Home সুখময় যন্ত্রণা তুমি সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৩২+১৩৩

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৩২+১৩৩

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৩২+১৩৩
neelarahman

সন্ধ্যা সাতটা হুমায়ূন রহমান ও ফজলুর রহমান বসে আছে হোটেল কক্ষে। রহমান হুমায়ন রহমানের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”কাজ তো আমাদের শেষ হয়ে গিয়েছিল ভাইজান ।আমরা তো চলে যেতে পারতাম ! ”
হুমায়ূন রহমান মনে মনে ভাবলো,”কি করে বুঝাবে ছেলে আজ তাকে ফিরে যেতে দিবে না ।আগামীকালকে টিকিট করেছে ।”
তাই ছোট ভাইয়ের সামনে বললো ,”আমি সাদাফ কে বলেছিলাম আমার শরীরটা ভালো লাগছে না ।তাই কাল টিকিট করতে।মনে হয় একটু প্রেসার আপ ডাউন হয়েছে তাই ভাবলাম কালকে টিকিট করি।”
ফজলুর রহমান বললেন ,”সে কি ভাইজান আপনি আমাকে বলেননি কেন ?আমি নিচে থেকে এক্ষুনি ওষুধ এনে দিচ্ছি ।”

হুমায়ূন রহমান বললো ,”না না সমস্যা নেই ।আসার সময় আমি ফার্মেসি থেকে কিনে নিয়েছি ।টেনশন করিস না ।এখন একটু রেস্ট নিলে ঠিক হয়ে যাব ।তুইও তো সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করেছিস জার্নি করেছিস । প্রেসারের জন্য হয়তো এই সময় খারাপ লাগছে আগামী কালকে চলে যাবো ইনশাল্লাহ।”
ফজলুর রহমান আর কথা বাড়ালেন না ।ভাইজান যেহেতু অসুস্থ সারাদিন জার্নি করেছে ঘটনা সত্যি কাজও করেছে তাই ভাবলো রেস্ট নিক ।আগামীকাল বিকালে একবারে চলে যাবে ।সকালটা আরেকবার ফ্যাক্টরি ভিজিট করে বিকালের দিকে যেহেতু টিকিট কনফার্ম বিকালের দিকে যাবে ।সেজন্য উনিও রেস্ট নিতে শুরু করলেন।
এদিকে সামিহা বেগম আজ পদে পদে খেয়াল করছে রিমাকে ।রিমা কিভাবে কথা বলে রিমা কিভাবে হাসে কিভাবে কাজ করে ।সব কিছু।ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছিল রিমা ।সামিহা বেগম রান্না ঘর থেকে বললেন ,”রিমা মা একটু এদিকে আয়তো।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

রিমা বলল ,”ডেকেছিলে আম্মু ?”
সামিহা বেগম বললো,” হ্যা এদিকে আমাকে একটু সাহায্য করতে পারবি ?”
রিমা বললো,” কি হয়েছে আম্মু বল কি করতে হবে?”
সামিহা বেগম বললো,” নাস্তা গুলো ভেজেছি একটা ট্রেতে আর একটা প্লেটে নে। এর মধ্যে প্লেটটি রেখে নাস্তাগুলো সার্ভ কর ।কফি চুলায় বসানো আছে ।আমি কফি ঢেলে দিচ্ছি সবার জন্য ড্রয়িং রুমে নিয়ে যাবি।”
রিমা বলল ,”ঠিক আছে আম্মু ।”

বলেই ট্রে নিয়ে নিয়ে নাস্তাগুলো ধীরে ধীরে সার্ভ করতে লাগলো খুব সুন্দর করে ।নিখুত করে কাজ করে মেয়েটি ।সামিহা বেগম এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রিমার দিকে ।হঠাৎ করে মুচকি হাসল ।মনে মনে ভাবল ,”আমি বাহিরে কেন মেয়ে খুঁজছি চোখের সামনে এত ভালো একটা মেয়ে আছে আমার এরকম নালায়েক ছেলের জন্য।”
সামিহা বেগম মানুষটা খুবই সহজ-সরল উনি জীবনটাকে খুব সহজ এবং স্বাভাবিকভাবে দেখতেই পছন্দ করেন ।উনার মনে হল রিমা যেহেতু বাসায় আছে তাদেরই মেয়ে সামিহা কয়েক বছরের ছোট আর এত সুন্দর সংসারি একটি মেয়ে ।বাহিরে কেন বিয়ে হবে ?নুরকে তো সাদাফ বিয়ে করে ফেলেছে রিমা ও যদি বাড়িতে থেকে যায় কত ভালো হবে ।সবাই একসাথে থাকতে পারবে বাহিরের কোন টেনশন নেই।”

ভিতরে ভিতরে উনি প্ল্যান করে ফেললেন যেভাবেই হোক ভাবিকে পটাতে হবে ।রিমা কে সাইমনের জন্য চাই চাই ।লাগলে পায়ে ধরে ঝুলে থাকবে। মনে মনে আরো ভাবল ভাবির ছেলে মেয়ে দুটাই কত যোগ্য কত ভালো কাজের বুদ্ধিমান বুদ্ধিমতী আর আমার পেটে হয়েছে দুইটা নালায়েক ।একটা কাজ করতে পারে না আরেকটা মাথা মোটা।
এদিকে ঘুম থেকে উঠতে উঠতে সাদাফ ও নূরের সন্ধ্যা সাতটা বেজে গেল ।অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছে আজকে প্রচুর ক্লান্ত ছিল সাদাফ বেচারা ।রাতভর কামলা খেটে ঘুমিয়েছে তাই সেই লেভেলের ঘুম দিয়েছিল ।সাতটার দিকে ঘুম থেকে সবার আগে উঠল নূর ।প্লান করল ঘুম থেকে উঠে কফি বানাবে আর নাস্তা বানাবে ।যেহেতু দুপুরে রান্না করেছিল সাদাফ।

নূর বিছানা থেকে ওঠার সময় সাদাফের ঘুম ভেঙে গেল ।সাদাফ চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে নূরে হাত ধরে ফেলল ।বললো ,”কোথায় যাচ্ছিস ?”
নুর বললো,” কফি খাবেন ?আমি আপনার জন্য কফি তৈরি করতে যাচ্ছি আর নাস্তা।”
এই দুটো জিনিস তৈরি করতে পারে নুর সাদাফ জানে তাই বললো,” একা পারবি নাকি আমার আসতে হবে ?”
নুর বললো,” না না আসতে হবে না ।আপনি উঠে ফ্রেশ হয়ে নেন আমি তৈরি করছি ।”
নুর রান্নাঘরে নাস্তা তৈরি করছে কিন্তু সাদাফরের মন মানছে না ।একা একা পারবে কিনা সাদাফ তাই রান্না ঘরের দিকে চলে গেল।

রান্না ঘরে গিয়ে দেখল নাস্তা তৈরীর সব কিছু রেডি করে ফেলেছে নূর ।এই একটি কাজ মোটামুটি ভালো পারে ।শখ করে বাড়িতে নাস্তা তৈরি করত ।সাদাফ পেছনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে নূর সবজিগুলো কেটে ডালের সাথে মাখিয়ে নিচ্ছে ।আর কফি আরেক চুলায় হচ্ছে।
নুর কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে নূরের কাঁধে চুমু খেয়ে বললো,” আমার নুরজাহান বেগম তো খুব ভালো কফি বানাতে পারে ।কফি আর নাস্তা ।নুর লজ্জা পেয়ে গেল ।বললো,” আপনি অপেক্ষা করেন আমি কফি তৈরি করছি ।”
সাদাফ বললো,”আমি তোকে কতবার উপরে ডাকতাম কফির বাহানায়।”
নুর অবাক হয়ে বললো,” বাহানায় ?কফি খাওয়ার জন্য না ?”
সাদাফ বললো,” না কফি খাওয়ার বাহানা না করলে কি তুই আসবি ?”
নুর বলল ,”কেন ডাকতেন তাহলে বাহানা করে ?”সাদাফ এক দৃষ্টিতে নূরের দিকে তাকিয়ে বললো,”তোকে একটু দেখতে একটু ছুয়ে দিতে একটু আদর করতে।”

নুর বললো,” আপনার মনে এগুলো ছিল ?”
সাদাফ বললো,”এগুলি ছিল শুরু থেকেই আমার মনে ।এগুলো ছিল ।সব ছেলেদের মনে এগুলোই থাকে ।তার প্রিয়তমা গার্লফ্রেন্ড স্ত্রীকে দেখলে তাদের মনে শুধু এগুলি চলে ।টগবগ করে মাথার মধ্যে শুধু এগুলি চলে।
আমি কোন সাধু সন্ন্যাসী না ।এরকম হুর পরী একটা সুন্দরী মেয়েকে আমার কাছে একা পেয়ে আমি ছেড়ে দিব ।আমি একটা সাধারন মানুষ যে মেয়ের প্রতি আমার ভীষণ দুর্বলতা যাকে আমি ছোটবেলা থেকে ভালবাসি তাকে একটু ছুয়ে দিতে একটু আদর করতে বাহানা করে হলেও আমি করতাম ।তাতে আমি দোষের কিছু দেখি না।”
নুর ভিতরে ভিতরে অনেক লজ্জা পাচ্ছে ।শিহরণ বয়ে যাচ্ছে ।পুরো শরীর জুড়ে সাদাফ এখনো ওর কোমর পেচিয়ে ধরে কাঁধে আলতো করে ছোট ছোট চুমু খাচ্ছে ।
নূর বললো ,”সরুন তাহলে আজকে থেকে কফি বন্ধ ।আপনার মতলব আমি বুঝে গিয়েছি আজকে থেকে আর কফি বানিয়ে দিব না।”

সাদাফ নুরের কাঁধে ছোট্ট একটি কা*মড় দিয়ে বলল ,”আর আমার কোন বাহানা প্রয়োজন নেই ।এখন আমি যখন তখন আদর করতে পারব তাই তুই কফি নিয়ে আসিস আর না আসিস থাকতে হবে আমার কাছেই।”

রহমান ভিলায় সবাই সন্ধ্যায় একত্রে নাস্তা করছে ।সামিহা বেগম তাকিয়ে আছে রিমার দিকে ।এমন সময় সাইমন ধীরে ধীরে উপর থেকে শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে নামছে ।গতকাল থেকেই খুব সিরিয়াস হয়ে লেখা পড়া শুরু করেছিল সাইমন আজ থেকে তো আরো বেশি সিরিয়াস ।যখন বড় আম্মু কথাগুলো বলে বুঝিয়েছে তখন থেকে লেখাপড়া ছাড়া আর কিছুই বুঝছেনা তেমন ।সারাদিন ফোন হাতে নিয়েও দেখেনি রিমা কেউ একবার ডিস্টার্ব করিনি।
যেন কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সায়মন পুরো বদলে গিয়েছে ।সামিহা বেগম হঠাৎ অবাক হয়ে গেলেন ।সায়মন আজ দৌড়ে দৌড়ে নামছে না খুব ধীর স্থির সুন্দর করে নামছে ।উনি চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বললেন ,”এত দেরি করলি কেন ?”

সায়মন বলে উঠলো,”একটু পড়ছিলাম ।”
সামিহা বেগমের মাথায় যেন আকাশটা ভেঙে পড়ল ।কি বলল ছেলে পড়ছিল !ছেলের মাথা ঠিক আছে ?জ্বর টর আসেনি তো ?
সামিহা বেগম টেবিলে চায়ের কাপটি রেখে সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়ে সাইমনের কপালে হাত রাখল ।দেখলো যে না সবকিছু ঠিক আছে ।
বললো সবই তো ঠিকঠাক। সমস্যা টা কই।মনে মনে।
রিমা অবাক হয়ে শুনল সাইমনের কথা ।এমনি তে ও রিমা অবাক সারাদিন সায়মন ফোন দেয়নি ।মেসেজ দেয়নি তার উপরে নাকি পড়ছিল ! দিনের বেলা তাও ভাবা যায়?

অবাক হয়নি শুধু নওরিন আফরোজ ।নওরিন আফরোজ জানে সাইমন বুঝতে পেরেছে ওর কি করতে হবে ।এক বছরের সময় দিয়েছে তাই উনি চুপচাপ টেবিলে বসেই চা নাস্তা করছিল।Nurun Nahar Nila
সায়মন সামিহা বেগমের এ অবস্থা দেখে বললা ,”মা কি করছো ?কপালে হাত দিয়ে দেখার কি আছে ?অসুস্থ হলে তো বলতামই ।বললাম তো মা পড়ছিলাম সামনে পরীক্ষা ফাইনাল পরীক্ষা এজন্য পড়ছিলাম।”
কথাটি বলে আড় চোখে তাকালো রিমার দিকে ।রিমা কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল সাইমনের দিকে ।রিমা অবাক আজ সায়মন একটি বারও খোঁজ নেয়নি রিমার এটা যেন মানতে পারছে না ইগো হার্ট হয়েছে রিমার।

সায়মন হা হু কিছু করলো না ।চুপচাপ সোফায় বসে বা পাকোড়া হাতে নিয়ে খেতে লাগলো ।আরেক হাতে কফি মগ হাতে নিয়ে খেতে লাগলো যেন রিমা সামনে নেই ।এমনভাবে চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে খাচ্ছে ।রিমার আর সহ্য হচ্ছিল না ।কিছুই সহ্য হচ্ছিল না ।কেন হঠাৎ করে এভাবে ইগনোর করছে বুঝতে পারছে না রিমা।
নওরিন আফরোজ সবই খেয়াল করছেন। রিমার অভিব্যক্তি এমনকি সাইমনের আচরণ সবই বুঝতে পারছেন ।নরিন আফরোজ চুপ করে শুধু অবলোকন করলেন দুজনের কর্মকান্ড ।চুপচাপ নাস্তা করতে লাগলেন।

এদিকে নূরের নাস্তা বানানো শেষ ।বেলকনিতে দোলনায় বসলো কফি এবং পাকড়া নিয়ে ।নূরের খুব ভালো লাগছে আজ নিজ হাতে সাদাফের জন্য কফি আর পাকোড়া বানিয়েছে ।নিজের ভেতর কেমন বউ বউ ফিল আসছে ।নিজেকে মিসেস সাদাফ মনে হচ্ছে।নিজের সংসার মনে হচ্ছে ।খুব ভালো যাচ্ছে দুইজনের এই দুই দিনের সংসার।
সাদাফ এক দৃষ্টিতে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে নুরের দিকে ।হঠাৎ করে সাদাফ বলে উঠল ,”নূর ?”
নূর কফির মগে চুমুক দিচ্ছিল ঠিক এমন সময় ডাকায় চমকে উঠে বললো,”হুম কিছু বললেন?”
সাদাফ বললো,” হ্যাঁ কিছু বলতে চাই।”
নুর বললো,” কি?”

সাদাফ বললো,” আই লাভ ইউ নূর !তোকে আমি ভালোবাসি ,ভীষণ ভালোবাসি, হয়তো তুই কখনো কল্পনাও করতে পারবে না ঠিক এতটাই ভালবাসি ।তোর অনুমানে আসবে না ঠিক ততটাই ভালবাসি। আমি জানি এ কথাটি তুই বহু আগে থেকে শুনতে চেয়েছিস ।কিন্তু আমি বলিনি ।আজকে বলছি এখন বলছি তোকে আমি ভালোবাসি নুর ।
ভীষণ ভালোবাসি ।এই আকাশ বাতাস এই পৃথিবী আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোকে আমি বলছি ,আমি তোকে ভীষণ ভালোবাসি নুর ।তুই যদি আমার কাছে না থাকিস আমার থেকে দূরে কোথাও সরে যাস আমার হৃদয় স্পন্দন বন্ধ হয়ে যাবে ।ঠিক এতটাই ভালবাসি ।তুই যদি আমার চোখের সামনে না থাকিস আমার দৃষ্টিশক্তি অন্ধ হয়ে যাক ঠিক এতটাই ভালবাসি।

পা*গলের মতো ভালোবাসি ।পা*গলের মতো ভালোবাসা বুঝিস ?যে শুধু ভালোবাসে আর কিছু বোঝেনা ।আমিও দিন দুনিয়া সামাজিকতার লোক লজ্জা ভয় সব কিছু ত্যাগ করে তোকে শুধু ভালবাসি।”
নূরের চোখে পানি চলে এলো এইভাবে সাদাফ কখনো নিজেকে নিবেদন করেনি ।নূরের কাছে এর আগে বহুবার বুঝিয়েছে বহুবার ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ভালোবাসা বুঝিয়েছে কিন্তু এইভাবে অনুরোধের সুরে ভিক্ষা স্বরে কখনোই সাদাফ বলেনি নূরকে ভালবাসে ।

কখনোই বুঝায়নি নূর কে ছাড়া সাদাফের জীবন চলবে না ।নিঃশ্বাস থেমে যাবে । হৃদস্পন্দন থেমে যাবে ।কখনোই বুঝায়নি নূরকে ছাড়া দৃষ্টি দিয়ে পৃথিবীটা অব্দি দেখতে চায় না সাদাফ। নূর আর সহ্য করতে পারলো না ।দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল ।কান্না করতে করতে হিচকি চলে আসলো ।হঠাৎ করে এইভাবে ভালোবাসি কথা শুনে নূর অনেক ইমোশনাল হয়ে গেল।

সাদাফ বলে উঠল ,”এই নূর পা*গল হয়েছিস তুই ?কাঁদছিস কেন ?তুই তো আমার মুখ থেকে কতবার ভালবাসি শুনতে চেয়েছিলি ?আমি তো আজকে ভালোবাসা স্বীকারোক্তি দিলাম !আজকে তোর খুশি হওয়ার কথা তুই কাঁদবি জানলে তো আমি কখনোই ভালোবাসি বলতাম না।”
সাদাফ উঠে এসে নুরের সামনে দাঁড়িয়ে নূরকে জড়িয়ে ধরল ।নূর সাদাফের কোমর জড়িয়ে পেটের মধ্যে মুখ গুঁজে দিয়ে নাক ঘষতে লাগলো ।সাদাফ নুরের এলোমেলো চুল গুলো গুছিয়ে দিতে দিতে বললো,” পা*গলি আমি যে তোকে ভালবাসি এটা জানাতে হবে না?”

বলেই সাদাফ নুরের মুখটা তুলে দুই আঙ্গুল দিয়ে নূরে চোখের পানিগুলো মুছে দিয়ে তাকিয়ে রইল নূরের চোখের দিকে ।এখনো টলমল করছে চোখের পানিতে ।তারপর বললো,” ভুল বলেছি তোর চোখে যত পানি অত ভালো হয়তো বাসতে পারিনি ।সমুদ্রের চেয়েও বেশি পানি তোর চোখে।
আমি তো শুধু এক সমুদ্রই ভালোবাসতে পারব তোকে কিন্তু তোর তো দুইটা চোখে দুইটা সমুদ্র ।এখানে আমি হেরে গেলাম ।”

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৩০+১৩১

বলেই নূরের দুই চোখে চু*মু খেলো সাদাফ।
চু*মু খেয়ে কপালে চু*মু খেলো ।গালে চু*মু খেলো ।ধীরে ধীরে নেমে এলো ঠোঁটে ।ঠোঁটে ঠোঁট রাখতেই নূর খা*মচে ধরল সাদাফের শার্টের কলার।
দীর্ঘ সময় চুমু* খাওয়ার পর সাদাফ নুর কে ছেড়ে দিল ছেড়ে দিয়েই নূরকে সাথে সাথে কোলে তুলে নিল ।নিয়ে রুমের দিকে রওনা দিল সাদাফ।ঘোর লাগা কন্ঠে ফিসফিস করে বললো সাদাফ,” আমার কোন দোষ নেই।সব তোর চোখের পানির দোষ।”

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৩৪+১৩৫