সীমান্তরেখা পর্ব ৪১
ঝিলিক মল্লিক
হঠাৎ দরজায় কড়াঘাত পরলো।
“ভাইয়া, ভাইয়া মামি তোমাকে ডাকছে ড্রয়িংরুমে। জলদি আসো।”
মিহির ডাক। মেয়েটা ভাই এসেছে শুনেই সঙ্গে সঙ্গে চলে এসেছে। ওর আবার ভাই ভক্তি বেশি। মেজবাহ বলতেই পাগল। অবশ্য হওয়ারই কথা। ছোটবেলা থেকে মেজবাহ ওকে আর রিমুকে নিজের বোনের মতো কোলেপিঠে করে মানুষ করেছে। তখন এদিকে পাকা রাস্তা ছিল না। গ্রামের মেঠোপথের মতো বাসার সামনে হতে কাঁচা রাস্তা ছিল। বর্ষার দিনে হাঁটু সমান কাঁদাপানি উঠে বিতিকিচ্ছিরি পরিস্থিতি তৈরি হতো। সেই হাঁটু সমান কাঁদা পানির মধ্য দিয়ে মেজবাহ প্রথমে রিমুকে কাঁধে নিতো৷ এরপর কিছু দূরে মিহিদের বাসায় যেয়ে ওকে নিয়ে দু’জনকে রিকশায় দুই পাশে বসিয়ে স্কুল পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসতো।
ছুটি দেওয়ার ঘন্টা আধেক আগেই স্কুলের সামনে যেয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। ওদের ছুটি হলে তারপর দু’জনকে নিয়ে ফিরতো। মিহিকে ওর বাসায় দিয়ে রিমুকে নিয়ে আসতো। কখনো সামান্য অভিযোগও করতো না। অবশ্য ও নিজেই দায়িত্ব নিয়েছিল মিহি আর রিমুকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার। এরপর যখন তাহসিন আরেকটু বড় হলো, তখন ওর দায়িত্বও নিলো। সেসময় মেজবাহ’র বয়স কত ছিল? এই ষোলো-সতেরো হবে। আর মিহি, রিমুরা সবাই তখন ছোট। প্রাইমারিতে পড়তো ওরা। ভাইকে খুব কাছ থেকে দেখেছে, অন্যান্য ভাই-বোনদের তুলনায় মেজবাহ’র আদর-স্নেহ বেশি পেয়েছে— একারণে ওরা ছোটবেলা থেকেই রীতিমতো মেজবাহ ভক্ত হয়ে উঠেছে। তাদের বড়ভাই একটা সময়ের পর রুক্ষ এবং কঠোর ব্যক্তিত্বের হয়ে গেলেও তারা মেজবাহ’র মাঝে সবসময় তাদের আগের ভাইকেই খুঁজে-ফিরে।
আর অল্প কিছু মুহূর্ত একসাথে এই রুমে থাকলে বোধহয় আকসা আর মেজবাহ’র মধ্যে আরো অতিরিক্ত কিছু হয়ে যেত। তবে সেটা আর সম্ভবপর হলো না। মেজবাহ আকসাকে চট করে কোল থেকে নামিয়ে দিলো৷ এমনকি আকসা বুঝে ওঠার আগেই। ওকে কোল থেকে নামার জন্য প্রস্তুত হওয়ার-ই সময় দিলো না লোকটা। এরপর খুব তাড়া দেখিয়ে বিছানার বাম দিকে অপাংক্তেয়ের ন্যায় পরে থাকা সেলফোনটা তুলে পকেটে ঢুকিয়ে নিলো মেজবাহ। রুম থেকে বের হওয়ার আগে একবার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে পরলো। ঘাড় ঘুরিয়ে একনজর আকসাকে দেখে বাইরে বেরিয়ে গেল ও।
রাতের খাবারটা আজ সবাই একসাথে বসেই খেয়েছে। পরিবারের একজনও বাদ যায়নি আজ। সবাই ডাইনিং-ড্রয়িংরুমে একত্র। বরাবরের মতো ডাইনিং টেবিলে সবার একসাথে জায়গা না হওয়ায় মিহি, রিমুরা সোজাসুজি ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে খাচ্ছে। অবশ্য ওরা ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে টিভি দেখতে দেখতে আরাম করে খেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করে। বাবা-চাচাদের খাওয়া নিয়ে কঠোর নিয়মনীতি থাকার পরও এমন সুযোগ পেলে ওরা হাতছাড়া করতে চায় না। তাই ডাইনিং টেবিলে সবার জায়গা হচ্ছে না শুনেই সবক’টা সুড়সুড় করে সোফায় গিয়ে বসেছে। আকসাও যেতে চেয়েছিল। কিন্তু ওর শ্বশুরের কড়া নির্দেশ, আজ ডাইনিং-এ সবার সাথে বসে খেতে হবে। তার ছেলে বৌটা ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না। এমন নালিশ বেশ কয়েকবার পেয়েছেন তিনি৷ তাই এবার কঠোর হাতে এই অনিয়ম দমন করতে নেমেছেন। আকসার পাতে বেশ কয়েক পিস সলিট গোরুর মাংস তুলে দিলেন ওর শ্বশুরআব্বু। আকসা সবটুকু খেতে পারলো না। বরং যা দেওয়া হলো, তার অর্ধেকের বেশি পাশের চেয়ারে বসা মেজবাহ’র পাতে তুলে দিলো ও। মেজবাহ ঘাড় ঘুরিয়ে চোখ রাঙিয়ে তাকালো ওর দিকে। তবে আকসার অসহায় মুখখানা দেখে এবেলায় ছাড় দিলো৷ বেশি জোরাজুরি করলো না।
অনেকদিন পর বাড়িতে ফেরায় আজ প্রায় অনেক রাত অবধি বাপ-চাচা আর দুলাভাই, কাজিনদের সাথে ড্রয়িংরুমে বসে গল্প-আড্ডা চললো মেজবাহ’র। এরমধ্যে ওঠার চেষ্টা করেছিল আসর থেকে। কিন্তু ওর আব্বু খোশমেজাজে বসিয়ে দিয়েছিলেন ছেলেকে। কতদিন পর একমাত্র ছেলেটাকে কাছে পেয়েছেন তিনি। ছাড়তে কি চান? মেজবাহ’র অবশ্য ধ্যান ছিল অন্যদিকে। গল্প-আড্ডায় শুরুর দেড়-দুই ঘন্টা গভীর মনোযোগ দিয়ে মগ্ন হলেও এখন আর মন বসাতে পারছে না৷ ওর মন তো অন্যদিকে। বারবার দেয়ালঘড়িতে সময় দেখছে। রাত বাজে সাড়ে বারোটার ওপরে। মেজবাহ এবার বলেই ফেললো, “আব্বু, চাচু ঘুমাবে না তোমরা? আর আব্বু, তুমি এত রাত জাগছো কেন? তোমার এমনিতেই প্রেশার হাই থাকে অলটাইম। বেশি রাত জাগলে ক্রিটিকাল সিচুয়েশনে পরবে।”
“সে তো তুমি আজ এতদিন পর বাড়ি ফিরলে তাই…”
মেজবাহ ওর আব্বুর কথা সম্পূর্ণ করতে দিলো না। একপ্রকার জোর করে তাদেরকে ঘুমাতে পাঠিয়ে দিলো। বাকিরাও চলে গেল ভেতরে। তারা যেতেই মেজবাহ জোরে শ্বাস টানলো। এরপর উঠে পরলো দ্রুত। এমনভাবে রুমের দিকে পা চালালো, যেন খুব তাড়া আছে ওর। ট্রেন মিস হয়ে যাবে— ভাবখানা এমন।
আকসা আলমারি থেকে কিছু নতুন কাঁথা-কম্বল বের করছিল। আজ খুব বৃষ্টি হয়েছে। এখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পরছে বাইরে। মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে। দূরে কোথাও বাজ পরছে ঘনঘন৷ আকসার বাজ পরার শব্দে ভয় লাগে। বুক কেঁপে ওঠে প্রতিবার। ও বার বার বুকে ফুঁ দিচ্ছে। দোয়া-দরুদ পরছে। মেজবাহ এসে পরনে থাকা অলিভ স্যান্ডো গেঞ্জিটাও টেনে খুললো। আকসা আড়চোখে তা দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেললো৷ এই শীতল আবহাওয়ায় কারো মাথা খারাপ না হলে খালি গায়ে থাকে! লোকটার কি শীত করছে না? আকসার মনে প্রশ্নটা এলো৷ তবে মুখে আনলো না৷ মেজবাহ বিছানার ওপর একপ্রকার লাফিয়ে পরে বিছানা তছনছ করে আরাম করে আধশোয়া হয়ে ফোন স্ক্রল করতে করতে ওকে জিজ্ঞাসা করলো, “ব্ল্যাঙ্কেট বার করছো কেন? কী করবে?”
“মাথায় দেবো।”
জবাবটা শুনে মেজবাহ সরু চোখে তাকালো আকসার দিকে। আকসার নাকের ডগা লাল৷ বেশ রেগে আছে মনে হচ্ছে। মেজবাহকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আকসা পুনরায় বললো, “ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে মানুষ কী করে জানেন না? তাই করবো।”
“ওহহো।”
আকসা ঘুমাবে ভেবে মেজবাহ দখল করে রাখা পুরো বিছানার একপাশ ছেড়ে দিয়ে শুলো৷ কিন্তু যা ঘটলো, তা ওর কল্পনাতীত।
মেজবাহকে চরম আশ্চর্য করে দিয়ে আকসা বালিশ ফ্লোরে রাখলো। তারপর সেই বালিশে মাথা রেখে ঠান্ডা ফ্লোরেই শুয়ে পরলো।
আকসাকে ফ্লোরে শুধু বালিশ পেতে ঘুমাতে দেখে মেজবাহ নিচে নেমে ওর কাছে গেল। উল্টোদিক হতে ঘুরিয়ে নিজের দিকে ফেরালো ওকে। উৎকণ্ঠিত স্বরে জিজ্ঞাসা করলো, “কী ব্যাপার! ফ্লোরে ঘুমাচ্ছো কেন তুমি?”
“এমনিই। আমার ফ্লোরে ঘুমানো অভ্যাস।”
“আগে তো এই অভ্যাস ছিল না।”
“আগে ছিল না৷ তবে রিসেন্ট হয়েছে। বেবি পেটে আসার পর থেকে। ফ্লোরে না ঘুমালে শরীরে জ্বালাপোড়া হয়।”
“এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। ফ্লোরে ঘুমাবে না৷ এতে তোমার ফিজিক্যাল প্রবলেম হবে। দেখি, উঠে এসো।”
মেজবাহ ওকে নেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলো৷ কিন্তু আকসা পাল্টা হাত না বাড়িয়ে আরো জবুথবু হয়ে শুয়ে বললো, “উহুঁ। আপনি বিছানায় গিয়ে ঘুমান। আমি এখানেই ঠিক আছি৷ বিছানায় ঘুম হবে না।”
মেজবাহ পরলো মহা মুসিবতে। বাড়িয়ে দেওয়া হাত মুঠো করে ফেললো। বাইরে বৃষ্টির তোড় বাড়ছে ক্রমশই৷ ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ধীরে ধীরে মুষু্লধারে ঘন বর্ষায় পরিণত হচ্ছে। বোধহয় সারারাত ধরে চলবে বর্ষণের এই তীব্রতা। ঠান্ডাও বাড়ছে৷ এই ভয়াবহ ঠান্ডায় এই মেয়ে নাকি ফ্লোরে ঘুমাবে! ভয়াবহ একটা রোগ না বাঁধিয়ে ক্ষান্ত হবে বলে মনে হচ্ছে না। মেজবাহ ঠোঁট চেপে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে নিলো৷ আকসা চোখ বুঁজেছে সবে, এরমধ্যে একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলো৷ অনুভব করলো, কাত হয়ে শুয়ে থাকা ওর কোমরে একটা শক্তপোক্ত হাত সাপের ন্যায় পেঁচিয়ে ধরেছে। শক্তিশালী হাত, কিছুটা গরম। আকসা শরীর নাড়ালো না। মুখ ঘুরিয়ে দেখলো, মেজবাহ শুয়ে আছে ওর পাশে। মেজবাহ’র মুখ ওর ঘাড়ের ওপরে। গরম নিঃশ্বাস পরছে ওর ঘাড়ে-গলায়। আরাম ঠেকছে বেশ। আকসা নড়াচড়া করলো না। চুপ করে শুয়ে রইলো। মেজবাহ বিছানার ওপর থেকে একটা কাঁথা টেনে দু’জনের গায়ে জড়িয়ে নিলো। এখন ওরা কাঁথার নিচে। মেজবাহ’র হাত আকসার পুরো শরীরে বিচরণ করছে। আকসা নিরবতা ভেঙে মেজবাহ’র উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলো, “আপনি নিচে এসে ঘুমাচ্ছেন যে? বিছানায় যেয়ে ঘুমান।”
“তুমি ফ্লোরে ঘুমালে আমার বিছানায় ঘুম হবে?”
আকসা চুপ হয়ে গেল। একথার বিপরীতে আর কি-ই বা প্রশ্ন করবে ও?
দীর্ঘ আধ ঘন্টার মতো দু’জনে কাঁথার নিচে চুপচাপ শুয়ে রইলো৷ সামান্য ইঞ্চি খানিকের দূরত্ব হবে বোধহয়। মেজবাহ’র চোখ লেগে এসেছিল প্রায়। হঠাৎ চিকন কন্ঠস্বরটা কানে এলো— “উহ খিদে পেয়েছে!”
মেজবাহ’র ঘুমকাতুরে চোখ তৎক্ষনাৎ খুলে গেল। আকসা হাঁসফাঁস করছে। মেজবাহ উদগ্রীব হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “কী হয়েছে তোমার?”
“খিদে পেয়েছে।”
মেজবাহ উঠে বসলো। রুমের লাইট অন করলো। আকসাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে বললো, “তখন যদি ঠিকমতো খাবারটুকু খেতে, তাহলে এখন আর ক্ষুধা লাগতো না। এখন কী খাবে তাই বলো।”
“যা খুশি।”
মেজবাহ উঠে গেল। এখন সবাই গভীর ঘুমে। কাউকে বিরক্ত না করে রান্নাঘরে গিয়ে খাবার নিয়ে আসতে হবে। খুবই রিস্কি কাজ৷ মেজবাহ তবু বিনা দ্বিধায় গেল৷
আকসার পেট জ্বলে যাচ্ছে ক্ষুধার চোটে৷ আর ধৈর্য ধরে বসে থাকতে পারছে না ও।
মেজবাহ ফিরলো মিনিট দশেকের মধ্যে। খাবার গরম করে আনতে সময় লেগেছে। আকসার সামনে এনে ধরতেই ও নাক সিটকে বললো, “কী এনেছেন এটা?”
“কেন? খাসির মাংস আর পোলাও।”
“সরান। আগে এটা সরান। বমি আসছে আমার৷ ওয়াক!”
মেজবাহ দ্রুত প্লেট সরিয়ে নিলো৷ সরু চোখে তাকিয়ে রইলো আকসার দিকে। এরপর বললো, “খাসির মাংস-ই পেলাম ফ্রিজে।”
“খাসির মাংস খেতে পারি না ইদানীং। অন্য কিছু আনুন।”
“অন্য আর কী আনবো? ফ্রিজে রান্না করা আর তেমন কিছু নেই। শিট চিন্তায় ফেলে দিলে!”
আকসা আর্তনাদ করতে করতে বললো, “জানি না৷ কিছু একটা নিয়ে আসুন। অনেক বেশি খিদে পেয়েছে আমার। মনে হচ্ছে, খিদের চোটে মরেই যাব।”
“চোপ!”
শেষোক্ত বাক্য উচ্চারণ করার সাথে সাথে ধমকটা খেল আকসা। ও চুপসে গিয়ে বললো, “চিপস আছে ওয়ারড্রবের মধ্যে। চিপস খাই তাহলে।”
“না। আনহাইজেনিক ফুড। খাওয়া যাবে না৷ তাছাড়াও, চিপস খেলে ক্ষুধা কমার বদলে আরো বাড়বে। তুমি আধাঘন্টার মতো একটু কষ্ট করে ওয়েট করতে পারবে সোনা? প্লিজ?”
আকসার কাঁধে হাত রেখে প্রশ্ন করলো মেজবাহ। আকসা ছলছল চোখে তাকিয়ে বললো, “আচ্ছা করছি। আপনার ফোনটা দিয়ে যান, ড্রামা দেখবো। আমার ফোনে চার্জ নেই।”
মেজবাহ ফোনের লক খুলে আকসার হাতে ফোন দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। আকসা ফোন নিয়ে ড্রামা দেখতো ব্যস্ত হলো। ড্রামায় মনোযোগ দেওয়ায় পেটের জ্বালাপোড়াটা কিঞ্চিৎ কমলো।
মেজবাহ ফিরলো ঠিক আধা ঘন্টা পর। দরজায় টান পরতেই আকসা ফোন রেখে সামনে তাকিয়ে অবাক হলো। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওর গাল হা হয়ে গেল। মেজবাহ’র হাতে একটা বড় ট্রে। কাছে এগোতেই বোঝা গেল, ট্রে-তে প্লেট আর বোল রাখা৷ মেজবাহ এগিয়ে এসে ট্রে রাখলো বিছানার ওপর। আকসা অবাক হয়ে দেখলো— ট্রে-তে কাঁচের প্লেট৷ প্লেটে চিকেন মানসুরিয়ান ফ্রাইড রাইস, চাইনিজ ভেজিটেবল আর একপাশে গোরুর মাংস। কিন্তু গোরুর মাংসটা দেখতে ভিন্নরকম। আকসা কৌতূহল নিয়ে দেখতেই মেজবাহ বললো, “ওটাকে গোরুর ঝুরা মাংস বলে।”
আকসার চোখ কপালে। ও অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “এসব আপনি রান্না করেছেন? এই স্যুপটাও?”
সীমান্তরেখা পর্ব ৪০
“হ্যাঁ৷ আমি রান্না করেছি তোমার জন্য৷ এই স্পেশাল রান্নার বিনিময়ে তোমার আমাকে কী দেওয়া উচিত?”
আকসার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি। মেজবাহ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে ভ্রু নাচিয়ে বললো, “হু?”
আকসা প্রশ্নের কোনো জবাব দিলো না। বসা থেকে হাঁটু ঠেকিয়ে আরো খানিকটা উঠে বসলো ও৷ মেজবাহ’র গলা জড়িয়ে ধরলো৷ এরপর আচনক ওর ঠোঁটে একটা চুমু খেতেই মেজবাহ জাপ্টে টেনে ধরলো ওকে। ওর গলায় একটা গাঢ় চুমু খেয়ে কানের কাছে মুখ এগিয়ে ফিসফিস করে বললো, “আসো তুমি খাবার খাওয়ার আগে তোমাকে খাই।”
