন্ড এ রবার্ট এর হাত
ধপ করে টেবিল এর উপর ফেলে দিল
রবার্টের হাত টেবিলে লেগতেই পুরো ক্লাব করতালিতে ফেটে পড়ল।
রবার্ট বিশ্বাসই করতে পারছে না এমন টা হবে কারণ আজ পর্যন্ত এই ক্লাবে তাকে কেউ হারাতে পারেনি।
সে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল—
— This isn’t over!
ইউভি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।নিজের কোটের বোতাম লাগাতে লাগাতে বলল—
Over? খেলা শুরুই হয়নি এখনও।রবার্ট রাগে ফুঁসতে লাগল। মনে রাখিস, এখানে আমার রাজত্ব চলে!
ইউভির চোখে তখন অদ্ভুত এক ঝিলিক দেখা দিলো সে এক পা এগিয়ে এসে শান্ত গলায় বলল—
রাজত্ব ঘোষণা করলে রাজা হওয়া যায় না, রবার্ট।
যোগ্যতা থাকলে মানুষ নিজেই মুকুট পরিয়ে দেয়।
কথাটা শুনে পুরো ক্লাবের সদস্যরা আবারও নিস্তব্ধ হয়ে গেল।রবার্টের মুখ অপমানে কালো হয়ে গেল।
সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না।রাগে গ্লাস ছুঁড়ে ফেলে ক্লাব থেকে বেরিয়ে গেল।যেতে যেতে শুধু একটা কথাই বলল এর হিসাব আমি রাখলাম, ইউভি চৌধুরী!রবার্ট বেরিয়ে যেতেই রেদোয়ান মুচকি হেসে বলল—
ব্রো সালা বুঝতেই পারল না, সে যুদ্ধে নামার আগেই হেরে গেছে
ইউভি পকেট থেকে স্যানিটাইজার বের করে হাতে লাগাতে লাগাতে বললো ছ্যাহহ হাতটাই অপবিত্র হয়ে গেছে।
গোধূলি পেরিয়ে রাত নেমেছে ঢাকার গুলশানে।
রাজ্য আর তুবা হাত ধরে হাঁটছে। বেশ কিছুক্ষণ আগেই রাজ্য তুবাকে তার বাসার সামনে থেকে রিসিভ করে নিয়ে এসেছে।এইদিকে ইনায়া আর পিয়াসার জন্য অপেক্ষা করছে দুজন। কিন্তু তাদের আসার নামগন্ধ নেই।বিরক্ত হয়ে রাজ্য বলল—
— সবগুলা ফাজিল!
ঠিক তখনই তুবা হঠাৎ চিৎকার করে উঠল ওইটা কিনে দেন না রাজ্য ভাইয়া!রাজ্য তুবার হাতের ইশারার দিকে তাকাতেই নাক-মুখ কুঁচকে ফেলল।
— না। ওইগুলো ছোট বাচ্চাদের খাবার। ওইটা খাওয়া লাগবে না। আর কেমিক্যাল দেখছো না? গোলাপি রং দিয়ে বানিয়েছে। তুমি বরং অন্য কিছু খাও, আমি কিনে দিচ্ছি।তুবা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল। না! ওইগুলিই কিনে দিন। আমার হাওয়াই মিঠাই খুব প্রিয়। টাকা আনতে মনে নাই তাই আপনাকে বলছি।এইদিকে রাজ্য স্বাস্থ্য নিয়ে হাজারটা জ্ঞান দিতে লাগল।কিন্তু তুবার কানে সেসবের কিছুই ঢুকল না।সে একদম ছোট বাচ্চাদের মতো রাস্তার মাঝখানেই বসে পড়ল।
— না! আমার ওইগুলিই লাগবে।
— কিনে দেন না…
বলেই কান্না শুরু করে দিল।বেচারা রাজ্য মেয়েটার পাগলামি দেখে বুঝতেই পারছে না কী করবে।
শেষমেশ কোনো উপায় না পেয়ে হাওয়াই মিঠাইওয়ালাকে ডেকে আনল।তুবা তো মহাখুশি।
একটার পর একটা হাওয়াই মিঠাই নিতে শুরু করল।রাজ্য বারবার বলছে প্লিজ পিচ্চি, এতগুলো নিও না। অসুস্থ হয়ে পড়বে।কে শোনে কার কথা!
গুনে গুনে পনেরোটা হাওয়াই মিঠাই নিল তুবা।
— পাঁচটা আমার। আর দশটা আমার দুই বেবির।
রাজ্য বিরক্ত হয়ে বলল তোমাকে পিচ্চি বলাই আমার ভুল হয়েছে। ফাজিল তুমি!
ঠিক তখনই একটা ছোট্ট মেয়ে হাওয়াই মিঠাই কিনতে এলো।রাজ্য মেয়েটাকে কোলে তুলে নিয়ে বলল ইসস! পিচ্চিটা কত কিউট!তুবা সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে তাকাল।
—কী বললেন?
— বললাম, পিচ্চিটা কত কিউট।
— হ্যাঁ, শুনতে পেয়েছি।
— আপনি ওকে কেন পিচ্চি বললেন?
রাজ্য ভ্রু কুঁচকে বললো
— পিচ্চিকে তো পিচ্চি বলব, তাই না?
তুবা এবার রেগে গেল। রেগে চিৎকার করে বললো
না, বলবেন না! আপনি শুধু আমাকেই পিচ্চি বলবেন, আর কাউকে না!
রাজ্য হতভম্ব হয়ে গেলো কেন?
তুবা রাগী কন্ঠে বললো ওইটা আপনি আমাকে ভালোবেসে নিকনেম দিয়েছেন।আর কাউকে বলতে পারবেন না। না মানে না!কথা শেষ করেই হাতে থাকা হাওয়াই মিঠাইগুলো মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিল।তারপর হনহন করে হেঁটে চলে গেল।
রাজ্য কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর নিজের মাথায় হাত বুলিয়ে বিড়বিড় করে বললো
হায় আল্লাহ!এই মেয়ে একটা বাচ্চার সাথেও জেলাসি করে?একে নিয়ে আমি কী করব!
রাজ্য হাওয়াই মিঠাইগুলো কুড়িয়ে নিয়ে তুবার পিছু পিছু হাঁটতে লাগল। সরি পিচ্চি… আর কাউকে পিচ্চি বলব না। সরি তুবা…কিন্তু তুবা কোনো উত্তর দিল না।রাগে গাল ফুলিয়ে সামনে এগিয়ে গেল।
রাস্তার ধারে একটি বড় গাছের নিচে সুন্দর করে সাজানো বসার জায়গা ছিল। চারপাশে ছোট ছোট লাইট জ্বলছে, হালকা বাতাসে গাছের পাতাগুলো দুলছে।তুবা গিয়ে সেখানে বসে পড়ল।
রাজ্য বেচারা এবার সত্যিই বিপদে পড়ে গেল।
শেহেজাদার আদর পর্ব ৫১
কী করলে মেয়েটার অভিমান ভাঙবে বুঝতে না পেরে হঠাৎ দুই কান ধরে উঠবস শুরু করে দিল।
সরি পিচ্চি.. আর বলব না…একদম বলব না…
তুবা আড়চোখে রাজ্যের দিকে তাকাল। সাথে সাথে খিলখিল করে হেসে দিলো ঠিক তখনই পেছন থেকে একসাথে তিনজনের হাসির শব্দ ভেসে এলো।
রাজ্য চমকে পেছনে তাকাতেই দেখলো ইনায়া আর পিয়াসা দাঁড়িয়ে আছে।দুজনের মুখেই দুষ্টু হাসি।
পিয়াসা আর ইনায়া এক সাথে হাসতে হাসতে বললো
“ইয়ে সব ক্যা দেখনা পড় রহা হ্যায়!”
— “আচ্ছা, হুঁ ম্যাঁ অন্ধা হুঁ?”
