Home সুখময় যন্ত্রণা তুমি সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪২+১৪৩

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪২+১৪৩

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪২+১৪৩
neelarahman

তুই জানিস যেদিন তোর আমার বিয়ে হয় তুই মাত্র ১০ বছরের।কিন্তু আমি ২০ বছরে প্রাপ্তবয়স্ক যুবক ।তুই বিয়ে কি সেটা বুঝিসই না কিন্তু আমি তো জানি তুই আমার বউ।
তোকে ছেড়ে যেতে হবে আমার সেকি ভীষণ কষ্ট ।আমি কাউকে বুঝাতে পারছিলাম না নিজের সদ্য বিয়ে করা লাল টুকটুকে পরি বউটাকে ফেলে চলে যাব কে দেখে রাখবে ?কে সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে দিবে ?ভাবতেই আমার বুকটা কেঁপে উঠতে বারবার। সবচাইতে বেশি ভাবতাম কে তোর প্রথম পিরিয়ডের সময় তোকে সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে দেবে ?তোকে গরম স্যাক দিয়ে দিবে?এটা ভাবতে আমার বুকটা আরো কেঁপে উঠতো !আমি কেন থাকতে পারবো না এমন সময়?

কিন্তু বাবাকে কথা দিয়েছিলাম ।শর্ত দিয়েছিল তাই আমার যেতেই হবে ।
একটা সিক্রেট বলবো তোকে?”
নূর তাকিয়ে রইল মুখ ফুটে বললো না কিছু।কিন্তু নূরের জিজ্ঞাসু দৃষ্টি বুঝতে পারল সাদাফ ।সাদাফ হালকা মৃদু হাসলো ।হেসে নুরের দিকে তাকিয়ে বলল,”যখন তোর আমার বিয়ে হয় তোর মাত্র ১০ বছর। ১০ বছরে অনেক মেয়ে কবুল মানে বিয়ে করা বুঝলেও তুই এতটা বোকা ছিলি তুই কিছুই বুঝতি না।আমি তো ২০ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক যুবক চাইলেই ওই সময় বিয়ে করে সংসার করতে পারি এরকম ।তো সেদিন তো হিসেব মতো আমাদের বাসর রাত ছিল ।তুই তো গা*ধী বিয়ে কি কিছুই বুঝছিস না আমি তোকে ছোট্ট করে গালে একটি চু*মু খেয়ে ছিলাম আর তোর কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছিলাম।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

নুর লজ্জা পেয়ে গেল !কি ভীষণ কথা !১০ বছরের বউ তাকে গালে চু*মু খেয়েছে আবার ওয়াদা ও নিয়েছে !নুর অবাক হয়ে চোখে পানি মুছে জানতে চাইলো কি ওয়াদা?
সাদাফ মুচকি হাসলো ।লাজুক হাসি ।যেন লজ্জা পাচ্ছে এমন।সাদাফ এখনো নূরের পা দুটো বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে আছে পায়ের নখগুলো টানতে টানতে বললো,” আমি ওয়াদা নিয়েছিলাম যেদিন আমি দেশে ফিরব সেদিন কিন্তু আমাদের বাসর রাত হবে ।কেমন ?
তুই জিজ্ঞেস করেছিলি বাসর রাত কি ?আমি বলেছিলাম যেদিন আসবো সেদিন বুঝবি ।ওয়াদা কর তুই অপেক্ষা করবি।আর আসলে বা*সর করবি।”

নুর লজ্জা পেয়ে গেল ।লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল ।সাদাফ মুচকি হেসে আবার বলল,”তুই কি বলেছিলিস জানিস ?তুই বলেছিলি যদি তোকে আমি বিদেশ থেকে অনেকগুলো চকলেট এনে দেই অনেকগুলো ক্লিপ আর সুন্দর একটা পুতুল এনে দেই তাহলে তুই বা*সর করবি আমার সাথে। আমি কিন্তু এনেছিলাম তোর বলা মত প্রত্যেকটি জিনিস এনেছিলাম। তুই কিন্তু কথা রাখিস নি।”
নূর ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে ।কি এক আজব ধরনের কথা বলেছে? নূর কয়েকটা চকলেট একটা পুতুল আর কয়েকটা ক্লিপের বিনিময় বাসর করবে ?ছিঃ মাথা মোটা নুর কেন এসব কথা বলতে গিয়েছিল ?”
নূর যেন মুহূর্ত খানিক সময়ের জন্য নিজের দুঃখ কষ্ট অভিমান সব ভুলে গেল ।মনে পড়ছে শুধু নিজের বোকামির কথা গুলো।

নুর লজ্জা মাথা নিচু করে রয়েছে ।সাদাফ নুরের দিকে তাকালো ।তাকিয়ে কিছুক্ষণ পর নীরবতা ভেঙে আবার বললো,” দেশে আসার পর কি কি হয়েছে জানিস? যখন দেখলাম তুই বিয়ের কথা জানিস না আমার খুব অভিমান হল ।১০ বছরের সময় বিয়ে হয়েছে এত ওতো ছোট না ।তোর তো মনে করা উচিত ছিল আর কিছু না হোক এটলিস্ট তুই কবুল বলেছিলি ।কিন্তু তুই সব কিছু ভুলে গেলি ।আমি তোর স্বামী হই সেটা ভুলে গেলি।

আমি যে তোর জন্য কি ছিলাম সে সবকিছু ভুলে গেলি ।আমাকে ছাড়া তোর চলতো না তুই সে সব ভুলে গেলি।
তাই মাঝে মধ্যে রাগ হত ।তাই তখন ইচ্ছে করেই মাঝেমধ্যে তোকে একা পেলে নিজের কর্তৃত্ব খাটাতাম ।কারণ আমি তো জানি তুই আমার স্ত্রী আমার এইজন্য এটাতে কোন দোষের কিছু মনে হয়নি ।কিন্তু তুই যেহেতু জানতি না আমি তোর স্বামী তুই লজ্জা পেতি ভয় পেতি। তোর ভিতরে অপরাধবোধ হতো ।কেমন যেন ফিলিংস কাজ করতো ।আমি তোকে শাস্তি দিচ্ছিলাম কেন তুই নিজের বিয়ে করা স্বামীকে ভুলে গেলি?
কি ছেলে মানুষের চিন্তা ভাবনা তাইনা মনে হতো আমার বিয়ে করা বউ আমাকে ভুলে গিয়েছে এটা কি মেনে নেওয়া যায় যার জন্য এত আয়োজন সেই আমাকে ভুলে গেল?
কোনোভাবেই যখন দেখছিলাম তোর মনে কথা জানতে পারছি না বা আমাকে দেখে তোর কোন অনুভূতি জাগ্রত হয় কিনা জানি না বাধ্য হয়ে কি করলাম জানিস ?তোর সাবা আপুকে মিথ্যা মিথ্যা প্রেমিকা বানিয়ে তোর সামনে প্রেজেন্ট করলাম।

ওকে দিয়ে তোকে বুঝাতে লাগলাম ।কি গা*ধার মত একটা কাজ করেছিলাম তাই না ?ভাবতেই নিজের কাছে লজ্জা লাগে ।আমি সাদাফ এরকম একটা ছেলে মানুষী করেছি কারণ আমার বউটা ছোট্ট ছিল ।নিজের ভালোবাসা নিজের অনুভূতিগুলো বুঝতো না।
কিন্তু সাবার ব্যাপারটা কাজ করেছিল একটু হলেও সাবা তোকে ভালবাসা কি আমার প্রতি তোর ইনার ফিলিংস কি বুঝাতে সক্ষম হয়েছিল।

ধীরে ধীরে আমাকে ভালবাসিস বুঝতে শুরু করলি ।আমার প্রতি পজেজিভ ফিল করতে শুরু করলি ।কেউ আমার কাছে আসলে তুই জেলাস হতে শুরু করলি।পজেজিভ হতে শুরু করলি ।এটাই ভালোবাসা ছিল নূর ।দেরিতে হলেও তুই তোর স্বামীকে ভালবাসতে শুরু করেছিলি।
তোকে তো মাঝখানে ছয় বছরে কথা বলা হয়নি তাই না ?এই ছয় বছর আমেরিকায় একা একা আমি কিভাবে থেকেছি প্রত্যেকটা দিন প্রত্যেকটা মুহূর্ত তোকে ছাড়া আমার কোন বিরহে কেটেছে তো কি কখনো জানতে ইচ্ছা হয়নি?”
নুর মাথা তুলে তাকাল ।জানতে ইচ্ছে হয় ।প্রচুর জানতে ইচ্ছে হয় ।এই ছয় বছর সাদাব ভাই কি করেছে কেমন ছিল কোথায় ছিল সবকিছু জানতে ইচ্ছে হয় ।কিন্তু জিজ্ঞেস করার মত কোনদিন সেরকম সুযোগ হয়ে ওঠেনি।

তোকে অনেক কষ্ট করে ছেড়ে যেতে হয় আমার নুর আমি শুধু জানি ।যেদিন আমি তোকে ছেড়ে আমেরিকা চলে যাই সেদিন দুই ঘন্টা তোকে বুকে নিয়ে বসেছিলাম আমি সবার চোখের আড়ালে ।তুই দুই ঘন্টা অনেক ছটফট করেছিস বারবার সরে যেতে চেয়েছিস কিন্তু আমি কোন না কোন বাহানায় আবার তোকে জড়িয়ে ধরে বসে ছিলাম।
শাড়ি পড়ে এভাবে আমার সাথে বসে থাকতে তোর অস্বস্তি হচ্ছিল তোর ভালো লাগছিল না তুই বারবার ছুটে চলে যেতে চাচ্ছিলি। কিন্তু আবার জোর করে ধরে তোর কাঁধে মাথা রেখে আবার আমি বসে থাকতাম ।আমার যে কি ভীষণ কান্না পাচ্ছিল ।

অতঃপর চলে আসলো সেই মুহূর্ত এয়ারপোর্টে যখন সবাই বিদায় দেওয়ার জন্য আসলো তুই আমার হাত ধরে বারবার ঝাকাতে ঝাকাতে আমাকে মনে করে দিয়েছিলি আমার কিন্তু একটা সুন্দর পুতুল অনেকগুলো ক্লিপ আর অনেকগুলো চকলেট লাগবে ।তাহলে আমরা বা*সর করবো ঠিক আছে?
আমিও বলেছিলাম হ্যাঁ ঠিক আছে কথাগুলো তুই যেন ভুলে যাস না ।আমি তো মনে রাখবো ।তুই বলেছিলি প্রমিস করেছিলি তিনবার চারবার করে প্রমিস কিন্তু তুই মনে রাখিস নি।
আমেরিকা পৌঁছানোর পর কতগুলো দিন আমার শুধু বিষন্নতায় কেটেছে ।না আমার ক্লাস ভালো লাগতো না আমার বাহিরে কোথাও যেতে ভালো লাগতো দিনভর আমি শুধু তোকে কোলে নিয়ে কবুল করা ছবিটি দেখতাম আর বুকে জড়িয়ে শুয়ে থাকতাম ।এভাবে মাস খানেক কে*টে যায় বিষন্নতায়।

তুই এত দুষ্টু এত চঞ্চল হয়ে ছিলি নূর কিভাবে তুই আমাকে এত সহজে ভুলে গেলি ?যখনই আমি ফোন দিতাম শুনতাম নূর বাহিরে খেলতে চলে গিয়েছে ।আচ্ছা তোর কি একবার আমার কথা মনে পড়তো না ?দিন ভরা যে সাদাফ ভাই সাদাফ ভাই বলে পিছু পিছু ঘুরতি সেই সাদাফ ভাই তো তোর চোখের সামনে ছিল না ।তুই কি নিষ্ঠুর ভাবে আমাকে ভুলে গিয়েছিলি নূর!

পরে ভাবলাম আমি তো তোকে কোনদিন কোন বন্ধু হতে দেইনি কারো সাথে মিশতে দিইনি খেলতে দেইনি ।দিনভর আমার সাথে রেখেছি ।কিন্তু আমি যাওয়ার পর তুই বাহিরে গিয়েছিলি বন্ধুদের সাথে খেলতে শিখেছিলি তাই তোর অবচেতন মনে ধীরে ধীরে সাদাফ কে মুছে ফেলেছিললো।
তাই সিদ্ধান্ত নিলাম তোকে এবার তোর মত একটু বড় হতে দিব ।সব সময় তো আমি আটকে রেখে ছিলাম এবার আর আটকে রাখবো না ।তোকে তোর মত বড় হতে দিব ।একদিন তুই খেলছিলি তোকে দেখার আমার ভীষণ সাধ হলো ।তখন আমার বন্ধুর স্মার্ট ফোন ছিল নতুন নতুন কিনে ছিল ওকে আমি বললাম একটু ভিডিও কলে তোকে দেখাতে।

ও ভিডিও কল দিলো তোকে দেখানোর জন্য ।কি সুন্দর করে টুকটুক করে খেলছিলি তুই ।হঠাৎ খেলতে খেলতে পড়ে গেলি তোর হাত পা ছুলে গেল ।তোর অবচেতন মন সাদাফ ভাই বলে চিৎকার করে উঠলো।আমার কলি*জায় লেগেছিলো নুর তোর ডাক।আমার বন্ধু জিজ্ঞেস করল যে মলম লাগিয়ে দিবে কিনা ?আমার ভীষণ খারাপ লেগেছিল ।কিন্তু অন্য কেউ তোকে স্পর্শ করবে কেনো?তাই বললাম না চুপচাপ তোকে যেন বাড়িতে দিয়ে আসে।
এভাবে চলে গেল এক বছর ।ভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ার শেষ করে তখন সেকেন্ড ইয়ারে উঠলাম ।
তুই কি জানিস আমেরিকা একটি মেয়ে আমাকে খুব চাইতো?

বলেই সাদাফ নূরের পা ধরে বসে থেকেই তাকালো নুরের দিকে ।যেন নূরের রিঅ্যাকশন দেখতে চাইছে ।নূর চটক করে তাকালো সাদাফের দিকে ।নূরের চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে ।একটি মেয়ে চায় সাদাফ ভাই কে? ছয়টি বছর বিদেশে ছিল কি হয়েছিল তার জীবনে ?কিছুই তো নূর জানে না ।
নুরের জানতে খুব ইচ্ছা হচ্ছে ।আগ্রহ ভরা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে সাদাফের দিকে ।কিন্তু চোখ জোড়া ঝাপসা হয়ে আসছে বারবার ।যেন সাদাব অন্যরকম কিছু বললেই কেঁদে দিবে নূর ।নুর মানতেই পারছে না কোন একটি মেয়ে সাদাবকে চাইতো।নুর ছাড়া অন্য কোন মেয়ের কথা সাদাফের মুখে।
সাদাফ নুরের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করল ।”মেয়েটি প্রতিদিন ডরমেটরি তে আমাকে এক নজর দেখার জন্য বসে থাকতো ।ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতো ।কখনো আমি একটু বেলকনিতে আসবো বা কখন একটু বারান্দায় জানালায় দাঁড়াবো ও আমাকে এক নজর দেখবে ।আমাদের ডরমেটরির পাশেই ওর বাড়ি ছিল ।তাই ও সারাক্ষণ এখানেও ওত পেতে বসে থাকতো আমাকে দেখার জন্য।

যেমন আমার নজর দুটি শুধু তোকে দেখার জন্য ওত পেতে থাকতো ।ঠিক সেই রকম ছিল মেয়েটি।
নূরের চোখ ছলছল হয়ে গেলো। নিঃশ্বাস ভারী।সাদাফ লক্ষ্য করছে সব কিছুই দেখছে আরেকটু হলে যেন নুর কান্না করে দিবে ।কিন্তু সাদাফ আজ বলবে সব কিছু বলবে ।নুরকেও যে একটু শাস্তি পেতে হবে ।কেন নূর কথায় কথায় বলে ফেলল আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিন ?ওকেও সে যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে যে যন্ত্রনা সাদা ৬ বছর সহ্য করেছে ।ওকে ছয় মুহূর্তের জন্য হল সহ্য করতে হবে সাদাফ কে হারানোর ভয়।

সাদাফ বললো,” মেয়েটি দেখতে ভীষণ সুন্দরী ছিল ।এক কথায় নজর কাড়া সুন্দরী ।চাইলেও যে কোন পুরুষ তাকে অগ্রাহ্য করতে পারবে না ।কিন্তু ওই যে আমার চোখে তো তুই ছিলি আমার চোখ দুটো অন্ধ হয়েছিল ।তোর মধ্যে ।তাই হয়তো ওই সৌন্দর্য আমি দেখতে পেতাম না ।কিন্তু মেয়েটি ভীষণ ভালো ছিল জানিস?
আমাকে নিরবে নিরবে ভালোবেসে গিয়েছে কখনো কোন সময় ডিস্টার্ব করত না ।ভালোবাসি বলতে আসতো না ।মাঝেমধ্যে ফুল রেখে যেত কার্ড রেখে যেত সিঁড়ির কাছে ।আমি দেখতাম বুঝতে পারতাম এটিও দুষ্টু মেয়েটিরই কাজ মেয়েটি তখন ১৬ বছর বয়সী হবে।

সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া একটি মেয়ে ছিল রিহা।কিন্তু এই কথা বলে মেয়েটিকে আমি দূরে সরাবো কি করে যেখানে আমি আগে একটি বাচ্চা মেয়েকে মন দিয়ে বসে আছি ?তাই এই যুক্তি দিয়ে আমি ওকে সরাতে পারছিলাম না।
নূর এবার অধৈর্য্য হচ্ছে ।সরাতে পারছিল না মানে কি ?চোখ দুটো চিকচিক করছে নুরের।চোখের মনি দুটো এদিক ওদিক শুধু দিকবিদিক ঘুরছে যেন সাদাফকে অবলোকন করতে চাইছে ।কিছু কি হয়েছিল তাদের মধ্যে ছয় বছরে ?তাদের মধ্যে কোন সম্পর্ক হয়েছিল কি? ওর হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে রাখল ।

সাদাফ খেয়াল করছে নুরের হাতের দিকে ।নূরের পা দুটো মনে হয় এবার একটু কাপতে শুরু করল।
[আমরা অনেক সময় সহজে বলে ফেলি আমাকে ছেড়ে দাও বা আমাকে ছেড়ে চলে যাও ।কিন্তু সেই প্রিয় মানুষটি ছেড়ে গেছে বা চলে যাবে এই অনুভূতিটা যে কতটা ভয়ংকর হয়তো সাদাফ নুর কে সেটাই বুঝাতে চাচ্ছিল ]
নূরের পা দুটো হালকা করে একটু ধরল সাদাফ ।নূরের পা দুটোর কম্পন ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো ।সাদাফ জানতে চাচ্ছে বুঝতে চাচ্ছে নুরের মনোভাব।
কি কি হয়েছিল দুজনের মধ্যে ভাবছে নুর।
সাদাফ খেয়াল করল ।তারপর আবার বলতে শুরু করলো সাদাফ।

“একদিন কি করে যেন হঠাৎ করে মেয়েটি আমার ডরমেটরিতে রুম পর্যন্ত চলে এল ।জানিনা কি করে সেটিং করেছিল ?কি করে কি ডরমেটরি তে এলো?আমি একাই ছিলাম হয়তো জানতো মেয়েটি ।দরজার নক করলে আমি যখন খুলে দিলাম ওকে দেখে আমি বোকা হয়ে গেলাম ।এই মেয়ে এখানে কি করে এলো ?
আর আমার এখানেই বা কি ?তবে মেয়েটি যে জেনে এসেছে রুমে কেউ নেই তা আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম কারণ মেয়েটি হাতে করে একটি গিফট নিয়ে এসেছিল ।তা যে আমার জন্যই নিয়ে এসেছে তাও আমি জানতাম কারণ মাঝেমধ্যে সিঁড়ির কাছে গিফট আমার নামে রেখে যেত এই মেয়েটি।

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪০+১৪১

যখন আমার দরজায় দাঁড়ানো ঠিক তখন আমার পা জোড়া ঠকঠক করে কাঁপছিল ।এমন একটা সিচুয়েশনের জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না ।
নূরের পায়ের কম্পন যেন আরো বাড়তে লাগলো ।যেন চাইলেও নূর আর কন্ট্রোল করতে পারবেনা ।চোখের পানি দিয়ে চোখ ঝাপসা হয়ে গেল ।সাদাফ এক দৃষ্টিতে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইল নূরের দিকে।

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪৪+১৪৫