Home সুখময় যন্ত্রণা তুমি সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪৪+১৪৫

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪৪+১৪৫

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪৪+১৪৫
neelarahman

নূরের কেমন লাগছে নুর বলে বোঝাতে পারবে না ।স্বপ্নেও চিন্তা করতে পারছে না সাদাফের মুখ থেকে এতটা গভীরভাবে কখনো কোন মেয়ের কথা শুনবে ।অথচ সাদাফ যখন থাকবে না অন্যত্র সংসার করবে একই বাড়িতে থেকে কিভাবে মেনে নিবে নুর?
নুর দু হাতে নিজের মাথা ধরে ফেললো ।ভাবতে পারছে না কিছুই
ভাবতে পারছে না ।

সাদাফ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নূরের দিকে ।তারপর বললো,” মেয়েটিকে আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম এখানে কিভাবে এল কেন এলো ?মেয়েটি বললো আমার সাথে দেখা করতে এসেছে আমাকে নাকি ওর ভীষণ পছন্দ।
আমি ভয় পেয়ে গেলাম ।একতো ডরমেটরির রুমে কেউ নেই আমি একা তার উপরে ও একটি মেয়ে মানুষ আর ভীষণ সুন্দরী ।আর যে কেউ দেখে আমাদেরকে খারাপ ভাববে ।দরজায় তখনো দাঁড়িয়ে আছি হঠাৎ করে মেয়েটি ………নূর চট করে তাকালো সাদাফের দিকে ।চোখে পানি টলমল করছে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

নুরের দিকে তাকিয়ে,”আমাকে পাশ কাটিয়ে ভিতর ঢুকে গেল মেয়েটি ।আমি অবাক হয়ে রইলাম ।কি করব বুঝতে পারছিলাম না ।গেটে দাঁড়িয়ে থাকবো নাকি দরজা লাগিয়ে ভিতরে যাব ।এরকম ভ*য়ংকর একটা সিচুয়েশন আমার মাথা কাজ করছিল না ।তাই আমি দরজা হালকা চাপিয়ে ভিতরে গেলাম দরজা লাগালাম না।”
নূরের সহ্য হচ্ছে না ।মন খারাপ ছাপিয়ে এখন যেন ভিতরে ক্ষোভ জন্ম নিচ্ছে ।কেন দরজা চাপিয়ে ভিতরে নিয়ে গেল মেয়েটিকে নিয়ে?অসভ্য লোকটি কেন দরজা থেকে বিদায় করল না ?তাহলে কি তাহলে কি কিছু হয়েছিল ওনাদের মধ্যে ?৬ বছর তো কম নয় !এমন তো নয় যে নূরকে ভুলে গিয়েছিল সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল!
আমেরিকার মতো জায়গায় যেখানে পরিবার আত্মীয়-স্বজন পরিচিত কেউ নেই সেখানে ছয়টা বছর একা কাটিয়েছে সে কি এতটাই ভাল ছিল কারো সাথে কি মেশে নি? কত কিছু তো শোনে নূর যদি সেরকম হয়ে থাকে ? যদি লিভ ইন এ থাকে?না নুর আর ভাবতে পারছে না ।আর কিছু ভাবতে চাচ্ছে না।

নূরের শ্বাস প্রশ্বাসের গতি বাড়তে লাগলো ।সাদাফ সবই অনুভব করছে।
নূরের দিকে তাকিয়ে একটু থেমে সাদাফ আবার বলতে শুরু করল ।”ভিতরে ঢুকে আমি যখন মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম কেন এসেছো এবার মেয়েটি উপহারটি আমার মুখের সামনে তুলে ধরে বলল এটি দেওয়ার জন্য ।আর তোমাকে দেখতে আমার ভীষণ ইচ্ছে করছিল ।আমি অবাক হয়ে গেলাম মেয়েটি এত ছোট অথচ আমাকে তুমি করে বলছে প্রথম সামনাসামনি দেখায়।

অবশ্য জন্মের পর থেকে আমেরিকায় থাকে তাই একটু এডভান্স বুঝতে পারিস আমাদের দেশের মতো এতটা
করা বাধা নিয়মের মধ্যে বড় হয়নি ।একটু ওপেন মাইন্ডেড ।যেমন পশ্চিমাদেশ গুলোর মেয়েরা হয়ে থাকে ।বুঝতে পারছিস নিশ্চয়ই ?এসব ওদের কাছে কোন ব্যাপার না ।কিন্তু আমার অবাক লাগছিল।
এরপর হঠাৎ কথা নেই বার্তা নেই মেয়েটি দুকদম এগিয়ে এসে একদম আমার সামনে চলে আসলো ।আমি দু কদম পিছিয়ে যাব তারও সুযোগ পেলাম না ।হঠাৎ করে মেয়েটি আমাকে……
“কি মেয়েটি আপনাকে ?”প্রশ্ন করে বসলো নূর ।
আর তর সইছেনা নূরের ।জানতে হবে সবকিছু জানতে হবে ।কি করে এসেছে ৬ বছর এই লোক ।অথচ ছয় বছর নূর না জানলেও এই লোক তো জানত তার একটা বিবাহিত স্ত্রী আছে দেশে।নুরের এখন রাগ হচ্ছে ভীষণ রাগ হচ্ছে।

সাদাফ চুপ করে রইল ।মাথা নিচু করে ফেললো যেন নূরের চোখের দিকে তাকাতে পারছে না এমন একটা ভাব ।নুরের রাগ হচ্ছে ।গা জ্ব*লে যাচ্ছে।লোকটা এখনো মুখ খুলছে না কেনো?সাথে সাথে নূর আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না ।সাদাফের কলার ধরে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে বললো ধমকে সুরে ,”বলছেন না কেন ?মুখ খুলছেন না কেন কি করে এসেছেন?”
সাদাফ অপরাধীর মতো মুখ তুলে কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে বললো,” কি বললে খুশি হবে নূর ?কিছু করে এসেছি নাকি কিছু করে আসিনি ?কি শুনলে খুশি হবি এটা যে সেই মেয়ে এখনো আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে আমি আমেরিকা ফিরে গেলে সে মেয়ে আমাকে বিয়ে করে ফেলবে নাকি এটা শুনে খুশি হবি আমি কখনই সেই মেয়েকে গ্রহণ করব না কারণ আমার নুর আমার আসক্তি আমার জীবন আমার সাথে সব সময় থাকবে ?কি শুনে খুশি হবি নুর?”

“প্রশ্ন করবেন না আমি প্রশ্ন করেছি আগে উত্তর দিন কি হয়েছিল তখন?”রাগে গজগজ করতে করতে বললো নুর।
সাদাফ বললো ,”কি আসে যায় কি হয়েছিল !তুই তো এমনিও আমাকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিস ।তোর তো খুশি হওয়া দরকার তোর বিরহে সাদাফ বেশি দিন পুড়বে না ।কেউ একজন আছে যে এখনো সাদাফের জন্য অপেক্ষা করে আছে ।তুই যাকে অবহেলা করে সরিয়ে দিবি সে সাদরে গ্রহণ করে নিবে।
তাহলে কি যায় আসে নূর তোর তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না ?তোর কি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে যদি বলি সেদিন আমাদের মধ্যে কিছু হয়েছিল ?তোর কি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে যদি বলি যে না কিছু হয়নি ?আমি ঘৃণা করে ওর ভালোবাসাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলাম কোনটা শুনলে খুশি হবি নুর?

তুই আমাকে অবহেলা করে আমার ভালোবাসাকে প্রত্যাখ্যান করে না বুঝে দূরে সরে দিয়ে আমাকে কষ্টে রাখতে চাস?নাকি চাস আমি তোর থেকে সরে গিয়ে অন্যত্র কারো সাথে সংসার করি তোর চোখের সামনে বউ নিয়ে ঘুরে বেড়াই এটা দেখে খুশি হতে চাস?
নূরের হাত কাঁপছে ।কাঁপা কাঁপা হাত দুটো দিয়ে ছেড়ে দিল সাদাফের কলার ।পা দুটো কাপছে।কান্না কান্না স্বরে বললো,” বলছেন না কেন কি হয়েছিল সেদিন ?না হলে কিন্তু আমি বিরাট কোন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবো এক্ষুনি বলুন বলছি।”

সদাফ নুরের হাত দুটো শক্ত করে ধরলো।ধরে নুরের চোখে পানি মুছতে মুছতে বললো,” সেদিন কিছু হয়নি নূর সেদিন আমি প্রত্যাখ্যান করেছিলাম ।ওকে রুম থেকে বের করে দিয়েছিলাম ।কিন্তু এটাও সত্য সে এখনো আমার জন্য অপেক্ষা করছে ।তুই যদি আমাকে অবহেলা করে দূরে সরিয়ে দিস একদিন না একদিন ওই মেয়ে ঠিকই আমাকে পেয়ে যাবে।
কারণ তুই যদি আমাকে দূরে সরিয়ে থাকতে পারিস আমার ভালোবাসাকে অবহেলা করে থাকতে পারিস তোর উপরে রাগ করে হলেও তোকে দেখানোর জন্য হলেও আমি এইখানে এই মেয়েকে নিয়ে এসে একটা সংসার পাতবো। তোর চোখের সামনে আমি বউ নিয়ে ঘুরে বেড়াবো ।তুই দেখবি আর জ্ব*লবি।”

নুর অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
সাদাফ বললো,”এখন বল তুই কি এটাই চাস আমাকে অবহেলা করে আমাকে সরিয়ে দিবি শুধুমাত্র একটা সন্তানের সমস্যার জন্য ?যদি আমার আজকে বাচ্চা না হত এই সমস্যাটা যদি আমার হতো তাহলে কি তুই সরে যেতি? যেতি না ।তাহলে তুই এতটা মহৎ নিজেকে ভাবতে পারলে আমাকে এত নিচু ভাবার কারণ কি নুর ?আমার ভালোবাসা কি তোকে কখনো স্পর্শ করেনি?

সন্তানের জন্য নিজের স্বামীর সুখের জন্য স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে মহৎ হতে চাইছিস তাহলে সেই স্বামী যদি অন্যত্র কারো সাথে সুখী হয় তাহলে তোর এত গায়ে লাগছে কেন নূর?
অধিকার ছেড়ে দিয়ে অধিকার ধরিয়া রাখার মতো বিড়ম্বনায় পৃথিবীতে আর নাই ।তুই বল তুই অধিকার ছেড়ে দিবি নাকি আমার উপর সারা জীবনের মতো অধিকার প্রতিষ্ঠা করবি বল?”
নূর এবার চিৎকার করে কেঁদে দিল ।সহ্য করতে পারছে না নুর নিজের এই অপূর্ণতা ।কিন্তু এটাও সত্য সাদাফ কেউ ছাড়তে পারবে না বুঝে গিয়েছে নুর।সাদাফ কে ছাড়া ওর চলবে না ।এটা মানতেই পারবে না নূর সাদাফ কে অন্য কেউ ভালবাসে সাদাফ এইভাবে মুগ্ধ দৃষ্টিতে কখনো অন্য কোন মেয়েকে দেখবে ।

এটা নূরের মেনে নেওয়া সম্ভব নয় এর থেকে তো ম*রে যাওয়া ও অনেক ভালো।
সাদাফ এটাই চাচ্ছিল ওই মেয়ের গল্পটি বলে যেন নূর নিজে থেকে অনুধাবন করতে পারে মুখে ছেড়ে দিব বলাটা যত সহজ আসলে বাস্তবে ছাড়াটা তত সহজ নয় ।কিন্তু নূরকে একটু কঠিন ভাবে যে বোঝাতেই হত না হলেও ছোট্ট নূর এত বড় কথাটি বুঝতে পারত না।

নূর দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না করছে ।সাদাফ নুরের হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে হাতে পৃষ্ঠে চুমু খেতে খেতে বললো ,”আমি সেদিন সেই মেয়েকে বলেছিলাম দেশে আমার একটা পরীর চেয়েও সুন্দর বউ আছে ।ছোট্ট লাল টুকটুকে বউ আছে যে আমার জন্য প্রতীক্ষা করবে যদিও মিথ্যা ছিল তুই আমার জন্য প্রতীক্ষা করিস নি।
কিন্তু আমি করেছি ।প্রত্যেকটা দিন প্রত্যেকটি মুহূর্ত কাউন্ট করেছি ।প্রত্যেকটা মুহূর্ত আমি তোকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করেছি নুর যার ফল আজকে তুই আমার চোখের সামনে।
শুধু ভালবাসলে হয় না নুর ভালোবাসাকে ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতে হয় ।ধরে রাখতে হয় ।তার উপরে কর্তৃত্ব ফলাতে হয় ।অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হয় তার উপরে জোর করতে হয় ।যার প্রত্যেকটা আমি তোর উপরে করেছি ।কারণ আমি তোকে ভালোবেসেছি তোর উপরে তাই কর্তৃত্ব অধিকার সব কিছুই প্রতিষ্ঠা করেছি।”

“কি করেছিস আমার জন্য নূর ?কোন ধরনের পা*গলামি করেছিস ?যেসব পা*গলামি আমি তোর জন্য করেছি তার এক ছিটে ফুটাও করেছিস ?অথচ যখন একটু তোকে পাওয়ার সময় হল কি এক অদ্ভুত কারণ দেখিয়ে তুই অবহেলা করে আমাকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইলি!
আমি এতটাই ফেলনা এতটাই অযোগ্য তোর কাছে ?শুধুমাত্র তুই মা হতে পারবি না আর তো মনে হল আমি তোকে ছেড়ে অন্য কাউকে ভালবাসবো তোর প্রতি আমি অবহেলা করব ?আমাকে তোর এত ছোট মনে হল নূর ?আমার এই ১৭ বছরের ভালোবাসা তোর কাছে কি কিছুই মনে হয়নি?

আর এখন যেই শুনেছিস আমি অন্য কারো সাথে ঘর বাঁধতে পারবো বাধবো তখন তোর খারাপ লাগছে ?!তাই না ?আমার কাছে চাচ্ছিস ডিভোর্স তো আমি তোর কাছে চাইতে পারি না সাথে থাকার অধিকার?কোন যুক্তিতে কত বড় সাহস তোর কোন সাহসে তুই বললি তুই আমাকে ছেড়ে দিতে ?ডিভোর্স দিতে শুনি আমি? আমার থেকে ডিভোর্স চাওয়ার সময় তোর বুক কাপে নি?একবারও মনে হয়নি তোর সাদাফ ম*রে যেতে পারে ?মনে হয় নি তোর কাছে?
তাই তুই যদি আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা বলতে পারিস আমাকে ছেড়ে থাকতে পারিস তাহলে তোর চোখের সামনে আমি এ বাড়িতে নতুন সংসার কেন করতে পারব না?”ক্লান্ত বিদ্ধস্ত অবস্থায় কথা গুলো বললো সাদাফ।
নুর নিজের ভুল বুঝতে পারছে ।কিন্তু সাদাফের বলা শেষের কথাটি আর নিতে পারল না ।সাথে সাথে দুই হাত দিয়ে সাদাফের কলার ধরে বললো,” খবরদার একবারও ভাববেন না আমি ছোট তাই আপনাকে ভয় পেয়ে চুপ হয়ে যাব ।চুপসে যাব ।

বউ হই আপনার ।ছোট হই আর বড়। এদিক ওদিক যদি কোনভাবে কিছু করার চেষ্টা করেন সত্যি করে বলছি সংসার করা তো দূর বেঁ*চে থাকবেন কিনা তারও কোন নিশ্চয়তা নেই ।একেবারে গলাটা কে*টে ফেলবো আমি ।”কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলল নূর রাগে ক্ষোভে।
সাদাফ মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইল নূরের দিকে ।কাজ হয়েছে ।এটাই চাচ্ছিল সাদাফ ।এই কথাগুলোই নূরের মুখ থেকে বের করতে চাচ্ছিল সাদাফ ।নুরের হাত ধরল। ধরে পা*গলের মত চু*মু খেতে লাগলো নুরের হাতে।
তারপর বলল ,”বুঝতে পেরেছিস এবার কি কি বলে ফেলেছিলি তুই আমাকে ?মুখে বলা যতটা সহজ নুর বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা ততটাই কঠিন ।যত সহজে তুই ডিভোর্স চেয়েছিস আমার কাছ থেকে ততটা সহজে তুই আমার কাছ থেকে ডিভোর্স নিয়ে বাঁচতে পারবি না ।

আমার সংসার তুই তোর চোখের সামনে দেখতে পারবি না ।তাহলে এই মহৎ হওয়ার নাটক কেন ?কোন সমাজের জন্য কাদের ভয়তে এগুলো করেছিস ?আমি চেয়েছি তোর কাছে সন্তান ?আমি একবারও বলেছি আমার লাগবেই? আরে সন্তানের চাহিদা কার না আছে ?তোর আছে আমার আছে পৃথিবীর প্রত্যেকটা নারী পুরুষের আছে ।
কিন্তু আমাকে জিজ্ঞেস কর আমাকে শুধু আজকে কেন আজ থেকে ৫০ বছর পরও যদি জিজ্ঞেস করা হয় আমি কাকে চাই আমি চোখ বন্ধ করে বলে দিব আমি শুধু নূরকে চাই ।প্রয়োজন নেই আমার কোন সন্তান ।তুই যদি পথ থেকে একটি সন্তানকে কুড়িয়ে এনে মমতা দিয়ে তাকে আগলে রেখে নিজে সন্তানের পরিচয় দিতে পারিস আমি খুশি খুশি সেই সন্তানকে নিজের পিতৃ পরিচয় দিব।

আরে পা*গলী মা হওয়ার জন্য জরায়ু লাগেনা ।মা হওয়ার জন্য বুকের ভিতর কোমল একটা মাতৃ হৃদয় লাগে ।যেটা তোর আছে ।তুই তো মা হতে পারবি গর্ভে ধারণা না করিস আমরা এডপ করে নিতে পারব ।তাকে কি আমরা আমাদের সন্তানের মত পালন করতে পারবো না ?কিন্তু আমার জীবন থেকে তুই তোর জীবন থেকে আমি হারিয়ে গেলে আমরা কি কখনো কাউকে পাব? সন্তানের রিপ্লেসমেন্ট না হয় অন্য কোন সন্তান দত্তক নিয়ে নিতে পারব কিন্তু তুই আমার বা আমি তো রিপ্লেসমেন্ট কোথায় পাব নুর?”

নুর বুঝতে পারছে নিজের প্রত্যেকটা ভুল ।বুঝতে পারছে ।নুর জোরে জোরে কান্না শুরু করে দিল ।সাদাফ নুরের পা জোড়া ছেড়ে খাটে উঠে বসল ।বসে নূরকে জড়িয়ে ধরে গালে কপালে ঠোটে চু*মু খেতে লাগলো।
নূর জড়িয়ে ধরল সাদাফ কে শক্ত করে ।জড়িয়ে ধরে বললো,” আমি যে মেনে নিতে পারছিলাম না আমার অপূর্ণতা ।আমি কখনো মা হতে পারবো না যার জন্য আপনিও কখনো বাবা হতে পারবেন না ।আমার হৃদয় ভে*ঙ্গে খানখান হয়ে গেছে আমি কি করবো বলুন?

কিন্তু আপনাকে আমি ছাড়তে পারবো না ।এটা আমার ভুল ছিল আপনাকে আমি কোন কিছুর বিনিময় ছাড়তে পারবো না ।একটা সন্তান কেন হাজার সন্তানের বিনিময়ে আমি আপনাকে ছাড়তে পারবো না।
বলুন অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাবেন না কথা দিন আমাকে ।কখনো আমাকে অবহেলা করবেন না সন্তানের জন্য। আপনার চোখে একটু অবহেলা দেখলে যে আমি ম*রে যাব ।যে চোখে শুধুমাত্র আমার জন্য অপেক্ষা আমার জন্য ভালোবাসা রেখেছি সেই চোখে যদি আমি একটু অবহেলা দেখি আমি ম*রে যাব সত্যি সত্যি।”কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলল নূর ।

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪২+১৪৩

সাদাফের হৃদয়টা যেন ভে*ঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে নুরের নুরের আর্তনাদ শুনে।নুরের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল ,”পা*গলি শুধু এই জীবন কেন পৃথিবীতে যদি আমি শতবার জন্মগ্রহণ করি আমার শুধু নূরকেই চাই ॥চাই না আমার কোন সন্তান।
সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাক তুই শুধু আমার থাক নুর ।আমার আর কিছু লাগবে না ।”বলেই নূরের ঠোঁট আঁকড়ে ধরে চু*মু খেতে লাগলো সাদাফ।

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪৬+১৪৭