সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১০৮+১০৯
neelarahman
রিমার দিকে তাকিয়ে নওরিন আফরোজ বললেন ,”এদিকে আয় আমার সাথে তোর সাথে আমার কথা আছে।”
রিমা বললো,” আমার সাথে কথা ?কি কথা আম্মু ?”
নওরিন আফরোজ বললেন ,”আগে আয় আমার সাথে ওই পাশে চল সামনে গিয়ে কথা বলব।”
রিমা বুঝতেও পারছে না কি কথা থাকতে পারে ?চুপচাপ মায়ের পিছনে পিছনে হেঁটে হেঁটে একটু সামনে চলে গেল ।
নওরিন আফরোজ থামলেন ।থেমে রিমার দিকে তাকিয়ে বললেন ,”কবে থেকে চলছে এইসব?”
রিমা যেন বোকা হয়ে গেলেন ।মা আসলে কোন ব্যাপারে বলছে ?কি কবে থেকে চলছে ?তাই বললো,”কি বলছ আম্মু ?আমি বুঝতে পারছি না।”
নওরিন আফরোজ বললেন ,”এত কচি খুকি তো নস।বুঝতে পারছিস না তোকে আমি চুপচাপ ডেকে এনে কোন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছি?”
রিমা শুকনো ঢোক গিললো। আমতা আমতা করে বললো,”না আসলে আমি বুঝতে পারছি না তুমি কি জিজ্ঞেস করছ আমাকে।”
“কবে থেকে চলছে সাইমনের সাথে এইসব ?নিজ কানে শুনেছি তাই অস্বীকার করার কোন চেষ্টা আমার কাছে করবি না ।আর ন্যাকামি তো একদমই করবি না ।ন্যাকামি আমার এখন একদম সহ্য হয় না।” বললেন নওরিন আফরোজ।
রিমা ভয় পেয়ে গেল ।পুরো শরীরে যেন কাঁপুনি ধরে গেল ।কাঁপতে কাঁপতে বলল ,”না মানে ওই সাইমন ভাইয়া বলেছে আমাকে পছন্দ করে ।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
নওরিন আফরোজ বললেন,” এক থাপ্পর দিয়ে দাঁত সব ফেলে দিব ।সায়মন বলেছে পছন্দ করে তুই করিস না ?”
রিমা মাথার নত করে ফেলল ।তারপরে নওরিন আফরোজের দিকে তাকিয়ে বললো,” সরি ভুল হয়ে গেছে।”নওরিন আফরোজ বললো ,”সব ভুল ভুল হয়না রিমা ।একই বাড়িতে থাকিস তোরা একবার যখন সম্পর্কে জড়িয়ে গেছিস তোর কি মনে হয় সম্পর্কে থেকে তুই বের হতে পারবি ?আর এমনি সাদাফ আর নুরকে নিয়ে একটা ঝামেলা চলছে ।তার মধ্যে যদি তোদের টা ও শুনে চিন্তা করতে পারিস তোর বাবাদের অবস্থা কি হবে?
সবকিছুর একটা সময় থাকে ।মুরুব্বীরা করলে জিনিসটা ভালো হয় কেন তোরা ছেলেমেয়েরা এসব বুঝতে চাস না?
আর সাদাফ তো তাও বুঝদার ছেলে সাইমন তো একটা বাচ্চা পুরাই। ও কি পারবে সব ঝড়ঝাপটা সহ্য করতে ?এক ধমক দিলেই তো চুপ করে থাকবে।
কি এমন বয়স হয়েছে এইসব করার? আর এই বয়সে যদি সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছিস তাহলে এক বাড়িতে থেকে কি তোর মনে হয় আর স্বাভাবিক ভাই বোনের সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবি?”
রিমা বলল ,”সরি আম্মু ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু কোন কিছু তো প্লান করে করিনি।হয়ে গেছে।”
নওরিন আফরোজ দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন ।রিমার দিকে তাকিয়ে বললেন ,”এখন তো বলবিই সরি ভুল হয়ে গেছে ।কিছু হলেই তো বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ে ।আগে তো মনে পরেনা ।মাঝখান দিয়ে সাইমন এখন কি করবে আমি সেটাই বুঝতে পারছি না ।তুই না হয় মেয়ে মানুষ তোকে দুটো কথা বলে বাড়িতেই রেখে দিবে ।রাগ যদি সব সায়মনের উপরে ঝাড়ে তোর বাবা তখন?
যাই হোক এখন কিছুদিন সবার সামনে ওর থেকে একটু দূরে দূরে থাকিস ।বেশি কথা বলিস না ।কারো নজর যেন তোদের উপরে এখন না পরে ।একটা ঝামেলা চলছে সেটা আগে মিটমাট হোক ।কথা বোঝাতে পেরেছি?
আমি না দেখে যদি অন্য কেউ দেখতো তখন? আর এভাবে লুকোচুরি করে এখানে ওখানে দাঁড়িয়ে কথা বলিস না ।আমাকে বুঝতে দে কি করব আমাকে জিনিসটা হ্যান্ডেল করতে দে।”
রিমা সাথে সাথে নওরিন আফরোজ কে জড়িয়ে ধরলো। কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো,” থ্যাঙ্ক ইউ আম্মু।”
নওরিন আফরোজ বললো,”হ্যাঁ এখন তো থ্যাংক ইউ বলবি । সমস্যা সমাধান হয়ে গেলেই তো থ্যাঙ্ক ইউ ।না হলে তো মায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতি। ছেলে মেয়েরা তো সব এরকমই করে।”
রাতেই হুমায়ূন রহমান সাইমন রিমা নওরিন আফরোজ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন ।ফজলুর রহমান সামিহা বেগমকে চলে যেতে বলছেন। কিন্তু সামিহা বেগম যেতে নারাজ ।মেয়ে কে রেখে নওরিন আফরোজ ও যেতে চাইছিল না কিন্তু সকালে আবার সবার জন্য খাবার নিয়ে আসবে আর রিমা ও সাইমনকে একা বাড়িতে পাঠানোটা ঠিক হবে না সে ভেবেই উনি রাজি হয়ে গেলেন।
নওরিন আফরোজ হেটে এসে নূরের মাথা হাত বুলিয়ে কতক্ষণ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলেন ।এখন যেন নূর আর শুধু উনার মেয়ে না তার বড় ছেলের বউ ।সে হিসেবে এখন নূরের প্রতি ভালোবাসা ওনার অন্যরকম ।ঠিক যেমন টা সাদাফের প্রতি তেমন।নূরের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে সাদাফের দিকে তাকিয়ে বললেন,” তুই তো যাবি না জানি এখানেই থাকবি তাই খেয়াল রাখিস সবকিছু।নিজের দিকে আগে খেয়াল রাখিস ।খাবার গরম করে রেখে গিয়েছি। খেয়ে নিস ।অসুস্থ হয়ে পড়লে নূরকে দেখবে কে?”
সাদাফ নওরিন আফরোজ এর হাত ধরে বললো,” ঠিক আছে আম্মু ।ঠিকমতো বাসায় যেও চিন্তা করো না আমরা এখানে আছি।”
একে একে সবাই চলে গেলেন ।রয়ে গেলেন ফজলুর রহমান সাদাফ ও সামিহা বেগম ।সামিহা বেগম কেবিনেরই আরেকটি বেডে শুয়ে ছিলেন ।নূরের হাত ধরে বসেছিলো সাদাফ। সোফায় বসে আছে ফজলুর রহমান।
ফজলুর রহমান মনে মনে ভাবছে যদি সাদাফের সাথে নূরের বিয়েটা এই মুহূর্তে মেনে নেয় নুর যদি মা না হতে না পারে যদি সাদাফ নুর কে গ্রহণ করতে না চায় একই বাড়িতে থেকে সাদাফের এই বিহেভিয়ার কি দেখতে পারবে নুর?সহ্য করতে পারবে নুর?
যদি সাদাফ নুরকে ভবিষ্যতে কখন এগুলো নিয়ে খোটা দেয় ?যদি ছেড়ে দিতে চায় ?তখন তো সাদাফ নতুন করে বিয়ে করলে এই বাড়িতেই বউ নিয়ে থাকবে ।নুরের কি হবে? নুর এই অপমান মানতে পারবে?উনি যেন আর কিছু ভাবতে পারছেন না ।অদূর ভবিষ্যতের কথা ভেবে যেন উনার মাথা ব্যথায় টনটন করছিল।
বারবার শুধু একই চিন্তা একই বাড়িতে থেকে যদি মেয়েটা কষ্টে থাকে এই কষ্ট নিজের চোখে দেখবে কি করে ফজলুর রহমান ?নূর বা কি করে সহ্য করবে সাদাফের এমন ব্যবহার।এখন তো সাদাফ জানেনা সাদাফ জানলে কি করবে ?সেটা ভেবেই টেনশন হচ্ছে ফজলুর রহমানের। কারণ মানুষ মুখে যাই বলুক সন্তান একটা স্বামী-স্ত্রী জীবনে অনেক বড় একটা ব্যাপার ।সারা জীবন সন্তানহীন হয়ে থাকাটা কম বড় ব্যাপার নয় ।সাদাফ কি মেনে নুরের এই দুর্বলতা?
সাদাফ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল নুরের দিকে।নুর ঘুমাচ্ছে শান্তিতে ।যেন এই মুহূর্তে কোন ব্যথা নেই কোন কষ্ট নেই ।হঠাৎ সাদাফের মোবাইলে রিং বেজে উঠলো।ফোনের ভলিউম অল্প তাও টের পেলেন ফজলুর রহমান।সাদাফ মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখল ,”সাজিদ অর্থাৎ আকাশ আহমেদ।”
সাদাফ নুরের হাতটি হালকা করে ছেড়ে সুন্দর করে বিছানায় রেখে নূরের উপরে একটি চাদর দিয়ে ধীরে ধীরে ফোন নিয়ে বাইরে চলে গেলো। ফজলুর রহমান তাকিয়ে রইলেন হঠাৎ সাদাফ বাইরে চলে যাচ্ছে কেন ?এতক্ষণ তো বেহায়ার মতো হাত ধরে ছিল হঠাৎ কি হল?
সাদাফ বাইরে গিয়েই ফোনটি রিসিভ করে কানে ধরতেই সাথে সাথে সাজিদ বলে উঠলো ,”কিরে তোর পেয়সী সে নাকি হসপিটালে ?কি হয়েছে?”
সাদাফ এখন আর অবাক হচ্ছেনা ।জানে অবশ্যই নূরের ব্যাপারে খোঁজখবর রেখেছে তাই বললো,”প্রেয়সী না বিয়ে করা বউ।”
সাজিদ জোরে শব্দ করে হাসলো । হেসে বললো,” ওই তো প্রেয়সীর মতোই ।বিয়ে করেই তো বাড়ি ছাড়া হয়েছিস তাই এখনো বউ বলা না।তবে যাই বলিস তোর বউকে নিজের বউ বলে ভাবতে ভীষণ ভালো লাগে।”
সাদাফ মুচকি হাসলো তবে ভিতরে ভিতরে রাগে কাঁপছে।সাদাফ বললো,” অতটুকুই ভাবিস যতটুকু ভাবলে সরি বলার অবকাশ পাবি ।পার পেয়ে যাবি ।এর চেয়ে বেশি গভীরে গেলে পার পাবি না ।নিশ্চয় ছয় বছর আগের ঘটনা মনে আছে ?তুচ্ছ একটা ঘটনার জন্য যদি এত বড় মূল্য তোকে দিতে হয় তাহলে আমার বউকে নিজের বলে ভাবতে চাইলে কতটুকু মূল্য তোর দিতে হবে সেটা ভেবে তারপরে ভাববি!”
সাজিদ বললো,”সেটা সময় হলে বোঝা যাবে ।আপাতত তোর প্রেয়সী সরি তোর বউয়ের জন্য শুভকামনা রইল দোয়া করি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাক।
আর হ্যাঁ শত্রু হলেও ভালো মনের শত্রু আমি সব সময় খোঁজ খবর রাখি ।তুই তো কোন খোঁজ খবর রাখিস না।”
সাদাফ রাগে থরথর করে কাঁপছে ।একটি কথাও বলতে পারছে না চুপ করে আছে ।সাদাফ কথায় নয় কাজে-কর্মে বিশ্বাসী ।তাই চুপ করে থাকাই শ্রেয় মনে করলো।
মনে মনে শুধু প্রতিজ্ঞা করলো ছাড় পেয়েছিলি কিন্তু এখন আমার বউয়ের কথা একবার শুধু ভাবলেও তুই ছাড় পাবে না ।এর জন্য তোকে কঠিন মূল্য দিতে হবে সাজিদ। নূরের দিকে চোখ তুলে তাকানোর অধিকার এ পৃথিবীতে কারো নেই আমি ব্যতীত।
ফোনে কথা শেষ হতেই ফোনটি পকেটে ঢুকিয়ে সাদাফ ফিরে গেল অতীতে ।সেই দিনের স্মৃতিতে যেদিন কলেজের অনুষ্ঠান ছিল ।লাস্ট ডে ছিলো । নুরকে নিয়ে গিয়েছিল সে অনুষ্ঠানে।
নুরকে দেখে আগে পরে সব বন্ধুরাই দুষ্টুমি করত ছোট বউ বলে ক্ষেপাতো।দুষ্টুমি করতো ফাজলামি করতো ।সেটাতে কোন মাথাব্যথা ছিল না সাদাফের ।নুর দেখতে এতটাই কিউট ছিল সবাই নুরকে খুব আদর করতে ।পছন্দ করত ।কিন্তু সে অনুষ্ঠানে হঠাৎ করে সাজিদের কুদৃষ্টি নুরের উপর এমন ভাবে পড়ে যেটা মেনে নিতে পারেনি সাদাফ।
সাদাফের সাথে সাজিদের আগে পরে একটু ঝামেলা ছিল কিন্তু মাঝখানে ঠিক হয়ে গিয়েছিল সব।সাজিদের চরিত্রে সমস্যা আগে থেকেই ছিলো।কলেজের কোন এখন মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক ছিল সাজিদের।তাই ওকে সাদাফ মোটামুটি এড়িয়ে চলতো।
নুর কে কিছুকিছুক্ষণ এর জন্য সাবার কাছে রেখে গিয়ে ছিলো।সাবাও নুরের সাথে ছিলো। কিন্ত নুর জুস খেতে চাওয়ায় সাবা নুর কে দাড় করিয়ে রেখে জুস আনতে যায়।সেই সময় সাজিদ এসেই নুর কে খোলে তুলে নিয়ে চেয়ারে বসে।নুর ছোটার চেস্টা করে। কিন্ত সাজিদ ছাড়ে না। হঠাৎ সেদিন অদ্ভুতভাবে সাদাফ লক্ষ্য করে নুরকে কোলে নিয়ে কিভাবে যেন জড়িয়ে ধরে গালে চু*মু খেয়ে বারবার বউ বলছিল সাজিদ।নুর ছোটার চেস্টা করছে।সেটা সাদাফের একদম পছন্দ হচ্ছিল না ।বন্ধু আছে বন্ধুর জায়গায় কিন্তু নিজের বোন নিজের কাজিন অথবা নিজের পছন্দের কোন মানুষকে তার বন্ধু এভাবে জড়িয়ে ধরে চু*মু খাবে এটা মেনে নিতে পারেনি।
সাদাফ দৌড়ে গিয়ে সাথে সাথে নুরকে সাজিদের কোল থেকে ছিনিয়ে নেয় এবং বলে খবরদার নূরকে বাজে ভাবে টাচ করবি না ।কথাটা একটু জোরেই বলে সেটা সাজিদের খুব মাইন্ড এ লাগে ।খারাপ লাগে । সাজিদ উল্টো প্রশ্ন করে ,”কি সমস্যা ?কি এমন করেছি ?এমন একটা ভাব করছিস তার যেন তোর বউকে কোলে নিয়ে চু*মু খাচ্ছি।”
সাদাফ উত্তর দেয় বউ হোক অথবা বোন এইভাবে কোন মেয়েকে কোলে নিয়ে চু*মু খেলে সেটাকে আ*দর করা বলে না সেটাকে অন্য কিছু বলে।
নূর মোটেও কমফোর্টেবল ছিল না ও বারবার তোর কাছ থেকে ছুটতে চাইছিল ।তার মানে তোর স্পর্শ নূরের ভালো লাগছিল না ।এতোটুকু বাচ্চা বুঝতে পারে কোনটা ব্যাড টাচ আর কোনটা গুড টাচ।
“তাই ?এত ছোট মেয়ে বুঝতে পারে কোনটা ব্যাড টাচ কোনটা গুড টাচ?কেন তুই টাচ করে করে শিখিয়ে দিয়েছিস ?”প্রশ্ন করলো সাজিদ।
কথাটা শোনা মাত্রই যেন মাথায় আগুন জ্বলে উঠেছিল সাদাফের ।তবুও হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁড়িয়েছিল নূর ভয় পাচ্ছিল তাই।নুর এক হাত দিয়ে সাদাফের বা হাত ধরেছিল তাই আগে বাড়ছিল না সাদাফ।
সাদাফ শুধু মুখ দিয়ে বলেছিল ,”অতটুকু কথাই বল যতটুকু বললে এর প্রতিক্রিয়া তুই সহ্য করতে পারবি ।”কথাটি বলার সাথে সাথে সাজিদ ঘুষি লাগিয়ে দিয়েছিল সাদাফের মুখ বরাবর।
ওমনি সাদাফ কে যেন আর কেউ কন্ট্রোল করে রাখতে পারেনি ।ইচ্ছামতো মে*রেছিল সাজিদকে ।সবগুলো ঘু*ষি শুধু মুখে দিয়েছিল এমন অবস্থা করেছিল চেহারার যে দেখে চেনার উপায় ছিল না এটা সাজিদ নাকি অন্য কেউ ।জ্ঞান হারিয়ে গিয়েছিল সাজিদের। বন্ধুরা অনেক কষ্ট করে আটকায় সাদাবকে।
নূর কান্না করে দেওয়ায় নুরকে কোলে করে নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ে সাদাফ।এরপরে ঝামেলা যা হবার ফ্যামিলির মধ্যে হয় ।বাবা গিয়ে তাদের সাথে মিটমাট করে কিভাবে কি করে সাদাফের সাথে আর কোন কিছু শেয়ার করেনি ।শুধু চার দিনের মধ্যেই আমেরিকা পাঠিয়ে দেয়।
আমেরিকা যাওয়ার আগেই বাবার রুমে ঢুকে বলেছিল এক শর্তে যাবে যদি নুরকে বিয়ে দেয় ওর সাথে ।
বাবা বলেছিল ,”অসম্ভব এটা কি হয় নাকি ?এত ছোট বাচ্চা তোর সাথে কিভাবে বিয়ে করবে ?তুই একটি বিবাহযোগ্য মোটামুটি পুরুষ মানুষ নূর ছোট একটা বাচ্চা ।বিশ বছর তো তাও তুই বিয়ে কি বুঝিস নূর কি বুঝে?
এভাবে তুই বিয়ে করে এখানে থাকবি নুর ও থাকবে এটা কি হয় নাকি ?”
তখন সাদাফ বলেছিল ঠিক আছে বিয়ের পর বিদেশ চলে যাবে ।নুর বড় হলে তখনই ফিরে আসবে ।কিন্তু নূরকে যদি বিয়ে না দেয় তাহলে কোন ভাবেই সাদাফ বিদেশে যাবে না ।হুমায়ূন রহমান ভেবেছিলেন ছেলে খুব ত্যাড়া ।সেটা উনি জানে আর এই বিয়ের কেউ জানবেও না বুঝবেও না ছয় বছরের নুর ভুলে যাবে সব।
তাই সাদাফের কথা মেনে সেদিন নূরকে মেলায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ছোট্ট লাল টুকটুকে একটি শাড়ি পরিয়ে সাদাফের কোলে বসিয়েই কবুল পরানো হয়েছিল ।কোনো সাইন হয়নি শুধু কবুল করানো হয়েছিল কাজী ডেকে।কয়েকটা চকলেট এর জন্যই মেয়েটা কবুল বলে দিয়েছিল তাও সাদাফের কোলে বসে ।সাদাফ মুচকি হাসলো কথাগুলো চিন্তা করে ।সে অতীতগুলো চিন্তা করে।
সাদাফ একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো ।তারপর মনে মনে ভাবল যত যাই হয়ে যাক যেভাবেই হোক সাজিদ কে প্রতিহত করতে হবে। নুরের উপর সাজিতের কেন স্বয়ং নুরের নিজেকেও নিজের কোন ক্ষতি করতে দিবে না সাদাফ।
সাদাফ ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো ক্যাবিনের দিকে ।ফজলুর রহমান সোফায় বসেই শুয়ে পড়েছিলেন ।সামিহা বেগম ঘুমাচ্ছে বেডে ।সাদাফ নুরের পাশে একটি চেয়ার নিয়ে আধশোয়া হয়ে নূরের হাত ধরে বসে রইলেন ।তাকিয়ে রইল নূরের দিকে।
পরদিন সকাল ৯ টা আজ এগারোটার মধ্যে ডিসচার্জ নিয়ে বাসায় চলে যাবেন ফজলুর রহমান নুরকে নিয়ে তাই তাড়াহুড়া করে ফাইলটি নিয়ে ডক্টরের কাছে গেলেন সব ফরমালিটিজ পালন করতে ।সাদাফ এখনো নূরের বেডে মাথা হেলিয়ে ঘুমিয়ে আছে চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে আছে ।সামিহা বেগম উঠে নাস্তা রেডি করছে।
এভাবে নুরের বেডে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখে সামিহা বেগমের কলিজাটা যেন জুড়িয়ে গেল ।উনি তো মনে মনে সাদাফ কে ভীষণ ভালোবাসে ।মেয়ের জামাই হিসেবে অনেক পছন্দ করে ওনার তো কোন আপত্তি নেই সাদাফের কোন কিছুতে ।উনি বুঝতে পারে না ফজলুর রহমান কেন বারবার এরকম করছেন ?এবার বাসায় গিয়ে অবশ্যই কথা বলবেন ফজলুর রহমানের সাথে কি হয়েছে জানতে চাইবেন। মনে মনে ভাবলো সামিহা বেগম।
সামিহা বেগম বেডের সামনে এসে দেখলেন নূর পিটপিট করে চোখ খুলছে তাই আর দাঁড়ালেন না ।ভাবলেন মেয়েটা ঘুম থেকে উঠে সাদাফ দেখবে তখন ভালো লাগবে ।তাই নিজে ধীরে ধীরে ক্যাবিন থেকে বের হয়ে গেলেন।
নূর চোখ খুলে দেখলো সাদাফ নূরের বালিশের কাছে মাথা হেলিয়ে শুয়ে আছে ।দৃশ্যটি ভীষণ ভালো লাগলো নুরের ।নূর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাদাফের দিকে ।হঠাৎ করে ধীরে ধীরে চোখ খুললো সাদাফ। দেখলো নূর তাকিয়ে আছে সাদাফের দিকে ।সাদাফ মুচকি হাসলো নূরের দিকে তাকিয়ে।
তারপর ঘুমো ঘুমো ঘোরে লাগা কন্ঠে বললো,”এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন ?আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে থেকে তো আমাকে মেরে ফেলবি।”
নুর তারপরও তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে সাদাফের দিকে ।সাদাফ বললো কি হয়েছে কিছু বলবি ?এভাবে হাসছিস কেন?
নূর বলল ,”না কিছু বলবো না ।”সাদাফ এভাবে বালিশ থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে আড়মোরা ভেঙে বললো রিলিজ দেওয়ার সময় হয়ে গেছে ।বাসায় যা বাসায় গিয়ে সুন্দর করে রেস্ট করবি ।নিজের যত্ন নিবি কেমন?
ঠিকমতো ওষুধ খাবি ।দৌড়াদৌড়ি ছোটাছুটি করবি না ।চুপচাপ বিছানায় শুয়ে থাকবি।”
নুর অবাক হয়ে জানতে চাইলো ,”আপনি যাবেন না বাসায় ?”
সাদাফ বললো,” অফিসে জরুরী কাজ আছে ।সেখানে যেতে হবে ।কয়েকদিন সময় দিতে হবে ।আমার বউ কি আমাকে ছুটি দিবে কয়েকদিনের জন্য?”
নুর লজ্জায় চুপ করে রইল ।সাদাফ নুরের দিকে তাকিয়ে নূরে চুলগুলো গুছিয়ে দিতে দিতে বলল ,”বাসায় যা নিজের যত্ন নিস ।আমার জিনিসের যেনো কোন ক্ষয়ক্ষতি না হয়।”
নূর নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল ,”বিয়ে করেছি যেন কেউ আমার যত্ন নিতে পারে ।নিজের যত্ন যদি নিজে নিব তাহলে বিয়ে করেছি কেন?”
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১০৬+১০৭
এই প্রথম নূরের কথা শুনে সাদাফ অবাক হয়ে গেল ।ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল নূরের দিকে ।তারপর ধীরে ধীরে ফিসফিস করে বললো,”যেদিন অনুমতি দিবি যত্ন নেওয়ার সেদিন থেকে বুঝবি আমার যত্ন কেমন হয় ।সেই পর্যন্ত একটু সুস্থ থাকিস নিজের যত্ন নিস একা একা।”
